• Colors: Purple Color

দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশে প্রথমবারের মতো এই নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে গণভোট। উৎসবমুখর পরিবেশে আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি আসনে একটানা চলেছে ভোটগ্রহণ। এখন চলছে ভোট গণনা পর্ব।

এরই মধ্যে অনেকটা নিশ্চিত হয়েছে গেছে আলোচিত কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের ফল। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি বিবেচনায়, এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ জয়ী হতে যাচ্ছেন। 

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ৪৬টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। 

ঘোষিত ৪৬ কেন্দ্রে হাসনাত আবদুল্লাহ শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ৬১ হাজার ৯৪২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসীম উদ্দিন পেয়েছেন ১৮ হাজার ৯৯২ ভোট। 

আসনটিতে মোট ১১৬টি কেন্দ্র রয়েছে। মোট ভোটার ৪ লাখ ১০ হাজার ৫৫৯। তাদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৫ হাজার ২৩৭ জন, নারী ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩১৯ জন এবং ৩জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। 

 

ফরিদপুর–২ (সালথা–নগরকান্দা) সংসদীয় আসনের নির্বাচনি লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত পাওয়া ১৯টি কেন্দ্রের প্রাথমিক ও বেসরকারি ফলাফলে আধিপত্য বজায় রেখেছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শামা ওবায়েদ।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৬টিতেই বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন শামা ওবায়েদ। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিকশা প্রতীকের প্রার্থী শাহ আকরাম আলী মাত্র ৩টি কেন্দ্রে এগিয়ে আছেন। এই দুই প্রার্থীর মধ্যে বর্তমানে ভোটের ব্যবধান ৭ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় সূত্র থেকে পাওয়া ১৯ কেন্দ্রের সমন্বিত ফলাফলে দেখা যায়, ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে মোট ২১ হাজার ১৩৬ ভোট। বিপরীতে রিকশা প্রতীকে ভোট পড়েছে ১৩ হাজার ৬৪৫টি। অর্থাৎ প্রথম ধাপের এই ১৯টি কেন্দ্রে শামা ওবায়েদ তার প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৭ হাজার ৪৯১ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। পারিবারিক ঐতিহ্যের এই আসনে শামা ওবায়েদ তার বাবার উত্তরসূরি হিসেবে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করছেন বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা। 

উল্লেখ্য, শামার বাবা প্রয়াত ওবায়দুর রহমান বিএনপির সাবেক মহাসচিব ছিলেন এবং এই আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রার্থীরা নিজ নিজ ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত কেন্দ্রগুলোতে বিপুল ভোট পেয়েছেন। নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, যা শামা ওবায়েদের নিজস্ব কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, সেখানে তিনি পেয়েছেন ১ হাজার ৪৪০ ভোট। এই কেন্দ্রে রিকশা প্রতীকের শাহ আকরাম আলী পেয়েছেন মাত্র ৩৭১ ভোট। 

অন্যদিকে সালথা উপজেলায় শাহ আকরাম আলীর নিজ কেন্দ্র বাহিরদিয়া মাদ্রাসায় তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৫০০ ভোট। এই কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে মাত্র ২২৫টি ভোট। এই দুই কেন্দ্রের ফলাফল প্রলয়ংকারী হলেও সামগ্রিক বিচারে শামা ওবায়েদ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।

শামা ওবায়েদ এর আগে ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগ নেত্রী প্রয়াত সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। তবে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি শুরু থেকেই শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। যদিও কয়েকটি কেন্দ্রে রিকশা প্রতীক বড় ব্যবধানে ভোট পাওয়ায় ব্যবধানে কিছুটা ভারসাম্য তৈরি হয়েছে, তবুও অধিকাংশ কেন্দ্রে ধানের শীষের জয়জয়কার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফল অনুযায়ী সালথা ও নগরকান্দা উপজেলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বাকি কেন্দ্রগুলোর ফলাফল যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নির্বাচনী এলাকায় বিজিবি ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। ফলাফল ঘোষণার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রিটার্নিং কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছেন। শামা ওবায়েদ এগিয়ে থাকলেও চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের তথ্য আসার অপেক্ষায় রয়েছে সাধারণ মানুষ।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক) আসনে চমক দেখাচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোট গণনা শেষে রাত ৮টা ২৪ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া ১২টি কেন্দ্রের বেসরকারি তথ্যে দেখা গেছে, রুমিন ফারহানা তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। এখন পর্যন্ত তিনি পেয়েছেন মোট ৯ হাজার ৬৪৮ ভোট।

এই আসনে রুমিন ফারহানার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়াই করছেন বিএনপি জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব।

১২টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, জুনায়েদ আল হাবিব পেয়েছেন ৬ হাজার ৭৪৫ ভোট। অর্থাৎ প্রাথমিক তথ্যে রুমিন ফারহানা তার প্রধান প্রতিপক্ষ থেকে প্রায় ৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে এবার ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেলেও শুরুর দিকের কেন্দ্রগুলোতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর আধিপত্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এই আসনের বাকি কেন্দ্রগুলোর ভোট গণনার কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। সরাইল ও আশুগঞ্জ এলাকার কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্বাচনি এলাকায় বিজিবি ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

প্রার্থীরা এখন নিজ নিজ এজেন্টদের মাধ্যমে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল শিট সংগ্রহের অপেক্ষায় রয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পেতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

 

দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশে প্রথমবারের মতো এই নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে গণভোট। উৎসবমুখর পরিবেশে আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি আসনে একটানা চলেছে ভোটগ্রহণ। এখন চলছে ভোট গণনা পর্ব।

এরই মধ্যে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ভোট গণনা শেষে আসতে শুরু করেছে ফল। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য বলছে, বগুড়া-৬ (সদর) আসনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পথে আছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও ধানের শীষের প্রার্থী তারেক রহমান।

আসনটির ৪১টি কেন্দ্রের প্রাথমিক ফলাফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল (দাঁড়িপাল্লা)।

প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ৪১টি কেন্দ্রে তারেক রহমান পেয়েছেন মোট ৫৬ হাজার ৩৮১ ভোট। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ২৪ হাজার ৫৩৮ ভোট।

কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে মাটিডালী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে। সেখানে তারেক রহমান পেয়েছেন ১ হাজার ৯৫১ ভোট এবং আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ১ হাজার ৯৯ ভোট। এরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন কেন্দ্রে তারেক রহমান ১ হাজার ৮৩৪ ভোট ও আবিদুর রহমান ১ হাজার ৪ ভোট পেয়েছেন।

এছাড়া সেউজগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে তারেক রহমান ১ হাজার ৭০ (আবিদুর রহমান ৪২৩), বুজুর্গধামা কেন্দ্রে ১ হাজার ৭১৮ (আবিদুর রহমান ৮৮৩), মেঘাগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ হাজার ৫৭১ (আবিদুর রহমান ৬৬০) এবং সরকারি মোস্তফাবিয়া আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে ১ হাজার ৫৪১ ভোট (আবিদুর রহমান ৭৬৫) পেয়েছেন। ঠনঠনিয়া নুরুন আলা নূর ফাজিল মাদ্রাসার দুটি কেন্দ্রেও বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন ধানের শীষের কাণ্ডারি।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির এক নেতা, এক প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, এক পোলিং কর্মকর্তাসহ অন্তত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে, কেউ ভোট দিয়ে ফেরার পথে এবং কেউ কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কোথাও মৃত্যুকে ঘিরে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগও উঠেছে।

খুলনায় বিএনপি নেতার মৃত্যু, জামায়াতের বিরুদ্ধে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ

খুলনায় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে মহানগর বিএনপি নেতা মহিবুজ্জামান কচি (৬০) মারা গেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে খুলনা আলিয়া মাদ্রাসার ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটেছে। মহিবুজ্জামান কচি খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ছিলেন।

বিএনপির অভিযোগ, মহিবুজ্জামান কচি সকালেই খুলনা আলিয়া মাদ্রাসার ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। কেন্দ্রের ভেতরে ভোট চাওয়ার বিরোধিতা করলে প্রতিপক্ষ জামায়াতের লোকজন তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এতে তিনি পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মহানগর বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান বলেন, মহিবুজ্জামান কচি দীর্ঘদিন হৃদ্‌রোগে ভুগছিলেন। তিনি সকালেই খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। সকাল থেকেই কেন্দ্রে উত্তেজনা ছিল। আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুর রহিম জামায়াতের প্রচারণায় ছিলেন। তাঁকে বাধা দিলে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা মহিবুজ্জামান কচিকে ধাক্কা দেন এবং তিনি গাছের সঙ্গে মাথায় আঘাত পান। পরে তাঁকে বেসরকারি একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ আবদুর রহিম মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জামায়াতের কেন্দ্র পরিচালক মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের নারী কর্মীদের বিএনপির লোকজন বের করে দিচ্ছিলেন। আমি বাধা দিই। তখন তাঁদের মধ্যে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে শুনি, তিনি মারা গেছেন। কাউকে ধাক্কা বা মারধরের ঘটনা ঘটেনি।’

খুলনা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনায় বিএনপিতে বিষাদের ছায়া। সকালে আলিয়া মাদ্রাসার কেন্দ্রে জামায়াত নেতার আঘাতে খুলনা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মহিবুজ্জামান কচি নিহত হয়েছেন। আমরা অবিলম্বে জামায়াত নেতা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও তাঁর সহযোগীকে গ্রেপ্তারের এবং যাঁরা নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পোলিং কর্মকর্তার মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা সদরের কাচারিপাড়া এলাকায় সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম মিলনায়তন ভোটকেন্দ্রে সকাল আটটার দিকে অজ্ঞান হয়ে পড়েন ২ নম্বর বুথের পোলিং কর্মকর্তা মো. মুজাহিদুল ইসলাম (৪৮)। পরে লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইসলামী ফাউন্ডেশনের শিক্ষক ছিলেন।

সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম মিলনায়তন ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শামীম আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তিনি কর্মরত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে মারা যান। সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. নাজিম উদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, লাশ হাসপাতালের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

সাতক্ষীরায় ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পথে মৃত্যু

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় ভোট দেওয়ার জন্য বের হয়ে রাস্তায় অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন এক ব্যক্তি। আজ সকালে উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের মাছিহারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত ব্যক্তির নাম অনাথ ঘোষ (৬৫)।

মৃত ব্যক্তির ভাতিজা জয়দেব ঘোষ বলেন, তাঁর কাকা সকালে নাশতা শেষে ভোট দেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে সকাল সাড়ে আটটার দিকে বের হন। তিনি মাছিহারা প্রাইমারি স্কুলে ভোটকেন্দ্রে ভোট দেওয়ার জন্য যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে পাঁচমাথা নামক স্থানে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে দ্রুত তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রামে লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু

চট্টগ্রাম-৯ আসনের বাটালি রোডের কাজীর দেউড়ি পেয়ার মোহাম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে পড়েন  মো. মনু মিয়া (৫৭)। পরে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মনু মিয়া একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ভোটারের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর চাচা ফজল কবির বলেন, ভোট দেওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল তাঁর। কিন্তু ভোট দেওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হলো।

ভৈরবে তাড়া খেয়ে একজনের মৃত্যুর অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আগানগর দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এলাকায় রাজ্জাক মিয়া (৫৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার  বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ভোট দিয়ে বের হওয়ার পর কেন্দ্রসংলগ্ন স্থানে বসে ছিলেন রাজ্জাক মিয়া। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এসে লোকজনকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং লাঠিপেটা করেন। তাড়া খেয়ে দৌড়ে পালানোর সময় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কিশোর কুমার ধর বলেন, রাজ্জাক মিয়াকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাঁর শরীরে আঘাতের আলামত পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মানিকগঞ্জে ভোট দিতে গিয়ে একজনের মৃত্যু

মানিকগঞ্জে ভোট দিতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন এক ভোটার। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এই ঘটনা ঘটে। মৃত ব্যক্তির নাম বাবু মিয়া (৭০)। তিনি পেশা ভ্যান চালক ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, সকালে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসেন তিনি। চারদিকে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ভিড়ের মধ্যেই শান্তভাবে ভোটার স্লিপ সংগ্রহ করে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন বাবু মিয়া। কিন্তু হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। আকস্মিক তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

ঘটনার সততা নিশ্চিত করে ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন বলেন, হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গাইবান্ধায় ভোট দিয়ে ফেরার পথে মৃত্যু

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ওসমানেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে ফেরার পথে বাছের চৌধুরী (৬০) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। আজ বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ভোট দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে প্রায় ৫০০ গজ দূরে গিয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল কবির বলেন, বৃদ্ধের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

ঢাকায় ভোট দিতে গিয়ে একজনের মৃত্যু

ঢাকার যাত্রাবাড়ীর একটি কেন্দ্রে আজ সকালে ভোট দিতে গিয়ে আবু সাঈদ সরকার (৫৩) নামে এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। তিনি সাবেক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। তিনি সপরিবারে রাজধানীর মানিকনগরে থাকতেন।

আবু সাঈদের স্ত্রী প্রীতি ইসলাম ওরফে পারভীন বলেন, তাঁর স্বামী আজ সকালে ঘুম থেকে জেগে ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে নিয়ে যাত্রাবাড়ীর অগ্রদূত বিদ্যা নিকেতন স্কুল কেন্দ্রে ভোট দিতে যান। তাঁর কাছে খবর আসে তাঁর স্বামী স্কুল ভবনের চতুর্থ তলার সিঁড়িতে অচেতন হয়ে পড়েন। সেখান থেকে তাঁকে সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. ফারুক এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ময়মনসিংহে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার মৃত্যু

ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ বোধ করলে তাঁকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর নাম মো. রেজাউল করিম। তিনি উপজেলার দরাবন্নি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি মাজরাকুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমানের পক্ষ থেকে শোক বার্তায় জানানো হয়, মৃত্যুকালে রেজাউলের বয়স হয়েছিল ৪৮ বছর।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী, চর রাজিবপুর ও চিলমারী) আসনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।

বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, এই আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি মোট ৭৮ হাজার ৯৪৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোস্তাফিজুর রহমানের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. আজিজুর রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৯৪৫ ভোট। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী হাফিজুর রহমান ৯ হাজার ৪৪৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। দুই প্রধান প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় ২১ হাজার।

কুড়িগ্রাম-৪ আসনটি এবার ভোটারদের উপস্থিতির দিক থেকে বেশ প্রাণবন্ত ছিল। এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ২২ হাজার ১৪৫ জন।

লিঙ্গভিত্তিক ভোটার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এখানে পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটারের সংখ্যা সামান্য বেশি। মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৬০ হাজার ৭৮৩ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৬১ হাজার ৩৬২ জন। নির্বাচনের দিন চরাঞ্চলের নারী ভোটারদের দীর্ঘ সারি এবং স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব