• Colors: Green Color

টানা তৃতীয়বার ইতালি বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থ হওয়ার দুই দিন পর পদত্যাগ করলেন ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা। পদত্যাগের চাপের মধ্যে শুরুতে ‘না’ করে দিলেও বৃহস্পতিবার তিনি সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

২০১৮ সালে গ্রাভিনা দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা করতে পারেনি ইতালি। তার আগের সভাপতি পদত্যাগ করেছিলেন ২০১৮ বিশ্বকাপে জায়গা করতে না পারার জেরে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা মঙ্গলবার রাতে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে এবারের আসরে উঠতে ব্যর্থ হয়।

এদিকে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফার সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন আজ ইতালিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দেশটির স্টেডিয়ামগুলো উন্নত না করলে ২০৩২ ইউরো আয়োজক হওয়ার সুযোগ হারাতে পারে। তিনি এসব স্টেডিয়ামকে ‘ইউরোপের অন্যতম বাজে’ বলে অভিহিত করেছেন।

ইউরোপীয় প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়ার কাছে হারের পর ইতালির ফুটবল-কর্তারা দেশের অভ্যন্তরে তীব্র চাপে পড়েন। রোমে এফআইজিসি ভবনের সামনে বিক্ষুব্ধ সমর্থকেরা ডিম ছুড়ে তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি এফআইজিসি–প্রধান গ্রাভিনার পদত্যাগ দাবি করে বিবৃতিতে বলেন, ‘ইতালিয়ান ফুটবলকে একদম গোড়া থেকে নতুন করে গড়তে হবে। আর সেই সংস্কার শুরু হতে হবে ফেডারেশনের শীর্ষ পর্যায় থেকে।’ তবে তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন গ্রাভিনা।

চব্বিশ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই সিদ্ধান্ত বদলেছেন তিনি। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রোমে এফআইজিসির প্রধান কার্যালয়ে এক বৈঠকের পর পদত্যাগের কথা সিদ্ধান্ত জানান গ্রাভিনা।

ফেডারেশনের বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ২২ জুন নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে বৃহস্পতিবার ‘গ্যাজেত্তা দেলো স্পোর্ত’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উয়েফা সভাপতি বলেন, ‘২০৩২ ইউরো যেভাবে নির্ধারণ করা আছে, সেভাবেই হবে। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আমি শুধু আশা করি যে (ইতালির) অবকাঠামো প্রস্তুত থাকবে। যদি তা না হয়, তবে টুর্নামেন্টটি ইতালিতে অনুষ্ঠিত হবে না। ইতালির রাজনীতিবিদদের হয়তো নিজেদের জিজ্ঞাসা করা উচিত, কেন ফুটবল অবকাঠামো ইউরোপের মধ্যে অন্যতম নিকৃষ্ট পর্যায়ে রয়েছে।’

সেফেরিনের মতে, ইতালিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ‘ফুটবল কর্তৃপক্ষ এবং রাজনীতির মধ্যকার সম্পর্ক’।

২০৩২ সালে তুরস্ক ও ইতালির যৌথভাবে ইউরো আয়োজন করার কথা। আগামী অক্টোবরে ইতালিকে ম্যাচ আয়োজনের জন্য পাঁচটি স্টেডিয়ামের নাম ঘোষণা করতে হবে। বর্তমানে ১১টি শহর ইউরো আয়োজনে আগ্রহী। তবে এর মধ্যে একমাত্র জুভেন্টাস অ্যালিয়াঞ্জ স্টেডিয়ামটি টুর্নামেন্টের ম্যাচ আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) জমা পড়ল আর এক পরিচালকের পদত্যাগপত্র। আজ সভাপতি আমিনুল ইসলাম বরাবর পদত্যাগপত্র দিয়েছে ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) মনোনীত এই পরিচালক বিসিবির লজিস্টিকস অ্যান্ড প্রটোকল কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন।

পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন ইয়াসির। এ নিয়ে বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের তিনজন পদত্যাগ করলেন। এর আগে ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত হওয়া ইশতিয়াক সাদেক ও আমজাদ হোসেন ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। পদত্যাগপত্রে একই কারণের কথা উল্লেখ করেছেন ইয়াসিরও।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বিসিবির ২৫ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদে এনএসসি মনোনীত দুজন পরিচালক থাকেন। গত অক্টোবরে সর্বশেষ নির্বাচনের পর ইয়াসির ও রুবাবা দৌলাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল।

ইয়াসির আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে মুঠোফোনে বলেন, ‘একদমই ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছি। এখানে এর চেয়ে বেশি কিছু নেই।’ তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছে যে সংস্থা, সেই এনএসসি বিষয়টি জানে কি না, জিজ্ঞাসা করলে বলেন, ‘এখনো জানাইনি।’

বিসিবিতে লজিস্টিকস কমিটির প্রধান হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে ইয়াসিরের জবাব, ‘ভালো। অনেক কিছু শিখেছি।’ এ সময় তিনি জানান, সুযোগ পেলে আবার বিসিবি পরিচালকের দায়িত্বে ফিরতে পারেন।

গত বছরের অক্টোবরে বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে অস্বচ্ছতা ও অনিয়মের অভিযোগে গত ১১ মার্চ পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে তাদের। এর মধ্যেই সরে দাঁড়ালেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে মনোনীত পরিচালক ইয়াসির।

বিসিবি অবশ্য আগের দুই পরিচালকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়নি বলে জানিয়েছে।

ঢাকা

২০০৬ সালের ৯ জুলাই। বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত মেগা ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে ১৮তম ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের। ফ্রান্সকে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি। এরপর?

না, এই ম্যাচের পরিসংখ্যান কিংবা বিশ্লেষণ তো নয়-ই। বরং সেই ফাইনালে 'ম্যাচের' চেয়েও বেশি আলোচিত জিদান বনাম মার্কো মাতেরাজ্জির 'ঢিসুম' কাহিনীও আলোচ্য বিষয় নয়। মূল ব্যাপার বৈশ্বিক আসরের একটি অংশে ইতালির উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা, যেখানে ইতালি 'দ্বিতীয় দফায়' আজ পর্যন্তও অনুপস্থিত।

বার্লিনের সেই ফাইনালের পর ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপে ইতালি বিদায় নেয় আসরের গ্রুপ পর্ব থেকে। এরপরের তিনটি বিশ্বকাপে (২০১৮, ২০২২, ২০২৬) মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ তারা।

বিশ্বকাপে আগের আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের আসরের গ্রুপ পর্বে বিদায় নেয়ার ঘটনা নতুন না। এই পরম্পরা যেন একবিংশ শতাব্দীতে আরও পোক্ত হয়েছে। ১৯৯৮ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স, ২০১০ চ্যাম্পিয়ন স্পেন, ২০১৪ চ্যাম্পিয়ন জার্মানির মতো ২০০৬ এর ইতালি যে একই কাণ্ড করেছিল পরের আসরে, সেই আলাপ পুরোনো। এই আলোচনার গল্প ভিন্ন। এর অংশ আবার দুইটি। আগে 'দ্বিতীয় দফা' আলোচনা করা যাক।

২০০৬ ফাইনালের পর কেটে গেছে প্রায় ২০ বছর। বার্লিনের সেই ম্যাচের পর বিশ্বকাপের নকআউট কোনো ম্যাচে খেলার সুযোগ হয়নি ইতালির। চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাওয়ার পর বিশ্বকাপের পরবর্তী কোনো নকআউট ম্যাচ খেলার মাঝে এত দীর্ঘ বিরতি নেই অন্য কোনো দলের, যা আছে ইউরোপের এই দেশটির।

৩১ মার্চ, ২০২৬। আরেকবার স্বপ্নভঙ্গ ইতালির। এবার প্লে অফে বসনিয়া হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে যেতে ফের ব্যর্থ দলটি।

২০৩০ বিশ্বকাপে তারা যদি সুযোগও পায় এবং গ্রুপপর্ব পেরিয়ে নকআউটেও ওঠে তবে সেটির ব্যবধান হয়ে দাঁড়াবে প্রায় আড়াই দশক।

তবে বর্তমান শতাব্দীর এই রেকর্ড ইতালির নিজেদেরই পূর্ববর্তী রেকর্ডের কাছে কিছুই না। যদি ভেবে থাকা যায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া এবং আরেকটি নকআউট ম্যাচের মধ্যে ২০ বছরের ব্যবধান অনেক বেশি, তবে এর আরেকটি বড় ভার্সন খোদ ইতালিয়ানদেরই তৈরি। সেটিই হলো গল্পের 'প্রথম বা আদি দফা'। সেখানে কী করেছিল রোমান সাম্রাজ্যের উত্তরসূরিরা?

১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় ইতালি। সেই আসরের ফাইনালের পর আরেকটি নকআউট ম্যাচ খেলতে ইতালির অপেক্ষা করতে হয়েছে কতদিন? এর উত্তর হলো— ৩২ বছর। এতটা অপেক্ষা করতে হয়নি আর কোনো বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে।

হ্যাঁ, আগের শতাব্দীতেও এমনভাবেই দীর্ঘ তিন দশকের বিরতি দিয়েছিল ইতালি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়নি। ১৯৫০ সালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন (১৯৩৮) হিসেবে অংশ নিয়ে তারা ব্যর্থ হয় ফাইনাল রাউন্ড তথা সেই আসরের প্রথম নকআউট স্টেজে উঠতে। ১৯৫৪ সালের আসরে ইংল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড ও বেলজিয়ামের গ্রুপে তৃতীয় হয়ে বাড়ির পথ ধরতে হয় তাদের। ১৯৫৮ সালের আসরে তারা মূল পর্বে কোয়ালিফাই করতেই পারেনি।

ইতালির এই গ্রুপ পর্বের গোলকধাঁধা লম্বা হয় আরও এক যুগ। ১৯৬২ সালের আসরে পশ্চিম জার্মানি, চিলি ও সুইজারল্যান্ডের গ্রুপে ফের তৃতীয় হয়ে নকআউট স্বপ্নভঙ্গ হয় তাদের। ১৯৬৬ সালের গল্প যেন আরও পীড়াদায়ক ইতালি ভক্তদের জন্য। সোভিয়েত ইউনিয়ন, চিলি ও উত্তর কোরিয়ার গ্রুপে থেকেও ফের গ্রুপ পর্বে বিদায় তাদের।

অবশেষে দীর্ঘ তিন দশক বছর পর, অর্থাৎ ১৯৩৮ ফাইনালের পর ১৯৭০ সালের আসরে নকআউটে ওঠে তারা। উরুগুয়ে, সুইডেন ও ইসরায়েলের গ্রুপে টপার হয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে ইতালি। সেবারের আসরে অবশ্য রানার্সআপ হয় তারা। ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে হেরে যায় ইতালি। সেই ফাইনাল জিতেই জুলেরিমে ট্রফি নিজেদের করে নেয় সেলেসাওরা। ব্রাজিল দলতো বটেই, কালো মানিক পেলে জেতেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ।

ইতালির ভক্তরা হয়ত বিশ্ব আসরের একটা নির্দিষ্ট অংশে নিজেদের প্রিয় দলকে মিস করেন। এমনকি তারা বিশ্বকাপে সবশেষ ম্যাচ খেলেছে প্রায় ১১ বছর আগে। ২০১৪ সালের ২৪ জুন বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে তারা মাঠে নেমেছিল উরুগুয়ের বিপক্ষে। এরপর থেকে তো বিশ্বকাপে অনুপস্থিতই ইতালিয়ানরা।

তারা নিজেরাও একটু ভেবে দেখলে বুঝতে পারবে ২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল কিংবা মেগা ফাইনালের ম্যাচে ইতালি বলে কোনো দেশের পতাকা ওঠেনি অনেক দিন-বছর-দশক। এরকম বিরতি গত শতাব্দিতেও হয়েছিল, ৩২ বছর।

 

মেহেদী হাসান রোমান

রোনান সুলিভানকে একপ্রকার বোতলবন্দী করেই রেখেছিল নেপাল। রোনানকে আটকানোর সে চেষ্টায় তারা সফল হলেও বাংলাদেশের জয় আটকাতে পারেনি। সাফ অনূর্ধ্ব–২০ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে আজ নেপালকে ১–০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কেটেছে মার্ক কক্সের দল।

এ নিয়ে সাফের অনূর্ধ্ব–২০ পর্যায়ে তৃতীয়বার ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ। ২০২২ সাফ অনূর্ধ্ব–২০ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের কাছে ফাইনাল হেরেছিল যুবারা। তবে ২০২৪ সালে নেপালকে তাদের মাটিতে হারিয়ে শিরোপা জেতে বাংলাদেশ।

আজ রাত সাড়ে ৯টায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে ভুটান। সে ম্যাচের জয়ী দলের সঙ্গে ৩ এপ্রিল শিরোপার লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ দল।

মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রথম মিনিট থেকেই আক্রমণে যায় বাংলাদেশ। পোস্টের দুই প্রান্ত দিয়ে বাংলাদেশের যুবাদের তৈরি করা ক্রসগুলো সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেয়েছে নেপাল। ১১ মিনিটে একটা ক্রসই আজ হয়েছে নেপালের জন্য! ডান প্রান্ত থেকে মোরশেদ আলীর ক্রসটি বক্সের মধ্যে পেয়ে দারুণ হেডে বল জালে জড়ান মোহাম্মদ মানিক।

রোনান সুলিভানকে একপ্রকার বোতলবন্দী করেই রেখেছিল নেপাল
রোনান সুলিভানকে একপ্রকার বোতলবন্দী করেই রেখেছিল নেপাল, বাফুফে
 

এক মিনিট পর পাল্টা আক্রমণ থেকে প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে আরও একবার লক্ষ্যভেদ করেছিলেন রোনান সুলিভান। তবে তিনি নিজেই অফসাইডে থাকায় বাতিল হয়ে যায় সেই গোল। দ্রুত গোল হজমের পর নেপাল ম্যাচে ফেরার উপায় খুঁজতে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের জমাট রক্ষণ ভাঙা তাদের জন্য কঠিনই ছিল।

এক গোলে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ দলও লড়াইয়ে ঢিলেমি দেয়নি। দ্বিতীয় গোলের সন্ধানে একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে। ৩৬ মিনিটে নাজমুল হুদার রক্ষণ চেরা পাস থেকে রোনান শট নেওয়ার আগেই নেপালের গোলকিপার পেম্বা বল গ্লাভসবন্দী করে ফেলেন।

ম্যাচসেরার পুরস্কার নিচ্ছেন মোহাম্মদ মানিক
ম্যাচসেরার পুরস্কার নিচ্ছেন মোহাম্মদ মানিক, বাফুফে
 

দ্বিতীয়ার্ধে খানিকটা সতর্ক ফুটবল খেলে বাংলাদেশ। নিজেদের পায়ে বল রেখে মাঝেমধ্যেই আক্রমণ শানিয়েছে। ৫২ মিনিটে চোট পেয়ে স্ট্রেচারে চড়ে মাঠ ছাড়া মানিকের বদলে মাঠে নামেন জয় আহমেদ। ৫৬ মিনিটে বক্সে বল পেয়েও নিশানা ভেদ করতে পারেননি নাজমুল। ৮৭ মিনিটে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ দলে অভিষেক হয় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রোনানের ভাই ডেক্লান সুলিভানের।

শেষ ১৫ মিনিট বাংলাদেশের গোলমুখে ভালোই চাপ তৈরি করেছে নেপাল; কিন্তু বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় জালের খোঁজ  পায়নি তারা। এর মধ্যেই ৯৬ মিনিটে দারুণ একটা সুযোগ পেয়েছিলেন বাংলাদেশের যুবারা। কিন্তু প্রতিপক্ষ গোলকিপারকে একা পেয়েও ডেক্লানের পাস কাজে লাগাতে পারেননি সুমন সরেন।

২০ বছর আগে শিলিগুড়িতে ভারতের বিপক্ষে যে দলটার আন্তর্জাতিক ম্যাচে পদার্পণ হয়েছিল, তাদের ‘আসল’ পরীক্ষাটা শুরু হচ্ছে আজ অনূর্ধ্ব–২০ নারী এশিয়ান কাপ দিয়ে। টুর্নামেন্টে এবারই প্রথম খেলছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। নতুন যাত্রায় বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ড। পাথুম থানির থামাসাত স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটায়।

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ নারী দল এত দিন দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডিতেই বন্দী ছিল, আরেকটু স্পষ্ট করে বললে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। সেখানে অনূর্ধ্ব–১৮, ১৯ ও ২০ পর্যায়ের টুর্নামেন্টে রীতিমতো দাপটই দেখিয়েছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। ছয়বার এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শিরোপা জিতেছে পাঁচবার। কিন্তু এশিয়ান পর্যায়ের লড়াইটা কতখানি কঠিন, সেটা এত দিনেও টের পায়নি তারা। আজ থেকে এশিয়ান চ্যালেঞ্জটাও নেওয়া শুরু।

মূল চ্যালেঞ্জের আগে বাছাইয়ে কঠিন পরীক্ষা দিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ নারী দল। গত আগস্টে লাওসে অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের তিন ম্যাচে দুই জয়ে প্রথমবার এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে আফঈদা–সাগরিকারা।

কোচ পিটার বাটলারের কাছে অবশ্য এই টুর্নামেন্ট অভিজ্ঞতা অর্জনেরও উপলক্ষ
কোচ পিটার বাটলারের কাছে অবশ্য এই টুর্নামেন্ট অভিজ্ঞতা অর্জনেরও উপলক্ষ, বাফুফে
 

বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলারের কাছে অবশ্য এই টুর্নামেন্ট অভিজ্ঞতা অর্জনেরও উপলক্ষ। কাল থাইল্যান্ডে সংবাদ সম্মেলনে এই ইংলিশ কোচ বলেছেন, ‘আমাদের সঙ্গে অনেক তরুণ খেলোয়াড় এসেছে যাদের জন্য এটি প্রথম অভিজ্ঞতা। এখানে আসতে পারাটা তাদের জন্য অনেক বড় অর্জন। আশা করি, এটি মেয়েদের জন্য একটি চমৎকার শিক্ষামূলক টুর্নামেন্টও হবে। যা থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবে তারা।’

প্রতিপক্ষ হিসেবে থাইল্যান্ড বাংলাদেশের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে। বয়সভিত্তিক ফুটবলে বড় কোনো সাফল্য না থাকলেও ২০০৪ সালে অনূর্ধ্ব–২০ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে দেশটি। এশিয়ান কাপে খেলাটাও প্রায় নিয়মিত। এ নিয়ে অষ্টমবার এ প্রতিযোগিতায় খেলবে থাইল্যান্ড।

বাংলাদেশ কোচও স্বাগতিকদের নিয়ে সতর্ক। তাদের ফুটবল–দর্শনটাও বোধ হয় পড়ে রেখেছেন বাটলার। ম্যাচের আগে সেটাই মনে করিয়ে দিয়ে বললেন, ‘থাইল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাস সমৃদ্ধ। তারা নারী দলের প্রতি খুবই মনোযোগী। আমাদের সতর্ক হয়ে খেলতে হবে। আশা করি, ফলাফলের কথা চিন্তা না করে আমরা কিছু ইতিবাচক পারফরম্যান্স দেখতে পাব।’

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ নারী ফুটবল দল
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ নারী ফুটবল দল, বাফুফে
 

সাম্প্রতিক ফলাফলে চোখ রেখে ইতিবাচক পারফরম্যান্সের আশা করতেই পারেন কোচ। অনূর্ধ্ব–২০ দল নিজেদের শেষ পাঁচ ম্যাচে হেরেছে মোটে একটিতে, গত আগস্টে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। অন্যদিকে সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে থাইল্যান্ডের হার দুটি।

এটাও ঠিক, ফুটবলকে সব সময় রেকর্ডসের ছকেও বেঁধে রাখা যায় না। ধারেভারে থাইল্যান্ড বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও দিন শেষে বাংলাদেশের জেতার সম্ভাবনা থাকবেই। বাটলারও লড়াকু ম্যাচেরই আভাস দিলেন, ‘মেয়েরা বাছাইপর্বে যেমন লড়াই করেছে, আমার বিশ্বাস, এখানেও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেবে।’

চীন ও ভিয়েতনামের বিপক্ষে পরের দুই ম্যাচে কাজটা আরও দুরূহ হওয়ার কথা বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের পার্থক্য যোজন যোজন। চীন অনূর্ধ্ব–২০ বিশ্বকাপে দুবারের রানার্সআপ। এশিয়ান কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ২০০৬ সালে। তাদের সঙ্গে ননতাবুড়ি স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচ বাংলাদেশ খেলবে শনিবার।

ভিয়েতনাম আসিয়ান অনূর্ধ্ব–১৯ পর্যায়ে চারবার ফাইনাল খেলেছে। এশিয়ান কাপে এখন পর্যন্ত ছয়বার অংশ নিয়ে ২০০৪ সালে খেলেছে কোয়ার্টার ফাইনাল। তাদের বিপক্ষে ৭ এপ্রিল গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ২১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ায় শেষ হওয়া বড়দের এএফসি ওমেন্স এশিয়ান কাপটা হতাশাজনকই কেটেছে তহুরা–ঋতুপর্ণাদের। প্রথমবার অংশ নিয়ে তিন ম্যাচের তিনটিতেই হেরেছে মেয়েদের জাতীয় দল। বড়দের সেই হতাশা কি কমাতে পারবেন ছোটরা?

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব