ওমান উপকূলের অদূরে হরমুজ প্রণালিতে গতকাল সোমবার ‘অজ্ঞাত বস্তুর’ আঘাতে একটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা (ইউকেএমটিও)।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা এবং একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চলমান থাকা সত্ত্বেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে হামলার এ ঘটনা ঘটেছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের এক–পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ওমানের উপকূলীয় গ্রাম লিমাহ থেকে ৮ নটিক্যাল মাইল পূর্বে একটি ট্যাংকারে হামলার এই ঘটনা ঘটেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইউকেএমটিও আরও বলেছে, ট্যাংকারের বাঁ পাশে অজ্ঞাত বস্তুটি আঘাত হানলে সেটিতে আগুন ধরে যায় বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় তদন্ত চলছে উল্লেখ করে সংস্থাটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা জাহাজগুলোকে সতর্ক থাকতে এবং যেকোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড ইউকেএমটিওকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছে।
ইরান যুদ্ধ চলাকালে হরমুজ প্রণালি উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিনের মধ্যে ইরান এ জলপথ অবরোধ করে, সে সময়ে বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয় এবং এ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বিশ্ববাজারে এর জোর ধাক্কা লাগে, জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত অনেকটা বেড়ে যায়।
তেহরানের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে এবং ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়।
সংঘাতের অবসান ঘটানো এবং কৌশলগত নৌপথটি আবার চালু করার লক্ষ্যে গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। এর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
যদিও ইরান জোর দিয়ে বলেছে, যুদ্ধপূর্ব ব্যবস্থায় আর ফেরা হবে না। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ অবাধে চলাচল করতে পারত।
এখন তেহরান তাদের উপকূল বরাবর অনুমোদিত নির্ধারিত করিডরের বাইরে অন্য কোনো পথ ব্যবহার না করতে জাহাজগুলোকে সতর্ক করেছে।
হরমুজ প্রণালি উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে, বিশেষ করে এশিয়ায় জ্বালানি রপ্তানির প্রধান সমুদ্রপথ।
হরমুজ কারা ব্যবহার করে
বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ সাধারণত এ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ করা হয়।
এ তেল শুধু ইরান থেকে আসে না; ইরাক, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করে।
মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এ জলপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে। বছরে এ জ্বালানি–বাণিজ্যের আর্থিক মূল্য প্রায় ৬০ হাজার কোটি ডলার।
তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পথে নৌযান চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
ইআইএর হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারাপার হওয়া অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানির প্রায় ৮২ শতাংশ গেছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। ধারণা করা হয়, ইরান যে পরিমাণ তেল রপ্তানি করে, তার প্রায় ৯০ শতাংশ চীন একাই কেনে।
এএফপি