যৌথভাবে এবার ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। ফিফা এবার আয়োজক তিন দেশেই আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ৪ জুলাই হিউস্টন ও ফিলাডেলফিয়ায় বিশেষ আয়োজনও থাকবে। কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী ম্যাচগুলোর আগে পারফর্ম করার জন্য বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করেছে ফিফা।

বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে সঞ্জয়
বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে সঞ্জয়, ছবি: ফেসবুক
 

১২ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসের পার্শ্ববর্তী সোফাই স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকবেন মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরি, ব্ল্যাকপিঙ্ক তারকা লিসা। তাঁদের সঙ্গে এদিন পারফর্ম করবেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে সঞ্জয়।

খবরটি নিশ্চিত করে সঞ্জয় বলেন, ‘জীবনে এমন মুহূর্তের স্বপ্ন দেখা থেকে আজ সেই মঞ্চের অংশ হওয়া—অবিশ্বাস্য অনুভূতি। একজন অভিবাসী সন্তান হিসেবে নিজের ঘরের স্টুডিও থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে পৌঁছানো সত্যিই বিশেষ কিছু।’
সঞ্জয় আরও বলেন, ‘এটা শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়। এটি সেই সব তরুণের প্রতিনিধিত্ব করে, যারা দুই ভিন্ন সংস্কৃতির ভেতর বড় হয়েছে এবং বিশ্বাস করেছে যে তাদের কণ্ঠস্বর অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।’

সঞ্জয় ইতিমধ্যে তাঁর কাজ দিয়ে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার শ্রোতাদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। নিউইয়র্ক টাইমস তাঁকে বিশ্বের অন্যতম পরিচিত দক্ষিণ এশীয় ইলেকট্রনিক সংগীতশিল্পীদের একজন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

কেটি পেরি
কেটি পেরি, রয়টার্স
 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একই দিনে মাঠে নামছে কানাডা। টরন্টোয় প্রথম ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে তাদের ম্যাচে পারফর্ম করবেন কানাডীয় শিল্পী মাইকেল বুবলে, অ্যালানিস মরিসেট ও আলেসিয়া কারা।

১১ জুন অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মেক্সিকোর ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বিশ্বকাপের মূল পর্ব। ওই অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবে মেক্সিকান রক ব্যান্ড মানা, পপ তারকা আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ ও গায়িকা বেলিন্দা। দক্ষিণ আফ্রিকার গায়িকা-গীতিকার টাইলাও থাকবেন এই আয়োজনে।

বিভিন্ন উদ্বোধনী আয়োজনে ভাগ হয়ে পারফর্ম করবেন আরও কয়েকজন আন্তর্জাতিক শিল্পী। তাঁদের মধ্যে আছেন কলম্বিয়ার জে বালভিন, ব্রাজিলের আনিত্তা, ভেনেজুয়েলার ড্যানি ওশান, ফিলিস্তিনি-চিলিয়ান শিল্পী এলিয়ান্না এবং ফ্রান্সের ভেজেড্রিম।

দর্শকদের আগেভাগে স্টেডিয়ামে আনতে ম্যাচ শুরুর ৯০ মিনিট আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু করার পরিকল্পনা করেছে ফিফা। মেক্সিকোর অনুষ্ঠান চলবে ১৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড, আর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার অনুষ্ঠান হবে ১৩ মিনিট করে।

বলিউডের ঝলমলে পর্দার আড়ালে যে বাস্তবতা লুকিয়ে থাকে, সেটাই খোলাখুলি তুলে ধরলেন অভিনেত্রী নওহিদ সাইরুসি। দীর্ঘদিন বড় পর্দায় অনুপস্থিত থাকার পর অবশেষে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন তিনি।

অনুপস্থিতির আড়ালের গল্প
‘আনওয়ার’ দিয়ে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রীকে সাম্প্রতিক সময়ে বড় পর্দায় খুব একটা দেখা যাচ্ছিল না। ভক্তদের কাছ থেকে বারবার একই প্রশ্ন—নতুন কোনো সিনেমা বা শো কবে আসছে? সেই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়েই নিজের অভিজ্ঞতার কথা খুলে বললেন তিনি।

ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে নওহিদ সাইরুসি জানান, অভিনয়জীবনের নানা অঘোষিত শর্তই তাঁকে ধীরে ধীরে দূরে সরিয়ে দিয়েছে ইন্ডাস্ট্রি থেকে।

‘অপ্রয়োজনীয়’ অন্তরঙ্গ দৃশ্যের চাপ
নওহিদ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এখন অনেক ক্ষেত্রেই অভিনয়ের চুক্তি মানেই ধরে নেওয়া হয়—অভিনেত্রীকে চুম্বন বা ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে স্বচ্ছন্দ থাকতে হবে। তাঁর মতে, এই দৃশ্যগুলো অনেক সময় গল্পের প্রয়োজন ছাড়াই জোর করে ঢোকানো হয়।
নওহিদের কথায়, ‘এখন তো প্রায় অকারণেই চুম্বনের দৃশ্য ঢোকানো হয়। আমি এতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। এমনকি না বলার আগেই অনেক কাজ থেকে বাদ পড়তে হয়েছে।’
এ অবস্থান তাঁর ক্যারিয়ারে বড় প্রভাব ফেলেছে বলেও জানান নওহিদ।

নওহিদ সাইরুসি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
নওহিদ সাইরুসি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

পারিশ্রমিক নিয়েও অভিযোগ
শুধু অভিনয়ের শর্তই নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও অসন্তোষের কথা তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। তাঁর অভিযোগ, অনেক প্রযোজক চুক্তি অনুযায়ী পুরো পারিশ্রমিক পরিশোধ করেন না।

নওহিদের ভাষায়, ‘শুটিং শেষ হওয়ার পর প্রায় ২৫ শতাংশ টাকা আটকে রাখা হয়, যা অনেক সময় আর পাওয়া যায় না। নানা অজুহাতে সেই অর্থ আটকে রাখা হয়, যেমন সিনেমা ভালো ব্যবসা করেনি ইত্যাদি।’
নওহিদ সাইরুসি বলেন, ‘আমি আমার কাজ করেছি, কিন্তু টাকা না পেলে কার কাছে বিচার চাইব?’

‘ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের দুনিয়া’ থেকে দূরে
নওহিদ আরও জানান, তিনি কখনোই ইন্ডাস্ট্রির তথাকথিত ‘ইনার সার্কেল’-এর অংশ ছিলেন না। প্রযোজক-অভিনেতাদের নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সঙ্গে মেলামেশা না করায় অনেক সময় ভালো সুযোগ পাননি। ফলে তাঁকে প্রায়ই ছোটখাটো চরিত্র—কারও বোন, কারও ভাবি—এই ধরনের ভূমিকায় সীমাবদ্ধ রাখা হতো, যা করতে তিনি আগ্রহী ছিলেন না।

ইনস্টাগ্রামেই নতুন ঠিকানা
অভিনয়ের বাইরে এসে নওহিদ খুঁজে পেয়েছেন নতুন এক পরিচয়—সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার। ইনস্টাগ্রামে তাঁর জনপ্রিয়তা এখন অনেক বেড়েছে, আর সেটাকেই তিনি নিজের ‘আসল জায়গা’ বলে মনে করছেন।

নওহিদের কথায়, ‘আমি বুঝেছি, ইনস্টাগ্রামই আমার জন্য ঠিক জায়গা। এখানে আমি নিজেকে নিজের মতো করে প্রকাশ করতে পারি।’

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

মাদকাসক্তি নিয়ে নিজের মন্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে বিষয়টি পরিষ্কার করলেন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। তাঁর সঙ্গে যুক্ত অ্যালকোহল-আসক্তি সচেতনতা উদ্যোগ ‘অব দ্য রকস অ্যান্ড আমাহা’ এক বিবৃতিতে জানায়, গণমাধ্যমের একটি অংশ তাঁর বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে।

‘ভুল ব্যাখ্যা উদ্বেগজনক’
গতকাল রাতে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, এই উদ্যোগের সঙ্গে জাহ্নবীর সম্পৃক্ততা ও তাঁর বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’। বিবৃতিটি জাহ্নবী নিজেও তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করেন।
বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, ‘জাহ্নবী কাপুর এই আলোচনায় যুক্ত একজন সহমর্মী ও সহযোগী হিসেবে; তিনি নিজে কখনো আসক্তি বা অ্যালকোহল–নির্ভরতার অভিজ্ঞতার মধ্যে ছিলেন না।’ এ ধরনের ভুল ব্যাখ্যা তাঁর ভূমিকাকে খাটো করে এবং আসক্তির সঙ্গে লড়াই করা মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে অসম্মান করে বলেও উল্লেখ করা হয়।

জাহ্নবী কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
জাহ্নবী কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

ক্লিকবেটের বিরুদ্ধে সতর্কতা
বিবৃতিতে গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ব্যক্তিদের প্রতি দায়িত্বশীলভাবে খবর প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। বলা হয়, আসক্তির মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো শুধু ক্ষতিকরই নয়, এটি সংশ্লিষ্ট মানুষদের প্রতি অসম্মানজনকও।

কী বলেছিলেন জাহ্নবী
এই বিতর্কের সূত্রপাত রাজ সামানির পডকাস্টে দেওয়া জাহ্নবীর এক মন্তব্য থেকে। সেখানে তিনি বলেছিলেন, জীবনের এক কঠিন অভিজ্ঞতার পর তিনি কিছু সময় নিয়মিত মদ্যপান করতেন।

জাহ্নবী কাপুর
জাহ্নবী কাপুর, জাহ্নবী কাপুরের ইনস্টাগ্রাম থেকে

তবে জাহ্নবী পরিষ্কার করেন, ‘আমি বলব না যে আমি আসক্ত ছিলাম বা অ্যালকোহলের অপব্যবহার করতাম, কিন্তু তখন আমি প্রায়ই মদ্যপান করতাম।’
বিষয়টি বুঝে উঠতে সময় লেগেছিল অভিনেত্রীর। ক্রমে বুঝতে পারছিলেন, মদ্যপান তাঁর স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে। সকালবেলায়ও অস্বস্তি হতো তাঁর।

জাহ্নবীর কথায়, ‘আমার স্বাস্থ্যের ওপর যে প্রভাব পড়ছিল, সেটা আমার ভালো লাগছিল না। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর যে অনুভূতি হতো, তা মোটেই সুখকর ছিল না। নিজের শরীর থেকেই এক অদ্ভুত গন্ধ বেরোত। এই গন্ধ আমার খুব পরিচিত ছিল। আমারই এক চেনা ব্যক্তি, যিনি নেশাগ্রস্ত থাকতেন, তাঁর শরীর থেকে এমন গন্ধ বেরোত।’ এভাবেই ক্রমে বুঝলেন, মদ্যপান মোটেই ঠিক নয় স্বাস্থ্যের জন্য। ক্রমে সেই অভ্যাস ত্যাগ করেন অভিনেত্রী।

সামনে কী কাজ
কাজের দিক থেকে জাহ্নবী কাপুরকে পরবর্তী সময়ে দেখা যাবে ‘পেড্ডি’ ছবিতে, যেখানে তাঁর সহ-অভিনেতা রামচরণ। ছবিটি মুক্তি পাবে আগামী ৬ জুন।

কিয়ারাকে দেখা যাবে গীতু মোহনদাসের আলোচিত কন্নড় সিনেমা ‘টক্সিক’–এ। তবে সিনেমাটি থেকে নিজের অভিনীত ঘনিষ্ঠ দৃশ্য বাদ দিতে চান, এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো। গতকাল প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন অভিনেত্রী। এমন কিছু খবরের লিংক শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘একেবারেই বাজে কথা।’

টাইমস অব ইন্ডিয়া, মিড ডেসহ কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ছবির ফাইনাল কাট দেখে কিয়ারা নাকি অস্বস্তি বোধ করেন এবং কিছু অন্তরঙ্গ দৃশ্য বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানান। এমনও বলা হয়, শুরুতে একটি ‘বোল্ড’ রোমান্টিক দৃশ্যে রাজি হলেও, পরে নাকি মত বদলান। এসব দাবি সামনে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান কিয়ারা। এর মধ্য দিয়েই তিনি পরিষ্কার করে দেন—এই খবরের কোনো ভিত্তি নেই।

‘টক্সিক’ সিনেমাটি মুক্তির আগেই একাধিকবার বিলম্বিত হয়েছে। প্রথমে ১৯ মার্চ বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল ‘টক্সিক’-এর। দিনক্ষণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন মুক্তির দিন নির্ধারিত হয়েছে ৪ জুন। শোনা যাচ্ছে, আবার ছবি মুক্তি স্থগিত করা হয়েছে।
এর আগে গত বছর ‘ওয়ার ২’ ছবিতে কিয়ারার বিকিনির দৃশ্য নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছিল। প্রথম সন্তানের মা হওয়ার পর কিয়ারা এখন রয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে।

ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে

কিয়ারা আদভানি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
কিয়ারা আদভানি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

লন্ডনে শুরু হতে যাচ্ছে ২৭তম রেইনবো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। ১৭ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী এই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে পূর্ব লন্ডনের ঐতিহাসিক জেনেসিস সিনেমা হলে।

রেইনবো ফিল্ম সোসাইটির আয়োজনে এবারের উৎসবে বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ৪০টির বেশি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া, ইরান, চীন, ফিলিপাইন ও তাজিকিস্তান।

উৎসবের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশের ‘আগন্তুক’। ছবিটি প্রদর্শিত হবে ১৭ মে দুপুর ১২টায়। আর ২৩ মে সন্ধ্যা ছয়টায় ভারতের ‘স্বার্থপর’ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই আয়োজন।

এবারের উৎসবে বাংলাদেশের মোট ছয়টি চলচ্চিত্র থাকছে। প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হবে ‘আগন্তুক’, ‘নয়া মানুষ’ ও ‘উড়াল’। এর মধ্যে ‘নয়া মানুষ’ দেখানো হবে দ্বিতীয় দিনে এবং ‘উড়াল’ চতুর্থ দিনে।
এ ছাড়া অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে ‘নয়া নোট’, ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ ও ‘পাথর হওয়ার গল্প’।

‘ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ সিনেমার দৃশ্য। ছবি: নির্মাতার সৌজন্যে
‘ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ সিনেমার দৃশ্য। ছবি: নির্মাতার সৌজন্যে
 

উৎসব প্রসঙ্গে রেইনবো ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি আহমাদ মুজতবা জামাল বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই এই উৎসব আয়োজন করা হচ্ছে। আশা করছি, এবারও সফল হবে। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ উৎসবটিকে আরও প্রাণবন্ত করবে।’

উৎসবে অংশ নেওয়া ‘নয়া মানুষ’–এর নির্মাতা সোহেল রানা বয়াতি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের সিনেমা অংশ নিলে গর্ব হয়। ‘নয়া মানুষ’ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দেয়, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ।’

আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রদর্শিত অন্যান্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ইরানের ‘দে লাভড মি’, রাশিয়ার ‘দ্য মিস্ট্রি অব ব্ল্যাক হ্যান্ড’, ভারতের ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’ ও ‘গৃহ প্রবেশ’, চীনের ‘দ্য শোর অব লাইফ’ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ‘ড্রেইনড বাই ড্রিম’। এ ছাড়া ফিলিপাইনের ‘রেপুব্লিকা এনজি পিলিপিনাস’ ও তাজিকিস্তানের ‘মোহি দার’সহ আরও বেশ কিছু চলচ্চিত্র থাকছে তালিকায়।

সমাপনী অনুষ্ঠান ছাড়া জেনেসিস সিনেমা হলে আয়োজিত বাকি সব প্রদর্শনী সাধারণ দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী মৌসুমী অভিনীত ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমাটি নিয়ে মুক্তির আগেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীর তাঁর পরিচালিত কাজটি ১৫ মে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা বলার পর আপত্তি জানিয়েছেন মৌসুমী ও তাঁর স্বামী চিত্রনায়ক ওমর সানী।

আজ রোববার সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ওমর সানী বলেন, ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ মূলত কোনো সিনেমা নয়, এটি একটি নাটক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে শুটিং করা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, দর্শক যেভাবে মৌসুমীকে দেখে অভ্যস্ত, কাজটি সেই প্রত্যাশার সঙ্গে যায় না। তাই তিনি ছবিটির মুক্তি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

মৌসুমী ও ওমর সানি
মৌসুমী ও ওমর সানিসংগৃহীত

একই ভিডিওতে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন মৌসুমী। তিনি জানান, নির্মাতার অনুরোধে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে একটি এক ঘণ্টার নাটকে কাজ করতে রাজি হন এবং কয়েক দফায় শুটিংও করেন। পরে নির্মাতা তাঁকে জানান, ফুটেজ বেশি হওয়ায় এটি টেলিছবি হিসেবে মুক্তি দেওয়া হবে এবং সে অনুযায়ী পারিশ্রমিক নিয়েও আলোচনা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি জানতে পারেন, কাজটি সিনেমা হিসেবে মুক্তি পাচ্ছে এবং সেন্সর সনদও পেয়েছে—যা তাঁর কাছে বিস্ময়কর। মৌসুমীর অভিযোগ, তাঁর অজান্তেই কাজটিকে অন্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তাঁকে ‘কাটপিসের মতো ব্যবহার’ করা হয়েছে, যা তিনি অনৈতিক বলে মনে করছেন।

সিনেমার একটি দৃশ্যে সহশিল্পীর সঙ্গে মৌসুমী। ছবি: ফেসবুক থেকে
সিনেমার একটি দৃশ্যে সহশিল্পীর সঙ্গে মৌসুমী। ছবি: ফেসবুক থেকে

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মৌসুমী চলচ্চিত্র–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন—পরিচালক সমিতি, প্রযোজক সমিতি ও শিল্পী সমিতির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যদিকে ওমর সানী জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোতে চিঠি পাঠিয়েছেন।

মৌসুমী
মৌসুমী
 

ওমর সানী ও মৌসুমীর অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই ভিডিওটি বানাতে মৌসুমী আপাকে বাধ্য করা হয়েছে। এই প্রকল্পে তাঁকে সিনেমার সম্মানী দিয়েই যুক্ত করেছিলাম।’

তবে এর আগে প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ‘কনট্রাক্ট ম্যারেজ’ নিয়ে মৌসুমী বলেছিলেন, ‘হাসান জাহাঙ্গীরের কোনো সিনেমার শুটিং করিনি। তাঁর সঙ্গে দুটি নাটকের কাজ হয়েছে।’

সবকিছু মিলিয়ে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমাটি নির্ধারিত তারিখে মুক্তি পাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ১৫ মে পর্যন্ত। উল্লেখ্য, মৌসুমীকে সর্বশেষ বড় পর্দায় দেখা গেছে ‘সোনার চর’ সিনেমায়।

২০১৪ সালে কমেডি ঘরানার ছবি ‘ফাগলি’ দিয়ে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশের পর ‘এমএস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’ থেকে একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমায় দেখা গেছে কিয়ারা আদভানিকে। ‘কবীর সিং’, ‘শেরশাহ’, ‘সত্যপ্রেম কি কথা’ থেকে ‘গুড নিউজ’–এর মতো আলোচিত সিনেমা করেছেন। সামনে তাঁকে দেখা যাবে গীতু মোহনদাসের আলোচিত কন্নড় সিনেমা ‘টক্সিক’–এ। তবে সিনেমাটি নিয়ে নতুন এক সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

গত বছর ‘ওয়ার ২’ ছবিতে কিয়ারার বিকিনি দৃশ্য নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। আগামী ছবি ‘টক্সিক: দ্য ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন আপস’-এর ক্ষেত্রে খানিক ‘সংযত’ কিয়ারা। সিনেমার ফার্স্ট লুক সাড়া ফেলেছে। এর মধ্যেই বেঁকে বসলেন অভিনেত্রী! অন্তরঙ্গ দৃশ্যে কাঁচি চালানোর অনুরোধ। কাটছাঁট করে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য কিছুটা সংক্ষিপ্ত করার অনুরোধ করেছেন কিয়ারা।

কিয়ারা আদভানি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
কিয়ারা আদভানি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুটিংয়ের পর দৃশ্যগুলো দেখে আপত্তি জানিয়েছেন কিয়ারা। সহ–অভিনেতা যশ ও পরিচালকের কাছে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের দৃশ্যায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুটিংয়ের আগে কিয়ারাকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল কোনো দৃশ্যে তিনি অস্বস্তিবোধ করবেন না। স্বাচ্ছন্দ্য রাখার প্রতিশ্রুতিতেই রোমান্টিক দৃশ্যে অভিনয়ে সম্মতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ফুটেজ দেখার পর নাকি নিজের মত পরিবর্তন করেছেন কিয়ারা।

জানা গেছে, ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে আলাদা করে পরিচালক-অভিনেত্রীর মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। সর্বোপরি যশ বা ‘টক্সিক’ নির্মাতাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এই ছবিতে যশ, কিয়ারা ছাড়াও অভিনয় করেছেন নয়নতারা, হুমা কুরেশিসহ অনেকেই।

সিনেমা মুক্তির আগেই একাধিকবার বিলম্বিত হয়েছে। প্রথমে ১৯ মার্চ বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল ‘টক্সিক’-এর। দিনক্ষণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন মুক্তির দিন নির্ধারিত হয়েছে ৪ জুন। শোনা যাচ্ছে, আবার ছবি মুক্তি স্থগিত করা হয়েছে।

তিন দশকের বেশি মালাইকা–ম্যাজিকে বুঁদ বলিউড। কখনো ‘ছঁইয়া ছঁইয়া’ তো কখনো আবার ‘মুন্নি’র তালে মালাইকা অরোরা আবেদনময়ী রূপে ঝড় তুলেছেন পর্দায়। বয়স পঞ্চাশের গণ্ডি পার হলেও মালাইকার গ্ল্যামারের আগুন যে কমেনি, সেটা বোঝা গেছে গত বছর মুক্তি পাওয়া ‘পয়জন বেবি’ আইটেম গানেই। মালাইকার ফিটনেস আর সৌন্দর্য বরাবরই থাকে আলোচনায়। ৫২ বছর বয়সেও কীভাবে নিজেকে এত ফিট রাখেন, একাধিকবার এই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন মালাইকা। সম্প্রতি একটি টক শোতে বয়সের সঙ্গে সৌন্দর্যের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন মালাইকা।

‘দ্য রাইট অ্যাঙ্গেল শো’তে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, ফিটনেস আর সৌন্দর্যের প্রশংসার মধ্যে কখনো বয়স বাড়ার বিষয়টাকে গুরুত্ব দিয়ে ভেবেছেন? উত্তরে মালাইকা বলেন, ‘একটা সময় ছিল, যখন আমি বয়স নিয়ে ভাবতাম। আবার আমার জীবনে এমন সময়ও এসেছে, যখন আমি এ বিষয়টা নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবিনি। শুধু নিজের কাজটা উপভোগ করি। যেটা করতে ভালো লাগে বা ভালোবাসি, সেটাই করি। আমার মনে হয়, এ মুহূর্তে আমি জীবনের সবচেয়ে সুখী অধ্যায় উদ্‌যাপন করছি। জীবনে এখনো অনেক কিছু করা বাকি আছে। অনেক কিছু করতে চাই, তাই এসব বিষয় এখন আর আমাকে বিশেষ প্রভাবিত করে না।’

মালাইকা অরোরা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
মালাইকা অরোরা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

সাধারণ কোনো নারী হোক বা সেলিব্রিটি, মেয়েদের বয়সের সঙ্গে তাঁদের জীবনের গতিপথের তুলনা করা হয়। কিন্তু ছেলেদের ক্ষেত্রে সেটা কখনোই হয় না। সমাজের এই বৈষম্যের বিরোধিতা করেছেন মালাইকা। তাঁর মতে, একজন নারীকে যেমন অকপটে তাঁর বয়স নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, পুরুষদেরও সেই প্রশ্ন অবশ্যই করা উচিত। মালাইকার মতে, ‘আমি মনে করি এই প্রশ্নগুলো সব সময় নারীদেরই করা হয়। খুব কমই কোনো পুরুষকে এভাবে জিজ্ঞেস করা হয়। একজন নারীকে খুব সহজেই বলা হয়, তোমার জীবনের সেরা সময়ে তুমি এমন ছিলে, এখন এই বয়সে এসে কেমন লাগছে? তুমি কি এখনো নিজেকে সুন্দর মনে করো? আকর্ষণীয় মনে করো? কখনো শুনিনি কোনো পুরুষকে এই ধরনের প্রশ্ন করা হয়েছে।’

বয়স বা সংখ্যার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষের ভাবনা, এমনটাই মনে করেন মালাইকা। অভিনেত্রীর সংযোজন, ‘বাহ্যিক সৌন্দর্যই শেষ কথা নয়। হ্যাঁ, পৃথিবী সেটাই দেখে, কিন্তু এর সঙ্গে মানসিক ও আবেগের দিকটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠার পর সারা দিন কীভাবে কাটবে, আজ মন কী চাইছে—এগুলো আমার কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। শুধু আয়নার দিকে তাকিয়ে ভাবি না যে আমাকে দেখতে কেমন লাগছে। এমন কিছু করতে চাই যে আমাকে, আমার পরিবারকে অনুপ্রাণিত করবে, গর্বিত করবে।’

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

দেশ ছেড়ে প্রবাসজীবন বেছে নেওয়ার পর বাস্তবতা কখনো কখনো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দেয়। বিদেশের প্রেক্ষাপটে সেই গল্প নিয়েই নির্মিত হয়েছে সিনেমা ‘কন্ট্র্যাক্ট ম্যারেজ’। এ  সিনেমায় উঠেছে বিবাহিত নারীর বাংলাদেশে স্বামী রেখে বিদেশে দ্বিতীয় বিয়ের গল্প। এর মধ্য দিয়ে সচেতনতার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

সিনেমার শুটিং বেশ আগেই শেষ হয়েছে। চলতি বছরের মার্চে সিনেমাটি সেন্সর সার্টিফিকেশন সনদ পেয়েছে। ১৫ মে দেশের প্রেক্ষাগৃহে এটি মুক্তি পাবে। এ সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। সিনেমাটির পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এ গল্পের মাধ্যমে নারীদের মর্যাদা ও সম্মানকে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বহু মানুষ বিদেশে যান। পরে কীভাবে তাঁরা টিকে থাকেন, কীভাবে একটু করে সংসার সাজান, সে সংগ্রামের পেছনের গল্পই নিয়ে এ সিনেমা।’

শুটিংয়ের ফাঁকে শিল্পী ও কলাকুশলীদের সঙ্গে মৌসুমী। ছবি: ফেসবুক থেকে
শুটিংয়ের ফাঁকে শিল্পী ও কলাকুশলীদের সঙ্গে মৌসুমী। ছবি: ফেসবুক থেকে

সিনেমার ৮০ শতাংশ গল্পের শুটিং হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। পরবর্তী পোস্টের কাজ দেশে হয়েছে। হাসান জাহাঙ্গীর জানান, এই গল্পগুলোর উপকরণ বাস্তব থেকে নেওয়া। বিদেশের জীবনসংগ্রাম সবারই কম বেশি থাকে। পরিচালক মনে করেন, এই গল্পগুলো দর্শকদের দেখা উচিত। সিনেমাটির মুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দুই ঈদের মাঝামাঝি সময়ে মুক্তির পরিকল্পনা করেছিলাম। এখন আমাদের কাছে ১৫ মে ভালো সময় মনে হচ্ছে। এই সময়েই আমরা মুক্তি দেব। এটি বিদেশেও, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বেশ কিছু দেশে মুক্তি পাবে। আমরা মনে করি, গল্পটি দর্শকদের দেখা উচিত।’

[caption id="attachment_272981" align="alignnone" width="722"] মার্চে সিনেমাটি সেন্সর সার্টিফিকেশন সনদ পায়। ছবি: ফেসবুক থেকে[/caption]
 
 

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রেই আছেন মৌসুমী। পরিচালক জাহাঙ্গীর জানালেন, এরই মধ্যে সিনেমার শুটিং করেছেন। সর্বশেষ মৌসুমীর ‘সোনার চর’ সিনেমা মুক্তি পায়। দীর্ঘ দুই বছর পর মুক্তি পাচ্ছে মৌসুমীর নতুন সিনেমা। এর আগে পরিচালক একই নামে ওয়েব সিরিজের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেটিই এখন সিনেমা হয়ে হলে মুক্তি পাবে। ডন, হাসান জাহাঙ্গীরসহ আরও অনেকে সিনেমায় অভিনয় করেছেন। পরিচালক জানালেন, ঈদে সিনেমাটির টেলিভিশন স্বত্ব বিক্রি করে দিয়েছেন। এটি ঈদেই ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হবে।

বলিউড অভিনেত্রী কারিশমা কাপুরের সাবেক স্বামী সঞ্জয় কাপুরের মৃত্যুর পর তাঁর প্রায় ৩০ হাজার কোটি রুপির সম্পত্তি নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। তাঁর এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির অধিকারী কে হবেন, তা নিয়ে শুরু হয় বিবাদ। দাবিদারদের মধ্যে রয়েছেন সঞ্জয়ের বর্তমান স্ত্রী প্রিয়া কাপুর, মা রানি কাপুর ও দ্বিতীয় স্ত্রী কারিশমা কাপুরের দুই সন্তান সামারা ও কিয়ান। যদিও সঞ্জয়ের বর্তমান স্ত্রী প্রিয়া সম্পত্তির অধিকার অন্য কাউকে দিতে নারাজ। তিনি যেমন মামলা করেছেন, তেমনই প্রিয়ার বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হন কারিশমার দুই সন্তানও। এর পরিপ্রেক্ষিতে বড় রায় দিলেন আদালত।

আগেই কারিশমার দুই সন্তান দাবি করেছেন, প্রিয়া তাঁদের বাবার সম্পত্তি জাল করেছেন। জালিয়াতি করে বানানো নতুন উইলে সম্পত্তি নিয়ে স্পষ্ট তথ্য দেননি। সঞ্জয়ের জমি, বাড়ি ও তাঁর সংস্থা ছাড়াও ছিল দামি দামি ঘোড়া। ছিল বহুমূল্যের সব ঘড়ি, যেগুলোর বাজারমূল্য কয়েক লাখ, কয়েকটি আবার কোটির ঘরে। সম্পত্তিসংক্রান্ত নথিতে এ ধরনের জিনিসের কোনো উল্লেখ করেননি প্রিয়া। যখন উইলটি বানানো হয় সে সময় একবারও কারিশমার দুই সন্তানকে দেখানোর প্রয়োজন পর্যন্ত মনে করেননি তিনি।

কারিশমা কাপুর ও সঞ্জয় কাপুর। কোলাজ
কারিশমা কাপুর ও সঞ্জয় কাপুর। কোলাজ

কিয়ান ও সামারার এই অভিযোগের ভিত্তিতে রায় দিলেন দিল্লির উচ্চ আদালত। গতকাল দেওয়া রায়ে জানানো হয়, সঞ্জয়ের বিদেশের সমস্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ রাখা হবে। ওই অ্যাকাউন্টগুলো থেকে কোনো রকমের আর্থিক লেনদেন করতে পারবেন না প্রিয়া।

এই রায় কারিশমার দুই সন্তানকে যে স্বস্তি দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। এই রায় প্রকাশের পর বোন কারিনা কাপুর খান ইঙ্গিতপূর্ণ একটি পোস্ট দিয়ে লেখেন, ‘আশার আলো, বিচার আমরা পাবই। সত্য প্রকাশ্যে আসবে।’

আদালত আরও নির্দেশ দেন, সঞ্জয় কাপুরের সম্পত্তি অবশ্যই সংরক্ষণ করা প্রয়োজন এবং এগুলো কোনোভাবেই হস্তান্তর কিংবা নষ্ট করা যাবে না। একই সঙ্গে প্রিয়া সচদেব কাপুর যাতে ওই সম্পত্তিগুলো কোনোভাবেই বিক্রি না করতে পারেন, তাতে আদালত একটি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশও জারি করেছেন।

এনডিটিভি অবলম্বনে

গত ২৯ মার্চ মারা যান পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। শোক সামলে কাজে ফিরেছেন তাঁর স্ত্রী ও অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম এই সময়কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী কথা বলেছেন, রাহুলের মৃত্যু থেকে শুরু করে নানা প্রসঙ্গে।

প্রিয়াঙ্কা বলেন, রাহুলের মৃত্যুর পর দ্রুতই কাজে ফিরেছেন তিনি। কাজ অনেকটা থেরাপির মতো কাজ করেছে। অভিনেত্রীর ভাষ্যে, ‘নিজেও জানি না কেমন আছি এই মুহূর্তে। নানা সময়ে নানা রকম আছি। কখনো খুব দুর্বল লাগছে। আবার কখনো নিজেকে খুব স্ট্রং মনে হচ্ছে। কাছের মানুষ, কাজের জায়গা থেকে স্ট্রেংথ খুঁজে নিতে হচ্ছে। অনেকেই জানতে চাইছেন কেমন আছি! এ প্রশ্নের সত্যিই কোনো উত্তর এই মুহূর্তে আমার কাছে নেই। কাজই আমার থেরাপি। কোনো চরিত্র হয়ে ক্যামেরার সামনে এসে যখন দাঁড়াই, সেটা হলো প্রিয়াঙ্কার সবচেয়ে অথেনটিক সত্তা। তখন আমি বাকি সবকিছু সুইচ অফ করে দিই। সে কারণেই কাজটা করতে ভীষণ এনজয় করি। আর আমি তো একা কাজ করি না। অনেকে থাকেন, কাজের একটা আলাদা পরিবেশ থাকে। সব মিলিয়ে আমি কিছুক্ষণের জন্য হলেও সবকিছু থেকে দূরে থাকতে পারি। ঠিক সে জন্য কাজটা করতে আমি ভীষণ এনজয় করি। কাজের চেয়ে ভালো থেরাপি সত্যিই আর অন্য কিছু নেই।’

সন্তান সহজের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা ও রাহুল। ফেসবুক থেকে
সন্তান সহজের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা ও রাহুল। ফেসবুক থেকে

কঠিন সময় সমালে নেওয়া, বিশেষ করে সন্তান সহজকে সামলানো প্রিয়াঙ্কার জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকেই নিজেদের মতো করে সামলে ওঠার চেষ্টা করছি। আমার মনে হয় সেই স্পেসটা দেওয়া সবচেয়ে জরুরি। আমিও কাজে ফিরেছি। সহজও স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে। পড়াশোনা নিয়ে সময় কাটাচ্ছে। আমি সত্যিই জানি না সহজ কেমন আছে। কারণ, আমি যেটাই বলব, সেটা অনুমান করে বলা হবে। সেটা উচিত হবে না। আমি সহজকে সময় দিয়েছি। ওর নিজের ভাবনাগুলোকে একটু গোছাতে শিখুক। সহজের যদি মনে হয় এই সময়টা ও কী ভাবে ডিল করল সেটা বলতে চায়, তখন নিজেই বলুক। তার আগে নয়। আমরা শুধু চেষ্টা করছি একে-অন্যের সঙ্গে বন্ধুর মতো থাকতে। সেটা শুধু সহজ নয়। গোটা পরিবার, কাছের মানুষদের ক্ষেত্রেও সেটা জরুরি। যে যার নিজের মতো করে ফিগার আউট করার চেষ্টা করছি।’

রাহুলের পডকাস্ট ‘সহজ কথা’ আলোচিত হয়েছিল। অনেক ভক্ত অনুরোধ করেছেন প্রিয়াঙ্কা যেন পডকাস্টটি চালিয়ে নিয়ে যান। এ প্রসঙ্গে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘প্রত্যেককে ধন্যবাদ “সহজ কথা”কে এতটা ভালোবাসা দেওয়ার জন্য। এখনো ভালোবাসা পাচ্ছে। আমি ব্যক্তিগত জায়গা থেকে বলছি, এই অনুষ্ঠানে রাহুলের যে ক্রিয়েটিভ কন্ট্রিবিউশন, ওর তৈরি করা বন্ধুত্ব, রাহুলের হিউমার, লেখা, পড়াশোনা এগুলোই থেকে যাক। সহজ কথার সাফল্যের নেপথ্যে রাহুলের অনেক রিসার্চ, পড়াশোনা রয়েছে। যেটা একেবারেই সহজ ছিল না। সেটা আলাদা সম্মান ডিজার্ভ করে। তাই আমি আর সেখানে হাত দেব না।’

পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্য নিয়ে সব সময়ই আলোচনা থাকে। অনেক অভিনয়শিল্পী এ ধরনের দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না, কেউ আবার চরিত্রের প্রয়োজনে আপত্তি করেন না। ইদানীং ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের শুটিং ইন্টিমেসি কো–অর্ডিনেটরের মাধ্যমে করা হলেও একসময় এসবের চল ছিল না। তখন অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিংয়ে ঘটত নানা ঘটনা। সম্প্রতি তেমনই একটি ঘটনার কথা ফাঁস করেছেন অভিনেতা আন্নু কাপুর।

ঘটনা বহু বছর আগের। অভিনেতার দাবি, অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয়ের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন নায়ক। ইউটিউবের একটি শোয়ে এসে অতীতের এক অভিজ্ঞতা ভাগ করে বলেন, ‘আমি দেখেছি, অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করার সময় নায়ক নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছেন। এতটাই যে পরিচালক কাট বলার পরও থামছিলেন না।

কোনো উপায় না দেখে নায়িকা নিজেই কোনোক্রমে সেই পরিস্থিতি থেকে নিজেকে মুক্ত করেন। সেই ঘটনায় নায়িকা বেশ ভয় পেয়ে যান। মন একদম চুরমার হয়ে গিয়েছিল, দুই দিন ঘর থেকে বের হননি।’

তবে কোন সিনেমার শুটিংয়ে এ ঘটনা ঘটেছিল বা অভিনয়শিল্পী কারা ছিলেন, সেটা জানাননি অভিনেতা।

‘সাত খুন মাফ’ সিনেমায় অভিনয় করেন আন্নু কাপুর ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। কোলাজ
‘সাত খুন মাফ’ সিনেমায় অভিনয় করেন আন্নু কাপুর ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। কোলাজ

সে ঘটনা প্রসঙ্গে আন্নু কাপুর আরও বলেন, ‘আমি প্রকাশ্যে নাম বলতে পারব না। তবে ওই অভিনেত্রী এই সাক্ষাৎকার দেখলে আমার বক্তব্যকে সমর্থন করবেন।’
ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে বিরূপ অভিজ্ঞতা আছে আন্নু কাপুরেরও। সেটা ২০১১ সালে, ‘সাত খুন মাফ’ সিনেমার। চিত্রনাট্য অনুযায়ী একটি চুম্বনদৃশ্যে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও আন্নু কাপুরের অভিনয়ের কথা ছিল। কিন্তু ‘দেশি গার্ল’-এর সম্মতি ছিল না।

সে প্রসঙ্গে আন্নু বলেন, ‘বিশাল (সিনেমার পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজ) বলেছিলেন, দৃশ্যটি গল্পের জন্য জরুরি, তাই বাদ দেওয়া যাবে না। পরে টিমের তরফে জানানো হয়, তিনি (প্রিয়াঙ্কা) স্বচ্ছন্দ নন। আমার কোনো সমস্যা ছিল না কিন্তু কীভাবে যে খবরটা ছড়িয়ে পড়েছিল, সেটা আজও জানি না। পেশাদার অভিনেতা হিসেবে আমি সব সময় এ ধরনের দৃশ্যে অভিনয় করি। যদি কোনো অভিনেত্রী নার্ভাস থাকেন, আমি শুধু জিজ্ঞেস করি তিনি ঠিক আছেন কি না। এর বেশি কিছু জিজ্ঞেস করি না। কারণ, তাতে তিনি আরও অস্বস্তিতে পড়তে পারেন।’

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে