রোনান সুলিভানকে একপ্রকার বোতলবন্দী করেই রেখেছিল নেপাল। রোনানকে আটকানোর সে চেষ্টায় তারা সফল হলেও বাংলাদেশের জয় আটকাতে পারেনি। সাফ অনূর্ধ্ব–২০ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে আজ নেপালকে ১–০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কেটেছে মার্ক কক্সের দল।
এ নিয়ে সাফের অনূর্ধ্ব–২০ পর্যায়ে তৃতীয়বার ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ। ২০২২ সাফ অনূর্ধ্ব–২০ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের কাছে ফাইনাল হেরেছিল যুবারা। তবে ২০২৪ সালে নেপালকে তাদের মাটিতে হারিয়ে শিরোপা জেতে বাংলাদেশ।
আজ রাত সাড়ে ৯টায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে ভুটান। সে ম্যাচের জয়ী দলের সঙ্গে ৩ এপ্রিল শিরোপার লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ দল।
মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রথম মিনিট থেকেই আক্রমণে যায় বাংলাদেশ। পোস্টের দুই প্রান্ত দিয়ে বাংলাদেশের যুবাদের তৈরি করা ক্রসগুলো সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেয়েছে নেপাল। ১১ মিনিটে একটা ক্রসই আজ হয়েছে নেপালের জন্য! ডান প্রান্ত থেকে মোরশেদ আলীর ক্রসটি বক্সের মধ্যে পেয়ে দারুণ হেডে বল জালে জড়ান মোহাম্মদ মানিক।

এক মিনিট পর পাল্টা আক্রমণ থেকে প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে আরও একবার লক্ষ্যভেদ করেছিলেন রোনান সুলিভান। তবে তিনি নিজেই অফসাইডে থাকায় বাতিল হয়ে যায় সেই গোল। দ্রুত গোল হজমের পর নেপাল ম্যাচে ফেরার উপায় খুঁজতে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের জমাট রক্ষণ ভাঙা তাদের জন্য কঠিনই ছিল।
এক গোলে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ দলও লড়াইয়ে ঢিলেমি দেয়নি। দ্বিতীয় গোলের সন্ধানে একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে। ৩৬ মিনিটে নাজমুল হুদার রক্ষণ চেরা পাস থেকে রোনান শট নেওয়ার আগেই নেপালের গোলকিপার পেম্বা বল গ্লাভসবন্দী করে ফেলেন।

দ্বিতীয়ার্ধে খানিকটা সতর্ক ফুটবল খেলে বাংলাদেশ। নিজেদের পায়ে বল রেখে মাঝেমধ্যেই আক্রমণ শানিয়েছে। ৫২ মিনিটে চোট পেয়ে স্ট্রেচারে চড়ে মাঠ ছাড়া মানিকের বদলে মাঠে নামেন জয় আহমেদ। ৫৬ মিনিটে বক্সে বল পেয়েও নিশানা ভেদ করতে পারেননি নাজমুল। ৮৭ মিনিটে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ দলে অভিষেক হয় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রোনানের ভাই ডেক্লান সুলিভানের।
শেষ ১৫ মিনিট বাংলাদেশের গোলমুখে ভালোই চাপ তৈরি করেছে নেপাল; কিন্তু বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় জালের খোঁজ পায়নি তারা। এর মধ্যেই ৯৬ মিনিটে দারুণ একটা সুযোগ পেয়েছিলেন বাংলাদেশের যুবারা। কিন্তু প্রতিপক্ষ গোলকিপারকে একা পেয়েও ডেক্লানের পাস কাজে লাগাতে পারেননি সুমন সরেন।