নতুন গভর্নর ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবেন বলে জানিয়েছেন মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। যেসব কর্মকর্তা এই ‘মব কালচার’এর সঙ্গে জড়িত, মানবসম্পদ নীতিমালা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকে বুধবার (২৫ফেব্রুয়ারি) ঘটে যাওয়া 'মবের' সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নতুন গভর্নর ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবেন বলে জানিয়েছেন। যেসব কর্মকর্তা এই 'মব কালচার'-এর সঙ্গে জড়িত, মানবসম্পদ নীতিমালা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুখপাত্র বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া পুরোপুরি নিয়মমাফিক ও বৈষম্যহীন করা হবে। কাজের গতি বাড়াতে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের কথা বলেছেন গভর্নর। এর মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ানো হবে।

এর আগে, বুধবার গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহকে 'মব' তৈরি করে বের করে দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। দুপুর ৩টার দিকে গভর্নর ভবনের সামনেই এ ঘটনা ঘটে।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদায়ী গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল ও নতুন গভর্নর হিসেবে মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়ার পুরো কাজ শেষ হয়েছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে।

গত সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠক করেন আহসান এইচ মনসুর। বৈঠক শেষে আহসান মনসুর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমরা কী কী সংস্কার করছি, তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছি। এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি এ ব্যাপারে খুবই ইতিবাচক।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গতকাল বুধবার প্রজ্ঞাপন জারি করে আহসান এইচ মনসুরের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে দেয়। ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট চার বছরের জন্য গভর্নর পদে নিয়োগ পাওয়া আহসান মনসুরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের ১২ আগস্ট। আলাদা প্রজ্ঞাপনে চার বছরের জন্য গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হয় ব্যবসায়ী মো. মোস্তাকুর রহমানকে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর সচিবালয়ের দপ্তর ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সূত্রগুলো জানায়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেককে গত মঙ্গলবার নতুন গভর্নরের নাম দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নথি উপস্থাপন প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশনা দেন অর্থমন্ত্রী।

সূত্রগুলো জানায়, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান, বিভিন্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনটি নাম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপস্থাপনের চর্চা রয়েছে। গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি নামই যায় এবং এবারও সেটাই হয়েছে।

নিয়মানুযায়ী গভর্নরের নিয়োগ বাতিল ও নতুন গভর্নর নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে। একটি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয় অর্থমন্ত্রীর কাছে। অর্থমন্ত্রী সম্মতি দিলে তা যায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিলে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি হয় বাতিল ও নিয়োগের দুই প্রজ্ঞাপন।

আজ বেলা ৩টা ৩৪ মিনিটে নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ে যান। এ সময় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকও উপস্থিত ছিলেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অর্থমন্ত্রী ও গভর্নর একসঙ্গে বেরিয়ে চলে যান অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে। যাওয়ার সময় সাংবাদিকেরা গভর্নরের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তিনি রাজি হননি।

এদিকে হঠাৎ পরিবর্তনের নেপথ্য ঘটনা জানতে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন, বিদায়ী গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে কেন এভাবে বিদায় দিয়ে নতুন গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হলো? জবাবে অর্থমন্ত্রী তিনবার বলেন, ‘কিছুই বলার নেই।’

আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিলের দিন গত বুধবারও তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে অফিস করছিলেন। গণমাধ্যমে তাঁর চুক্তি বাতিলের খবর পেয়ে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক ছেড়ে বাসায় চলে যান বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন।

গতকাল বুধবার আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে কথা হয়েছে—এমন কিছু সূত্র জানিয়েছে, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় একধরনের মব হয়েছে এবং যেটা হয়েছে, তা অপ্রত্যাশিত এবং দুঃখজনক। কারণ, দুদিন আগেই তিনি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই দিন বা তারপরের দিনও অর্থমন্ত্রী তাঁকে ইঙ্গিত দিতে পারতেন যে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হবে। জানলে তিনি এক দিনও সময় নিতেন না।

যোগাযোগ করলে আহসান এইচ মনসুর গতকাল কথা বলতে চাননি। তবে তাঁর বরাতে গতকাল একটি সূত্র জানায়, আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, কিছু অসম্পূর্ণ কাজ ছিল, এগুলো শেষ করে যেতে পারেননি। কোনো আশাবাদ দেখছেন না তিনি। গভর্নর হাউস ছেড়ে বাসা ভাড়া নেওয়ার খোঁজে দিন কাটিয়েছেন গতকাল। আগামী রোববার তিনি তাঁর সাবেক কর্মস্থল পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) কার্যালয়ে যাবেন। আহসান এইচ মনসুর ওই সূত্রটিকে আরও বলেছেন, ‘দেশটিতে জন্ম নিয়েছি বলেই আছি। নইলে কবেই চলে যেতাম।’

মার্চ মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে সরকার। প্রতি লিটার পেট্রোল ১১৬ টাকা ও প্রতি লিটার কেরোসিনের দাম ১১২ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

রোববার (১ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা (সংশোধিত)’-এর আলোকে মার্চ মাসে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা ও অকটেনের দাম প্রতি লিটার ১২০ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

জ্বালানি তেলের এই হার যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নির্ধারণ ও অনুমোদন করা হয়েছে। এই অপরিবর্তিত মূল্যহার মার্চ মাসজুড়ে কার্যকর থাকবে।

 

প্রবাসী বাংলাদেশিরা সদ্য বিদায়ী ফেব্রুয়ারিতেও ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এই সময়ে মোট ৩০২ কোটি ১০ লাখ ডলার দেশে এসেছে। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৬ হাজার কোটির বেশি টাকা।

রোববার (১ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, ফেব্রুয়ারির ২৮ দিনে দেশে ৩০২ কোটি ১০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১ কোটি ১৬ লাখ ডলার। যেখানে গত বছরের একই সময়ে দেশে ২৫২ কোটি ৮০ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

এর আগে, চলতি বছরের জানুয়ারিতেও দেশে ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল। ওই সময় দেশে ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। যা ছিল দেশের ইতিহাসে এক মাসে প্রবাসীদের পাঠানো তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।

তারও আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও দেশে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল। ওই সময় মোট ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার দেশে এসেছিল। যা ছিল দেশের ইতিহাসে এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।

 

ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং এর জবাবে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইরানের পাল্টা হামলার জেরে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে এশিয়া, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ সব জায়গায় শেয়ারবাজারে প্রভাব পড়েছে।

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে আজ সোমবার সংকটগ্রস্ত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ‘ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি’র উল্লেখ করে আজ কুয়েতের শেয়ারবাজারের লেনদেন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সৌদি আরবের প্রধান সূচক টিএএসআই সূচক ২ দশমিক ২ শতাংশ, মিসরের ইজিএক্স ৩০ সূচক ২ দশমিক ৫ শতাংশ, বাহরাইনের বিএএক্স সূচক ১ শতাংশ, ওমানের এমএসএক্স সূচক ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।

পাকিস্তানের প্রধান সূচক কেএসই ১০০ আজ ১৬ হাজার পয়েন্ট কমেছে, যা এক দিনে এযাবৎকালের সর্ববৃহৎ পতন। এ জন্য পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ (পিএসএক্স) শেয়ারবাজারের লেনদেন বন্ধ করে দেয়। এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে ভারতের নিফটি ৫০ সূচক ১ দশমিক ২৪ শতাংশ, জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ১ দশমিক ২৫ শতাংশ, হংকংয়ের হেংসেং সূচক ২ দশমিক ১৪ শতাংশ, চীনের সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক দশমিক ৪৭ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার মূল সূচক কোসপি ১ শতাংশ কমেছে। এ ছাড়া মালয়েশিয়ার প্রধান সূচক কেএলসিআই দশমিক ৯৬ শতাংশ ও তাইওয়ানের প্রধান সূচক দশমিক ৯০ শতাংশ পড়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে লেনদেনের শুরু থেকেই সূচকের পতন ঘটতে শুরু করে। আজ রাতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (রাত পৌনে ৯টা) পাওয়া খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ডাউ জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ সূচক ৫৪৩ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ১ শতাংশ এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকও ১ দশমিক ১ শতাংশ ও নাসড্যাক সমম্বিত সূচক ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের ফিউচার সূচকগুলোরও পতন ঘটে। ওয়ালস্ট্রিটের এসঅ্যান্ডপি ৫০০, নাসড্যাক কম্পোজিট, ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ফিউচার—সব কটিই প্রায় ১ শতাংশ করে কমেছে।

ফিউচার (ভবিষ্যৎ চুক্তি) হলো এমন ধরনের আর্থিক চুক্তি, যার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা আগাম নির্ধারিত দামে ভবিষ্যতের কোনো তারিখে শেয়ার, পণ্য বা সূচক কেনাবেচার অঙ্গীকার করেন। বাজার খোলার আগেই ফিউচার লেনদেন দেখে বিনিয়োগকারীরা দিনটি সম্পর্কে আগাম ধারণা পান।

ইউরোপীয় শেয়ারবাজারগুলোতেও আজ বড় পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। লন্ডনের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটার কিছু পর প্যান-ইউরোপীয় সূচক স্টক্স ৬০০ সূচক প্রায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ ও লন্ডনের প্রধান শেয়ারসূচক এফটিএসই ১০০ সূচক প্রায় ১ শতাংশ পড়ে যায়। ইউরোপের অন্য বাজারগুলোতে পতন আরও বেশি ছিল। ফ্রান্সের সিএসি ৪০ সূচক ১ দশমিক ৮ শতাংশ ও জার্মানির ড্যাক্স সূচক ২ দশমিক ১ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। ইউরোপে তেল, গ্যাস ও প্রতিরক্ষা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ার ছাড়া প্রায় সব প্রধান খাতেই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়।

ইউরোপের প্রতিরক্ষা তথা সামরিক খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারও আজ ঊর্ধ্বমুখী ছিল। ইতালির মহাকাশ ও প্রতিরক্ষাপ্রতিষ্ঠান অ্যাভিওর শেয়ার প্রায় ২ শতাংশ বাড়ে। যুক্তরাজ্যের বিএই সিস্টেমসের শেয়ারমূল্য প্রায় ৫ শতাংশ ও সুইডেনের যুদ্ধবিমান নির্মাতা এসএএবির শেয়ার প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। ইতালির লিওনার্দো ও জার্মানির রেঙ্ক—এ দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম প্রায় ৪ শতাংশ করে বাড়ে।

ইউরোপের শেয়ারবাজারে ভ্রমণ ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বড় পতন দেখা যায়।

অন্যদিকে ভ্রমণ ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বড় পতন দেখা যায়। অ্যাংলো-আমেরিকান ক্রুজ অপারেটর কার্নিভ্যাল ও এয়ারলাইনস গ্রুপ ইন্টারন্যাশনাল কনসোলিডেটেড এয়ারলাইনস গ্রুপের শেয়ারমূল্য ৩ শতাংশ কমে যায়। জার্মান পর্যটন কোম্পানি টুই এজির শেয়ার প্রায় ৯ শতাংশ ও লুফথানসার শেয়ারের দাম ৩ শতাংশ কমেছে।

সূত্র: সিএনএন, সিএনবিসি, বিবিসি, দ্য ডন, রয়টার্স

ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে ডলারের উত্থান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা বলছেন, সংকটকালে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ডলার এখনো কার্যকর।

সংবাদে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গ্রিনব্যাক আবারও ঐতিহ্যগত ‘ক্রাইসিস কারেন্সি’ বা সংকটকালীন মুদ্রার পরিচয় ফিরে পেয়েছে। খবর রয়টার্সের

কয়েক মাস ধরেই ডলার নিয়ে বাজারে সংশয় ছিল। বিশেষ করে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের পর বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে বিক্রির ধুম পড়লেও ডলার প্রত্যাশিতভাবে শক্তিশালী হয়নি। এতে প্রশ্ন উঠেছিল, চাপের সময়ে ডলারের স্বতঃস্ফূর্ত আকর্ষণ কি ফিকে হয়ে যাচ্ছে?

কানাডার বহুজাতিক স্কশিয়াব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা কৌশলবিদ এরিক থিওরেট বলেন, ‘আজকের দিনটি ডলারের দৃষ্টিকোণ থেকে একেবারে ধ্রুপদি দিন। কেননা এদিন বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগ না করে নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে ডলারের আশ্রয় নিয়েছেন।’

এরিকের ভাষায়, ‘লিবারেশন ডে’ আমাদের চিরপরিচিত ঐতিহাসিক ধারা থেকে কিছুটা ব্যতিক্রম ছিল। বিষয়টি হলো, ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন বিশ্বের ১৫৭টি দেশের পণ্যে শুল্ক আরোপ করেন, সেই দিনটিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘লিবারেশন ডে’ বা স্বাধীনতা দিবস হিসেবে আখ্যা দেন। ওই ঘোষণার পর ডলারসহ বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে বড় পতন দেখা যায়। অর্থাৎ তখন ডলার নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে পারেনি।

গোল্ড প্রাইস ডট অর্গের তথ্যানুসারে, সোমবার বিশ্ববাজারের সোনার দাম বেড়েছে আউন্সপ্রতি ৮৮ ডলারের বেশি। ফলে সোনার দাম এখন ৫ হাজার ৩৬৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। শিগগরিই তা আবার সর্বকালীন রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৮৯ ডলারে উঠেছিল।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক বাজারের গভীরতা ও শক্ত ভিত ডলারের জন্য সহায়ক। এরিক থিওরেটের ভাষায়, ‘আপনি যদি বড় পরিসরে ঝুঁকি কমাতে চান, মার্কিন ট্রেজারি বাজারই একমাত্র বাজার, যে বাজার আপনার ঝুঁকির মাত্রা সামলাতে পারে।’ সংকটের সময় বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা ট্রেজারি বিল-বন্ডের দিকে ঝুঁকলে স্বাভাবিকভাবেই ডলারের চাহিদা বাড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের মার্সার অ্যাডভাইজার্সের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা ডন ক্যালকাগনি বলেন, ‘ডলারের বিকল্প নেই, এটাও বড় কারণ। অস্থিরতার সময় বিনিয়োগকারীদের জন্য ডলার থেকে দূরে থাকা কঠিন। তাই নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ডলারের নৈপুণ্যে আমি তেমন একটা অবাক নই।’

ঝুঁকির উৎস যখন যুক্তরাষ্ট্র

গত বছর বাজারের অস্থিরতায় ডলার কেন নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে আকর্ষণীয় হতে পারেনি, এর ব্যাখ্যাও দিচ্ছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, তখন ঝুঁকির উৎস ছিল যুক্তরাষ্ট্র নিজেই। ওয়াশিংটনের শুল্ক–ঝড় বিশ্ববাজারে তোলপাড় সৃষ্টি করে। যে দেশ অনিশ্চয়তার উৎস, তার মুদ্রায় আশ্রয় নিতে বিনিয়োগকারীদের অনীহা থাকা স্বাভাবিক।

ম্যাক্রো গবেষণা ও কৌশল প্রতিষ্ঠান ম্যাক্রো হাইভের গবেষক বেঞ্জামিন ফোর্ড বলেন, ট্রাম্পের তথাকথিত ‘স্বাধীনতা দিবসের’ ঘোষণায় ডলারের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। বিনিয়োগকারীরা বিশ্বের অন্য অঞ্চলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন। তাঁর মতে, এখন তেলের দামও বাড়ছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা আগের অবস্থান থেকে মুখ ফিরিয়ে ডলারের দিকে ঝুঁকছেন।

বিএনওয়াইয়ের আমেরিকাস ম্যাক্রো কৌশলবিদ জন ভেলিস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে ধাক্কা এলে ডলারের আবেদন ক্ষুণ্ন হতে পারে। কিন্তু যখন সংকট আন্তর্জাতিক ও ভূরাজনৈতিক, তখন ডলারের আবেদন অটুট থাকে। এখনকার বাজারে তারই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

তবে সবাই এতটা নিশ্চিত নন। রাবোব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা কৌশল প্রধান জেন ফোলি বলেন, এবারের সংকটের সময় ডলারের অবস্থান দেখে মনে হতে পারে, সে তার পুরোনো মর্যাদা ফিরে পেয়েছে। কিন্তু বিতর্ক শেষ হয়ে যায়নি।

সোমবার ডলার শুধু নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবেই নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র যে নিট জ্বালানি রপ্তানিকারক, সে কারণেও পালে হাওয়া পেয়েছে। তেলের দাম বাড়লে সাধারণত আমদানিনির্ভর দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত থাকে।

স্টেট স্ট্রিট ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের জ্যেষ্ঠ পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপক অ্যারন হার্ড মনে করেন, জ্বালানি বা তারল্যসংকটের বাইরে অন্য কোনো ধরনের ধাক্কায় ডলার একইভাবে শক্তিশালী না–ও থাকতে পারে। তাঁর কথায়, বিষয়টি যদি সাধারণ অর্থনৈতিক ভীতি হয়, তখন ডলার এতটা কার্যকর না–ও হতে পারে।

হার্ডের বক্তব্য হলো, আগে বড় সংকটের সময় শেয়ারবাজার পড়ে গেলেও ডলার সাধারণত শক্তিশালী হতো। কিন্তু এখন পরিস্থিতি এমন, ভবিষ্যতে বড় ধাক্কার সময় ডলার ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ একই সঙ্গে অস্থির হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ ডলার সব পরিস্থিতিতে নিরাপদ আশ্রয় হয়ে থাকবে—এমন নিশ্চয়তা আগের মতো নেই।

ম্যাক্রো হাইভের ফোর্ড মনে করেন, স্বল্প মেয়াদে ডলারের ভবিষ্যৎ তেলের দামের গতিপথের ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে। অর্থাৎ তেলের দাম বাড়তে থাকবে আর বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ কমবে—এমন পরিবেশে ডলারের চাহিদা বাড়বে।

তবে তেলের দাম কমে গেলে প্রচলিত নিরাপদ মুদ্রা, যেমন সুইস ফ্রাঁ ও জাপানি ইয়েন আবার শক্তিশালী হতে পারে। তেমন পরিস্থিতিতে এই দুটি মুদ্রাই বিনিয়োগের জন্য লাভজনক মাধ্যম হবে বলে মনে করছেন ফোর্ড।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব