কান চলচ্চিত্র উৎসবে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নির্মাতা নিকোলাস উইন্ডিং রেফন। গত সোমবার মধ্যরাতে তাঁর নতুন সিনেমা ‘হার প্রাইভেট হেল’ ঝড় তুলেছে দর্শকদের মধ্যে। নগ্নতা, রক্তাক্ত খুন, মানসিক ট্রমা আর বিকৃত সম্পর্কের মিশেলে তৈরি এই নিয়নরঙা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার শেষ পর্যন্ত পায় টানা ৭ মিনিটের দাঁড়িয়ে অভিবাদন।
প্রদর্শনীর পর আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন ছবির প্রধান অভিনেত্রী সোফি থ্যাচার। নির্মাতা রেফন তখন পুরো হল ঘুরে দর্শকদের আরও জোরে হাততালি দিতে উৎসাহ দিচ্ছিলেন।
বৃষ্টিভেজা রাতে উন্মাদনা
গতকাল রাতে কান উৎসবের গ্র্যান্ড প্যালেসে সিনেমাটির প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। ভারী বৃষ্টির মধ্যেই লালগালিচায় হাজির হন চার্লস মেলটন, সোফি থ্যাচার, হাভানা রোজ লুই, ক্রিস্টিন ফ্রসেথসহ অন্য তারকারা। ছবির প্রদর্শনী শেষ হতেই পুরো হল দাঁড়িয়ে করতালি দিতে শুরু করে। সেই মুহূর্তে চোখের জল লুকাতে পারেননি সোফি থ্যাচার।
‘আমি ২৫ মিনিট মৃত ছিলাম’
দীর্ঘ অভিবাদনের পর মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা জানান নিকোলাস উইন্ডিং রেফন। তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে তিনি ২৫ মিনিটের জন্য মৃত্যুর মুখে চলে গিয়েছিলেন। পরে বিদ্যুৎ–চিকিৎসার মাধ্যমে তাঁকে ফিরিয়ে আনা হয়।

রেফনের ভাষায়, ‘এ ধরনের অভিজ্ঞতা একজন মানুষকে বদলে দেয়। এখন আমি জানি, বেঁচে থাকার সময় খুব সীমিত। তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত পুরোপুরি উপভোগ করতে চাই।’
এরপর গম্ভীর পরিবেশ ভেঙে নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে অভিনেতাদের ‘আকর্ষণীয় উপস্থিতি’ নিয়েও মজা করেন তিনি। বিশেষ করে চার্লস মেলটনের শারীরিক গঠন নিয়ে মন্তব্য করে হাসির রোল তোলেন হলে।

সিনেমার গল্প
‘হার প্রাইভেট হেল’–এ সোফি অভিনয় করেছেন এক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত চলচ্চিত্র তারকার চরিত্রে। তাঁর জীবনে নতুন সংকট তৈরি হয়, যখন তাঁর সবচেয়ে কাছের বান্ধবী বিয়ে করেন তাঁর বাবাকে।
একই সময়ে শহরে শুরু হয় ভয়াবহ সিরিয়াল কিলিং। রহস্যময় এক খুনি—‘দ্য লেদার ম্যান’—তরুণীদের হত্যা করতে থাকে। খুন হওয়ার আগে ভুক্তভোগীরা চিৎকার করে শুধু একটি শব্দ উচ্চারণ করে, ‘ড্যাডি!’
অন্যদিকে চার্লস অভিনয় করেছেন এক সেনাসদস্যের চরিত্রে, যার মেয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। এরপর শুরু হয় তার প্রতিশোধের অভিযান।
ভাষণের শেষ দিকে সিনেমা হলকে মানুষের একত্র হওয়ার শেষ জায়গা বলেও মন্তব্য করেন রেফন। তাঁর ভাষায়, ‘রাজনীতিবিদেরা পৃথিবী নষ্ট করেছে, যুদ্ধ লাগিয়েছে, মানুষের অর্থ লুট করেছে। এখন মানুষকে এক করতে পারে শুধু শিল্প।’
রেফন আরও বলেন, ‘সিনেমা মানে শুধু আইফোনে একা বসে কিছু দেখা নয়; সিনেমা মানে একসঙ্গে বসে একই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া।’
নিয়নের সঙ্গে কান জয়যাত্রা
সিনেমাটির পেছনে রয়েছে নিওন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কান উৎসবে সবচেয়ে সফল পরিবেশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি এটি। যদিও ‘হার প্রাইভেট হেল’ প্রতিযোগিতা বিভাগের বাইরে প্রদর্শিত হয়েছে, তবু সিনেমাটি ইতিমধ্যে উৎসবের অন্যতম আলোচিত ছবি হয়ে উঠেছে।
রেফন এর আগে কান উৎসবে ‘ড্রাইভ’–এর জন্য সেরা পরিচালকের পুরস্কার জিতেছিলেন। পরে ‘অনলি গড ফরগিভস’ ও ‘দ্য নিওন ডেমন’–এর মতো বিভাজিত প্রতিক্রিয়ার সিনেমা বানিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রেও ছিলেন তিনি।
দীর্ঘ ১০ বছর পর আবার বড় পর্দায় ফিরলেন এই ড্যানিশ নির্মাতা। আর ফিরে এসেই কান উৎসবে তৈরি করলেন নতুন আলোড়ন।
ভ্যারাইটি অবলম্বনে