আলোচিত মডেল, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনয়শিল্পী সিমরিন লুবাবা বলছেন, তিনি এখনো বিয়ে করেননি, তবে বাগ্‌দান সেরেছেন।

গতকাল রাতে লুবাবার একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে তাঁর বিয়ের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মধ্যে আজ সন্ধ্যায় আরেক ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন তিনি।

বাগ্‌দত্তার সঙ্গে তোলা ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে সিমরিন লুবাবা লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের দুই পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘরোয়া পরিবেশে আমাদের বাগ্‌দান সম্পন্ন হয়েছে।’

বাগ্‌দত্তার সঙ্গে তোলা ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন সিমরিন লুবাবা
বাগ্‌দত্তার সঙ্গে তোলা ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন সিমরিন লুবাবাফেসবুক থেকে

দুজনের ছবিটি পেছন থেকে তোলা, ফলে বাগ্‌দত্তাকে চেনা যাচ্ছে না। তাঁর পরিচয়ও প্রকাশ করেননি।

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুসারে ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়ে ও ২১ বছরের কম বয়সী ছেলের বিয়ে হলে তা বাল্যবিবাহ। কেউ কেউ বলছেন, লুবাবার বয়স এখনো ১৮ বছর হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মধ্যে লুবাবা ফেসবুকে লিখেছেন, তিনি এখনো বিয়ে করেননি। তাঁর ভাষ্য, ‘বাংলাদেশ সরকারের আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে আমাদের বিবাহ সম্পন্ন হবে, ইনশা আল্লাহ। আমরা সকলের কাছে দোয়া প্রার্থী।’

লুবাবা ও তাঁর দাদা প্রয়াত অভিনেতা আবদুল কাদের
লুবাবা ও তাঁর দাদা প্রয়াত অভিনেতা আবদুল কাদেরফাইল ছবি

সিমরিন লুবাবা ছোটবেলা থেকেই মিডিয়ায় পরিচিত মুখ। প্রয়াত অভিনেতা আবদুল কাদেরের নাতনি হিসেবে খুব অল্প বয়সেই অভিনয়ে আসেন। শিশুশিল্পী হিসেবে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর নিয়মিত অভিনয় ও মডেলিংয়ে কাজ করেছেন।

তবে গত বছরের শেষ দিকে হঠাৎই বিনোদনজগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন লুবাবা।

তুর্কি ধারাবাহিক ‘ভেনডেটা’ এখন বিশ্বের ৭০টির বেশি দেশে সম্প্রচার করা হচ্ছে; এর জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে। মূলত একটি পারিবারিক রক্তক্ষয়ী শত্রুতার প্রেক্ষাপটে দুই তরুণ, দিলান ও বারানের প্রেম এবং সংগ্রামের গল্প বলছে এই ধারাবাহিক। এই সিরিজটি নির্মাণ করেছে রেইনস পিকচার্স ও ইউনিক ফিল্ম। ধারাবাহিকটি তুরস্কে সম্প্রচারিত হচ্ছে কানাল ৭-এ।

রক্তক্ষয়ী শত্রুতা থেকে প্রেম

ধারাবাহিকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন দিলান ও বারান, যাঁদের চরিত্রে অভিনয় করছেন ইয়াগমুর ইউকসেল ও বারিশ বাকতাস। দুই পরিবার দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের সঙ্গে শত্রুতা করে আসছে। শান্তি স্থাপনের জন্য তাঁদের বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়।

শুরুর দিকে সম্পর্ক ছিল ‘অস্বীকৃত’, একে অপরকে পছন্দ করতেও তারা দ্বিধা করত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা বোঝে যে তাদের মধ্যে জেগে ওঠা টুকরা টুকরা আকর্ষণ একদিকে প্রেমের সূচনা করতে পারে, অন্যদিকে পুরো জীবন ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে পারে। দর্শকেরা প্রতিটি দৃশ্যে দেখেছে, কীভাবে ছোট ছোট নীরব অনুভূতি, চুপচাপ একে অপরের দিকে টান এবং মানসিক টানাপোড়েন ধীরে ধীরে গভীর সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যায়।

আন্তর্জাতিক সাফল্য: ৭০টির বেশি দেশে দর্শকপ্রিয়তা
‘ভেনডেটা’ শুধু তুরস্কেই নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও সফলতা অর্জন করেছে। জর্জিয়া, রোমানিয়া, পোল্যান্ড, বুলগেরিয়া, ইউক্রেন, কাজাখস্তান এবং সাব-সাহারান আফ্রিকায় এটি প্রচুর দর্শক টানছে। বিশেষত জর্জিয়ায় এটি প্রাইম টাইমে শীর্ষস্থানীয় ধারাবাহিক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

‘ভেনডেটা’র দৃশ্য। আইএমডিবি
‘ভেনডেটা’র দৃশ্য। আইএমডিবি

বিপণন সংস্থা গ্লোবাল এজেন্সির প্রধান ইজেট পিন্টো বলেন, ‘আমরা সিরিজটি আন্তর্জাতিকভাবে বিপণন শুরুর পর থেকেই এটি আলোচিত হয়েছে। যেকোনো দেশে সম্প্রচার শুরু হলেই এটি শীর্ষস্থান দখল করে নেয়। দর্শকের সঙ্গে সংযোগ এত গভীর যে তারা চরিত্র এবং গল্পের সঙ্গে আবদ্ধ হয়ে যায়।’

প্রধান চরিত্র ও তারকা শক্তি
মূল অভিনেতারা প্রথমে নতুন মুখ হলেও, তাঁদের অভিনয়, আবেগপ্রবণতা এবং চরিত্রের গভীরতার কারণে তাঁরা আন্তর্জাতিকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। ইজেট পিন্টো আরও জানান, তাঁদের অনুগামী সংখ্যা এক মিলিয়নেরও বেশি, যা ধারাবাহিকের দর্শকপ্রিয়তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
দিলান চরিত্রটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁকে একজন শক্তিশালী নারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যিনি শুধু প্রেমে নয়, বরং পরিবার, ন্যায় এবং নিজের পরিচয় রক্ষায়ও দৃঢ়।

নারী সৃজনশীল দলের অবদান
‘ভেনডেটা’র সৃজনশীল দলের একটি বড় অংশ, বিশেষ করে চিত্রনাট্যকারেরা নারী। তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি গল্প বলার ধরনে নতুনত্ব এনেছে। একদিকে যেখানে প্রেম, প্রতিশোধ এবং নৈতিক দ্বন্দ্বের কাহিনি দর্শকদের মোহিত করছে, অন্যদিকে নারী চরিত্রের স্বতন্ত্রতা গল্পে ভারসাম্য বজায় রাখছে।

‘ভেনডেটা’র দৃশ্য। আইএমডিবি
‘ভেনডেটা’র দৃশ্য। আইএমডিবি

বন্ধুত্ব ও আন্তর্জাতিক ভক্তশ্রেণি
ধারাবাহিকের গল্প কেবল প্রেমের নয়, বন্ধুত্ব, পারিবারিক সম্পর্ক এবং সামাজিক বন্ধনের ওপরও দৃষ্টি রাখে। দর্শকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিকের প্রতিটি মুহূর্ত ভাগ করে নিচ্ছেন, মিম তৈরি করছেন। বিশ্বজুড়ে এটি নিয়ে অন্তর্জালে আলোচনা চলছে। ফলে ‘ভেনডেটা’ শুধু সিরিজ হিসেবে নয়, একটি আন্তর্জাতিক ভক্তশ্রেণিও তৈরি করেছে।

দর্শকের সঙ্গে সংযোগ
‘ভেনডেটা’র জনপ্রিয়তার আরেকটি কারণ এটির বাস্তবধর্মী উপস্থাপনা। গল্পের টানাপোড়েন, চরিত্রের বিকাশ এবং সামাজিক দৃষ্টিকোণ দর্শকের কাছে গভীরভাবে প্রভাব ফেলছে। এতে করে প্রতিটি দৃশ্যই শুধু বিনোদন নয়, বরং দর্শকের ভাবনার ক্ষেত্রকে প্রসারিত করছে।

ভ্যারাইটি অবলম্বনে

বলিউড অভিনেত্রী ভূমি পেড়নেকর মনে করেন, ঝুঁকি নেওয়ার সাহসই একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় শক্তি। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়েও সেই সাহসটুকু ধরে রাখতে চান তিনি। সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক আলাপচারিতায় নিজের নতুন ওয়েব সিরিজ ‘দলদল’, অভিনয়জীবনের পরিবর্তন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

অভিনয়জীবনের নতুন মোড়
ছোট শহরের বাস্তবধর্মী চরিত্রে অভিনয় করেই শুরুতে পরিচিতি পান ভূমি। ‘দম লাগা কে হ্যাঁয়সা’ ছবির সন্ধ্যা ভার্মা চরিত্র দিয়ে তাঁর অভিনয়যাত্রার শুরু। এরপর ‘বালা’, ‘আফওয়া’, ‘ভক্ষক’, ‘বাধাই দো’সহ একাধিক ছবিতে তাঁকে মধ্যবিত্ত পরিবারের সাধারণ মেয়ের ভূমিকায় দেখা গেছে।

সেদিক থেকে নতুন ওয়েব সিরিজ ‘দলদল’ তাঁর ক্যারিয়ারে এনেছে ভিন্নমাত্রা। ভূমি এখানে মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চের সর্বকনিষ্ঠ প্রধান কর্মকর্তা—ক্ষমতা, চাপ ও নৈতিক দ্বন্দ্বে জর্জরিত এক জটিল চরিত্র। ভূমি বলেন, ‘এটা আমার যাত্রার স্বাভাবিক পরবর্তী ধাপ বলেই মনে হয়েছে। আমি সব সময় এমন গল্পের দিকে ঝুঁকেছি, যেখানে সমাজ বা মানুষের আচরণকে প্রশ্ন করা হয়। কিন্তু দলদল মানুষের ভেতরের অন্ধকার দিকটা যেভাবে দেখিয়েছে, সে ধরনের কাজ আমি আগে করিনি।’

চরিত্রটি নিয়ে ভূমি আরও বলেন, ‘রীতা এমন একজন মানুষ, যে অমীমাংসিত ট্রমা ও নৈতিক দ্বন্দ্ব নিয়ে নীরবতার মধ্যে বাস করে। সিরিজটির জগৎ অন্ধকার, অস্বস্তিকর এবং মানসিকভাবে খুব চ্যালেঞ্জিং। সেই অস্বস্তিই আমাকে এই প্রকল্পের প্রতি টেনেছে।’ তাঁর ভাষায়, ‘এখন আমি এমন চরিত্র চাই, যারা সব কথা বলে না—দর্শকের ওপর ভরসা রাখে। যে চরিত্র আমাকে স্বাচ্ছন্দ্যের বাইরে নিয়ে গিয়ে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে। “দলদল” ঠিক সেটাই করেছে।’

ভূমি পেড়নেকর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
ভূমি পেড়নেকর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

বদল নয়, বিবর্তন
ভূমি জানান, এখন কাজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। ‘প্রথমে গল্প আমাকে অনুভূতির জায়গা থেকে টানে, তারপর ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিই। এখন “সঠিক প্রকল্প” বলতে আমি বুঝি এমন কিছু, যা আমাকে চ্যালেঞ্জ করবে, একটু ভয়ও দেখাবে।’ তিনি বলেন, ‘একঘেয়ে বা আরামদায়ক চরিত্রে আর আগ্রহ নেই; বরং এমন পরিচালক ও লেখকদের সঙ্গে কাজ করতে চাই, যাঁরা জটিলতা ও দ্ব্যর্থতাকে গুরুত্ব দেন।’

ভূমি পেড়নেকর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
ভূমি পেড়নেকর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

প্রায় এক দশকের ক্যারিয়ারের দিকে তাকিয়ে ‘বদল’ নয়, ‘বিবর্তন’ শব্দটিকেই প্রাধান্য দেন ভূমি। তাঁর ভাষায়, ‘শুরুতে ছোট শহরের সাধারণ মেয়ের চরিত্রে পরিচিতি পেলেও এখন আমি এমন নারীর গল্প বলতে চাই, যারা সামাজিক কাঠামোর ভেতরে নিজেদের জায়গা তৈরি করতে লড়াই করছে।’

ভূমি যোগ করেন, ‘চরিত্রের পরিসর বদলেছে, কিন্তু মানুষের গল্প জানার আগ্রহ একই আছে। আমার চরিত্রগুলো প্রায়ই এমন নারীদের নিয়ে, যারা সমাজ, শ্রেণি, লিঙ্গ ও নৈতিকতার কাঠামোর ভেতর নিজেদের টিকিয়ে রাখতে সংগ্রাম করে।’
গণ্ডি ভাঙার ইচ্ছা

‘অর্থবহ সিনেমা’ও কখনো কখনো একটি নির্দিষ্ট গণ্ডি তৈরি করতে পারে—এমনটাই মনে করেন ভূমি। তিনি বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রি এখন এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখানে বড় বাজেটের চমকপ্রদ সিনেমা এবং গভীর, সংবেদনশীল গল্প—দুটিই পাশাপাশি এগোচ্ছে। আমি এই দুই ধারাতেই কাজ করতে চাই।’

তবে একটি বিষয় ভূমি সব সময় ধরে রাখতে চান, ‘ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা’। তাঁর কথায়, ‘জটিল এবং সত্যনিষ্ঠ গল্প বেছে নেওয়ার সাহসটাই আমার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান। একজন অভিনেতা হিসেবে আমি সব সময় এমন পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করতে চাই, যারা সত্যিই কিছু বলতে চান।’

ভূমি পেড়নেকর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
ভূমি পেড়নেকর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও  অভিনেত্রী,মডেল সিমরিন লুবাবার বিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে  আলোচনা চলছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে নিজের ফেসবুক পোস্টে একটি ছবি প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। দুইটি আত্মা, এক কিবলা। দুনিয়া এবং আখিরাতের জন্য। আল্লাহ আমাকে একজন দ্বীন শেখার সঙ্গী উপহার দিয়েছেন।’—এই পোস্ট থেকেই মূলত বিয়ের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এটি লুবাবার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট।

তবে লুবাবার বিয়ের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তাঁর মা জাহিদা ইসলাম। পারিবারিক সূত্র থেকেও নির্দিষ্টভাবে বিয়ের তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।

লুবাবার পোস্টে একটি ছবি থাকলেও সেখানে বর–কনের চেহারা স্পষ্ট নয়। পাত্রের পরিচয় নিয়েও তিনি কিছু জানাননি। ফলে কে তাঁর জীবনসঙ্গী—এ নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমে পাত্রকে বিদেশপ্রবাসী বা আলেম বলে দাবি করা হলেও এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের দাবিকে ঘিরে চলছে নানা ধরনের তথ্য ও গুঞ্জন। কেউ বলছেন, আগেই নীরবে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে, আবার কেউ বলছেন, এটি কেবল ব্যক্তিগত জীবনের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত। তবে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সিমরিন লুবাবা
সিমরিন লুবাবা, ফেসবুক থেকে

সিমরিন লুবাবা ছোটবেলা থেকেই মিডিয়ায় পরিচিত মুখ। প্রয়াত অভিনেতা আবদুল কাদেরের নাতনি হিসেবে খুব অল্প বয়সেই অভিনয়ে আসেন। শিশুশিল্পী হিসেবে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর নিয়মিত অভিনয় ও মডেলিংয়ে কাজ করেছেন।

লুবাবা ও অভিনেতা আবদুল কাদের
লুবাবা ও অভিনেতা আবদুল কাদের
 

তবে গত বছরের শেষ দিকে হঠাৎ করেই বিনোদনজগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। পরে  জানান, তিনি আর প্রকাশ্যে আসবেন না। তাঁর মা তখন বলেছিলেন, ধর্মীয় অনুশীলনের দিকেই ঝুঁকেছেন লুবাবা এবং জীবনধারায় পরিবর্তন আনতে চান।

সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এবার তাঁর ব্যক্তিজীবন নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে বিয়ে হয়েছে—এমনটি নিশ্চিতভাবে বলার মতো কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

বলিউড অভিনেত্রী লারা দত্তর দীর্ঘ ক্যারিয়ার। কিন্তু পর্দার ঝলমলে জীবনের আড়ালে লুকিয়ে আছে এমন কিছু অভিজ্ঞতা, যা শুনলে আঁতকে উঠতে হয়। তারই একটি ঘটনা—সমুদ্রের ঢেউয়ে প্রায় প্রাণ হারানোর সেই দিন—আজও স্পষ্ট মনে রেখেছেন এই অভিনেত্রী।

ভয়ংকর সেই দিন
২০০৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘আন্দাজ’-এর শুটিং চলছিল সেদিন। একটি নাচের দৃশ্য ধারণের সময় আচমকা একটি শক্তিশালী ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে। মুহূর্তেই পানির নিচে তলিয়ে যান লারা। সমস্যা একটাই—তিনি সাঁতার জানতেন না।
লারার নিজের ভাষায়, ‘চামড়ার পোশাক পরে পানির নিচে চলে গিয়েছিলাম। সাঁতার জানতাম না, পাথরের মতো ডুবে যাচ্ছিলাম।’

পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল। ঠিক সেই সময় সহ-অভিনেতা অক্ষয় কুমার এগিয়ে আসেন। তিনি দ্রুত লারাকে ধরে তীরে তুলে আনেন। কিন্তু বিপদ তখনো কাটেনি। ঠান্ডা পানিতে দীর্ঘ সময় থাকার কারণে লারা হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হন। সঙ্গে সঙ্গে শুটিং বন্ধ করে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়; বরং গভীর ভয় তৈরি করেছিল লারার মনে। সমুদ্র, পানি—সবকিছু যেন আতঙ্কের প্রতীক হয়ে উঠেছিল।

লারা দত্ত। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
লারা দত্ত। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

কয়েক বছর পর, ২০০৯ সালে ‘ব্লু’ সিনেমার প্রস্তাব আসে। ছবিটি ছিল পানির নিচের অ্যাকশন নিয়ে। প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল ‘না’। তিনি সরাসরি ফোন করে অক্ষয় কুমারকে জানান, এই কাজ তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

কিন্তু অক্ষয়ের উত্তর ছিল একদম সহজ, ‘সাঁতার শিখে নাও।’

‘আন্দাজ’ সিনেমায় লারা ও অক্ষয়। আইএমডিবি
‘আন্দাজ’ সিনেমায় লারা ও অক্ষয়। আইএমডিবি

৩০ বছর বয়সে নতুন শুরু
চ্যালেঞ্জটা সহজ ছিল না। তবু ভয়কে জয় করার সিদ্ধান্ত নেন লারা। ৩০ বছর বয়সে তিনি সাঁতার ও ডাইভিং শেখা শুরু করেন। যে পানিই একসময় তাঁর কাছে আতঙ্ক ছিল, সেই পানিতেই ধীরে ধীরে স্বচ্ছন্দ হয়ে ওঠেন তিনি।

অবশেষে ‘ব্লু’-তে অভিনয় করেন। এ ছবির শুটিং ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ—খোলা সমুদ্রে, এমনকি হাঙরের উপস্থিতিতেও কিছু দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল। একই শুটিংয়ে একবার পানির নিচে দুর্ঘটনার মুখেও পড়েছিলেন অক্ষয় কুমার।

বক্স অফিসে খুব বেশি সাফল্য না পেলেও ‘ব্লু’ লারার জীবনে অন্য রকম গুরুত্ব বহন করে। কারণ, এ ছবির মধ্য দিয়ে তিনি নিজের সবচেয়ে বড় ভয়কে জয় করেছিলেন।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

এইচবিও ‘হ্যারি পটার’ টিভি সিরিজ বানানোর ঘোষণা দিয়েছিল ২০২৩ সালে। ‘হ্যারি পটার’-এর বই অবলম্বনে পূর্ণাঙ্গ একটি সিরিজ আসতে চলেছে, এ খবরে দারুণ খুশি ছিলেন ‘পটারহেড’রা। এরপর কেটে গেছে তিন বছরের বেশি সময়। অবশেষে ফুরাচ্ছে ভক্তদের অপেক্ষা, চলতি বছরের বড়দিনেই মুক্তি পাবে সিরিজটি। তাঁর আগে ট্রেলারের সাড়া দেখে বোঝা গেছে, সিরিজটি নিয়ে কতটা অপেক্ষায় ভক্তরা। কারণ, মুক্তির মাত্র দুই দিনের মধ্যে ট্রেলারটির ভিউ হয়েছে ২৭৭ মিলিয়ন! যা এটিকে এইচবিও ও এইচবিও ম্যাক্সের সবচেয়ে বেশি ভিউ হওয়া ট্রেলারে পরিণত করেছে।

এই সিরিজ তৈরি হয়েছে জে. কে. রাওলিংয়ের সাত খণ্ডের জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে। আগে যেখানে ড্যানিয়েল রেডক্লিফের অভিনয়ে বড় পর্দায় হ্যারি পটার বিশ্বজয় করেছিল, এবার সেই গল্পই নতুনভাবে বলা হবে টেলিভিশনের জন্য।
প্রথম মৌসুমে তুলে ধরা হবে ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য সোরসারার্স স্টোন’–এর কাহিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি মৌসুমে সিরিজের একটি করে বই তুলে ধরা হবে।

ট্রেলারে কী দেখা গেল
ট্রেলারে দেখা যায়—১১ বছর বয়সী হ্যারি, যে এতদিন জানত সে সাধারণ এক ছেলে, হঠাৎ করেই পায় জাদুর স্কুলে ভর্তি হওয়ার চিঠি। এরপর তার সামনে খুলে যায় এক অজানা জগৎ।

হ্যারি পরিচিত হয় তার ভবিষ্যৎ বন্ধু রন উইজলি ও হারমায়োনি গ্রেঞ্জারের সঙ্গে। হাতে ওঠে ‘সোর্টিং হ্যাট’, ক্লাসে যোগ দেয়, আবার কুইডিচ খেলায় অংশ নেয় গ্রিফিন্ডর দলের হয়ে।

হ্যারি ও হ্যাগ্রিডের একটি সংলাপ ট্রেলারের আবেগ বাড়িয়ে তোলে—হ্যারি জানতে চায় তার মা–বাবা সম্পর্কে। জবাবে হ্যাগ্রিড বলে, তাঁরা ছিলেন সাহসী, দয়ালু এবং সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো মানুষ।

‘হ্যারি পটার’–এর দৃশ্য। ভিডিও থেকে
‘হ্যারি পটার’–এর দৃশ্য। ভিডিও থেকে

নতুন মুখ, নতুন অভিনয়

এ সিরিজে হ্যারির চরিত্রে অভিনয় করেছেন ডমিনিক ম্যাকলাফলিন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন অ্যালাস্টেয়ার স্টাউট (রন) ও অ্যারাবেলা স্ট্যানটন (হারমায়োনি)। তাঁরা একসঙ্গে জাদুবিদ্যার পাঠ নেওয়ার পাশাপাশি ভয়ংকর লর্ড ভলডেমর্টের হুমকির মুখোমুখি হবেন।

হ্যারি পটার চরিত্রের জন্য নির্বাচিত ডমিনিক ম্যাকলাফলিন অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার সিরিজ ‘গিফটেড’, কমেডি সিনেমা ‘গ্রো’-তে অভিনয় করেছেন। ‘গ্রো’-তে তাঁর সহ–অভিনেতা হিসেবে কাজ করেছেন নেটফ্লিক্সের আলোচিত সিরিজ ‘ব্রিজারটন’-এর রোশুয়েল, ‘টেড লাসো’-এর জেরেমি সুইফট। রন উইসলি চরিত্রে আলাস্টার স্টাউটের হবে বড় পর্দার এটিই প্রথম কাজ। তবে এ তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট হারমায়োনি গ্রেঞ্জার চরিত্রের জন্য নির্বাচিত হয় আরাবেলা স্ট্যানটন। এই বয়সেই তার রয়েছে মঞ্চে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালে সে লন্ডনের ওয়েস্টএন্ডে ‘ম্যাটিল্ডা-দ্য মিউজিক্যাল’-এর ম্যাটিল্ডা চরিত্রে অভিনয় করে। তার আবেগপ্রবণ অভিনয়শৈলীতে দর্শকদের মুগ্ধ করে।

অভিজ্ঞ নির্মাতাদের হাত ধরে
সিরিজটির শোরানার হিসেবে আছেন ফ্রানচেস্কা গার্ডিনার, যিনি আগে ‘সাকসেশন’–এর জন্য প্রশংসিত হয়েছেন। এটি পরিচালনা করবেন মার্ক মেলড, যিনি আগে ‘গেম অব থ্রোনস’–এর মতো জনপ্রিয় সিরিজে কাজ করেছেন।

‘হ্যারি পটার’–এর দৃশ্য। ভিডিও থেকে
‘হ্যারি পটার’–এর দৃশ্য। ভিডিও থেকে

মুক্তির অপেক্ষা
সবকিছু ঠিক থাকলে ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফারস স্টোন’ মুক্তি পাবে চলতি বছরের বড়দিনে। এটি প্রচারিত হবে এইচবিও টিভি, ওটিটিতে দেখা যাবে এইচবিও ম্যাক্সে।

ব্রিটিশ লেখিকা জে কে রাওলিংয়ের ‘হ্যারি পটার’ সিরিজের সাতটি বই রয়েছে। সাতটি বই অবলম্বনে ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত আটটি সিনেমা বানানো হয়। সিনেমার পর্দার হ্যারি পটারের বিশাল জাদুর দুনিয়ার খুব কম জিনিসই ফুটে উঠেছে। এত কম সময় সিনেমা দেখে পটারপ্রেমীদের যে মন ভরত না, তা বলাই বাহুল্য। তাই এইচবিও থেকে যখন ঘোষণা আসে, সিরিজটি হবে সত্যিকার অর্থেই হ্যারি পটার বইয়ের পূর্ণাঙ্গ রূপান্তর, তখন পটারপ্রেমীদের মধ্যে আলোড়ন ওঠে। সেটা কতটা ট্রেলার মুক্তির পর সাড়া দেখেই বোঝা যাচ্ছে।

দ্য হলিউড রিপোর্টার অবলম্বনে

পশ্চিমবাংলার দিঘার তালসারি সৈকতে শুটিং করতে গিয়ে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা? শুটিং চলাকালেই, নাকি শেষ হওয়ার পর? নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

গতকাল রোববার সন্ধ্যার পর এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। রাতেই রাহুলের মরদেহ তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। আজ সোমবার সেখানে ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে। সে প্রতিবেদন থেকেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য মিলিয়ে ঘটনার পূর্ণচিত্র বের করার চেষ্টা করছে তদন্তকারী সংস্থা।

ঘটনাস্থলের ভিডিও ও বর্ণনায় যা মিলছে
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময়ের ভিডিও ফুটেজ তাদের হাতে এসেছে। তালসারির সৈকতে শুটিং সেটে একাধিক ক্যামেরা বসানো ছিল, সেগুলোর ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের একটি দৃশ্যের শুটিং চলছিল। সেখানে রাহুল ও সহ-অভিনেত্রী শ্বেতার একটি নাচের দৃশ্য ধারণ করা হচ্ছিল। দৃশ্য অনুযায়ী, গোড়ালিসমান পানিতে দাঁড়িয়ে অভিনয় করার কথা ছিল।

ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মিলিয়ে জানা গেছে, শুটিংয়ের সময় দুজন ধীরে ধীরে সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। কিছুটা এগোনোর পর শ্বেতা ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। তাঁকে বাঁচাতে বা ধরে রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে রাহুলও পড়ে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ সময় সমুদ্রে জোয়ার শুরু হচ্ছিল। পানির স্রোতের ধাক্কায় রাহুল কিছুটা দূরে ভেসে যান। ইউনিটের সদস্যরা দ্রুত শ্বেতাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও রাহুলক সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করা যায়নি। প্রায় দুই ঘণ্টার তল্লাশি শেষে টেকনিশিয়ানরাই তাঁকে উদ্ধার করেন বলে জানা গেছে।

রাহুল অরুণোদয়। ফেসবুক থেকে
রাহুল অরুণোদয়। ফেসবুক থেকে

পরিচালকের বক্তব্য
পরিচালক শুভাশিস মণ্ডল জানান, বিকেল প্রায় পাঁচটার দিকে শুটিং চলছিল। দৃশ্য অনুযায়ী, সাগরপাড়ে অল্প পানিতেই অভিনয়ের কথা ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাহুল হঠাৎ নির্ধারিত সীমার বাইরে সমুদ্রের দিকে এগোতে শুরু করেন। ইউনিটের পক্ষ থেকে বারবার থামতে বলা হলেও তিনি এগোতেই থাকেন। একপর্যায়ে কোমরসমান পানিতে পৌঁছে যান তিনি। পরিচালক জানান, সেই সময়েও সহ-অভিনেত্রী শ্বেতার হাত ধরে ছিলেন রাহুল। পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ বুঝে ইউনিটের কয়েকজন সদস্য ও আশপাশের নৌকার লোকজন সতর্ক হয়ে এগিয়ে আসেন। এ সময় আচমকাই ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন রাহুল। তিনি ঢেউয়ে ডুবে যেতে থাকেন এবং কিছু পরিমাণ পানি গিলে ফেলেন। দ্রুত তাঁকে টেনে তোলা হলেও পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে পড়ে।

একটি ঢেউয়ের ধাক্কা
ধারাবাহিকটির নির্বাহী প্রযোজক শান্তনু নন্দী ভারতীয় গণমাধ্যমকে বলেন, শুটিং প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। একটি ড্রোন শট নেওয়ার কথা ছিল, যা গোড়ালিসমান পানিতে হওয়ার কথা। তাঁর দাবি, সেখান থেকে কিছুটা এগিয়ে যান রাহুল। ইউনিট থেকে সতর্ক করা হলেও তিনি এগোতে থাকেন। পরে একটি ঢেউয়ের ধাক্কায় তাঁর পা হড়কে যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তিনি আরও জানান, ঘটনাটি পাঁচ থেকে সাত মিনিটের মধ্যেই ঘটে যায়। ইউনিটের সদস্যরা এবং কাছাকাছি থাকা নৌকার লোকজন দ্রুত পানিতে নেমে তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন।

উদ্ধার ও তদন্তে নতুন প্রশ্ন
উদ্ধারের পর দ্রুত রাহুলকে দিঘা সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, গাড়িতে তোলার সময় তাঁর জ্ঞান ছিল। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাহুল অরুণোদয়। ফেসবুক থেকে
রাহুল অরুণোদয়। ফেসবুক থেকে

অন্যদিকে কিছু সূত্রে দাবি করা হয়েছে, শ্বেতাকে বাঁচাতে গিয়েই রাহুল পানিতে পড়ে যান। তবে এ তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। এ ঘটনায় দিঘা থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা হয়েছে। একই সঙ্গে ওডিশা পুলিশও তদন্তে যুক্ত হয়েছে। শুটিংয়ের সময় নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া শুটিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি আগে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এখন নজর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের দিকে। আজ তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যম।

যুক্তরাষ্ট্রে শিল্প–সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন অস্কারজয়ী হলিউড অভিনেত্রী জেন ফন্ডা। গত শুক্রবার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফরমিং আর্টসের  সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান—‘নীরবতা ভাঙুন’ এবং ‘স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ান’।

শুক্রবার বৃষ্টিভেজা আবহাওয়ার মধ্যেও শতাধিক সাংবাদিক, শিল্পী ও লেখক এই সমাবেশে অংশ নেন। জেন ফন্ডার নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উঠে আসে বই নিষিদ্ধ করা, রাজনৈতিক সেন্সরশিপ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর নানা হুমকির অভিযোগ।

শিল্প ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ফন্ডা বলেন, দেশে বই নিষিদ্ধ করা হচ্ছে, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর স্মারক সরিয়ে ফেলা হচ্ছে এবং শিল্প–সংস্কৃতির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থায়ন কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ফন্ডা অভিযোগ করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময় এসব প্রবণতা আরও তীব্র হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘শিল্পের এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রটি এখন এমন কিছুর প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা পুরো দেশে ঘটছে।’

জেন ফন্ডা। রয়টার্স

কেন কেনেডি সেন্টারকে ঘিরে প্রতিবাদ
এই সমাবেশের স্থান হিসেবে কেনেডি সেন্টার বেছে নেওয়া ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। অভিযোগ রয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এই জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ‘অপছন্দনীয়’ বা তথাকথিত প্রগতিশীল কর্মসূচিগুলো সীমিত করার চেষ্টা করছে।

ফন্ডা বলেন, শিল্পীরা আদর্শিক চাপের কাছে নতিস্বীকার না করায় প্রতিষ্ঠানটি কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। এমনকি সংস্কারের অজুহাতে এটি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ রাখার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

গণমাধ্যম ও করপোরেট প্রভাব
সমাবেশে উপস্থিত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক চাপ ও করপোরেট মালিকানার প্রভাবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, বড় বড় করপোরেশন গণমাধ্যম কিনে নিয়ে সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে চাইছে, যার ফলে ভিন্নমত বা সমালোচনার জায়গা সংকুচিত হচ্ছে।

বই নিষিদ্ধ ও সাংস্কৃতিক নিয়ন্ত্রণ
লেখক ও শিল্পীরা অভিযোগ করেন, শত শত বই স্কুল লাইব্রেরি থেকে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। এতে তরুণ প্রজন্মের চিন্তার স্বাধীনতা সীমিত হয়ে পড়ছে।
একজন লেখক প্রশ্ন তোলেন, ‘যে বইগুলো সরানো হচ্ছে, সেগুলো কি সত্যিই বিপজ্জনক—নাকি আমরা ভিন্নমতের ভয় পাচ্ছি?’

ইতিহাসের প্রতিধ্বনি

সমাবেশে ইতিহাসের উদাহরণও তুলে ধরা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৫০-এর দশকের ম্যাককার্থিজমের সময় যেমন শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীদের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তার তুলনা টানেন বক্তারা।
তাঁদের মতে, শিল্প ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রবণতার অংশ।

শেষ বার্তা
সমাবেশের শেষে জেন ফন্ডা সতর্ক করে বলেন, যদি মানুষ এখনই প্রতিরোধ গড়ে না তোলে, তাহলে ভবিষ্যতে সংবাদমাধ্যম আরও নিয়ন্ত্রিত হবে, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে সেন্সরশিপ বাড়বে এবং সমাজে মুক্তচিন্তার জায়গা সংকুচিত হবে।
তাঁর কথায়, ‘ভয় ছড়িয়ে পড়লে নীরবতা তৈরি হয়। আর সেই নীরবতাই সবচেয়ে বড় বিপদ। এখনই সময় কথা বলার।’

অভিনয় ক্যারিয়ার কিংবা ব্যক্তিজীবন—তিনি বরাবরই আলোচনায় যেমন ছিলেন, তেমনি তাঁকে ঘিরে নিয়মিত সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সেই অভিনেত্রী জুলিয়া স্টিলসের আজ জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে তাঁকে নিয়ে জেনে নিতে পারেন জানা-অজানা কথাগুলো।
মাত্র ১১ বছর বয়সে থিয়েটারে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর ক্যারিয়ার শুরু হয়। তবে সিনেমায় অভিনয় নিয়ে তাঁর তেমন আগ্রহ ছিল না।
মাত্র ১১ বছর বয়সে থিয়েটারে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর ক্যারিয়ার শুরু হয়। তবে সিনেমায় অভিনয় নিয়ে তাঁর তেমন আগ্রহ ছিল না।ছবি: ইনস্টাগ্রাম
তাঁর চারপাশেই ছিলেন সিনেমার মানুষ। তাঁদের আগ্রহে জুলিয়া সিনেমার ছোট ছোট চরিত্র দিয়েই অভিনয়ে জায়গা করেন নেন। ‘টেন থিংস আই হেট অ্যাবাউট ইউ’ চলচ্চিত্র তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা দেয়। আর পেছনে তাকাতে হয়নি।
তাঁর চারপাশেই ছিলেন সিনেমার মানুষ। তাঁদের আগ্রহে জুলিয়া সিনেমার ছোট ছোট চরিত্র দিয়েই অভিনয়ে জায়গা করেন নেন। ‘টেন থিংস আই হেট অ্যাবাউট ইউ’ চলচ্চিত্র তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা দেয়। আর পেছনে তাকাতে হয়নি।ছবি: ইনস্টাগ্রাম
দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের ক্যারিয়ারে ব্যতিক্রম সব চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে মজা করে বলেছিলেন, ‘আমি প্রিন্সের সঙ্গে একাধিকবার ডেট করেছি।’ মূলত ‘হ্যামলেট’ ও ‘দ্য প্রিন্স অ্যান্ড মি’ সিনেমায় ডেনমার্কের প্রিন্সের সঙ্গে প্রেম করেন।
দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের ক্যারিয়ারে ব্যতিক্রম সব চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে মজা করে বলেছিলেন, ‘আমি প্রিন্সের সঙ্গে একাধিকবার ডেট করেছি।’ মূলত ‘হ্যামলেট’ ও ‘দ্য প্রিন্স অ্যান্ড মি’ সিনেমায় ডেনমার্কের প্রিন্সের সঙ্গে প্রেম করেন।ছবি: ইনস্টাগ্রাম
বিভিন্ন সময় তিনি পছন্দের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু ২০০৫ সালে তাঁকে ছাড়তে হয় ‘ফ্যান্টাস্টিক ফোর’। সিনেমাটি তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় আরও ঘুরিয়ে দিতে পারত। সিনেমাটি ছাড়ায় আফসোস এখনো রয়ে গেছে।
বিভিন্ন সময় তিনি পছন্দের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু ২০০৫ সালে তাঁকে ছাড়তে হয় ‘ফ্যান্টাস্টিক ফোর’। সিনেমাটি তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় আরও ঘুরিয়ে দিতে পারত। সিনেমাটি ছাড়ায় আফসোস এখনো রয়ে গেছে।ছবি: ইনস্টাগ্রাম
প্রেম, বিয়ে নিয়ে তিনি অনেক আলোচিত। ক্যারিয়ারে একাধিকবার সুন্দরী ও যৌন আবেদনময়ীর তালিকায় জায়গা পেয়েছেন।
প্রেম, বিয়ে নিয়ে তিনি অনেক আলোচিত। ক্যারিয়ারে একাধিকবার সুন্দরী ও যৌন আবেদনময়ীর তালিকায় জায়গা পেয়েছেন।ছবি: ইনস্টাগ্রাম
এমি, গোল্ডেন গ্লোবে মনোনয়ন পাওয়া এই অভিনেত্রী ব্যক্তিজীবনে মনে করেন, ‘যত সময় দর্শকদের ক্রাশ থাকা যায়, তত সময়ই তারকাদের নিয়ে আলোচনা হয়। আমি সব সময় চেয়েছি, অভিনেত্রী হিসেবে দর্শক আমাকে মনে রাখুক।’
এমি, গোল্ডেন গ্লোবে মনোনয়ন পাওয়া এই অভিনেত্রী ব্যক্তিজীবনে মনে করেন, ‘যত সময় দর্শকদের ক্রাশ থাকা যায়, তত সময়ই তারকাদের নিয়ে আলোচনা হয়। আমি সব সময় চেয়েছি, অভিনেত্রী হিসেবে দর্শক আমাকে মনে রাখুক।’ছবি: ইনস্টাগ্রাম

টেলিভিশন আর ওটিটির চেনা মুখ পারসা ইভানা। আজ সকালে বেশ কয়েকটি নতুন ছবি পোস্ট করেছেন অভিনেত্রী। ছবিতে ছবিতে জেনে নেওয়া যাক পারসা সম্পর্কে কিছু তথ্য—

 আজ একগুচ্ছ নতুন ছবি পোস্ট করে পারসা লিখেছেন, ‘তবু মনে রেখ’। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
আজ একগুচ্ছ নতুন ছবি পোস্ট করে পারসা লিখেছেন, ‘তবু মনে রেখ’। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
ছবিগুলোতে তাঁকে দেখা যাচ্ছে ফুরফুরে মেজাজে ঘুরে বেড়াতে। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
ছবিগুলোতে তাঁকে দেখা যাচ্ছে ফুরফুরে মেজাজে ঘুরে বেড়াতে। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
এসব ছবি তাঁর ভক্তরাও বেশ পছন্দ করেছেন, আট ঘণ্টায় ২২ হাজার প্রতিক্রিয়া এসেছে। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
এসব ছবি তাঁর ভক্তরাও বেশ পছন্দ করেছেন, আট ঘণ্টায় ২২ হাজার প্রতিক্রিয়া এসেছে। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
পারসাকে এবারের ঈদে দেখা গেছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ের ‘একসাথে আলাদা’ ওয়েব প্রকল্পে। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
পারসাকে এবারের ঈদে দেখা গেছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ের ‘একসাথে আলাদা’ ওয়েব প্রকল্পে। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
 
সব সম্পর্ক সুখের গল্পে গিয়ে শেষ হয় না। কখনো কখনো দুজন মানুষ একই ছাদের নিচে থেকেও দূরে সরে যায়, সম্পর্ক থেকে হারিয়ে যায় উষ্ণতা। এমনই এক সম্পর্কের গল্প নিয়েই ‘একসাথে আলাদা’। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
সব সম্পর্ক সুখের গল্পে গিয়ে শেষ হয় না। কখনো কখনো দুজন মানুষ একই ছাদের নিচে থেকেও দূরে সরে যায়, সম্পর্ক থেকে হারিয়ে যায় উষ্ণতা। এমনই এক সম্পর্কের গল্প নিয়েই ‘একসাথে আলাদা’। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
রেজাউর রহমানের ওয়েব ফিকশনটিতে পারসার জুটি ইয়াশ রোহান। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
রেজাউর রহমানের ওয়েব ফিকশনটিতে পারসার জুটি ইয়াশ রোহান। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
এর আগে গত বছর মুক্তি পাওয়া চরকির ওয়েব ফিল্ম ‘ডিমলাইট’–এ পারসার অভিনয় প্রশংসিত হয়। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
এর আগে গত বছর মুক্তি পাওয়া চরকির ওয়েব ফিল্ম ‘ডিমলাইট’–এ পারসার অভিনয় প্রশংসিত হয়। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
 
শরাফ আহমেদ জীবনের ওয়েব ফিল্মটিতে পারসার সঙ্গে ছিলেন মোশাররফ করিম। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
শরাফ আহমেদ জীবনের ওয়েব ফিল্মটিতে পারসার সঙ্গে ছিলেন মোশাররফ করিম। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

তেত্রিশ বছর আগে ১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। বুধবার ছিল এ সিনেমার মুক্তির দিন। সোহানুর রহমান সোহানের এ ছবির মাধ্যমে দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীরা পেয়েছিলেন দুটি নতুন মুখ—মৌসুমী ও সালমান শাহ। প্রথম ছবিতেই তাঁরা বাজিমাত করেন, অভিনয় দিয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নেন। ৩০ বছর আগে সালমান শাহ মারা যান। মৃত্যুর আগে ২৭টি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। সব কটি ছিল জনপ্রিয় ও ব্যবসায়িকভাবে সফল। তবে এক ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ দিয়ে সালমান শাহ মানুষের মনে থাকবেন বহুকাল।

সালমান-মৌসুমীর জন্য নয়, নির্মাণের জাদুতেই ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছিল। এতে শিল্পীদের কোনো হাত নেই। কারণ, কেন্দ্রীয় চরিত্র সালমান শাহ-মৌসুমী—দুজনই ছিলেন নবাগত।

কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবির কাজ চলাকালীন স্টুডিওতে মৌসুমী ও সালমানের সঙ্গে পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান
কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবির কাজ চলাকালীন স্টুডিওতে মৌসুমী ও সালমানের সঙ্গে পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান
 

ছবির গুণেই এটি আজও মানুষের হৃদয়ে দাগ কেটে আছে। এমনটাই মনে করেন এ ছবির পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান। ২০২২ সালের ২৪ মার্চে প্রথম আলোর কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি তখন বলেছিলেন, ‘৩০ বছর পর এসে কেউ আয়োজন করে আমার সিনেমার কথা স্মরণ করছেন, এটা তো অবশ্যই ভালো লাগার। আমাদের চলচ্চিত্রের জন্যও খুব ভালো দিক। তবে খুব বেশি করে ৩০ বছর আগের দিনটা মনে পড়ছে। কীভাবে ছবিটা মুক্তি পেল, কীভাবে ব্যবসা করল, আমি কিংবা আমার ছবির শিল্পীরা এ ছবির বদৌলতে কীভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠলেন। এই দিনে এসব মনে পড়ছে।’

কীভাবে এই চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন মৌসুমী? জানতে চাইলে এই চিত্রনায়িকা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ছবির প্রস্তাবগুলো আসত গুলজার (পরিচালক মুশফিকুর রহমান) ভাইয়ের মাধ্যমে, তখন তিনি ছিলেন সাংবাদিক। আমার সাক্ষাৎকারের পরিকল্পনা করেন। সোহান ভাই বন্ধু হয়ে ঢাকায় আমাদের মোহাম্মদপুরে হ‌ুমায়ুন রোডের বাসায় এসেছিলেন। সেখানেই চলচ্চিত্রে আগ্রহী কি না, কৌশলে জানতে চান। তখন আমি স্থিরচিত্র আর বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হয়েই খুশি ছিলাম। মধ্যবিত্ত পরিবার, তাই নাটকে অভিনয়ের চেষ্টা করিনি। গুলজার ভাই বললেন, ‘ধরুন, হিন্দি ছবি “কেয়ামত সে কেয়ামত তক” যদি বাংলায় রিমেক হয়, আপনি জুহি চাওলার চরিত্রটা করবেন, আমির খানের চরিত্রে নোবেল, তৌকীর আহমেদ কিংবা জাহিদ হাসানও হতে পারেন।’

কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবিতে সালমান শাহ ও মৌসুমী
কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবিতে সালমান শাহ ও মৌসুমী

তাঁরা জানতেন, তৌকীর ভাই আর নোবেল ভাইয়ের ভক্ত আমি। তখন কিছুটা আগ্রহী হলাম। কারণ, সহশিল্পী হিসেবে পছন্দের শিল্পীরা থাকবেন। আমি তখন থেকে স্বপ্ন দেখা শুরু করি। কীভাবে বাসায় বলা যায়, উপায় খুঁজছি। এরপর আরও অনেক ছবির প্রস্তাব পেয়ে আমি দ্বিধায় পড়ে যাই। মনে মনে বাছাই করতে থাকি, কার ছবি করব? ঘুরেফিরে দেখি, ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’।
‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবিতে প্রথম দিনের সংলাপ কী ছিল, জানতে চাইলে মৌসুমী বলেন, ‘প্রথম দিন ক্যামেরার সামনে ভয়ে কাঁপছিলাম। একটি দৃশ্য ছিল, ওই দিন একটা বাইকে সালমান আর আমি এফডিসি থেকে কাঁচপুরে গেছি। আবার ফিরে আসি। “কেয়ামত থেকে কেয়ামত” ছবিতে পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ছিল ওটা।’
সালমান শাহর সঙ্গে আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল মৌসুমীর। কথায় কথায় তেমনটাই জানালেন ঢালিউডের ‘প্রিয়দর্শিনী’। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তখন খুলনায় থাকতাম। ছোটবেলায় ইমন (সালমান শাহর ডাকনাম) আর আমি প্লে গ্রুপ ও নার্সারিতে একসঙ্গে পড়েছি। ওই স্কুলে আমার ফুফু ছিলেন টিচার। ফুফুর ছুটি হওয়া পর্যন্ত ইমনদের বাসায় আড্ডা দিতাম। সেও আমাদের বাসায় যাওয়া-আসা করত। ভালো বন্ধুত্ব হয়। এরপর হঠাৎ ওরা ঢাকায় চলে আসে। বন্ধুর সঙ্গে বন্ধুর দেখা হওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা থাকে, তা ছবিটি করতে গিয়ে নতুন করে টের পাই। ছবির কাজ করার সময় আমাদের দেখা হয়। আবেগাপ্লুত হলাম। অল্প কয়েক দিনেই আমাদের সম্পর্ক আবার আগের রূপ নেয়। নিজেদের সবকিছুই একজন আরেকজনের সঙ্গে শেয়ার করতাম। আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক নিয়ে তো পরিচালক সোহান ভাই একপর্যায়ে ভুল বুঝতে শুরু করলেন। তিনি ভাবলেন, আমরা একজোট হয়ে গেছি।’

ছবিটি এতটা সাড়া ফেলবে, ভেবেছিলেন কি? ‘এটা যে প্রেমের আদর্শ গল্প হয়ে যাবে, এই জুটি যে প্রেমের আদর্শ জুটি হবে, প্রিয় জুটি হয়ে উঠবে—ভাবিনি। এত বড় স্বপ্ন মানুষ দেখতে পারে না। যখন পেছনে ফিরে তাকাই, দেখা যায়, এই স্বপ্ন যদি দেখতাম, তাহলে স্বপ্ন দেখেই মারা যেতাম। ২৫ বছর সমানতালে জনপ্রিয় থাকবে একটা ছবি, আমাকে “কেয়ামত-কন্যা” ডাকবে! এখনো সালমান মানে আমি, আমি মানে সালমান যে ভাববে, অথবা “কেয়ামত থেকে কেয়ামত” ছবির প্রতিটি গান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে স্পর্শ করবে—এসব ভাবার মতো শক্তি আল্লাহ দেননি। এটা আল্লাহর দান। এটা মানুষ কখনো সৃষ্টি করতে পারে না’, বলেন মৌসুমী।

সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়
সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়
 

জানা গেছে, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আনন্দমেলা সিনেমা লিমিটেড হিন্দি ‘সনম বেওয়াফা’, ‘দিল’ ও ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’–এর কপিরাইট নিয়ে সোহানুর রহমান সোহানের কাছে আসে এর যেকোনো একটির রিমেক করার জন্য। উপযুক্ত নায়ক-নায়িকা খুঁজে না পেয়ে সম্পূর্ণ নতুন মুখ দিয়ে ছবি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় তারা। নায়িকা হিসেবে মৌসুমীকে নির্বাচন করে। নায়ক হিসেবে প্রথমে তৌকীর আহমেদ ও পরে আদিল হোসেন নোবেলকে প্রস্তাব দিলে তাঁরা ফিরিয়ে দেন। তখন নায়ক আলমগীরের সাবেক স্ত্রী খোশনুর আলমগীর ‘ইমন’ নামের এক ছেলের সন্ধান দেন। প্রথম দেখাতেই তাঁকে পছন্দ করেন পরিচালক এবং ‘সনম বেওয়াফা’ রিমেকের জন্য প্রস্তাব দেন। কিন্তু ইমন ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’-এর জন্য পীড়াপীড়ি করেন। এ ছবি তিনি ২৬ বার দেখেছেন। শেষ পর্যন্ত পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন এবং ইমনের নাম পরিবর্তন করে সালমান শাহ রাখা হয়।
আমির খান ও জুহি চাওলা অভিনীত ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ চলচ্চিত্রের কাহিনি লিখেছেন নাসির হোসেন আর পরিচালনা করেন মনসুর খান। এদিকে বাংলাদেশে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লিখেছেন সোহানুর রহমান সোহান এবং সংলাপ লিখেছেন আশীষ কুমার লোহ। প্রযোজক সুকুমার রঞ্জন ঘোষের আনন্দমেলা সিনেমা লিমিটেডের ব্যানারে নির্মিত হয় ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। ছবিতে সালমান-মৌসুমী ছাড়াও অভিনয় করেন রাজীব, আহমেদ শরীফ, আবুল হায়াত, খালেদা আক্তার কল্পনা, মিঠু, ডন, জাহানারা আহমেদ, অমল বোসসহ অনেকে।

ভারতের টেলিভিশন দুনিয়ায় আবার বিতর্ক। দঙ্গল টিভির জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘রিমঝিম-ছোটি উমর বড়া সফর’ এখন নেটিজেনদের কাঠগড়ায়। মাত্র ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী অভিনেত্রীকে দিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক অভিনেতার সঙ্গে ‘অন্তরঙ্গ’ দৃশ্য শুট করানোর অভিযোগে উত্তাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

টিভি শো ‘রিমঝিম’–এর একটি পর্ব নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত। দঙ্গল টেলিভিশনের এই মেগা সিরিয়াল বেশ চর্চিত। নায়ক-নায়িকার রসায়ন বরাবরই পছন্দ করেন দর্শক। সিরিয়ালটির মূল বিষয়বস্তু এক কিশোরী ও এক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির প্রেম। এতে ১৬ বছর বয়সী যশিকা শর্মা কিশোরী ‘রিমঝিম’-এর চরিত্রে অভিনয় করছেন এবং তাঁর বিপরীতে রয়েছেন ২৪ বছর বয়সী অভিনেতা হিমাংশু অবস্থি।

টিভিতে দেখানো হয়েছে, দুজনের একটি ঘনিষ্ঠ দৃশ্য। অনেক দর্শকের প্রধান আপত্তির জায়গাগুলো হলো, কীভাবে ১৫-১৬ বছরের একটি মেয়েকে এ ধরনের ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করানো হচ্ছে এবং কেন এটি আইনিভাবে বৈধ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। দর্শকদের দাবি, যদি চরিত্রের প্রয়োজনে এ ধরনের দৃশ্যের দরকার হয়, তবে কেন ১৮ বছরের বেশি বয়সী কোনো অভিনেত্রীকে নেওয়া হলো না?

‘রিমঝিম-ছোটি উমর বড়া সফর’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি
‘রিমঝিম-ছোটি উমর বড়া সফর’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

অভিভাবকদের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। অনেকেই যশিকার মা-বাবা ও অভিভাবকদের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। কেন তাঁরা ১৬ বছরের মেয়েকে এমন দৃশ্যে অভিনয়ের অনুমতি দিলেন, তা নিয়েও ক্ষুব্ধ অনেকে। অনেকে রিম শেখ এবং সেহবান আজিমের উদাহরণ টেনে এনে বলেছেন যে ভারতীয় টেলিভিশন ধারাবাহিকে নাবালিকা নায়িকাদের এভাবে ব্যবহার করার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

অনেকে ইয়াশিকার বাবা-মা বা অভিভাবকদের পদক্ষেপ নিতে এবং এই সিরিয়াল বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। অভিনেতা, প্রযোজনা সংস্থা বা চ্যানেলটি এখন পর্যন্ত পর্বটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি।

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে