• Colors: Purple Color

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (৩০ আগস্ট) দলটির উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, শনিবার দুপুর ১টার দিকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফোন করেন। এ সময় নুরুল হক নুর প্রধান উপদেষ্টাকে গতকালের ঘটনার বিস্তারিত জানান। ফোনালাপে গতকালের ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা।

এর আগে, গতকাল রাতে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম নুরুল হক নুরকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল যান।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা আবারও জানালেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, নির্বাচন প্রতিহত করবে এমন কোনো শক্তি নেই।

শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে ব্রিফিংয়ে নির্বাচন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করার মতো পরিবেশ আছে কিনা জানতে চাইলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, আপনারা পুলিশ সদর দফতর থেকে পরিসংখ্যান নেবেন। গত বছরের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পরিসংখ্যান তুলনা করে দেখবেন; পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে কিনা। আমরা কিন্তু পুলিশকে জানিয়েছি, তারা যেন নিয়মিত পরিসংখ্যান দেয়। আমরা মনে করি, সামনে নির্বাচন হওয়ার মতো যথেষ্ট পরিবেশ আছে। নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে হবে।

নুরুল হক নুরের প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, প্রধান উপদেষ্টা সবার জন্য সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য নুরকে দেশের বাইরে নেয়া হবে। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টা ফোনে নুরের সঙ্গে কথা বলছেন এবং হামলার প্রতি সমবেদনা ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন।

জাতীয় পার্টির একাংশের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, গতকাল মশাল মিছিলের নামে বেশ কয়েকজন জাতীয় পার্টির অফিসে আগুন দিতে এসেছিল। এ সময় সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা আগুনে পুড়ে যাওয়ার হাত থেকে নেতাকর্মীদের রক্ষা করেছেন।

শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, আরেকটি দলকে ব্যান করা কোন দলের আদর্শ বা কর্মসূচি হতে পারে না। দেশে নব্য মবতন্ত্র সৃষ্টি হচ্ছে। এই সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক করতে পারেনি। তারা সুষ্ঠ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে পারবে কি না তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।

এ সময় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন শামীর হায়দার পাটওয়ারী।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এক সপ্তাহের মধ্যে রিলিজ পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন ঢামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

রোববার (৩১ আগস্ট) নুরের সবশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ধীরে ধীরে নুরের উন্নতি হচ্ছে। তার ৪ টি সমস্যা রয়েছে— নাক, চোয়ালের হাড় ভেঙে গেছে। চোখেরও ইঞ্জুরি আছে। মস্তিষ্কেও রক্তক্ষরণ হয়েছে।

সিটিস্ক্যান রিপোর্ট ভালো আসছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, নুর কিছুটা ট্রমায় আছে। গঠিত হওয়া বোর্ডের সিদ্ধান্তে সব ধরণের চিকিৎসা হচ্ছে। এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি রিলিজ পেতে পারেন বলেও এসময় আশা প্রকাশ করেন ঢামেক পরিচালক।

উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার রাতে রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতাকর্মীদের সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। দুপক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁনসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত হওয়ায় নুরকে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে রাত ১১টার দিকে তাকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়।

রাজনীতির মাঠে নানামুখী উত্তাপ বিরাজমান। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি বা সংখ্যানুপাতিক (পিআর) নির্বাচন নিয়ে দলগুলোর মধ্যে বাহাস চলছে। তাছাড়া, ভোটের আগে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের মতো ইস্যুও রয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাফ জানিয়েছেন, ঐকমত্য না হওয়া বিষয়গুলোর ভাগ্য পরবর্তী সংসদে নির্ধারণ করা হবে।

তিনি বলেন, যেকোনো কিছু করলে হলে আগে সংসদে যেতে হবে। সংসদ ছাড়া সংবিধান সংশোধন করা যাবে না।

এদিকে, গণপরিষদ কিংবা নতুন সংবিধান নিয়েও বিএনপির অবস্থান পরিস্কার করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ীই সবকিছু হবে। প্রয়োজনে সংবিধানের ভুলত্রুটি সংশোধন হতে পারে।

বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, নতুন সংবিধান আমরা গ্রহণ করবো না। কারণ বর্তমান সংবিধানের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম জড়িয়ে রয়েছে। সংবিধানের ভুলত্রুটি সংশোধন করা যাবে। অনেকে নতুন সংবিধান লেখার দাবি তুলছেন। কিন্তু তারা এটি কেন করছে আমি বুঝি না।

অপরদিকে, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বা এনসিপির সমমনা বক্তব্যেও আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা দেখছেন না মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সঠিক সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। দলগুলো বিভিন্ন কথা বললেও নির্বাচন বিলম্বিত হলে গণতান্ত্রিক উত্তরণ দেরী হবে এটা সবাই উপলব্ধি করে।

সংস্কার বিএনপির সন্তান উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম ও আওয়ামী লীগ সরকারের নিপীড়ন-নির্যাতনের সবচেয়ে বড় শিকার বিএনপি। তাই সংস্কার ও গণহত্যার বিচার নিয়ে আমাদের আপস করার সুযোগ নেই।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, সংস্কারের নিশ্চয়তা দিতে আমরা একমত হয়েছি। এটিকে ইস্যু করা উচিত নয়। ঐকমত্য হওয়া সংস্কার প্রস্তাবগুলো এখনই বাস্তবায়ন হোক। আর একমত না হওয়া বিষয়গুলো সংসদের হাতে দেয়া হোক।

রাজনৈতিক কৌশল থেকে দলগুলো যে বক্তব্যই দিক না কেন, সকলেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচনী ক্যাম্পেইন সবার আগে জামায়াত শুরু করেছে। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায় ভোটে সকল দল অংশ নেবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শনিবার (৩০ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার বাইরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

প্রেস সচিব বলেন, কিছু রাজনৈতিক দলের সঙ্গে চিফ অ্যাডভাইজার বসবেন। বিকেল ৩টার সময় বিএনপির সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি এবং ইলেকশন নিয়ে আলাপ আলোচনা হবে; সাড়ে ৪টায় জামায়াত এবং সন্ধ্যা ৬টায় এনসিপির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন প্রধান উপদেষ্টা।

মূলত, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলমান মতভিন্নতার মধ্যেই হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এরই মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপও ঘোষণা করেছে ইসি। হঠাৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় আগামী নির্বাচন ঘোষিত সময়ের মধ্যে হবে কি না, এ নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে ও নাগরিক সমাজে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইসির রোডম্যাপ অনুযায়ী চলতি বছরের ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব