• Colors: Purple Color

পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতের থেকে আরও প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলের একটি চালান বাংলাদেশে আসা শুরু হয়েছে। 

জ্বালানি সরবরাহ ও যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে শনিবার (২৮ মার্চ) পাইপলাইনের মাধ্যমে তেলে আশা শুরু হয়।

এর আগে, শুক্রবার (২৭ মার্চ) বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপ লাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক লিটার বা পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল তেল এসে পৌঁছায়। জ্বালানি তেল সরবরাহ ঠিক রাখার লক্ষে শুক্রবার ছুটির দিনেও ডিপো খোলা রাখে কর্তৃপক্ষ।

এর আগে, ২৪ মার্চ দুপুরে ভারতের আসামে অবস্থিত নুমালিগড় রিফাইনারি কেন্দ্র থেকে পাইপলাইনে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রেলহেড ওয়েল ডিপোতে ৫৭ লাখ লিটার বা পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল তেল সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রায় ৬০ ঘণ্টা পর গত শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পের রিসিপ্ট টার্মিনালে এসব ডিজেল তেল পৌঁছায়।

রেলহেড অয়েল ডিপো সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার ভারত থেকে পাইপলাইনে আসা পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল তেলের চালান সম্পন্ন হয়েছে। এসব তেল আনতে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে।

প্রসঙ্গত, এর আগে চলতি বছরে পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে তিন ধাপে ১৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল তেল আনা হয়েছে।

 

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় বজ্রপাতে মো. জিহাদ উদ্দিন ওরফে রিয়াদ নামের (১৬) এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে হাতিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চর কৈলাস গ্রামের তাহের মিস্ত্রি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, নিহত জিহাদ একই পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের তাহের মিস্ত্রি বাড়ির মো. বেলাল উদ্দিনের ছেলে। সে পেশায় একজন ইটভাটার শ্রমিক ছিল।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল থেকে হাতিয়া পৌরসভা এলাকায় আকাশ কিছুটা মেঘলা ছিল। বেলা দেড়টার দিকে জিহাদ পুকুরে গোসল করার জন্য বসতঘর থেকে বের হয়। ওই সময় বসতঘরের পাশেরই একটি কড়ইগাছের নিচে দাঁড়ানো ছিল সে। তখন আকস্মিক বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে জিহাদ অচেতন হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে সন্ধ্যায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরিবারের লোকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, গোসল করতে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে ওই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে।

ছয় দিন সাগরে ভেসে থাকার পর গ্রিসের উপকূলে কমপক্ষে ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা উত্তর আফ্রিকা থেকে রাবারের নৌকায় করে সমুদ্রপথে ইউরোপ যাচ্ছিলেন। ওই যাত্রা থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা শনিবার গ্রিসের কোস্টগার্ডকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে কোস্টগার্ড শুক্রবার জানায়, ক্রিট দ্বীপের উপকূল থেকে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ এক নারী, এক শিশুসহ ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে।

কোস্টগার্ড পরে এএফপিকে জানায়, ওই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে ২১ জন বাংলাদেশি, ৪ জন দক্ষিণ সুদানি এবং চাদের একজন নাগরিক জীবিত ফিরতে পেরেছেন।

বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা জানান, নৌকায় থাকা এক মানব পাচারকারীর নির্দেশে মৃতদের মরদেহ ভূমধ্যসাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

কোস্টগার্ড জানিয়েছে, বেঁচে ফেরা দুই ব্যক্তিকে ক্রিট দ্বীপের একটি শহরের এক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের বক্তব্যের বরাত দিয়ে কোস্টগার্ড জানিয়েছে, ২১ মার্চ লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর শহর তোবরুক থেকে নৌকাটি গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নে আশ্রয়প্রার্থী অনেক অভিবাসীর কাছে গ্রিসই প্রধান প্রবেশপথ।

কোস্টগার্ড এক বিবৃতিতে জানায়, ‘যাত্রার সময় যাত্রীরা দিক হারিয়ে ফেলেন এবং ছয় দিন খাবার ও পানি ছাড়াই সাগরে ভেসে থাকেন।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘মানব পাচারকারীদের একজনের নির্দেশে মৃতদের মরদেহ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।’

গ্রিস কর্তৃপক্ষ ১৯ ও ২২ বছর বয়সী দুজন দক্ষিণ সুদানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা পাচারকারী বলে ধারণা করা হচ্ছে। ‘অবৈধ প্রবেশ’ এবং ‘অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ডের’ অভিযোগে বর্তমানে তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

অভিবাসনপ্রত্যাশী দলটিকে বহনকারী নৌকাটি দক্ষিণ ক্রিট উপকূলের শহর ইয়েরাপেত্রা থেকে ৫৩ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ৯১ কিলোমিটার) দক্ষিণে ছিল।

লিবিয়া থেকে নৌকায় করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রীসে যাওয়ার পথে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে প্রাণ হারিয়েছেন সুনামগঞ্জের ৫ যুবক।

শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যার পর ঘটনাটি জানাজানি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

নিহত ৫ জনের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায়। তারা হলেন দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারপাশা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩২), মৃত ক্বারী ইসলাম উদ্দীনের ছেলে মো. সাহান এহিয়া (২২), আব্দুল গণির ছেলে মো. সাজিদুর রহমান (২৬), রাজানগর ইউনিয়নের রনারচর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৪০) ও করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. তারেক মিয়া (২৩)। মারা যাওয়ার পর তাদের মরদেহ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই খবর জানার পর তারাপাশা ও রনারচর গ্রামে শোকের মাতম বইছে। বিষয়টি গ্রীস থেকে জানিয়েছেন ওই যুবকদের সঙ্গে থাকা দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের রুহান মিয়া। অনাহারে মারা যাওয়ার পর তাদের সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়ে বলে জানিয়েছেন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া কিশোরগঞ্জের ওই যুবক।

ভিডিওতে ওই যুবককে বলতে শোনা যায়, লিবিয়া থেকে সাগর পথে তারা ৪৩ জন রওনা হয়েছিলেন। তাদেরকে বড় বোটের কথা বলে ছোট হাওয়াই বোটে তুলে দেওয়া হয়। ওই বোটে ৫ জন সুদানের নাগরিক ও ৩৮ জন বাংলাদেশি ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন, যাদের বাড়ি সুনামগঞ্জ-সিলেটে। মারা যাওয়া যুবকদের মরদেহ দুইদিন বোটে রাখা হয়েছিল। পরে মরদেহ পচে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। তার কথা বলার এমন একটি ভিডিও আজ সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইউরোপে আসতে গিয়ে প্রতি বছর অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়

শুক্রবার ভোরের দিকে গ্রিসের কোস্টগার্ড বলেছে, ক্রিট দ্বীপের কাছে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ এক নারী ও এক শিশুসহ ২৬ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে। পরে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে গ্রিসের কোস্টগার্ড বলেছে, এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকে বেঁচে ফিরেছেন ২১ বাংলাদেশি, ৪ দক্ষিণ সুদানি এবং ১ জন চাদের নাগরিক।

মো. সাহান এহিয়ার বড় ভাই জাকারিয়া বলেন, প্রত্যেকে ১২ লাখ টাকায় চুক্তিতে গত মাসে বাড়ি থেকে রওনা হয়। প্রথমে তাদের ঢাকা থেকে বিমানে সৌদি আরব, পরে সৌদি আরব থেকে মিশর, মিশর থেকে লিবিয়া নেওয়া হয়। লিবিয়া নেওয়ার পর অর্ধেক টাকা পরিশোধ করা হয়। গত কয়েক দিন তাদের কোন খবর পাওয়া যাচ্ছিল না। আজ বিকেলে আমার চাচাতো ভাই রুহান জানিয়েছে, সাহানসহ দিরাইয়ের ৫ জন মারা গেছে।

দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, সন্ধ্যার পর বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে, আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কেউ কোন অভিযোগ করেননি। স্বজনদের সাথে যোগাযোগ করে আমরা কথা বলার চেষ্টা করছি।

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসুবকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি দিরাইয়ের ৪ জন যুবক লিবিয়া থেকে গ্রীসে যাওয়ার পথে সাগরে মারা গেছেন। বিষয়টি খুবই কষ্টকর ও মর্মান্তিক। যুবকদের মৃত্যুর সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

জিজ্ঞাসাবাদে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০৭ সালে রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে জরুরি অবস্থা জারির ক্ষেত্রে নিজে দায় এখনো স্বীকার করেননি। পাশাপাশি এক-এগারোর সময় বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের দায়ও অন্যদের ওপর চাপিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে।

সূত্রগুলো বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ উদ্দিন দাবি করেন, ২০০৭ সালে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন। তাঁকে নির্যাতনের ঘটনা তখনকার একজন পরিচালকের নেতৃত্বে ঘটেছে। তিনি তখন সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ছিলেন।

এক-এগারোর অন্যতম প্রধান কুশীলব হিসেবে পরিচিত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে মানব পাচার–সংক্রান্ত একটি মামলায় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) হেফাজতে আছেন।

সংশ্লিষ্ট একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ উদ্দিন বলেন, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারির দিন তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদের সঙ্গে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রধান এবং ডিজিএফআইয়ের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক বঙ্গভবনে গিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, তিনি (মাসুদ উদ্দিন) ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা) পরে বঙ্গভবনে চা–চক্রে যোগ দেন। তার আগেই জরুরি অবস্থা জারি করতে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর হয়ে যায়। তখন দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা না হলে দেশে গৃহযুদ্ধ লেগে যেত বলেও দাবি করেন।

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গত সোমবার রাতে ঢাকার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পল্টন থানার মামলায় মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি। এরপর ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গত বুধবার গ্রেপ্তার করে ডিবি। মিরপুর থানার একটি হত্যা মামলায় আদালত তাঁর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ডিবি হেফাজতে তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। গতকাল তাঁর রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত হয়েছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম গতকাল বলেন, মাসুদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ আইনের মামলাটি ডিবি তদন্ত করছে। এই মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গতকাল শনিবার তাঁর রিমান্ডের চতুর্থ দিন পার হয়েছে। আজ রোববার তাঁকে আদালতে তোলা হবে। তাঁর বিরুদ্ধে আরও ১০টি মামলা রয়েছে ঢাকা ও ফেনীতে।

সংশ্লিষ্ট অপর একটি সূত্র জানায়, মানব পাচার মামলার পাশাপাশি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে এক-এগারোর সময়কার ভূমিকার বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যেমন ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি অবস্থা চালুর পরিকল্পনা কোথায় হয়েছিল, এতে কারা সমর্থন জুগিয়েছে, কোন কোন গোয়েন্দা সংস্থা ও বহির্বিশ্বের কারা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল, ইত্যাদি বিষয়েও জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বলেন, বিদেশে জনশক্তি রপ্তানিতে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল। এই সিন্ডিকেট জনশক্তি রপ্তানিতে বৈধ লাইসেন্সধারী অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে বঞ্চিত করে বিদেশগামী শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়েছিল। মাসুদ উদ্দিনের প্রতিষ্ঠানও এই সিন্ডিকেটে যুক্ত ছিল। এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাসুদ উদ্দিনের শক্তির উৎস সম্পর্কেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার আরও জানান, রিমান্ডে থাকা আরেক সাবেক সেনা কর্মকর্তা শেখ মামুন খালেদকে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মামলার বিষয়েই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ক্ষমতা ব্যবহার করে অপরাধ করার সক্ষমতা তাঁর ছিল। এসব বিষয়ে তাঁর কাছ থেকে জানতে চাওয়া হবে।

দেশের সুপরিচিত চেইন স্টোর স্বপ্নের গ্রাহকদের তথ্য ফাঁস করেছে হ্যাকারদের একটি দল। স্বপ্ন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, হ্যাকারদের দাবি অনুযায়ী দেড় মিলিয়ন ইউএস ডলার না দেওয়ায় গ্রাহকের তথ্য প্রকাশ করে হ্যাকাররা।

আজ শনিবার স্বপ্নের গ্রাহকের ফোন নম্বর, নাম ও কেনাকাটার বিস্তারিত তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করে দেয় হ্যাকারদের দলটি।

স্বপ্ন কর্তৃপক্ষ বলছে, গত বছরের মাঝামাঝিতে গ্রাহকের তথ্যভান্ডার নিয়ন্ত্রণে নেয় আন্তর্জাতিকভাবে হ্যাকিংয়ে জড়িত র‍্যানসমওয়ার গ্রুপ। সম্প্রতি সেই নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে তাদের কাছে দেড় মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি ১৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা (১ ডলার=১২২. ৭১ টাকা ধরে) দাবি করা হয়। দাবি পূরণ না হওয়ায় গ্রাহকের তথ্য ফাঁস করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, র‍্যানসমওয়্যার হচ্ছে, এমন একধরনের ম্যালওয়্যার, যা কম্পিউটারের দখল নেয়, যাতে ব্যবহারকারীকে অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত ঢুকতে দেয় না।

স্বপ্নের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান বলেন, ‘হ্যাকারদের সঙ্গে আমরা কোনো আপস করিনি।’ এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান তিনি।
স্বপ্ন এসিআই লিমিটেডের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান।

হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে জানিয়ে এসিআই লজিস্টিকস লিমিটেডের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত বছরের ২০ আগস্ট আন্তর্জাতিক হ্যাকার দল র‍্যানসমওয়ার গ্রুপের সদস্যরা স্বপ্নের কাছে দেড় মিলিয়ন মার্কিন ডলার দাবি করে। এ ঘটনার পর এসিআই লজিস্টিকস থেকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এসিআই লজিস্টিকস বলছে, গ্রাহকের তথ্যের গুরুত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে স্বপ্নের আইটি অবকাঠামোকে বিশ্বমানে নিয়ে যেতে নেক্সট জেনারেশন ফায়ারওয়াল ও সার্ভারের সুরক্ষায় এন্টারপ্রাইজ গ্রেড সিকিউরিটি সলিউশন স্থাপন করা হয়েছে, এন্ডপয়েন্ট প্রটেকশন ও অ্যাডভান্সড অ্যান্টিভাইরাস সিস্টেম নিশ্চিত করা হয়েছে ও সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালিস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে হবে বলে জানিয়েছে এসিআই লজিস্টিকস। গ্রাহকের সংবেদনশীল ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য সুরক্ষিত রয়েছে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।
সম্ভাব্য প্রতারণা থেকে সুরক্ষিত থাকতে বিবৃতিতে গ্রাহককে অজানা বা সন্দেহজনক ফোন নম্বর থেকে আসা কল বা খুদে বার্তায় কোনো ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য বা আর্থিক লেনদেনের তথ্য শেয়ার না করা, ফোনে আসা কোনো ধরনের লিংক ওপেন করা থেকে বিরত থাকা ও স্বপ্ন থেকে ফোন করার নামে কোনো ওটিপি চাইলে তা না দিতে গ্রাহকদের সতর্ক করেছে স্বপ্ন।

এর আগে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সংবেদনশীল নানা তথ্য ইন্টারনেট জগতে ফাঁস হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুলিশের এক লাখের বেশি সদস্যের ব্যক্তিগত তথ্য। তথ্য ফাঁস হওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সরকারের ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার, নির্বাচন কমিশন, সেবা সংস্থা, কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পরিবহনসংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, কয়েকটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে ছিল নাগরিকের নাম, পেশা, রক্তের গ্রুপ, মা–বাবার নাম, ফোন নম্বর, বিভিন্ন ফোনকলে তিনি কত সময় কথা বলেছেন সেই হিসাব, গাড়ির নিবন্ধন নম্বর, পাসপোর্টের বিস্তারিত তথ্য ও আঙুলের ছাপের ছবি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, তথ্য ফাঁসের ফলে নানা ধরনের অপরাধের ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশ্বজুড়ে পরিচয় চুরির মাধ্যমে আর্থিক অপরাধ করা যায়। বাংলাদেশেও এ ধরনের অপরাধ বাড়ছে। এমনকি ব্যক্তির অজান্তে তাঁর নামে ব্যাংকঋণ নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব