• Colors: Purple Color

সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য নতুন পে স্কেলের সুপারিশ নতুন সরকারকে পর্যালোচনা করা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের নতুন পে স্কেলের দাবি আছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার শেষ সময়ে এটি করে গেছে। যেটি নিজে করতে পারেনি, সেটি অন্যের জন্য রেখে গেছে। বিগত সরকার অনেক কিছু এই সরকারের ওপর প্রলম্বিত দায় দিয়ে গেছে। এটি অনেক ক্ষেত্রে অন্যায্য।

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, বর্তমান সরকারের উচিত, নিজের মতো করে নতুন করে কমিশন করে এটি পুনর্বিবেচনা করা। এ ক্ষেত্রে আগের বেতন কমিশনের প্রতিবেদন একটি উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। প্রশ্নহীনভাবে প্রস্তাবিত বেতন বিবেচনা করার সুযোগ নেই। এরপরও বিবেচনা করে একটি যৌক্তিক জায়গায় আনতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার ধানমন্ডিতে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মেলন কেন্দ্রে নতুন সরকারের প্রথম বাজেটের জন্য ভাবনা শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। মিডিয়া ব্রিফিংটি আয়োজন করেছে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন কতটা বাড়ল, তা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। বেতন বাড়লে পেনশনও বাড়ে। তবে পেনশনে খরচ কতটা বাড়ল, তা নিয়ে আলোচনা হয় না। প্রকৃতপক্ষে বেতন বৃদ্ধির মধ্যে সরকারের ক্রমাগত ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি লুকানো থাকে।

বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলের জন্য সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন গঠন করে। গত ২২ জানুয়ারি সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করে জাতীয় বেতন কমিশন। তবে গ্রেড (ধাপ) আগের মতোই ২০টি রাখা হয়েছে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ছিল ১: ৮, যা এত দিন ছিল ১: ৯ দশমিক ৪। সর্বনিম্ন ধাপে বেতনকাঠামো ৮ হাজার ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়। আর সর্বোচ্চ ধাপে বেতনকাঠামো নির্ধারিত ৭৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে সুপারিশ করা হয় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

প্রতিবেদন গ্রহণ করে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘এটি একটি মস্ত বড় কাজ। মানুষ বহুদিন ধরে এর জন্য অপেক্ষা করছে। আউটলাইন দেখে বুঝলাম, এটি খুবই সৃজনশীল কাজ হয়েছে।’ বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ কথা জানিয়েছে।

সেদিন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, কমিশনপ্রধান জাকির আহমেদ খান প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় বলেন, সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হলে বাড়তি ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার দরকার পড়বে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে পদত্যাগপত্রটি গতকাল সোমবার রাষ্ট্রপতি বরাবর পাঠানো হয়।

জানতে চাইলে আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে গতকাল তিনি (বিচারপতি রেজাউল হাসান) পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্র দেন তিনি। বিধি অনুসারে পদত্যাগপত্রটি গতকাল রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর (বিচারপতি রেজাউল হাসান) বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কার্যক্রম চলমান ছিল।

কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কাউন্সিল গঠিত হয় প্রধান বিচারপতি ও পরবর্তী জ্যেষ্ঠ দুজন বিচারপতিকে নিয়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্যমতে, বিচারপতি রেজাউল হাসানের বিরুদ্ধে ২০১০ ও ২০১১ সালের দুটি কোম্পানি মামলার কার্যধারায় পক্ষপাতমূলক আচরণসহ দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে পাঠাতে একটি আবেদন জমা পড়ে। গত বছরের ২৪ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর আবেদনটি দেন শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান কে এম মজিবুল হক।

এই নালিশের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট বিচারপতি রেজাউল হাসান গত ১০ ডিসেম্বর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে লিখিত বক্তব্য দাখিল করেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়। সূত্রটি আরও জানায়, সবশেষ ২৯ মার্চ সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে আবেদন দেন এই বিচারপতি।

সূত্রটির দাবি, দুটি মামলার মধ্যে একটিতে আপিল বিভাগে আবেদন হয়। অন্যটিতে করা হয়নি। হাইকোর্টের আদেশের পর একটির ক্ষেত্রে আপিল বিভাগে করা আবেদনসূত্রে ২০১৭ সালে আবেদনকারীর (মজিবুল হক) স্ত্রীর প্রতিকার পান।

সূত্র জানায়, ২৯ মার্চ সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে দেওয়া আবেদনে বিচারপতি রেজাউল হাসান উল্লেখ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে, নালিশ করতে চাইলে তা ২০১৭ সালেই কাউন্সিলে করতে পারতেন অভিযোগকারী। এ ছাড়া নালিশটি চলে না বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে আবেদনটি ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এরপর এ বিচারপতি ২৯ মার্চ পদত্যাগপত্র দেন।

বিচারপতি সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে উল্লিখিত বিচারপতির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কার্যধারা শুরু হয়নি।

সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮৫ সালে জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন রেজাউল হাসান। ১৯৮৯ সালে হাইকোর্ট বিভাগের এবং ২০০৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি। ২০০৯ সালের ৩০ জুন হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান রেজাউল হাসান। ২০১১ সালের ৬ জুন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।

রাজধানী ঢাকার ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করে জনদুর্ভোগ কমাতে বুধবার (১ এপ্রিল) থেকে কঠোর অভিযানে নামছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ট্রাফিক আটটি বিভাগের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে এ অভিযান শুরু হয়ে গুলশান বিভাগে গিয়ে শেষ হবে। ঢাকা মহানগরীর সড়কের পাশে বিভিন্ন দোকান পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হবে।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর দখলদারত্বের কারণে সৃষ্ট তীব্র যানজট নিরসনেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, এই অভিযান সাধারণ হকারদের বিরুদ্ধে নয়, বরং সেই সব সামর্থ্যবান ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যারা সড়কের ওপর রেস্টুরেন্টের কিচেন বা স্থায়ী স্থাপনা বানিয়ে জনপথ আটকে রেখেছেন। যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের বৈধ জায়গার বাইরে অতিরিক্ত আকারে ফুটপাত দখল করে ব্যবহার করছে, আমরা এবার তা দখলমুক্ত করবো। এছাড়া, হকারদের জন্য নির্ধারিত এলাকায় শিগগিরই হলিডে ও নাইট মার্কেট চালুর প্রস্তুতিও চলছে।

এর আগে, গত ২৩ মার্চ ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় খাবার রেস্টুরেন্ট, যানবাহনের ওয়ার্কশপ, আসবাবপত্র ও পোশাকের দোকানগুলো তাদের কার্যক্রম ফুটপাত ও মূল সড়কে সম্প্রসারণ করেছে। রেস্টুরেন্টের রান্নার সরঞ্জাম, গ্রিল বা কাবাব তৈরির মেশিন, ওয়ার্কশপের টায়ার ও যন্ত্রপাতি এবং আসবাবপত্র রাস্তার ওপর রাখার ফলে পথচারীদের চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মোটরগাড়ির ওয়ার্কশপগুলো প্রায়ই ফুটপাত ও সড়কের একটি লেন দখল করে গাড়ি মেরামত করে। এতে পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল রাস্তা দিয়ে চলাচল করায় একদিকে যেমন নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম যানজট।

ডিএমপি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যারা অবৈধভাবে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, তাদের অনতিবিলম্বে মালামাল সরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় আগামীকাল থেকে ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনস্বার্থে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে যাতে নগরবাসী নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে চলাচল করতে পারে।

 

বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল (এইচএমএস) চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপরিচিত, যেখানে মানবস্বাস্থ্য ও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে যুগান্তকারী বহু আবিষ্কার হয়েছে। এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপক ড. আহমেদ আয়েদুর রহমানের গবেষণায় মানবদেহের অন্ত্রের জটিল রোগের চিকিৎসায় নতুন আশা দেখতে পাচ্ছেন গবেষকেরা। বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. আহমেদ রহমানের গবেষণার মূল ক্ষেত্র অন্ত্রের স্নায়ুতন্ত্র, এটিকে বিজ্ঞানীরা দ্বিতীয় মস্তিষ্কও বলেন। অন্ত্রের স্নায়ুতন্ত্রকে বলা হয় এন্টারিক নার্ভাস সিস্টেম (ইএনএস)। এই জটিল স্নায়ুতন্ত্র আমাদের পরিপাকতন্ত্রের চলাচল, শোষণ ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আহমেদ আয়েদুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের (এমজিএইচ) গবেষণার সঙ্গেও যুক্ত। তাঁর গবেষণা বিশেষ করে হির্শস্প্রুং রোগের মতো জন্মগত অন্ত্রের রোগের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। এই রোগে অন্ত্রের একটি অংশে স্নায়ুকোষ থাকে না, ফলে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। বর্তমানে এর একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা অস্ত্রোপচার, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ কেটে ফেলা হয়। কিন্তু এতে রোগী পুরোপুরি সুস্থ হন না, অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা থেকেই যায়।

হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের এলিনর অ্যান্ড মাইলস শোর ফেলোশিপ পেয়েছেন আহমেদ আয়েদুর রহমান, যা কেবল ব্যতিক্রমী ও সম্ভাবনাময় গবেষকদের স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়।

এই প্রেক্ষাপটে আহমেদ আয়েদুর রহমানের গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অটোলোগাস এন্টারিক নিউরাল স্টেম সেল (ইএনএসসি) প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে অন্ত্রের স্নায়ুতন্ত্র পুনর্গঠনের সম্ভাবনা দেখিয়েছেন। তাঁর গবেষণা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ও অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ন্যাচার কমিউনিকেশনস, নিউরন এবং জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল ইনভেস্টিগেশনে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, স্টেম সেল প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে অন্ত্রের স্বাভাবিক গতিশীলতা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। প্রচলিত অস্ত্রোপচারনির্ভর চিকিৎসার বাইরে একটি জৈবিক সমাধানের ধারণা চিকিৎসাবিজ্ঞানে বড় অগ্রগতি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের ডিন জর্জ ডেলির কাছ থেকে এলিনর অ্যান্ড মাইলস শোর ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ডস নিচ্ছেন আহমেদ আয়েদুর রহমান। সঙ্গে স্ত্রী ইশরাত শহীদ এবং দুই সন্তান আদিয়ান ও আফফান
হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের ডিন জর্জ ডেলির কাছ থেকে এলিনর অ্যান্ড মাইলস শোর ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ডস নিচ্ছেন আহমেদ আয়েদুর রহমান। সঙ্গে স্ত্রী ইশরাত শহীদ এবং দুই সন্তান আদিয়ান ও আফফান, ছবি: সংগৃহীত
 

আহমেদ আয়েদুর রহমান অপটোজেনেটিকস প্রযুক্তি ব্যবহার করে অন্ত্রের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণের একটি অভিনব পদ্ধতিও দেখিয়েছেন। সেলুলার অ্যান্ড মলিকুলার গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড হেপাটোলজিতে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কোলিনার্জিক নিউরনকে নীল আলো দিয়ে উদ্দীপিত করলে কোলাইটিসের প্রদাহ কমে। এটি ওষুধনির্ভর চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ভবিষ্যতে বায়োইলেকট্রনিক থেরাপির পথ তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে আহমেদ আয়েদুর রহমান বলেন, বিশ্বজুড়ে অন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত রোগে ভোগা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে উন্নত চিকিৎসা এখনো সীমিত। তাই যদি এই গবেষণাগুলো ভবিষ্যতে ক্লিনিক্যাল পর্যায়ে সফল হয়, তবে তা বৈশ্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

জিনগত রোগ ও জিন থেরাপির সম্ভাবনা—

সেল থেরাপির পাশাপাশি ড. আহমেদ আয়েদুর রহমানের গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জিনগতভাবে সৃষ্ট মসৃণ পেশির রোগ নিয়ে কাজ করা। সম্প্রতি তাঁরা মাল্টিসেস্টেমেটিক স্মুথ মাসল ডিসফাংশন সিনড্রোম (এমএসএমডিএস) নামক একটি বিরল জিনগত রোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রকাশ করেছে। এই রোগ একটি নির্দিষ্ট জিনগত ত্রুটির কারণে হয়।

এ বিষয়ে আহমেদ আয়েদুর রহমান বলেন, এই জিনগত পরিবর্তন অন্ত্রের গঠন ও কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে প্রিসিশন মেডিসিন বা লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করেছে। যেহেতু রোগটির সুনির্দিষ্ট জিনগত কারণ জানা আছে, তাই ভবিষ্যতে জিন থেরাপির মাধ্যমে মূল ত্রুটি সংশোধনের সম্ভাবনাও উন্মুক্ত হয়েছে। যদিও এই গবেষণা এখনো প্রাক্‌-ক্লিনিক্যাল পর্যায়ে, তবে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।

আহমেদ আয়েদুর রহমান আরও বলেন, হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল ও ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের একজন মেডিক্যাল সায়েন্টিস্ট হিসেবে এমন পরিবেশে কাজ করছি, যেখানে মৌলিক গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তি এবং রোগীকেন্দ্রিক ক্লিনিক্যাল প্রোগ্রাম একই প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত। ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে বিরল জিনগত রোগের রোগীদের জন্য বিশেষায়িত প্রোগ্রাম রয়েছে। ফলে ল্যাবে উদ্ভাবিত কোনো থেরাপি নিরাপদ ও কার্যকর প্রমাণিত হলে তা দ্রুত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের দিকে এগিয়ে নেওয়ার বাস্তব সুযোগ রয়েছে। আহমেদ আয়েদুর রহমানের ভাষায়, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশ নয়। আমরা এমন বৈজ্ঞানিক সমাধান খুঁজছি, যা দ্রুতই সরাসরি রোগীদের উপকারে আসবে।’

২০২৪ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী ড. গ্যারি রুভকুনের সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানে গবেষণা করেন বিজ্ঞানী আহমেদ আয়েদুর রহমান
২০২৪ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী ড. গ্যারি রুভকুনের সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানে গবেষণা করেন বিজ্ঞানী আহমেদ আয়েদুর রহমান, ছবি: সংগৃহীত
 

আহমেদ আয়েদুর রহমানের গবেষণা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ (NIH) থেকে একটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক গবেষণা অনুদান দ্বারা সমর্থিত, যা বিশ্বমানের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা গবেষণাকে এগিয়ে নিতে প্রদান করা হয়। পাশাপাশি তিনি আমেরিকান নিউরোগ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড মোটিলিটি সোসাইটির (ANMS) ডিসকভারি গ্রান্ট অর্জন করেছেন, যা আন্ত্রিক প্রদাহজনিত রোগ (IBD) নিয়ে তাঁর গবেষণাকে আরও শক্তিশালী করেছে। এ ছাড়া তিনি হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের এলিনর অ্যান্ড মাইলস শোর ফেলোশিপ লাভ করেছেন, যা কেবল ব্যতিক্রমী ও সম্ভাবনাময় গবেষকদের স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হার্ভার্ড—

খুলনায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা আহমেদ আয়েদুর রহমানের বিজ্ঞান ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ ছিল শৈশব থেকেই। পিএইচডি করতে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি ডিসিপ্লিনে শিক্ষকতা করেছেন, যেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের গবেষণার প্রতি আগ্রহী করে তুলেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তাঁর অসাধারণ একাডেমিক দক্ষতা তাঁকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এগিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে তিনি গবেষণার জন্য অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককোয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি অর্জন করেন। পিএইচডি সম্পন্ন করার পর তিনি অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি, মেলবোর্নে (২০১২–২০১৭) এবং ম্যাককোয়ারি ইউনিভার্সিটি, সিডনিতে (২০১৭–২০২০) শিক্ষকতা ও গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। ২০২০ সালে তিনি হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল ও ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে (এমজিএইচ) গবেষক হিসেবে যোগ দেন।

রাঙামাটির রিজার্ভ বাজারের মেসার্স মহসিন স্টোর। জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ক্রেতাদের জ্বালানি তেল বিক্রির কথা এই ফিলিং স্টেশনে। তবে তেলের জন্য গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাত থেকেই মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায় অনেককে। শুধু মহিসন স্টোর নয়, গভীর রাত থেকে একই চিত্র রাঙামাটির সব কটি ফিলিং স্টেশনে।

রিজার্ভ বাজারের মহসিন স্টোরে গভীর রাতে জ্বালানি তেলের জন্য ভিড় করা ব্যক্তিদের একজন রতন চাকমা। জানালেন, তিনি পেশায় স্কুলশিক্ষক। তাঁর কর্মস্থল নানিয়ারচর ঘিলাছড়ি উচ্চবিদ্যালয় হলেও তিনি থাকেন প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে রাঙামাটি শহরের শশী দেওয়ানপাড়া এলাকায়। সাধারণত সকাল সাড়ে সাতটায় বাসা থেকে মোটরসাইকেলে করে বিদ্যালয়ের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। তবে গত সোমবার থেকে তাঁর মোটরসাইকেলের জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় কর্মস্থলে যেতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে।

রতন চাকমা বলেন, ‘সোমবার তেল নিতে এসে সিরিয়াল পাইনি। তাই এবার রাত তিনটায় চলে এসেছি। রাতে আসায় ২ নম্বর সিরিয়াল পাওয়ার সুযোগ হয়েছে। তেল নিয়েই স্কুলের উদ্দেশে রওনা দেব; যদিও মোটরসাইকেলের তেল নেওয়ার জন্য রাতে ঘুমানোর সুযোগ হয়নি।’

সকাল আটটায় ফিলিং স্টেশনটিতে জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই রতন চাকমাও মোটরসাইকেলের জন্য জ্বালানি তেল পেয়েছেন। তবে পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর মাত্র ৩০০ টাকার জ্বালানি তেল পান তিনি।

রতন চাকমার মোটরসাইকেলে যখন জ্বালানি তেল দেওয়া হচ্ছিল, তখন ফিলিং স্টেশনটিতে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সারি। তেলের জন্য অপেক্ষারত মো. ইসরাফিল নামে এক ব্যক্তি জানান, তিনি একটি ওষুধ বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মী। সকালে চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নিয়ে মাসিক বৈঠক। তিনিও মোটরসাইকেলে নিয়ে সেখানে যাবেন। তাই জ্বালানি তেল নিতে এসেছেন। ইসরাফিল বলেন, ‘লাইনে অপেক্ষা করতে করতে বাইকে বসেই মিটিংয়ের প্রস্তুতিমূলক সব কাজ করতে হচ্ছে। ভোরে আসায় জ্বালানি তেল পাব, এটিই সান্ত্বনা।’  

মিশু মল্লিক নামের আরেকজন বলেন, এর আগে একদিন দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর তেল না পেয়ে ফিরে গেছেন। অনেক কষ্টে এবার তেলের সিরিয়াল পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘রাঙামাটি পাহাড়ি অঞ্চল। এখানে অনেক এলাকায় মোটরসাইকেল ছাড়া যাতায়াত প্রায় অসম্ভব। জ্বালানি তেল না পেলে মানুষের জন্য যাতায়াতের ভোগান্তি অনেক বেড়ে যাবে।’

সরেজমিনে কথা হয় মহসিন স্টোরের ব্যবস্থাপক আবদুল বাতেনের সঙ্গে। তিনি জানান, প্রতি মোটরসাইকেলে ৩০০ টাকা, অটোরিকশায় ৫০০ টাকা এবং মালবাহী ট্রাকে দেড় হাজার টাকার অকটেন দেওয়া হচ্ছে।

রাঙামাটিতে ফিলিং স্টেশন রয়েছে পাঁচটি। এর মধ্যে চারটি শহর এলাকায়, একটি কাপ্তাইয়ে। জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ফিলিং স্টেশনগুলোতে প্রতি শনি, সোম ও বুধবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত অকটেন দেওয়া হচ্ছে। রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার একই সময়ে ডিজেল দেওয়া হয়।

রাঙামাটিতে ফিলিং স্টেশন রয়েছে পাঁচটি। এর মধ্যে চারটি শহর এলাকায়, একটি কাপ্তাইয়ে। জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ফিলিং স্টেশনগুলোয় প্রতি শনিবার, সোম ও বুধবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত অকটেন দেওয়া হচ্ছে। রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার একই সময়ে ডিজেল দেওয়া হয়। এর বাইরে নির্ধারিত দিনে জ্বালানি তেল থাকা সাপেক্ষে বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য তেল নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। শুক্রবার সব কটি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

মোটরসাইকেলের জ্বালানি তেল নিতে ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষা করছেন রতন চাকমা (ডানে)। আজ সকালে রাঙামাটির রিজার্ভ বাজারের মহসিন স্টোরে
মোটরসাইকেলের জ্বালানি তেল নিতে ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষা করছেন রতন চাকমা (ডানে)। আজ সকালে রাঙামাটির রিজার্ভ বাজারের মহসিন স্টোরে
 

আজ সকাল সাড়ে আটটার দিকে রাজবাড়ী এলাকার এস এন পেট্রোলিয়াম এজেন্সি পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, সেখানেও প্রায় অর্ধশত মোটরসাইকেল তেলের জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন। তেল নিয়ে সুনেন্তু চাকমা নামের এক ব্যক্তি জানান, তিনি রাত তিনটায় তেলের জন্য এসেছেন। পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর মাত্র ২০০ টাকার তেল পেয়েছেন। সুনেন্তু বলেন, তিনি পেশায় বিক্রয়কর্মী। তাঁকে জেলার নানা জায়গায় যেতে হয়। এত কম জ্বালানি তেলে এক দিনও যাতায়াত সম্ভব হবে না।

রাঙামাটির পেট্রলপাম্পগুলোয় ট্যাগ অফিসারদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিও দেখা যায় প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে। শহরের মেসার্স তান্যাবি এন্টারপ্রাইজে ট্যাগ অফিসারের দায়িত্বে রয়েছেন জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা টিপু সুলতান। তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহযোগিতায় সুশৃঙ্খলভাবে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।’

রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নিশাত শারমিন জানান, দুজন যুগ্ম সচিব এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাঙামাটির পেট্রলপাম্পগুলোয় সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। জ্বালানি তেলের সংকট রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জেলায় জ্বালানি তেলের সংকট নেই। সংকটের আশঙ্কায় অনেকেই বারবার পাম্পে এসে জ্বালানি তেল নিচ্ছেন। তাঁদের জ্বালানি মজুত করার মানসিকতার কারণে অন্যদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।’

সংবিধান সংশোধনে অচিরেই ১৫ থেকে ২০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির। বিরোধীদলও এই কমিটিতে থাকবে বলে প্রত্যাশা করেছেন তিনি। 

বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটির ৩য় বৈঠক শেষে একথা জানান চীফ হুইপ।

তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য একটা কমিটি হবে। সেখানে আমরা সকল দলের প্রতিনিধিদের রাখতে চাই। সকলের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা সংবিধান সংশোধনের কমিটি করতে চাই। 

বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা জানান, সংবিধানের মূল বিষয়গুলো সংশোধনের মাধ্যমে সম্ভব নয়। এজন্য দরকার সংস্কার। সংবিধান সংশোধনের জন্য কমিটির প্রস্তাব আইনী ভিত্তি নেই বলেও দাবি করেছেন তারা। বিরোধীদল তাই সংবিধানের সংস্কার কমিটি গঠনের দাবি জানাচ্ছে। গতকাল বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যকে ভুল ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব