• Colors: Purple Color

২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ঘটনায় রুজুকৃত মামলার মধ্যে ১২টি মামলায় চার্জশিট দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩টি হত্যা এবং অন্যান্য ধারায় মামলা ৯টি।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) এক বার্তায় এ তথ্য জানায় পুলিশ সদর দফতর।

বার্তায় জানানো হয়, চার্জশিট হওয়া তিনটি হত্যা মামলার সবগুলোই শেরপুর জেলার। অন্যান্য ধারার ৯টি মামলার মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ১টি, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ১টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ৩টি, সিরাজগঞ্জ জেলার ২টি এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের তদন্তাধীন ২টি মামলা রয়েছে।

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানকালে দায়েরকৃত মামলার যথাযথ তদন্ত নিশ্চিত করার জন্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা মামলা তদারকি করছেন। রুজুকৃত সব মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে বলেও জানানো হয়। 

গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে এনসিপি। পাশাপাশি এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকার বিভাগীয় তদন্ত ও দলটির পদযাত্রায় নিরাপত্তা নিশ্চিতেরও দাবি জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাতে বাংলামোটরে দলটির কার্যালয়ে এ দাবি জানান নেতারা।

এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব নিজামউদ্দিন বলেন, গোপালগঞ্জের ঘটনায় প্রশাসনের দায়িত্বশীলতার অভাব ছিল। হামলার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার উদাসীন। এছাড়া স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাও এর দায় এড়াতে পারেন না। এই উদাসীনতা জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। এ বিষয়ে আরও সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানান তিনি।

নেতারা বলেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বিকেল ৪টায় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সমন্বয়ে প্রেসক্লাব চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত কর্মসূচি চলতে থাকবে বলেও জানান নেতারা।

ফেব্রুয়ারিতে যেন নির্বাচন না হয়, সেজন্য ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সুযোগ সৃষ্টি হলেও ষড়যন্ত্র থেমে নেই। গণতন্ত্রের যেন উত্তরণ না ঘটে সেজন্য পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত জুলাই আন্দোলনে শহীদ ছাত্রদের স্মরণে স্মরণসভায় বিএনপি মহাসচিব একথা বলেন।

তিনি বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে বিএনপির মতো এত ত্যাগ কেউ স্বীকার করেছে কী না তা জানা নেই। ২০ হাজার নেতাকর্মীকে বিচার বর্হিভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এতকিছুর পরও বিএনপি মাথা উচু করে দাঁড়িয়েছে। একবারের জন্যও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই থামায়নি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ লড়াই করে বেঁচে থাকে। এখন যারা জুলাইয়ের কৃতিত্ব নিয়ে কথা বলছেন, এককভাবে দাবি করছেন, আসলে এই আন্দোলনের কৃতিত্ব জনগণের। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আজকে যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তা যেন বিফলে না যায়। সুযোগ সৃষ্টি হলেও ষড়যন্ত্র থেমে নেই। আমাদের এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রের যেন উত্তরণ না ঘটে সেজন্য পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু হয়েছে। সোশাল মিডিয়ায় বিএনপি নেতাদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেয়া হচ্ছে। তারেক রহমানের ভয়ে তারা এসব করছে। সংগ্রাম শেষ হয়ে যায়নি। এরা ফাঁদ পাতা হচ্ছে, কিন্তু আমরা তাদের পাতা ফাঁদে পা দেবো না। গণতন্ত্রের উত্তরণের পথ বাঁধাগ্রস্ত করতেই এমনটা অরা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। মূলত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের যেন না হয়, সেই জন্য ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। ঘোষিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশকে ঘিরে হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় জারি করা কারফিউর সময় বাড়ানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তাতে বলা হয়, জেলায় আজ বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামীকাল শুক্রবার (১৮ জুলাই) দুপুর ১১টা পর্যন্ত কারফিউ অব্যাহত থাকবে। দুপুর ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল থাকবে। এরপর দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত আবারও কারফিউ চলবে।

গতকাল বুধবার সমাবেশ শেষে ফেরার পথে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় গোপালগঞ্জের পৌরপার্ক এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হলে জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন। এরপর জেলাটিতে গতকাল রাত ৮টা হতে আজ সন্ধ্যায় ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়। এবার চলমান কারফিউর সময় বাড়ানো হলো।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন স্পেসএক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার। শুক্রবার (১৮ জুলাই) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হয়।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস লরেন ড্রেয়ারকে বলেন, বর্ষাকালে চারপাশে সবুজ আর পানির সমারোহ দেখা গেলেও বন্যা ও জলাবদ্ধতার চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এর জন্য নিরবিচ্ছিন্ন সংযোগ প্রয়োজন। বর্তমানে পার্বত্য অঞ্চলের দূরবর্তী এলাকাগুলোর সংযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। সেই অঞ্চলে স্কুল, শিক্ষক এবং চিকিৎসকের অভাব রয়েছে। তবে সরকার ১০০টি স্কুলে অনলাইন শিক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের কাজে লাগবে।

স্পেসএক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার বলেন, আমরা বিশ্বের ১৫০টি দেশ ও অঞ্চলে কাজ করি। তবে এত দক্ষতা ও দ্রুততার সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে কোথাও দেখিনি। স্পেসএক্স অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে কাজ করতে আগ্রহী।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, দূরবর্তী এলাকার মানুষ অনলাইনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন এমন ব্যবস্থা চালু করতে চাই। রোগীদের চিকিৎসা ইতিহাস ডিজিটালি সংরক্ষিত থাকবে, যা পরবর্তী চিকিৎসা গ্রহণের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। গর্ভাবস্থার সময় মহিলাদের প্রায়ই চিকিৎসকের কাছে যেতে পুরুষের সহায়তা দরকার হয়। কিন্তু ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে তারা ঘরে বসেই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারবেন।

এ সময় লরেন ড্রেয়ার বলেন, জনসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে আপনার (ড. ইউনূস) উদ্যোগগুলো প্রশংসনীয়। দুর্নীতি একটি বড় সমস্যা। দুর্নীতি বন্ধ করতে সেবা বিকেন্দ্রীকরণ ও শাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

সাক্ষাতে আরও উপস্থিত ছিলেন, স্পেসএক্সের গ্লোবাল এনগেজমেন্ট কনসালটেন্ট রিচার্ড গ্রিফিথস, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফাইজ আহমাদ তৈয়্যব, বিডা ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য পাগল নয়। বিএনপির একজন জীবিত থাকতেও তাদেরকে মাইনাস করে ক্ষমতায় যাওয়ার খায়েশ পূরণ হবে না। শুক্রবার (১৮ জুলাই) পল্টনে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণে মৌন মিছিল ও দোয়া অনুষ্ঠানে এ সব কথা বলেন তিনি।

এর আগে, বেলা তিনটার পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে মিছিল নিয়ে আসেন নেতাকর্মীরা। মিছিলগুলো পল্টন হয়ে মালিবাগে আবুল হোটেলের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

মির্জা আব্বাস বলেন, শহিদদের কেউ বেঁচে থাকলে আজ লজ্জা পেত। তারা যে কারণে শহীদ হয়েছেন আজ তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তাদেরকে বিক্রি করে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার চেষ্টা করছে একটি দল। একজন পীর আগে জামায়াতের বিরুদ্ধে কথা বললেও আজ তিনি জামায়াতের কোলে উঠে বসেছেন। জামায়াত একসময় বিএনপির মাধ্যমে মন্ত্রী হলেও আজ বাস্তবতা ভিন্ন।

তিনি বলেন, আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ দেশ চাই, যা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।অনেকে আজ বিএনপিকে আওয়ামী লীগের কাতারে ফেলার চেষ্টা করছে। বিএনপি পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করবে না। তবে বাটে পড়লে কিছু করার নাই। বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য পাগল নয়। বিএনপির একজন জীবিত থাকতেও তাদেরকে মাইনাস করে ক্ষমতায় যাওয়ার খায়েশ পূরণ হবে না।

বিএনপির প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে সরকার এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, সরকারকে বলি, বিএনপির প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করবেন না। নির্বাচন না দিলে ভাববো, আপনারা দেশকে অশান্ত করার চেষ্টা করছেন।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব