• Colors: Yellow Color

মঞ্চে দাঁড়িয়ে কাঁপছিল পা। হাতে ট্রফি, ঝলমলে আলো, ক্যামেরা আর করতালির শব্দ। তবু যেন বিশ্বাস হচ্ছিল না—এটাই সত্যি! রাজশাহীর মেয়ে বিদুষী বর্ণিতার জন্য এই মুহূর্তটি শুধু একটি জয়ের নয়; বহুদিনের না পাওয়া এক স্বপ্নপূরণেরও গল্প।
শুক্রবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জমকালো আয়োজনে ‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’-এর মুকুট ওঠে তাঁর মাথায়। দীর্ঘ সাত বছর পর নতুন করে এই প্রতিযোগিতার বিজয়ী পেল বাংলাদেশ।

ট্রফি হাতে নেওয়ার পরপরই আবেগাপ্লুত বর্ণিতা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার পা কাঁপছিল, দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না। দর্শকের ভালোবাসায় এই জায়গায় এসেছি। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।’

প্রথম হওয়ার অপূর্ণতা থেকে পূর্ণতা
বর্ণিতার ভেতরে জমে ছিল এক দীর্ঘদিনের আক্ষেপ—কখনো প্রথম হতে না পারার। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে  তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় পড়ালেখায় ভালো ফল করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু জীবনে কখনো প্রথম হতে পারিনি। সব সময় দ্বিতীয় বা তৃতীয় হয়েছি। সব সময়ই মনে হতো, কোথাও না কোথাও প্রথম হতে চাই। আজ সত্যিই আমি এই মঞ্চে প্রথম হতে পেরেছি।’

জয়ের আনন্দের সঙ্গে দায়িত্ব
জয়ের উচ্ছ্বাসের মাঝেও বর্ণিতার চোখে স্পষ্ট দায়িত্ববোধ। তাঁর কাছে এই ট্রফি কেবল পুরস্কার নয়, আরও বড় কিছু। তিনি বলেন, ‘এই ট্রফিটা শুধু একটি পুরস্কার নয়, এটা অনেক বড় দায়িত্ব। সবার ভালোবাসা আর সমর্থনেই আমি এখানে এসেছি। সেই ভালোবাসার মর্যাদা রাখতে চাই, সামনে আরও দূর যেতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’

প্রথম আলো

এই জয় বর্ণিতার জন্য নতুন দরজাও খুলে দিয়েছে। ট্রফির পাশাপাশি তিনি পাচ্ছেন বিলাসবহুল গাড়ি, শিহাব শাহীনের ওয়েব কনটেন্টে কাজের সুযোগ এবং সবচেয়ে বড় চমক—ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যানারে রায়হান রাফীর পরিচালনায় একটি সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ। এ প্রসঙ্গে বর্ণিতা বলেন, ‘রাফী স্যার শুরু থেকেই আমাদের মেন্টর ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তাঁর সিনেমা বড় পর্দায় দেখেছি দর্শক হিসেবে। এখন তাঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য অবিশ্বাস্য। আমি সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’

প্রতিযোগিতার পথচলা
২০০৫ সালে শুরু হওয়া লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতা কয়েক বছর নিয়মিত চলার পর বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০১৮ সালে আয়োজনটি হয়েছিল। সাত বছর বিরতির পর গত বছর শুরু হয় এর দশম আসর।

ট্রফি হাতে বিদুষী বর্ণিতা
ট্রফি হাতে বিদুষী বর্ণিতা

লক্ষাধিক আবেদনকারীর মধ্য থেকে বাছাই শেষে ১১ হাজার প্রতিযোগীকে ডাকা হয়। সেখান থেকে সেরা ১০ জনকে নিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চ্যানেল আইয়ে সম্প্রচার শুরু হয় প্রতিযোগিতাটি। এবারের আসরের মেন্টর ছিলেন জয়া আহসান, মেহজাবীন চৌধুরী ও রায়হান রাফী। চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেন পাঁচ প্রতিযোগী—আমিনা ইসলাম, বিদুষী বর্ণিতা, নুসরাত আফরীন ইয়ুমনা, তিস্তা পাল ও নাযাহ নাওয়ার বিনতে নুরুল। এর মধ্যে প্রথম রানারআপ হয়েছেন নাযাহ নাওয়ার বিনতে নুরুল এবং দ্বিতীয় রানারআপ চট্টগ্রামের আমিনা।

শুক্রবার অনুষ্ঠানে ইউনিলিভারের মার্কেটিং ডিরেক্টর ও বিজনেস ইউনিট হেড নাবিলা জাবীন খান বলেন, ‘লাক্স সুপারস্টারের গল্পগুলো সব সময়ই অনুপ্রেরণার। এটি একজন সাধারণ নারীর অসাধারণ হয়ে ওঠার যাত্রা।’ সেই যাত্রার নতুন অধ্যায়ে পা রাখলেন রাজশাহীর বর্ণিতা।

চ্যানেল আই অবলম্বনে

‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’–এর বিজয়ী হয়েছেন রাজশাহীর মেয়ে বিদুষী বর্ণিতা। শুক্রবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জমকালো আয়োজনে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় বিজয়ের ট্রফি।

দীর্ঘ সাত বছর পর নতুন করে লাক্স সুপারস্টার পেল বাংলাদেশ। বর্ণিতার হাতে ট্রফি তুলে দেন অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম এবং ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী রুহুল কুদ্দুস খান। জানা গেছে, বিজয়ী বর্ণিতাকে নিয়ে নির্মাতা রায়হান রাফী সিনেমা নির্মাণ করবেন।

প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন পাবনার নাযাহ নাওয়ার বিনতে নুরুল। তিনি পেয়েছেন পাঁচ লাখ টাকার চেক। দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন চট্টগ্রামের আমিনা—তাঁর প্রাপ্তি তিন লাখ টাকা।

শুক্রবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জমকালো আয়োজনে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় বিজয়ের ট্রফি
শুক্রবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জমকালো আয়োজনে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় বিজয়ের ট্রফি
 

চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেন পাঁচ প্রতিযোগী—আমিনা ইসলাম, বিদুষী বর্ণিতা, নুসরাত আফরীন ইয়ুমনা, তিস্তা পাল ও নাযাহ নাওয়ার বিনতে নুরুল।
২০০৫ সালে শুরু হওয়া এই সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা কয়েক বছর নিয়মিত আয়োজনের পর বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০১৮ সালে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সাত বছর বিরতির পর গত বছর শুরু হয় এর দশম আসর।

লক্ষাধিক আবেদনকারীর মধ্য থেকে প্রাথমিক বাছাই শেষে ১১ হাজার প্রতিযোগীকে ডাকা হয়। সেখান থেকে সেরা ১০ জনকে নিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চ্যানেল আইয়ে প্রতিযোগিতার সম্প্রচার শুরু হয়। এবারের আসরের মেন্টর ছিলেন জয়া আহসান, মেহজাবীন চৌধুরী ও রায়হান রাফী।

‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’–এর বিজয়ীবিজয়ী বর্ণিতা(মাঝে)
‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’–এর বিজয়ীবিজয়ী বর্ণিতা(মাঝে)
 

অনুষ্ঠানে চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর জানান, বিজয়ীদের নিয়ে শিহাব শাহীন ওয়েব সিনেমা নির্মাণ করবেন।
ইউনিলিভারের মার্কেটিং ডিরেক্টর ও বিজনেস ইউনিট হেড নাবিলা জাবীন খান বলেন, ‘লাক্স সুপারস্টারের গল্পগুলো সব সময়ই অনুপ্রেরণার। এটি একজন সাধারণ নারীর অসাধারণ হয়ে ওঠার যাত্রা।’

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হওয়া চূড়ান্ত আসরটি উপস্থাপনা করেন মোশাররফ করিম ও আরিফিন শুভ। অনুষ্ঠানে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন জেফার রহমান, ইরফান সাজ্জাদ, তৌসিফ মাহবুব, আরশ খানসহ অনেকে।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিহাব শাহীন, আজমেরী হক বাঁধন, বিদ্যা সিনহা মিমসহ শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই।

ভক্তদের উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। সেখানে ভক্তদের ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অহেতুক তর্কবিতর্ক ও কাদা–ছোড়াছুড়ি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

অপু বিশ্বাস
অপু বিশ্বাস

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এক ফেসবুক পোস্টে অপু বিশ্বাস লিখেছেন, ‘আজ এই দীর্ঘ পথচলায় আপনারা যেভাবে আমার ছায়া হয়ে পাশে আছেন, তার জন্য আমি চিরঋণী। আপনারা আমাকে শুধু একজন শিল্পী হিসেবে নয়, আপনাদের পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে ভালোবেসেছেন। আর এই ভালোবাসার পেছনের প্রধান কারণ হলো আমার কাজ। আপনারা আমাকে কাজ দিয়ে চিনেছেন, কাজের মাধ্যমেই আমি আপনাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছি।’

ভক্তদের প্রশংসা করে অপু বলেন, ‘আমি গর্বিত এই ভেবে যে আমার ভক্তরা শুধু সংখ্যায় নয়, বরং তাঁরা তাঁদের শিক্ষা, রুচি এবং মার্জিত আচরণের জন্য অনন্য। আপনারা যে কতটা ধৈর্যশীল এবং সুশিক্ষিত পরিবারের প্রতিনিধি, তা বারবার প্রমাণ করেছেন। আমি মনে করি, অপুর ভক্ত হওয়া মানেই আভিজাত্য আর শিষ্টাচারের এক অনন্য মেলবন্ধন।’
এ সময় ভক্তদের উদ্দেশে বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘তাই আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ অনুরোধ—আপনারা কারও সঙ্গে কোনো ধরনের অহেতুক তর্কে বা কাদা–ছোড়াছুড়িতে জড়াবেন না।’

অপু বিশ্বাস
অপু বিশ্বাস

মনে রাখবেন, যাঁরা নিজেদের কাজ বা অর্জন দিয়ে আলোচনায় থাকতে পারেন না, তাঁরাই অন্যের পরিবার নিয়ে চর্চা করেন বা আজেবাজে পোস্ট করে গুরুত্ব পাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু আপনাদের ব্যক্তিত্ব এতই ঊর্ধ্বে যে কারও নীচু মানের মন্তব্যের উত্তর দিয়ে আপনাদের সেই মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার প্রয়োজন নেই। যাঁরা সস্তায় জিততে চান, তাঁরা কখনোই আপনাদের এই মার্জিত আভিজাত্যের নাগাল পাবেন না।

​নিজের পরিবারের প্রশংসা করে অপু লিখেছেন, ‘আমার পরিবার আমার অহংকার। যখন প্রয়োজন হয়েছে, আমি নিজেই আমার পরিবারকে আপনাদের সামনে এনেছি। এখন আর নতুন করে কোনো পোস্ট বা কথার মাধ্যমে আমার পরিবারকে নিয়ে কারও কাছে কিছু প্রমাণ করার নেই। আমাদের পরিচয় আমাদের কাজ, আমাদের বংশমর্যাদা এবং আমাদের শিক্ষা।

অপু বিশ্বাস
অপু বিশ্বাসছবি : অপু বিশ্বাসের সৌজন্যে

​পোস্টে অপু আরও লিখেছেন, ‘আপনারা যেভাবে আমাকে ছায়ার মতো আগলে রেখেছেন, ঠিক সেভাবেই আপনাদের ভালোবাসার সেই ছোট্ট আব্রাহাম খান জয়কে আপনাদের স্নেহ আর মমতায় আগলে রাখবেন। তাকে সুন্দরভাবে সবার কাছে উপস্থাপন করাই হোক আপনাদের লক্ষ্য।’

সবশেষে অপু লিখেছেন, ‘​আমরা কোনো বিতর্ক বা হট্টগোলে নেই; আমরা আছি ভালোবাসা আর কাজের গৌরবে। আপনারা শান্ত ও হাসিখুশি থাকুন। কারণ, আপনাদের এই মার্জিত রূপটিই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।’

টেলিভিশনের পর্দায় তাঁর উপস্থিতি মানেই হালকা মেজাজ, রসিকতা আর অনায়াস বিনোদন। ‘মানুষ হাসানো’ পেশা বানিয়ে যিনি গড়ে তুলেছেন নিজের আলাদা সাম্রাজ্য, তিনি কপিল শর্মা। অথচ এই জায়গায় পৌঁছানোর পথটা একেবারেই সহজ ছিল  না। মাত্র ৫০০ টাকা আয় দিয়ে শুরু করা এই কমেডিয়ান এখন প্রায় ৪০০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক। উপার্জনের দিক থেকেও তিনি ভারতীয় ছোট পর্দার সবচেয়ে এগিয়ে থাকা তারকাদের একজন। আজ তাঁর জন্মদিন।

১৯৮১ সালের ২ এপ্রিল ভারতের অমৃতসরে জন্ম কপিল শর্মার। বাবা ছিলেন পুলিশ কনস্টেবল, মা গৃহিণী। সীমিত আয়ের সংসারে বড় হওয়া কপিল ছোটবেলা থেকেই গান, অভিনয় আর মঞ্চের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও তাঁর এই আগ্রহকে নিরুৎসাহিত করা হয়নি, বরং উৎসাহই পেয়েছেন বেশি।

ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুর দিকে একটি অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। ২০০১ সালে ‘গদর: এক প্রেম কথা’ ছবির শুটিং অমৃতসরে হলে সেটে গিয়ে ছোট একটি দৃশ্যে অভিনয়ের সুযোগ পান। কিন্তু শুটিংয়ের সময় নির্দেশনা ঠিকভাবে অনুসরণ করতে না পারায় অ্যাকশন পরিচালক তিনু বর্মার বকুনি তো খেয়েছিলেনই, এমনকি চড় দিয়ে সেট থেকে বের করে দেওয়া হয় তাঁকে। ঘটনাটি কপিল পরে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করে বলেছেন, সেটাই তাঁকে নিজের দক্ষতা প্রমাণের জন্য আরও দৃঢ় করে তোলে।

ব্যর্থতাই তাঁকে শক্তি দিয়েছিল। তিনি ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান লাফার চ্যালেঞ্জে’ দিল্লি থেকে অংশ নেন। জয়ী হয়ে ফেরেন কপিল শর্মা
ব্যর্থতাই তাঁকে শক্তি দিয়েছিল। তিনি ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান লাফার চ্যালেঞ্জে’ দিল্লি থেকে অংশ নেন। জয়ী হয়ে ফেরেন কপিল শর্মা, ফেসবুক থেকে
 

প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে টেলিভিশনের শীর্ষে
২০০৭ সালে তাঁর জীবনের বড় বাঁক আসে। ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান লাফটার চ্যালেঞ্জ’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিজয়ী হন তিনি। পুরস্কার হিসেবে পান ১০ লাখ টাকা, যা তাঁর জীবনের প্রথম বড় সাফল্য। এখান থেকেই জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পান কপিল। এরপর ‘কমেডি সার্কাস’-এর একাধিক আসরে অংশ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে জয়ী হয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন একজন দক্ষ কমেডিয়ান হিসেবে। তাঁর তাৎক্ষণিক সংলাপ বলার ক্ষমতা, সাধারণ বিষয়কে হাস্যরসে রূপ দেওয়ার দক্ষতা তাঁকে দ্রুত দর্শকের কাছে জনপ্রিয় করে তোলে।

স্ত্রী গিনি ছত্রাতের সঙ্গে কপিল শর্মা
স্ত্রী গিনি ছত্রাতের সঙ্গে কপিল শর্মা

বিতর্ক, বিরতি ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প
তবে সাফল্যের ধারাবাহিকতা সব সময় একই রকম থাকে না। ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে এসে কপিল শর্মাকে বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি হতে হয়। সহশিল্পী সুনীল গ্রোভার ও আলী আসগরের সঙ্গে বিরোধ, শোর জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া এবং ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে সমালোচনা—সব মিলিয়ে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শুটিং সেটে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও সামনে আসে, যা তাঁর মানসিক চাপের ইঙ্গিত দেয়। একসময় এমন অবস্থাও তৈরি হয়, যখন তাঁর অনুষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

এই কঠিন সময় থেকেই আবার ঘুরে দাঁড়ান কপিল। কিছু সময় বিরতি নিয়ে নিজেকে গুছিয়ে ফেরেন তিনি। নতুনভাবে শুরু হওয়া ‘দ্য কপিল শর্মা শো’ আবারও দর্শকদের মন জয় করে নেয়। আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও পরিণতভাবে নিজেকে উপস্থাপন করেন তিনি।

টেলিভিশনের বাইরে বড় পর্দায়ও কাজ করেছেন কপিল শর্মা। ২০১৫ সালে ‘কিস কিস কো প্যার করু’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তাঁর। এরপর ‘ফিরঙ্গি’, ‘জুইগ্যাটো’ এবং সাম্প্রতিক ‘ক্রু’ ছবিতে অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি কণ্ঠশিল্পী হিসেবেও কাজ করেছেন—‘দ্য অ্যাংরি বার্ডস মুভি টু’ ছবিতে একটি চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।

‘দ্য কপিল শর্মা শো’তে কপিল শর্মা
‘দ্য কপিল শর্মা শো’তে কপিল শর্মা, ভিডিও থেকে
 

অর্থনৈতিক সাফল্যের দিক থেকেও কপিল শর্মা এখন শীর্ষে। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। মুম্বাইয়ের অন্ধেরিতে রয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকার বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। আয়কর দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি দেশের শীর্ষ তারকাদের মধ্যে অন্যতম, প্রায় ৩০ কোটি টাকা কর দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।
টেলিভিশনের পর্দায় হাসির মাধ্যমে দর্শকদের আনন্দ দিয়ে নিজের অবস্থান পোক্ত করা কপিল শর্মা এখনো বিনোদন অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ। জন্মদিন উপলক্ষে আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। ভক্তরা তাঁর জনপ্রিয় অনুষ্ঠানগুলোর স্মরণীয় মুহূর্ত, পুরোনো ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। সহশিল্পী ও তারকারাও বিভিন্ন পোস্টে তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও শুভকামনা জানাচ্ছেন।

আলোচিত মডেল, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনয়শিল্পী সিমরিন লুবাবা বলছেন, তিনি এখনো বিয়ে করেননি, তবে বাগ্‌দান সেরেছেন।

গতকাল রাতে লুবাবার একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে তাঁর বিয়ের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মধ্যে আজ সন্ধ্যায় আরেক ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন তিনি।

বাগ্‌দত্তার সঙ্গে তোলা ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে সিমরিন লুবাবা লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের দুই পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘরোয়া পরিবেশে আমাদের বাগ্‌দান সম্পন্ন হয়েছে।’

বাগ্‌দত্তার সঙ্গে তোলা ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন সিমরিন লুবাবা
বাগ্‌দত্তার সঙ্গে তোলা ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন সিমরিন লুবাবাফেসবুক থেকে

দুজনের ছবিটি পেছন থেকে তোলা, ফলে বাগ্‌দত্তাকে চেনা যাচ্ছে না। তাঁর পরিচয়ও প্রকাশ করেননি।

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুসারে ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়ে ও ২১ বছরের কম বয়সী ছেলের বিয়ে হলে তা বাল্যবিবাহ। কেউ কেউ বলছেন, লুবাবার বয়স এখনো ১৮ বছর হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মধ্যে লুবাবা ফেসবুকে লিখেছেন, তিনি এখনো বিয়ে করেননি। তাঁর ভাষ্য, ‘বাংলাদেশ সরকারের আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে আমাদের বিবাহ সম্পন্ন হবে, ইনশা আল্লাহ। আমরা সকলের কাছে দোয়া প্রার্থী।’

লুবাবা ও তাঁর দাদা প্রয়াত অভিনেতা আবদুল কাদের
লুবাবা ও তাঁর দাদা প্রয়াত অভিনেতা আবদুল কাদেরফাইল ছবি

সিমরিন লুবাবা ছোটবেলা থেকেই মিডিয়ায় পরিচিত মুখ। প্রয়াত অভিনেতা আবদুল কাদেরের নাতনি হিসেবে খুব অল্প বয়সেই অভিনয়ে আসেন। শিশুশিল্পী হিসেবে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর নিয়মিত অভিনয় ও মডেলিংয়ে কাজ করেছেন।

তবে গত বছরের শেষ দিকে হঠাৎই বিনোদনজগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন লুবাবা।

তুর্কি ধারাবাহিক ‘ভেনডেটা’ এখন বিশ্বের ৭০টির বেশি দেশে সম্প্রচার করা হচ্ছে; এর জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে। মূলত একটি পারিবারিক রক্তক্ষয়ী শত্রুতার প্রেক্ষাপটে দুই তরুণ, দিলান ও বারানের প্রেম এবং সংগ্রামের গল্প বলছে এই ধারাবাহিক। এই সিরিজটি নির্মাণ করেছে রেইনস পিকচার্স ও ইউনিক ফিল্ম। ধারাবাহিকটি তুরস্কে সম্প্রচারিত হচ্ছে কানাল ৭-এ।

রক্তক্ষয়ী শত্রুতা থেকে প্রেম

ধারাবাহিকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন দিলান ও বারান, যাঁদের চরিত্রে অভিনয় করছেন ইয়াগমুর ইউকসেল ও বারিশ বাকতাস। দুই পরিবার দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের সঙ্গে শত্রুতা করে আসছে। শান্তি স্থাপনের জন্য তাঁদের বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়।

শুরুর দিকে সম্পর্ক ছিল ‘অস্বীকৃত’, একে অপরকে পছন্দ করতেও তারা দ্বিধা করত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা বোঝে যে তাদের মধ্যে জেগে ওঠা টুকরা টুকরা আকর্ষণ একদিকে প্রেমের সূচনা করতে পারে, অন্যদিকে পুরো জীবন ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে পারে। দর্শকেরা প্রতিটি দৃশ্যে দেখেছে, কীভাবে ছোট ছোট নীরব অনুভূতি, চুপচাপ একে অপরের দিকে টান এবং মানসিক টানাপোড়েন ধীরে ধীরে গভীর সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যায়।

আন্তর্জাতিক সাফল্য: ৭০টির বেশি দেশে দর্শকপ্রিয়তা
‘ভেনডেটা’ শুধু তুরস্কেই নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও সফলতা অর্জন করেছে। জর্জিয়া, রোমানিয়া, পোল্যান্ড, বুলগেরিয়া, ইউক্রেন, কাজাখস্তান এবং সাব-সাহারান আফ্রিকায় এটি প্রচুর দর্শক টানছে। বিশেষত জর্জিয়ায় এটি প্রাইম টাইমে শীর্ষস্থানীয় ধারাবাহিক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

‘ভেনডেটা’র দৃশ্য। আইএমডিবি
‘ভেনডেটা’র দৃশ্য। আইএমডিবি

বিপণন সংস্থা গ্লোবাল এজেন্সির প্রধান ইজেট পিন্টো বলেন, ‘আমরা সিরিজটি আন্তর্জাতিকভাবে বিপণন শুরুর পর থেকেই এটি আলোচিত হয়েছে। যেকোনো দেশে সম্প্রচার শুরু হলেই এটি শীর্ষস্থান দখল করে নেয়। দর্শকের সঙ্গে সংযোগ এত গভীর যে তারা চরিত্র এবং গল্পের সঙ্গে আবদ্ধ হয়ে যায়।’

প্রধান চরিত্র ও তারকা শক্তি
মূল অভিনেতারা প্রথমে নতুন মুখ হলেও, তাঁদের অভিনয়, আবেগপ্রবণতা এবং চরিত্রের গভীরতার কারণে তাঁরা আন্তর্জাতিকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। ইজেট পিন্টো আরও জানান, তাঁদের অনুগামী সংখ্যা এক মিলিয়নেরও বেশি, যা ধারাবাহিকের দর্শকপ্রিয়তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
দিলান চরিত্রটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁকে একজন শক্তিশালী নারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যিনি শুধু প্রেমে নয়, বরং পরিবার, ন্যায় এবং নিজের পরিচয় রক্ষায়ও দৃঢ়।

নারী সৃজনশীল দলের অবদান
‘ভেনডেটা’র সৃজনশীল দলের একটি বড় অংশ, বিশেষ করে চিত্রনাট্যকারেরা নারী। তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি গল্প বলার ধরনে নতুনত্ব এনেছে। একদিকে যেখানে প্রেম, প্রতিশোধ এবং নৈতিক দ্বন্দ্বের কাহিনি দর্শকদের মোহিত করছে, অন্যদিকে নারী চরিত্রের স্বতন্ত্রতা গল্পে ভারসাম্য বজায় রাখছে।

‘ভেনডেটা’র দৃশ্য। আইএমডিবি
‘ভেনডেটা’র দৃশ্য। আইএমডিবি

বন্ধুত্ব ও আন্তর্জাতিক ভক্তশ্রেণি
ধারাবাহিকের গল্প কেবল প্রেমের নয়, বন্ধুত্ব, পারিবারিক সম্পর্ক এবং সামাজিক বন্ধনের ওপরও দৃষ্টি রাখে। দর্শকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিকের প্রতিটি মুহূর্ত ভাগ করে নিচ্ছেন, মিম তৈরি করছেন। বিশ্বজুড়ে এটি নিয়ে অন্তর্জালে আলোচনা চলছে। ফলে ‘ভেনডেটা’ শুধু সিরিজ হিসেবে নয়, একটি আন্তর্জাতিক ভক্তশ্রেণিও তৈরি করেছে।

দর্শকের সঙ্গে সংযোগ
‘ভেনডেটা’র জনপ্রিয়তার আরেকটি কারণ এটির বাস্তবধর্মী উপস্থাপনা। গল্পের টানাপোড়েন, চরিত্রের বিকাশ এবং সামাজিক দৃষ্টিকোণ দর্শকের কাছে গভীরভাবে প্রভাব ফেলছে। এতে করে প্রতিটি দৃশ্যই শুধু বিনোদন নয়, বরং দর্শকের ভাবনার ক্ষেত্রকে প্রসারিত করছে।

ভ্যারাইটি অবলম্বনে

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব