• Colors: Purple Color

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ উপলক্ষে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’— এই স্লোগান নিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে বিএনপি। 

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এই ইশতেহার ঘোষণা করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলটির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, বিকেল সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠানটি শুরু হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সঞ্চালনা করবেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।

জানা গেছে, দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থান, মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচার নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বিএনপির এই ইশতেহারে।

দলীয় সূত্র বলছে, ইশতেহারটি তৈরি করা হয়েছে বিএনপিঘোষিত ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা’, প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ‘১৯ দফা’, বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’ এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সমন্বয়ে।

এবারের ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, পরিবেশ ও পররাষ্ট্র নীতি, প্রতিরক্ষা খাত, পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচার ও আওয়ামী লীগ আমলের শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির তদন্তকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, খতিব-ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানীর মতো জনমুখী ইস্যুগুলোও থাকছে। নারী ও তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সমন্বয়ে ইশতেহারের বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করা হয়েছে।

ইশতেহারে উল্লেখ থাকছে ১৯৭১ সালের ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ১৯৭৫ সালের ‘সিপাহী-জনতার বিপ্লব’, ১৯৯০ সালে ছাত্রদের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার’ বিষয়গুলোও।

জানা গেছে, স্বাস্থ্যসেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে বিএনপি এবার তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এ খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। প্রতিটি নাগরিকের বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রবর্তন করা হবে ‘ই-হেলথ কার্ড’। এছাড়া দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী— মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য এবং প্রাণঘাতী ও জটিল রোগের আধুনিক চিকিৎসায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেল গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে বিএনপির ইশতেহারে থাকছে একগুচ্ছ আধুনিক পরিকল্পনা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— আইটি পার্কে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য অফিসের সুবিধা প্রদান, দেশজুড়ে ফ্রি ওয়াইফাই জোন সৃষ্টি এবং আউটসোর্সিং ও ক্ষুদ্র-মাঝারি (SME) শিল্পের বিকাশে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা। আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজন ও আলিবাবার সঙ্গে দেশের বাজারকে সংযুক্ত করার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকছে এতে। এছাড়া, তরুণদের বিশ্ববাজারের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে বিদেশি ভাষা শিক্ষা এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ‘স্টার্ট-আপ ফান্ড’ গঠনে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকছে এ ইশতেহারে। শিক্ষাব্যবস্থায় বড় সংস্কারের অংশ হিসেবে মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি নিশ্চিত করতে ‘জব ম্যাচিং’ সেবা চালুর অঙ্গীকারও থাকছে দলটির ইশতেহারে।

শিক্ষা খাতের উন্নয়নে ইশতেহারে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের জোরালো প্রতিশ্রুতি দিতে যাচ্ছে বিএনপি। শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘শিক্ষা সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে। পাঠ্যক্রমে আন্তর্জাতিক চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে ইংরেজি ও বাংলার পাশাপাশি তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা থাকছে দলটির।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস প্রদান এবং প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে শতভাগ সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করার কঠোর অঙ্গীকার করা হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীসহ ‘ভেন্ডিং মেশিন’ স্থাপনের যুগান্তকারী উদ্যোগ নেবে দলটি।

পাশাপাশি শিক্ষকদের সামাজিক ও আর্থিক মর্যাদা বৃদ্ধিতেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। ইশতেহারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য আকর্ষণীয় বেতন কাঠামো প্রবর্তনের পাশাপাশি তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিশেষ কল্যাণমূলক কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসার জোরালো অঙ্গীকার করা হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, এবার বৈদেশিক কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে বিএনপি। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে আগামী ৫ বছরে দক্ষ ও অদক্ষ মিলিয়ে মোট এক কোটি জনশক্তি বিদেশে পাঠানোর কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিএনপির ইশতেহারে এক বিশাল সবুজ বিপ্লবের পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ‘সবুজ কর্মসংস্থান’ সৃষ্টির এক বলিষ্ঠ অঙ্গীকার করা হয়েছে। শিল্পকারখানার বর্জ্য ও পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকারও থাকছে বিএনপির ইশতেহারে।

বিএনপির ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ইশতেহারে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানসহ বিগত স্বৈরাচারী আমলের সকল মানবতাবিরোধী অপরাধের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতিও থাকছে। বিশেষ করে, যেসব হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখনও শুরু হয়নি, সেগুলো অবিলম্বে শুরু করে দায়ীদের দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ায় আনা হবে। পাশাপাশি, গুমের মতো জঘন্য অপরাধ চিরতরে বন্ধ করতে এবং এর প্রতিকার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কঠোর আইন প্রণয়ন ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের অঙ্গীকার করা হয়েছে।

বিএনপির এবারের ইশতেহারের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ বা ‘চমক’ হতে যাচ্ছে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক করার এক অভিনব পরিকল্পনা। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে প্রতি বছর অন্তত একবার উন্মুক্ত স্থানে ‘উন্নয়ন জনসভা’ আয়োজনের প্রতিশ্রুতি থাকছে এতে।

সেইসঙ্গে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুসংহত করতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে বিএনপি। এই নীতির আলোকে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত একটি সুশৃঙ্খল, যুগোপযোগী ও আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পাচ্ছে।

বিগত ১৫ বছরে পুঁজিবাজারে ঘটে যাওয়া নানা অনিয়ম ও কারসাজিতে ক্ষতিগ্রস্ত লাখ লাখ বিনিয়োগকারীর স্বার্থ রক্ষায় এবার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর আস্থা ফেরাতে গত ১৫ বছরের সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্তে একটি ‘বিশেষ তদন্ত কমিশন’ গঠনের জোরালো প্রতিশ্রুতি থাকছে দলটির ইশতেহারে।

পাশাপাশি পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল ও শক্তিশালী করতে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এছাড়া, তরুণ প্রজন্মকে পুঁজিবাজার সম্পর্কে সচেতন ও দক্ষ করে তুলতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শেয়ারবাজার সংক্রান্ত শিক্ষার প্রসার ঘটানোর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে বিএনপি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে বিএনপির ইশতেহারে থাকছে বিশেষ মহাপরিকল্পনা। এতে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে, বর্ধিত চাহিদা মেটাতে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে। জ্বালানি খাতের টেকসই উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন বিনিয়োগের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে দলটির পক্ষ থেকে।

এছাড়া, দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে প্রযুক্তি নির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এই খাতে অন্তত ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির এক বিশাল কর্মপরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি থাকছে।

দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোয় বৈচিত্র্য আনতে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি ইশতেহারে থাকছে আধুনিক কিছু উদ্যোগ। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যানজট নিরসন ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রধান সড়কগুলোতে পৃথক লেন এবং জনপ্রিয় যাতায়াত মাধ্যম হিসেবে রাইড শেয়ারিংয়ে ‘সাইকেল সেবা’ চালুর বিশেষ অঙ্গীকার করতে যাচ্ছে বিএনপি।

দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড় করাতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা করছে বিএনপি। দলটির লক্ষ্য হলো রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করা। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তারা ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে; যার মধ্যে স্বল্পমেয়াদে ২ শতাংশ এবং মধ্যমেয়াদে ১০ শতাংশ পর্যন্ত রাজস্ব প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ইশতেহারে থাকছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত আনার জন্য সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের অর্থপাচার রোধে এবং আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের রূপরেখা ইশতেহারে স্পষ্ট করা হয়েছে।

এছাড়া, বেসরকারি খাতে কর্মরত বিশাল জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে বিএনপি। বেসরকারি খাতের কর্মীদের কর্মজীবন শেষে বার্ধক্যের দুর্দশা নিরসনে এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি ‘কার্যকর পেনশন ফান্ড’ গঠনের জোরালো প্রতিশ্রুতি থাকছে দলটির নির্বাচনি ইশতেহারে।

দেশের নৌপথ সচল এবং কৃষিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তারেক রহমানের সুদূরপ্রসারী মহাপরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ইশতেহারে। বিএনপি চেয়ারম্যান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও নাব্য সংকট দূর করতে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, পুনঃখনন এবং দখলকৃত জলাশয় পুনরুদ্ধার করা হবে।

‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’— বিএনপি চেয়ারম্যানের এই উদার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে ধর্মীয় নেতাদের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিতের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে, মসজিদের খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাসিক সরকারি সম্মানী এবং ধর্মীয় উৎসবগুলোতে বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।

একইভাবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সব উপাসনালয়ের প্রধানদের (পুরোহিত, ভান্তে, যাজক প্রমুখ) জন্য মাসিক সম্মানী ও উৎসব ভাতার ব্যবস্থা করার অঙ্গীকার থাকছে। এছাড়া, পাহাড় ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের অধিকার রক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি পৃথক ‘নৃগোষ্ঠী উন্নয়ন অধিদপ্তর’ গঠনের প্রতিশ্রুতিও থাকছে বলে জানা গেছে।

 

নবম পে-স্কেল ঘোষণার দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছিল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় দফায় দফায় লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের যমুনা এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে পুলিশ। সেই সঙ্গে এলাকাটিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার পর আন্দোলনরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যমুনার সামনে থেকে সরে শাহবাগের দিকে চলে যান। এ সময় কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়।

এর আগে, বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দিয়ে যমুনার উদ্দেশে মিছিল নিয়ে রওনা হন। শাহবাগ মোড়ে পৌঁছালে তারা প্রথম পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকলেও লাঠিচার্জ করা হয়নি। তবে জলকামান ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হয়।

পরে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় হয়ে যমুনার সামনে পৌঁছান। সেখানে তারা সড়কে বসে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। বেলা সাড়ে ১১টার পর ঘটনাস্থলে আরও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে বিজিবির সদস্যরাও সেখানে অবস্থান নেন।

প্রথমে আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায় পুলিশ। তবে তারা তা প্রত্যাখ্যান করলে পুলিশ অভিযান শুরু করে। আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে বারবার জলকামান ব্যবহার করা হয় এবং সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করা হয়।

পুলিশি অভিযানের মুখে আন্দোলনকারীরা রমনা পার্কের ভেতরে ঢুকে পড়েন। সেখানেও পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। দুপুর ১২টার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ ব্যাপকভাবে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে অভিযান চালায়।

এ সময় একাধিক সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। এতে কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হন বলে জানা গেছে। দুপুর ১টার পর আন্দোলনকারীরা যমুনা এলাকা পুরোপুরি ছেড়ে শাহবাগের দিকে সরে যান। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে চার-পাঁচজন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণা করছে বিএনপি। ইশতেহারে ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেছে দলটি।

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এই ইশতেহার ঘোষণা করছে বিএনপি। ইশতেহার ঘোষণা করছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিএনপির ইশতেহারে যে ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো হলো—

১. প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থসেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।

২. কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’-এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষিবিমা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার করা হবে। মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী খামারি ও কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এই সুবিধা পাবেন।

৩. দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে। জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবাসহ রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

৪. আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা ও ‘মিড-ডে মিল’ চালু করা হবে।

৫. তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্তকরণসহ মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আজ শুক্রবার বিকেলে ইশতেহার ঘোষণা করছে বিএনপি
রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আজ শুক্রবার বিকেলে ইশতেহার ঘোষণা করছে বিএনপিছবি: বিএনপির ফেসবুক পেজ

৬. ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা–উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।

৭. পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে দেশপ্রেমী জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ১০ হাজার কিলোমিটার নদী–খালখনন ও পুনঃখনন, ৫ বছরে ১৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।

৮. ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

৯. ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিষ্টেম (পেপাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন ও ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ করা হবে।

বিএনপি বলছে, এই ইশতেহার কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা। বিএনপি প্রতিশোধ নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই বিএনপির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। লুটপাট নয়, উৎপাদন; ভয় নয়, অধিকার; বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা—এই নীতিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।

বিএনপি বলছে, জনগণের রায়ে দায়িত্ব পেলে তারা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যেখানে ভোটের মর্যাদা থাকবে। সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অবসান হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না। প্রত্যেক নাগরিক গর্ব করে বলতে পারবেন, সবার আগে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘের অধীন শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচি ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশকে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে দেখা গেছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

আজ শুক্রবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে জাতিসংঘের অধীন ওসমান হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দুই ভাগে ভাগ হয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীরা। এ জন্য ইন্টারকন্টিনাল মোড়ের সামনে ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছিল পুলিশ।

আজ যমুনার সামনে অবস্থান করছিলেন ওসমান হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পাসহ কয়েকজন আর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ কয়েক শ বিক্ষোভকারী অবস্থান নেন।

একপর্যায়ে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ কয়েকজন যমুনার সামনে যেতে চাইলে তাঁদের বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে থাকা ইনকিলাব মঞ্চের লোকজন ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে যেতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ প্রথমে তাঁদের ওপর জলকামান থেকে পানি ছোড়ে। পরে সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করে। এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীরা পুলিশের দিকে বোতল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র ও ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

লাঠিচার্জ করে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
লাঠিচার্জ করে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষুব্ধ লোকজন পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যমুনা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করেন। এ সময় বিক্ষোভকারী ব্যক্তিদের একটি অংশ জলকামানের ওপর উঠে সেটার ক্ষতি করার চেষ্টা করেন। এ অবস্থায় জনস্বার্থে পুলিশ অ্যাকশনে যেতে বাধ্য হয়।

সংঘর্ষের পর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে আসেন ঢাকা-৮ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচন ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তখন তিনিসহ উপস্থিত লোকজন প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে থেকে শাহবাগ মোড়ের দিকে চলে যায়।

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। বার্তায় বলা হয়, জাবের ভাই গুলিবিদ্ধ। জুমা -শান্তাকে বুট দিয়ে পাড়ানো হইছে।

তাদের দাবি, সংগঠনের নেত্রী জুমাকে এবং শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রীকে আঘাত করা হয়েছে। আরেক পোস্টে ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, আপাতত কোনো জমায়েত করবেন না।

আমরা চিকিৎসা নিয়ে আবার রাজপথে আসব। সেই পর্যন্ত নিরাপদে থাকার আহ্বান জানাই।

শহীদ শরীফ ওসনান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে যমুনার সামনে অবস্থান করছে ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে এ সংঘর্ষ হয়।

এদিকে, আব্দুল্লাহ আল জাবেরের ফেসবুক আইডিতে থেকে জানানো হয়, শতাধিক আহত ও জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

শান্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, আপাতত কোনো জমায়েত করবেন না। আমরা চিকিৎসা নিয়ে আবার রাজপথে আসব।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বিএনপি। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’— ইশতেহারের মূল স্লোগান।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ইশতেহার তুলে ধরেন।

বিএনপি তাদের এই ইশতেহারকে ৫টি অধ্যায়ে ভাগ করেছে, যেখানে ক্ষমতায় এলে আগামী পাঁচ বছরের জন্য মোট ৫১টি দফাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকারও করেছে দলটি।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা রাষ্ট্রদর্শন, খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’ এবং তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা— দলটির এবারের ইশতেহার ভিত্তি।

বিএনপি বলছে, ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে জনগণের দিন শুরু হবে। স্লোগান নয় বরং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনায় বিশ্বাসী তারা। ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হবে— লুটপাট নয় উৎপাদন; ভয় নয় অধিকার এবং বৈষম্য নয় ন্যায্যতা।

নির্বাচনি ৯ প্রধান প্রতিশ্রুতিতে জনকল্যাণ ও অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে ওঠে এসেছে। প্রতিশ্রুতিগুলো হচ্ছে—

১. ফ্যামিলি কার্ড: প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এই সহায়তার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।

২. কৃষক কার্ড: কৃষকদের ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’ প্রবর্তন করা হবে। এর আওতায় ভর্তুকি, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষি বীমা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। মৎস্য ও পশুপালন খাতের উদ্যোক্তারাও এই সুবিধা পাবেন।

৩. স্বাস্থ্যসেবা: দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়তে সারাদেশে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা এবং মা ও শিশুর জন্য পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।

৪. শিক্ষা: বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা এবং ‘মিড-ডে মিল’ (দুপুরের খাবার) চালু করা হবে।

৫. তরুণ ও কর্মসংস্থান: তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ সহায়তা এবং বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে। মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

৬. ক্রীড়া: খেলাধুলাকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সুবিধা বাড়ানো হবে।

৭. পরিবেশ ও জলবায়ু: আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন বা পুনঃখনন করা হবে। চালু হবে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।

৮. ধর্মীয় সম্প্রীতি: ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

৯. ডিজিটাল অর্থনীতি: আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে ‘পেপাল’ চালু করা হবে। এছাড়া ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ইশতেহারের প্রধান ৫টি অধ্যায়—

প্রথম অধ্যায়: রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার ও সুশাসন

ইশতেহারের প্রথমভাগে রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের অঙ্গীকার করেছে বিএনপি। এতে গুরুত্ব পেয়েছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা।

এছাড়া, সাংবিধানিক সংস্কার, জাতিগঠন ও সুশাসনের লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ ও পুলিশ বাহিনীর সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপরও বিশেষ জোর দিয়েছে দলটি।

দ্বিতীয় অধ্যায়: সামাজিক উন্নয়ন ও বৈষম্য নিরসন

বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয় অধ্যায় সাজানো হয়েছে। এতে দারিদ্র্য নিরসন, সামাজিক সুরক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া, দেশব্যাপী কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যুব উন্নয়ন, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং শ্রমিক কল্যাণের অঙ্গীকার করেছে বিএনপি। পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানিসম্পদ পরিকল্পনা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

তৃতীয় অধ্যায়: ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন ও ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য

তৃতীয় ভাগে স্থান পেয়েছে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অর্থনীতি পুনর্গঠন। বিএনপি বলছে, ক্ষমতায় গেলে তারা অর্থনীতির ‘গণতন্ত্রায়ণ’ করবে এবং দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে নিয়ে যাবে। এই লক্ষ্যে বিনিয়োগ ও সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং পুঁজিবাজার সংস্কারের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

এছাড়া, জ্বালানি খাত, তথ্যপ্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি এবং সৃজনশীল অর্থনীতির উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থাপনার রূপরেখা দেয়া হয়েছে।

চতুর্থ অধ্যায়: অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন ও পরিকল্পিত নগর

আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করতে চতুর্থ অধ্যায়ে বিশেষ পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— চট্টগ্রামকে দেশের ‘বাণিজ্যিক রাজধানী’ হিসেবে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠা করা।

এছাড়া, উত্তরাঞ্চল, হাওর-বাওড় ও উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য আলাদা উন্নয়ন পরিকল্পনা, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং ঢাকাকে নিরাপদ ও টেকসই মেগাসিটি হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।

পঞ্চম অধ্যায়: ধর্ম, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম

ইশতেহারের এই ভাগে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং পাহাড় ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষার অঙ্গীকার করা হয়েছে। একইসাথে ক্রীড়া, শিল্প ও সংস্কৃতির বিকাশ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সমাজের নৈতিকতার শক্তি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের পাঁচ বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে দলটি।

বিএনপি বলছে, এটি কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি ‘নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তি’। প্রতিশোধের রাজনীতিতে নয়, বরং ন্যায় ও মানবিকতায় বিশ্বাস করে বিএনপি। ক্ষমতার চেয়ে জনগণের অধিকারই তাদের রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছে দলটি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানের সঞ্চালনা করেন। এতে বিএনপির উর্ধ্বতন নেতার উপস্থিত ছিলেন।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব