• Colors: Purple Color

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে আট ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন। আজ বুধবার ভোর ৪টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দাউদকান্দি, বুড়িচং, চান্দিনা ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে দাউদকান্দি ও বুড়িচংয়ের দুটি ঘটনায় দুজন করে মোট চারজন নিহত হয়েছেন। চৌদ্দগ্রামে দুটি ঘটনায় দুজন এবং চান্দিনায় একটি ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাকচালক, দুজন অটোরিকশার চালক, একজন স্কুলছাত্র এবং একজন পথচারী। হাইওয়ে থানা-পুলিশের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে

মহাসড়কের দাউদকান্দির বারপাড়া এলাকায় নিহত দুজন হলেন দাউদকান্দি উপজেলার সরকারপুর গ্রামের আবদুল বারেক (৫৩) ও মোস্তফা (৫২)। তাঁরা অটোরিকশার চালক ছিলেন।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, আজ ভোর চারটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে উপজেলার বারপাড়া এলাকায় কারী সাহেবের মাজারের বিপরীত পাশে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে পেছন থেকে অজ্ঞাত একটি গাড়ি ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে যাত্রী আবদুল বারেক ও মোস্তফা নিহন হন। এ ঘটনায় অটোরিকশার চালক আহত হয়েছেন।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় দাউদকান্দি থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া অজ্ঞাত গাড়িটি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

কাছাকাছি সময় আজ ভোরে মহাসড়কের বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজার এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যানের পেছনে ট্রাকের ধাক্কায় দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন। নিহত দুজন কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাকচালক বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।

ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশ জানায়, আজ ভোর চারটার দিকে মহাসড়কের নিমসার বাজার এলাকায় এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যানের পেছনে একটি মালবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে দুটি গাড়ির চালক নিহত হন।

নিহত দুজন হলেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার লালপুর এলাকার প্রয়াত হানিফ মিয়ার ছেলে কাভার্ড ভ্যানের চালক জহিরুল ইসলাম (২৭) এবং মেহেরপুর সদরের কেশবপুর এলাকার খোদা বক্সের ছেলে ট্রাকচালক সোহেল রানা (৩৫)। এতে আহত হয়েছেন গাড়ি দুটির চালকের সহকারী।

আজ দুপুরে ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি আবদুল মমিন বলেন, নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দুর্ঘটনাকবলিত কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাক উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে।

এদিকে আজ সকাল ৯টার দিকে মহাসড়কের কাঠেরপুল এলাকায় সড়ক পারাপারের সময় লরিচাপায় এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। কোচিং সেন্টার থেকে প্রাইভেট পড়ে বাসায় ফেরার পথে চট্টগ্রামগামী লেনে একটি লরি তাকে চাপা দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে বুড়িচংয়ের কাবিলা ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত ইবনে তাইম (১৫) চান্দিনা পৌরসভার রাড়িরচর এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় বড় গোবিন্দপুর আলী মিয়া ভূঁইয়া উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ত।

এ প্রসঙ্গে ওসি আবদুল মমিন প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা পৌঁছার আগেই শিক্ষার্থীর স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে চলে যান। তাকে চাপা দেওয়া লরিটি দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় সেটি জব্দ করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে পুলিশ খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

আজ ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গাংরা এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যান বিকল হলে সেটির চালক সড়কে নেমে গাড়িটির সমস্যা দেখার চেষ্টা করেন। এমন সময় চট্টগ্রামমুখী লেনে আরেকটি কাভার্ড ভ্যান পেছন থেকে দ্রুত গতিতে এসে চাপা দিলে ঘটনাস্থলে বিকল হওয়া কাভার্ড ভ্যানের চালক নিহত হন।

নিহত চালকের নাম ওমর ফারুক (৩৯)। তিনি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর গ্রামের বাসিন্দা।

দুপুরে মিয়ার বাজার হাইওয়ে থানা–পুলিশের ওসি সাহাব উদ্দিন বলেন, ঘটনার পর দুটি কাভার্ড ভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে চাপা দেওয়া গাড়িটির চালক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

এদিকে আজ দুপুর ১২টার দিকে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকায় সোনালী ব্যাংকের সামনে দ্রুতগতির একটি কাভার্ড ভ্যানের চাপায় এক বৃদ্ধা ঘটনাস্থলে নিহত হন। নিহত হাজেরা বেগমের (৭০) বাড়ি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে। তিনি মহাসড়ক পারাপারের সময় কাভার্ড ভ্যানের নিচে চাপা পড়েন বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।

ওসি সাহাব উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনার পর কাভার্ড ভ্যান এবং এর চালককে আটক করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

আজ জন্মদিন উদ্‌যাপন করছেন হলিউডের প্রতিভাবান অভিনেত্রী ম্যাকেঞ্জি ডেভিস। স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলী আর শক্তিশালী চরিত্র নির্বাচনের মাধ্যমে দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন। ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দা—সবখানেই তিনি নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। জন্মদিনে ছবিতে দেখে নিতে পারেন জানা–অজানা কথাগুলো।
হঠাৎ করেই তিনি অভিনয়ে নাম লিখিয়েছিলেন। পরে অভিনয় ভালো লাগলে অভিনয় নিয়ে পড়াশোনা করেন। ২০১১ সালে স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু হয়।
হঠাৎ করেই তিনি অভিনয়ে নাম লিখিয়েছিলেন। পরে অভিনয় ভালো লাগলে অভিনয় নিয়ে পড়াশোনা করেন। ২০১১ সালে স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু হয়।ছবি: আইএমডিবি
তাঁর পছন্দ অ্যাকশন সিনেমায় অভিনয় করা। তবে ট্রাইবেকা চলচ্চিত্র উৎসব থেকে অভিনয়শিল্পী হিসেবে জুরি পুরস্কার পেয়ে আর্ট ফিল্মের প্রতি আলাদা নজর দেন। অভিনেত্রী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবের।
তাঁর পছন্দ অ্যাকশন সিনেমায় অভিনয় করা। তবে ট্রাইবেকা চলচ্চিত্র উৎসব থেকে অভিনয়শিল্পী হিসেবে জুরি পুরস্কার পেয়ে আর্ট ফিল্মের প্রতি আলাদা নজর দেন। অভিনেত্রী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবের।ছবি: আইএমডিবি
শৈশবে বেশির ভাগ সময় গেমস আসক্তিতে কাটত। সেই স্মৃতিস্মরণা করে তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি ডস গেমস আর সুপার নিনটেন্ডো গেম খুবই পছন্দ করতাম। কিন্তু আমার স্বভাবটা বেশ আসক্তিপ্রবণ—এখন বুঝি, ওই ধরনের জিনিসে একবার জড়িয়ে পড়লে আমি আর থামতে পারব না। তাই এখন আর আমি কোনো গেমই খেলি না।’
শৈশবে বেশির ভাগ সময় গেমস আসক্তিতে কাটত। সেই স্মৃতিস্মরণা করে তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি ডস গেমস আর সুপার নিনটেন্ডো গেম খুবই পছন্দ করতাম। কিন্তু আমার স্বভাবটা বেশ আসক্তিপ্রবণ—এখন বুঝি, ওই ধরনের জিনিসে একবার জড়িয়ে পড়লে আমি আর থামতে পারব না। তাই এখন আর আমি কোনো গেমই খেলি না।’ছবি: আইএমডিবি
১৯৮৭ সালে জন্ম নেওয়া এ অভিনেত্রীকে সবচেয়ে বেশি শুনতে হয় উচ্চতা নিয়ে কথা। তাঁর উচ্চতা ৫ ফুট সাড়ে ১০ ইঞ্চি।
১৯৮৭ সালে জন্ম নেওয়া এ অভিনেত্রীকে সবচেয়ে বেশি শুনতে হয় উচ্চতা নিয়ে কথা। তাঁর উচ্চতা ৫ ফুট সাড়ে ১০ ইঞ্চি।ছবি: আইএমডিবি
যৌন বা অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিং নিয়ে কখনোই তিনি বিব্রত হন না। এই নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমি সব সময়ই অবাক হই, যখন অভিনেতারা বলেন, তাঁরা যৌন দৃশ্য পছন্দ করেন না। আমার কাছে এটা যেন একধরনের বাড়তি সুবিধা—কারও সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার দৃশ্য করা তো মজারই। তাই হ্যাঁ, এ বিষয়ে আমি পুরোপুরি ইতিবাচক।’
যৌন বা অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিং নিয়ে কখনোই তিনি বিব্রত হন না। এই নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমি সব সময়ই অবাক হই, যখন অভিনেতারা বলেন, তাঁরা যৌন দৃশ্য পছন্দ করেন না। আমার কাছে এটা যেন একধরনের বাড়তি সুবিধা—কারও সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার দৃশ্য করা তো মজারই। তাই হ্যাঁ, এ বিষয়ে আমি পুরোপুরি ইতিবাচক।’ছবি: আইএমডিবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সার্বিকভাবে বর্তমান সরকার দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং এবং আর্থিক অপরাধ দমনের বৃহত্তর কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে আলাদা দুটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে আধা ঘণ্টা নির্ধারিত ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তরের জন্য। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আজ প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্তসংস্থা টাস্কফোর্স কর্তৃক চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান। এই ১১টি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারসহ ১১ ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান ও তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান আছে।

এর মধ্যে রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ, এইচ বি এম ইকবাল, সামিট গ্রুপসহ এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত পরিবারের সদস্য ও তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী আমলে’ সংঘটিত অর্থ পাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং এতে চিহ্নিত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রতিবছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা)। পাচারকৃত অর্থ একাধিক দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার অভিযোগ থাকায় তা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি’ (এমএএলটি) সম্পাদন ও বিনিময় প্রক্রিয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, অর্থ পাচারের গন্তব্য দেশগুলোর মধ্যে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১০টি দেশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও হংকং-চায়না। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাত চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। অপর ৭টি দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলার অগ্রগতিও সংসদে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অভিযোগগুলোর অনুসন্ধান ও তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেতৃত্বে এবং বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আদালত এ পর্যন্ত (২৫ মার্চ ’২৬) ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক (সংযুক্ত) ও অবরুদ্ধ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশে ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকার এবং বিদেশে ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ লাখ টাকার সম্পদ। পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ১৪১টি মামলা করা হয়েছে। যার মধ্যে ১৫টি মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হয়েছে এবং ৬টি মামলার রায় হয়েছে।

প্রচলিত আইনে শাস্তি

সম্পূরক প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জানতে চান।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার একটি নির্বাচিত সত্তা। অতীতে দেখা গেছে, সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তি তাঁদের ইচ্ছা, আগ্রহের কারণে দেশের আইনকানুন, নীতিনৈতিকতার তোয়াক্কা না করে, যাকে যে রকম হয়েছে, উঠিয়ে নিয়ে গেছে। যার কাছ থেকে যে রকম মনে হয়েছে, জোর করে কিছু লিখে নিয়ে গেছে।

সংসদ নেতা বলেন, বর্তমান সরকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং প্রচলিত আইন মেনে কাজ করতে চায়। যাতে কোনো মানুষ ন্যায্য আইন থেকে বঞ্চিত না হয়। সে কারণে সরকার আইনগতভাবেই সব প্রক্রিয়া গ্রহণ করবে। আইন তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যাবে। যারা দেশের ও জনগণের অর্থ পাচার করেছে, প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের শাস্তি হবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এক কথায় যদি বলতে হয় এটি (পাচার হওয়া অর্থ) জনগণের অর্থ। যেহেতু আমরা জনগণ দ্বারা নির্বাচিত সত্তা, জনগণের প্রতি এবং দেশের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা আছে; খুব স্বাভাবিকভাবেই জনগণের অর্থ ফিরিয়ে এনে দেশ ও জনগণের জন্য ব্যয় করা এই সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কাজেই এ ব্যাপারে যেভাবেই হোক, যে পদক্ষেপ গ্রহণ করলে জনগণের অর্থ ফেরত আসবে, এই সরকার সেই পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

ফ্যামিলি কার্ডে পরিবারের সম্পদের ওপর নারীর নিয়ন্ত্রণ বাড়বে

সরকারি দলের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, গত ১০ মার্চ দেশের ১৩টি জেলার ৩টি করপোরেশন/ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৩৭ হাজার ৮১৪টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতা প্রদান করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাকি তিন মাসে আরও ৩০ হাজার পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। আগামী চার বছরের মধ্যে ৪ কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।

ফ্যামিলি কার্ড পরিবারের প্রধান নারী সদস্যকে দেওয়ার কারণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এতে একদিকে যেমন এই সহায়তা সরাসরি পরিবারের সদস্যদের খাদ্য, পুষ্টি, জরুরি চিকিৎসা ও শিক্ষায় ব্যয় হবে, অন্যদিকে ফ্যামিলি কার্ডটি পরিবারে নারীপ্রধানের নামে হওয়ায় পরিবারের সম্পদের ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। পরিবার ও সমাজের ওপর নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করবে

এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ যেসব কার্ড দেওয়া হচ্ছে, তার ইতিবাচক দিক রয়েছে। এতে কত খরচ হবে। এটা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে মুদ্রাস্ফীতি ও মূল্যস্ফীতির মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে সে ক্ষেত্রে সরকারের পরিকল্পনা কী হবে? জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এ খাতে কত বাজেট, তা এখনই তিনি বলছেন না। পর্যায়ক্রমিকভাবে এগুলো এগিয়ে নেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে প্রতি মাসে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হবে। প্রতিবছরই বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার টাকা ছাপিয়ে এ সহায়তা দিচ্ছে না। কাজেই মূল্যস্ফীতি হবে না বরং এই টাকা যাঁদের দেওয়া হবে, সেই সব কৃষক ও নারী নিশ্চয়ই সিঙ্গাপুর বা বিভিন্ন দেশে পাচার করবেন না। এই টাকা স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যয় হবে। এতে অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। কর্মসংস্থান বাড়বে। প্রান্তিক গোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানের উন্নতি হবে।

এ বি এম মোশাররফের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। তাঁরা দেশের মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের প্রাথমিক কাজ শুরু করা হয়েছে। নির্বাচিত জাতীয় সংসদের সদস্যদের মাধ্যমে সারা দেশে পর্যায়ক্রমে সব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

বিরোধী দলের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অতীতে দেখেছি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রকম কমিটমেন্ট (প্রতিশ্রুতি দেওয়া) করেছিল। কেউ কেউ বিভিন্ন রকম টিকিটও বিলি করেছিল। তবে বিএনপির প্রতি জনগণ যে সমর্থন দিয়েছে, তাতে পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত হয়, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ সব পরিকল্পনার প্রতি মানুষের সমর্থন রয়েছে। দেশের মানুষ জাতীয়তাবাদী দলের ওপর আস্থা রেখেছেন।’

আরও চার জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। জেলাগুলো হলো, রাজবাড়ী, ঠাকুরগাঁও, পাবনা ও রংপুর।

বুধবার (১ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) পরিচালক (উপসচিব) আফরোজা পারভীনকে রাজবাড়ী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ রফিকুল হককে ঠাকুরগাঁও, আমিনুল ইসলামকে পাবনা এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সচিব (উপসচিব) মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে রংপুরের ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে এই চার জেলায় জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালনকারী উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।

পাবনার ডিসি শাহেদ মোস্তফা, ঠাকুরগাঁওয়ের ডিসি ইশরাত ফারজানা, রংপুরের ডিসি মোহাম্মদ এনামুল আহসান এবং রাজবাড়ীর ডিসি সুলতানা আক্তারকে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

সর্বশেষ গত ২৯ মার্চ দেশের ১১ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার।

 

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীর বিক্রম) সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। আজ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, সাক্ষাতের সময় স্পিকারের স্ত্রী দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা জানান পাকিস্তানের হাইকমিশনার। এ সময় তাঁরা চলমান বৈশ্বিক সংকট এবং নিজ নিজ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

সাক্ষাৎকালে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ ওয়াসিফ এবং সংসদ সচিবালয়ের সচিব উপস্থিত ছিলেন।

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক মো. সাইফুল ইসলামকে বরখাস্ত করেছে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। 

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকার পরও এতদিন তার পদ বহাল থাকায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছিল। এর আগে, একাধিক গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদও প্রকাশিত হয়।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জিন্নাত আরা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সরকারি চাকরি আইন এবং সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী, সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন এবং আদেশটি জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় প্রজ্ঞাপনে।

এর আগে, পরকীয়া সংক্রান্ত অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার পরও সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন ওঠে। সাধারণত কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী ৪৮ ঘণ্টার বেশি কারাগারে থাকলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বলে জানা গেছে।

সাইফুল ইসলামের স্ত্রী অভিযোগ করেন, স্বামীর সঙ্গে আপস না করায় তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং ডিভোর্স দিয়ে অন্য নারীকে বিয়ে করার কথাও বলা হচ্ছে। বর্তমানে তিনি দুই সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার পর বিষয়টি অধিদপ্তরে জানানো হয়েছিল এবং অবশেষে কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

 

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব