‘আমি প্রিন্সের সঙ্গে একাধিকবার ডেট করেছি’












টেলিভিশন আর ওটিটির চেনা মুখ পারসা ইভানা। আজ সকালে বেশ কয়েকটি নতুন ছবি পোস্ট করেছেন অভিনেত্রী। ছবিতে ছবিতে জেনে নেওয়া যাক পারসা সম্পর্কে কিছু তথ্য—








তেত্রিশ বছর আগে ১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। বুধবার ছিল এ সিনেমার মুক্তির দিন। সোহানুর রহমান সোহানের এ ছবির মাধ্যমে দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীরা পেয়েছিলেন দুটি নতুন মুখ—মৌসুমী ও সালমান শাহ। প্রথম ছবিতেই তাঁরা বাজিমাত করেন, অভিনয় দিয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নেন। ৩০ বছর আগে সালমান শাহ মারা যান। মৃত্যুর আগে ২৭টি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। সব কটি ছিল জনপ্রিয় ও ব্যবসায়িকভাবে সফল। তবে এক ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ দিয়ে সালমান শাহ মানুষের মনে থাকবেন বহুকাল।
সালমান-মৌসুমীর জন্য নয়, নির্মাণের জাদুতেই ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছিল। এতে শিল্পীদের কোনো হাত নেই। কারণ, কেন্দ্রীয় চরিত্র সালমান শাহ-মৌসুমী—দুজনই ছিলেন নবাগত।

ছবির গুণেই এটি আজও মানুষের হৃদয়ে দাগ কেটে আছে। এমনটাই মনে করেন এ ছবির পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান। ২০২২ সালের ২৪ মার্চে প্রথম আলোর কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি তখন বলেছিলেন, ‘৩০ বছর পর এসে কেউ আয়োজন করে আমার সিনেমার কথা স্মরণ করছেন, এটা তো অবশ্যই ভালো লাগার। আমাদের চলচ্চিত্রের জন্যও খুব ভালো দিক। তবে খুব বেশি করে ৩০ বছর আগের দিনটা মনে পড়ছে। কীভাবে ছবিটা মুক্তি পেল, কীভাবে ব্যবসা করল, আমি কিংবা আমার ছবির শিল্পীরা এ ছবির বদৌলতে কীভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠলেন। এই দিনে এসব মনে পড়ছে।’
কীভাবে এই চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন মৌসুমী? জানতে চাইলে এই চিত্রনায়িকা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ছবির প্রস্তাবগুলো আসত গুলজার (পরিচালক মুশফিকুর রহমান) ভাইয়ের মাধ্যমে, তখন তিনি ছিলেন সাংবাদিক। আমার সাক্ষাৎকারের পরিকল্পনা করেন। সোহান ভাই বন্ধু হয়ে ঢাকায় আমাদের মোহাম্মদপুরে হুমায়ুন রোডের বাসায় এসেছিলেন। সেখানেই চলচ্চিত্রে আগ্রহী কি না, কৌশলে জানতে চান। তখন আমি স্থিরচিত্র আর বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হয়েই খুশি ছিলাম। মধ্যবিত্ত পরিবার, তাই নাটকে অভিনয়ের চেষ্টা করিনি। গুলজার ভাই বললেন, ‘ধরুন, হিন্দি ছবি “কেয়ামত সে কেয়ামত তক” যদি বাংলায় রিমেক হয়, আপনি জুহি চাওলার চরিত্রটা করবেন, আমির খানের চরিত্রে নোবেল, তৌকীর আহমেদ কিংবা জাহিদ হাসানও হতে পারেন।’

তাঁরা জানতেন, তৌকীর ভাই আর নোবেল ভাইয়ের ভক্ত আমি। তখন কিছুটা আগ্রহী হলাম। কারণ, সহশিল্পী হিসেবে পছন্দের শিল্পীরা থাকবেন। আমি তখন থেকে স্বপ্ন দেখা শুরু করি। কীভাবে বাসায় বলা যায়, উপায় খুঁজছি। এরপর আরও অনেক ছবির প্রস্তাব পেয়ে আমি দ্বিধায় পড়ে যাই। মনে মনে বাছাই করতে থাকি, কার ছবি করব? ঘুরেফিরে দেখি, ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’।
‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবিতে প্রথম দিনের সংলাপ কী ছিল, জানতে চাইলে মৌসুমী বলেন, ‘প্রথম দিন ক্যামেরার সামনে ভয়ে কাঁপছিলাম। একটি দৃশ্য ছিল, ওই দিন একটা বাইকে সালমান আর আমি এফডিসি থেকে কাঁচপুরে গেছি। আবার ফিরে আসি। “কেয়ামত থেকে কেয়ামত” ছবিতে পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ছিল ওটা।’
সালমান শাহর সঙ্গে আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল মৌসুমীর। কথায় কথায় তেমনটাই জানালেন ঢালিউডের ‘প্রিয়দর্শিনী’। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তখন খুলনায় থাকতাম। ছোটবেলায় ইমন (সালমান শাহর ডাকনাম) আর আমি প্লে গ্রুপ ও নার্সারিতে একসঙ্গে পড়েছি। ওই স্কুলে আমার ফুফু ছিলেন টিচার। ফুফুর ছুটি হওয়া পর্যন্ত ইমনদের বাসায় আড্ডা দিতাম। সেও আমাদের বাসায় যাওয়া-আসা করত। ভালো বন্ধুত্ব হয়। এরপর হঠাৎ ওরা ঢাকায় চলে আসে। বন্ধুর সঙ্গে বন্ধুর দেখা হওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা থাকে, তা ছবিটি করতে গিয়ে নতুন করে টের পাই। ছবির কাজ করার সময় আমাদের দেখা হয়। আবেগাপ্লুত হলাম। অল্প কয়েক দিনেই আমাদের সম্পর্ক আবার আগের রূপ নেয়। নিজেদের সবকিছুই একজন আরেকজনের সঙ্গে শেয়ার করতাম। আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক নিয়ে তো পরিচালক সোহান ভাই একপর্যায়ে ভুল বুঝতে শুরু করলেন। তিনি ভাবলেন, আমরা একজোট হয়ে গেছি।’
ছবিটি এতটা সাড়া ফেলবে, ভেবেছিলেন কি? ‘এটা যে প্রেমের আদর্শ গল্প হয়ে যাবে, এই জুটি যে প্রেমের আদর্শ জুটি হবে, প্রিয় জুটি হয়ে উঠবে—ভাবিনি। এত বড় স্বপ্ন মানুষ দেখতে পারে না। যখন পেছনে ফিরে তাকাই, দেখা যায়, এই স্বপ্ন যদি দেখতাম, তাহলে স্বপ্ন দেখেই মারা যেতাম। ২৫ বছর সমানতালে জনপ্রিয় থাকবে একটা ছবি, আমাকে “কেয়ামত-কন্যা” ডাকবে! এখনো সালমান মানে আমি, আমি মানে সালমান যে ভাববে, অথবা “কেয়ামত থেকে কেয়ামত” ছবির প্রতিটি গান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে স্পর্শ করবে—এসব ভাবার মতো শক্তি আল্লাহ দেননি। এটা আল্লাহর দান। এটা মানুষ কখনো সৃষ্টি করতে পারে না’, বলেন মৌসুমী।

জানা গেছে, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আনন্দমেলা সিনেমা লিমিটেড হিন্দি ‘সনম বেওয়াফা’, ‘দিল’ ও ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’–এর কপিরাইট নিয়ে সোহানুর রহমান সোহানের কাছে আসে এর যেকোনো একটির রিমেক করার জন্য। উপযুক্ত নায়ক-নায়িকা খুঁজে না পেয়ে সম্পূর্ণ নতুন মুখ দিয়ে ছবি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় তারা। নায়িকা হিসেবে মৌসুমীকে নির্বাচন করে। নায়ক হিসেবে প্রথমে তৌকীর আহমেদ ও পরে আদিল হোসেন নোবেলকে প্রস্তাব দিলে তাঁরা ফিরিয়ে দেন। তখন নায়ক আলমগীরের সাবেক স্ত্রী খোশনুর আলমগীর ‘ইমন’ নামের এক ছেলের সন্ধান দেন। প্রথম দেখাতেই তাঁকে পছন্দ করেন পরিচালক এবং ‘সনম বেওয়াফা’ রিমেকের জন্য প্রস্তাব দেন। কিন্তু ইমন ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’-এর জন্য পীড়াপীড়ি করেন। এ ছবি তিনি ২৬ বার দেখেছেন। শেষ পর্যন্ত পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন এবং ইমনের নাম পরিবর্তন করে সালমান শাহ রাখা হয়।
আমির খান ও জুহি চাওলা অভিনীত ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ চলচ্চিত্রের কাহিনি লিখেছেন নাসির হোসেন আর পরিচালনা করেন মনসুর খান। এদিকে বাংলাদেশে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লিখেছেন সোহানুর রহমান সোহান এবং সংলাপ লিখেছেন আশীষ কুমার লোহ। প্রযোজক সুকুমার রঞ্জন ঘোষের আনন্দমেলা সিনেমা লিমিটেডের ব্যানারে নির্মিত হয় ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। ছবিতে সালমান-মৌসুমী ছাড়াও অভিনয় করেন রাজীব, আহমেদ শরীফ, আবুল হায়াত, খালেদা আক্তার কল্পনা, মিঠু, ডন, জাহানারা আহমেদ, অমল বোসসহ অনেকে।
ভারতের টেলিভিশন দুনিয়ায় আবার বিতর্ক। দঙ্গল টিভির জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘রিমঝিম-ছোটি উমর বড়া সফর’ এখন নেটিজেনদের কাঠগড়ায়। মাত্র ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী অভিনেত্রীকে দিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক অভিনেতার সঙ্গে ‘অন্তরঙ্গ’ দৃশ্য শুট করানোর অভিযোগে উত্তাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।
টিভি শো ‘রিমঝিম’–এর একটি পর্ব নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত। দঙ্গল টেলিভিশনের এই মেগা সিরিয়াল বেশ চর্চিত। নায়ক-নায়িকার রসায়ন বরাবরই পছন্দ করেন দর্শক। সিরিয়ালটির মূল বিষয়বস্তু এক কিশোরী ও এক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির প্রেম। এতে ১৬ বছর বয়সী যশিকা শর্মা কিশোরী ‘রিমঝিম’-এর চরিত্রে অভিনয় করছেন এবং তাঁর বিপরীতে রয়েছেন ২৪ বছর বয়সী অভিনেতা হিমাংশু অবস্থি।
টিভিতে দেখানো হয়েছে, দুজনের একটি ঘনিষ্ঠ দৃশ্য। অনেক দর্শকের প্রধান আপত্তির জায়গাগুলো হলো, কীভাবে ১৫-১৬ বছরের একটি মেয়েকে এ ধরনের ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করানো হচ্ছে এবং কেন এটি আইনিভাবে বৈধ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। দর্শকদের দাবি, যদি চরিত্রের প্রয়োজনে এ ধরনের দৃশ্যের দরকার হয়, তবে কেন ১৮ বছরের বেশি বয়সী কোনো অভিনেত্রীকে নেওয়া হলো না?

অভিভাবকদের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। অনেকেই যশিকার মা-বাবা ও অভিভাবকদের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। কেন তাঁরা ১৬ বছরের মেয়েকে এমন দৃশ্যে অভিনয়ের অনুমতি দিলেন, তা নিয়েও ক্ষুব্ধ অনেকে। অনেকে রিম শেখ এবং সেহবান আজিমের উদাহরণ টেনে এনে বলেছেন যে ভারতীয় টেলিভিশন ধারাবাহিকে নাবালিকা নায়িকাদের এভাবে ব্যবহার করার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
অনেকে ইয়াশিকার বাবা-মা বা অভিভাবকদের পদক্ষেপ নিতে এবং এই সিরিয়াল বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। অভিনেতা, প্রযোজনা সংস্থা বা চ্যানেলটি এখন পর্যন্ত পর্বটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি।
হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে
মালয়ালম সিনেমার একসময়ের আলোচিত মুখ প্রজ্ঞা মার্টিন। অল্প বয়সেই বড় তারকার ছবিতে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন তিনি। কিন্তু ক্যারিয়ারের মাঝপথে বিতর্ক, বিশেষ করে একটি মাদক মামলার সঙ্গে নাম জড়িয়ে পড়ায় তাঁর পথ অনেকটাই কঠিন হয়ে যায়। তবু শেষ পর্যন্ত সেই মামলা থেকে মুক্তি পেয়ে আবার নতুনভাবে পথচলার চেষ্টা করছেন এই অভিনেত্রী।
বড় তারকার ছবিতে অভিষেক
প্রজ্ঞা মার্টিন প্রথমবার সিনেমায় অভিনয় করেন কিশোরী বয়সে। তাঁর অভিষেক হয় মালয়ালম তারকা মোহনলালের অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমা ‘সাগর অ্যালিয়াস জ্যাকি রিলোডেড’ ছবিতে। এটি মূলত ১৯৮৭ সালের সিনেমা ‘ইরুপাথাম নোত্তানডু’র স্পিন-অফ। যদিও এটি প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য পায়নি, তবু ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেও দর্শকের নজর কাড়েন প্রজ্ঞা মার্টিন। বিশেষ করে মোহনলালের সঙ্গে তাঁর কয়েকটি দৃশ্য দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছিল।
ধীরে ধীরে পরিচিতি
অভিষেকের পরপরই প্রজ্ঞা মার্টিনের ক্যারিয়ার খুব দ্রুত এগোয়নি। কয়েক বছর পরে তিনি ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেন জনপ্রিয় মালয়ালম ছবি ‘উস্তাদ হোটেল’-এ। এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন দুলকার সালমান, নিত্যা মেনন। সিনেমার পাশাপাশি প্রজ্ঞা তখন মডেলিংয়েও যুক্ত হন। ধীরে ধীরে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতে নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করতে থাকেন তিনি।
তামিল হরর ছবিতে জনপ্রিয়তা
প্রজ্ঞা মার্টিনের ক্যারিয়ারের বড় মোড় আসে তামিল হরর সিনেমা ‘পিসাসু’র মাধ্যমে। ভৌতিক আবহে নির্মিত এই সিনেমা মুক্তির পর দ্রুতই দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং সমালোচকদের কাছ থেকেও প্রশংসা পায়। ছবিতে প্রজ্ঞার উপস্থিতি তাঁকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে। দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে তিনি তখন পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।

মালয়ালম সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র
পরে প্রজ্ঞা মার্টিন আবার মালয়ালম সিনেমায় নিয়মিত অভিনয় শুরু করেন। একপর্যায়ে পৃথ্বীরাজ সুকুমারনের সঙ্গে একটি ছবিতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন। ধীরে ধীরে তাঁর ক্যারিয়ার এগোচ্ছিল এবং তিনি মালয়ালম ও তামিল—দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই কাজ করছিলেন।

বিতর্কে থমকে যাওয়া ক্যারিয়ার
ক্যারিয়ারের এই সময়েই হঠাৎ বড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন প্রজ্ঞা মার্টিন। কুখ্যাত এক গ্যাংস্টারের সঙ্গে যুক্ত মাদক মামলায় তাঁর নাম উঠে আসে। এই ঘটনায় দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয় এবং তাঁর ক্যারিয়ারও হঠাৎ করেই স্থবির হয়ে পড়ে। অনেক প্রযোজক ও পরিচালক তখন তাঁকে নিয়ে কাজ করতে অনাগ্রহ দেখান।

মামলায় অবশেষে স্বস্তি
দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে ওই মাদক মামলায় প্রজ্ঞা মার্টিনকে ক্লিন চিট দেওয়া হয়। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই সিদ্ধান্ত তাঁর জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে আসে। কারণ, এই মামলার কারণে দীর্ঘদিন তিনি নেতিবাচক প্রচারের মধ্যে ছিলেন।
মামলা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আবার নতুনভাবে ক্যারিয়ার গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন প্রজ্ঞা মার্টিন। যদিও আগের মতো নিয়মিত সিনেমায় দেখা যায় না তাঁকে, তবু অভিনয় থেকে পুরোপুরি সরে যাননি।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

ঈদে মুক্তির পর থেকেই আলোচনায় রয়েছে দম। দর্শকের আগ্রহ ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই এবার ছবিটি নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী পূজা চেরী। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় শুটিং স্পটের কিছু ছবি শেয়ার করে সামাজিকমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘দম শুধু একটা সিনেমা না, এটা এমন একটা অনুভূতি, যা শেষ হওয়ার পরও মন থেকে যায় না।’
এবারের ঈদে মুক্তি পাওয়া এই ছবিতে ‘রানী’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন পূজা। এর আগে প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘দম আমার জন্য শুধু একটা সিনেমা নয়; এটা আমার জীবনের নতুন অধ্যায়। আমি চেয়েছিলাম, আমার জীবনে অন্তত একটি ভালো কাজ আসুক। সত্যি বলতে, আমি ভালো সিনেমার খোঁজ করছিলাম। দম আমার ব্যক্তিজীবন, আমার ব্যক্তিত্ব—সবকিছু বদলে দিয়েছে, আমার ক্যারিয়ারেও পরিবর্তন এনেছে।’

ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়ের কথাও তুলে ধরেন তিনি। পূজা বলেন, ‘মাঝখানে আমি খুব হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। আমার মা মারা গেলেন, সব মিলিয়ে খুব ভেঙে পড়েছিলাম। সে সময় দম আমার জীবনে অনেক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।’
ছবিটি নিয়ে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে পূজা বলেন, কিছু গল্প শুধু দেখা যায়, আবার কিছু গল্প থাকে, যা অনুভব করা যায়। তাঁর মতে, দম ঠিক দ্বিতীয়টার মধ্যে পড়ে। ছবিটিকে তিনি জীবনের আয়নার সঙ্গে তুলনা করে লিখেছেন, ‘এই সিনেমাটা যেন আমাদের জীবনেরই একটা আয়না—যেখানে ভাঙা স্বপ্ন আছে, চেপে রাখা কান্না আছে আর আছে নিজের সাথে নীরব যুদ্ধ করার গল্প।’
সিনেমার আবেগঘন দিকটি তুলে ধরে পূজা ফেসবুকে আরও লিখেছেন, ‘কখনো মনে হয়—সব ঠিক আছে, সব স্বাভাবিক…কিন্তু ভেতরে ভেতরে যে ঝড়টা বয়ে যায়, সেটা কেউ দেখে না। দম সেই অদেখা ঝড়টার গল্প বলে।’

এই সিনেমা থেকে পাওয়া বার্তার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘ভেঙে পড়া মানেই শেষ না, কখনো কখনো ভেঙে পড়াটাই নতুন করে শুরু করার সাহস দেয়।’
ছবির প্রভাব নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে অভিনেত্রী বলেন, ‘সিনেমা শেষ হয়, কিন্তু কিছু দৃশ্য, কিছু সংলাপ, কিছু অনুভূতি…মনের ভেতর চুপচাপ থেকে যায়।’
সব শেষে জীবনবোধের কথাই সামনে আনেন তিনি।

পূজা চেরীর ভাষায়, ‘জীবন যতই কঠিন হোক, নিজের ভেতরের শক্তিটাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। কারণ শেষ পর্যন্ত—সবাই নিজের নিজের দম নিয়ে লড়াই করে যায়।’
ঈদের ছবির ভিড়ে দম-এর এই আবেগঘন বার্তা ও জীবনমুখী গল্পই দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।