• Colors: Green Color

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছিলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার জাহানারা আলম। তাঁর সেই অভিযোগে বেশ তোলপাড়ই সৃষ্টি হয়েছিল। পরে স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মঞ্জুকে ভবিষ্যতে দেশের ক্রিকেটের কোনো কিছুতে সম্পৃক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি যৌন হয়রানির ঘটনায় শাস্তি দেওয়া হয়েছিল মঞ্জুকে। এত দিন এই ঘটনা নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি জাহানারা। তবে আজ ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, মঞ্জুর অন্য সহযোগীদেরও শাস্তি চান। প্রধান অভিযুক্ত মঞ্জুকে দেওয়া শাস্তিতেও খুশি নন জাহানারা।

ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি তাঁরা একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন, মিস্টার মঞ্জুকে শাস্তি দিয়েছেন। কিন্তু আমি খুশি হতে পারছি না। কারণ, আমার সঙ্গে যা যা হয়েছে, আমি যা যা ফেস করেছি, সেই তুলনায় এই শাস্তি আমার কাছে খুব সামান্য মনে হয়েছে। আমি আরও অনেক বড় শাস্তি আশা করেছিলাম।’

ক্রিকেটে তাঁর মতো আরও অনেক নারী যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তাঁদের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন জাহানারা। তিনি অভিযোগ করেছেন, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মঞ্জুরুল ও তাঁর সহযোগীরা মানসিকভাবে তাঁকে অত্যাচার করেন।

মঞ্জুরুল ইসলাম ও জাহানারা আলম
মঞ্জুরুল ইসলাম ও জাহানারা আলম

জাহানারা বলেন, ‘(আমাকে) সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে, এমনকি আমাকে চরম পর্যায়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’ তাঁদের শাস্তি দাবি করে তিনি বলেন, ‘তৌহিদ মাহমুদ (নারী দলের সাবেক ম্যানেজার) তো মারা গেছেন, মঞ্জুর সামান্য শাস্তি হয়েছে। কিন্তু তাঁর এই সহযোগী গ্রুপের তো কোনো বিচার হয়নি, শাস্তিও হয়নি।’

ভিডিও বার্তায় নারী দলের সাবেক প্রধান আবদুর রাজ্জাকের কয়েকটি মন্তব্য নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন জাহানারা। নারী দলের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘তিনি (আবদুর রাজ্জাক) আবারও মন্তব্য করেন তাঁর ভাই মিস্টার মঞ্জুর নাকি অনেক বড় শাস্তি দেওয়া হয়ে গিয়েছে। মঞ্জু নাকি এত বড় শাস্তি ডিজার্ভ করে না। তিনি মন্তব্য করেন যে নারী ক্রিকেটাররা নাকি সমঝোতা করে ক্রিকেট খেলে বলে তিনি মনে করেন।’

ভিডিও বার্তায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুলের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেন জাহানারা। মঞ্জু ও তাঁর সহযোগী গ্রুপের সুষ্ঠু তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিচারের দাবি জানান জাহানারা। তিনি অভিযোগ জানানোর পর অন্য অঙ্গনের অনেক ক্রীড়াবিদও তাঁদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। তাঁদের এসব অভিযোগেরও তদন্ত করে বিচারের দাবি জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী এই ক্রিকেটার। তা না করা হলে ওই ক্রীড়াবিদেরা খেলতে পারবেন না বলেও মনে করেন জাহানারা। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর জন্য নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার জন্য সেফগার্ডিং পলিসির ব্যবস্থা করতেও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন জাহানারা।

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছিলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার জাহানারা আলম। তাঁর সেই অভিযোগে বেশ তোলপাড়ই সৃষ্টি হয়েছিল। পরে স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মঞ্জুকে ভবিষ্যতে দেশের ক্রিকেটের কোনো কিছুতে সম্পৃক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি যৌন হয়রানির ঘটনায় শাস্তি দেওয়া হয়েছিল মঞ্জুকে। এত দিন এই ঘটনা নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি জাহানারা। তবে আজ ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, মঞ্জুর অন্য সহযোগীদেরও শাস্তি চান। প্রধান অভিযুক্ত মঞ্জুকে দেওয়া শাস্তিতেও খুশি নন জাহানারা।

ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি তাঁরা একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন, মিস্টার মঞ্জুকে শাস্তি দিয়েছেন। কিন্তু আমি খুশি হতে পারছি না। কারণ, আমার সঙ্গে যা যা হয়েছে, আমি যা যা ফেস করেছি, সেই তুলনায় এই শাস্তি আমার কাছে খুব সামান্য মনে হয়েছে। আমি আরও অনেক বড় শাস্তি আশা করেছিলাম।’

ক্রিকেটে তাঁর মতো আরও অনেক নারী যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তাঁদের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন জাহানারা। তিনি অভিযোগ করেছেন, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মঞ্জুরুল ও তাঁর সহযোগীরা মানসিকভাবে তাঁকে অত্যাচার করেন।

মঞ্জুরুল ইসলাম ও জাহানারা আলম
মঞ্জুরুল ইসলাম ও জাহানারা আলম

জাহানারা বলেন, ‘(আমাকে) সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে, এমনকি আমাকে চরম পর্যায়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’ তাঁদের শাস্তি দাবি করে তিনি বলেন, ‘তৌহিদ মাহমুদ (নারী দলের সাবেক ম্যানেজার) তো মারা গেছেন, মঞ্জুর সামান্য শাস্তি হয়েছে। কিন্তু তাঁর এই সহযোগী গ্রুপের তো কোনো বিচার হয়নি, শাস্তিও হয়নি।’

ভিডিও বার্তায় নারী দলের সাবেক প্রধান আবদুর রাজ্জাকের কয়েকটি মন্তব্য নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন জাহানারা। নারী দলের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘তিনি (আবদুর রাজ্জাক) আবারও মন্তব্য করেন তাঁর ভাই মিস্টার মঞ্জুর নাকি অনেক বড় শাস্তি দেওয়া হয়ে গিয়েছে। মঞ্জু নাকি এত বড় শাস্তি ডিজার্ভ করে না। তিনি মন্তব্য করেন যে নারী ক্রিকেটাররা নাকি সমঝোতা করে ক্রিকেট খেলে বলে তিনি মনে করেন।’

ভিডিও বার্তায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুলের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেন জাহানারা। মঞ্জু ও তাঁর সহযোগী গ্রুপের সুষ্ঠু তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিচারের দাবি জানান জাহানারা। তিনি অভিযোগ জানানোর পর অন্য অঙ্গনের অনেক ক্রীড়াবিদও তাঁদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। তাঁদের এসব অভিযোগেরও তদন্ত করে বিচারের দাবি জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী এই ক্রিকেটার। তা না করা হলে ওই ক্রীড়াবিদেরা খেলতে পারবেন না বলেও মনে করেন জাহানারা। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর জন্য নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার জন্য সেফগার্ডিং পলিসির ব্যবস্থা করতেও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন জাহানারা।

২৫ বছর পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ফিরল কভেন্ট্রি সিটি।

২০০১ সালের ৫ মে—অ্যাস্টন ভিলার কাছে ৩-২ গোলের হারে প্রিমিয়ার লিগ থেকে নেমে গিয়েছিল ক্লাবটি। এরপর কেটে গেছে ৯,১১৩ দিন। চ্যাম্পিয়নশিপ, অর্থাৎ দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবলে ১১ বছর কাটানোর পর আবারও অবনমন ঘটে কভেন্ট্রির। নেমে যায় তৃতীয় বিভাগ, অর্থাৎ লিগ ওয়ানে। তীব্র আর্থিক সংকটে পড়ায় ২০১৩ সালে দেউলিয়া হওয়ারও শঙ্কায় ছিল কভেন্ট্রি।

সে সময় নর্থহ্যাম্পটন ও বার্মিংহামের সঙ্গে মাঠ ভাগাভাগি করে খেলা, মালিকপক্ষ সিসুর বিরুদ্ধে সমর্থকদের ঘৃণা, দফায় দফায় প্রতিবাদ, এমনকি পার্লামেন্টে আলোচনার মতো নাটকীয় সব ঘটনা ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। এই সবকিছু পেছনে ফেলে শীর্ষ লিগে ফেরার আশা সে সময় কভেন্ট্রির জন্য ছিল এক সুদূরপরাহত স্বপ্ন।

দীর্ঘ ১৩ বছর ক্লাবের মালিকানায় থাকা সিসু শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালে ডগ কিংয়ের কাছে মালিকানা বিক্রি করতে বাধ্য হন। এর মাঝে ২০১৭ সালে কভেন্ট্রি ৫৯ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো চতুর্থ স্তরের লিগে নেমে যায়। মালিকপক্ষের বিরুদ্ধাচরণ করতে গিয়ে সমর্থকেরা কখনো লংমার্চ করেছেন আবার কখনো প্রতিবাদ জানাতে ঢুকে পড়েছেন খেলার মাঠেও।

শেষ পর্যন্ত কভেন্ট্রি শীর্ষ পর্যায়ের লিগে ফিরল ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি মিডফিল্ডার ও কোচ ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের হাত ধরে। চ্যাম্পিয়নশিপে গতকাল রাতে ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে প্রিমিয়ার লিগে ফিরেছে ‘স্কাই ব্লুজ’রা।

কভেন্ট্রির খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত কোচ ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। গতকাল রাতে ম্যাচ শেষে
কভেন্ট্রির খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত কোচ ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। গতকাল রাতে ম্যাচ শেষে, রয়টার্স

কী করেছেন ল্যাম্পার্ড

কভেন্ট্রি সিটি আসলে নিজেরাই নিজেদের চমকে দিয়েছে। ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বিবিসিকে জানিয়েছে, মৌসুমের শুরুতে কিছুটা আশা থাকলেও এত দ্রুত এমন সাফল্য আসবে, সেটা তারা কল্পনাও করেনি।

২০২৪ সালের নভেম্বরে সমর্থকদের প্রিয় কোচ মার্ক রবিনসের স্থলাভিষিক্ত হন ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। দলের প্রথম গ্রীষ্মকালীন দলবদলের সময়টা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন তিনি। ল্যাম্পার্ডের শান্ত ও ধীরস্থির ব্যক্তিত্ব দলের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যা এই সাফল্যের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।

ব্রাইটন থেকে ধারে যোগ দেওয়া গোলকিপার কার্ল রাশওয়ার্থ দলের পারফরম্যান্সে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। গত মৌসুমের মূল দলে খুব বেশি পরিবর্তন করেননি ল্যাম্পার্ড। গত মৌসুমের হতাশা কাটিয়ে ল্যাম্পার্ড যেভাবে দলটিকে টেনে তুলেছেন, তাতে মুগ্ধ ক্লাবের শীর্ষ কর্তারা। চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা কভেন্ট্রি এখন শিরোপা জয়ের স্বপ্নও দেখছে। পাশাপাশি পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুইয়ে থেকে মৌসুম শেষ করা নিশ্চিত হওয়ায় প্রিমিয়ার লিগে ওঠাও নিশ্চিত হয়েছে কভেন্ট্রির।

ল্যাম্পার্ড কোচের দায়িত্ব নেওয়ার সময় তাঁর ওপর পূর্ণ আস্থা ছিল মালিক ডগ কিংয়ের। তিনি নিজে নিয়মিত ট্রেনিং গ্রাউন্ডে সময় কাটান। সেখানকার সব স্টাফকে নামে চেনেন, সবার সঙ্গে নিজে গিয়ে কথা বলেন। এমনকি প্রায়ই ক্যানটিনে কফি বানাতে বা শেফের সঙ্গে আড্ডা দিতে দেখা যায় ডগ কিংকে। তারকা খেলোয়াড়দের জন্য সেখানে আলাদা কোনো জায়গা নেই; আর এই বৈষম্যহীন পরিবেশই ‘স্কাই ব্লুজ’দের মধ্যে একাত্মতার আবহ তৈরি করেছে।

ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড মাঠে দক্ষ নাবিকের মতো পরিচালনা করেছেন কভেন্ট্রিকে
ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড মাঠে দক্ষ নাবিকের মতো পরিচালনা করেছেন কভেন্ট্রিকে, রয়টার্স

চেলসির হয়ে প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী ল্যাম্পার্ডের ব্যক্তিগত ইমেজ ও প্রভাব কভেন্ট্রিতে এতটাই প্রবল যে অন্য ক্লাবের প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও অনেক ফুটবলার স্রেফ তাঁর কারণে এই ক্লাবে যোগ দিয়েছেন।

ল্যাম্পার্ডের কোচিং দর্শনের অন্যতম বড় দিক হলো দলের ভেতরের সমন্বয়। নতুন ফুটবলার হোক বা পুরোনো—যাঁরা ম্যাচ খেলার সুযোগ কম পাচ্ছেন, তাঁরাও যেন নিজেদের ব্রাত্য মনে না করেন, সেদিকে কড়া নজর রেখেছেন তিনি। সুফলও মিলেছে হাতেনাতে।

ফরোয়ার্ড ব্র্যান্ডন থমাস-আসান্টের কথাই ধরা যাক। গত বছর ব্ল্যাকবার্ন বা ডার্বি কাউন্টিতে চলে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি থেকে যান। ল্যাম্পার্ড এই ফরোয়ার্ডের পরিশ্রমী মনোভাব ও দায়বদ্ধতা দেখে তাঁর ওপর আস্থা রেখেছিলেন। আসান্টে গত মৌসুমের তুলনায় এবার দ্বিগুণ (৩০ ম্যাচে ১২ গোল) গোল করেছেন।

বিবিসিকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের ভেতর আত্মবিশ্বাসের স্ফূরণ ঘটাতে ল্যাম্পার্ড অপ্রতিদ্বন্দ্বী। সিনিয়র খেলোয়াড় জেক বিডওয়েল ও জেমি অ্যালেন মাঠে নিয়মিত না হলেও তাঁদের সব সময় মূল পরিকল্পনার অংশ করে রেখেছেন ল্যাম্পার্ড। এটি মানুষকে পরিচালনায় তাঁর দক্ষতাই ফুটিয়ে তোলে।

‘ভোগান্তিও আনন্দেরই অংশ’

খেলোয়াড়দের ওপর যেন প্রমোশনের বাড়তি চাপ ভর না করে, সেটি নিশ্চিত করাকেই নিজের অন্যতম প্রধান কাজ মনে করেন কভেন্ট্রি কোচ ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড।

নিজের কৌশল নিয়ে ল্যাম্পার্ড বলেন, ‘আমি বিষয়গুলো সহজ ও সরাসরি রাখার চেষ্টা করি। খুব বেশি কথা বলা আমার পছন্দ নয়। ১৫ বছর আগে বড় কোনো ম্যাচে আমার যে অভিজ্ঞতা হতো, তা হয়তো বর্তমান খেলোয়াড়দের চেয়ে আলাদা। তবে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা যখন কোচিংয়ে কাজে লাগানো যায়, সেটাই বড় ইতিবাচক দিক। কারণ, পরিস্থিতিগুলো আমি নিজে পার করে এসেছি।’

কভেন্ট্রি এ মৌসুমে টানা দুই ম্যাচ হেরেছে মাত্র একবার। গত জানুয়ারিতে নরউইচ ও কিউপিআরের কাছে হেরে ১০ পয়েন্টের লিড খুইয়েছিল তারা। জানুয়ারির শেষে মিডলসবোরো যখন ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে তাদের ধরে ফেলে, এমনকি ফেব্রুয়ারিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেও উঠে যায়, তখন এই ল্যাম্পার্ডের দলই তাদের ৩-১ গোলে হারিয়ে শীর্ষ স্থানের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়। সর্বশেষ ১৩ ম্যাচে মাত্র ১টিতে হেরেছে কভেন্ট্রি, জিতেছে ৮টি।

পরিসংখ্যান বলছে, গত ৯৯ মৌসুমে কভেন্ট্রি টানা পাঁচ ম্যাচ জিততে পেরেছে মাত্র পাঁচবার। যার মধ্যে তিনটিই এসেছে ল্যাম্পার্ডের অধীনে—গত মৌসুমে একবার আর চলতি মৌসুমে দুবার। ল্যাম্পার্ড বলেন, ‘বছর দেড়েক আগে আমি, ক্রিস জোনস আর জো এডওয়ার্ডস যখন এখানে আসি, সব আমাদের কাছে নতুন ছিল। আমরা সময়টা উপভোগ করছি, কিন্তু মূল পরিশ্রমটা করেছে খেলোয়াড়রা।’

ল্যাম্পার্ডের কোচিংয়ে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা এসেছে কভেন্ট্রি সমর্থকদের মানসিকতায়। গত এক দশকে মাঠ ও মাঠের বাইরে নানা ধকল সইতে হয়েছে ক্লাবটিকে। আট বছরে তিনটি প্রমোশন পেলেও ভক্তদের মনে একধরনের হতাশা বা ‘নেতিবাচক চিন্তা’ স্থায়ী আসন গেড়েছিল। প্রিমিয়ার লিগে ফেরা সেই হতাশা দূর করেছে।

এ প্রসঙ্গে ল্যাম্পার্ড বলেন, ‘আমি নিজে ওয়েস্ট হামের ভক্ত হিসেবে বড় হয়েছি, সেখানেও এমন ছিল। আবার এভারটনেও একই অভিজ্ঞতা হয়েছে। এটা মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। হয়তো ব্রিটিশ সংস্কৃতির মধ্যেই আছে যে সামনে খারাপ কিছু ঘটতে যাচ্ছে, এমনটা ধরে নেওয়া।’

ল্যাম্পার্ড সবশেষে মনে করিয়ে দেন, ‘ভোগান্তিও আনন্দেরই অংশ। শুনতে হয়তো অদ্ভুত লাগছে, কিন্তু ভালো কিছু পেতে হলে আপনাকে একটু কষ্ট সইতেই হবে।’

নিউজিল্যান্ড: ২৪৭/৮। বাংলাদেশ: ২২১। ফল: নিউজিল্যান্ড ২৬ রানে জয়ী।

শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়েছেন তাওহিদ হৃদয়। নাথান স্মিথের বলে মিডউইকেটে তাঁর ক্যাচ নিয়েছেন হেনরি নিকোলস। ৬০ বলে ৫৫ রান করে থেমেছেন হৃদয়, থেমেছে বাংলাদেশের ইনিংসও।

নিউজিল্যান্ডের ২৪৭ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ৪৮.৩ ওভারে অলআউট হয়েছে ২২১ রানে। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শুরুটা হল ২৬ রানের হারে।

রান তাড়ায় বাংলাদেশ ধাক্কা খায় শুরুতেই। চতুর্থ ওভারে নাথান স্মিথের টানা দুই বলে বোল্ড হন তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন। তবে এরপরই এসেছে ইনিংসের সবচেয়ে বড় জুটিটা।

তৃতীয় উইকেটে সাইফ হাসান ও লিটন দাস গড়েন ৯৩ রানের জুটি। পরে আরেকটি ফিফটি জুটি হয়েছে পঞ্চম উইকেটে তাওহিদ হৃদয়–আফিফ হোসেনের মধ্যে (৫২ রান)। এই চারজন ছাড়া আর কারও দুই অঙ্কের ঘরে যায়নি।

দুই বড় জুটির চারজনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত টিকেছিলেন হৃদয়। তবে তাঁকেও থামতে হয়েছে লক্ষ্যের বেশ আগেই। নিউজিল্যান্ডের দুই পেসার ব্লেয়ার টিকনার ও স্মিথই নিয়েছেন ৭ উইকেট। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ তিনটি ইনিংস সাইফ (৫৭), হৃদয় (৫৫) ও লিটনের (৪৬)।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

নিউজিল্যান্ড ইনিংস : ৫০ ওভারে ২৪৭/৮ (নিকোলস ৬৮, ফক্সক্রফট ৫৯, ইয়াং ৩০, ল্যাথাম ১৪; শরীফুল ২/২৭, রিশাদ ২/৪৪, তাসকিন ২/৫০, মিরাজ ১/৫৪, নাহিদ ১/৬৫)।
বাংলাদেশ ইনিংস: ৪৮.৩ ওভারে ২২১ (সাইফ ৫৭, হৃদয় ৫৫, লিটন ৪৬, আফিফ ২৭; টিকনার ৪/৪০, স্মিথ ৩/৪৫)।
ফল: নিউজিল্যান্ড ২৬ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ডিন ম্যাক্সক্রফট।
সিরিজ: তিন ওয়ানডে সিরিজে নিউজিল্যান্ড ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে।

বাংলাদেশ ফুটবল লিগের ১৩তম রাউন্ডে আজ শীর্ষ দুই দলই পয়েন্ট খুইয়েছে। তবে তৃতীয় হয়ে দিন শুরু করা দল পুরো তিন পয়েন্টই তুলেছে।

টেবিলের শীর্ষে থাকা শক্তিশালী বসুন্ধরা কিংস রহমতগঞ্জের বিপক্ষে শুরুতে এগিয়ে গিয়েও ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছেড়েছে। অন্যদিকে, টেবিলের দ্বিতীয় দল ফর্টিস এফসি আরামবাগের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হারিয়েছে।

তবে উজ্জ্বল ছিল আবাহনী লিমিটেড। পুলিশ এফসিকে ২-১ গোলে হারিয়ে পুরো ৩ পয়েন্ট তুলে নিয়ে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে তারা।

১৩ ম্যাচে কিংসের পয়েন্ট ২৮, আবাহনীর ২৫, ফর্টিসের ২৪। রহমতগঞ্জ ১৯ পয়েন্ট নিয়ে চারে আছে।

এক বছর আগেও তামিম ইকবাল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজের সতীর্থ। দুজনে খেলেছিলেন মোহামেডানের হয়ে। এখন দুজনের ভূমিকা বদলেছে—এই সময়ের মধ্যেই মিরাজ হয়েছেন জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক, আর ৭ এপ্রিল তিন মাসের জন্য বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হন তামিম।

২০২৩ সালেও তামিম জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। এখানেই বাড়তি একটা ভরসা পাচ্ছেন ওয়ানডে অধিনায়ক মিরাজ। নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে আজ মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ বলেন, ‘যেহেতু আমরা একসঙ্গে ক্রিকেট খেলেছি, তিনি আমাদের সম্পর্কে বেশি ভালো জানবেন। উনি যেহেতু সাম্প্রতিক সময়ে খেলা ছেড়েছেন, আমাদের কী চাহিদা আছে, আমরা কী পছন্দ করি (তা জানেন)। এটা খেলোয়াড়দের জন্য একটা ইতিবাচক দিক।’

বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর ঘরোয়া ক্রিকেটারদের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তামিম, বাড়িয়েছেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফিও। ক্রিকেটারদের সঙ্গেও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে তামিমের।

তামিমের সঙ্গে কী কথা হয়েছে, সে বিষয়ে মিরাজ বলেন, ‘সভাপতির সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছিল যে আমাদের দল ভালো করছে। আমাদের প্রেরণা দিয়েছেন। (বলেছেন) আমরা যেভাবে খেলছি, এভাবে ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে।’

ওয়ানডে সিরিজের ট্রফি হাতে দুই দলের অধিনায়ক। আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে
ওয়ানডে সিরিজের ট্রফি হাতে দুই দলের অধিনায়ক। আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে
 

গত এক সপ্তাহে বাংলাদেশ ক্রিকেট অনেক ঘটনাপ্রবাহের ভেতর দিয়ে গেছে। তবে এ সময়ে জাতীয় দলের ব্যস্ততা ছিল প্রস্তুতিতেই। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাদা বল এবং আগামী মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে লাল বলে সিরিজের ক্রিকেটারদের অনুশীলন হয়েছে আলাদা করে।

এ সময়ে বাইরে কী হয়েছে, তা ক্রিকেটারদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি বলে জানিয়েছেন মিরাজ, ‘খুবই ভালো অনুশীলন করেছি এবং পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে বাইরে কী হয়, এটা আমাদের ও রকম মাথায় প্রভাব ফেলে না। কারণ, আমাদের কাজ হলো পারফর্ম করা।’

নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রস্তুতি নিয়েও সন্তুষ্টির কথাই বললেন মিরাজ, ‘আমার কাছে মনে হয়, গত তিন সপ্তাহ যেভাবে অনুশীলন হয়েছে, এটা আমার কাছে মনে হয় অনেক ভালো। বাইরে কী হয়েছে, এটা আমরা কখনো চিন্তা করিনি।’

ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে
ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে
 

ওয়ানডে সিরিজে আগামীকাল নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ দল। তিন ম্যাচের এ সিরিজে প্রথম দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি চট্টগ্রামে। তিনটি ম্যাচই শুরু হবে বেলা ১১টায়। এরপর তিন ম্যাচের টি–টুয়েন্টি সিরিজ খেলবে দুই দল।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব