• Colors: Purple Color

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্টা শুল্কের ওপর বাণিজ্য চুক্তি হবে আগামী সোমবার। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে। নির্ধারিত সময়েই অর্থাৎ ৯ ফেব্রুয়ারি এই চুক্তি হচ্ছে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শুরু হবে অবশ্য আগের দিন ৮ ফেব্রুয়ারি। তবে দুই দিনব্যাপী এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত থাকছেন না বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। উপস্থিত থাকছেন না বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানও।

বাণিজ্য উপদেষ্টা ও বাণিজ্যসচিবের সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এই প্রতিবেদক আলাদাভাবে মুঠোফোনে কথা বলে এই তথ্য জেনেছেন।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানান, চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি (বাণিজ্য উপদেষ্টা) ও বাণিজ্যসচিব যাচ্ছেন না। তবে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি দল যাচ্ছে ওয়াশিংটনে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ৩ ফেব্রুয়ারি দলের সদস্যদের নামে যে সরকারি আদেশ (জিও) জারি করেছে, তাতে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

চুক্তির জন্য এবারের সফরকারী দলের প্রধান হচ্ছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) অনুবিভাগের প্রধান খাদিজা নাজনীন। অন্য চারজনের মধ্যে রয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুই যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ শামসুল আরেফীন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কমিশনার রইছ উদ্দিন খান।

জিও অনুযায়ী, আগামীকাল শুক্রবার তাঁদের ঢাকা ছাড়ার কথা। এতে ১০ ফেব্রুয়ারি বা তার কাছাকাছি সময়ের মধ্যে তাঁদের দেশে ফিরে আসার কথা বলা হয়েছে।

এদিকে আজ বেলা পৌনে দুইটায় জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা ও বাণিজ্যসচিব। জাপানের রাজধানী টোকিওতে কাল বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (বিজেইপিএ) সই হওয়ার নির্ধারিত দিন রয়েছে। ৪ থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি তিন দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাঁরা টোকিও যাচ্ছেন।

সরকারি আদেশে জানানো হয়, এ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য গঠিত দলে বাণিজ্য উপদেষ্টা ও বাণিজ্যসচিবের সঙ্গে আরও চারজন রয়েছেন। তাঁরা হলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) অনুবিভাগের প্রধান আয়েশা আক্তার, যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ, উপসচিব মাহবুবা খাতুন মিনু এবং সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ হাসিব সরকার। উপদেষ্টা ও সচিব ছাড়া এ চারজন দুই দিন আগে থেকেই টোকিওতে আছেন। ৭ ফেব্রুয়ারি বা তার কাছাকাছি সময়ে তাঁদের ঢাকায় ফেরার কথা।

বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, জাপানের সঙ্গে ইপিএ সই করে তাঁরা ঢাকায় ফিরে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে কে স্বাক্ষর করবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যসচিব বলেন, বাণিজ্য উপদেষ্টা চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন, যা হবে অনলাইনে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ঢাকায় বসে ইতিমধ্যেই এ চুক্তিতে সই করেছেন। তাঁর সই করা কপি বাংলাদেশের দলটি ওয়াশিংটনে নিয়ে যাবে। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সই করবেন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জেমিয়েসন গ্রিয়ার।

ফ্যাটি লিভার বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও অসচেতন জীবনযাপনের ফলে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে এ রোগের সৃষ্টি হয়। শুরুতে উপসর্গ কম থাকায় অনেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দেন না, কিন্তু সময়মতো শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ না করা হলে এটি লিভারের দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি করতে পারে।

‘ফ্যাটি লিভার: বাস্তবতা ও আধুনিক চিকিৎসা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এ কথা বলেন। বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি ও এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের যৌথ আয়োজনে গত ২৭ জানুয়ারি রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা ফ্যাটি লিভার রোগের ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যঝুঁকি ও এর বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। তাঁরা রোগটির সময়মতো শনাক্তকরণ, জীবনযাপন পরিবর্তন এবং আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতির গুরুত্বের ওপর জোর দেন। এ আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার ছিল প্রথম আলো এবং ব্র্যান্ড পার্টনার ছিল ইমাজিড ও রেসমিট।

গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেন বারডেম জেনারেল হাসপাতাল ও ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিশেষজ্ঞ ও জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির অনারারি প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক পাঠান, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির সাবেক সভাপতি এবং ঢাকা ইউনাইটেড হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজির সিনিয়র কনসালট্যান্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির সভাপতি ও বারডেম জেনারেল হাসপাতাল ও ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারিয়া আফসানা, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির প্রেসিডেন্ট (ইলেক্ট) ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম সাইফুদ্দিন এবং কোষাধ্যক্ষ ও একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মির্জা শরীফুজ্জামান।

উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিপাকতন্ত্র, লিভার ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডা. এ বি এম ছফিউল্লাহ, ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্ট্যারোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আফসার আহাম্মদ, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির প্রকাশনা সম্পাদক ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্স ঢাকার এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আহমেদ সালাম মীর ও এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (সেলস) গোলাম হায়দার।

ফ্যাটি লিভার হলো লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার একটি অবস্থা। এটি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও স্থূলতার মতো একটি অসংক্রামক রোগ, যা অবহেলিত থাকলে ভবিষ্যতে লিভার ক্যানসারেও রূপ নিতে পারে।

আমন্ত্রিত অতিথিদের পরিচয় পর্ব শেষে সঞ্চালক শুরুতেই জানতে চান—ফ্যাটি লিভার কী, কেন হয় এবং এর লক্ষণ কী। জবাবে অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক পাঠান বলেন, ফ্যাটি লিভার হলো লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার একটি অবস্থা। এটি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও স্থূলতার মতো একটি অসংক্রামক রোগ, যা অবহেলিত থাকলে ভবিষ্যতে লিভার ক্যানসারেও রূপ নিতে পারে। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত। তিনি জানান, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, মেদ বৃদ্ধি, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অপর্যাপ্ত ও অনিয়মিত ঘুম, পরিবেশগত সীমাবদ্ধতা এবং মুঠোফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে ওজন ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়ে, যা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি তৈরি করে। প্রায় ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে কোনো উপসর্গ না থাকায় এ রোগকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়।

ফ্যাটি লিভার কি শুধু মোটা মানুষের হয়

ফ্যাটি লিভার শুধু মোটা মানুষের হয়—এমন ধারণা প্রচলিত। কিন্তু আসলে এটি মোটা বা চিকন—উভয় রকম মানুষেরই হতে পারে বলে জানান ডা. ফারিয়া আফসানা। তিনি বলেন, ফ্যাটি লিভারের প্রধান কারণ হলো রক্তে চর্বির পরিমাণ বেশি থাকা। ঝুঁকি বেশি থাকে এমন মানুষের মধ্যে যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন না বা যাঁদের কোমরের মাপ নারীদের জন্য ৮০ সেমি ও পুরুষদের জন্য ৯০ সেমি এর বেশি। এ ছাড়া ডায়াবেটিস, রক্তে অতিরিক্ত চর্বি ও হরমোনজনিত সমস্যা, যেমন হাইপোথাইরয়েডিজম থাকলেও ফ্যাটি লিভার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সুস্থ থাকতে হলে এসব ঝুঁকি এড়িয়ে চলা জরুরি।

বিশ্বে প্রতি ১০টি শিশুর ১টি এবং স্থূল শিশুদের ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ এতে আক্রান্ত। ৯ বছর বয়স থেকেই এটি ধরা পড়তে পারে। স্কুলগামী শিশুদের মধ্যে প্রায় ১৭ শতাংশের এ সমস্যা রয়েছে।

ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের সঙ্গে ফ্যাটি লিভারের সম্পর্ক নিয়ে ডা. এ বি এম ছফিউল্লাহ বলেন, এই তিনটি রোগের সঙ্গেই ফ্যাটি লিভারের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ফ্যাটি লিভার শরীরে ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স’ তৈরি করে, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ কঠিন করে দেয়। পাশাপাশি হার্টের সমস্যা ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সামাজিক সচেতনতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

শিশু–কিশোরদের মধ্যেও ফ্যাটি লিভারের উদ্বেগজনক বৃদ্ধি বিষয়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমানে শিশুদের মধ্যে এটি সাধারণ ক্রনিক লিভার ডিজিজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বে প্রতি ১০টি শিশুর ১টি এবং স্থূল শিশুদের ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ এতে আক্রান্ত। ৯ বছর বয়স থেকেই এটি ধরা পড়তে পারে। স্কুলগামী শিশুদের মধ্যে প্রায় ১৭ শতাংশের এ সমস্যা রয়েছে। তবে তরুণদের চেয়ে তরুণীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি কম। মূল কারণ হলো হাই ক্যালরি প্রসেসড ফুডের বেশি ব্যবহার, স্ক্রিন টাইম বেড়ে যাওয়া ও কায়িক পরিশ্রমের অভাব।

আলোচনায় ডা. শাহজাদা সেলিম ফ্যাটি লিভার শনাক্তে আধুনিক পরীক্ষা সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেন। তিনি বলেন, প্রথম ধাপে রক্ত পরীক্ষা, যেমন এএলটি (এসজিপিটি) এবং এএসটি (এসজিওটি), বিলিরুবিন, সিরাম অ্যালবুমিন ও লিপিড প্রোফাইল করা হয়। প্রাথমিক ইমেজিং হিসেবে পেটের আলট্রাসোনোগ্রাফি করা হয়। আধুনিক পরীক্ষার মধ্যে ফাইব্রোস্ক্যান লিভারের কঠিনতা ও চর্বির পরিমাণ নির্ণয়ে অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ প্রয়োজনে সিটি বা এমআরআই করা হয়। এ ছাড়া ফাইব্রোসিসের ঝুঁকি বুঝতে ‘এফআইবি–ফোর’ স্কোর এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে লিভার বায়োপসি করা হয়। তাই যাঁদের ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইড রয়েছে, তাঁদের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এই পরীক্ষাগুলো করানো অত্যন্ত জরুরি।

ফ্যাটিলিভার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে করণীয় কী

ফ্যাটিলিভার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডা. এম সাইফুদ্দিন ১০টি পরামর্শ তুলে ধরেন—

১. উচ্চতা ও পরিশ্রম অনুযায়ী দৈনিক ক্যালরি থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী ৫০০–১০০০ ক্যালরি কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

২. প্লেট মডেল অনুসরণ করতে হবে: অর্ধেক প্লেট সবজি, এক-চতুর্থাংশ প্রোটিন, এক-চতুর্থাংশ শর্করা।

৩. হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি এড়াতে অতিমাত্রার ডায়েট, যেমন কিটো ডায়েট, পরিহার করতে হবে।

৪. অ্যালকোহল এড়াতে হবে। লিভারের সুরক্ষার জন্য চিনি-দুধ ছাড়া ব্ল্যাক কফি পান করা ভালো।

৫. শরীরের ওজন অনুযায়ী সঠিক মাত্রায় প্রোটিন গ্রহণ করতে হবে।

৬. নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে তাজা সবজি ও ফলমূল খেতে হবে।

৭. প্রসেসড খাবার ও ফ্রুক্টোজ এড়িয়ে, খাবারের উপাদান সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

৮. শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।

৯. দুধ ও ডিমকে ক্ষতিকর মনে না করে খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে।

১০. কৃত্রিম চিনি বা আর্টিফিশিয়াল সুইটেনার সম্পূর্ণভাবে এড়াতে হবে।

ফ্যাটি লিভারের অন্যতম প্রধান কারণ হলো ওজন বেড়ে যাওয়া। ফ্যাটি লিভারের আধুনিক চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যবহার সম্পর্কে ডা. মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ওজন কমানোই এ সমস্যার মূল সমাধান। আধুনিক চিকিৎসায় এ জন্য ব্যবহার করা হয় জিএলপি-১ রিসেপ্টর এগোনিস্ট, যেমন সিমাগ্লুটাইড ও টির্জেপাটাইড। এ ছাড়া অবিটিকলিক অ্যাসিড নিয়েও চিকিৎসায় কথা হয়েছে। তবে এর কার্যকারিতা কিছুটা সীমিত। ওজন কমানোয় এগুলো না হলে পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে এন্ডোস্কোপিক থেরাপি বা ব্যারিয়াট্রিক সার্জারি নেওয়া হয়। মেটাবলিক সিনড্রোমের জন্য অপর একটি কারণ হলো ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, যা প্রতিরোধে মেটফরমিনের মতো ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা হয়।

তিনি বলেন, কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়ে। তাই স্ট্যাটিন ওষুধ দিয়ে রক্তের কোলেস্টেরল ও অতিরিক্ত চর্বি নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া অবিটিকলিক অ্যাসিড এবং সহায়ক হিসেবে ভিটামিন-ইও ব্যবহার করা হয়। মূলত জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন ও মেটাবলিক সিনড্রোমের উপাদানগুলো নিয়ন্ত্রণ করলেই রোগীরা সুস্থ হতে পারেন।

ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার পরিবর্তনই প্রথম ও প্রধান ধাপ। এর জন্য সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন কমানো, অ্যালকোহল ও ধূমপান পরিহার করা জরুরি। প্রতিদিন সাত–আট ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন।

আলোচনার এক পর্যায়ে উঠে আসে, ওজন কমানো ও নিয়মিত ব্যায়াম করলে কি ফ্যাটি লিভার কমে যেতে পারে। ডা. মির্জা শরীফুজ্জামান বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি তাঁর মোট ওজনের ৫ শতাংশ কমাতে পারেন, তবে লিভার থেকে চর্বি কমতে শুরু করে। আর ওজন ১০ শতাংশ কমানো সম্ভব হলে লিভারের প্রদাহ এবং কোষের ক্ষতও ভালো হয়ে যেতে পারে। আর নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমায়, ফলে লিভারে নতুন করে চর্বি জমতে পারে না। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম করা উচিত। তবে দ্রুত ওজন কমানো উচিত নয়, এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে সপ্তাহে ০.৫ থেকে ১ কেজি ওজন কমানোই আদর্শ।

ডা. আফসার আহাম্মদ বলেন, ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার পরিবর্তনই প্রথম ও প্রধান ধাপ। এর জন্য সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন কমানো, অ্যালকোহল ও ধূমপান পরিহার করা জরুরি। এ ছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে কর্টিসল হরমোন বেড়ে বিপাক প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হয়। তাই প্রতিদিন সাত–আট ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। ঘুমানোর অন্তত তিন ঘণ্টা আগে ভারী খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলাও জরুরি।

ফ্যাটি লিভার হলে লিভার সুস্থ রাখা ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত ফলোআপ ও সুশৃঙ্খল জীবনধারা অপরিহার্য। ডা. আহমেদ সালাম মীর বলেন, নিয়মিত ফলোআপের অংশ হিসেবে অন্তত বছরে একবার রক্তে লিভার এনজাইম বা এএলটি এবং এএসটি পরীক্ষা করা উচিত। এ ছাড়া লিভারের ফাইব্রোসিস কোন পর্যায়ে আছে, তা বোঝার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফাইব্রোস্ক্যান করানো প্রয়োজন। সঙ্গে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে এইচবিএ১সি পরীক্ষা এবং রক্তে চর্বির মাত্রা বুঝতে লিপিড প্রোফাইল নিয়মিত করানো জরুরি।

ফ্যাটি লিভারের মতো নীরব ঘাতক রোগ মোকাবিলায় দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (সেলস) গোলাম হায়দার বলেন, ‘কোম্পানিগুলোকে নিরাপদ ও প্রমাণভিত্তিক ওষুধ রোগীর কাছে পৌঁছে দিতে হবে। শুধু ব্র্যান্ড নয়, বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ও গবেষণালব্ধ তথ্যও বিবেচনা করা জরুরি। আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, রেসমিটেরম—যা ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ অনুমোদিত। এসকেএফ প্রথমবারের মতো তা বাংলাদেশে এনেছে। এটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ডিজিডিএ বা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর দ্বারা অনুমোদিত হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, এসকেএফ শুধু ওষুধ উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং চিকিৎসকদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের সেমিনার আয়োজন ও রোগীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করছে।

আলোচনার শেষ পর্যায়ে জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান বলেন, ওবেসিটি ও ফ্যাটি লিভারের প্রকোপ মোকাবিলায় রেসমিটেরমের মতো আধুনিক ওষুধ আনার জন্য এসকেএফকে ধন্যবাদ। তবে নতুন ওষুধগুলো যেন শুধু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে সঠিক রোগীর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়, যাতে প্রান্তিক পর্যায়ে অপব্যবহার না ঘটে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সিগারেট কোম্পানিগুলো মানুষকে প্রভাবিত করতে পারলেও চিকিৎসকেরা জনগণকে জীবনযাত্রা পরিবর্তনের বিষয়ে যথাযথভাবে উদ্বুদ্ধ করতে পারছেন না। তাই ঠিক কোন উপায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করলে মানুষ তা গ্রহণ করবেন, তা নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন।

অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান আরও বলেন, ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংকে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না, তা গবেষণার বিষয়। কারণ, সাধারণ মানুষের জন্য ক্যালোরি মেপে খাবার খাওয়ার চেয়ে এই উপবাস পদ্ধতিটি অনুসরণ করা অনেক সহজ। এ ছাড়া গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের চিকিৎসকদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ ধরনের সমস্যা থেকে প্রতিরোধ সম্ভব।

চট্টগ্রাম বন্দরে লাগাতার কর্মবিরতি দুই দিনের জন্য স্থগিত করেছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বন্দর ভবনে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর। এ সময় নৌ উপদেষ্টার আশ্বাস অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে রোববার থেকে আবার কর্মবিরতি কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দেন তিনি।

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ডিপিওয়ার্ল্ডের হাতে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চলমান আন্দোলন কর্মসূচির ষষ্ঠ দিনে এই ঘোষণা দিলেন সংগ্রাম পরিষদের নেতারা। এর আগে শনিবার থেকে তিন দিন আট ঘণ্টা করে এবং মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করে আসছেন তাঁরা। এ সময় বন্দরের পক্ষ থেকে কোনো আলোচনার উদ্যোগ না নিয়ে কর্মচারীদের বদলির ব্যবস্থা করা হয়, যে কারণে আন্দোলন কর্মসূচি তীব্র হয়েছিল।

উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের কথা তুলে ধরে সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন সাংবাদিকদের বলেন, ‘উপদেষ্টা মহোদয়ের সঙ্গে বৈঠকে আমরা চারটি দাবি জানিয়েছি। এই চারটি হলো নিউমুরিং টার্মিনাল ডিপিওয়ার্ল্ডকে দেওয়া যাবে না। কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের পদত্যাগও দাবি করেছি।’

বন্দর ভবনের ফটকের সামনে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের অবস্থান। আজ দুপুরে
বন্দর ভবনের ফটকের সামনে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের অবস্থান। আজ দুপুরে
 

ইব্রাহীম খোকন বলেন, ‘নিউমুরিং টার্মিনাল নিয়ে তিনি (উপদেষ্টা) উচ্চপর্যায়ে আলাপ করার কথা বলেছেন। বাকি দাবিগুলোর বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। এ জন্য আমরা শনিবার পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত করেছি। তবে শনিবারের মধ্যে যদি কোনো সিদ্ধান্ত না আসে, তাহলে রোববার থেকে কর্মসূচি আবার চলবে।’

শনিবার থেকে তিন দিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি কর্মসূচির কারণে বন্দরের পরিচালন কাজ ব্যাহত হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতির পুরো বন্দরের কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন আজ সকালে চট্টগ্রাম বন্দরে আসেন। বন্দরের চার নম্বর গেটের ফটকের বাইরে তিনি আন্দোলনরতদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। পরে বিকেলে তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বন্দর ভবনে বৈঠক করেন।

বৈঠক থেকে বেরিয়ে নৌ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, ‘রোজার আগে বন্দর বন্ধ করে এ ধরনের আন্দোলন অত্যন্ত অমানবিক। বন্দর বন্ধ রাখার কারও কোনো এখতিয়ার নেই। বাধা দিলে সরকার হার্ডলাইনে যেতে পারবে। কাল সকাল থেকে সচল না হলে সরকার হয়তো অন্যভাবে দেখবে।’

নিউমুরিং টার্মিনালের চুক্তি নিয়ে এম সাখাওয়াত বলেন, ‘চুক্তি বোধ হয় ঠেকানো যাবে না। তবে দেশের ক্ষতি করে কোনো চুক্তি হবে না।’ ডিপিওয়ার্ল্ডের সঙ্গে নেগোসিয়েশন চূড়ান্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এ গুরুতর আহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আওতায় আনতে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে পুনর্নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে আরও শতাধিক আহতকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেট অধিশাখার এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫ (অধ্যাদেশ নং ৩০, ২০২৫) এর ১১ (৪) ধারা অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এ আহত জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে ‘জুলাই যোদ্ধা’ গেজেট সরকার নিম্নোক্তভাবে প্রকাশ করিল, যথা: শ্রেণি- ‘খ’ (গুরুতর আহত)।’

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে এই আদেশ জারি করা হয়েছে এবং গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে এটি কার্যকর হয়েছে।

শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে নিহত হাদির স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরাও অংশ নিয়েছেন।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত পৌনে ৯টা) দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা।

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করে বলেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার তদন্তে সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো চারবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় পিছিয়েছে। তিনি বলেন, দেশে নির্বাচনের আমেজ থাকায় পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত বিলম্বিত করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকার ব্যস্ত থাকলেও, যাদের মাধ্যমে দেশে সরকার এসেছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো রাজনীতি করতে পারছে, সেই সরকার কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর কেউই এই হত্যাকাণ্ডে উদ্যোগ নিচ্ছে না।

সরকারকে হুঁশিয়ার করে তিনি জানান, দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও বিচার নিশ্চিত না হলে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন তারা।

ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, সরকার, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে ইনকিলাব মঞ্চ শুরু থেকেই সহযোগিতা করে আসছে। কিন্তু হাদি হত্যার বিচার প্রশ্নে সবাই বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। তিনি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, অসহযোগিতা অব্যাহত থাকলে সারা দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যমুনার সামনে বৃহত্তর অবস্থান কর্মসূচি দেওয়া হবে এবং পরিস্থিতির দায়ভার সরকারের ওপরই বর্তাবে।

এদিকে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে দেওয়া সর্বশেষ আপডেটে জানানো হয়, শত শত পুলিশ ও বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য দিয়ে অবস্থানকারীদের চারপাশ ঘিরে রাখা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়, লাঠিসোঁটা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। পোস্টে বলা হয়, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্তে হস্তান্তর না করা পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই তারা অবস্থান কর্মসূচি থেকে সরে যাবেন না।

এক সপ্তাহ পর (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নিতে যাচ্ছে। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া এই সরকার আওয়ামী লীগ শাসনামলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য কী করে গেল, তা সরকারের প্রতিনিধিদের কাছে জানতে চাইলেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা। জবাবে সরকারের এক উপদেষ্টা তাঁদের বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গুমের বিচার শুরু করেছে। গুমসংক্রান্ত শক্ত আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি বিভিন্ন বিধান প্রণয়নের মাধ্যমে গুমের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্সের’ ভিত্তিভূমি স্থাপন করেছে। সেই বিধানে বিচার নিশ্চিতের পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের বিষয়টিও রয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য এবং গুম হয়ে ফেরত আসা ব্যক্তিদের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের দুজন উপদেষ্টার একটি ‘লবি মিটিং’ হয়। তাঁদের মধ্যে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল মুঠোফোনে যুক্ত হন। আর সশরীর উপস্থিত ছিলেন শিল্প এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। রাজধানীর ধানমন্ডিতে বিলিয়া (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স) মিলনায়তনে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ আয়োজিত এ বৈঠকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাদের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া উদ্যোগ বা পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চায়।

মুঠোফোনে যুক্ত হয়ে দেওয়া বক্তব্যে আইন উপদেষ্টা সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। বক্তব্য শেষ হওয়ার পর তাঁর সঙ্গে কথা বলেন বাগেরহাটে ২০১১ সালে গুমের শিকার হাবিবের মেয়ে জেসমিন। একপর্যায়ে উপদেষ্টা তাঁকে বলেন, ‘আপনাকে কথা দিলাম, আদিল ভাই, আমি, এলান, রিজওয়ানা—আমাদের আপনারা সরকার থেকে চলে যাওয়ার পর আরও ১০ গুণ বেশি পাবেন এবং আমরা সব সময় আপনাদের সঙ্গে থাকব।’

জেসমিনের পর আসিফ নজরুলের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ২০১৯ সালে গুম হওয়া বিএনপি নেতা ইসমাইল হোসেন বাতেনের স্ত্রী নাসরীন জাহান স্মৃতি। তিনি আইন উপদেষ্টাকে প্রশ্ন করেন, ভিসা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অপরাধীরা কীভাবে দেশের বাইরে চলে গেলেন, গুমে জড়িত কর্মকর্তারা এখনো কীভাবে পদোন্নতিসহ চাকরিতে বহাল আছেন? জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, ‘অন্য মন্ত্রণালয়ের জবাব আমি দিতে পারব না। গুমের বিচারের জন্য আমরা সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করেছি। আপনার অভিযোগ অনেক বেশি সত্য। কিন্তু এটার বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম যখন হবে, আমরা সিভিলিয়ান হিসেবে আপনাদের পাশে থাকব। তখন আমরা আরও অনেক কথা বলতে পারব।’

বিগত শাসনামলের অপরাধীরা এখনো কীভাবে কোটি টাকার বিনিময়ে জামিন পান, সেই প্রশ্নও করেন নাসরীন জাহান। জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, ‘কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে জামিন পেয়েছে কি না, জানি না। তবে এই অভিযোগ পরশু দিনও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পক্ষ থেকে করা হয়েছে যে আমরা জামিন দিই না, আমাদের সরকার জামিন দেওয়ার ব্যাপারে খুব কঠোর। এখন অনেক ক্ষেত্রে হাইকোর্টে জামিন হয়। হাইকোর্টের ওপর আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো রকম নিয়ন্ত্রণ নেই, হাইকোর্ট প্রধান বিচারপতির নিয়ন্ত্রণে। সেখানকার কোনো কিছুর জবাব আমরা আমি দিতে পারব না।’

পরিবারগুলোর আক্ষেপ–দাবি, সরকারের ভাষ্য

আওয়ামী লীগের আমলে ২০১২ সালে গুমের শিকার হয়েছিলেন বরিশালে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ফিরোজ খান ও তাঁর ভাই। স্বামীকে হারিয়ে বিপর্যস্ত ফিরোজের স্ত্রী আমেনা আক্তার (বৃষ্টি)। বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, গুমের ভুক্তভোগী পরিবারগুলো কেমন আছে, সে খবর নেয়নি অন্তর্বর্তী সরকার। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার আমাদের গুম পরিবারগুলোর জন্য কী করে গেল? যদি কিছু না করে যেতে পারে, তাহলে আগামী সরকার যেন এই পরিবারগুলোর পাশে থাকে, সে রকম কিছু করে যান।’

বৈঠকে অংশ নিয়ে নিজেদের দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন গুমের শিকার হয়ে ফিরে আসা এম মারুফ জামান (রাষ্ট্রদূত ও বিলিয়ার পরিচালক), শিক্ষক ইকবাল চৌধুরী ও রহমত উল্লাহ। বক্তব্য দেন গুম থেকে ফিরে আসা কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান। তাঁদের বক্তব্যে গুমের কারণে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়ার বিষয়টিও উঠে আসে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর যথাযথ ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।

পরে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা গুমসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনের স্টেট পার্টি হয়েছি। বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে একটা কমিশন করা হয়েছিল। ওই কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের বিচার শুরু হয়েছে।’

সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ প্রণয়নের পাশাপাশি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে কার্যকর এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার লক্ষ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষর করা হয়েছে। এর আলোকে মানবাধিকার অধ্যাদেশে একটি জাতীয় প্রতিরোধব্যবস্থা গঠন করা হয়েছে।

এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা আইন করেছি, প্রতিষ্ঠান গড়ার কার্যক্রম করেছি। আমি আশা করি, আগামী তিন–চার দিনের মধ্যে মানবাধিকার কমিশন গঠিত হবে। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন হবে। আমরা যেসব বিধান ও ব্যবস্থা করেছি, সেগুলো কাজে লাগবে। গুম একটি জঘন্যতম অপরাধ। গুমের ক্ষেত্রে আমাদের জিরো টলারেন্স (শূন্য সহিষ্ণুতা) ছিল। আমরা জিরো টলারেন্সের যে ভিত্তিভূমি স্থাপন করেছি, আগামী সরকারগুলো সেগুলো অবশ্যই অব্যাহত রাখবে। বাংলাদেশ থেকে গুম নামক অপরাধকে আমরা চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে ছাড়ব। আমরা সিভিল সোসাইটিতে ফিরে গিয়ে গুমের বিরুদ্ধে আমাদের ভূমিকা শক্তিশালীভাবে অব্যাহত রাখব।’

‘সংগ্রাম চলবে’

বৈঠকে সমাপনী বক্তব্য দেন উপদেষ্টা ও অধিকারের প্রতিষ্ঠাতা আদিলুর রহমান খান। তিনি বলেন, ‘গুমের শিকার পরিবারের সদস্যরা আমার আপনজন। তাঁরা একটা ট্রাস্ট ফান্ডের কথা বলেছেন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন যাঁরা গঠন করবেন, নিশ্চয়ই তাঁরা এই দিকটা দেখবেন।’

আদিলুর রহমান বলেন, ‘গুমের বিচারের ক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল, অনেক বাধা ছিল, অনেক প্রতিকূলতা ছিল। তার মধ্যেও আইসিটি (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) এ কাজ এগিয়ে নিয়েছে এবং অবশ্যই গুম কমিশন তাদের প্রতিবেদনের মাধ্যমে সে ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে। আমি বিশ্বাস করি, এই সংগ্রাম আজকে শেষ হওয়ার নয়, এই সংগ্রাম চলমান থাকবে।’

আইসিটির প্রসিকিউটর এস এম তাসমিরুল ইসলাম বলেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে গুমবিষয়ক তদন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিটিতে শুরু হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মামলা সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপনের পর্যায়ে এসেছে।

অধিকারের পরিচালক নাসিরউদ্দিন এলান বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন। সংগঠনের পরিচালক তাসলিম ফাহমিনা গুম নিয়ে একটি প্রবন্ধ পড়ে শোনান। আরও বক্তব্য দেন গুম কমিশনের সদস্য সাজ্জাদ হোসেন।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব