বলিউড তারকা দীপিকা পাড়ুকোন আবারও মাতৃত্বের নতুন অধ্যায়ে পা রাখতে চলেছেন। স্বামী রণবীর সিংয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় সন্তানের আগমনের খবর জানিয়ে ভক্তদের আনন্দে ভাসিয়েছেন তিনি। তবে এই ঘোষণার মাঝেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে দীপিকার সেই পুরোনো বক্তব্য; যেখানে তিনি বলেছিলেন মাতৃত্বই তাঁর জীবনের ‘সেরা চরিত্র’।

আজ সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি—ছোট্ট হাতের মুঠোয় ধরা একটি ‘প্রেগন্যান্সি কিট’। আর সেই ছবিই এখন বলিউডজুড়ে আলোচনার কেন্দ্র। দ্বিতীয়বার মা হতে চলেছেন দীপিকা পাড়ুকোন—এই সুখবরটি নিজেই জানালেন তিনি।
ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ছবিতে দেখা যায়, মেয়ে দুয়া পাড়ুকোন সিংয়ের হাতে ধরা রয়েছে প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট। কোনো দীর্ঘ ক্যাপশন নয়, খুবই সংযত ভঙ্গিতে এই ছবির মাধ্যমেই সুখবরটি জানান অভিনেত্রী। মুহূর্তেই ছবিটি ভাইরাল হয়ে যায়, ভক্ত–সহকর্মীদের শুভেচ্ছায় ভরে ওঠে মন্তব্যের ঘর। ছবি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া মন্তব্য করেন, ‘কনগ্রেটস!’—যা দ্রুতই নজর কাড়ে।

মাতৃত্ব নিয়ে দীপিকার ভাবনা নতুন নয়। ২০২৫ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, মা হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনকে গভীরভাবে বদলে দিয়েছে। আগে নিজেকে ধৈর্যশীল মনে করলেও, সন্তান জন্মের পর সেই ধৈর্য ও সহনশীলতা আরও বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি।

দীপিকার কথায়, মাতৃত্ব মানুষকে নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের গণ্ডি থেকে বের করে আনে। দীপিকা স্বীকার করেছিলেন, তিনি স্বভাবতই খুব সামাজিক ছিলেন না। কিন্তু সন্তানের কারণে অন্য অভিভাবকদের সঙ্গে মেলামেশা, প্লে-স্কুলের পরিবেশ—সব মিলিয়ে তাঁকে নতুনভাবে মানুষের সঙ্গে যুক্ত হতে শিখিয়েছে। এই পরিবর্তনকে তিনি ইতিবাচক বলেই দেখেন।

কন্যা দুয়ার সঙ্গে রণবীর ও দীপিকা। ইনস্টাগ্রামা থেকে
কন্যা দুয়ার সঙ্গে রণবীর ও দীপিকা। ইনস্টাগ্রামা থেকে

দীপিকা এই সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, ‘আমি সব সময়ই মা হতে চেয়েছি। আর এখন আমি আমার জীবনের সেরা চরিত্রে অভিনয় করছি।’এই এক বাক্যেই যেন তাঁর অনুভূতির গভীরতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অভিনয়ের জগতে অসংখ্য চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করলেও, বাস্তব জীবনের এই ভূমিকাকেই তিনি সবচেয়ে পূর্ণতা দেওয়া বলে মনে করেন।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দীপিকা ও রণবীরের সংসারে আসে তাঁদের প্রথম সন্তান দুয়া। বেশ কিছু সময় তাঁরা মেয়েকে গণমাধ্যমের আড়ালে রেখেছিলেন। পরে দেওয়ালির সময় প্রথমবারের মতো কন্যার ছবি প্রকাশ করেন, যা ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

সেই সঙ্গে এই দম্পতি জানান, ‘দুয়া’ নামটির অর্থ ‘প্রার্থনা’—যা তাঁদের জীবনে সন্তানের আগমনের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও আবেগের প্রতীক।

এদিকে পেশাগত জীবনেও দুজনেই রয়েছেন ব্যস্ততায়। রণবীর সিংয়ের ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ বক্স অফিসে সফলতা পেয়েছে। অন্যদিকে দীপিকাকে শিগগিরই দেখা যাবে শাহরুখ খানের সঙ্গে ‘কিং’ ছবিতে। এ ছাড়া দক্ষিণের তারকা আল্লু অর্জুনের সঙ্গে তাঁর আরেকটি বড় প্রকল্পও রয়েছে।

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

হলিউডে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। এই বিতর্কে সম্প্রতি নতুন মাত্রা যোগ করেছেন শার্লিজ থেরন। এক সাক্ষাৎকারে এই অভিনেত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, আগামী ১০ বছরে এআই হয়তো অনেক অভিনেতার কাজই করতে পারবে, এমনকি টিমোথি শ্যালামের মতো তারকার কাজও এআই করবে। কিন্তু মঞ্চে সরাসরি পরিবেশনার বিকল্প কখনোই হতে পারবে না।

এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে টিমোথি শ্যালামের একটি মন্তব্য। সম্প্রতি এক আলোচনায় এই হলিউড অভিনেতা বলেছিলেন, অপেরা বা ব্যালেকে টিকিয়ে রাখতে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন ওই মাধ্যমের শিল্পীরা, তিনি চান না সিনেমার অবস্থাও অপেরা বা ব্যালের মতো হোক। শ্যালামে বলেন, সার্বিকভাবে সিনেমা নিয়ে মানুষের আগ্রহ কমে গেছে। তাঁর ভাষায়, মানুষ যদি দেখতে চায়, তারা নিজেরাই আসবে।

টিমোথি শ্যালামে। রয়টার্স
টিমোথি শ্যালামে। রয়টার্স

এই বক্তব্যেই আপত্তি জানান শার্লিজ থেরন। তাঁর মতে, এটি শুধু একটি আলটপকা মন্তব্যই নয়, বরং দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পমাধ্যম অপেরা ও ব্যালে সম্পর্কে একধরনের অবমূল্যায়ন। তিনি বলেন, এ ধরনের শিল্পকে বরং আরও বেশি করে তুলে ধরা দরকার, কারণ এগুলো টিকে থাকার লড়াই করছে।

বিশেষভাবে নাচের প্রসঙ্গ টেনে আনেন শার্লিজ। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, নাচ তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন অনুশীলনগুলোর একটি ছিল। তাঁর মতে, নৃত্যশিল্পীরা সত্যিকারের ‘সুপারহিরো’, যাঁরা নিঃশব্দে তাঁদের শরীরকে এমন এক সীমায় নিয়ে যান, যা সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে।

শার্লিজ থেরন। রয়টার্স
শার্লিজ থেরন। রয়টার্স

কঠোর প্রশিক্ষণের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি—রক্তাক্ত পা, না শুকানো ক্ষত এবং প্রতিদিন একই রকম কঠিন অনুশীলনের মধ্যে দিয়ে যাওয়া। তাঁর কথায়, আপনি ছুটি পান না। জুতার ভেতর রক্ত ঝরছে, তবু থামা যাবে না। এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে শিখিয়েছে শৃঙ্খলা, মানসিক দৃঢ়তা এবং কঠোর পরিশ্রমের মূল্য।

এই প্রেক্ষাপটেই আসে এআই প্রসঙ্গ। অভিনেত্রী মনে করেন, প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, মানবদেহের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া লাইভ পারফরম্যান্স—বিশেষ করে ব্যালে, তার স্বকীয়তা হারাবে না। কারণ, সেখানে শুধু দক্ষতা নয়, থাকে আবেগ, উপস্থিতি এবং মুহূর্তের সত্যতা—যন্ত্র দিয়ে যা পুরোপুরি পুনর্নির্মাণ করা কঠিন।

তাঁর বক্তব্যে একধরনের সতর্কবার্তাও রয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, চলচ্চিত্রশিল্পে এআইয়ের প্রভাব ক্রমেই বাড়বে এবং অনেক ক্ষেত্রেই এটি অভিনেতাদের কাজকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, সব শিল্পমাধ্যমকে একই মানদণ্ডে বিচার করা ঠিক নয়।

ভ্যারাইটি অবলম্বনে

পাহাড়ে বৃহত্তর সামাজি উৎসব বিজু বৈসু সাংগ্রাই বিহু বিষু চাংলান চাংক্রান পাতা চার দিন ব্যাপী উৎসবের উদ্বোধন হয় ৯ এ্রপ্রিল রাঙ্গামাটি পৌর প্রাঙ্গনে। এ অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির চেয়ারম্যান ও আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা। অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন সাবেক সাংসদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান উষাতন তালুকদার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক উপসচিব প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা। আরো উপস্থিত রয়েছেন সাবেক যুগ্ম সচিব কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা।  এ উৎসবে যোগ দিয়েছেন নানান বয়সী ও বাহারী রঙের পোশাক পরিহিত নারী পুরষ। তাদের হাতে নানান দাবি সংবলিত প্লে কার্ড ও ব্যানার। আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর সাংস্কৃতি উপকরণ ডিসপ্লে করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আদিবাসি ফোরাম পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক ইন্টু মনি তালুকদার । সাবেক সাংসদ বিএনপি সরকারের প্রতি পার্বত্য ‍চুক্তি বাস্তবায়নের আহবান জানান এবং এ ব্যাপারে জনগণকে আরো বেশি সচেতন হতে বলেন । তিনি আরো অধিকতর অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সকল শ্রেণীর মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

১৭ এপ্রিল মারী স্টেডিয়ামে মারমা জাতিগোষ্ঠীর মহান সংগ্রাই উৎসব পালন করেছে মারমা সাংস্কৃতিক সংসদ (মাসাস)। পাহাড়ে বিজু সাংগ্রাই বৈসু বিষু বিহু সাংক্রান সাংলান পাতা উৎসবের সর্বশেষ সাংগ্রাই উৎসটি মারমা জনগোষ্ঠীরা পালন করে থাকে।

[caption id="attachment_271913" align="alignnone" width="670"] জলখেলীতে দুইদল নারী পুরুষ পানি নিক্ষেপ করছে[/caption]

 

পার্বত্য অঞ্চলে ১৩টি জাতিগোষ্ঠীর বসবাস। তদমধ্যে জনসংখ্যার দিক থেকে মারমা জনগোষ্ঠী দ্বিতীয়।

এ উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এড. দীপেন দেওয়ান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতি মন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। আরো উপস্থিত রয়েছেন রাঙ্গামাটি সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ একরামুল রাহাত, পিএসসি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার, জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম।

[caption id="attachment_271910" align="alignnone" width="704"] পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এড. দীপেন দেওয়ান[/caption]

প্রধান অতিথি এড. দীপেন দেওয়ান এমপি বলেন, ‘‘পার্বত্য অঞ্চলে ১৩টি জাতি গোষ্ঠী ঐতিহাসিকভাবে কালক্রমে পরিক্রমায় আবহমান কালধরে ঐতিহ্য সংস্কৃতি রক্ষা করে আসছে সেই রক্ষাগুলো আমাদের করতে হবে। ’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘অধুনা উল্লেখ করা যেতে পারে যে কিছু কিছু জনগোষ্ঠী ওদের অস্তিত্বের সম্মুখীন। সেই অস্তিত্ব সংরক্ষণে আমাদের সরকারকে এগিয়ে যেতে হবে। ওদের সংস্কৃতি ঐতিহ্যকে ধারন করবে। ঐতিহ্য সংস্কৃতি ধারতে যা যা প্রয়োজন আমরা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে উদ্যোগ নেবো।’’

[caption id="attachment_271911" align="alignnone" width="664"] অতিথিদের উত্তোরী পরিধান করার[/caption]

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রাঙ্গামাটি মাসাসের সভাপতি থোয়ইসুইথই মারমা ও কাপ্তাই উপজেলা মাসাস সভাপতি ডা.মংচাথোয়াই চৌধরী পাবেল।

মারমা জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য রাঙ্গামাটিতে একটি হোস্টেল ব্যবস্থা করতে পার্বত্য মন্ত্রীকে দাবী জানানো হয়।

[caption id="attachment_271915" align="alignnone" width="640"] এই স্প্রে দিয়ে একে অপরকে পানি নিক্ষেপ করছে[/caption]

এখানে ঐতিহ্যবাহি জলখেলী, ড খেলা ও পিচ্ছিল বাঁশের উপর থেকে পুরস্কার গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। তাছাড়াও সবার জন্য পানিছিটিতে গানের তালে তালে শত শত নরনারীদের নাচের ব্যবস্থা করেছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। সেটি উৎসবের মুল আনন্দ হিসেবে পানির ফোঁটায় ফোঁটায় আনন্দে মেতেছে সবাই।

বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ ও প্রতারক সুকেশ চন্দ্রশেখরকে ঘিরে ২০০ কোটি রুপির অর্থ পাচার (মানি লন্ডারিং) মামলায় নতুন এবং বড় মোড় সামনে এসেছে। এই মামলায় এখন জ্যাকুলিন নিজেই সরকারি সাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

পাতিয়ালা হাউস কোর্টে শুনানির সময় জ্যাকুলিন জানিয়েছেন যে তিনি এই মামলায় তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে চান এবং সরকারি সাক্ষী হতে প্রস্তুত। আদালত এই বিষয়ে কী অবস্থান নিয়েছেন এবং মামলার পরবর্তী শুনানি কবে হবে, তা জেনে নেওয়া যাক।

আদালত ইডিকে নোটিশ পাঠিয়েছেন
জ্যাকুলিনের আবেদন শুনে আদালত জানিয়েছেন, এর জন্য অভিনেত্রীকে সরাসরি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে হবে। আদালত স্পষ্ট করেছেন যে তদন্তকারী সংস্থা তাঁর বক্তব্য ও সহযোগিতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেবে তাঁকে ‘অ্যাপ্রুভার’ করা হবে কি না।
আদালত এই মামলায় ইডিকে নোটিশও জারি করেছেন। পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ এপ্রিল।

জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

বিদেশ যাওয়ার অনুমতি
জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজকে ২৪ এপ্রিল থেকে ২৫ মে পর্যন্ত বিদেশ ভ্রমণের অনুমতিও দিয়েছেন আদালত। তবে এই সময়ে তাঁকে নির্ধারিত শর্ত মানতে হবে এবং তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা চালিয়ে যেতে হবে।

কী এই মামলা
এই পুরো বিষয় ২০০ কোটি রুপির মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে যুক্ত। এতে সুকেশ চন্দ্রশেখরকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে ধরা হয়েছে। অভিযোগ, তিনি জেলের ভেতর থেকেই প্রতারণা ও চাঁদাবাজির বড় নেটওয়ার্ক চালাতেন এবং বহু মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি রুপি আদায় করেছিলেন।

এই সময়েই তাঁর যোগাযোগ বলিউডের বেশ কিছু অভিনয়শিল্পীর সঙ্গেও তৈরি হয়। সেই সূত্রেই জ্যাকুলিনের নাম এই মামলার সঙ্গে উঠে আসে। ইডির তদন্ত অনুযায়ী, সুকেশ চন্দ্রশেখর জ্যাকুলিনকে বহু দামি দামি উপহার দিয়েছেন, যার মধ্যে ছিল বিলাসবহুল ঘড়ি, দামি ব্যাগ, গয়না এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী।

জ্যাকুলিন কী বলছেন
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এসব জিনিস অবৈধভাবে অর্জিত টাকার মাধ্যমে কেনা হয়েছিল। তবে জ্যাকুলিন জানিয়েছিলেন, তিনি সুকেশের আসল পরিচয় ও তাঁর অপরাধমূলক কাজ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। তিনি আদালতকে বলেন যে সুকেশ নিজেকে বড় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাঁকে বিভ্রান্ত করেছিলেন।

জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে
জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

কাস্টিং কাউচের দুঃসহ অভিজ্ঞতা নিয়ে আগেও মুখ খুলেছেন অনেক বলিউড অভিনেত্রী। এবার নিজের অভিজ্ঞতার কথা বললেন ডেইজি শাহ। জানালেন, অডিশনে তাঁকে কতটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পরতে হয়েছিল।

সালমান খানের বিপরীতে ‘জয় হো’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রেখেছিলেন অভিনেত্রী ডেইজি শাহ। এরপর ‘রেস ৩’–তেও সালমানের সঙ্গে চুটিয়ে অভিনয় করেছেন তিনি। সম্প্রতি তিনি কাস্টিং কাউচ ও অপেশাদার আচরণের এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। নাম প্রকাশ না করে এক জনপ্রিয় দক্ষিণি পরিচালকের আপত্তিকর আচরণের সেই ভয়ংকর মুহূর্তের স্মৃতিচারণা করেছেন তিনি।

ডেইজি শাহ। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী ডেইজি শাহ মুম্বাইয়ের একটি হোটেল কক্ষে হওয়া এক অস্বস্তিকর ঘটনার কথা ফাঁস করেছেন। কাস্টিংয়ের নাম করে এক পরিচালক কীভাবে তাঁর সঙ্গে অভব্য আচরণ করেছিলেন, সেই অভিজ্ঞতাই তুলে ধরেছেন তিনি। ডেইজি জানান, দক্ষিণ ভারতের এক পরিচালক কাস্টিংয়ের জন্য মুম্বাইয়ে এসেছিলেন। সেখানে ডেইজিসহ আরও ছয়-সাতজন মেয়ে অডিশন দিতে গিয়েছিলেন। ডেইজির কথায়, ‘ওই পরিচালক আমাদের প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদাভাবে দেখা করছিলেন। আমি ঘরে ঢুকতেই তাঁর আচরণে খুব অস্বস্তি বোধ করি। তিনি খুব বাজেভাবে আমাকে স্পর্শ করছিলেন এবং আমার হাত ধরে ছিলেন, যা আমার একেবারেই পছন্দ হয়নি।’

ডেইজি শাহ। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
ডেইজি শাহ। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

ব্যক্তিগত জীবনে ‘স্পর্শ’ নিয়ে ডেইজি বরাবরই খুব সচেতন। তিনি বলেন, ‘আমি বডি ম্যাসাজও করাই না। কারণ, অন্য কারও স্পর্শ আমি সহ্য করতে পারি না। একজন নারী স্পর্শ করলেও আমি পিছিয়ে আসি, সেখানে একজন পুরুষ ওইভাবে আমাকে ধরছিলেন…আমার কাছে তা ছিল চরম অস্বস্তিকর। আমি তাঁকে বলেছিলাম পরে দেখা করব, কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পর আর কোনো দিন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করিনি।’

কোরিওগ্রাফার গণেশ আচার্যর সহকারী হিসেবে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন ডেইজি। ব্যাকগ্রাউন্ড ড্যান্সার হিসেবে বহু গানে কাজ করার পর কন্নড় ছবি ‘ভদ্র’ ও ‘বডিগার্ড’-এর মাধ্যমে অভিনয়ে হাতেখড়ি হয় তাঁর। ২০১৪ সালে সালমান খানের হাত ধরে ‘জয় হো’ ছবির মাধ্যমে বলিউড মাত করেন তিনি। এরপর ‘হেট স্টোরি ৩’-এর মতো ছবিতেও তাঁকে দেখা গেছে।

ডেইজি শাহ। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
ডেইজি শাহ। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

সম্প্রতি আমজাদ খানের ওয়েব সিরিজ ‘রেড রুম’-এ ডেইজির অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। ইউটিউবেও তিনি বেশ সক্রিয়, সেখানে প্রায় ৫০ হাজার সাবস্ক্রাইবার তাঁর দৈনন্দিন জীবন বা ভ্লগ উপভোগ করেন। আগামীতে পলাশ মুচ্ছল পরিচালিত একটি থ্রিলার ছবিতে শ্রেয়াস তালপাড়ের বিপরীতে নায়িকা হিসেবে দেখা যাবে তাঁকে।

বাংলা চলচ্চিত্রের পর্দায় যখন মিষ্টি এক হাসি ভেসে উঠত, দর্শকের হৃদয় যেন নিজে থেকেই নরম হয়ে যেত। সেই হাসির নাম কবরী। ‘মিষ্টি মেয়ে’—এই একটি শব্দেই যেন ধরা পড়ে তাঁর সব পরিচয়, তাঁর তারকাখ্যাতি, তাঁর অভিনয়ের জাদু। ১৭ এপ্রিল ছিল তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী, ঠিক ২০২১ সালের এই দিনে তাঁর পৃথিবীর ভ্রমণ শেষ হয়। তাকে স্মরণ করে ফিরে দেখা—একটি জীবন, একটি সময়, এক অনন্য শিল্পীর গল্প।

সারাহ বেগম কবরী
সারাহ বেগম কবরী

১৯৫০ সালের ১৯ জুলাই চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জন্ম নেওয়া মিনা পাল—যিনি পরবর্তী সময়ে হয়ে ওঠেন সারাহ বেগম কবরী, যাঁর শৈশবের অনেকটা সময় কেটেছে ফিরিঙ্গিবাজারে। আলকরণ স্কুলে পড়াশোনা, তারপর জে এম সেন হাইস্কুল। ছোটবেলার সেই সাদামাটা জীবনের গল্পে ছিল সংগ্রামের ছোঁয়া—রাতে বালিশের নিচে কাপড় রেখে ইস্তিরি করার স্মৃতি আজও অনেককে স্মৃতিকাতর করে।

সংস্কৃতিমনা পরিবারে বেড়ে ওঠা কবরীর শিল্পী হয়ে ওঠা যেন ছিল সময়েরই অপেক্ষা। মাত্র ১৩ বছর বয়সে নৃত্যশিল্পী হিসেবে মঞ্চে ওঠা, তারপর টেলিভিশন—শেষমেশ সিনেমা। ১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ দিয়ে তাঁর রুপালি পর্দায় আগমন। তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৪। কিন্তু সেই প্রথম পথচলাই যেন বলে দিয়েছিল—বাংলা সিনেমা পেয়েছে এক অনন্য মুখ।

ষাটের দশকেই কবরীর উত্থান ছিল চোখে পড়ার মতো। ‘জলছবি’, ‘বাহানা’, ‘সাত ভাই চম্পা’, ‘আবির্ভাব’, ‘বাঁশরী’, ‘যে আগুনে পুড়ি’—একটির পর একটি ছবিতে কবরী হয়ে উঠলেন দর্শকের প্রিয় মুখ। তাঁর চোখের ভাষা, সংলাপ বলার ভঙ্গি, আর স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় তাঁকে দ্রুত মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তোলে, জায়গা করে নেন মানুষের মনে।

সত্তরের দশকে এসে সেই জনপ্রিয়তা পায় নতুন মাত্রা। ‘দীপ নেভে নাই’, ‘দর্পচূর্ণ’, ‘ক খ গ ঘ ঙ’, ‘বিনিময়’—এরপর ‘ময়নামতি’, ‘নীল আকাশের নীচে’, ‘সারেং বৌ’, ‘সুজন সখী’, ‘পারুলের সংসার’, ‘রংবাজ’, ‘দেবদাস’, ‘আগন্তুক’, ‘বধূ বিদায়’—প্রতিটি ছবিতে তিনি যেন নতুন করে নিজেকে আবিষ্কার করেছেন। ঋত্বিক ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ তাঁকে এনে দেয় অভিনয়ের এক অনন্য উচ্চতা, যেখানে তিনি শুধু নায়িকা নন, হয়ে ওঠেন এক গভীর শিল্পীসত্তার প্রতিনিধি।

সারাহ বেগম কবরী
সারাহ বেগম কবরী
 

উর্দু ছবি ‘বাহানা’ কিংবা খান আতাউর রহমানের ‘সোয়ে নদীয়া জাগে পানি’তেও তাঁর অভিনয় প্রমাণ করে—ভাষা বা ঘরানার সীমা তাঁকে আটকে রাখতে পারে না। রোমান্টিক হোক বা সামাজিক, প্রতিটি চরিত্রে তিনি ছিলেন সাবলীল। এ কারণেই সাধারণ মানুষই তাঁকে ভালোবেসে নাম দিয়েছিল—‘মিষ্টি মেয়ে’।

পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন কবরী। নায়ক রাজ্জাকের সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল দর্শকের চোখে স্বপ্নের মতো। পাশাপাশি ফারুক, সোহেল রানা, উজ্জ্বল, জাফর ইকবাল, বুলবুল আহমেদ—সবার সঙ্গে কাজ করে তিনি তৈরি করেছেন এক সমৃদ্ধ চলচ্চিত্রভুবন। বিশেষ এক রেকর্ডও রয়েছে তাঁর—বাংলাদেশের একমাত্র অভিনেত্রী, যাঁর বিপরীতে অভিষেক হয়েছিল পাঁচ নায়কের: উজ্জ্বল, ফারুক, আলমগীর, সোহেল রানা ও জাফর ইকবাল।

‘সারেং বৌ’ ছবিতে কবরী ও ফারুক
‘সারেং বৌ’ ছবিতে কবরী ও ফারুক, ছবি: সংগৃহীত

তবে কবরী নিজেকে শুধু অভিনয়ের মধ্যেই আটকে রাখেননি। ২০০৫ সালে ‘আয়না’ চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে পরিচালক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে ‘এই তুমি সেই তুমি’ ছবির কাজ শুরু করেছিলেন—যেখানে তিনি ছিলেন অভিনেত্রী, নির্মাতা ও প্রযোজক—তিন ভূমিকাতেই। ছবিটি অসম্পূর্ণ রয়ে গেলেও তাঁর স্বপ্নের বিস্তারটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে এতে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও তিনি ছিলেন সক্রিয়। ভারতে গিয়ে সভা-সমিতি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বক্তব্যের মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গড়ে তোলেন। একজন শিল্পীর পাশাপাশি একজন দেশপ্রেমিক মানুষের যে দায়বদ্ধতা—কবরী তা পূর্ণ করেছেন নিঃসন্দেহে।

কবরী ও বাংলাদেশি সিনেমার সোনালী দিনের ৫ নায়ক
কবরী ও বাংলাদেশি সিনেমার সোনালী দিনের ৫ নায়ক
 

ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন পাঁচ সন্তানের মা। প্রথমে চিত্ত চৌধুরী, পরে সফিউদ্দীন সরোয়ারের সঙ্গে তাঁর বিবাহিত জীবন—দুই ক্ষেত্রেই বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা ছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনের ওঠাপড়া কখনো তাঁর শিল্পীসত্তাকে থামাতে পারেনি। রাজনীতিতেও তিনি ছিলেন সক্রিয়। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নারীর অধিকার ও সমাজসেবামূলক নানা কর্মকাণ্ডে তাঁর অংশগ্রহণ তাঁকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

মাত্র ১৩ বছর বয়সে  ‘সুতরাং’ ছবিতে কাজ করেছিলেন কবরী
মাত্র ১৩ বছর বয়সে ‘সুতরাং’ ছবিতে কাজ করেছিলেন কবরী

২০১৭ সালে প্রকাশিত তাঁর আত্মজীবনী ‘স্মৃতিটুকু থাক’ যেন তাঁর জীবনযাত্রারই একটি প্রতিচ্ছবি। জীবদ্দশায় তিনি পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার, ঋষিজ পদকসহ অসংখ্য সম্মাননা—যার মধ্যে রয়েছে আজীবন সম্মাননাও।
কবরীর পছন্দের জগৎও ছিল বৈচিত্র্যময়। সোফিয়া লরেন থেকে অড্রে হেপবার্ন, উত্তম কুমার থেকে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়—বিশ্ব ও বাংলা সিনেমার সেরা তারকারাই ছিলেন তাঁর প্রিয়। সংগীতে মান্না দে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, শ্রীকান্ত আচার্য, সুবীর নন্দী, সাবিনা ইয়াসমীন—এই তালিকাও তাঁর রুচির গভীরতার সাক্ষ্য দেয়। আর একটি অপূর্ণ স্বপ্ন—অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে অভিনয়—যা শেষ পর্যন্ত অধরাই থেকে যায়।

‘সুজন সখী’ ছবিতে কবরী ও ফারুক
‘সুজন সখী’ ছবিতে কবরী ও ফারুকছবি: সংগৃহীত

২০২১ সালের ১৭ এপ্রিল, করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭১ বছর বয়সে তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। বনানী কবরস্থানে তাঁকে শায়িত করা হয়। শেষ দিন পর্যন্ত তিনি ছিলেন সরব—ক্যামেরার সামনে থেকে পেছনে, আলো থেকে কখনোই দূরে নন।

বিশেষ ফটোশুটে সারাহ বেগম কবরী
বিশেষ ফটোশুটে সারাহ বেগম কবরী

সহশিল্পীদের চোখে তিনি ছিলেন আদর্শ। উজ্জ্বল বলেছিলেন—একজন বাঙালি নায়িকার সংজ্ঞাই ছিলেন কবরী। সুজাতা তাঁকে দেখেছেন শক্তিশালী ও স্পষ্টবাদী একজন অভিনেত্রী হিসেবে। আর সোহেল রানার কথায়—‘শত বছরে একজন কবরীই জন্মায়।’

মডেলিং থেকে শুরু করে বলিউড, আন্তর্জাতিক মঞ্চ—সবখানেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। আজ তাঁর জন্মদিন। তিনি আর কেউ নন লারা দত্ত। জন্মদিন উপলক্ষে আলো ফেলা যাক তাঁর জীবন ও ক্যারিয়ারে।

১৯৭৮ সালের ১৬ এপ্রিল ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে জন্মগ্রহণ করেন লারা দত্ত। তাঁর বাবা এল কে দত্ত ছিলেন ভারতীয় বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা। বাবার চাকরির কারণে দেশের বিভিন্ন শহরে তাঁর শৈশব কাটে। বেঙ্গালুরুতে স্কুলজীবন শেষ করে তিনি ভর্তি হন ইউনিভার্সিটি অব মুম্বাইয়ে। ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে তাঁর শিক্ষাজীবন শেষ হয়। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন আত্মবিশ্বাসী, বুদ্ধিদীপ্ত এবং মঞ্চে সাবলীল, যা পরবর্তী সময় তাঁর ক্যারিয়ারের ভিত্তি গড়ে দেয়।

লারার জীবনের মোড় ঘুরে যায় ২০০০ সালে। সে বছর তিনি প্রথমে জিতেছিলেন ‘ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া’। এরপর একই বছর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিনিধিত্ব করে জয় করেন ‘মিস ইউনিভার্স’।

এই অর্জন শুধু লারার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং ভারতের জন্যও ছিল গর্বের মুহূর্ত। বিচারকদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তাঁর আত্মবিশ্বাসী ও বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর তাঁকে অন্য প্রতিযোগীদের থেকে আলাদা করে তোলে। অনেকেই মনে করেন, সেই সময়কার অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স ছিল এটি।

লারা দত্ত। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
লারা দত্ত। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

বিশ্বসুন্দরী হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই বলিউডের দরজা খুলে যায় লারার জন্য। ২০০৩ সালে ‘আন্দাজ’ ছবির মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। ছবিতে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন অক্ষয় কুমার ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। প্রথম ছবিতেই তিনি জিতে নেন ফিল্মফেয়ার সেরা নবাগত অভিনেত্রীর পুরস্কার। তবে শুরুটা যতটা ঝলমলে মনে হয়েছিল, পরবর্তী পথটা ততটা সহজ ছিল না।

প্রথম দিকে লারার অভিনয় নিয়ে সমালোচনা ছিল। অনেকেই তাঁকে ‘গ্ল্যামারাস কিন্তু সীমিত’ অভিনেত্রী হিসেবে দেখতেন। একের পর এক ছবি বক্স অফিসে ব্যর্থ হতে থাকলে তাঁর ক্যারিয়ার নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

বলিউডে টিকে থাকা সহজ নয়—এই সত্য খুব দ্রুতই বুঝে যান লারা দত্ত। ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়টা তাঁর জন্য ছিল কঠিন। বেশ কিছু ছবি ব্যর্থ হওয়ায় তিনি ক্যারিয়ারের এক সংকটময় পর্যায়ে পৌঁছান।

তবে এখানেই লারার দৃঢ়তা প্রকাশ পায়। ধীরে ধীরে তিনি নিজের অভিনয়ের ধরন বদলাতে শুরু করেন। গ্ল্যামারাস চরিত্রের বাইরে গিয়ে ভিন্নধর্মী ও বাস্তবধর্মী চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন।

২০০৬ সালে ‘ভাগম ভাগ’ এবং পরে ‘নো অ্যান্টি’ ছবিতে লারার কমেডি টাইমিং দর্শকদের নজর কাড়ে। বিশেষ করে কমেডি ঘরানায় তিনি নিজেকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

তারপর ‘পার্টনার’ ছবিতে অভিনয় করে আবারও আলোচনায় আসেন। এখানে লারার উপস্থিতি প্রমাণ করে, শুধু গ্ল্যামার নয়—অভিনয়ের ক্ষেত্রেও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেন।

লারা দত্ত। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
লারা দত্ত। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লারা দত্ত অভিনয়ে পরিণত হয়ে ওঠেন। ‘বিল্লু’-তে তাঁর সংযত অভিনয় এবং ‘চলো দিল্লি’–তে তাঁর পারফরম্যান্স দর্শকদের প্রশংসা পায়। বিশেষ করে ‘চলো দিল্লি’ ছবিতে তিনি শুধু অভিনয়ই করেননি, প্রযোজনাতেও যুক্ত ছিলেন। এটি তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন এক অধ্যায় যোগ করে, একজন অভিনেত্রী থেকে নির্মাতা হয়ে ওঠা।
আরও সুযোগ পাওয়া কি লারার উচিত ছিল?

এ প্রশ্নের জবাবে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘যা পেয়েছি, তাতে সন্তুষ্ট। বরং ২০ বছর পেছনের দিকে তাকালে নিজেকে আমার অত্যন্ত ভাগ্যবতী বলে মনে হয়। কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন যে পেছনের জীবনে ফিরে আমি কী বদলাতে চাই। আমার উত্তর হবে যে কিছুই বদলাতে চাই না। এই জীবনে যা পেয়েছি, তাতে আমি খুব খুশি। আমি আজ পর্যন্ত যেসব চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ পেয়েছি আর এখনো নিজেকে মেলে ধরছি, তাতে আমি ভীষণই খুশি। জীবনের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

মাঝে কিছুটা বিরতি পরলেও এখন চুটিয়ে কাজ করছেন লারা। ওটিটিতে বটেই নতুন নতুন সিনেমায় দেখা যাবে তাঁকে। ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ চলতি বছরই মুক্তি পাওয়ার কথা। এ ছাড়া আরও দুটি সিনেমার শুটিং চলছে।

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

 
 
 

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আগামী আসরের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি। আর এ সিদ্ধান্তের পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে তাঁর মা, অভিনেত্রী আনোয়ারা বেগমের দীর্ঘদিনের একটি ইচ্ছা। মুক্তি জানিয়েছেন, শিল্পী সমিতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি এবার তিনি সরাসরি নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে চান। তবে এ সিদ্ধান্ত এক দিনে নয়, বরং মায়ের স্বপ্ন, শিল্পীদের অনুরোধ এবং দীর্ঘদিনের সংগঠনিক অভিজ্ঞতা মিলেই এসেছে।

রুমানা ইসলাম মুক্তি
রুমানা ইসলাম মুক্তি, ছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে

মুক্তি বলেন, ‘আমার মা সব সময় চাইতেন, আমি যেন শিল্পীদের কল্যাণে আরও বড় দায়িত্বে যাই। তাঁর ইচ্ছা ছিল, আমি যেন শিল্পী সমিতির নেতৃত্বে থেকে কাজ করি। সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই এবার সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ শুধু মায়ের স্বপ্নই নয়, বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও তাঁকে উৎসাহিত করেছে বলে জানান মুক্তি। গত দেড় বছরে তিনি সহকর্মী শিল্পীদের সঙ্গে নানা সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।

রুমানা ইসলাম মুক্তি
রুমানা ইসলাম মুক্তি, ছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে
 

মুক্তি আরও বলেন, ঈদ উপলক্ষে শিল্পীদের উপহার বিতরণ, বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন এবং প্রয়াত শিল্পীদের স্মরণে বড় পরিসরে স্মরণসভার মতো উদ্যোগে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তাঁকে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আরও আত্মবিশ্বাসী করেছে।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদ—যেখানে নেতৃত্বে আছেন মিশা সওদাগর ও ডিপজলের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে ২৪ এপ্রিল। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজন বাধ্যতামূলক। সেই হিসাবে আগামী জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুতে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

অভিনেত্রী মা আনোয়ারা ও চিত্রনায়িকা মেয়ে মুক্তি
অভিনেত্রী মা আনোয়ারা ও চিত্রনায়িকা মেয়ে মুক্তি সংগৃহীত

এবারের নির্বাচনে মুক্তির নেতৃত্বে একটি প্যানেল গঠনের আলোচনাও চলছে বলে জানা গেছে। শিল্পীদের একটি অংশ মনে করছেন, তাঁর দীর্ঘদিনের পারিবারিক ঐতিহ্য, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও শিল্পীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হিসেবে সামনে এনেছে।

১৯৯২ সালে গৌতম ঘোষের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয় যাত্রা শুরু করেন রুমানা ইসলাম মুক্তি। এরপর ‘চাঁদের আলো’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘হাছন রাজা’, ‘জগৎ সংসার’সহ একাধিক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন।

রুমানা ইসলাম মুক্তি
রুমানা ইসলাম মুক্তি, ছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে

মুক্তির মা আনোয়ারা বেগম দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। মেয়ের এই নতুন সাংগঠনিক যাত্রায় মায়ের ভূমিকা তাই আলাদা তাৎপর্য বহন করছে। সব মিলিয়ে মায়ের স্বপ্নপূরণ, শিল্পীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে নতুন এক যাত্রায় পা রাখছেন মুক্তি। এখন দেখার বিষয়, শিল্পী সমিতির ভোটের মাঠে এই সম্পর্ক ও ঐতিহ্যের প্রভাব কতটা কাজ করে।

বিজু বিহু সাংগ্রাই বৈসু বিষু চাংলান চাংক্রান পাতা ২০২৬ উপলক্ষে জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী জোনাকি চাকমার মঞ্চ কাঁপানো সংগীত পরিবেশনা।

 

পাহাড়ে বৃহত্তর সামাজিক উৎসব চলছে

রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট পাঁচ দিন ব্যাপী সাংস্কৃতি উৎসব ও মেলার আয়োজন করেছে। এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর মানুষের ঐতিহ্যের এবং সংস্কৃতির নাচ গান নাটক পালা ও নানা উপকরণ নিয়ে উৎসবে মুখর হয়েছে।

শিশুরা বর্ণিল পোশাকে সেজেছে আর নৃ্ত্য পরিবেশন করেছে। আরও ঐতিহ্যের খেলাধুলা উপাস্থাপন ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হছেছে।

এ অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এড.দীপেন দেওয়ান। ৫এপ্রিল র‌্যালীর মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যাত্রা শুরু হয়। এখানে উপস্থিত রয়েছেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার, রাঙ্গামাটি রিজিওয়নের রিজিওয়ন কন্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, এসপিপি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী।

এ ছাড়াও বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক ব্যত্তিত্ব, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও মিডিয়ার কর্মীসহ শত শত দর্শনার্থী।

পাহাড়ে বৃহত্তর সামাজি উৎসব বিজু বৈসু সাংগ্রাই বিহু বিষু চাংলান চাংক্রান পাতা চার দিন ব্যাপী উৎসবের উদ্বোধন হয় ৯ এ্রপ্রিল রাঙ্গামাটি পৌর প্রাঙ্গনে। এ অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির চেয়ারম্যান ও আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা।

অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন সাবেক সাংসদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান উষাতন তালুকদার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক উপসচিব প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা। আরো উপস্থিত রয়েছেন সাবেক যুগ্ম সচিব কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা।

 এ উৎসবে যোগ দিয়েছেন নানান বয়সী ও বাহারী রঙের পোশাক পরিহিত নারী পুরষ। তাদের হাতে নানান দাবি সংবলিত প্লে কার্ড ও ব্যানার। আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর সাংস্কৃতি উপকরণ ডিসপ্লে করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আদিবাসি ফোরাম পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক ইন্টু মনি তালুকদার ।

সাবেক সাংসদ বিএনপি সরকারের প্রতি পার্বত্য ‍চুক্তি বাস্তবায়নের আহবান জানান এবং এ ব্যাপারে জনগণকে আরো বেশি সচেতন হতে বলেন । তিনি আরো অধিকতর অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সকল শ্রেণীর মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।