তিন মাসের ব্যবধানে ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ বেড়েছে। গত মার্চ শেষে দেশের তফসিলি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, গত ডিসেম্বর মাস শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। মার্চ শেষে তিন মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। গত অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ কমলেও পরের প্রান্তিকে তা বেড়ে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, মার্চ মাস শেষে দেশের ৬১টি তফসিলি ব্যাংকে মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে ঋণ বিতরণ বেড়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। আর এখন মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ খেলাপি হয়ে পড়েছে।

রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি। এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৪৬ শতাংশ। তবে এসব ব্যাংকে আগের প্রান্তিকের চেয়ে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ কমেছে। সব মিলিয়ে ওই সব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খেলাপি ঋণ বেড়েছিল। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। তারা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে ২০২৪ সালের জুনে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সরকারের মেয়াদে ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র দেখানো শুরু হয়। আবার আওয়ামী লীগ-সমর্থিত অনেক গ্রাহককে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ফলে খেলাপি ঋণ হুঁ হুঁ করে বেড়ে যায়। এ অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকার বিশেষ ছাড়ে ঋণ পুনঃ তফসিলের সুযোগ দেয়। তাতে খেলাপি ঋণ কমে আসে।

ব্যাংকারদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে ব্যাংক খাতে অনিয়ম, জালিয়াতি, প্রতারণা ও দুর্নীতির উচ্চমাত্রার প্রভাবেই খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পায়। এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, হল-মার্ক গ্রুপসহ কয়েকটি গোষ্ঠী এবং ন্যাশনাল, ইসলামী ও বেসিক ব্যাংকে সংঘটিত কেলেঙ্কারির ঘটনায় খেলাপি ঋণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে নতুন কর্মসূচির আওতায় ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ। দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচিকে সমর্থন দিতে নতুন এই ঋণ কর্মসূচি শুরু করার অনুরোধ জানিয়ে সংস্থাটিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার আইএমএফের বাংলাদেশবিষয়ক মিশনপ্রধান আইভো ক্রিজনার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান কর্মসূচিগুলো হলো বর্ধিত ঋণসহায়তা (ইসিএফ), বর্ধিত তহবিল সহায়তা (ইএফএফ) এবং রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ)। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইএমএফ-সমর্থিত কর্মসূচি অনুমোদনের পর থেকে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে কর্মসূচিগুলোর বাস্তবায়ন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

আইএমএফের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকারকে এখন আরও জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, নিম্ন রাজস্ব আহরণ এবং নতুন ও ধারাবাহিক সংস্কার উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা আগের চেয়ে বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আইএমএফ বলেছে, বাংলাদেশের এই অনুরোধ সংস্থাটির সঙ্গে এমন একটি সম্ভাব্য কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতার সুযোগ তৈরি করেছে, যা বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলোকে প্রতিফলিত করবে এবং নতুন সরকারের লক্ষ্য ও অগ্রাধিকারকে অন্তর্ভুক্ত করবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে নতুন ব্যবস্থা প্রয়োজন। তবে তা নির্ভর করবে বিশ্বাসযোগ্য সংস্কার কর্মসূচিভিত্তিক শক্তিশালী নীতিগত প্রতিশ্রুতির ওপর। এ জন্য আইএমএফের নীতিমালা অনুযায়ী, সংস্থাটির নির্বাহী পর্ষদের অনুমোদন লাগবে।

আইভো ক্রিজনার বলেন, আইএমএফের কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা করছেন। এ সফরে তাঁরা সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং নীতিগত অগ্রাধিকার বিষয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন। পাশাপাশি অর্থনীতির সম্ভাবনা ও সংস্কার-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলোও মূল্যায়ন করা হবে।

আইএমএফের বাংলাদেশবিষয়ক মিশনপ্রধান আরও বলেন, সম্ভাব্য নতুন আইএমএফ-সমর্থিত কর্মসূচির আকার এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্কারের অঙ্গীকারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে নতুন মিশন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের একটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অংশীদার হিসেবে থাকবে আইএমএফ।

এর আগে ২০২২ সালের ২৪ জুলাইয়ে জরুরি ভিত্তিতে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখা ও বাজেট সহায়তার জন্য ঋণ চেয়ে আইএমএফের কাছে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ। পরে ঋণের আকার নির্ধারণ করা হয় ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলার। এখন পর্যন্ত ৫ কিস্তিতে বাংলাদেশ পেয়েছে ৩৬৪ কোটি ডলার।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের জুনে ঋণ কর্মসূচির আকার ৮০ কোটি ডলার বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়। সে হিসাবে এখনো ১৮৬ কোটি ডলার পাওয়ার কথা রয়েছে।

গত ঈদের আগে ২১ মে অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, নতুন কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রস্তাবিত কর্মসূচির মেয়াদ হবে তিন বছর। এ সময়ে অগ্রাধিকারভিত্তিক ও বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কারগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং ধাপে ধাপে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ঋণ কর্মসূচির আকার ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার হতে পারে।

গতকাল সকালে পদত্যাগ করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির আগের কমিশন। দুপুরের পর দায়িত্ব নেন মাসুদ খানের নেতৃত্বে নতুন কমিশন।

২০১০ সালের শেয়ারবাজার ধসের পর চতুর্থ দফায় বদল হয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) শীর্ষ নেতৃত্ব। ওই ধসের পর চতুর্থ চেয়ারম্যান হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার দায়িত্ব নিয়েছেন বহুজাতিক কোম্পানির শীর্ষ পদে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা মাসুদ খান। এর মাধ্যমে বিএনপি সরকার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে পুনর্গঠন করল।

২০১০ সালে আওয়ামী লীগের মেয়াদকালে বড় ধসের পর ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সংস্থাটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন এম খাইরুল হোসেন। এর পর থেকে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন পর্যন্ত বিএসইসির চেয়ারম্যান ছিলেন শিবলী রুবাইয়াত–উল–ইসলাম। আর ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। এই ১৬ বছরে বিএসইসির নেতৃত্বে তিন দফায় বদল হলেও বাজারে বড় কোনো বদল আসেনি। আস্থাহীনতায় বাজারবিমুখ হন বিনিয়োগকারীরা।

বিএসইসির বিগত তিন চেয়ারম্যানের নেতৃত্ব নিয়ে বাজারসংশ্লিষ্ট ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মোটাদাগে কয়েকটি মূল্যায়ন রয়েছে। তাঁদের মতে, খাইরুল হোসেনের মেয়াদকালে অনিয়ম, দুর্নীতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও বাজারটি পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়ে। সবচেয়ে বেশি খারাপ কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয় খাইরুলের মেয়াদে। এরপর শিবলী রুবাইয়াতের মেয়াদে এসে সেকেন্ডারি বাজারটি কারসাজিকারকদের সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে। দুই চেয়ারম্যানের মেয়াদে আইপিও এবং সেকেন্ডারি বাজারের নানা অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে বিএসইসির কর্মকর্তাদের একাংশ। এরপর বড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দায়িত্বে আসেন রাশেদ মাকসুদ। তাঁর সময়ে বাজারে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ না থাকলেও নেতৃত্ব নিয়ে বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ছিল হতাশা। এ সময়ে বিএসইসির কর্মীদের একটি বড় অংশের মধ্যেই কাজের প্রতি অনীহা দেখা যায়। ফলে খুব বেশি কর্মচাঞ্চল্য ছিল না। এমনকি শেয়ারবাজারের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিএসইসির চেয়ারম্যানসহ কমিশনের সদস্যরা কর্মীদের হাতে নাজেহালের শিকারও হন। এ নিয়ে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়। মামলায়ও অভিযুক্ত করা হয়।

আমরা চাই শেয়ারবাজার বিনিয়োগের সেই আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গায় ফিরে আসুক। ভালো শেয়ার কিনে দীর্ঘ মেয়াদে কেউ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন।মিনহাজ মান্নান, পরিচালক, ডিএসই

বিগত সময়ে নষ্ট হওয়া আইপিও বাজার, সেকেন্ডারি বাজার ও উদ্যম হারানো নিয়ন্ত্রক সংস্থা মেরামত করাই এখন প্রধান কাজ মাসুদ খানের নেতৃত্বাধীন নতুন কমিশনের। বাজারেও ফেরাতে হবে প্রাণচাঞ্চল্য। ফেরাতে হবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা। এ ছাড়া ভালো কোম্পানির খরা কাটানো, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কারসাজি বন্ধ, বাজারের সুশাসন ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, রাষ্ট্রমালিকানাধীন কোম্পানির তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করা, মুখ থুবড়ে পড়া মিউচুয়াল ফান্ড খাত মেরামত, বাজার কেলেঙ্কারির নানা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনাসহ চ্যালেঞ্জের তালিকাটি অনেক দীর্ঘ। হতাশা কাটিয়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাজারমুখী করতে হলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে নতুন কমিশনকে। সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে শেয়ারবাজারকে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে আনতে কাজ করতে হবে নতুন কমিশনকে। কারণ, বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে বাজার অংশীজন ও সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে শেয়ারবাজার নিয়ে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা। সে প্রত্যাশার কথা নিজেও স্বীকার করেছেন নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান। দায়িত্ব নিয়েই গতকাল বিএসইসি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ প্রত্যাশার কথা জানান নতুন চেয়ারম্যান।

বিএসইসিতে যোগদানের পরপরই সংবাদ সম্মেলনে নতুন কমিশনের পরিকল্পনা তুলে ধরেন বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান (বাঁ থেকে তৃতীয়)। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার–বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক ও নবনিযুক্ত তিন কমিশনার উপস্থিত ছিলেন। গতকাল বিকেল চারটায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসির সম্মেলনকক্ষে
বিএসইসিতে যোগদানের পরপরই সংবাদ সম্মেলনে নতুন কমিশনের পরিকল্পনা তুলে ধরেন বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান (বাঁ থেকে তৃতীয়)। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার–বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক ও নবনিযুক্ত তিন কমিশনার উপস্থিত ছিলেন। গতকাল বিকেল চারটায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসির সম্মেলনকক্ষে
 

গতকাল বেলা দুইটার পর অর্থ মন্ত্রণালয় মাসুদ খানকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে। একই সঙ্গে কমিশনের কমিশনার হিসেবে ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা আশা ইন্টারন্যাশনালের ফাইন্যান্সের পরিচালক তানভীর হাবিব রহমান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাহিদ মাহতাব ও ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নাফিজ আল তারিকের নিয়োগের প্রজ্ঞাপনও জারি হয়। তাঁদের চার বছরের জন্য এসব নিয়োগ দেওয়া হয়। পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট বিএসইসির কমিশনের একজন কমিশনার নিয়োগ এখনো বাকি রয়েছে।

বিএসইসির শীর্ষ নেতৃত্বে নতুন এ নিয়োগের আগে গতকাল সকালে পদত্যাগ করে আগের পূর্ণাঙ্গ কমিশন। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে নিয়োগ পাওয়া খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের কমিশনকে গত বুধবারই সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এর আগে সরকার নতুন কমিশন চূড়ান্ত করে। গতকাল দুপুরের পর সেই নিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। ফলে বিএসইসির ১১তম চেয়ারম্যান হলেন মাসুদ খান। গতকাল বেলা সোয়া তিনটার পর তাঁর নেতৃত্বে নতুন কমিশনের সদস্যরা রাজধানীর আগাঁরগাওয়ে বিএসইসি কার্যালয়ে গিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

দায়িত্ব নিয়েই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয় নতুন কমিশন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক। সংবাদ সম্মেলনে নতুন চেয়ারম্যান তাঁর দীর্ঘ লিখিত বক্তব্যে শেয়ারবাজার ঘিরে তাঁদের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

৩০ মিনিটের বেশি সময়ের দীর্ঘ লিখিত বক্তব্যে মাসুদ খান জানান, নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাজারে অযাচিত নিয়ন্ত্রণ কমানো তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি বলেন, যেখানে প্রয়োজন, সেখানে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো এবং যেখানে সম্ভব, সেখানে নিয়ন্ত্রণ সহজ করতে কাজ করবে নবগঠিত কমিশন। সে সঙ্গে ভালো কোম্পানি বাজারে আনতে সরাসরি তালিকাভুক্তির ব্যবস্থার নতুন কাঠামোও তৈরি করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। মাসুদ খান বলেন, ‘আমরা বাজারের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাব। যেখানে প্রয়োজন, সেখানে কঠোর ও স্মার্ট নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। আর যেখানে সম্ভব, সেখানে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে সহজ করে দেওয়া হবে। ধীরে ধীরে বাজারকে সম্পূর্ণভাবে ডিজিটালাইজড করতে কাজ করবে এই কমিশন। এমন একটি কমিশন আমরা গড়ে তুলতে চাই, যেটি হবে প্রযুক্তিনির্ভর। কাজ হবে দ্রুত ও অংশীজনদের জন্য সহজ।’

দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই বাজারের কারসাজি নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, কারসাজিমূলক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে রিয়েল–টাইম বা প্রকৃত সময়ভিত্তিক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কারসাজিকারকদের আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও বেশি শাস্তির মুখোমুখি হবে এবং সেটি হবে রিয়েল–টাইম ব্যবস্থা। কারসাজি নিয়ন্ত্রণে জেড শ্রেণিভুক্ত কোম্পানির ওপর শুরু থেকে বিশেষ নজরদারি করা হবে। বিএসইসির সব ধরনের কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা।

বিএসইসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, শেয়ারের মূল্য নিয়ন্ত্রণ বা বাজারের উত্থান-পতন ঠেকানোর কৃত্রিম কোনো ব্যবস্থা বা পদক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত হবে না কমিশন। শেয়ারের বাজারভিত্তিক ন্যায্যমূল্য যাতে নিশ্চিত হয়, সে লক্ষ্যে কাজ করবে এই কমিশন। এ সময় তিনি আরও বলেন, নতুন কমিশনের দর্শন হচ্ছে প্রথমে স্মার্ট নিয়ন্ত্রণ, তারপর ডিজিটালাইজেশন, ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ধারাবাহিকভাবে স্বচ্ছতা ও সুশাসনের উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

নতুন কমিশন প্রসঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান বলেন, ‘নতুন কমিশনের কাছে আমাদের প্রধান প্রত্যাশা, নষ্ট হয়ে যাওয়া বাজারের ইকো সিস্টেমটা ফিরিয়ে আনা হোক। আমরা চাই শেয়ারবাজার বিনিয়োগের সেই আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গায় ফিরে আসুক। ভালো শেয়ার কিনে দীর্ঘ মেয়াদে কেউ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন। আবার মন্দ শেয়ারের দাপটে ভালো শেয়ারগুলো আস্থা না হারায়। শেয়ারবাজারকে আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গায় ফিরে আসুক। যেখানে বিনিয়োগে আস্থা পাবেন দেশি–বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। ভালো কোম্পানিগুলোও বাজারে আসতে আগ্রহী হবে।’

চট্টগ্রাম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় বা বাজেট অধিবেশন বসতে যাচ্ছে রোববার (৭ জুন)। বিকেল ৩টায় এ অধিবেশন শুরু হবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। 

জাতীয় সংসদ সচিবালয় এ তথ্য জানিয়েছে। এটি নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন।

গত ৭ মে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সংসদ সচিবালয়। 

সংসদ সচিবালয় জানায়, রাষ্ট্রপতির এই আদেশ জারির পর সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে অধিবেশনটি যথাযথভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এই অধিবেশন শুরু হবে। মূলত এই অধিবেশনেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ ও পাস করার কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর জুন মাসে জাতীয় বাজেটের ওপর আলোচনার জন্য সংসদ অধিবেশন বসে, যা বাজেট অধিবেশন হিসেবে পরিচিত। আসন্ন অধিবেশনে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রতিফলন হিসেবে নতুন অর্থবছরের বাজেট পেশ করা হবে এবং এর ওপর সংসদ সদস্যরা বিস্তারিত আলোচনায় অংশ নেবেন। এর আগে গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে। যা শেষ হয় গত ৩০ এপ্রিল। 

 

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব