ঘটনাটা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক দুই দিন পরের। নারী এশিয়ান কাপের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল ইরান। ম্যাচের আগে যখন ইরানের জাতীয় সংগীত বাজছিল, ফুটবলাররা তখন পাথরের মতো স্থির ছিলেন। ঠোঁট নড়েনি একজনেরও।

অনেকেই মনে করছেন, এটি ইরানের বর্তমান শাসকদের বিরুদ্ধে নারী ফুটবল দলের প্রতিবাদ। এই ঘটনা ইরানে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, যা নারী ফুটবলারদের ঠেলে দেয় চরম অনিশ্চয়তার মুখে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি তাঁদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ তকমাও দেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে এশিয়ান কাপে খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া ইরানের নারী ফুটবল দলের পাঁচ খেলোয়াড় মঙ্গলবার সেখানে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থেকেই এ সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। খেলোয়াড়দের এই আবেদন মেনে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকার তাঁদের আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, দলের অধিনায়ক জাহরা ঘানবারিসহ পাঁচ খেলোয়াড় সোমবার গভীর রাতে দলীয় হোটেল ছেড়ে গোপনে বেরিয়ে অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আশ্রয় চান।

নথিপত্রে স্বাক্ষর করা হচ্ছে
নথিপত্রে স্বাক্ষর করা হচ্ছেএক্স/টনি বার্ক

এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ বলেন, ‘আমরা কিছুদিন ধরেই এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। এই সাহসী নারীদের দুর্দশা অস্ট্রেলিয়ার মানুষকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তাঁরা এখানে নিরাপদ এবং এখানেই যেন নিজেদের ঘরের মতো অনুভব করেন।’ জাহরা ছাড়া অন্য চার নারী হলেন ফাতেমেহ পাসানদিদেহ, জাহরা সারবালি, আতেফেহ রামাজানজাদেহ ও মোনা হামৌদি।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ দেশটির গণমাধ্যমকে সংযম দেখানোর জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি ইঙ্গিত দেন, খেলোয়াড়েরা নিরাপদে পৌঁছানো পর্যন্ত আশ্রয় প্রার্থনার খবরটি প্রকাশ করা হয়নি। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানান, সরকারের পক্ষ থেকে কয়েক দিন ধরে গোপনে খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। গোল্ড কোস্টের হোটেল ছাড়ার পর তাঁদের দ্রুত একটি নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়।

প্রকাশিত এক ছবিতে দেখা যায়, একটি টেবিল ঘিরে খেলোয়াড়েরা বসে আছেন, আর টনি বার্ক মানবিক বিবেচনায় অস্ট্রেলিয়ায় থাকার বিশেষ ভিসার কাগজপত্রে সই করছেন। বার্ক বলেন, বিশেষ ভিসা পাওয়ার পর খেলোয়াড়েরা ‘অজি, অজি, অজি’ স্লোগানে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। দলের বাকি সদস্যরাও চাইলে অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

ইরানের বাকি খেলোয়াড়েরা দেশে ফিরে যাবেন, নাকি কবে অস্ট্রেলিয়া ছাড়বেন, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, পাঁচ খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা তত্ত্বাবধানে আছেন। গভীর রাতে প্রধানমন্ত্রী আলবানিজের সঙ্গে ফোনালাপের পর তিনি এ তথ্য জানান।

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প অস্ট্রেলিয়ার প্রতি সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। খেলোয়াড়দের জোর করে ইরানে ফেরত পাঠানো হলে সেটি ‘ভয়াবহ মানবিক ভুল’ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সৌদি প্রো লিগে গত শনিবার আল ফায়হার বিপক্ষে আল নাসরের ৩-১ গোলে জয়ের ম্যাচে ৮১ মিনিটে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠে ছাড়েন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ডাগআউটে বসে এরপর ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে আইসপ্যাক লাগাতে দেখা যায় তাঁকে। তখনই অনেকের মনে ভ্রুকুটি জেগেছিল—রোনালদো কি চোটে পড়েছেন?

শঙ্কা সত্যি হয় গত মঙ্গলবার। আল নাসর জানায়, হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে মাঠের বাইরে ছিটকে পড়েছেন রোনালদো। তবে সেরে উঠতে ঠিক কত দিন লাগতে পারে, সেটা তখন জানা যায়নি। তবে কাল আল নাসর কোচ জর্জ জেসুস জানালেন আরও শঙ্কার খবর। রোনালদোর চোট প্রথমে দেখে যতটা হালকা মনে হয়েছিল, আসলে তা নয়। জেসুসের ভাষায়, এই চোট নাকি ‘আরও মারাত্মক।’

আল নাসরের সর্বশেষ ম্যাচে চোট পান রোনালদো
আল নাসরের সর্বশেষ ম্যাচে চোট পান রোনালদো, এএফপি

জেসুস এরপর বলেন, ‘ব্যক্তিগত ফিজিওথেরাপিস্টের কাছ থেকে তাকে চিকিৎসা নিতে হবে। আমরা আশা করছি, শিগগিরই সে ফিরে এসে দলকে সাহায্য করতে পারবে।’
সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, রোনালদো সৌদি আরব ছেড়ে স্পেনে গেছেন এবং মাদ্রিদে ব্যক্তিগত ফিজিওথেরাপিস্টের দ্বারস্থ হবেন। আজ রাতে এবং আগামী ১৪ মার্চ আল নাসরের ম্যাচে রোনালদো খেলতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন জেসুস। তবে এরপর থেকে যে তাঁকে পাওয়া যাবে, সেই নিশ্চয়তাও নেই।

🚨 Jorge Jesus: “After tests, we see the injury suffered by Cristiano Ronaldo was more serious than expected”.

“Cristiano will now travel to Spain, like other players who went for treatment when they were injured. His injury required treatment in Madrid with his personal… pic.twitter.com/uCb70kgiGg

— Fabrizio Romano (@FabrizioRomano) March 6, 2026

তবে রোনালদোর চোট নিয়ে দুশ্চিন্তা আছে পর্তুগালেরও। বিশ্বকাপ সামনে রেখে আগামী ২৯ মার্চ মেক্সিকো এবং ১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে পর্তুগাল। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এ দুটি ম্যাচে ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর খেলা নিশ্চিত নয়।

অবশেষে জয় পেল রিয়াল মাদ্রিদ। লা লিগায় টানা দুই ম্যাচে হারের পর গতকাল সেল্তা ভিগোর বিপক্ষে ফেদেরিকো ভালভের্দের ৯৫ মিনিটের গোলে ২-১ গোলে জিতেছে রিয়াল।

লিগে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার (৬৪) চেয়ে এখন রিয়াল (৬৩) পিছিয়ে মাত্র ১ পয়েন্টে। বার্সা খেলেছে ২৬ ম্যাচ ও রিয়াল খেলেছে ২৭ ম্যাচ। বার্সা অবশ্য আজ রাতেই পয়েন্টের ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে। অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা।

ছন্দে ফিরতে মরিয়া রিয়ালের শেষ মুহূর্তে পাওয়া গোলেও আছে ভাগ্যের ছোঁয়া। উরুগুইয়ান মিডফিল্ডারের শটটি সাবেক সেল্তার ডিফেন্ডার মার্কোস আলোনসোর শরীরে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে প্রবেশ করে।

সব ম্যাচকেই যুদ্ধ বললেন রিয়াল কোচ আরবেলোয়া
সব ম্যাচকেই যুদ্ধ বললেন রিয়াল কোচ আরবেলোয়া, এএফপি

সেল্তার ঘরের মাঠ বালাইদোস স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতে এগিয়ে গিয়েছিল রিয়াল। ১১ মিনিটে অরেলিয়ে চুয়ামেনি গোল করে রিয়ালকে এগিয়ে দেন। ২৫ মিনিটে বোর্হা ইগলেসিয়াস গোল করে স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান।

এই জয়ের পরও অবশ্য আরবেলোয়ার দুশ্চিন্তা কাটার কথা নয়। কারণ কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহাম, রদ্রিগোরা চোটে পড়েছেন। আগামী বুধবার রাতে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন লিগের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নামবে রিয়াল। স্বাভাবিকভাবেই আরবেলোয়ার একটু দুশ্চিন্তায় ভোগার কথা।

লিগে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার (৬৪) চেয়ে এখন রিয়াল (৬৩) পিছিয়ে মাত্র ১ পয়েন্টে।
লিগে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার (৬৪) চেয়ে এখন রিয়াল (৬৩) পিছিয়ে মাত্র ১ পয়েন্টে। এএফপি
 

আরবেলোয়া আশা প্রকাশ করেন, এই জয় দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে, ‘আমি জানি আমাদের অনেক উন্নতি করার জায়গা আছে, তবে আজ দল যে চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে, তা থেকে আমি আশা করি এটাই হবে আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর মুহূর্ত।’

ম্যাচশেষে রিয়াল মাদ্রিদটিভিকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বলেছেন, ‘ম্যাচটি আমাদের জন্য কঠিন ছিল, কারণ অনেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় দলে ছিলেন না। কিন্তু আমরা এখানে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই এসেছিলাম। আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি, আমাদের বেশ ভুগতেও হয়েছে; তবে শেষ পর্যন্ত আমরাই জিতেছে। বুধবারের ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য এই জয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

সিডনির জুবলি স্টেডিয়ামে তখনো সকালের মিষ্টি রোদ। তার মধ্যেই বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অনুশীলন, সবার মধ্যে ভালো কিছু করার তাড়না। সামনে পাহাড়সম প্রতিপক্ষ ৯ বারের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন চীন।

আগামী মঙ্গলবার সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এই মঞ্চে ভালো কিছু করতে পারলে বাংলাদেশের মেয়েদের সামনে বিশ্ব ফুটবলের দরজা খুলে যাবে বলে মনে করেন দলের গোলকিপার কোচ মাসুদ আহমেদ।

আজ অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মাসুদ আহমেদ বলেন, ‘ভয় নয়, বরং মেয়েরা উজ্জ্বীবিত হয়ে আছে। আমরা এই মঞ্চে এসেছি, এখন আমাদের নিজেদের প্রমাণ করার সময়। এখানে এশিয়ার মঞ্চে ভালো কিছু করতে পারলে ওদের সামনে বিশ্বের অনেক জায়গায় দরজা খুলে যাবে। তাই মেয়েরা সবকিছু ইতিবাচকভাবে নিচ্ছে। ওরা চাপ মনে করছে না। যেটা আমাদের খুব আশা দেখাচ্ছে।’

সাবেক চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে বাংলাদেশের গোলকিপারদের স্নায়ুচাপ সামলানো নিয়ে এই কোচের কথা, ‘এমন আসরে বড় দল ছোট দল বলতে কিছু নেই। টেকনিক্যালি যে সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হই বাংলাদেশের মেয়েদের নিয়ে, সেগুলোর ওপর জোর দিচ্ছি। ওরা যদি মূল বিষয়গুলো ঠিক রাখে, তাহলে মিস করার চান্স কম। সারা বছর ধরে আমরা যে বিষয়গুলো শিখেছি, তা যদি মাঠে করতে পারি, তাহলে আমাদের ভুলভ্রান্তি কম হবে। আর ভুলভ্রান্তি কম হলে গোল খাওয়ার শঙ্কা কমে আসবে।’

গোলকিপার কোচ মাসুদ আহমেদ ও গোলকিপার রুপনা চাকমা। ছবিটি ২০২৩ সালের
গোলকিপার কোচ মাসুদ আহমেদ ও গোলকিপার রুপনা চাকমা। ছবিটি ২০২৩ সালের, ছবি: সংগৃহীত
 

চীনের আক্রমণভাগকে সামলানো যে কতটা কঠিন হবে, তা ভালো করেই জানা বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টের। তবে বসে নেই কোচরা। মাসুদ বলছিলেন, ‘আমরা যখন এশিয়ান কাপের চূড়ান্তপর্বে কোয়ালিফাই করেছি, যখন গ্রুপিং হয়েছে, তখন থেকেই চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তান নিয়ে আমাদের কাজ হচ্ছে। প্রতিনিয়ত আমরা তাদের ম্যাচ দেখছি, ওদের শক্তি-দুর্বল দিকগুলো নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি।’ কোচ যোগ করেন, ‘এমনকি আজকের অনুশীলন সেশনও প্রতিটি বিভাগে সব খেলোয়াড়কে তাদের দায়িত্ব বোঝানোর চেষ্টা করেছি। আমরা যদি প্রতিটি বিষয় সঠিকভাবে করতে পারি, আমাদের ভুল হওয়ার আশঙ্কা কম থাকবে এবং বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে আমরা বেঁচে যাব।’

মাঠে চীনের ঝোড়ো আক্রমণ সামলাতে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষা দিতে হবে গোলকিপারদের। মূল গোলকিপার হিসেবে রুপনা চাকমা থাকবেন পোস্টের নিচে। দূরপাল্লার শট রুখতে ভূমিকা রাখতে হবে অন্যদেরও। এ প্রসঙ্গে কোচের কথা, ‘দূরপাল্লার শটের প্র্যাকটিসটা অনেক আগে থেকে করছি। গ্রুপিং হওয়ার পর থেকে দেখেছি চীন কোত্থেকে অন টার্গেট শুটিং করে বা কোন কোন এঙ্গেল থেকে কীভাবে ফিনিশিং টাচগুলো করে। তাই ওগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। ভালো কাজও হয়েছে। দূরপাল্লার শটে আমার মনে হয় না খুব একটা সমস্যা হবে।’

চীন, উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে বড় চ্যালেঞ্জ গোলকিপারদের সামনে
চীন, উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে বড় চ্যালেঞ্জ গোলকিপারদের সামনে, বাফুফে
 

বাংলাদেশ দল দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ টুর্নামেন্ট সাফ জিতেছে দুবার। এবার এশিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচে ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষেও কি অসাধ্যসাধন করতে পারবে বাংলাদেশ—এমন প্রশ্নে গোলকিপার কোচ বলেন, ‘আমাদের এই মেয়েগুলোকে নিয়ে অনুমান করা খুবই কঠিন। আপনারা চিন্তাও করতে পারবেন না ওরা কার সঙ্গে কী করে ফেলবে। আমি যতটুকু দেখছি, এই অনুশীলন সেশনগুলোয় ওরা খুবই ইতিবাচক। ওদের মনে ভয় কাজ করে না।’

তবে এটা ঠিক, চীনের বিপক্ষে ম্যাচটি বড় সুযোগের নামও। গোলকিপার কোচের ভাষায়, ‘আসলে এই মঞ্চে আমরা সমস্যার মুখোমুখি হব—এটা মাথায় নিয়েই এখানে এসেছি। এখন এ পর্যায়ে যদি সমস্যার মুখোমুখি হই, এটা নিয়ে ভবিষ্যতে কাজ করার সুযোগ পাব। এই মঞ্চে আসতে না পারলে তো সম্যাটা বুঝতে পারব না। ওটা ইতিবাচকভাবে নিচ্ছি এবং মেয়েরাও ইতিবাচকভাবে নিচ্ছে।’

সিডনির মাঠে মঙ্গলবার বাংলাদেশ কতটা রুখে দাঁড়াতে পারে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।

সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে আগামী মঙ্গলবার ঐতিহাসিক এক ম্যাচে মাঠে নামছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে এটিই বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ।

নয়বারের এশিয়ান কাপ চ্যাম্পিয়ন চীনের মুখোমুখি হওয়ার আগে সিডনির জুবলি স্টেডিয়ামে আজ সকালে নিবিড় অনুশীলন করেছেন মারিয়া-মনিকারা। অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দলের মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা জানিয়েছেন, শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হলেও নিজেদের সেরাটা দিতে মুখিয়ে আছেন তাঁরা।

অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন নিয়ে বাংলাদেশের দুবারের সাফজয়ী দলের সদস্য মনিকা বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি অনেক দিন হয়েছে। এখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছি। এখানে ভালো অনুশীলন হচ্ছে। প্রতিদিনই আমাদের উন্নতি হচ্ছে। সব মিলিয়ে ভালোই যাচ্ছে।’

এশিয়ান কাপের প্রতিপক্ষ চীন কতটা শক্তিশালী, তা নিয়ে দলের ভেতর কাটাছেঁড়া চলছে নিয়মিত। ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রতিপক্ষকে আটকানোর কৌশল সাজাচ্ছেন কোচ পিটার বাটলার। এ প্রসঙ্গে মনিকা বলেন, ‘যেহেতু ওরা এশিয়ার মধ্যে সেরা, এশিয়ান কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নও, তো ওদের নিয়ে আমাদের প্রত্যেক দিন মিটিং হয়। ভিডিও দেখানো হয়। ওরা কোন পজিশনে কীভাবে খেলে, আমাদের কীভাবে দৌড়াতে হবে বা মাঠে কীভাবে খেলতে হবে, এগুলো মিটিংয়েও বলা হচ্ছে। আর আমরা মাঠেও সেটা নিয়ে কাজ করতেছি।’

সিডনিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মনিকা চাকমা
সিডনিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মনিকা চাকমা

চীনের বিপক্ষে লড়াই করতে হলে রক্ষণ থেকে আক্রমণভাগ—সব বিভাগেই সমান সতর্ক থাকতে হবে বলে মনে করেন এই মিডফিল্ডার। চীনের শক্তি নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘গোলকিপার থেকে স্ট্রাইকার—সবদিক দিয়ে ওরা স্ট্রং। আমাদেরও রক্ষণ থেকে আক্রমণভাগ পর্যন্ত সবদিক নিয়ে কাজ করা লাগছে।’

বাস্তবতা বলছে, বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে চীনের কাছে হারের ব্যবধান যত কম রাখা যায় সেই চেষ্টা করা। এক সাংবাদিক ড্র বা জয়ের লক্ষ্য থাকবে কি না, জিজ্ঞেস করলে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি মনিকা, ‘আমরা সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। ফল যা–ই হোক, আমরা আমাদের সেরাটা দেব।’

মনিকা আরও যোগ করেন, ‘আমরা আমাদের নিজেদের নিয়ে বেশি ভাবছি, কারণ, আমাদের এখানে পারফরম্যান্স করতে হবে। দেশের জন্য হোক, নিজের জন্য হোক বা ফ্যামিলির জন্য, সবার জন্যই আমরা এখানে খেলতে এসেছি। আমরা আমাদের দেশের জন্যই ভাবছি।’

সিডনিতে চলছে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন
সিডনিতে চলছে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন, বাফুফে
 

মাঝমাঠ, আক্রমণভাগ আর রক্ষণভাগের ভারসাম্য বজায় রাখা নিয়ে মনিকা জানান, বল পেলে তাঁরা অবশ্যই আক্রমণে যাবেন, আর বল হারালে দ্রুত পজিশন ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করবেন। মূল ভেন্যুতে অনুশীলনের সুযোগ না পেলেও রাগবি ও ফুটবলের ভেন্যু জুবুলি স্টেডিয়ামে অনুশীলন নিয়ে তাঁরা সন্তুষ্ট বলে জানান।

মঙ্গলবার সিডনির মাঠে লাল-সবুজের মেয়েরা নিজেদের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত।

পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল দলের দায়িত্ব নিয়েছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ২৫ সদস্যের প্রথম ব্রাজিল স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন। আগামী জুনে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের স্কোয়াডে ফিরেছেন ক্যাসেমিরো, রিচার্লিসন, এন্থোনি। দলে জায়গা পাননি নেইমার ও রদ্রিগো।

ব্রাজিল দল

গোলরক্ষকরা: অ্যালিসন বেকার, বেন্তো, হুগো সুজা

ডিফেন্ডাররা: আলেক্স সান্দ্রো, লুকাস বেরালদো, চার্লস আগাস্তো, দানিলো, লিও ওরতিজ, মারকিনিওস, ভ্যান্ডারসন, ওয়েসলি

মিডফিল্ডাররা: আন্দ্রেয়াস পেরেইরা, আন্দ্রেই সান্তোস, ব্রুনো গিমারাইস, কাসেমিরো, এডারসন, গেরসন 

ফরোয়ার্ড: অ্যান্টোনি, এস্তেভাও, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, মাতেউস কুনিয়া, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া ও রিচার্লিসন

এরআগে, গতকাল রোববার (২৫ মে) রাতে একটি প্রাইভেট জেটে করে ব্রাজিলে পৌঁছান রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই কোচ। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভ্যর্থনা ছিল না আনচেলত্তির জন্য। এ সময় তার সাথে ছিলেন পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও কোচিং স্টাফরা।

প্রসঙ্গত, তার অধীনে প্রথম ম্যাচ ৫ জুন, ইকুয়েডরের বিপক্ষে। ১০ জুন নিজ মাঠ মারাকানায় প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ১৫ ও ১৬তম রাউন্ডে সেলেসাও এখন ২১ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে, শীর্ষে থাকা আর্জেন্টিনা থেকে পিছিয়ে ১০ পয়েন্ট।

সম্প্রতি বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন দ্বিতীয়বার মা হতে যাচ্ছেন বলে খবর দেন। এরই মধ্যে আরও এক ভারতীয় অভিনেত্রী সুখবর শেয়ার করেছেন। দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায় থাকার কথা জানিয়েছেন পূজা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পূজা বন্দ্যোপাধ্যায়
পূজা বন্দ্যোপাধ্যায়,ছবি: ইনস্টাগ্রাম
 

সম্প্রতি ইউটিউবে প্রকাশিত এক ভ্লগে স্বামী কুণাল ভার্মার সঙ্গে এই সুখবর জানান পূজা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি জানান, তিনি আবার গর্ভবতী। ভ্লগে নিজেই পজিটিভ প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট দেখিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি—যেমনটা সম্প্রতি দীপিকা পাড়ুকোনও সামাজিক মাধ্যমে করেছিলেন।

২০২০ সালের অক্টোবরে পূজা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ভার্মার ঘর আলো করে জন্ম নেয় তাঁদের প্রথম সন্তান কৃষভ। বিয়ের চার বছর পর এবার আবারও নতুন সদস্য আসছে তাঁদের পরিবারে। বর্তমানে নতুন অতিথিকে ঘিরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। ভ্লগে শুধু আনন্দের কথা নয়, এক সন্তান থাকার পর দ্বিতীয় সন্তানের আগমনে যে বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো আসে, সেগুলো নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন এই দম্পতি।
প্রায় এক দশকের সম্পর্কের পর পূজা ও কুণাল ২০২০ সালে আইনি বিয়ে সেরেছিলেন। করোনা মহামারির কারণে সেই সময় বড় অনুষ্ঠান বাতিল করে তাঁরা বিয়ের বাজেট দান করেছিলেন সমাজসেবায়।

দেবের বিপরীতে ‘চ্যালেঞ্জ ২’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন পূজা। তাঁকে আরও দেখা গেছে, ‘রকি’, ‘হইচই আনলিমিটেড’-এর মতো সিনেমায়। ‘পাপ’, ‘ক্যাবারে’ ওয়েব সিরিজেও দেখা গেছে তাঁকে।
‘কাহানি হামারে মহাভারত কি’, ‘তুঝ সাং প্রীত লাগাই সাজনা’–এর মতো হিন্দি সিরিয়ালেও দেখা গেছে পূজাকে। ‘বাংলা ড্যান্স বাংলা ড্যান্সে’র বিচারকও ছিলেন পূজা।

হলিউডের ঝলমলে দুনিয়ায় সৌন্দর্য, সাফল্য আর আত্মবিশ্বাসের মেলবন্ধনে যে কয়েকজন তারকা আজও সমান উজ্জ্বল, তাঁদের অন্যতম অ্যান হ্যাথাওয়ে। ২০২৬ সালে পিপল ম্যাগাজিনের ‘ওয়ার্ল্ডস মোস্ট বিউটিফুল’ কভার স্টার হিসেবে নির্বাচিত হওয়া যেন তাঁর দীর্ঘ পথচলারই এক নতুন স্বীকৃতি। তবে এই দীপ্তির পেছনে রয়েছে নিজের সঙ্গে লড়াই, বদলে যাওয়ার সাহস এবং নিজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তনের গল্প।

কভার শুটের সেটে তখন বাজছে ব্যাড বানি, বিলি আইলিশ, ম্যাডোনা—এই তিন তারকার মিশ্রণে তৈরি প্লে লিস্ট। বাতাসে উড়ছে তাঁর পোশাকের পালক, আলো-ছায়ার খেলায় তৈরি হচ্ছে এক অনায়াস সৌন্দর্য। কিন্তু এই স্বাচ্ছন্দ্য সব সময় ছিল না। একসময় নিজেকেই নিজের সবচেয়ে কঠোর সমালোচক মনে করতেন তিনি।
হ্যাথাওয়ে বলেন, ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি বিশ্বাস করতেন, নিজেকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করলেই তিনি ভালো শিল্পী হতে পারবেন। কিন্তু চল্লিশে পা দেওয়ার পর যেন জীবনের গিয়ার বদলে যায়। তখন আর নিখুঁত হওয়ার চাপে নয়; বরং আনন্দ খুঁজে পাওয়ার দিকেই ঝুঁকেছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘অস্বস্তিকর জীবন আর নয়, আমি এখন শুধু মজার অংশটুকু উপভোগ করতে চাই।’

এ উপলব্ধি আসলে হ্যাথাওয়ের দীর্ঘ ক্যারিয়ারেরই ফল। ২০০১ সালে ‘দ্য প্রিন্সেস ডায়েরিজ’-এর মাধ্যমে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু। এরপর ‘ব্রোকব্যাক মাউন্টেন’, ‘বিকামিং জেইন’-এর মতো শিল্পধর্মী সিনেমা থেকে শুরু করে ‘এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড’ কিংবা ‘লা মিজারেবলস’—সব জায়গাতেই নিজের ছাপ রেখেছেন তিনি। ‘লা মিজারেবলস’-এর জন্য জিতেছেন অস্কারও।

২০২৬ সালটা হ্যাথাওয়ের জন্য বিশেষ ব্যস্ততার। এক বছরে মুক্তি পাচ্ছে তাঁর পাঁচটি সিনেমা, যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ‘দ্য ডেভিল ওয়ারস প্রাডা ২’। প্রায় দুই দশক পর আবারও অ্যান্ডি স্যাকস চরিত্রে ফেরা, এ যেন নস্টালজিয়া আর নতুন অভিজ্ঞতার এক মিশেল। তাঁর সঙ্গে ফিরেছেন আগের সহশিল্পীরাও—মেরিল স্ট্রিপ, এমিলি ব্লান্ট ও স্ট্যানলি টুচি। হ্যাথাওয়ের ভাষায়, এই পুনর্মিলন ছিল ‘আনন্দে ভরা, সুন্দর একটি অভিজ্ঞতা’।

[caption id="attachment_272132" align="alignnone" width="582"] অ্যান হ্যাথওয়ে। এএফপি[/caption]

ব্যক্তিগত জীবনে হ্যাথাওয়ে কৃতিত্ব দেন তাঁর স্বামী অ্যাডাম শুলমানকে। ১৩ বছরের দাম্পত্য জীবন, দুই সন্তান—সব মিলিয়ে তিনি তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভরসা। হ্যাথাওয়ে স্বীকার করেন, এত সাফল্যের পরও জীবনে একটা ‘অবিরাম লড়াই’ থেকে যায়। কিন্তু সেই লড়াইটাকেই তিনি ভালোবাসেন।

সৌন্দর্য সম্পর্কে হ্যাথাওয়ের দৃষ্টিভঙ্গিও আলাদা। তাঁর মতে, ‘সৌন্দর্যের ভেতরে কুৎসিততাও থাকতে পারে, যদি সেখানে সত্য থাকে।’ এ সংজ্ঞা যেন তাঁর নিজের জীবনকেই প্রতিফলিত করে, যেখানে অপূর্ণতা লুকিয়ে না রেখে বরং তাকে গ্রহণ করেই এগিয়ে গেছেন তিনি।

[caption id="attachment_272131" align="alignnone" width="587"] ‘দ্য ডেভিল ওয়ারস প্রাডা ২’–এর প্রিমিয়ারের অ্যান হ্যাথওয়ে। এএফপি[/caption]

শৈশব থেকেই অভিনয়ের প্রতি হ্যাথাওয়ের আগ্রহ। মাত্র তিন বছর বয়সে মঞ্চে মায়ের অভিনয় দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তিনিও একদিন অভিনেত্রী হবেন। তবে পথটা সহজ ছিল না। কৈশোর থেকে ত্রিশের শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেকে অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যেই দেখেছেন। এমনকি কথা বলতেও তাঁর অসুবিধা হতো।

ক্যারিয়ারের শুরুতে সৌন্দর্য নিয়েও ছিল নানা বিভ্রান্তি। কীভাবে নিজের চুল বা লুক ঠিক করতে হবে, এই ‘ভাষা’ বুঝতেই হ্যাথাওয়ের এক দশক লেগে গেছে। এখন অবশ্য তিনি জানেন, নিজের পছন্দ বোঝাতে হলে কল্পনার চেয়ে ছবিই বেশি কার্যকর।

‘দ্য ডেভিল ওয়াররস প্রাডা’র অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে হ্যাথাওয়ে বলেন, সেটি ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম মজার সময়। যদিও তখন তিনি চাপ আর উদ্বেগে ছিলেন, তবু সহশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে আজও আনন্দ দেয়। বিশেষ করে মেরিল স্ট্রিপের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা অপরিসীম, যিনি সব সময় নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে চান।

[caption id="attachment_272130" align="alignnone" width="587"] অ্যান হ্যাথওয়ে। এএফপি[/caption]

বয়স বাড়া নিয়েও হ্যাথাওয়ের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। চল্লিশের পর তিনি বুঝেছেন, জীবনের উত্থান-পতনকে একটু দূরত্ব থেকে দেখার ক্ষমতা তৈরি হয়। আগে যেখানে ছোট ঘটনাও বড় মনে হতো, এখন তিনি অনেক বেশি শান্ত ও স্থির।

নিজের সৌন্দর্যচর্চা নিয়েও হ্যাথাওয়ের সহজ স্বীকারোক্তি আছে। ভালো কিছু খুঁজে নেওয়া—এটাকেই তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। তাঁর মতে, ‘খারাপ পরিবেশ খুব নিষ্ঠুর। এটা ভেতরে নেতিবাচকতা তৈরি করে।’ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

পিপল ডটকম অবলম্বনে

আবার রেশন দুর্নীতি মামলায় ভারতের অভিনেত্রী নুসরাত জাহানকে তলব করল দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। ২৩ এপ্রিল পশ্বিমবঙ্গে প্রথম দফার নির্বাচন। তার আগেই ইডির তরফে ২২ তারিখ সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নায়িকাকে।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, একটি বিশেষ সূত্র ধরে রেশন দুর্নীতি মামলায় অভিনেত্রীর নাম উঠে এসেছে। কয়েক বছর আগে যখন বাংলাদেশে গম পাচারের অভিযোগ উঠেছিল, সে সময়ে নুসরাত জাহান বসিরহাটের সংসদ সদস্য ছিলেন। সে সময়ে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না, সেটা খতিয়ে দেখতেই টালিউড অভিনেত্রীকে আগামী বুধবার ইডির দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কলকাতা না দিল্লি—কোন দপ্তরে হাজিরা দেবেন নুসরাত? সেই বিষয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।

নুসরাত জাহান। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
নুসরাত জাহান। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

শোনা যাচ্ছে, কলকাতায় নয়, বরং দিল্লির এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দপ্তরে হাজিরা দেবেন নুসরাত জাহান। সূত্রের খবর, ২২ এপ্রিল ইডির পক্ষ থেকে কলকাতার দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও অভিনেত্রীই বিশেষ আবেদনের মাধ্যমে দিল্লির ইডি দপ্তরে হাজিরার আরজি জানিয়েছেন।

যশ-নুসরাত দিন কয়েক ধরেই বিদেশে ছুটি কাটাচ্ছেন। মাঝেমধ্যেই তাঁদের ভ্রমণবিলাসের ঝলক দেখা যাচ্ছে নেট–ভুবনে। এমতাবস্থায় ইডির সমন পেলেন নুসরাত জাহান। উল্লেখ্য, অতীতেও ফ্ল্যাট দুর্নীতি মামলায় অভিনেত্রীকে তলব করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
নতুন করে ইডির তলব বিষয়ে অভিনেত্রীর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সংবাদ প্রতিদিন অবলম্বনে

অস্কারজয়ী হলিউড তারকা শার্লিজ থেরন সম্প্রতি তাঁর জীবনের এক গভীর ও মর্মান্তিক অধ্যায় নিয়ে নতুন করে মুখ খুলেছেন। একটি ঘটনা, যা তাঁর কৈশোরকে বদলে দিয়েছিল চিরতরে। তবে বিস্ময়করভাবে সেই ভয়াবহ স্মৃতির মধ্যেও তিনি আজ নিজেকে ‘আতঙ্কিত’ মনে করেন না; বরং তিনি বিশ্বাস করেন, এ ধরনের গল্প বলা জরুরি, যাতে অন্যরা নিজেদের একা মনে না করে।

১৯৯১ সাল, তখন থেরনের বয়স মাত্র ১৫। দক্ষিণ আফ্রিকায় তাঁদের বাড়িতে এক রাতে ঘটে যায় ভয়াবহ এক ঘটনা। তাঁর বাবা চার্লস থেরন মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে ফিরে এসে চরম উত্তেজিত ও সহিংস আচরণ করতে থাকেন। পারিবারিক অশান্তি তাঁর জীবনে নতুন ছিল না, কিন্তু সেদিনের পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন—অস্বাভাবিকভাবে বিপজ্জনক।
থেরন স্মৃতিচারণা করে বলেন, সেই রাতে আগেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। বাবার আচরণ, গাড়ি চালানোর ভঙ্গি—সবকিছুতেই ছিল একধরনের অস্থিরতা ও হুমকির ইঙ্গিত। তিনি নিজের ঘরে আলো নিভিয়ে ভয়ে অপেক্ষা করছিলেন।একপর্যায়ে তাঁর বাবা অস্ত্র হাতে বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করেন। এমনকি তিনি দরজায় গুলি চালান, যা দক্ষিণ আফ্রিকার তৎকালীন সহিংস বাস্তবতারই প্রতিফলন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ংকর হয়ে ওঠে যে প্রাণনাশের আশঙ্কাও তৈরি হয়।

শার্লিজ থেরন। রয়টার্স
শার্লিজ থেরন। রয়টার্স

এই অবস্থায় থেরন ও তাঁর মা গেরদা মরিৎজ আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র হাতে নেন। তিনি মেয়েকে নিয়ে একটি ঘরে আশ্রয় নেন এবং দরজা ধরে রাখেন। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত আত্মরক্ষার জন্য তিনি গুলি চালান—যাতে চার্লস থেরন নিহত হন।

এ ঘটনার ভয়াবহতা সত্ত্বেও শার্লিজ থেরন বলেন, তিনি এটিকে এমনভাবে দেখেন না যে এটি তাঁকে সারা জীবন তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে; বরং তিনি মনে করেন, এটি এমন একটি বাস্তবতা, যা অনেক পরিবারেই ঘটে, কিন্তু খুব কমই প্রকাশ্যে আসে।

থেরনের ভাষায়, ‘এ ধরনের ঘটনা নিয়ে কথা বলা উচিত। কারণ, এতে অন্যরা বুঝতে পারে যে তারা একা নয়।’ তিনি মনে করেন, পারিবারিক সহিংসতা একটি বৈশ্বিক সমস্যা, যা প্রায়ই গুরুত্ব পায় না—বিশেষ করে নারীদের অভিজ্ঞতা অনেক সময় উপেক্ষিত হয়।

এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই থেরনকে পরবর্তী সময়ে নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অনুপ্রাণিত করেছে। জাতিসংঘের শান্তির দূত হিসেবে কাজ করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন উদ্যোগে যুক্ত হয়ে তিনি এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

পিপলডটকম অবলম্বনে

ফরাসি-মরোক্কান অভিনেত্রী নাদিয়া ফারেস আর নেই। ১৭ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর। জনপ্রিয় পুলিশি থ্রিলার ‘দ্য ক্রিমসন রিভার্স’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ইউরোপীয় চলচ্চিত্রজগতে।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত শুক্রবার হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। এর আগে প্যারিসের একটি ব্যক্তিগত ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সুইমিংপুলে অচেতন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁকে কৃত্রিমভাবে কোমায় রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে ১৭ এপ্রিল তাঁর হৃদ্‌যন্ত্র বন্ধ হয়ে যায়।

‘মার্সেই’ সিরিজে নাদিয়া। আইএমডিবি
‘মার্সেই’ সিরিজে নাদিয়া। আইএমডিবি

নাদিয়ার দুই মেয়ে সিলিয়া ও শানা এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘ফ্রান্স এক মহান শিল্পীকে হারাল, আর আমরা হারালাম আমাদের মাকে।’ ব্যক্তিগত এই ক্ষতির কথা তুলে ধরে তাঁরা মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

১৯৬৮ সালের ২০ ডিসেম্বর মরক্কোর মারাকেশে জন্ম নেওয়া নাদিয়া শৈশব কাটান ফ্রান্সের নিস শহরে। পরে অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে প্যারিসে পাড়ি জমান। ১৯৯২ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেক হলেও ২০০০ সালে ‘দ্য ক্রিমসন রিভার্স’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান।

পরবর্তী সময়ে হলিউডেও কাজ করেন নাদিয়া। ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ওয়ার’-এ ‘এজেন্ট জেড কিনলার’ চরিত্রে এবং একই বছরে ‘স্টর্ম ওয়ার্নিং’-এ অভিনয় করে আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে আরও পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি।

২০০৯ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক প্রযোজক স্টিভ চ্যাসম্যানকে বিয়ে করে কিছু সময়ের জন্য অভিনয় থেকে দূরে সরে যান নাদিয়া। পরে ২০১৬ সালে ‘মার্সেই’ সিরিজের মাধ্যমে আবার অভিনয়ে ফেরেন। তবে ব্যক্তিগত জীবনে পরিবর্তনের পর ২০২২ সালে ফ্রান্সে ফিরে আসেন।

নাদিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে ফিগারো। প্রাথমিকভাবে কোনো অপরাধের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

ভ্যারাইটি অবলম্বনে