সংগীতশিল্পী হেরিনের জন্মদিন ১৫ মে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে নিউজিনসের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যাডর। অ্যাডর লিখেছে, ‘হ্যাপি হেরিন ডে।’ সঙ্গে হেরিনের ছবি জুড়ে দেওয়া হয়।

সমুদ্রসৈকতে হাতে ফুল নিয়ে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় হেরিনকে। লম্বা চুলে স্নিগ্ধ সাজে দেখা গেছে তাঁকে। ইউরোপীয় ধাঁচের বিভিন্ন লোকেশনে ক্রপটপ ও অফ–শোল্ডার পোশাকে তোলা ছবিগুলো হেরিনকে আরও পরিণত করে তুলেছে।

পোস্টটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৬ লাখ ৮০ হাজারের বেশি লাইক পায়। ভক্তদের মন্তব্যেও ছিল উচ্ছ্বাস। কেউ লিখেছেন, ‘তারা কি ফিরছে?’ আবার কেউ বলেছেন, ‘হেরিনকে আরও পরিণত লাগছে।’

হেরিন
হেরিন, ইনস্টাগ্রাম থেকে
 

অনুরাগীদের কেউ কেউ ধারণা করছেন, ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে তোলা হতে পারে। অ্যাডর জানিয়েছে, সদস্য হেইন, হেরিন ও হানি সংগীত প্রযোজনার কাজে কোপেনহেগেনে গিয়েছিলেন।

পাঁচ সদস্যের নিউজিনস দীর্ঘদিন ধরেই নিষ্ক্রিয়। এর পেছনে রয়েছে এজেন্সির সঙ্গে দীর্ঘ আইনি বিরোধ। ২০২৪ সালের নভেম্বরে সদস্যরা অ্যাডরকে চুক্তি বাতিলের নোটিশ দেন এবং ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগও তোলেন।

পরে চুক্তির বৈধতা নিশ্চিত করতে অ্যাডর মামলা করলে প্রথম ধাপের রায় সদস্যদের বিপক্ষে যায়। এতে দীর্ঘ সময়ের জন্য দলীয় কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

গত বছরের নভেম্বরে অ্যাডর হেইন, হেরিন ও হানির ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করে। একই সঙ্গে ড্যানিয়েলের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের কথাও জানায়। মিনজির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

‘না এ কোন যন্তরমন্তর ঘর নয়। যে ঘরের চাবি আছে, তবুও তালা খোলার কোন পথ নেই! কে থাকে সেই ঘরে?’ ‘বনলতা সেন’ আসছে এই ঈদে, আপনারই নিকটস্থ প্রেক্ষাগৃহে—এভাবেই পোস্টার প্রকাশ ও ছবি মুক্তির খবরটি একযোগে জানিয়েছেন ছবিটির পরিচালক থেকে অভিনয়শিল্পীরা। গতকাল শুক্রবার বিকেলে মুক্তিপ্রতীক্ষিত ‘বনলতা সেন’ ছবির পোস্টার প্রকাশ করা হয়। এটি পরিচালক মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের দ্বিতীয় চলচ্চিত্র।

নাটক ও বিজ্ঞাপনচিত্র দিয়ে হাত পাকানো উজ্জ্বলের প্রথম চলচ্চিত্র ‘উনপঞ্চাশ বাতাস’। ছবিটি ২০২০ সালের শেষ দিকে মুক্তি পায়। ‘বনলতা সেন’ প্রসঙ্গে পরিচালক বললেন, ‘শুটিংয়ে যা প্রয়োজন, তা-ই করেছি। গল্পে কোনো আপস করিনি। তাই শুটিং শেষ করতে আট মাসের মতো সময় লেগেছে।’

‘বনলতা সেন’ ছবির পোস্টার
‘বনলতা সেন’ ছবির পোস্টার

‘বনলতা সেন’ ছবির অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাসুমা রহমান নাবিলা। তবে শুরুতে তাঁকে অন্য একটি চরিত্রের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। উপস্থাপিকা নাবিলার এটি চতুর্থ চলচ্চিত্র। শাকিব খানের বিপরীতে ‘তুফান’ ছবিতে অভিনয় করেছেন সর্বশেষ।

নাবিলা বললেন, ‘শুরুতে আমাকে শুধুই চরিত্রের সারসংক্ষেপ দেওয়া হয়। বলেছিলাম, পুরো স্ক্রিপ্ট দেওয়া যায় কি না। তাহলে বুঝতাম, আমার চরিত্রের উপস্থাপনটা কী রকম বা কী। পুরো চিত্রনাট্য পড়ে তো আমি মুগ্ধ। পুরো গল্পটা চোখের সামনে ভেসে উঠল। যা-ই হোক, আমাকে যে চরিত্রের কথা বলেছে, ওই ধরনের চরিত্র চাইছিলাম না। ওনাকে সুন্দর করে বললাম, এই চরিত্রটা আমি এখন করতে চাইছি না। তবে আপনি যদি আমাকে বনলতা সেন বলতেন, তাহলে এককথায় রাজি হয়ে যেতাম (হাসি)। অনেক দিন পর তিনি আমাকে ডাকলেন। অডিশন নিলেন তিনবার। শুটিং হলো। এখন মুক্তি পাচ্ছে। অভিনয়শিল্পী হিসেবে আনন্দের সংবাদ।’

মাসুমা রহমান নাবিলা
মাসুমা রহমান নাবিলা
 

শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা দারুণ জানিয়ে নাবিলা বলেন, ‘উজ্জ্বল ভাই তো অনেক বড় ক্যানভাসে কাজ করেন। তাঁর সিনেমা হচ্ছে কবিতার মতো। এত সুন্দর করে বানিয়েছেন, দেখার পর মানুষ বুঝতে পারবে।’

২০২১-২২ সালের সরকারি অনুদানের এই ছবি গত ১২ এপ্রিল সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে মুক্তির অনুমতিপত্র পেয়েছে। জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’ কবিতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ছবিটি বানিয়েছেন পরিচালক।

মাসুদ হাসান উজ্জ্বল
মাসুদ হাসান উজ্জ্বল, ছবি : সংগৃহীত
 

উজ্জ্বল বলেন, ‘দুই বাংলার কবি হিসেবে জীবনানন্দ দাশ সমাদৃত। আমার মতে, উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ, এডগার অ্যালান পো কিংবা টি এস এলিয়টের থেকে জীবনানন্দ দাশ কোনো অংশে কম নন। এত দিনে গোটা বিশ্বের তাঁকে জানা উচিত ছিল। আমি এই জীবনে প্রথম এমন বিস্ময়কর এক কবিকে ‘বনলতা সেন’ ছবির মাধ্যমে ট্রিবিউট করার সুযোগ পেয়েছি।’

নাবিলা ছাড়া ‘বনলতা সেন’ ছবির প্রধান চরিত্রের অন্য অভিনয়শিল্পীরা হলেন খায়রুল বাসার, সোহেল মণ্ডল, প্রিয়ন্তি ঊর্বী, রূপন্তি আকিদ, ময়মুনা মম, শরিফ সিরাজ প্রমুখ।

কান চলচ্চিত্র উৎসবে যাওয়ার ফ্লাইট ছিল ১০ মে। তার ৫ দিন আগের কথা। প্রিয়তির ১৯ মাসের ছোট্ট মেয়ে লাভিশার যিনি দেখাশোনা করেন, তিনি এক সপ্তাহের ছুটিতে। সেখান থেকেই ফোনে একটি ছোট্ট বার্তা পাঠিয়ে জানালেন, যে সময়ে প্রিয়তি কান চলচ্চিত্র উৎসবে থাকবেন, সে সময় লাভিশার দেখাশোনা করতে পারবেন না তিনি। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল প্রিয়তির।

[caption id="attachment_273966" align="alignnone" width="783"] কানের লালগালিচায় প্রিয়তি দেখা দেন জেরালডিন ও’মিয়ারার নকশা করা হলুদ পেপলাম গাউনেপোশাক নকশা: জেরালডিন ও’মিয়ারা (আইরিশ ফ্যাশন ডিজাইনার); গয়না নকশা: ফিওনা র‍্যাফটার; মেকআপ: মারিয়া মুয়া। ছবি: লরাঁ হু[/caption]

বলছি মাকসুদা আখতার প্রিয়তির কথা। যিনি একাধারে মিজ আয়ারল্যান্ড খেতাবজয়ী মডেল, পাইলট ও তিন সন্তানের মা। ছোট মেয়ের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা মানুষটি ছুটিতে গেছেন। ফলে শেষ মুহূর্তে পোশাকগুলোর ফাইনাল ফিটিং, ট্রায়াল থেকে শুরু করে গয়না, ব্যাগ, জুতা, সানগ্লাস, মেকআপ বা অন্যান্য এক্সেসরিজ, ফটোশুট আর মিটিং—কোনো কিছুর জন্যই আলাদা করে সময় পাচ্ছিলেন না।

প্রিয়তির সন্তানকে দেখাশোনার জন্য আর কেউ ছিল না। টিকিট, হোটেল বুকিং; প্রায় ১০ দিন ফ্রান্সে থাকা, খাওয়া, বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নেওয়া, মিটিং, ডিনার, ফটোশুট—সব প্রি-অ্যারেঞ্জমেন্ট তত দিনে শেষ।

গাউনের নাটকীয় স্লিভের একটি ছোট হাতা। সেটি বাটারফ্লাই মোটিফে তৈরি। অন্যটি পাফড, স্ট্র্যাকচার্ডড ফুল স্লিভ, হাতার শেষ অংশে নজর কাড়ে পালকের নকশা
গাউনের নাটকীয় স্লিভের একটি ছোট হাতা। সেটি বাটারফ্লাই মোটিফে তৈরি। অন্যটি পাফড, স্ট্র্যাকচার্ডড ফুল স্লিভ, হাতার শেষ অংশে নজর কাড়ে পালকের নকশাপোশাক নকশা: জেরালডিন ও’মিয়ারা (আইরিশ ফ্যাশন ডিজাইনার); গয়না নকশা: ফিওনা র‍্যাফটার; মেকআপ: মারিয়া মুয়া। ছবি: লরাঁ হু

মুশকিল আসান

এদিকে প্রিয়তির কানে যাওয়া নিয়েই অনিশ্চয়তা। শেষমেশ বছরখানেক আগে ছোট্ট লাভিশার যিনি দেখাশোনা করতেন, তাঁকে ফোন করলেন প্রিয়তি। তিনি তখন আরেক জায়গায় চাকরি করেন। প্রিয়তির এমন অবস্থা শুনে তিনি সেখান থেকে এক দিনের নোটিশে চাকরি ছেড়ে প্রিয়তির বাসায় এসে হাজির।

আইরিশ জুয়েলারি ও অ্যাকসেসরি ডিজাইনার ফিওনা র‍্যাফটারের তৈরি গয়না ও ব্যাগের সঙ্গে পরিমিত মেকআপ আর আশির দশকের হলিউড গ্ল্যাম থেকে অনুপ্রাণিত সাইড-পার্টেড শর্ট বব হেয়ারস্টাইল নজর কেড়েছে
আইরিশ জুয়েলারি ও অ্যাকসেসরি ডিজাইনার ফিওনা র‍্যাফটারের তৈরি গয়না ও ব্যাগের সঙ্গে পরিমিত মেকআপ আর আশির দশকের হলিউড গ্ল্যাম থেকে অনুপ্রাণিত সাইড-পার্টেড শর্ট বব হেয়ারস্টাইল নজর কেড়েছেপোশাক নকশা: জেরালডিন ও’মিয়ারা (আইরিশ ফ্যাশন ডিজাইনার); গয়না নকশা: ফিওনা র‍্যাফটার; মেকআপ: মারিয়া মুয়া। ছবি: লরাঁ হু
 

কানের লালগালিচায় চতুর্থ লুকে হাজির হওয়ার আগে মেকআপ নিতে নিতে প্রিয়তি বললেন, ‘৮ বছর বয়সে আমার বাবা মারা যান। ১৬ বছর বয়সে মা। আজ যত দূর এসেছি, এই দুজন মানুষের জন্য। দে হ্যাভ মাই ব্যাক। শেষ মুহূর্তে কোন পোশাকের সঙ্গে কী পরব, কীভাবে পরব, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। আমার জন্য সেগুলো গুছিয়েছে আইরিশ গয়নার ডিজাইনার ফিওনা র‍্যাফটার। এই মানুষগুলোর জন্যই আমি জীবনে বহুবার পড়তে পড়তেও পড়িনি। যখনই আমি এমন সব পরিস্থিতিতে পড়েছি, কারও না কারও সাহায্যে ঠিকই উতরে গেছি।’

সঙ্গী যখন মাদার্স গিল্ট

লালগালিচায় চতুর্থ লুকের আগে কানের হোটেলরুমে মেকআপ নিতে নিতেই ফোনে চলল প্রথম আলোর সঙ্গে কথোপকথন
লালগালিচায় চতুর্থ লুকের আগে কানের হোটেলরুমে মেকআপ নিতে নিতেই ফোনে চলল প্রথম আলোর সঙ্গে কথোপকথনছবি: প্রিয়তির সৌজন্যে

১৪ মে ছিল প্রিয়তির বড় ছেলের জন্মদিন। ছেলের জন্মদিনে উপস্থিত থাকতে না পারলেও উপহার হিসেবে ছেলেকে পাঠিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাজ্যে, প্রিয়তির কাজিনের কাছে। বললেন, ‘যত গ্ল্যামারাস আর রাজকীয়ভাবেই লালগালিচায় হাঁটি না কেন, তিন সন্তানের মা হিসেবে সব সময় মাদার্স গিল্ট আমার সঙ্গী।’

২০১৪ সালে মিজ আয়ারল্যান্ডের খেতাব জয় করেন প্রিয়তি। ২০১৫ সাল থেকে ১১ বার অংশ নিলেন কান চলচ্চিত্র উৎসবে। আর কানের লালগালিচায় হাঁটলেন এবার দশম বারের মতো।

কান থেকে কেউ খালি হাতে ফেরে না

সোনালি রঙের একটি স্ট্র্যাপলেস ব্যান্ডেজ ড্রেসেও লালগালিচায় দেখা দেন প্রিয়তি
সোনালি রঙের একটি স্ট্র্যাপলেস ব্যান্ডেজ ড্রেসেও লালগালিচায় দেখা দেন প্রিয়তিপোশাক নকশা: জেরালডিন ও’মিয়ারা (আইরিশ ফ্যাশন ডিজাইনার); গয়না নকশা: ফিওনা র‍্যাফটার; মেকআপ: মারিয়া মুয়া। ছবি: লরাঁ হু

প্রিয়তি বললেন, ‘লালগালিচায় অংশ নেওয়া কান চলচ্চিত্র উৎসবের খুবই ছোট্ট একটা অংশ। এই তো গতকালই ভিন ডিজেল তাঁর “ফার্স্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস” সিনেমার ২৫তম বছর পূর্তি উপলক্ষে এই সিনেমার বিশেষ প্রিমিয়ারে অংশ নিলেন। (ভিন ডিজেল) বললেন, ৩৫ বছর আগে তিনি যখন প্রথম কানে আসেন, তখন একটা ছোট লন্ড্রি ব্যাগে কিছু কাপড় নিয়ে এসেছিলেন। বললেন, তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা যেখানেই হোক না কেন; তারকা হিসেবে, পেশাদার ক্যারিয়ার গড়ার শুরু এই কান থেকেই। এ কথা বলে তিনি আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েন। আসলে কান চলচ্চিত্র উৎসবে যে কেউ যদি একটু রিসার্চ করেন, আগে থেকে মেইল পাঠিয়ে কিছু মিটিং ফিক্স করে আসেন, তিনি কখনো খালি হাতে ফিরবেন না। কান থেকে কেউ খালি হাতে ফেরে না। এখান থেকে মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত যেকোনো ধরনের কোলাবরেশন সম্ভব।’

এআই নিয়ে ভাবনা

বডিকন ফিটের মিদি ড্রেসটির হেমলাইন সমৃদ্ধ নিচের অংশটি মারমেইড ভাইভ দেয়। হ্যাট আকৃতির হেডপিসটি প্রিয়তির লুকে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা
বডিকন ফিটের মিদি ড্রেসটির হেমলাইন সমৃদ্ধ নিচের অংশটি মারমেইড ভাইভ দেয়। হ্যাট আকৃতির হেডপিসটি প্রিয়তির লুকে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রাপোশাক নকশা: জেরালডিন ও’মিয়ারা (আইরিশ ফ্যাশন ডিজাইনার); গয়না নকশা: ফিওনা র‍্যাফটার; মেকআপ: মারিয়া মুয়া। ছবি: লরাঁ হু

প্রিয়তি আরও বলেন, ‘গত বছর আমি যখন এখানে আসি, তখন এআই দিয়ে তৈরি সিনেমাকে গ্রহণ করা না–করা নিয়ে আলোচনা চলছিল। এ বছর সেই আলোচনা আরও ডালপালা মেলছে। কীভাবে, কেন এআই সিনেমা তৈরি হবে, কত শতাংশ তৈরি হবে, তার নীতিমালা নিয়ে যুক্তি-তর্ক, আলাপ চলছে। এখানে আসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো বিভিন্ন দেশের, সংস্কৃতির, সৃষ্টিশীল সেরাদের আইডিয়া জানা, তাঁদের সঙ্গে আইডিয়া বিনিময়ের সুযোগ পাওয়া।’

আরও পড়ুন

কানের দ্বিতীয় দিনে আলিয়া ভাটের তিন লুক

লুকটির সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল তাঁর হাতে ধরা আইভরি লেসের ছাতা বা প্যারাসল। ছাতাটি যোগ করেছে ‘ওল্ড ওয়ার্ল্ড রোমান্স’ বা ‘সফট রয়্যাল’ আবহ। অনেকেই এই লুককে ‘ব্রিজারটন কোর’ বা ‘মহারানি-অ্যাসথেটিক’ বলেও উল্লেখ করেছেন।

বাংলাদেশি ডিজাইনারদের পোশাক নয় কেন?

ওয়ান শোল্ডার চকচকে গোলাপি গাউনটিও দারুণ মানিয়েছে প্রিয়তিকে
ওয়ান শোল্ডার চকচকে গোলাপি গাউনটিও দারুণ মানিয়েছে প্রিয়তিকেপোশাক নকশা: জেরালডিন ও’মিয়ারা (আইরিশ ফ্যাশন ডিজাইনার); গয়না নকশা: ফিওনা র‍্যাফটার; মেকআপ: মারিয়া মুয়া। ছবি: লরাঁ হু

এ বছর রিচার্ড হ্যারিস ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের পক্ষ থেকে ১০ দিনের আমন্ত্রণপত্র পেয়ে কানে গেছেন প্রিয়তি। জানতে চাইলাম, আপনি কেন কেবল আইরিশ ডিজাইনারদেরই প্রমোট করছেন? বাংলাদেশের ডিজাইনারদের একটা পোশাকও কেন স্থান পায়নি আপনার কানের লাগেজে?

কানের রাস্তায় স্কার্ট আর হলুদ হ্যাটে প্রিয়তি। উৎসব শুরুর আগে এভাবেই ফুরফুরে মেজাজে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন
কানের রাস্তায় স্কার্ট আর হলুদ হ্যাটে প্রিয়তি। উৎসব শুরুর আগে এভাবেই ফুরফুরে মেজাজে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেনপোশাক নকশা: জেরালডিন ও’মিয়ারা (আইরিশ ফ্যাশন ডিজাইনার); গয়না নকশা: ফিওনা র‍্যাফটার; মেকআপ: মারিয়া মুয়া। ছবি: লরাঁ হু

উত্তরে প্রিয়তি বলেন, ‘আমি গত বছর ফেসবুকে লিখেছিলাম, বাংলাদেশি কোনো ফ্যাশন ডিজাইনার যদি আমার কান লুকের জন্য পোশাক দেন, মোস্ট ওয়ালকাম। আমি সম্মানের সঙ্গে সেটি গ্রহণ করব; কিন্তু কেউ সেই ডাকে সাড়া দেননি। এ ছাড়া আয়ারল্যান্ডেই আমার পেশাজীবন। নিরাপত্তা, আশ্রয়, জীবনসঙ্গী, ভালো কাজ, ভালো জীবন—সবকিছুই সেখানে পেয়েছি। সেখানকার ফ্যাশন ডিজাইনারদের ওপর ভর করেই আমি ক্যারিয়ার গড়েছি। আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি কেবল আয়ারল্যান্ডের বড় বড় ডিজাইনারের পোশাকই আনিনি; বরং ছোট ছোট টেকসই ফ্যাশন নিয়ে কাজ করা বুটিক ও কুটিরশিল্পের নানা কিছু সঙ্গে এনেছি। এটা তাঁদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসার প্রকাশ।’

জিনাত শারমিন

কানাডার এক কিশোরীর মৃত্যু কাঁপিয়ে দিয়েছিল পুরো দেশকে। স্কুলের বন্ধুদের হাতে নির্মম নির্যাতন, তারপর হত্যা—সেই বাস্তব ঘটনাই নতুন করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছে হুলুর ক্রাইম ড্রামা ‘আন্ডার দ্য ব্রিজ’-এর মাধ্যমে। সিরিজটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের গল্প নয়, এটি কিশোর বয়সের নিঃসঙ্গতা, বুলিং, পরিচয়ের সংকট এবং সমাজের অন্ধকার এক বাস্তবতাকে সামনে এনেছে।

১৯৯৭ সালের ১৪ নভেম্বর। কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ভিক্টোরিয়ার উপকণ্ঠ সানিচ এলাকার ১৪ বছর বয়সী কিশোরী রিনা ভির্ককে ডাকা হয়েছিল একটি পার্টিতে। সেদিন রাতে সে আর বাড়ি ফেরেনি। পরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। তদন্তে উঠে আসে ভয়াবহ তথ্য—নিজেরই সমবয়সী কয়েকজন কিশোর-কিশোরীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে খুন হয়েছিল রিনা।

এই সত্য ঘটনা নিয়েই ২০০৫ সালে বই লিখেছিলেন সাংবাদিক ও লেখক রেবেকা গডফ্রে। সেই বই অবলম্বনেই তৈরি হয়েছে ‘আন্ডার দ্য ব্রিজ’। সিরিজে রেবেকা গডফ্রের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রেইলি কিও, পুলিশ কর্মকর্তা ক্যাম বেন্টল্যান্ড চরিত্রে আছেন লিলি গ্লাডস্টোন।

যে মেয়েটি নিজেকে ‘বহিরাগত’ মনে করত
রিনার পরিবার ছিল ভারতীয় বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান। ছোটবেলা থেকেই তাকে নানা ধরনের বুলিংয়ের শিকার হতে হয়েছিল। নিজের চেহারা, ওজন, পারিবারিক রক্ষণশীলতা—সবকিছু মিলিয়ে সে প্রায়ই নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা ভাবত। পরিবারে ধর্মীয় অনুশাসনও ছিল কঠোর। ফলে কৈশোরে এসে পরিবার থেকে দূরে সরে যেতে শুরু করে সে।

‘আন্ডার দ্য ব্রিজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিবি
‘আন্ডার দ্য ব্রিজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিবি

রিপোর্ট অনুযায়ী, কয়েকবার বাড়ি থেকেও পালিয়েছিল রিনা। এমনকি স্বাধীনভাবে থাকার আশায় নিজের বাবার বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগও তুলেছিল, যদিও পরে তা প্রত্যাহার করে নেয়।

এই মানসিক অস্থিরতার সময়েই সে জড়িয়ে পড়ে স্থানীয় এক কিশোরী গ্যাংয়ের সঙ্গে। সেই দলের নেত্রী ছিল নিকোল কুক নামের এক কিশোরী, যাকে বই ও সিরিজে ‘জোসেফিন বেল’ নামে দেখানো হয়েছে।

‘আন্ডার দ্য ব্রিজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিবি
‘আন্ডার দ্য ব্রিজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিবি

সেতুর নিচে সেই রাত
ঘটনার রাতে প্রথমে একটি স্কুলের পেছনে কিশোর-কিশোরীদের বড় জমায়েত হয়েছিল। পুলিশ সেটি ভেঙে দিলে কয়েকজন চলে যায় ক্রেগফ্লাওয়ার ব্রিজ এলাকায়। সেখানেই শুরু হয় রিনার ওপর ভয়াবহ হামলা।

তদন্তে উঠে আসে, গুজব ছড়ানোর অভিযোগে রিনাকে ‘শাস্তি’ দিতে চেয়েছিল দলটি। প্রথমে কয়েকজন মিলে তাকে মারধর করে। পরে অধিকাংশ চলে গেলেও দুই কিশোর—কেলি এলার্ড ও ওয়ারেন গ্লোওয়টসকি রিনার পিছু নেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল সে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়।
এক সপ্তাহ পর উদ্ধার করা হয় রিনার মরদেহ।

 

পুরো কানাডাকে নাড়িয়ে দেওয়া মামলা
এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি অপরাধ ছিল না। এটি কানাডাজুড়ে বুলিং, কিশোর সহিংসতা ও সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি করেছিল। সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় ঘটনাটি।

হামলায় অংশ নেওয়া ছয় কিশোরী পরে হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়। তবে মূল হত্যার অভিযোগে বিচার হয় কেলি এলার্ড ও ওয়ারেন গ্লোওয়াটস্কির।
ওয়ারেন পরে নিজের অপরাধ স্বীকার করে এবং রিনার পরিবারের কাছে ক্ষমাও চেয়েছিল। অন্যদিকে কেলি এলার্ডের বিচার ছিল দীর্ঘ ও জটিল। একাধিকবার মামলা, আপিল ও পুনর্বিচারের পর শেষ পর্যন্ত তাকে দ্বিতীয় ডিগ্রি হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে সে নিজের নাম পরিবর্তন করে কেরি সিম রাখে।

‘আন্ডার দ্য ব্রিজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিবি
‘আন্ডার দ্য ব্রিজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিবি

কেন আবার আলোচনায়
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাস্তব অপরাধভিত্তিক সিরিজের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। কিন্তু ‘আন্ডার দ্য ব্রিজ’ আলাদা হয়ে উঠেছে এর আবেগগত নির্মাণ ও চরিত্রের গভীরতার কারণে। সিরিজটি শুধু হত্যাকাণ্ড দেখায় না; বরং প্রশ্ন তোলে, কীভাবে কিশোর বয়সের একাকিত্ব, গ্রহণযোগ্যতার আকাঙ্ক্ষা এবং দলগত মানসিকতা ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিতে পারে?

বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে রিনার পরিচয়ের সংকট ও মানসিক চাপ অনেক দর্শকের কাছেই গভীরভাবে স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।
ঘটনার দুই দশক পরও লেখক রেবেকা গডফ্রে লিখেছিলেন, এই হত্যাকাণ্ড এখনো মানুষকে ‘অস্বস্তিতে ফেলে এবং নাড়িয়ে দেয়’।

টাইম অবলম্বনে

স্ট্রিমিং দুনিয়ায় ২০২৬ চমক, প্রত্যাবর্তন আর নতুন গল্পের প্রতিযোগিতা নিয়ে এসেছে। বছরের প্রথম চার মাসেই দর্শকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একাধিক সিরিজের নাম। এই প্রথম চার মাসের সেরা ৫০টি সিরিজ নিয়ে গার্ডিয়ান প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে।

এসব সিরিজ দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। কিছু সিরিজে রয়েছে গল্প বলার অভিনবত্ব, কিছু কিছু সিরিজ দর্শক মাতিয়েছে অভিনয় ও নির্মাণশৈলীতে। অপরাধ, রাজনীতি, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি, পারিবারিক নাটক থেকে শুরু করে ব্যঙ্গাত্মক কমেডি—বিভিন্ন ঘরানার এসব সিরিজই প্রমাণ করেছে, ছোট পর্দার গল্প বলার শক্তি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। তার প্রমাণ বছরের সবচেয়ে আলোচিত প্রথম চার মাসের সাত সিরিজ। কী আছে সিরিজগুলোতে?

১. ‘দ্য পিট’ (এইচবিও ম্যাক্স)
আলোচিত সিরিজ ‘দ্য পিট’–এর দ্বিতীয় মৌসুম নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। প্রথম মৌসুমেই দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়ে ২০২৫ সালের অন্যতম আলোচিত টিভি সিরিজে পরিণত হয়েছিল এটি। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের সেরা সিরিজগুলোর সম্ভাব্য তালিকায়ও জায়গা করে নিয়েছে এই হাসপাতালভিত্তিক সিরিজ। এটি জানুয়ারির ৮ তারিখে এইচবিও ম্যাক্সে প্রচারিত হয়। এর গল্প একটি ব্যস্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ঘিরে। প্রতিদিন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা রোগীদের চিকিৎসা করতে গিয়ে তারা যেমন কঠিন চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেয়, তেমনি ব্যক্তিগত জীবন ও মানসিক চাপের সঙ্গেও লড়াই করতে হয়। বাস্তবধর্মী উপস্থাপনা, টানটান পরিস্থিতি এবং চরিত্রগুলোর মানবিক সম্পর্কই সিরিজটির মূল আকর্ষণ।

 ‘ইন্ডাস্ট্রি’ সিরিজের পোস্টার
‘ইন্ডাস্ট্রি’ সিরিজের পোস্টার

২. ‘ইন্ডাস্ট্রি’ (এইচবিও)
লন্ডনের একটি প্রভাবশালী বিনিয়োগ ব্যাংকে কর্মরত তরুণ ব্যাংকারদের ঘিরে সিরিজের গল্প এগিয়ে চলে। কর্মকর্তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, প্রতিযোগিতা, অর্থ, ক্ষমতা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে তাদের করপোরেট দুনিয়ায় টিকে থাকার লড়াই দেখানো হয়। সিরিজটি প্রথম প্রচার শুরু হয় ২০২০ সালে। এ বছর জানুয়ারির ১১ তারিখে চতুর্থ কিস্তি প্রচার শুরু হয়। নতুন এই মৌসুমে কর্মকর্তাদের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, নৈতিক সংকট ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক আরও জটিল আকার ধারণ করে, যা দর্শকেরা পছন্দ করেছেন।

৩. ‘হাউ টু গেট টু হ্যাভেন ফ্রম বেলফাস্ট’ (নেটফ্লিক্স)
এটি একটি ডার্ক কমেডি ও রহস্যধর্মী সিরিজ। ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে এটি প্রচারের পর থেকে আলোচনায় আসে। একই ধারার গল্প থেকে সিরিজটি দর্শকদের ভিন্ন এক জগতে নিয়ে যায়। কী আছে এই সিরিজে? এর গল্প তিন ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। যারা তাদের শৈশবের এক বন্ধুর মৃত্যুর পর সন্দেহ করতে শুরু করে যে ঘটনাটি যতটা স্বাভাবিক মনে হচ্ছে, আসলে ততটা নয়। তদন্ত করতে গিয়ে তারা ধীরে ধীরে এমন এক রহস্যময় পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, যেখানে বন্ধুত্ব, অতীত ও সত্যের সীমারেখা মিশে যায়। এটি এ বছরের নেটফ্লিক্সের আলোচিত সিরিজের একটি।

‘দ্য ট্রেইটরস ইউকে’ সিরিজের পোস্টার
‘দ্য ট্রেইটরস ইউকে’ সিরিজের পোস্টার

৪. ‘দ্য ট্রেইটরস ইউকে’ (পিকক)
আলোচিত সিরিজ ‘দ্য ট্রেইটরস’ ইউকে নতুন করে এ বছর আলোচনায় এসেছে। এর চতুর্থ কিস্তি ফেব্রুয়ারির ২৬ তারিখে মুক্তি পেয়েছে। দর্শকদের জন্য এবারের গল্প একেবারেই নতুন ও একাধিক টুইস্টে ঘেরা ছিল। মূলত এটি একটি গেমভিত্তিক সামাজিক প্রতিযোগিতা। একদল প্রতিযোগী একটি নির্জন প্রাসাদে একত্র হয়, যেখানে কিছু বিশ্বাসঘাতক গোপনে ওত পেতে থাকে। অন্যরা বিশ্বস্ত হিসেবে তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করে। শুরু হয় উভয় পক্ষের মধ্যে একে অপরকে সন্দেহের তালিকায় এনে বাদ দেওয়ার প্রতিযোগিতা। আগের কিস্তি গতি হারালেও এবার সিরিজটি নিয়ে বলা হচ্ছে, চতুর্থ মৌসুমে এই প্রতিযোগিতা আরও জটিল, কৌশলনির্ভর ও নাটকীয় হয়ে উঠেছে, যা দর্শকদের জন্য টানটান উত্তেজনার অভিজ্ঞতা দেবে।

৫. ‘আউটল্যান্ডার’ (স্টারজেড)
সিরিজটির অষ্টম ও শেষ মৌসুম ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল বেশি। বলা যায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। দর্শকদের জন্য এক আবেগঘন সমাপ্তি নিয়ে এসেছে সিরিজটি। স্টারজেডের টাইম-ট্রাভেল ও রোমান্সভিত্তিক সিরিজটি দীর্ঘ যাত্রার শেষে সমালোচকদের দৃষ্টি কেড়েছে। গল্প শুরু হয় ক্লেয়ার র‍্যান্ডাল নামের এক নারীর জীবনকে কেন্দ্র করে, যিনি রহস্যজনকভাবে অতীতে ফিরে যান এবং জেমি ফ্রেজারের সঙ্গে তাঁর প্রেম ও সংগ্রামের গল্প শুরু হয়। ইতিহাস, যুদ্ধ, প্রেম ও সময় ভ্রমণের মিশেলে গড়া এই সিরিজে শেষ মৌসুমে তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ, উত্তরাধিকার ও সময়ের জটিলতা আরও গভীরভাবে অনুসন্ধান করা হয়েছে। ৬ মার্চ এটি প্রচারিত হয়েছে।

 
‘ফর অল ম্যানকাইন্ড’ সিরিজের পোস্টার
‘ফর অল ম্যানকাইন্ড’ সিরিজের পোস্টার

৬. ‘ফর অল ম্যানকাইন্ড’ (অ্যাপল টিভি)
পঞ্চম মৌসুম দিয়ে এ বছরের আলোচিত সিরিজ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে অ্যাপল টিভি প্লাসের বিকল্প ইতিহাসভিত্তিক মহাকাশ দৌড়ের ভিন্ন এক বাস্তবতার গল্প। যেখানে মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে পৃথিবী ও মঙ্গলগ্রহের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ওপর। রাজনৈতিক এই সিরিজের গল্প, সোভিয়েত ইউনিয়ন চাঁদে প্রথম পৌঁছে যায় এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত মহাকাশ প্রতিযোগিতা থেমে না গিয়ে আরও বিস্তৃত হয়। পঞ্চম মৌসুমে এই প্রতিযোগিতা চাঁদ পেরিয়ে মঙ্গলগ্রহ পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যেখানে সম্পদ, রাজনীতি ও মানবিক সম্পর্কের সংঘর্ষ নতুন মাত্রা পায়। মহাকাশের এ লড়াই দর্শকদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। এটি মার্চের ২৭ তারিখে প্রচারিত হয়।

৭. ‘হ্যাকস’ (এইচবিও)
অবশেষে আলোচনা দিয়ে শেষ হলো সিরিজ ‘হ্যাকস’–এর পঞ্চম ও শেষ মৌসুম। গত এপ্রিল মাসের ৯ তারিখে এর শেষ সিজন প্রচারিত হয়। সমালোচনাকারীদের মতে, সিরিজটির শেষ পর্ব দর্শকদের জন্য ছিল একই সঙ্গে চমকপ্রদ এবং গল্পের সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই। শেষ মুহূর্তগুলো এমনভাবে নির্মিত হয়েছে, যা সিরিজের সামগ্রিক সফলতাকে পূর্ণতা দিয়েছে। কী আছে সিরিজের গল্পে? লাস ভেগাসের এক কিংবদন্তি কমেডিয়ান এবং এক তরুণ উচ্চাকাঙ্ক্ষী লেখকের সম্পর্ক ঘিরেই এই সিরিজ শুরুতে জনপ্রিয়তা পায়। গল্পের নানা স্তরে রয়েছে রহস্য। বয়স, অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির সংঘর্ষ থেকে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে জটিল পেশাগত ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক। শেষ মৌসুমে এসে এই সম্পর্কের পরিণতি এবং শোবিজ ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের বাস্তবতা আরও গভীরভাবে উঠে এসেছে।
সূত্র: টিভিগাইড ডট কম

এইচবিওতে চলছে ‘ইউফোরিয়া’র তৃতীয় ও শেষ মৌসুম। সিরিজে সিডনি সুইনি অভিনীত ক্যাসি চরিত্রটিকে দেখানো হয়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে। মুক্তির পর থেকেই চরিত্রটির উপস্থাপন নিয়ে প্রবল বিতর্ক হয়েছে। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি। এবার প্রতিবাদ জানালেন, প্রাপ্তবয়স্কদের প্ল্যাটফর্ম ‘অনলিফ্যানস’–এর নির্মাতা ও প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট ক্রিয়েটররা। তাঁদের অভিযোগ, সিরিজটি যৌনকর্মীদের জীবনকে বিদ্রূপাত্মক ও অবাস্তবভাবে দেখিয়েছে।

চলচ্চিত্রবিষয়ক মার্কিন গণমাধ্যম ভ্যারাইটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ইউফোরিয়া’–এর তৃতীয় মৌসুমে কিশোর–তরুণদের জীবন আরও অন্ধকার দিকে মোড় নেয়। স্যাম লেভিনসনের সিরিজটিতে এবার দেখা যায়, জেনডায়া অভিনীত রু চরিত্রটি মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে এবং ঋণ শোধ করতে একটি স্ট্রিপ ক্লাবে কাজ শুরু করে। অন্যদিকে হান্টার শেফার অভিনীত জুলস চরিত্রটি একজন ধনীর ‘সুগার বেবি’ হিসেবে আয় করতে থাকে। আর ক্যাসি চরিত্রে সিডনি সুইনি খুলে বসে ‘অনলিফ্যানস’ অ্যাকাউন্ট, যাতে সে তার প্রেমিক নেটকে বিয়ে করার জন্য প্রয়োজনীয় ৫০ হাজার ডলারের ফুলের খরচ জোগাড় করতে পারে। অর্থাৎ, সিরিজটির প্রধান তিনটি চরিত্রের সঙ্গেই যৌনতার যোগ রয়েছে।

সিরিজে দেখা যায়, ক্যাসি উসকানিমূলক কনটেন্ট তৈরি করছে। আবার অন্য এক দৃশ্যে তাকে শিশুর মতো সাজিয়ে সোফায় শোয়ানো হয়। এসব ছবি তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয় তার বাসার গৃহপরিচারিকাকে।

এই উপস্থাপনাই ক্ষুব্ধ করেছে বাস্তব জীবনের অনলিফ্যানস নির্মাতাদের। ২০১৭ সাল থেকে অনলিফ্যানসে কাজ করা নির্মাতা সিডনি লিথারস ভ্যারাইটিকে বলেন, ‘পুরো ব্যাপারটাই অত্যন্ত হাস্যকর ও কার্টুনের মতো। সিরিজে যেসব কনটেন্ট ক্যাসিকে করতে দেখানো হয়েছে, তার অনেক কিছুই বাস্তবে অনলিফ্যানসে অনুমোদিত নয়। বিশেষ করে শিশুর মতো সাজা—এসব কনটেন্ট প্ল্যাটফর্মের নীতিমালার পরিপন্থী।’

‘ইউফোরিয়া ৩’–এর দৃশ্য। ছবি: এইচবিও
‘ইউফোরিয়া ৩’–এর দৃশ্য। ছবি: এইচবিও

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলিফ্যানসের ‘অ্যাকসেপ্টেবল ইউজ পলিসি’ অনুযায়ী কোনো ধরনের অপ্রাপ্তবয়স্ক বা অপ্রাপ্তবয়স্ক সেজে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কনটেন্ট প্রকাশ নিষিদ্ধ। এমন কনটেন্ট পোস্ট করলে অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
প্রাপ্তবয়স্ক চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও জনপ্রিয় অনলিফ্যানস নির্মাতা মেইটল্যান্ড ওয়ার্ডও সিরিজটির সমালোচনা করেছেন। এই অভিনেত্রীর মতে, সিরিজটি এমন ধারণা দিচ্ছে যেন যৌনকর্মীরা টাকার জন্য যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত।

মেইটল্যান্ড বলেন, ‘এমন সময়ে ক্যাসিকে শিশুর পোশাক পরিয়ে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট বানানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে আবারও সেই পুরোনো ধারণা জোরালো হয় যে যৌনকর্মীদের কোনো নৈতিকতা নেই। হলিউড যেন বিষয়টিকে মজা হিসেবে নিয়েছে। কিন্তু এতে হাসির কিছু নেই।’

তবে নির্মাতা স্যাম লেভিনসন নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর দাবি, ক্যাসির ‘অনলিফ্যানস’ গল্পে একধরনের অদ্ভুত হাস্যরস তৈরি করতে চেয়েছেন তাঁরা। তিনি বলেন, ক্যাসির দৃশ্যগুলোর মধ্যে আলাদা ধরনের হাস্যরস আছে। কিন্তু দৃশ্যগুলোর আসল মজা এসেছে গৃহপরিচারিকার মাধ্যমে, যে এগুলো ধারণ করছে।
স্যাম আরও বলেন, তাঁরা চেয়েছেন, দর্শক যেন ক্যাসির তৈরি করা কৃত্রিম জগতের ভেতরে ঢুকে পড়েন, আবার হঠাৎ বাইরে এসে পুরো বিষয়টির বিষণ্ন বাস্তবতাও দেখতে পারেন।

‘ইউফোরিয়া ৩’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি
‘ইউফোরিয়া ৩’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

কিন্তু নির্মাতার এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন অনেকে। মেইটল্যান্ড ওয়ার্ডের ভাষায়, ‘এতে পরিষ্কার বোঝা যায় যে অনলিফ্যানসের গল্পটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি; বরং এটি পুরুষ লেখকদের কল্পনার মতো মনে হয়েছে।’

তবে সিরিজের কিছু অংশকে বাস্তবসম্মতও মনে হয়েছে কিছু নির্মাতার কাছে। জনপ্রিয় অনলিফ্যানস নির্মাতা অ্যালিক্স লাইনেক্স বলেন, ক্যাসি যেভাবে ভাইরাল হওয়ার জন্য জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সারের পার্টিতে যায়, সেটি বাস্তবতার কাছাকাছি। তাঁর ভাষায়, ‘মার্কেটিংয়ের দিক থেকে এটি স্মার্ট সিদ্ধান্ত। কিন্তু সিরিজে দেখানো হয়েছে, শুধু সুন্দর চেহারা আর কিছু পাগলামি করলেই সঙ্গে সঙ্গে টাকা আসবে। বাস্তবে তা নয়। এখানে দীর্ঘ সময় ধরে ভক্তগোষ্ঠী তৈরি করতে হয়।’

২০১৯ সালে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে দুবাইয়ে প্রথম দেখা। ধীরে ধীরে সম্পর্কের গভীরতা বাড়ে, পরস্পরের আরও কাছাকাছি আসেন। প্রায় তিন বছর সম্পর্কে থাকার পর ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে বিয়ে সারেন মৌনী রায় ও সুরজ নাম্বিয়ার। বাঙালি ও মালায়লি—দুই রীতি মেনেই বিয়ে হয় তাঁদের। কিন্তু মাত্র চার বছরের দাম্পত্য নাকি ভেঙে গেছে! তাঁদের বিচ্ছেদের গুঞ্জনে মন খারাপ ভক্তদের। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে মৌনী বা সুরজ—কেউই কিছু জানাননি।

বিবাহবিচ্ছেদের জল্পনার সূত্রপাত কীভাবে? ইনস্টাগ্রামে তাঁরা নাকি একে অপরকে আনফলো করেছেন। শুধু তা–ই নয় মৌনী রায়ের প্রোফাইল থেকে নিশ্চিহ্ন সুরজ! বিষয়টি নেট নাগরিকদের নজরে আসতেই দাম্পত্যে ভাঙন নিয়ে জোর চর্চা নেট–দুনিয়ায়। একসময় থাকত স্বামী সুরজের ছবি, আর এখন অভিনেত্রীর ইনস্টা হ্যান্ডলে একটি ছবিও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এরপরই মৌনী-সুরজের বিবাহবিচ্ছেদের গুঞ্জন জোরালো হয়েছে। সিংহভাগ নেট নাগরিকের অনুমান, দাম্পত্যে চিড় ধরেছে। সম্ভবত তাঁরা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আলোঝলমলে দুনিয়ার বাইরের মানুষ
মৌনী রায়ের মতো তারকাজীবনের সঙ্গে সুরজ নাম্বিয়ারের জগৎ একেবারেই আলাদা। তিনি শোবিজ অঙ্গনের কেউ নন। ভারতের বেঙ্গালুরুতে জন্ম নেওয়া সুরজ পেশায় একজন ব্যবসায়ী ও ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার। দীর্ঘদিন দুবাইয়ে কাজ করেছেন তিনি।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্সে ফিন্যান্সিয়াল ও ম্যানেজেরিয়াল অ্যাকাউন্টিং নিয়ে পড়াশোনা করেছেন সুরজ। পরে দুবাইয়ে পারিবারিক ব্যবসার দায়িত্বও সামলাতে শুরু করেন।
গ্ল্যামার দুনিয়া থেকে দূরে থাকতেই পছন্দ করেন সুরজ। ফলে মৌনীর সঙ্গে সম্পর্কের সময়ও খুব একটা আলোচনায় আসেননি তিনি।

মৌনী রায় ও সুরজ নাম্বিয়ার। কোলাজ
মৌনী রায় ও সুরজ নাম্বিয়ার। কোলাজ

দুবাইয়ে শুরু প্রেমের গল্প
একসময় নির্মাতা অয়ন মুখার্জির সঙ্গে মৌনীর সম্পর্কের গুঞ্জন শোনা গেলেও অভিনেত্রী নিজের ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই আড়ালে রাখতে চেয়েছেন।
জানা যায়, ২০১৯ সালের নববর্ষ উদ্‌যাপনের সময় দুবাইয়ে পারস্পরিক পরিচিতদের মাধ্যমে প্রথম দেখা হয় মৌনী ও সুরজের। এরপর ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। প্রায় দুই বছর সম্পর্কের পর পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।
২০২২ সালের জানুয়ারিতে গোয়ায় বসেছিল তাঁদের বিয়ের আসর।

একসঙ্গে ব্যবসাও
শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, ব্যবসায়িক অংশীদারও ছিলেন মৌনী ও সুরজ। ২০২২ সালে তাঁরা চালু করেন একটি এডটেক প্ল্যাটফর্ম। এরপর ২০২৩ সালে মুম্বাইয়ে শুরু করেন বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ বদমাশ।

মৌনি রায়
মৌনি রায়এএফপি

কাজে ব্যস্ত মৌনী
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গুঞ্জনের মধ্যেও ক্যারিয়ারে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌনী রায়। সামনে মুক্তি পাচ্ছে ‘হ্যায় জওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’। এ ছাড়া তাঁকে ‘ব্রহ্মাস্ত্র ২’ ও মধুর ভান্ডারকরের নতুন সিনেমাতেও দেখা যাবে।

দক্ষিণি সিনেমার দর্শকের কাছে ২০০০–এর শুরুর সময়টা আজও এক নস্টালজিয়ার নাম। সেই সময় পর্দাজুড়ে ছিলেন রীমা সেন। ‘পাশের বাড়ির মেয়ে’র চরিত্রে তামিল ও তেলুগু সিনেমার দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই অভিনেত্রী আজ অনেকটাই আড়ালে। খ্যাতির শিখর ছুঁয়েও কেন তিনি আলো–ঝলমলে দুনিয়া ছেড়ে গেলেন—সে গল্পই যেন এক অন্য রকম জীবনচিত্র।

কলকাতায় জন্ম নেওয়া রীমা সেন খুব অল্প বয়সেই মডেলিং শুরু করেন। নব্বইয়ের শেষ দিকে জনপ্রিয় মিউজিক ভিডিওতে তাঁর উপস্থিতি তাঁকে ঘরে ঘরে পরিচিত করে তোলে। বিশেষ করে সেই সময়ের হিট অ্যালবাম ভিডিওগুলোয় তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি নির্মাতাদের নজর কাড়ে, আর সেখান থেকেই খুলে যায় সিনেমার দরজা।

সিনেমার দৃশ্যে রীমা সেন। আইএমডিবি
সিনেমার দৃশ্যে রীমা সেন। আইএমডিবি

২০০০ সালে তেলুগু ছবি ‘চিত্রাম’ দিয়ে তাঁর চলচ্চিত্রযাত্রা শুরু। প্রথম ছবিই দর্শকের মন জয় করে নেয়। কিন্তু সত্যিকারের তারকা হয়ে ওঠা তাঁর জন্য সময় নেয়নি খুব বেশি। ২০০১ সালে ‘মিনালে’ মুক্তি পাওয়ার পর রাতারাতি জনপ্রিয়তার শিখরে উঠে যান তিনি। ছবিটিতে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন আর মাধবন।

‘ভাসেগারা’ গানটি যেন তাঁর ক্যারিয়ারের পরিচয় হয়ে ওঠে। কলেজ রোমান্সের আবহ, সরল অভিব্যক্তি আর একধরনের নির্ভেজাল পর্দা উপস্থিতি—সব মিলিয়ে রীমা সেন হয়ে ওঠেন সেই সময়ের রোমান্টিক সিনেমার অন্যতম মুখ। আজও গানটি বাজলে বহু দর্শকের চোখে ভেসে ওঠে তাঁর হাসি, তাঁর সহজ অভিনয়।

সিনেমার দৃশ্যে রীমা সেন। আইএমডিবি
সিনেমার দৃশ্যে রীমা সেন। আইএমডিবি

এরপর তামিল ও তেলুগু ইন্ডাস্ট্রিতে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি ভিন্নধর্মী চরিত্রেও দেখা যায় তাঁকে। কখনো রোমান্টিক নায়িকা, কখনো সাহসী বা নেতিবাচক চরিত্র—সবখানেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পেরেছিলেন তিনি। তাঁর অভিনয়যাত্রা দক্ষিণি সিনেমার গণ্ডি ছাড়িয়ে বলিউডেও পৌঁছায়। ২০১২ সালে ‘গ্যাংস অব ওয়াসেপুর’–এ তাঁর উপস্থিতি সমালোচকদের নজর কাড়ে। সেই ছবিই হয়ে যায় তাঁর শেষ চলচ্চিত্র।

ক্যারিয়ারের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়েই ব্যক্তিগত জীবনের দিকে ঝুঁকে পড়েন রীমা সেন। ২০১২ সালে তিনি ব্যবসায়ী শিব করণ সিংকে বিয়ে করেন। পরের বছর মা হওয়ার পর প্রায় নিঃশব্দেই তিনি সিনেমা থেকে সরে যান। কোনো আনুষ্ঠানিক বিদায় নয়, কোনো ঘোষণা নয়—শুধু আলো থেকে নিজেকে ধীরে ধীরে সরিয়ে নেওয়া।

অনেকেই ভেবেছিলেন হয়তো আবার ফিরে আসবেন। কিন্তু রীমা নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। পরিবার, সন্তান আর ব্যক্তিগত জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি মিডিয়া আর লাইমলাইট থেকে দূরে থাকাকে বেছে নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি খুব কম সক্রিয়, জনসমক্ষে দেখা মেলে আরও কম।

তবে আড়ালে থাকলেও রীমার জনপ্রিয়তা ফিকে হয়নি। পুরোনো গান, পুরোনো সিনেমা কিংবা দক্ষিণি সিনেমার নস্টালজিয়া ঘিরে আলোচনা উঠলেই ফিরে আসে তাঁর নাম।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

জঙ্গলের ভেতর অভিনেত্রী হাঁটছেন, পাশে দাঁড়িয়ে সাফারি গাড়ি—সামাজিক মাধ্যমে এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় সমালোচনা। প্রশ্ন ওঠে, বন বিভাগের নিয়ম ভেঙে কি বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী রাকুলপ্রীত সিং? ভারতের গুজরাটের বিখ্যাত গির ন্যাশনাল পার্কে তাঁর সফরের ভিডিও ঘিরে শেষ পর্যন্ত মুখ খুলতে হয় বন কর্মকর্তাদেরও।

সম্প্রতি নিজের নতুন ছবি ‘পতি পত্মী অউর ওহ দো’র প্রচারণার অংশ হিসেবে গির অরণ্যে গিয়েছিলেন রাকুল। সঙ্গে ছিলেন ছবির অন্য সদস্যরাও। সেখানকার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের একাংশ অভিযোগ তোলেন, সাধারণ পর্যটকদের যেখানে সাফারি গাড়ি থেকে নামার অনুমতি নেই, সেখানে একজন তারকাকে কীভাবে জঙ্গলে হাঁটার সুযোগ দেওয়া হলো? অনেকেই একে ‘সেলিব্রিটি প্রিভিলেজ’ বলেও মন্তব্য করেন।

রাকুলপ্রীত সিং। এএফপি
রাকুলপ্রীত সিং। এএফপি

তবে বিতর্ক বাড়তেই বিষয়টি পরিষ্কার করে গির উদ্যান কর্তৃপক্ষ। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ভাইরাল ভিডিওটি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে ধারণ করা হয়নি। এটি মূল অভয়ারণ্যে প্রবেশের নির্ধারিত গেটের বাইরের অংশে তোলা হয়েছিল।
এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা আমাদের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলের মাধ্যমে আগেই ব্যাখ্যা দিয়েছি। ভিডিওটি সাসান অভয়ারণ্যের প্রবেশপথের বাইরের অংশে ধারণ করা হয়েছে। সংরক্ষিত এলাকায় ঢোকার পর কেউ গাড়ি থেকে নামতে পারেন না। ভাইরাল ভিডিওটি সেই সীমার বাইরের।’

বন কর্মকর্তাদের দাবি, নিয়ম ভাঙার কোনো ঘটনাই ঘটেনি। বরং রাকুলের সফরটি শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। কারণ, অভয়ারণ্যে ঢোকার আগেই তিনি শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করেন। পরে তাঁর দল তাঁকে নিয়ে ফিরে যায়। ফলে তিনি জঙ্গলের ভেতরে প্রবেশই করেননি।

এই ব্যাখ্যার পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক থামেনি পুরোপুরি। কারণ, তারকাদের ঘিরে সাধারণ মানুষের কৌতূহল যেমন প্রবল, তেমনি তাঁদের প্রতিটি পদক্ষেপও নজরে রাখেন অনেকে। বিশেষ করে পরিবেশ, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ বা সরকারি নিয়মের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সেলিব্রিটিদের উপস্থিতি প্রায়ই আলোচনার জন্ম দেয়।

এদিকে কাজের দিক থেকেও ব্যস্ত সময় পার করছেন রাকুল। তাঁর নতুন ছবি ‘পতি পত্মী অউর ওহ দো’ মুক্তি পাচ্ছে ১৫ মে। ছবিতে তাঁর সঙ্গে আছেন আয়ুষ্মান খুরানা, সারা আলী খান ও ওয়ামিকা গাব্বি। ছবিটি পরিচালনায় রয়েছেন মুদাসসর আজিজ।
২০১৯ সালের জনপ্রিয় ছবি ‘পতি পত্নী অউর ওহ’–এর সিক্যুয়েল হিসেবে নির্মিত এই চলচ্চিত্র নিয়ে ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আর মুক্তির আগেই গির অরণ্যের এই ভাইরাল ভিডিও নতুন করে আলোচনায় এনে দিলেন রাকুলপ্রীত সিংকে।

বলিউড হাঙ্গামা অবলম্বনে

হলিউডে অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিং নিয়ে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতনতা তৈরি হয়েছে। আর এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছেন ‘ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর’রা—যাঁদের কাজ অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিরাপত্তা, স্বস্তি ও সম্মান নিশ্চিত করা। সম্প্রতি এমনই একজন পরিচিত ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর ম্যাম স্মিথ খোলামেলা কথা বলেছেন এই পেশা, ‘ইউফোরিয়া’ সিরিজের কাজ, জেনডায়ার সঙ্গে সম্পর্ক এবং অন্তরঙ্গ দৃশ্য শুটিংয়ের বাস্তবতা নিয়ে।

‘ইন দ্য এনভেলপ: দ্য অ্যাক্টর’স পডকাস্ট’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যাম স্মিথ জানান, ২০১৯ সালে তিনি যখন স্টান্ট পারফরমার থেকে ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটরের ভূমিকায় আসেন, তখন এই পেশা নিয়ে মানুষের ধারণাই ছিল না। এইচবিওর জনপ্রিয় সিরিজ ‘ওয়েস্টওয়ার্ল্ড’-এর তৃতীয় সিজনে কাজ করার সময় অনেকেই তাঁকে ভুল বুঝতেন।
তাঁর ভাষায়, ‘তখন কেউই জানত না ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর আসলে কী করেন। অনেকে ভাবতেন আমি বুঝি এইচআর বিভাগের কেউ, সবাইকে শাস্তি দিতে এসেছি। কেউ কেউ ভাবতেন আমার কাজই খবরদারি করা। কিন্তু আমি তাঁদের বোঝাতাম, আমি এখানে সাহায্য করতে এসেছি। যোগাযোগ সহজ করতে এসেছি।’

জেনডায়াকে নিয়ে ম্যাম স্মিথ বলেন, ‘যেকোনো সম্পর্কের মতোই এখানে বিশ্বাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের সঙ্গে একটা শর্টহ্যান্ড তৈরি হয়ে যায়। জেনডায়া আমাকে দেখলেই বুঝে যায়, “ঠিক আছে, ম্যাম বিষয়টা সামলে নেবে।” সে জানে আমি তার পাশে আছি, তাকে রক্ষা করব।’

‘ইউফোরিয়া ৩’–এর দৃশ্য। ছবি: এইচবিও
‘ইউফোরিয়া ৩’–এর দৃশ্য। ছবি: এইচবিও

জেনডায়ার মতো তারকার জন্য এই সমর্থন আরও জরুরি বলেও মনে করেন তিনি। ‘সে খুব শক্তিশালী অবস্থানে আছে। এত পরিশ্রম করে এখানে এসেছে। তার ওপর অনেক প্রত্যাশা থাকে। তাই তাকে নিরাপদ ও সমর্থিত অনুভব করানো খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

তবে শুধু বড় তারকা নন, সেটে থাকা প্রত্যেক অভিনেতার প্রতিই একই রকম দায়িত্ববোধ কাজ করে ম্যাম স্মিথের। বিশেষ করে নতুন অভিনেতারা যাতে অস্বস্তিতে না পড়েন, সেটি নিশ্চিত করতে তিনি আলাদা গুরুত্ব দেন।

তাঁর মতে, অনেকে ভাবেন ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেশন মানে অনেক বাধা বা নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি উল্টো। এতে অভিনেতারা আরও স্বচ্ছন্দে কাজ করতে পারেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটা প্রক্রিয়া অনুসরণ করি, যেটাকে বলি “বডি ম্যাপিং”। সেখানে অভিনেতা বা অভিনেত্রীকে জিজ্ঞেস করা হয়—কোথায় স্পর্শ নিরাপদ, কোথায় নয়। কেউ বলতে পারেন, “আমি চাই না আমার কোমরে হাত দেওয়া হোক”, কেউ বলেন, “আমার কান খুব সংবেদনশীল।”’

এই সীমারেখাগুলো আগে থেকেই পরিষ্কার করে নেওয়া হয়। এরপর অভিনেতারা জানেন কোন জায়গার ভেতরে তাঁরা কাজ করছেন। ফলে দৃশ্যের সময় আর ভয় বা অস্বস্তি কাজ করে না।

‘ইউফোরিয়া ৩’–তে সিডনি সুইনি। এইচবিও
‘ইউফোরিয়া ৩’–তে সিডনি সুইনি। এইচবিও
 

ম্যাম স্মিথের ভাষায়, ‘যখন সীমারেখা পরিষ্কার থাকে, তখন আপনি অনেক বেশি স্বাধীনভাবে অভিনয় করতে পারেন। তখন আর মনে হয় না—আমি কি কোনো সীমা অতিক্রম করে ফেললাম? বরং পুরো বিষয়টা নিরাপদ একটা জায়গার মধ্যে থাকে।’
‘ইউফোরিয়া’র মতো সিরিজে যৌনতা ও সম্পর্ককে যেভাবে দেখানো হয়, তা নিয়ে প্রায়ই আলোচনা হয়। তবে ম্যাম স্মিথ মনে করেন, এই ধরনের দৃশ্যের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পারস্পরিক সম্মান ও সম্মতি।

তিনি জানান, বর্তমানে হলিউডে অন্তরঙ্গ দৃশ্য শুটিংয়ের সংস্কৃতি অনেক বদলেছে। আগে যেখানে অভিনেতারা অনেক সময় অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতেন, এখন সেখানে আলোচনা, প্রস্তুতি ও সুরক্ষার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
তাঁর মতে, ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটরের কাজ শুধু দৃশ্য পরিচালনা নয় বরং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে অভিনেতারা নিজেদের নিরাপদ বোধ করেন এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করতে পারেন।

রেডিও  টাইমস অবলম্বনে

পর্দায় নানা সময় নানাজনের ‘মা’ হয়েছেন অভিনেত্রী দিলারা জামান। বাস্তবে মা হিসেবে তিনি কেমন? পড়ুন তাঁর সন্তান জুবায়রা জামান চৌধুরীর লেখা।

২৬ বছর হলো দেশের বাইরে আছি। এর মধ্যেই ২০১৪ সালে আব্বা মারা গেলেন। শেষ সময়ে আব্বা আমার এখানেই ছিলেন। তিনি বারবার বলতেন, ‘তোর মায়ের দায়িত্ব আমি তোকে দিয়ে যেতে চাই।’ আব্বা মারা যাওয়ার পর আম্মা সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি আমেরিকা থাকবেন না। গ্রিন কার্ড ছেড়ে দিলেন। তাঁকে রাজি করাতে পারলাম না। তখন নিজেকে খুব ব্যর্থ মনে হচ্ছিল। ভাবছিলাম আব্বাকে দেওয়া কথা রাখতে পারলাম না।

আম্মাকে আমার মনে হয় ভীষণ একগুঁয়ে। কথা শুনতে চান না। সবার কাছে তিনি অভিনেত্রী দিলারা জামান, একজন সেলিব্রিটি; কিন্তু আমার কাছে তো তিনি মা। সম্পর্কটা রক্তের, এখানে কোনো স্বার্থ নেই। মেয়ে হিসেবে মন খুলে সব বলতে পারি। ফলে রাগ-অভিমানটাও বেশিই হয়। 

আম্মার সঙ্গে একটা বড় অভিমানের জায়গা তাঁর পর্দার ছেলেমেয়েরা। নাটকে দেখি তিনি ছেলেমেয়েদের জড়িয়ে ধরছেন, চুমু খাচ্ছেন। এ রকম অনেক ভিডিও ভাইরালও হয়। দেখলে আমার মন খারাপ হয়। আম্মার একটা জড়তা আছে। এই জিনিসগুলো তিনি আমাদের সঙ্গে করেননি। অনেকে বোঝানোর চেষ্টা করে, পর্দায় যেটা দেখা যায়, সেটা অভিনয়। তারপরও মনে হয়, তিনি তো আমাদের সঙ্গেও ওই ঘনিষ্ঠতাটুকু দেখাতে পারেন। এখন আমি নিজেও মা। মেয়েদের কাছে আমি ভালোবাসা প্রকাশ করি। আম্মার কথা যখন ভাবি, মনে হয়, তাঁদের প্রজন্ম হয়তো ভালোবাসার প্রকাশটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেনি। তাঁরা এটার সঙ্গে অভ্যস্ত নয়।

সম্পর্কটা রক্তের, এখানে কোনো স্বার্থ নেই
সম্পর্কটা রক্তের, এখানে কোনো স্বার্থ নেইছবি: কবির হোসেন

ছিলেন খুব ‘স্ট্রিক্ট’

আম্মা খুব ‘স্ট্রিক্ট’ ছিলেন। আমরা দুই বোন, আমি আর বড় আপা তানিরা, আমাদের দুজনকেই অনেক শাসনের মধ্যে বড় করেছেন। সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে বাড়ি ফিরতে হতো। বন্ধুরা একসঙ্গে মিলে দুপুর বা রাতের খাবার খাওয়া, আড্ডা দেওয়া—এটা পারতাম না। বাসায় ছেলে বন্ধু আনা নিষেধ ছিল, এলেও ড্রয়িংরুমে বসা পর্যন্তই অনুমতি ছিল। এ ক্ষেত্রে আব্বাও ছিলেন সমান কঠোর।

আম্মা শিক্ষকতা করতেন। তিনি যে স্কুলে যেতেন, আমাদেরও একই স্কুলে ভর্তি করাতেন। সব সময় চোখে চোখে রাখতেন। আমরা কখনোই ক্লাস ফাঁকি দিতে পারিনি। তবে এই কঠোরতার মধ্য দিয়ে একটি জিনিস তিনি আমাদের শিখিয়েছেন—সততা। আব্বা বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক (প্রশাসন) ছিলেন। তাঁদের দুজনই কোনো কিছুতে লোভ লালসা করেননি। ফলে আমরা খুব প্রাচুর্যের মধ্যে বড় হইনি। এ বিষয়টা আমাদের মধ্যেও এসেছে। চেষ্টা করি সব পরিস্থিতিতে সৎ থাকার। সব সময় মনে রাখি ওপরে একজন আছেন, যিনি দেখছেন।

শিক্ষক দিলারা জামান ছেলেমেয়েদের কড়া শাসনে বড় করেছেন
শিক্ষক দিলারা জামান ছেলেমেয়েদের কড়া শাসনে বড় করেছেনছবি: কবির হোসেন

আম্মার ‘স্যাক্রিফাইস’

চট্টগ্রামে আম্মা থিয়েটার করতেন, অরিন্দমে ছিলেন। তারপর যখন ঢাকায় এলেন, থিয়েটার পুরোপুরি ছেড়ে দিলেন। আম্মা জানতেন থিয়েটারে অনেক সময় দিতে হবে। তখন স্কুল আর বাসা—এই দুইয়ের মধ্যে বন্দী হয়ে যান। আমাদের স্কুলে আনা–নেওয়া করতেন। রিকশায় আমাকে কোলে নিতেন, বড় আপা পাশে বসত। আম্মা সব সময় নিজ হাতে রান্না করতেন। আমরা কখনো গৃহপরিচারিকার রান্না খাইনি। বাজারটাও নিজে করতেন। এই সময়টায় অভিনয় থেকে তিনি লম্বা বিরতিতে চলে যান।

এরপর হুমায়ূন আহমেদের এইসব দিনরাত্রি নাটক দিয়ে তাঁর অভিনয়ে ফেরা। তখন তাঁর মধ্য বয়স, মা চরিত্রে তখনই হয়তো অভিনয় করার কথা না। কিন্তু আম্মা সেই চরিত্র করলেন। তার পর থেকে একই ধরনের রাগী, খিটখিটে মায়ের চরিত্র আসতে থাকল। তখন তিনি কেবল ওই ধরনের চরিত্রের জন্যই বিবেচিত হতেন। এই ‘স্যাক্রিফাইস’ তিনি আমাদের জন্য করেছেন।

মায়েদের প্রতি আলাদা দরদ

মা হতে আম্মার অনেক সময় লেগেছিল। বিয়ের ১০ বছর পর তিনি মা হন। আমার মনে হয় এ জন্য মায়েদের প্রতি তাঁর আলাদা দরদ আছে। ছোটবেলা থেকেই দেখতাম, কারও মা হওয়ার খবর শুনলে তিনি ব্যস্ত হয়ে যেতেন। হয়তো হাতে কিছু টাকা গুঁজে দিয়ে আসতেন। টিফিন বক্স ভরে খাবার রান্না করে নিয়ে যেতেন।

আম্মার মাতৃত্বের অনুভূতি অনেক গভীর। আমাদের একটা ছোট ভাই আছে। ওর নাম আশিক। আশিক ওর আড়াই বছর থেকে আমাদের পরিবারের সঙ্গে আছে। আমরা একসঙ্গেই বড় হয়েছি। আম্মা ওকে নিজের ছেলের মতো আদর করেন। ২০১৪ সাল থেকে আশিক আম্মার সঙ্গেই থাকে।

আম্মাকে দেখেছি প্রচণ্ড উদার। তাঁর কাছে ১০ টাকা থাকলে পাঁচ টাকা তিনি অন্যদের জন্য রেখে দেন। কারও হয়তো চোখের অপারেশন, কারও ছেলের পড়ালেখার খরচ—যেটুকু পারেন সাহায্য করেন। অনেক সময় জমানো টাকাও এসব কাজে খরচ করে ফেলেন। অনেকে তাঁর এই উদারতার সুযোগ নেয়। তিনি সেটা বুঝতে চান না। এ নিয়ে তাঁর সঙ্গে আবার আমার কথা-কাটাকাটি হয়। তবে তিনি সন্তুষ্টি নিয়ে ঘুমাতে যান, এটা আমি অনুভব করতে পারি।

মা ও মেয়ে
মা ও মেয়ে
 
তিনি একা নন

আমার বিদেশে আসার একটা কারণ ছিল, আমি আম্মা-আব্বাকে বিদেশে নিতে চাইতাম। কিন্তু সেটা পারিনি। আমরা দুই বোনই দেশের বাইরে থাকি। দেশে আম্মার সঙ্গে আশিক থাকে। আর তাঁর একজন সহকারী আছে। তবে আম্মার সবচেয়ে বড় সঙ্গী কাজ। এই বয়সেও তিনি তাঁর কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। এটা একদিকে আমাকে কিছুটা স্বস্তি দেয়। তাঁর ডায়াবেটিস আছে, কিডনির সমস্যা আছে, কানে শুনতেও সমস্যা হয়। আমার মনে হয় কাজ তাঁকে একাকিত্ব থেকে দূরে রাখে।

আম্মার পুরো জীবনটা ত্যাগের মধ্য দিয়ে গেছে। আমি চেষ্টা করি প্রতিবছর ১০-১৫ দিনের জন্য হলেও ঘুরে আসার। আমার দুই মেয়ে আমাইরা আর আরিসা জানে, ওদের নানি বাংলাদেশের একজন সেলিব্রিটি। মুঠোফোনে নানির সঙ্গে ওদের কথা হয়।

দূর থেকে আম্মার কথা সব সময় মনে পড়ে। আর মাঝে মাঝে মিস করি তাঁর হাতের রান্না। আম্মা মাছ খুব ভালো রাঁধেন। মসলা বেশি দেন না, হালকা ঝোল ঝোল রাখেন। আম্মার হাতের মাছ খুব মিস করি।

অনুলিখিত

একসময় বলিউডের অন্যতম আলোচিত মুখ ছিলেন সেলিনা জেটলি। মিস ইন্ডিয়া খেতাব জয়, গ্ল্যামার জগতে দ্রুত উত্থান, বলিউডে একের পর এক জনপ্রিয় ছবি—সব মিলিয়ে তাঁর জীবন যেন ছিল নিখুঁত রূপকথা। কিন্তু সেই ঝলমলে জীবনের আড়ালে যে দীর্ঘদিন ধরে জমছিল ব্যক্তিগত অস্থিরতা, মানসিক যন্ত্রণা আর সম্পর্কের টানাপোড়েন, তা এবার প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগে অভিনেত্রীর স্বামী পিটার হাগের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে মুম্বাই পুলিশ। শুধু তা-ই নয়, তদন্ত চলাকালে ভারত ছাড়ার আশঙ্কায় তাঁর বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আর এ ঘটনার পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক রহস্যময় পোস্ট করে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সেলিনা।

‘নার্সিসিস্টের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙা মানে নিজের হারানো সত্তাকে ফিরে পাওয়া’
ঘটনার পর গভীর রাতে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি ছবি পোস্ট করেন সেলিনা। সেখানে দেখা যায়, তিনি একটি বই পড়ছেন। বইয়ের পাতার শিরোনাম— ‘ব্রেকিং আপ উইথ আ নার্সিসিস্ট’।

পাতার বেশ কয়েকটি অংশ তিনি হাইলাইট করেছিলেন। একটি লাইনে লেখা ছিল—‘একজন নার্সিসিস্টের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙা মানে সেই মানুষটির তৈরি করা আপনার আরেকটি সংস্করণের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটানো।’

আরেকটি অংশে ছিল—‘যখন আপনি সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন, তখন শুধু একটি সম্পর্কই শেষ করেন না; আপনি নিজের পরিচয়, নিজের কণ্ঠস্বর এবং নিজের জীবনও ফিরে পান।’

সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে আরেকটি অংশ—‘আপনি নিজের গল্প নতুন করে লেখার যোগ্য। আপনি সুস্থ হয়ে ওঠার যোগ্য। আপনি সেই মানুষ নন, যেভাবে আপনাকে বিশ্বাস করানো হয়েছিল।’

এই পোস্টের পর থেকেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে, নিজের দাম্পত্য জীবনের সংকট নিয়েই কি পরোক্ষ বার্তা দিয়েছেন অভিনেত্রী?

মুম্বাই পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, পিটার হাগের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিষ্ঠুরতা ও নির্যাতন, শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির অভিযোগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি।

মামলাটি প্রটেকশন অব উইমেন ফ্রম ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যাক্ট ২০০৫-এর সঙ্গেও যুক্ত। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগ দায়েরের পর পিটারের বিরুদ্ধে লুক-আউট সার্কুলার জারি করা হয়েছে। সাধারণত যখন আশঙ্কা থাকে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তদন্ত এড়িয়ে বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন, তখনই লুক–আউট সার্কুলেশন জারি করা হয়।

সূত্রের দাবি, তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। যদিও এখন পর্যন্ত পিটার হাগ কিংবা তাঁর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সেলিনা জেটলি। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
সেলিনা জেটলি। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
 

সন্তানের কবরের সামনে এক মায়ের কান্না
এই আইনি লড়াইয়ের মধ্যেই কয়েক দিন আগে একটি হৃদয়বিদারক ভিডিও পোস্ট করেছিলেন সেলিনা। সেখানে তাঁকে দেখা যায় প্রয়াত ছেলে শমশেরের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে। ভিডিওতে তিনি ইঙ্গিত দেন, বর্তমানে তিনি নিজের সন্তানদের সঙ্গেও স্বাভাবিকভাবে দেখা করতে পারছেন না। তাঁর কথায়, শুধু শমশেরই যেন এখন তাঁর নীরব সঙ্গী। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনুরাগীরা। অনেকেই অভিনেত্রীর পাশে থাকার বার্তা দেন।

পিটার হাগ মূলত অস্ট্রিয়ার নাগরিক। আন্তর্জাতিক হোটেল ও আতিথেয়তাশিল্পে বহু বছর ধরে কাজ করেছেন তিনি। দুবাই, সিঙ্গাপুরসহ মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেল চেইনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ব্র্যান্ডিং, মার্কেটিং ও হোটেল ম্যানেজমেন্টে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে সেলিনা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে সেলিনা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
 

রূপকথার প্রেম, তারপর ভাঙনের গল্প
২০১১ সালে বিয়ে করেন সেলিনা ও পিটার। সে সময় বলিউডে তাঁদের বিয়ে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। বিয়ের পর অভিনয় থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যান সেলিনা। বিদেশেই সংসার গড়েন তাঁরা। ২০১২ সালে জন্ম নেয় তাঁদের যমজ সন্তান উইনস্টন ও বিরাজ। পরে ২০১৭ সালে আবারও যমজ সন্তানের মা–বাবা হন তাঁরা—শমশের ও আর্থার। কিন্তু জন্মের কিছুদিনের মধ্যেই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় শমশের। সেই ট্র্যাজেডি সেলিনার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
অভিনেত্রী একাধিকবার বলেছেন, সন্তান হারানোর যন্ত্রণা তাঁকে ভেতর থেকে ভেঙে দিয়েছিল।

২০২৫ সালেই শুরু হয়েছিল আইনি লড়াই

জানা গেছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরেই প্রথম গার্হস্থ্য হিংসার মামলা করেন সেলিনা। তখন ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমার প্রথম দায়িত্ব আমার সেনা অফিসার ভাইয়ের জন্য লড়াই করা, আমার সন্তানদের ভালোবাসা ফিরে পাওয়া এবং নিজের মর্যাদা রক্ষা করা।’

সেলিনা অভিযোগ করেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক নির্যাতন, অবহেলা ও সম্পর্কের ভাঙনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে।
শুধু তা-ই নয়, তিনি ৫০ কোটি রুপির ক্ষতিপূরণও দাবি করেন বলে জানা গেছে। সম্পত্তি ও আয়ের ক্ষতির কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বলিউডের গ্ল্যামারের আড়ালে অন্য এক বাস্তবতা
২০০১ সালে ‘মিস ইন্ডিয়া ইউনিভার্স’ খেতাব জয়ের পর বলিউডে পা রাখেন সেলিনা। ‘নো এন্ট্রি’, ‘গোলমাল রিটার্নস’, ‘আপনা সাপনা মানি মানি’ ইত্যাদি ছবিতে অভিনয় করে দ্রুত জনপ্রিয়তা পান তিনি।

তবে বিয়ের পর ধীরে ধীরে চলচ্চিত্র থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। পরিবার, সন্তান ও ব্যক্তিজীবন নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু এখন সেই ব্যক্তিজীবনই আদালত, পুলিশি তদন্ত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রে।

মিড ডে ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে