স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩–০ গোলের জয় ব্রাজিলকে শুধু গ্রুপসেরা হিসেবে নকআউট পর্বেই পাঠায়নি, একই সঙ্গে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত করে দিয়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকেও। প্রশ্ন হলো, বসনিয়া তো ব্রাজিলের গ্রুপের দল নয়। আবার গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ শেষ হওয়ার আগে তৃতীয় স্থানধারী সেরা আট দলও চূড়ান্ত হবে না।
তাহলে ব্রাজিলের জয়ের সঙ্গে বসনিয়ার নকআউটে ওঠার সম্পর্ক কোথায়? ‘বি’ গ্রুপে বসনিয়া তিন ম্যাচ খেলে তৃতীয় হয়েছে। এই গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সুইজারল্যান্ড (৭ পয়েন্ট) এবং রানার্সআপ (৪ পয়েন্ট) হয়ে কানাডা দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে। একই গ্রুপ থেকে বসনিয়াও কীভাবে এখনই শেষ ৩২ নিশ্চিত করে ফেলল?
প্রথমেই মূল বিষয়টি বুঝে নেওয়া যাক। এবারের বিশ্বকাপের ৪৮টি দল ১২টি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলছে। প্রতি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ সরাসরি দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করবে। দ্বিতীয় রাউন্ড বলতে ‘শেষ ৩২’, যেখানে খেলবে ৩২ দল। গ্রুপসেরা ও রানার্সআপ দল ২৪টি। বাকি ৮টি চূড়ান্ত হবে তৃতীয় স্থানধারীদের মধ্য থেকে।
প্রতিটি গ্রুপের তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে (মোট ১২টি) সেরা আটটি দল নকআউটে উঠবে। অর্থাৎ তৃতীয় হওয়া দলগুলো সেরা আটের মধ্যে থাকছে কি না, সেটা বোঝা যাবে গ্রুপের সব ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়ার পর।
মাত্র তিনটি গ্রুপের সব ম্যাচ শেষ হলেও আগেভাগেই সেরা আট নিশ্চিত হয়ে গেছে বসনিয়ার। ‘বি’ গ্রুপে কাতারকে ৩–১ গোলে হারিয়ে বসনিয়া গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে ৪ পয়েন্ট নিয়ে। ‘এ’ গ্রুপে তৃতীয় হওয়া দক্ষিণ কোরিয়ার পয়েন্ট তিন। আর ‘সি’ গ্রুপে ব্রাজিলের কাছে শেষ ম্যাচে হেরে স্কটল্যান্ডের পযেন্টও ৩ (গ্রুপে তৃতীয়)।
স্কটিশরা ৩ পয়েন্টে আটকে যাওয়ায় ৪ পয়েন্টধারী বসনিয়া তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর মধ্যে নিরাপদ অবস্থান চলে গেছে।
এখনো ৯টি গ্রুপের শেষ ম্যাচ বাকি থাকলেও হিসাব বলছে, কয়েকটি গ্রুপ থেকে আর কোনো দল বসনিয়ার পয়েন্ট ছুঁতে পারবে না। বিশেষ করে, ‘ডি’, ‘আই’ ও ‘জে’ গ্রুপের পরিস্থিতি এমন যে সেখানকার তৃতীয় স্থানধারীরা বসনিয়াকে টপকে যাওয়ার মতো পয়েন্ট অর্জন করতে পারবে না।
গ্রুপ ‘ডি’–এর কথাই ধরি। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র এর মধ্যেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন, তুরস্ক বাদ। দুই ও তিন নম্বর স্থানের লড়াই চলছে প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার। দুই দলেরই পয়েন্ট তিন।
এর মধ্যে প্যারাগুয়ের গোল ব্যবধান -২, অস্ট্রেলিয়ার ০। যার মানে ম্যাচটি ড্র হলে অস্ট্রেলিয়া হবে দ্বিতীয়, প্যারাগুয়ে তৃতীয়। কিন্তু প্যারাগুয়ের গোল ব্যবধান বসনিয়ার (-১) চেয়ে খারাপ, তাই প্যারাগুয়ে বসনিয়াকে টপকাতে পারছে না। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া বা প্যারাগুয়ের কেউ জিতলে অন্য দলের পয়েন্ট হবে ৩, যা বসনিয়ার চেয়ে কম।
ঠিক একই গ্রুপ ‘জে’-তেও। আর্জেন্টিনার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের পর্বে যাওয়া নিশ্চিত করেছে, জর্ডান এর মধ্যেই বাদ। অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার পয়েন্ট ৩, তারা শেষ ম্যাচটা খেলবে নিজেদের মধ্যে। অস্ট্রিয়ার গোল ব্যবধান ০, আলজেরিয়ার -২। যার মানে ম্যাচটি ড্র হলে আলজেরিয়া গোল ব্যবধানে বসনিয়াকে টপকাতে পারছে না। আর অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার মধ্যে কেউ জিতলে অন্য দলের পয়েন্ট হবে ৩, যা বসনিয়ার চেয়ে কম।
গ্রুপ ‘আই’-এর হিসাবটা আবার সহজ। ‘আই’ গ্রুপে ফ্রান্স ও নরওয়ের শীর্ষ দুইয়ে থাকা নিশ্চিত, তৃতীয় হতে পারে সেনেগাল বা ইরাক, যাদের এই মুহূর্ত পয়েন্ট শূন্য। ফলে নিজেদের শেষ ম্যাচ জিতলেও তাদের পয়েন্ট তিনের বেশি হবে না। সব হিসাবেই তাই বসনিয়ার নকআউটে যাওয়া নিশ্চিত।
এবারের আগে একবারই বিশ্বকাপে খেলেছে বসনিয়া। ২০১৪ সালে সেই অভিষেক আসরে প্রথম পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল তারা।