শুটিংয়ের কারণে দেশের পাশাপাশি বিদেশেও কেটেছে ঈদের দিন। তা-ও একাধিকবার। আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের মতো ঈদের আনন্দ পৃথিবীর আর কোথাও নেই। শৈশবের ঈদ, অভিনয়জীবনের ঈদ, আর এবার সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালনের মধ্য দিয়ে কাটানো ঈদুল আজহা—সব মিলিয়ে ঈদ আমার কাছে স্মৃতি, ভালোবাসা আর ত্যাগের গল্প।

ছোটবেলার ঈদ

পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় কেটেছে আমার শৈশব। তখন ঈদ মানেই ছিল উৎসবের অপেক্ষা। কোরবানির ঈদের (ঈদুল আজহা) চেয়ে রোজার ঈদই (ঈদুল ফিতর) আমাকে বেশি টানত। ঈদের চাঁদ দেখার অপেক্ষা, নতুন জামা পরার আনন্দ—সবকিছু ঘিরে অন্য রকম উচ্ছ্বাস কাজ করত।

আর কোরবানির ঈদে ছোটবেলায় মন কিছুটা খারাপ থাকত। তবে কোরবানির মাংস বিলি করাটা বেশ উপভোগ করতাম। আনন্দ নিয়েই কাজটা করতাম। বড় হয়ে, বিয়ের পর সেই কাজটা আমি আরও বেশি দায়িত্ব নিয়ে করতাম।

কোরবানির ঈদে আমাদের বাসায় গরু ও ছাগল দুটোই কোরবানি হতো। হাট থেকে কিনে আনার পর আমি গরু-ছাগল খুব আদর করতাম। আমি তিন বোনের পরিবারে বড় হয়েছি। দুজন আমার বড়। তাই সুচন্দা আপা ও ববিতা আপার আদরের ছিলাম।

পর্দার তারকা হলেও ঘরের কাজে কখনো ছাড় পাইনি। তিন বোনই সিনেমার কাজের বাইরে ঘরের কাজে সহযোগিতা করতাম। রান্নাবান্না থেকে শুরু করে সংসারের নানা কাজ করতাম। ঈদ এলে আমার ওপর পড়ত মাংস বণ্টনের দায়িত্ব।

আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী থেকে শুরু করে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে কোরবানির মাংস পৌঁছে দেওয়ার কাজটি আমাকে করতে হতো। বিয়ের পর নিজের সংসারেও সেই দায়িত্বই পালন করেছি।

শৈশবের ঈদের সবচেয়ে উজ্জ্বল স্মৃতিগুলোর একটি হলো নতুন পোশাক, মাথার ফিতা, চুড়ি আর জুতা ঘিরে। বাবা নতুন জামা-জুতা কিনে না দিলে ঈদ পূর্ণই হতো না। বলতাম, নতুন জামা, মাথার ফিতা, হাতের চুড়ি আর নতুন জুতা আমার চাই-ই চাই। একদম নাছোড়বান্দা ছিলাম।

কোরবানির ঈদ আমার জন্য তিন দিন চলত। তাই তিন দিনের জামাকাপড় চাই। রোজার ঈদ অবশ্য আরও বেশি, পাঁচ দিন। ঈদের আগের রাতে জামা বালিশের নিচে আর জুতা পাশে রেখে ঘুমাতাম।

তারপর একটু পরপর ঘুম থেকে উঠে দেখতাম, সব ঠিক আছে কি না। জামা আছে তো, জুতা আছে তো, ফিতা আছে তো—এসব দেখেই আবার ঘুমাতাম। কখন ভোর হবে, সকাল হচ্ছে না কেন—অস্থির হয়ে থাকতাম।

নায়িকার ঈদ

অভিনয়জীবনে ঈদ মানেই ছিল নতুন সিনেমা মুক্তির আনন্দ। ঈদের দিন হলে না গেলেও পরদিন বোরকা পরে দর্শকের ভিড়ে বসে নিজের সিনেমা দেখতাম। কখনো নাজ, কখনো মধুমিতা কিংবা মিরপুরের সনি সিনেমা হল—প্রতিটি হলে আলাদা স্মৃতি আছে আমার।

অভিনয়জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঈদগুলোর একটি কেটেছিল ভারতের ওডিশায়। সঠিক সময়টা মনে নেই, কিন্তু মনে আছে সেটা নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি। আমি তখন কাজ করছিলাম সন্দীপ রায় পরিচালিত টার্গেট সিনেমায়। ছবিতে আমার সহশিল্পী ছিলেন ওম পুরী। কোরবানির ঈদের দিনও চলছিল শুটিং।

ইউনিটের সবাই এত আন্তরিক ছিলেন যে আমাকে কখনোই বিদেশে আছি, এমনটা বুঝতে দেননি। শুটিং পেছানোর সুযোগ থাকলেও আমি নিজেই কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। মনে হয়েছিল, ঈদ তো জীবনে আবার আসবে।

নায়িকা হওয়ার পর ঈদের দিন হলে না গেলেও পরদিন বোরকা পরে দর্শকের ভিড়ে বসে নিজের সিনেমা দেখতেন চম্পা
নায়িকা হওয়ার পর ঈদের দিন হলে না গেলেও পরদিন বোরকা পরে দর্শকের ভিড়ে বসে নিজের সিনেমা দেখতেন চম্পা
 

কিন্তু এত মানুষের শিডিউল একবার নষ্ট হলে সেটি মেলানো কঠিন। তাই কাজটাকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছিল। সেবার ঈদের দিনেও কাজ করেছিলাম।

আমার কাছে কোরবানির ঈদ শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি জীবনের গভীর এক শিক্ষা। ত্যাগ, ভালোবাসা আর ভাগাভাগির শিক্ষা। এই ঈদ আমাদের শেখায়, মানুষ তার সবচেয়ে প্রিয় ও মূল্যবান জিনিসও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ করতে পারে।

সেই ত্যাগের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে আত্মশুদ্ধি, বিনয় ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়ার এক সুন্দর বার্তা। কোরবানির মাধ্যমে শুধু একটি পশু উৎসর্গ করা হয় না, বরং মানুষের ভেতরের অহংকার, লোভ ও স্বার্থপরতাও ত্যাগের প্রতীকী চর্চাও হয়। সেই ত্যাগের আনন্দই শেষ পর্যন্ত সমাজে সহমর্মিতা, ভাগাভাগি আর মানবিকতার সম্পর্ক আরও সুন্দর করে তোলে।

এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা আমার জীবনে বিশেষ আনন্দ নিয়ে এসেছে। বহুদিনের স্বপ্ন ছিল হজ পালন করার। নানা কারণে কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েও যাওয়া হয়নি। অবশেষে এবার সৌদি আরবে হজ পালন করতে এসেছি।

পরিবারের সদস্যরাও আমার সঙ্গে আছে। মনে হচ্ছে, জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ঈদটা এবারই কাটতে যাচ্ছে। পরিবারের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে অন্য রকম এক অনুভূতির মধ্যে আছি।

অনুলিখন: মনজুর কাদের

ভারতের পাঞ্জাবি গায়িকা ইন্দর কৌরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার লুধিয়ানার একটি খাল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১৩ মে থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

কে এই ইন্দর কৌর
পাঞ্জাবি সংগীতের জনপ্রিয় শিল্পীদের একজন তিনি। ‘আফগান জট্টি’, ‘সোহনা লাগদা’, ‘লানেদারনি’, ‘দেশি সিরে দে’, ‘সোনে দি ওয়াং’সহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গান গেয়েছেন ইন্দর কৌর।
গানের পাশাপাশি মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবেও কাজ করতেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন। ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারী প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার।

 

ইন্দর কৌরের সঙ্গে কী ঘটেছিল

তাঁর ভাই জোটিন্দর সিং পুলিশের কাছে করা অভিযোগে বলেন, ১৩ মে রাত সাড়ে আটটার দিকে বাজার করতে বাড়ি থেকে বের হন ইন্দর কৌর। তিনি আর না ফেরায় পরিবার মোগার ভালুর গ্রামের বাসিন্দা সুখবিন্দর সিং ওরফে সুখাকে সন্দেহ করে।
পরিবারের অভিযোগ, সুখবিন্দর তাঁকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। অভিযোগে বলা হয়, প্রায় তিন বছর আগে ইনস্টাগ্রামে তাঁদের পরিচয় হয় এবং পরে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। কিন্তু সুখবিন্দর যে আগে থেকেই বিবাহিত এবং তাঁর সন্তান রয়েছে, তা জানার পর ইন্দর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

পুলিশের সন্দেহ, ১৩ মে সুখবিন্দর ও তাঁর সহযোগীরা ইন্দর কৌরের গাড়ির পথরোধ করে অস্ত্রের মুখে তাঁকে অপহরণ করে। পরে তাঁকে হত্যা করে মরদেহ নীলো খালে ফেলে দেওয়া হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, হত্যাকাণ্ডের আগে আগে তিনি কানাডা থেকে নেপাল হয়ে পাঞ্জাবে আসেন এবং হত্যার পর একই পথে আবার কানাডায় পালিয়ে যান।

 

কৌরের মরদেহ উদ্ধার করে সামরালার সিভিল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, সময়মতো ব্যবস্থা নিলে হয়তো তাঁর জীবন বাঁচানো যেত। পরিবার জানায়, ১৫ মে জামালপুর থানায় সুখবিন্দর সিং ও তাঁর সহযোগী করমজিৎ সিংয়ের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল।

থানার কর্মকর্তা বলবীর সিং বলেন, সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্ত ও পলাতক সহযোগীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে

‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ দিয়ে বাংলাদেশের সিনেমায় অভিষেক হয়েছে কলকাতার অভিনেত্রী জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডুর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সরব এই অভিনেত্রী। ছবিতে ছবিতে জেনে নেওয়া যাক তাঁর সম্পর্কে কিছু তথ্য—

গোলাপি শাড়িতে একগুচ্ছ নতুন ছবি পোস্ট করেছেন জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
গোলাপি শাড়িতে একগুচ্ছ নতুন ছবি পোস্ট করেছেন জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
 
ছবিগুলো বেশ পছন্দ করেছেন ভক্তরা। একজন লিখেছেন, ‘শাকিবের পরী।’ অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
ছবিগুলো বেশ পছন্দ করেছেন ভক্তরা। একজন লিখেছেন, ‘শাকিবের পরী।’ অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
‘প্রিন্স’ ছবিতে শাকিবের দুই নায়িকার একজন ছিলেন জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু। ছবির একটি গান ছিল ‘পরী’। মন্তব্যে সেটাই বোঝাতে চেয়েছেন ভক্ত। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
‘প্রিন্স’ ছবিতে শাকিবের দুই নায়িকার একজন ছিলেন জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু। ছবির একটি গান ছিল ‘পরী’। মন্তব্যে সেটাই বোঝাতে চেয়েছেন ভক্ত। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
 
২০২৪ সালে ‘বঁধুয়া’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে টেলিভিশনে প্রথম অভিনয় করেন জ্যোতির্ময়ী। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
২০২৪ সালে ‘বঁধুয়া’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে টেলিভিশনে প্রথম অভিনয় করেন জ্যোতির্ময়ী। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
 
তারপর ২০২৫ সালে দেবের বিপরীতে ‘প্রজাপতি ২’ সিনেমায় বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
তারপর ২০২৫ সালে দেবের বিপরীতে ‘প্রজাপতি ২’ সিনেমায় বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
 
 
সামনে নতুন বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পে দেখা যাবে জ্যোতির্ময়ীকে। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
সামনে নতুন বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পে দেখা যাবে জ্যোতির্ময়ীকে। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

‘কিছু ঘটনা মানুষ কখনো ভুলে যেতে পারে না—সময় কেবল তাকে চুপ করে বাঁচতে শেখায়’। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে নিজের শৈশবের ভয়াবহ তেমন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী প্রিয়ন্তী উর্বী। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, ছোটবেলায় আপত্তিকর স্পর্শের শিকার হয়েছিলেন। যে স্মৃতি আজও তাঁকে তাড়া করে ফেরে।

প্রিয়ন্তী উর্বী। ছবি: ফেসবুক থেকে
প্রিয়ন্তী উর্বী। ছবি: ফেসবুক থেকে
 

ফেসবুক স্ট্যাটাসে প্রিয়ন্তী উর্বী লিখেছেন, ‘কিছু ঘটনা মানুষ ভুলে যায় না, শুধু চুপ করে বাঁচতে শিখে। আমিও শিখেছিলাম। তাই নিজেকে সব সময় ব্যস্ত রাখি, যেন মাথার ভেতরের শব্দগুলো একটু শান্ত হয়।

‘কিন্তু যখনই কোনো শিশুর অ্যাবিউডজ কিংবা রেপের খবর দেখি, আমি ভেতর থেকে ভেঙে পড়ি। কারণ, ছোটবেলায় আমিও ইনঅ্যাপ্রোপিয়েট টাচ (আপত্তিকর স্পর্শ) এর শিকার হয়েছিলাম।’

প্রিয়ন্তী উর্বী। ছবি: ফেসবুক থেকে
প্রিয়ন্তী উর্বী। ছবি: ফেসবুক থেকে
 

সে ঘটনা প্রসঙ্গে প্রিয়ন্তী উর্বী আরও লিখেছেন, ‘তখন বুঝতাম না, ঠিক কী হচ্ছে, শুধু মনে হতো, এটা স্বাভাবিক না। আব্বু-আম্মু তো কখনো এভাবে ধরেনি। আজ ভাবি, ৪-৫ বছরের একটা বাচ্চার মনে কতটা ভয় ঢুকে যায় এসব থেকে। কত প্রশ্ন, কত অস্বস্তি, কত-না বলা কান্না জমে থাকে বছরের পর বছর।’

সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দেশে সব শ্রেণির মানুষ প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। বিচার চাইছেন। এ ঘটনায় অনেক তারকাই প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। সে ঘটনা নিয়েই নিজের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেছেন এই অভিনেত্রী।

প্রিয়ন্তী উর্বী। ছবি: ফেসবুক থেকে
প্রিয়ন্তী উর্বী। ছবি: ফেসবুক থেকে
 

উর্বী লিখেছেন, ‘আমি আজও বিশ্বাস করি রেপিস্ট আর অ্যাবিউজারদের কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত। কারণ, তারা শুধু একটা মানুষকে না, একটা শিশুর নিরাপত্তাবোধ, বিশ্বাস আর শৈশবকে মেরে ফেলে। আর একটা জিনিস আমি খুব বিশ্বাস করি, মানুষের কর্মের ফল একদিন না একদিন এই পৃথিবীতেই ফিরে আসে। আল্লাহ সব দেখেন।’

সবশেষে প্রিয়ন্তী উর্বী লিখেছেন, ‘আজ খুব আব্বুকে মিস করছি। শুটিং, কাজ, ব্যস্ততা সবকিছুর মাঝেও মাঝে মাঝে মনে হয়, কোথাও হারিয়ে যাই, এমন একটা জায়গায় যেখানে কেউ আমাকে চেনে না। হয়তো সেখানে একটু শান্তি পাওয়া যেত।’

তিনটি ব্যর্থ বিয়ে নিয়ে এবার খোলামেলা কথা বললেন মালয়ালম অভিনেত্রী মীরা বাসুদেবান। ৪৪ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী জানিয়েছেন, জীবনের ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ বছর তিনি ‘তিনটি বিয়ের পেছনে নষ্ট’ করেছেন। এই তিন বিয়ে জীবনটাই ধ্বংস করে দিয়েছে। তাঁর কথায়, সেই সময়টুকু যদি নিজের ক্যারিয়ার, পরিবার বা ব্যক্তিগত উন্নয়নে ব্যয় করতেন, তাহলে জীবন অন্য রকম হতে পারত।

২০০৩ সালে ‘রুলস: পেয়ার কা সুপারহিট ফরমুল’ মিলিন্দ সুমনের বিপরীতে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পান মীরা। পরে মালয়ালম সিনেমায় নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেন তিনি। বিশেষ করে ‘থানমাথরা’ ছবিতে মোহনলালের সঙ্গে তাঁর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

সম্প্রতি ধন্যা বর্মাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আক্ষেপের সুরে মীরা বলেন, ‘আমি প্রায়ই আমার ছেলেকে বলি, আমি জীবনের ১৭টি বছর তিনটি বাজে বিয়েতে নষ্ট করেছি। ওই সময়টায় আমি আরও অনেক কিছু অর্জন করতে পারতাম, যদি বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজ করতাম। সিনেমা, ফিটনেস বা নিজের জন্য একটা ভালো সামাজিক পরিমণ্ডল গড়ে তোলার দিকে মন দিতে পারতাম।’
মীরা আরও বলেন, ‘আমি জীবনে আরও অনেক কিছু করতে পারতাম, কিন্তু পারিনি। বাবা, মা আর বোনের সঙ্গে অনেক সময় কাটাতে পারতাম। কিন্তু তার বদলে আমি সেই সময় অন্যদের জন্য নষ্ট করেছি। এমন কিছু সম্পর্কের পেছনে সময় দিয়েছি, যেখানে আমাকে কখনোই গুরুত্ব বা সম্মান দেওয়া হয়নি।’

মালয়ালম অভিনেত্রী মীরা বাসুদেবান। ইনস্টাগ্রাম থেকে
মালয়ালম অভিনেত্রী মীরা বাসুদেবান। ইনস্টাগ্রাম থেকে

এটাই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিকবার নিজের ব্যর্থ দাম্পত্য জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন মীরা। চলতি বছরের শুরুতে মুভি ওয়ার্ল্ড মিডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আগেই মেনে নিয়েছিলাম যে এসব ঘটনা ঘটবে। আমি ভুল করেছি, আর সেটা লুকানোর কিছু নেই। এখন আমাকে নিজের জীবন নিয়ে সামনে এগোতে হবে। বর্তমানে আমি ক্যারিয়ার নিয়ে খুব ব্যস্ত এবং জীবনে খুব সুখী। এখন আমি জীবনের খুব সুন্দর একটা পর্যায়ে আছি।’

মীরার প্রথম বিয়ে হয়েছিল ২০০৫ সালে চিত্রগ্রাহক অশোক কুমারের ছেলে বিশাল আগারওয়ালের সঙ্গে। তবে সেই সম্পর্ক টেকেনি, ২০১০ সালের জুলাইয়ে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর ২০১২ সালে মালয়ালম অভিনেতা জন কোক্কেনকে বিয়ে করেন তিনি। এই দম্পতির একটি ছেলেসন্তানও রয়েছে। কিন্তু ২০১৬ সালে তাঁদের সম্পর্কেরও ইতি ঘটে।

এরপর ২০২৪ সালের মে মাসে চিত্রগ্রাহক ভিপিন পুথিয়ানকমের সঙ্গে তৃতীয়বারের মতো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মীরা। কিন্তু সেই সম্পর্কও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০২৫ সালের আগস্টে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়।

অভিনয়জীবনে মীরা কাজ করেছেন একাধিক আলোচিত ছবিতে। এর মধ্যে রয়েছে ‘উরুভান’, ‘একানথাম’, ‘কুট্টামামা’, ‘থাক্কল’ ইত্যাদি।

কান চলচ্চিত্র উৎসবে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নির্মাতা নিকোলাস উইন্ডিং রেফন। গত সোমবার মধ্যরাতে তাঁর নতুন সিনেমা ‘হার প্রাইভেট হেল’ ঝড় তুলেছে দর্শকদের মধ্যে। নগ্নতা, রক্তাক্ত খুন, মানসিক ট্রমা আর বিকৃত সম্পর্কের মিশেলে তৈরি এই নিয়নরঙা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার শেষ পর্যন্ত পায় টানা ৭ মিনিটের দাঁড়িয়ে অভিবাদন।

প্রদর্শনীর পর আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন ছবির প্রধান অভিনেত্রী সোফি থ্যাচার। নির্মাতা রেফন তখন পুরো হল ঘুরে দর্শকদের আরও জোরে হাততালি দিতে উৎসাহ দিচ্ছিলেন।

বৃষ্টিভেজা রাতে উন্মাদনা
গতকাল রাতে কান উৎসবের গ্র্যান্ড প্যালেসে সিনেমাটির প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। ভারী বৃষ্টির মধ্যেই লালগালিচায় হাজির হন চার্লস মেলটন, সোফি থ্যাচার, হাভানা রোজ লুই, ক্রিস্টিন ফ্রসেথসহ অন্য তারকারা। ছবির প্রদর্শনী শেষ হতেই পুরো হল দাঁড়িয়ে করতালি দিতে শুরু করে। সেই মুহূর্তে চোখের জল লুকাতে পারেননি সোফি থ্যাচার।

‘আমি ২৫ মিনিট মৃত ছিলাম’
দীর্ঘ অভিবাদনের পর মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা জানান নিকোলাস উইন্ডিং রেফন। তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে তিনি ২৫ মিনিটের জন্য মৃত্যুর মুখে চলে গিয়েছিলেন। পরে বিদ্যুৎ–চিকিৎসার মাধ্যমে তাঁকে ফিরিয়ে আনা হয়।

কানের লালগালিচায় ‘হার প্রাইভেট হেল’–এর পরিচালক ও অভিনয়শিল্পীরা
কানের লালগালিচায় ‘হার প্রাইভেট হেল’–এর পরিচালক ও অভিনয়শিল্পীরা

রেফনের ভাষায়, ‘এ ধরনের অভিজ্ঞতা একজন মানুষকে বদলে দেয়। এখন আমি জানি, বেঁচে থাকার সময় খুব সীমিত। তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত পুরোপুরি উপভোগ করতে চাই।’

এরপর গম্ভীর পরিবেশ ভেঙে নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে অভিনেতাদের ‘আকর্ষণীয় উপস্থিতি’ নিয়েও মজা করেন তিনি। বিশেষ করে চার্লস মেলটনের শারীরিক গঠন নিয়ে মন্তব্য করে হাসির রোল তোলেন হলে।

কানের লালগালিচায় ‘হার প্রাইভেট হেল’ অভিনেত্রী সোফি থ্যাচার। আইএমডিবি
কানের লালগালিচায় ‘হার প্রাইভেট হেল’ অভিনেত্রী সোফি থ্যাচার। আইএমডিবি
 

সিনেমার গল্প
‘হার প্রাইভেট হেল’–এ সোফি অভিনয় করেছেন এক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত চলচ্চিত্র তারকার চরিত্রে। তাঁর জীবনে নতুন সংকট তৈরি হয়, যখন তাঁর সবচেয়ে কাছের বান্ধবী বিয়ে করেন তাঁর বাবাকে।

একই সময়ে শহরে শুরু হয় ভয়াবহ সিরিয়াল কিলিং। রহস্যময় এক খুনি—‘দ্য লেদার ম্যান’—তরুণীদের হত্যা করতে থাকে। খুন হওয়ার আগে ভুক্তভোগীরা চিৎকার করে শুধু একটি শব্দ উচ্চারণ করে, ‘ড্যাডি!’
অন্যদিকে চার্লস অভিনয় করেছেন এক সেনাসদস্যের চরিত্রে, যার মেয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। এরপর শুরু হয় তার প্রতিশোধের অভিযান।

‘রাজনীতিবিদেরা পৃথিবী নষ্ট করেছে’

ভাষণের শেষ দিকে সিনেমা হলকে মানুষের একত্র হওয়ার শেষ জায়গা বলেও মন্তব্য করেন রেফন। তাঁর ভাষায়, ‘রাজনীতিবিদেরা পৃথিবী নষ্ট করেছে, যুদ্ধ লাগিয়েছে, মানুষের অর্থ লুট করেছে। এখন মানুষকে এক করতে পারে শুধু শিল্প।’
রেফন আরও বলেন, ‘সিনেমা মানে শুধু আইফোনে একা বসে কিছু দেখা নয়; সিনেমা মানে একসঙ্গে বসে একই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া।’

নিয়নের সঙ্গে কান জয়যাত্রা
সিনেমাটির পেছনে রয়েছে নিওন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কান উৎসবে সবচেয়ে সফল পরিবেশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি এটি। যদিও ‘হার প্রাইভেট হেল’ প্রতিযোগিতা বিভাগের বাইরে প্রদর্শিত হয়েছে, তবু সিনেমাটি ইতিমধ্যে উৎসবের অন্যতম আলোচিত ছবি হয়ে উঠেছে।

রেফন এর আগে কান উৎসবে ‘ড্রাইভ’–এর জন্য সেরা পরিচালকের পুরস্কার জিতেছিলেন। পরে ‘অনলি গড ফরগিভস’ ও ‘দ্য নিওন ডেমন’–এর মতো বিভাজিত প্রতিক্রিয়ার সিনেমা বানিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রেও ছিলেন তিনি।

দীর্ঘ ১০ বছর পর আবার বড় পর্দায় ফিরলেন এই ড্যানিশ নির্মাতা। আর ফিরে এসেই কান উৎসবে তৈরি করলেন নতুন আলোড়ন।

ভ্যারাইটি অবলম্বনে

যৌনপল্লির মেয়েদের জীবন একদিকে যেমন রঙিন, তেমন অন্যদিকে রয়েছে শূন্যতার গল্প। এমন মানুষের গল্প খুব একটা সামনে আসে না। আড়ালেই থেকে যায় তাঁদের জীবনের কথা। এমন মানুষের জীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘রঙবাজার’ এবার প্রকাশ্যে এল।

কেউ বছরের পর বছর জড়িত এই যৌনকাজে, কেউ সবে এসেছেন। এ ছাড়া দেশের নানা প্রান্ত থেকে অনেক মেয়েকে বিক্রি করা হয় এই যৌনপল্লিতে, যাঁদের সবারই আলাদা আলাদা গল্প। সেগুলো সিনেমায় উঠে এসেছে। একসময় তাঁদের জীবন কঠিন বাস্তবতার মধ্যে পড়ে। সেই সিনেমা এ বছর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। সিনেমার পরিচালক রাশিদ পলাশ জানান, সিনেমাটি দর্শকদের জন্য এবার লাইভ টেকনোলজিসের ‘সিনেম্যাটিক’ অ্যাপে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

সিনেমায় যৌনকর্মীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন তানজিকা আমিন, মৌসুমী হামিদসহ অনেকে। ছবি: সংগৃহীত
সিনেমায় যৌনকর্মীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন তানজিকা আমিন, মৌসুমী হামিদসহ অনেকে। ছবি: সংগৃহীত

পলাশ বলেন, ‘পৃথিবীর আদিমতম একটি গল্প আমরা বলছি। হাজার বছরের পুরোনো গল্পটি আমরা বলছি। কারণ, পুরো পৃথিবীতে যৌনবৃত্তি শুধু শরীরে নয়, এটা মগজেও; সেটাই আমরা গল্পে দেখিয়েছি। সিনেমাটি দেখে দর্শকদের ভালো লাগবে। এর মধ্যে মানবিকতার ছোঁয়া ও জীবন রয়েছে।’ এটি ওটিটিতে গতকাল রোববার মুক্তি পায়।

সিনেমার একটি দৃশ্যে মৌসুমী হামিদসহ অন্যরা। ছবি: পরিচালকের সৌজন্যে
সিনেমার একটি দৃশ্যে মৌসুমী হামিদসহ অন্যরা। ছবি: পরিচালকের সৌজন্যে

‘রঙবাজার’ সিনেমায় যৌনকর্মীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন তানজিকা আমিন। তিনি চরিত্রটি নিয়ে এর আগে গণমাধ্যমে বলেছিলেন, ‘ব্রোথেলের নারীদের জীবন দেখতে অনেক রঙিন মনে হয়, কিন্তু বাইরে ফাঁকা। ব্রোথেলের নারীদের জীবনের গল্প নিয়েই এই সিনেমা। এখানে আমি নিজেও একজন যৌনকর্মীর চরিত্রে অভিনয় করেছি। সিনেমাটি দর্শকদের দেখা উচিত। আমার মনে হচ্ছে দর্শক দেখবে।’

সিনেমার একটি দৃশ্যে  তানজিকা আমিন। ছবি: পরিচালকের সৌজন্যে
সিনেমার একটি দৃশ্যে তানজিকা আমিন। ছবি: পরিচালকের সৌজন্যে
 

ছবিটির নির্মাতা রাশিদ পলাশ জানান, ‘মূলত একটি যৌনপল্লি উচ্ছেদের ঘটনা নিয়েইআমাদের গল্প।’ সিনেমায় একজন নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন জান্নাতুল পিয়া।

বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন শম্পা রেজা, নাজনীন চুমকী, মৌসুমী হামিদ, লুৎফর রহমান জর্জ, বড়দা মিঠু, শাজাহান সম্রাট। সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন গোলাম রাব্বানী। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে লাইভ টেকনোলজিস।

অভিনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া তামিল তারকা বিজয়ের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই আলোচনায় ছিলেন তৃষা কৃষ্ণান। তাঁর নতুন সিনেমা নিয়েও আগ্রহ ছিল সিনেমাপ্রেমীদের। আপাতদৃষ্টে মনে হচ্ছে প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছেন অভিনেত্রী। কারণ, মুক্তির পরেই বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে সিনেমাটি।
দীর্ঘ প্রতীক্ষা, মুক্তি-জট আর ব্যক্তিজীবনের গুঞ্জন—সবকিছু ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রেক্ষাগৃহে এসেছে ‘কারুপ্পু’। আর মুক্তির পর থেকেই তামিল সিনেমাপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ছবিটি।

মাত্র পাঁচ দিনেই বক্স অফিসে দারুণ দাপট দেখাচ্ছে সুরিয়া ও তৃষা অভিনীত তামিল সিনেমা ‘কারুপ্পু’। আরজে বালাজি পরিচালিত আদালতভিত্তিক এই নাটকীয় চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর থেকেই দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
১৫ মে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া ছবিটি প্রথম দিনেই আয় করে প্রায় ১৫ কোটি রুপি। এরপর সপ্তাহান্তে আয় আরও বেড়ে যায়। শনিবার ও রোববার মিলিয়ে ছবিটির সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩২ দশমিক ৫০ কোটি রুপি। কর্মদিবস সোমবারেও ছবিটির গতি কমেনি। স্যাকনিল্কের তথ্যমতে, সেদিনও ছবিটি আয় করেছে প্রায় ১৪ দশমিক ৩০ কোটি রুপি।

‘কারুপ্পু’ সিনেমার পোস্টারে সুরিয়া ও তৃষা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
‘কারুপ্পু’ সিনেমার পোস্টারে সুরিয়া ও তৃষা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

চার দিনে ভারতের ঘরোয়া বাজারে ছবিটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৮২ দশমিক ৩০ কোটি রুপি। পঞ্চম দিনের চলতি হিসাব অনুযায়ী, ছবিটি ভারতের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে ১ হাজার ৬৩৬টি শোতে চলছে। এখন পর্যন্ত পঞ্চম দিনে আয় হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৩৭ কোটি রুপি। ফলে ভারতের মোট আয় পৌঁছেছে ৯৬ দশমিক ৯১ কোটি রুপিতে।
বিদেশের বাজারেও ছবিটি বেশ সফল। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রায় ৪৭ কোটি রুপি আয় করেছে ‘কারুপ্পু’। সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী ছবিটির মোট আয় এখন প্রায় ১৪২ দশমিক ৩০ কোটি রুপি। বিশ্লেষকদের ধারণা, খুব দ্রুতই ছবিটি ১৫০ কোটির ক্লাবে প্রবেশ করবে।

ছবিটির গল্প আবর্তিত হয়েছে এক বৃদ্ধ ব্যক্তি ও তাঁর নাতনিকে ঘিরে, যারা বছরের পর বছর আদালতে ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করে। তৃষা এখানে একজন আইনজীবীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি তাঁদের মামলা হাতে নেন। পরে গল্পে যোগ দেন সুরিয়া—যিনি আদালতের ভেতরে ও বাইরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেন।

সমালোচকদের মতে, ২০২৬ সালে বড় সাফল্যের অভাবে কিছুটা ধুঁকছিল কোলিউড ইন্ডাস্ট্রি। সেই জায়গায় নতুন প্রাণ ফিরিয়ে এনেছে ‘কারুরপু’। বিশেষ করে সামনে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা বিজয়ের ‘জন নায়গন’ ও রজনীকান্তর ‘জেলার ২’-এর মুক্তির আগে এই সাফল্য তামিল সিনেমা অঙ্গনের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
পরিচালক আরজে বালাজি পরিচালিত ‘কারুপ্পু’ মুক্তির আগেই একাধিকবার পিছিয়েছে। প্রথমে ২০২৫ সালের দীপাবলিতে মুক্তির কথা থাকলেও পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ শেষ না হওয়ায় তা পিছিয়ে যায়। পরে তামিলনাড়ুয় নির্বাচনের কারণে আবারও মুক্তি স্থগিত করা হয়।

তৃষা কৃষ্ণান। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
তৃষা কৃষ্ণান। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

এরপর মুক্তির সপ্তাহেও তৈরি হয় নতুন সংকট। প্রযোজক ও অর্থলগ্নিকারীদের আর্থিক জটিলতায় ছবিটির সকাল ও দুপুরের বেশ কিছু শো বাতিল হয়ে যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন দর্শকেরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে অভিযোগ করেন, টিকিট বুকিং খুললেও পরে শো বাতিল করা হয়েছিল। তবে মুক্তির পর এসব কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি; দর্শক থেকে সমালোচক সবারই প্রশংসা পাচ্ছে ‘কারুপ্পু’।

ইন্ডিয়াটুডে অবলম্বনে

ছুটির আমেজে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়া ছবিতে তাঁর ঘোরাঘুরি নিয়ে থাকল আরও তথ্য।

[caption id="attachment_274251" align="alignnone" width="822"] কয়েকটি ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে প্রভা লিখছেন, ‘সমুদ্র আর আমি, হারিয়ে গেছি পুরোনো স্মৃতিতে, যেখানে প্রতিটি ঢেউ মনে হয় ভুলে যাওয়া একেকটি গান।’শিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption][caption id="attachment_274243" align="alignnone" width="822"] ছবিগুলো থাইল্যান্ডের ক্রাবি অঞ্চল থেকে তোলা। আন্দামান সাগরে ঘোরাঘুরি করছেন তিনিশিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption][caption id="attachment_274242" align="alignnone" width="822"] পাশে রাখা ফলমূল ও ফুলের তোড়া, স্টাইলিশ লুকে ক্যামেরায় ধরা দিলেন প্রভাশিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption][caption id="attachment_274248" align="alignnone" width="822"] এসব ছবিতে ১৮ হাজারের বেশি ‘রিঅ্যাক্ট’ পড়েছে। দুই শতাধিত মন্তব্য এসেছেশিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption][caption id="attachment_274249" align="alignnone" width="822"] ফেরদৌস হাসান নামে এক অনুরাগী লিখেছেন, ‘অনেক সুন্দর লাগছে।’শিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption][caption id="attachment_274250" align="alignnone" width="822"] এ ছবিটি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন প্রভাশিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption][caption id="attachment_274247" align="alignnone" width="822"] সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয় এ অভিনেত্রীশিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption][caption id="attachment_274252" align="alignnone" width="822"] প্রায়ই নতুন নতুন ছবি শেয়ার করেন তিনিশিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption][caption id="attachment_274246" align="alignnone" width="822"] আগের তুলনায় কাজ অনেক কমিয়ে দিয়েছেন এ অভিনেত্রীশিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption][caption id="attachment_274244" align="alignnone" width="822"] মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন তিনিশিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption]

কান্ট্রি মিউজিকের সবচেয়ে বড় রাতটি যেন একাই নিজের করে নিলেন তরুণ গায়িকা এলা ল্যাংলি। এক রাতে সাতটি পুরস্কার জিতে ২০২৬ সালের একাডেমি অব কান্ট্রি মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসের সবচেয়ে বড় তারকায় পরিণত হয়েছেন তিনি। অন্যদিকে বহুদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো ‘এন্টারটেইনার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার জিতেছেন কোডি জনসন।

যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের এমজিএম গ্র্যান্ড গার্ডেন অ্যারেনায় বসেছিল কান্ট্রি মিউজিকের ৬১তম এ আয়োজন। পুরো অনুষ্ঠানেই ছিল এলা ল্যাংলির দাপট। যেসব বিভাগে তিনি মনোনয়ন পেয়েছিলেন, প্রতিটিতেই জয় তুলে নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে বর্ষসেরা নারী শিল্পী, শিল্পী-গীতিকার, বছরের সেরা গান ও সিঙ্গেল—সবই তাঁর জনপ্রিয় গান ‘চুজ ইন টেক্সাস’-এর জন্য।

রাতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ‘এন্টারটেইনার অব দ্য ইয়ার’ গেছে কোডি জনসনের হাতে। রয়টার্স
রাতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ‘এন্টারটেইনার অব দ্য ইয়ার’ গেছে কোডি জনসনের হাতে। রয়টার্স

মঞ্চে বারবার উঠে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এলা। শেষ পুরস্কার গ্রহণ করতে গিয়ে কিছুক্ষণ কথা পর্যন্ত বলতে পারেননি। পরে কাঁপা কণ্ঠে বলেন, ‘আমি কিছু বলতে চাইছি, কিন্তু পারছি না।’ এরপর সহশিল্পীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। বিশেষ করে লেইনলি উইলসন ও মিরান্ডা ল্যাম্বার্টের কথা আলাদা করে উল্লেখ করেন।

তবে রাতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ‘এন্টারটেইনার অব দ্য ইয়ার’ গেছে কোডি জনসনের হাতে। পুরস্কার গ্রহণের সময় তিনি বলেন, ‘সংগীত পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী নেশা।’ একই সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনকে আলাদা রাখার কথাও জানান এই শিল্পী। তাঁর ভাষায়, ‘বাড়িতে ফিরলে আমি শুধু একজন স্বামী, বাবা আর খামারি।’
এদিন সেরা পুরুষ শিল্পীর পুরস্কারও জেতেন কোডি জনসন।

পুরস্কার হাতে এলা ল্যাংলি। রয়টার্স
পুরস্কার হাতে এলা ল্যাংলি। রয়টার্স

চমক ছিল অ্যালবাম বিভাগেও। সমালোচকদের প্রশংসা পাওয়া নিজের নামের অ্যালবামের জন্য বর্ষসেরা অ্যালবামের পুরস্কার জিতেছেন পার্কার ম্যাককালাম। পুরস্কার নিতে গিয়ে রসিকতা করে তিনি বলেন, ‘ভাবছিলাম, আপনারা বুঝি আমাকে আর মঞ্চেই ডাকবেন না।’

পুরস্কার বিতরণীর পাশাপাশি জমজমাট ছিল সংগীত পরিবেশনাও। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পারফর্ম করেন গত বছরের ‘এন্টারটেইনার অব দ্য ইয়ার’ লেইনলি উইলসন।
এদিকে এলা ল্যাংলির জনপ্রিয়তা যে এখন তুঙ্গে, সেটাও স্পষ্ট হয়েছে এই আসরে। দ্বিতীয় অ্যালবাম দিয়েই কান্ট্রি মিউজিকের অন্যতম বড় মুখ হয়ে উঠেছেন তিনি। ইতিমধ্যে তাঁর প্রথম অ্যারেনা ট্যুরের ঘোষণাও এসেছে। সংগীতবোদ্ধাদের অনেকেই মনে করছেন, আগামী বছর ‘এন্টারটেইনার অব দ্য ইয়ার’ বিভাগেও সবচেয়ে বড় দাবিদার হতে পারেন এলা ল্যাংলি।

ভ্যারাইটি অবলম্বনে

এলা ল্যাংলি। রয়টার্স
এলা ল্যাংলি। রয়টার্স

চিত্রনায়িকা তানহা তাসনিয়া ইসলামের ব্যবহৃত আইফোন চুরির ঘটনা ঘিরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) আলোচনা শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ডাবিং চলাকালে চিত্রনায়ক জয় চৌধুরীর গাড়িচালক পরিচয় দিয়ে আসা এক ব্যক্তি কৌশলে তাঁর ফোন নিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে জানা যায়, ওই ব্যক্তি ছিলেন ভুয়া পরিচয়ধারী।

আজ শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন তানহা তাসনিয়া। তিনি জানান, পরিচালক গাজী মাহবুব পরিচালিত প্রামাণ্যচিত্র ‘অস্তিত্বের লড়াই’–এর ডাবিং চলছিল এফডিসির সাউন্ড কমপ্লেক্সে। একই ডাবিং সেশনে ছিলেন জয় চৌধুরীও। কাজ শেষ করে জয় বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর এক ব্যক্তি এসে নিজেকে তাঁর চালক বলে পরিচয় দেন।

তানহা তাসনিয়া ইসলাম
তানহা তাসনিয়া ইসলাম, ছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে
 

তানহা তাসনিয়ার ভাষ্য, ‘লোকটা এসে বলল, জয় স্যার শিল্পী সমিতিতে আছেন। যেহেতু সে নিজেকে জয়ের চালক বলেছে, তাই সন্দেহ করিনি। সে ডাবিং রুমেই ছিল। পরে চা আনা হলে ওই লোকটাই আমার হাতে চায়ের কাপ এগিয়ে দেয়। আমি আবার ডাবিংয়ে ব্যস্ত হয়ে যাই। ফোনটা তখন চায়ের কাপের পাশেই রাখা ছিল। ডাবিংরুম তো অন্ধকার থাকে। কিছুক্ষণ পর এসে দেখি ফোন নেই, লোকটাও নেই।’

এরপর জয় চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানা যায়, ওই ব্যক্তি তাঁর প্রকৃত চালক নন। তখনই বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে পরিচয় ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবেই চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

তানহা তাসনিয়া ইসলাম
তানহা তাসনিয়া ইসলামছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে

ঘটনার পর নিজের ফেসবুক পোস্টে তানহা তাসনিয়া জানান, তাঁর কমলা রঙের আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স ফোনটি সন্ধ্যা সাতটা থেকে সোয়া সাতটার মধ্যে চুরি হয়। ফোনটি টেবিলে রাখা ছিল। পরে খুঁজতে গিয়ে আর সেটি পাওয়া যায়নি। সঙ্গে সঙ্গে এফডিসির বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তির সন্ধান মেলেনি। পরে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এই অভিনেত্রী। জিডি নম্বর ১০৭৭ বলে জানিয়েছেন তিনি। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্তও শুরু করেছে।

তানহা তাসনিয়া ইসলাম
তানহা তাসনিয়া ইসলামছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে

তবে তদন্তে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এফডিসির সিসিটিভি ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টার পর থেকে সার্ভারে কোনো সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত হয়নি। ফলে সন্ধ্যার পর ডাবিংরুমে অপরিচিত কে ঢুকেছেন বা বের হয়েছেন, তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তানহা তাসনিয়া ইসলাম
তানহা তাসনিয়া ইসলামছবি: সংগৃহীত

ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক গাজী মাহবুবও। তিনি বলেন, ‘চুরির ঘটনা জানার পর আমরা এফডিসি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এখন তারা কী ব্যবস্থা নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।’ চুরির এ ঘটনা এফডিসির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে একজন অচেনা ব্যক্তি কীভাবে সহজেই শিল্পীদের ডাবিংরুমে ঢুকে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলেন এবং পরে চুরি করে বেরিয়ে গেলেন, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করছেন চলচ্চিত্র–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

রাত ১টা ৩০ মিনিট। গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদের একটি স্ট্যাটাস ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে শোবিজ অঙ্গনে। বাবা–মেয়ের একটি হাসিখুশি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমার প্রাণপ্রিয় আদরের মেয়ে কারিনা কায়সার একটু আগে চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয় কায়সার হামিদ। প্রায়ই পরিবারের নানা মুহূর্ত, বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছবি ও স্মৃতিময় পোস্ট শেয়ার করতেন তিনি। বাবা–মেয়ের হাসিমাখা ছবিগুলো পরিচিত ছিল অনেকের কাছেই। কখনো জন্মদিন, কখনো পারিবারিক আড্ডা, আবার কখনো সাধারণ কোনো মুহূর্ত—মেয়েকে নিয়ে তাঁর আবেগমাখা পোস্ট নজর কাড়ত অনুসারীদের। শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে সেই হাসিখুশি পরিবারেই নেমে এল শোকের ছায়া।

স্ট্যাটাসে কায়সার হামিদ আরও লেখেন, ‘আমার মেয়ের কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। যারা এই দুঃসময়ে আমাদের পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন, সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দোয়া করবেন সবাই, আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুক।’

কারিনা কায়সার
কারিনা কায়সার
 

লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় মারা গেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার। উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়ার পর আজ শুক্রবার সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৩০ বছর। তিনি মা–বাবা ও দুই ভাই রেখে গেছেন। বরেণ্য দাবাড়ু রানী হামিদ তাঁর দাদি।

কয়েক দিন ধরে সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন কারিনা। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাঁকে। পরে গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চেন্নাই নেওয়া হয়। সেখানে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল।

আজ শুক্রবার প্রথম আলোকে কায়সার হামিদ জানান, ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময় হঠাৎ কারিনার রক্তচাপ অনেক নিচে নেমে যায়। এরপর চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তাঁকে বাঁচাতে পারেননি।

এর আগে পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তাঁর শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ এবং ই-জনিত জটিলতায় তাঁর লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। চেন্নাইয়ে নেওয়ার পর তাঁর ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু হয়েছিল। এরপর লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন কারিনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তরুণ দর্শকদের কাছে তাঁকে জনপ্রিয় করে তোলে। পরে ওটিটি ও নাটকের জগতেও ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ইন্টার্নশিপ ও ৩৬-২৪-৩৬।

কারিনা কায়সার
কারিনা কায়সার, চরকির সৌজন্যে
 

কারিনার মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী, নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও ভক্তরা তাঁর স্মৃতিচারণা করে শোক প্রকাশ করছেন। অনেকেই তাঁর হাসিখুশি স্বভাব, প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও সংগ্রামী মানসিকতার কথা তুলে ধরছেন। কেউ কেউ লিখেছেন, কয়েক দিন আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন কারিনা। হঠাৎ এমন বিদায়ে তাঁরা এখনো বিশ্বাসই করতে পারছেন না।