লক্ষ্য ১৫ ওভারে ১০৩। হাতে ১০ উইকেট। কোনোভাবেই এটাকে বড় বলার সুযোগ নেই। এই লক্ষ্যে নিউজিল্যান্ডের শুরুটা হয়েছিল বাজে।
৩৩ রান তুলতেই হারিয়েছিল ৪ উইকেট। তবে বাকি পথটা খুব সহজেই পাড়ি দিয়েছে দলটি। শেষ পর্যন্ত দলটি জিতেছে ৬ উইকেট। এই জয়ে ৩ ম্যাচের সিরিজ শেষ হয়েছে ১–১ সমতায়।
সিরিজের প্রথম ম্যাচটি বাংলাদেশ জিতেছিল ৬ উইকেটে। দ্বিতীয় ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়।
বৃষ্টি নাকি অন্য কিছু!
বাংলাদেশ তৃতীয় টি-টুয়েন্টিতে হারল কেন? নাকি ১৫ ওভারের ম্যাচে ৬ উইকেটে হারের দিনটাই বাংলাদেশের ছিল না! নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় সারির এই দলের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজ জিততে ব্যর্থ হওয়ার পর এমন অনেক প্রশ্নই হয়তো উঠবে।

কাঠগড়ায় হয়তো সবার আগে উঠতে হবে ব্যাটসম্যানদের। মাত্র তিনজনই যে যেতে পেরেছেন দুই অঙ্কের ঘরে! সর্বোচ্চ রান করেছেন হৃদয়, সেটিও ৩৩। লিটন করেছেন ২৬ আর সাইফ ১৬। ৬.৪ ওভার পর নামা বৃষ্টি বাংলাদেশের ব্যাটিংটা এলোমেলো করেছে, সেটা বলার সুযোগও কম। কারণ, বাংলাদেশ টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ৩৫ রান তুলতেই হারিয়েছিল ৩ উইকেট।
৩ উইকেটে ৫০ রান করার পর নামে বৃষ্টি। এরপর ৫২ রান তুলতে বাংলাদেশের গেছে ৭ উইকেট। বৃষ্টির আগে–পরে মিলিয়ে শেষ ৭ উইকেট গেছে ৬৭ রানে।
বোলাররা যদি কিছু করতে পারতেন, সেটা হয়তো বোনাসই হতো। মিরপুরের এই উইকেটে ১৫ ওভারে ১০৩ লক্ষ্য দিয়ে ম্যাচ জেতা কঠিনই বটে! বিশেষ করে বেভন জ্যাকবসের ইনিংসটার পর। মাত্র ৩১ বলে ৬২ রানের ইনিংস খেলেছেন এই ব্যাটসম্যান, যা আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে তাঁর প্রথম ফিফটি।

জ্যাকবসকে সঙ্গ দিয়েছেন ডিন ফক্সক্রফট। এই দুজনের ৪০ বলে ৭১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিই নিউজিল্যান্ডের জয়টা সহজে এনে দিয়েছে। ১৫ বলে ১৫ রান করে অপরাজিত ছিলেন ফক্সক্রফট।
নিউজিল্যান্ডের বোলাররাও তাঁদের কাজটা করেছেন। কিউই পেসার জশ ক্লার্কসন নিয়েছেন ৩ উইকেট। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন নাথান স্মিথ ও বেন সিয়ার্স। ম্যাচসেরা হয়েছেন জ্যাকবস।
বাংলাদেশের হয়ে শরীফুল ইসলাম নেন ৩ উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ১৪.২ ওভারে ১০২ (হৃদয় ৩৩, লিটন ২৬, সাইফ ১৬; ক্লার্কসন ৩/৯, সিয়ার্স ২/১২, স্মিথ ২/১৪)। নিউজিল্যান্ড: ১১.৪ ওভারে ১০৪/৪ (জ্যাকবস ৬২*, রবিনসন ২৩, ফক্সক্রফট ১৫*; শরীফুল ৩/১৯, মেহেদী ১/২০)। ফল: নিউজিল্যান্ড ৬ উইকেটে জয়ী (ডি/এল)। ম্যাচসেরা: বেভন জ্যাকবস। সিরিজসেরা: তাওহিদ হৃদয়। সিরিজ: ৩–ম্যাচ সিরিজ ১–১ ড্র।