সবচেয়ে ধনী দক্ষিণি নায়িকাদের কথা এলে অনেকেই হয়তো আনুশকা শেঠি, সান্থামা রুথ প্রভু বা তামান্না ভাটিয়ার কথা বলবেন। কিন্তু তাঁরা নন, সবচেয়ে ধনী দক্ষিণি নায়িকা আরেকজন। কে তিনি? হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে জেনে নেওয়া যাক ছবিতে ছবিতে-

[caption id="attachment_272742" align="alignnone" width="986"] দক্ষিণের সবচেয়ে ধনী অভিনেত্রী নয়নতারা। তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ২০০ কোটি রুপি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption]

নয়নতারা একজন জনপ্রিয় দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী এবং তিনি ‘দক্ষিণের লেডি সুপারস্টার’ নামে পরিচিত। বেশ কয়েকটি দক্ষিণ ভারতীয় ছবিতে অভিনয় করার পর তিনি ২০২৩ সালে ‘জওয়ান’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন।।

[caption id="attachment_272743" align="alignnone" width="991"] ‘বাহুবলী’ দিয়ে পরিচিতি পাওয়া আনুশকা শেঠি রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে। ফেসবুক থেকে[/caption]

আনুশকা বেশ কয়েকটি হিট দক্ষিণ ভারতীয় ছবিতে অভিনয় করেছেন, কিন্তু ‘বাহুবলী’র মাধ্যমেই তিনি বিশ্বব্যাপী সাফল্য পান। জানা যায়, তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১৩৫ কোটি রুপি। তামান্না ভাটিয়া আছেন তিন নম্বরে। তিনি দক্ষিণ ভারতীয় এবং হিন্দি—উভয় চলচ্চিত্রেই দুর্দান্ত কাজ করছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১১০–১২০ কোটি রুপি

[caption id="attachment_272746" align="alignnone" width="987"] এরপরে রয়েছেন সামান্থা রুথ প্রভু। ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption]

সামান্থাও এখন হিন্দি ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন। তাঁর জনপ্রিয় হিন্দি প্রজেক্টগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান ২’ ও ‘সিটাডেল হানি বানি’। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সামান্থার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১১০–১২০ কোটি রুপি।

[caption id="attachment_272745" align="alignnone" width="988"] তৃষা কৃষ্ণান তামিল ও তেলেগু সিনেমার আলোচিত অভিনত্রী। তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৮৫-১০০ কোটি রুপি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption][caption id="attachment_272744" align="alignnone" width="991"] এরপরে রয়েছেন কাজল আগরওয়াল, যাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৮৫ কোটি রুপিইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption]

দক্ষিণি অভিনেত্রীদের মধ্যে সুপারস্টার বলা হতো সামান্থা রুথ প্রভুকে। দিয়েছেন একের পর হিট, জয় করেছেন লাখো ভক্তদের হৃদয়। লম্বা সময় ধরে প্রেম করার পর ২০১৭ সালে দক্ষিণি তারকা নাগ চৈতন্যকে বিয়ে, ২০২১ সালে বিচ্ছেদ আর ২০২২ সালে বিরল অটোইমিউন রোগ মাইয়োসিটিসে আক্রান্ত হয়ে বেশ প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন সামান্থা। এরপর অতি সম্প্রতি আবার করলেন বিয়ে। সবকিছুর মাঝে নিজের ফিটনেস রেখেছেন আগের মতোই। অভিনয়দক্ষতা তো বটেই, স্টাইল আর আবেদনের দিক থেকেও তিনি কম যান না। আজ এই সুন্দরী ডিভার ৩৯ তম জন্মদিনে তাঁর বোল্ড আর আকর্ষণীয় লুকগুলো দেখে নেওয়া যাক তবে।

সবুজ শেডের এই টাইমলেস ড্রেসকে সামান্থা যেন নতুন এক মাত্রা দিয়েছেন। স্ট্র্যাপি গাউনটির পুরোটা জুড়ে রয়েছে সূক্ষ্ম বিডেড ডিটেইলিং। শিমারিং টেক্সচার ও নিখুঁত কারুকাজ পুরো লুকটিকে দিয়েছে গ্ল্যামারাস আবেদন।

 

চকোলেট কাটআউট গাউনে মোহ ছড়াচ্ছেন

 

প্রি-ড্রেপড ল্যাভেন্ডার শাড়ির সঙ্গে আকর্ষণ কাড়ছে তাঁর ব্রালেট আর বিডসে সজ্জিত কেপ।

 

শাড়ির সৌন্দর্য আর স্টেটমেন্ট ব্লাউজ দুটোই সুন্দরভাবে ক্যারি করেছেন সামান্থা

 

ডেনিম ব্রালেট আর নেটের ফ্লেয়ার প্যান্ট পরেছেন সামান্থা

 

লাল সিকুইনের লেহেঙ্গা পরেছেন এই সুন্দরী দক্ষিণি অভিনেত্রী

 

আইভরি ফুলেল টপ আর হাইওয়েষ্ট বটমের লুকে শুভ্র আবেদন কাড়ছেন তিনি

 

এখানে বোল্ড ও গভীর ভি নেকলাইনের কালো বডিস্যুট পরেছেন সামান্থা

 

মভ শেডের এই আউটফিটে স্টানিং লাগছে তাঁকে। অফ-শোল্ডার, ফুল-স্লিভ ক্রপ টপের সঙ্গে হাই-ওয়েস্টেড স্কার্ট পরেছেন সুন্দরী

 

কালো স্যুটের সঙ্গে শার্টবিহীন লুকে আবেদনময়ী বসলেডি সামান্থা

 

মিডনাইট ব্লু, ফ্লোরছোঁয়া গাউনে সামান্থা। ফিগার-হাগিং সিলুয়েট, ডিপ নেকলাইন এবং স্লিভলেস স্টাইলের পাশাপাশি গাউনের সামনের অংশের ডায়মন্ড আকৃতির কাটআউট ডিজাইনটি বিশেষ আবেদন যোগ করেছে তাঁর লুকে।

লেমন-গ্রিন শেডের শাড়িতে ফুলেল নকশা, কপালে ছোট্ট টিপে ভিন্ন সাজে দেখা দিলেন অভিনেত্রী সুনেরাহ্ বিনতে কামাল। ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়া ছবিতে থাকল আরও তথ্য।

[caption id="attachment_272584" align="alignnone" width="712"] ছবি পোস্ট করে লগ্নজিতা চক্রবর্তীর গান থেকে ধার করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আমি জলছবিতে আঁকবো তোমার ইতঃস্তত’শিল্পীর ফেসবুক থেকে[/caption][caption id="attachment_272585" align="alignnone" width="720"] ৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ছবিতে ১১ হাজারের বেশি রিঅ্যাক্ট পড়েছে। সাড়ে পাঁচ শতাধিক মন্তব্য জমা পড়েছেশিল্পীর ফেসবুক থেকে[/caption][caption id="attachment_272586" align="alignnone" width="722"] রাজু আহমেদ নামে এক ভক্ত লিখেছেন, ‘“আমাদের গল্প” নাটক দেখার পর থেকে আমি তোমার উপর ক্রাশ খেয়েছি।’ সোহরাব পলাশ নামে আরেক ভক্ত লিখেছেন, ‘সুনেরাহ্ আমার একজন পছন্দের অভিনেত্রী।’শিল্পীর ফেসবুক থেকে[/caption][caption id="attachment_272582" align="alignnone" width="722"] গতকাল আরেক ছবি পোস্ট করেছেন সুনেরাহ্শিল্পীর ফেসবুক থেকে[/caption][caption id="attachment_272583" align="alignnone" width="722"] পোস্টে ৬ হাজারের বেশি রিঅ্যাক্ট পড়েছে, সাড়ে তিন শ মন্তব্য এসেছেশিল্পীর ফেসবুক থেকে[/caption]

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় একই বিভাগের শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ সোমবার আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে রাখার আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী ইকবাল হোসেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন এ আদেশ দেন।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফুল মোহাম্মদসহ অন্যরা মানবিক বিবেচনায় তাঁর জামিন চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কারাগারে আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সুদীপ চক্রবর্তীকে জেলহাজতে আটক রাখা প্রয়োজন। মামলার তদন্তের স্বার্থে ভবিষ্যতে তাঁর রিমান্ডের প্রয়োজন হতে পারে।

গতকাল রোববার বাড্ডা থেকে মুনিরা মাহজাবিন মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে আটক করে পুলিশ। পরে বাড্ডা থানায় তাঁর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন মিমোর বাবা। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার আসাদুজ্জামান গতকাল বলেন, শনিবার দিবাগত রাত একটার দিকে সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে ছয় মিনিট কথা বলেছেন মিমো। তবে সেই কল হিস্ট্রি ডিলিট করেছেন।

শিক্ষার্থীরা তো বটেই, পয়লা বৈশাখে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের (এনএসইউএসএস) আয়োজন দেখতে এখন অন্য ক্যাম্পাসের অনেকেও অপেক্ষায় থাকেন। বিশেষ করে এনএসইউয়ারদের ফ্ল্যাশমবের ভিডিও যে অনলাইনে সাড়া ফেলবে, সেটা এখন একরকম রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে এবার পয়লা বৈশাখে আলাদা করে আলোচনায় এসেছেন একজন, তিনি মালিহা মাসফিরাত, ডাকনাম মেধা। রুনা লায়লা ও প্রীতম হাসানের গাওয়া ‘জ্বালা জ্বালা’ গানের সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্ত নেচে মেধা এরই মধ্যে নামকরণের সার্থকতা প্রমাণ করেছেন। মেধাকে চেনেন না, জানেন না, এমন অনেকেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘লাল জামা পরা মেয়েটা দারুণ!’

ভিডিওটা হয়তো আপনিও দেখেছেন। পয়লা বৈশাখে বিভিন্ন বাংলা গানের সঙ্গে নেচেছে নর্থ সাউথের শিক্ষার্থীদের বেশ বড় একটা দল। তবে মেধার আলাদা করে নজর কাড়ার কারণ আছে। ঝলমলে হাসি আর একাগ্রতাই বলে দিচ্ছিল, ‘জ্বালা জ্বালা’ গানে নাচের দলটাকে তিনিই নেতৃত্ব দিয়েছেন।

বিস্তারিত জানতে আমরা যোগাযোগ করেছিলাম নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিবিএর এই শিক্ষার্থীর সঙ্গে। এই যে বেশ একটা ‘তারকাখ্যাতি’ ছড়িয়ে পড়ল, ব্যাপারটা কেমন উপভোগ করছেন? নাচের সঙ্গে তাঁর পথচলাটাই–বা কেমন?

দীর্ঘ বিরতির পর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আবার নতুন করে নাচে ফিরেছেন তিনি
দীর্ঘ বিরতির পর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আবার নতুন করে নাচে ফিরেছেন তিনি, ছবি: মেধার সৌজন্যে

নাচের প্রথম অধ্যায়

মেধা বড় হয়েছেন নওগাঁয়। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় সুলতান মাহমুদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নাচের তালিম নেওয়া শুরু। তবে একটু যখন বড় হলেন, পড়ালেখার চাপ বাড়ল, ধীরে ধীরে থেমে গেল নাচের চর্চা। দীর্ঘ বিরতির পর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আবার নতুন করে নাচে ফিরেছেন তিনি।
মেধা বলেন, ‘আমার বেসিক ছিল ক্ল্যাসিক্যাল। ছোটবেলায় আমি মূলত ভরতনাট্যম আর কত্থক বেশি করতাম। এরপর অনেক দিন নাচ থেকে দূরে থাকতে হয়েছে পড়াশোনার কারণে। কিন্তু নাচটা কখনোই আমার ভেতর থেকে হারিয়ে যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে মনে হলো, এখন আবার শুরু করা উচিত। তারপর আলিফিয়া স্কোয়াডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুনভাবে নাচ শুরু করি, নিজেকে আরও ভিন্ন ঘরানায় গড়ে তোলার সুযোগ পাই।’

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের অন্যতম ইনচার্জ হিসেবে এবারের ফ্ল্যাশমব ছিল মেধার প্রথম বড় দায়িত্ব, ছবি: মেধার সৌজন্যে

বড় দলের চ্যালেঞ্জ

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের অন্যতম ইনচার্জ হিসেবে এবারের ফ্ল্যাশমব ছিল মেধার প্রথম বড় দায়িত্ব। পুরো পারফরম্যান্সের কোরিওগ্রাফি, মঞ্চ পরিকল্পনা এবং দলীয় সমন্বয়ের একটি বড় অংশ ছিল তাঁর নেতৃত্বে। ‘জ্বালা জ্বালা’ ও ‘মহা জাদু’—দুটি গানে কোরিওগ্রাফি করেছেন তিনি। পাশাপাশি অন্য গানগুলোয়ও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

মেধা জানালেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল প্রায় ৮০ জনের বিশাল দলটাকে এক ছন্দে আনা, কেননা তাঁদের বেশির ভাগই পেশাদার নৃত্যশিল্পী নন। সবার সহযোগিতায় চ্যালেঞ্জ উতরেছেন তিনি। বলছিলেন, ‘যেহেতু বেশির ভাগই নন-ড্যান্সার, সবাইকে স্টেপ শেখানো, আবার সবাই মিলে একসঙ্গে প্র্যাকটিস করা, বিষয়টা একদমই সহজ ছিল না। কিন্তু সবাই খুব সাহায্য করেছে। তাই ধীরে ধীরে সহজ হয়ে গেছে।’

মহড়ার সময়ও মেধা ভাবতে পারেননি, নাচটা এত সাড়া ফেলবে। বলছিলেন, ‘কোরিওগ্রাফির সময় চেষ্টা করেছিলাম, পারফরম্যান্সটা যেন চোখে আরাম দেয়। যদি সবাই এক তালে করতে পারে, তাহলে খুব সাধারণ স্টেপও দারুণ লাগে। পুরো পারফরম্যান্সটাই জীবন্ত হয়ে ওঠে। আমরা সব সময় এটায় মনোযোগ দিয়েছি। সে জন্য হয়তো সবাই পছন্দ করেছে।’

‘কোরিওগ্রাফির সময় চেষ্টা করেছিলাম, পারফরম্যান্সটা যেন চোখে আরাম দেয়,’ বলেন মেধা।
‘কোরিওগ্রাফির সময় চেষ্টা করেছিলাম, পারফরম্যান্সটা যেন চোখে আরাম দেয়,’ বলেন মেধা। ছবি: মেধার সৌজন্যে

বড় পর্দার স্বপ্ন

মেধা শুধু নাচের মঞ্চেই সীমাবদ্ধ নন। মডেল হিসেবেও নিয়মিত কাজ করছেন। ফটোশুটের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করলেও ধীরে ধীরে যুক্ত হয়েছেন বিভিন্ন বড় ব্র্যান্ডের প্রকল্পের সঙ্গে। টিভিসি (টেলিভিশন কমার্শিয়াল) ও ওভিসিতেও (অনলাইন ভিডিও কমার্শিয়াল) এখন তাঁর উপস্থিতি চোখে পড়ে। ক্যামেরার সামনে কাজ করার এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে ধাপে ধাপে এগিয়ে দিচ্ছে স্বপ্নের দিকে।

অভিনয়জগতে মেধার যাত্রা শুরু হয় জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর মাধ্যমে। কোনো আনুষ্ঠানিক অডিশন ছাড়াই, একজন কাস্টিং ডিরেক্টরের আহ্বানে তিনি যুক্ত হন এই প্রকল্পে। তবে মেধার লক্ষ্য আরও বড়। বলছিলেন, ‘নিজেকে এমন জায়গায় চাই, যাতে আমাকে শুধু দেশের ভেতরেই নয়, বাইরের মানুষও চিনবে। যদি সুযোগ পাই এবং নিজেকে আরও ভালোভাবে তৈরি করতে পারি, তাহলে অবশ্যই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করতে চাই। এটাই আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।’

ফুয়াদ পাবলো

বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী কাজল প্রায় তিন দশকের ক্যারিয়ারে নিজের একটি অলিখিত নিয়ম মেনে চলেছেন—পর্দায় চুম্বন দৃশ্যে অভিনয় করবেন না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে গল্পের চাহিদা বদলায়, চরিত্রের গভীরতাও বাড়ে। সেই জায়গা থেকেই শেষ পর্যন্ত নিজের দীর্ঘদিনের ‘নো কিসিং পলিসি’ ভেঙেছেন তিনি, ওয়েব সিরিজ ‘দ্য ট্রায়াল: পেয়ার, কানুন, ধোঁকা’–এর জন্য।

সম্প্রতি এক পডকাস্টে কাজল নিজেই এই সিদ্ধান্তের পেছনের গল্প খুলে বলেছেন। তাঁর ভাষায়, বিষয়টি মোটেই সহজ ছিল না। বরং শুটিংয়ের আগপর্যন্ত ভেতরে–ভেতরে অস্বস্তি কাজ করছিল। তিনি বলেন, ‘আমি খুব অস্বস্তি বোধ করছিলাম। যতক্ষণ না সেটে দাঁড়াচ্ছি, ততক্ষণ বুঝতেই পারছিলাম না, আমি সত্যিই এই দৃশ্যটা করব কি না।’

কাজল জানান, স্ক্রিপ্টে দৃশ্যটির গুরুত্ব তিনি বুঝেছিলেন শুরু থেকেই। কিন্তু ক্যামেরা অন হওয়ার পর নিজেকে সেই জায়গায় নেওয়া—সেটাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এমনও মুহূর্ত এসেছিল, যখন মনে হয়েছিল, মাঝপথেই হয়তো থেমে যাবেন। তবু শেষ পর্যন্ত পেশাদার অভিনেত্রী হিসেবে চরিত্রের প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়েছেন তিনি।
ওটিটি প্ল্যাটফর্মে তাঁর অভিষেক সিরিজ ‘দ্য ট্রায়াল: পেয়ার, কানুন, ধোঁকা’–তে কাজল অভিনয় করেছেন নয়নিকা সেনগুপ্ত চরিত্রে—একজন গৃহবধূ, যে স্বামীর কেলেঙ্কারির পর নতুন করে আইনজীবী হিসেবে নিজের জীবন শুরু করে। ব্যক্তিগত বিপর্যয়, সামাজিক চাপ এবং পেশাগত লড়াই—সব মিলিয়ে চরিত্রটি বহুমাত্রিক।

‘ট্রায়াল’–এর কাজল। আইএমডিবি
‘ট্রায়াল’–এর কাজল। আইএমডিবি

সিরিজটি মূলত মার্কিন টিভি শো ‘দ্য গুড ওয়াইফ’–এর ভারতীয় রূপান্তর। এর ফলে গল্পের কাঠামো এবং আবেগের গভীরতায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার চাপও ছিল নির্মাতাদের ওপর। কাজলের মতে, তাঁর চরিত্রের মানসিক যাত্রা ও আবেগের টানাপোড়েন বোঝাতে ওই চুম্বন দৃশ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

সহ-অভিনেতা যীশু সেনগুপ্তর সঙ্গে সেই দৃশ্যে অভিনয় করেন কাজল। সিরিজে যীশু অভিনয় করেছেন রাজীব সেনগুপ্ত চরিত্রে, যে নয়নিকার স্বামী। এই দৃশ্য মুক্তির পর থেকেই দর্শক ও ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে—বিশেষ করে কাজলের দীর্ঘদিনের অবস্থান বিবেচনায়।

‘ট্রায়াল’–এর কাজল। আইএমডিবি
‘ট্রায়াল’–এর কাজল। আইএমডিবি
 

পডকাস্টে কাজল আরও বলেন, ‘এটা কোনো ব্যক্তিগত নীতি ভাঙার বিষয় ছিল না। বরং চরিত্রের জন্য যা প্রয়োজন, সেটাই করেছি। যদি এই দৃশ্য বাদ দিতাম, তাহলে চরিত্রের একটা গুরুত্বপূর্ণ দিকই হারিয়ে যেত।’

কাজল স্পষ্ট করে দেন, সিদ্ধান্তটি আবেগ বা হঠকারিতা থেকে নয়, বরং সম্পূর্ণ পেশাদার বিবেচনায় নেওয়া। তাঁর মতে, একজন অভিনেতার কাজই হলো চরিত্রকে পূর্ণতা দেওয়া—সে জন্য কখনো কখনো নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের সীমাও অতিক্রম করতে হয়।

তবে ভবিষ্যতে এমন দৃশ্যে অভিনয় করবেন কি না—সে বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি কাজল। বরং ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রতিটি সিদ্ধান্তই নির্ভর করবে গল্প, চরিত্র ও পরিস্থিতির ওপর।

তিন দশকের ক্যারিয়ারে ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’, ‘কুচকুচ হোতা হ্যায়’, কিংবা ‘কাভি খুশি কাভি গাম’–এর মতো সুপারহিট প্রেমের ছবিতে অভিনয় করেও কাজল তাঁর এই নীতি অটুট রেখেছিলেন। তাই ‘দ্য ট্রায়াল’–এ সেই নিয়ম ভাঙার সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই ভক্তদের কাছে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

সব মিলিয়ে কাজলের এই অভিজ্ঞতা আবারও সামনে এনেছে—অভিনয়জগতে ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও পেশাদার দায়বদ্ধতার মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য কীভাবে কাজ করে। আর সেই ভারসাম্য রক্ষা করেই একজন অভিনেতা নিজের সীমা ভেঙে নতুন জায়গায় পৌঁছান।

চলচ্চিত্র নির্মাণের নামে ১৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চিত্রনায়িকা পূজা চেরীর বাবা দেব প্রসাদ রায়কে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই এই নায়িকা সম্পৃক্ত নন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

পূজা ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘সম্প্রতি আমার বাবা দেব প্রসাদ রায়ের গ্রেপ্তার এবং আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত অভিযোগ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এসব ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা ফোন এবং বার্তায় জানতে চাইছেন। সার্বিক পরিস্থিতিতে বিভ্রান্তি এড়াতে আমি আমার অবস্থান পরিষ্কার করতে চাই।’

পূজা চেরি। ছবি: ফেসবুক থেকে
পূজা চেরি। ছবি: ফেসবুক থেকে
 

দীর্ঘ প্রায় এক যুগের ক্যারিয়ার পূজার। এই সময়ে তিনি কখনোই এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তিনি লিখেছেন, ‘আমার বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে আমি মিডিয়াতে কাজ করছি এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ার ও জীবনযাপনের খরচ সম্পূর্ণভাবে নিজেই নির্বাহ করে আসছি।’

নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে এই নায়িকা আরও লিখেছেন, ‘আমার বাবার কোনো ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে আমার বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। এমনকি আমি বর্তমানে কোনো প্রোডাকশন হাউস বা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মালিকানার সঙ্গেও যুক্ত নই।’

পূজা জানিয়েছেন, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে শিল্পী হিসেবে তিনি সব সময় দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছেন এবং সম্মানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেছেন। কিন্তু পরিবারের এমন ঘটনা তাঁর জন্য কষ্টদায়ক উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘পরিবারের সদস্য হওয়ার সূত্রে উদ্ভূত এই পরিস্থিতি আমার জন্য মানসিকভাবে কষ্টদায়ক, তবে এটি একান্তই তার ব্যক্তিগত আইনি বিষয়। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং সত্য উদ্‌ঘাটিত হবে।’

এমন ঘটনায় অনেকেই এই অভিনেত্রীকে জড়ানোর চেষ্টা করছেন। তাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে পূজা লিখেছেন, ‘এই স্পর্শকাতর সময়ে অহেতুক আমাকে বা আমার কাজকে এই ঘটনার সঙ্গে না জড়ানোর জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। আমি আমার দর্শক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পাশে চাই।’

মামলাটি নিয়ে সবশেষে পূজা চেরীর মন্তব্য, ‘মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে, বিষয়টি বিজ্ঞ আদালত দেখবেন এবং সিদ্ধান্ত নেবেন।’

কেউ এসেছিলেন একা, কেউ সপরিবার। লালগালিচায় তারকাদের টুকরা গল্প নিয়ে এই আয়োজন।

প্রথম অতিথি
ঘড়ির কাঁটায় তখন বিকেল ৪টা ২০ মিনিট। লালগালিচার প্রথম অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী।

[caption id="attachment_272411" align="alignnone" width="622"] লালগালিচার প্রথম অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী।[/caption]

‘অচল’ গল্পে বিশ্বাস
স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র বিভাগে এবার সেরা চিত্রনাট্যকারের পুরস্কার পেয়েছেন সিদ্দিক আহমেদ। আলোচিত ‘তোমাদের গল্প’র জন্য এ পুরস্কার পান তিনি। পুরস্কার গ্রহণ করে ‘অচল’ গল্পে বিশ্বাস রাখার জন্য পরিচালককে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, শুরুতে অনেকেই তাঁর লেখা নিতে চাইতেন না। তিনি বলতেন, ‘অচল গল্প’। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ‘অচল গল্প’ দিয়েই পুরস্কার জিতলেন!

[caption id="attachment_272410" align="alignnone" width="622"] ‘জিম্মি’র জন্য সেরা অভিনেত্রী হয়েছে জয়া আহসান।[/caption]

এত দিন পরে প্রথম
ঢাকা আর কলকাতা মিলিয়ে অনেক সিনেমাতেই অভিনয় করেছেন জয়া আহসান। অথচ তিনিই কিনা প্রথমবারের মতো জিতলেন পুরস্কার! অবাক হবেন না, জয়া প্রথমবার মেরিল–প্রথম আলো পুরস্কার পাননি; পেয়েছেন প্রথমবার ওয়েব সিরিজে অভিনয় করে। গত বছর আশফাক নিপুনের ‘জিম্মি’ দিয়ে সিরিজে অভিষেক, আর সেটা দিয়েই জয়া জিতেছেন সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার। পুরস্কার নিতে নির্মাতা আশফাক নিপুনকে নিয়েই মঞ্চে উঠেছিলেন তিনি।

কন্যার জন্য কন্যা
গত বছর কন্যাসন্তানের বাবা হয়েছেন ইমরান মাহমুদুল। এবার তিনি ‘জ্বীন–৩’ সিনেমার গান ‘কন্যা রে’র জন্য পেয়েছেন সেরা গায়কের পুরস্কার। মঞ্চে উঠে পুরস্কার গ্রহণ করে ইমরান বলেন, ‘“কন্যা রে” গানের জন্য পুরস্কার পেলাম, গত বছর আমিও কন্যাসন্তানের বাবা হয়েছি।’

[caption id="attachment_272412" align="alignnone" width="622"] কেয়া পায়েল।[/caption]

টোলরহস্য
মঞ্চে তখন কেয়া পায়েল। এবার এটা ‘আমাদেরই গল্প’র জন্য সেরা অভিনেত্রী হয়েছেন তিনি। সঞ্চালক নিশো মজা করে বলেন, আগে কেয়ার টোল ছিল একটা, পরে হয়ে গেল দুইটা। কেয়ার টোলরহস্য জানতে চান। মজা করে কেয়াও উত্তর দেন, ‘দুই গালে টোল, লল লল লল।’

‘তিন বছর আগে প্রথম যখন মেরিল-প্রথম আলোতে একদম পিছনে বসেছিলাম, ভয়ে ছিলাম। কারণ, পর্দার সব মানুষগুলো চোখের সামনে। দ্বিতীয়বার আরেকটু ভালো লাগছিল। গত বছর হাজবেন্ডের সঙ্গে এসেছি। সবাই বলত, তোমার হাতেও একটা অ্যাওয়ার্ড দেখতে চাই। আজকের তৃতীয় বছরে এসে পুরস্কারটা আমার হাতে।’ পুরস্কার জেতার পর বলছিলেন শাম্মি ইসলাম নীলা।

পুরস্কার গ্রহণ করে নীলা আরও বলেন, ‘আজ পুরস্কার আমার হাতে। জানি না, এই গল্প কতজনকে অনুপ্রাণিত করবে; কিন্তু আমাকে অনেক অনুপ্রাণিত করবে। আপনাদের কাছে ভালো ভালো কাজ নিয়ে মঞ্চে বারবার ফিরে আসতেই চাই।’

এরপর তিনি ‘ফার্স্ট লাভ’ নির্মাতা হাসিন হোসাইন রাখি, সহ-অভিনেতা তৌসিফ মাহবুবকে ধন্যবাদ জানান। এ ছাড়া কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি।

গত বছরের ২৮ নভেম্বর ক্যাপিটাল ড্রামা ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পায় ‘ফার্স্ট লাভ’। আজ সকাল পর্যন্ত নাটকটির ভিউ ১ কোটি ২৮ লাখের বেশি।

সম্প্রতি বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন দ্বিতীয়বার মা হতে যাচ্ছেন বলে খবর দেন। এরই মধ্যে আরও এক ভারতীয় অভিনেত্রী সুখবর শেয়ার করেছেন। দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায় থাকার কথা জানিয়েছেন পূজা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পূজা বন্দ্যোপাধ্যায়
পূজা বন্দ্যোপাধ্যায়,ছবি: ইনস্টাগ্রাম
 

সম্প্রতি ইউটিউবে প্রকাশিত এক ভ্লগে স্বামী কুণাল ভার্মার সঙ্গে এই সুখবর জানান পূজা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি জানান, তিনি আবার গর্ভবতী। ভ্লগে নিজেই পজিটিভ প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট দেখিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি—যেমনটা সম্প্রতি দীপিকা পাড়ুকোনও সামাজিক মাধ্যমে করেছিলেন।

২০২০ সালের অক্টোবরে পূজা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ভার্মার ঘর আলো করে জন্ম নেয় তাঁদের প্রথম সন্তান কৃষভ। বিয়ের চার বছর পর এবার আবারও নতুন সদস্য আসছে তাঁদের পরিবারে। বর্তমানে নতুন অতিথিকে ঘিরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। ভ্লগে শুধু আনন্দের কথা নয়, এক সন্তান থাকার পর দ্বিতীয় সন্তানের আগমনে যে বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো আসে, সেগুলো নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন এই দম্পতি।
প্রায় এক দশকের সম্পর্কের পর পূজা ও কুণাল ২০২০ সালে আইনি বিয়ে সেরেছিলেন। করোনা মহামারির কারণে সেই সময় বড় অনুষ্ঠান বাতিল করে তাঁরা বিয়ের বাজেট দান করেছিলেন সমাজসেবায়।

দেবের বিপরীতে ‘চ্যালেঞ্জ ২’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন পূজা। তাঁকে আরও দেখা গেছে, ‘রকি’, ‘হইচই আনলিমিটেড’-এর মতো সিনেমায়। ‘পাপ’, ‘ক্যাবারে’ ওয়েব সিরিজেও দেখা গেছে তাঁকে।
‘কাহানি হামারে মহাভারত কি’, ‘তুঝ সাং প্রীত লাগাই সাজনা’–এর মতো হিন্দি সিরিয়ালেও দেখা গেছে পূজাকে। ‘বাংলা ড্যান্স বাংলা ড্যান্সে’র বিচারকও ছিলেন পূজা।

হলিউডের ঝলমলে দুনিয়ায় সৌন্দর্য, সাফল্য আর আত্মবিশ্বাসের মেলবন্ধনে যে কয়েকজন তারকা আজও সমান উজ্জ্বল, তাঁদের অন্যতম অ্যান হ্যাথাওয়ে। ২০২৬ সালে পিপল ম্যাগাজিনের ‘ওয়ার্ল্ডস মোস্ট বিউটিফুল’ কভার স্টার হিসেবে নির্বাচিত হওয়া যেন তাঁর দীর্ঘ পথচলারই এক নতুন স্বীকৃতি। তবে এই দীপ্তির পেছনে রয়েছে নিজের সঙ্গে লড়াই, বদলে যাওয়ার সাহস এবং নিজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তনের গল্প।

কভার শুটের সেটে তখন বাজছে ব্যাড বানি, বিলি আইলিশ, ম্যাডোনা—এই তিন তারকার মিশ্রণে তৈরি প্লে লিস্ট। বাতাসে উড়ছে তাঁর পোশাকের পালক, আলো-ছায়ার খেলায় তৈরি হচ্ছে এক অনায়াস সৌন্দর্য। কিন্তু এই স্বাচ্ছন্দ্য সব সময় ছিল না। একসময় নিজেকেই নিজের সবচেয়ে কঠোর সমালোচক মনে করতেন তিনি।
হ্যাথাওয়ে বলেন, ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি বিশ্বাস করতেন, নিজেকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করলেই তিনি ভালো শিল্পী হতে পারবেন। কিন্তু চল্লিশে পা দেওয়ার পর যেন জীবনের গিয়ার বদলে যায়। তখন আর নিখুঁত হওয়ার চাপে নয়; বরং আনন্দ খুঁজে পাওয়ার দিকেই ঝুঁকেছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘অস্বস্তিকর জীবন আর নয়, আমি এখন শুধু মজার অংশটুকু উপভোগ করতে চাই।’

এ উপলব্ধি আসলে হ্যাথাওয়ের দীর্ঘ ক্যারিয়ারেরই ফল। ২০০১ সালে ‘দ্য প্রিন্সেস ডায়েরিজ’-এর মাধ্যমে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু। এরপর ‘ব্রোকব্যাক মাউন্টেন’, ‘বিকামিং জেইন’-এর মতো শিল্পধর্মী সিনেমা থেকে শুরু করে ‘এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড’ কিংবা ‘লা মিজারেবলস’—সব জায়গাতেই নিজের ছাপ রেখেছেন তিনি। ‘লা মিজারেবলস’-এর জন্য জিতেছেন অস্কারও।

২০২৬ সালটা হ্যাথাওয়ের জন্য বিশেষ ব্যস্ততার। এক বছরে মুক্তি পাচ্ছে তাঁর পাঁচটি সিনেমা, যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ‘দ্য ডেভিল ওয়ারস প্রাডা ২’। প্রায় দুই দশক পর আবারও অ্যান্ডি স্যাকস চরিত্রে ফেরা, এ যেন নস্টালজিয়া আর নতুন অভিজ্ঞতার এক মিশেল। তাঁর সঙ্গে ফিরেছেন আগের সহশিল্পীরাও—মেরিল স্ট্রিপ, এমিলি ব্লান্ট ও স্ট্যানলি টুচি। হ্যাথাওয়ের ভাষায়, এই পুনর্মিলন ছিল ‘আনন্দে ভরা, সুন্দর একটি অভিজ্ঞতা’।

[caption id="attachment_272132" align="alignnone" width="582"] অ্যান হ্যাথওয়ে। এএফপি[/caption]

ব্যক্তিগত জীবনে হ্যাথাওয়ে কৃতিত্ব দেন তাঁর স্বামী অ্যাডাম শুলমানকে। ১৩ বছরের দাম্পত্য জীবন, দুই সন্তান—সব মিলিয়ে তিনি তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভরসা। হ্যাথাওয়ে স্বীকার করেন, এত সাফল্যের পরও জীবনে একটা ‘অবিরাম লড়াই’ থেকে যায়। কিন্তু সেই লড়াইটাকেই তিনি ভালোবাসেন।

সৌন্দর্য সম্পর্কে হ্যাথাওয়ের দৃষ্টিভঙ্গিও আলাদা। তাঁর মতে, ‘সৌন্দর্যের ভেতরে কুৎসিততাও থাকতে পারে, যদি সেখানে সত্য থাকে।’ এ সংজ্ঞা যেন তাঁর নিজের জীবনকেই প্রতিফলিত করে, যেখানে অপূর্ণতা লুকিয়ে না রেখে বরং তাকে গ্রহণ করেই এগিয়ে গেছেন তিনি।

[caption id="attachment_272131" align="alignnone" width="587"] ‘দ্য ডেভিল ওয়ারস প্রাডা ২’–এর প্রিমিয়ারের অ্যান হ্যাথওয়ে। এএফপি[/caption]

শৈশব থেকেই অভিনয়ের প্রতি হ্যাথাওয়ের আগ্রহ। মাত্র তিন বছর বয়সে মঞ্চে মায়ের অভিনয় দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তিনিও একদিন অভিনেত্রী হবেন। তবে পথটা সহজ ছিল না। কৈশোর থেকে ত্রিশের শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেকে অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যেই দেখেছেন। এমনকি কথা বলতেও তাঁর অসুবিধা হতো।

ক্যারিয়ারের শুরুতে সৌন্দর্য নিয়েও ছিল নানা বিভ্রান্তি। কীভাবে নিজের চুল বা লুক ঠিক করতে হবে, এই ‘ভাষা’ বুঝতেই হ্যাথাওয়ের এক দশক লেগে গেছে। এখন অবশ্য তিনি জানেন, নিজের পছন্দ বোঝাতে হলে কল্পনার চেয়ে ছবিই বেশি কার্যকর।

‘দ্য ডেভিল ওয়াররস প্রাডা’র অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে হ্যাথাওয়ে বলেন, সেটি ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম মজার সময়। যদিও তখন তিনি চাপ আর উদ্বেগে ছিলেন, তবু সহশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে আজও আনন্দ দেয়। বিশেষ করে মেরিল স্ট্রিপের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা অপরিসীম, যিনি সব সময় নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে চান।

[caption id="attachment_272130" align="alignnone" width="587"] অ্যান হ্যাথওয়ে। এএফপি[/caption]

বয়স বাড়া নিয়েও হ্যাথাওয়ের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। চল্লিশের পর তিনি বুঝেছেন, জীবনের উত্থান-পতনকে একটু দূরত্ব থেকে দেখার ক্ষমতা তৈরি হয়। আগে যেখানে ছোট ঘটনাও বড় মনে হতো, এখন তিনি অনেক বেশি শান্ত ও স্থির।

নিজের সৌন্দর্যচর্চা নিয়েও হ্যাথাওয়ের সহজ স্বীকারোক্তি আছে। ভালো কিছু খুঁজে নেওয়া—এটাকেই তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। তাঁর মতে, ‘খারাপ পরিবেশ খুব নিষ্ঠুর। এটা ভেতরে নেতিবাচকতা তৈরি করে।’ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

পিপল ডটকম অবলম্বনে

আবার রেশন দুর্নীতি মামলায় ভারতের অভিনেত্রী নুসরাত জাহানকে তলব করল দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। ২৩ এপ্রিল পশ্বিমবঙ্গে প্রথম দফার নির্বাচন। তার আগেই ইডির তরফে ২২ তারিখ সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নায়িকাকে।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, একটি বিশেষ সূত্র ধরে রেশন দুর্নীতি মামলায় অভিনেত্রীর নাম উঠে এসেছে। কয়েক বছর আগে যখন বাংলাদেশে গম পাচারের অভিযোগ উঠেছিল, সে সময়ে নুসরাত জাহান বসিরহাটের সংসদ সদস্য ছিলেন। সে সময়ে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না, সেটা খতিয়ে দেখতেই টালিউড অভিনেত্রীকে আগামী বুধবার ইডির দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কলকাতা না দিল্লি—কোন দপ্তরে হাজিরা দেবেন নুসরাত? সেই বিষয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।

নুসরাত জাহান। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
নুসরাত জাহান। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

শোনা যাচ্ছে, কলকাতায় নয়, বরং দিল্লির এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দপ্তরে হাজিরা দেবেন নুসরাত জাহান। সূত্রের খবর, ২২ এপ্রিল ইডির পক্ষ থেকে কলকাতার দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও অভিনেত্রীই বিশেষ আবেদনের মাধ্যমে দিল্লির ইডি দপ্তরে হাজিরার আরজি জানিয়েছেন।

যশ-নুসরাত দিন কয়েক ধরেই বিদেশে ছুটি কাটাচ্ছেন। মাঝেমধ্যেই তাঁদের ভ্রমণবিলাসের ঝলক দেখা যাচ্ছে নেট–ভুবনে। এমতাবস্থায় ইডির সমন পেলেন নুসরাত জাহান। উল্লেখ্য, অতীতেও ফ্ল্যাট দুর্নীতি মামলায় অভিনেত্রীকে তলব করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
নতুন করে ইডির তলব বিষয়ে অভিনেত্রীর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সংবাদ প্রতিদিন অবলম্বনে