প্রতিবছর চামড়া পাচারের অভিযোগ শোনা যায় উল্লেখ করে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘আমরা চাই না দেশ থেকে একটি চামড়াও পাচার হোক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর লালবাগের পোস্তা এলাকায় কোরবানির কাঁচা চামড়া কেনা–বেচা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোরবানির চামড়ার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের চামড়াশিল্পকে আরও শক্তিশালী ও রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য। জুলাইয়ের মধ্যে চামড়া খাতের উন্নয়ন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানিসক্ষমতা বাড়ানোর জন্য একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে।

আবদুল মুক্তাদির বলেন, ব্যবসায়ীদের হাতে বিপুল পরিমাণ কাঁচা চামড়া এসেছে। লবণ মাখানোর কার্যক্রমও চলছে। কাঁচা চামড়া সংগ্রহ লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছানো যাবে বলে তিনি আশা করছেন।

দেশে চামড়াজাত পণ্যের বাজার ও রপ্তানির পরিমাণ ১২ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পশুর চামড়া ছাড়ানোর প্রক্রিয়াটিকে আধুনিক ও যন্ত্রনির্ভর করার পরিকল্পনা করছি।’

হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরের পরও অনেক ট্যানারি পুরোপুরি কার্যক্রম চালু করতে পারেনি জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চামড়াশিল্প নগরের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এগুলো সমাধান করে আরও বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারলে দেশের সব চামড়া শিল্পায়নের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে সিইটিপির পরিশোধনসক্ষমতা দৈনিক ২৫ হাজার ঘনমিটার হলেও বাস্তবে তা ১৪ থেকে ১৮ হাজার ঘনমিটারে সীমাবদ্ধ থাকছে। সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে।

এ সময় শিল্পসচিব ওবায়দুর রহমান, বাণিজ্যসচিব (রুটিন দায়িত্ব) আবদুর রহিম খান, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) মহাপরিচালক সাইফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়। বিশ্ববাজারে দাম অনেক বেড়ে গেলে দেশেও গত এপ্রিলের মাঝামাঝি দাম বাড়ানো হয়। এরপর মে মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়। তবে দেশের বাজারে জুন মাসের জন্য তিন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল সরকার।

আজ রোববার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার ১৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, পেট্রলের দাম প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা আর অকটেনের দাম ১৪০ টাকা বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা করা হয়েছে। আজ রাত ১২টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের ইতিহাসে এক লাফে জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ মূল্য বৃদ্ধি হয় ২০২২ সালের আগস্টে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ডিজেলের দাম সাড়ে ৪২ শতাংশ বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করা হয়। যদিও সমালোচনার মুখে একই মাসে ৫ টাকা কমানো হয়েছিল দাম। আর গত এপ্রিলে দাম বৃদ্ধির পর দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে পৌঁছায় জ্বালানি তেল। এখন পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম আরও বাড়ল।

২০২৪ সালের মার্চ থেকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ শুরু করে সরকার। সে হিসেবে আগের মাসে আমাদনি করা জ্বালানি তেলের খরচ বিবেচনায় নিয়ে প্রতি মাসে নতুন দাম সমন্বয় করা হয়। মার্চের মতো এপ্রিলেও শুরুতে দাম অপরিবর্তিত রাখে সরকার। তবে ১৯ এপ্রিল থেকে ডিজেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা ও পেট্রল ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জ্বালানি তেলের মধ্যে উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আর নির্বাহী আদেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম নির্ধারণ করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহে। দেশেও তেলের সরবরাহ নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়। ফিলিং স্টেশনগুলোতে লম্বা লাইন বাড়তে থাকে। তবে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার একদিন পর গত ২০ এপ্রিল থেকে বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানো হয়। এরপর ধীরে ধীরে ফিলিং স্টেশন থেকে ভিড় কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

ঈদুল আজহার পরপরই দেশের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য আসছে বাড়তি খরচের চাপ। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) শিগগিরই বিদ্যুতের নতুন খুচরা মূল্য ঘোষণা করতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গড়ে ২০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে এবং নতুন এই ট্যারিফ জুন মাস থেকেই কার্যকর হবে।

তবে স্বস্তির খবর হলো, নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের জন্য নির্ধারিত ‘লাইফ লাইন’ ক্যাটাগরিতে আপাতত কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। আগের মতোই শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরা বর্তমান সুবিধা বহাল রাখবেন।

বিইআরসির এক কর্মকর্তা জানান, ঈদের ছুটির আগেই মূল্য সমন্বয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাকি। জুন মাস থেকেই নতুন মূল্যহার কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে করা শর্তের অংশ হিসেবে বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে দুই মাস আগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি নিয়ম অনুযায়ী বিইআরসির মাধ্যমে মূল্য নির্ধারণের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গত ২০ ও ২১ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী গণশুনানি আয়োজন করে বিইআরসি। সেখানে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, পিডিবি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা, আরইবি ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নেসকো ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির আবেদন করেছে।

তবে বিইআরসির কারিগরি কমিটি সুপারিশ করেছে, বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিদ্যুতের দাম গড়ে প্রতি ইউনিট ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানো যেতে পারে। কমিশন শেষ পর্যন্ত এই সুপারিশ গ্রহণ করতে পারে বলে জানা গেছে।

বিইআরসির এক কমিশনার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সব পক্ষের মতামত বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ইউনিটপ্রতি মূল্যবৃদ্ধি ১ টাকার কম হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

তিনি জানান, ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম হারে দাম বাড়ানো হবে। এরপর ২০০ থেকে ৪০০ ইউনিট এবং ৪০০ থেকে ৬০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য ধাপে ধাপে মূল্য বৃদ্ধি করা হবে। সবচেয়ে বেশি মূল্যবৃদ্ধির চাপ পড়বে ৬০০ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ওপর।

বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি মাসে জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করা হয় এবং এরই অংশ হিসেবেই সরকার বাধ্য হয়ে জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সোমবার (১ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি একথা জানান।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতি মাসেই জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করা হয়। তবে মে মাসে কোনো সমন্বয় হয়নি, কারণ এপ্রিলেই একটি সমন্বয় করা হয়েছিল। এছাড়া, একান্ত উপায়হীন হলেই সরকার এ ধরনের অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশের জ্বালানি ব্যবহারের সবচেয়ে বড় অংশ ডিজেল, যার পেছনে সরকারকে সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি দিতে হয়। এরপরও সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব কম রাখতে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এলে আমরাও দ্রুত সমন্বয় করার চেষ্টা করবো। জনগণের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা রয়েছে। মানুষের কষ্ট লাঘবে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া হবে।

বিদ্যুতের দাম প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি)। সরকার কমিশনের স্বাধীন ক্ষমতা পুনর্বহাল করেছে এবং বর্তমানে এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমানো হবে। এক্ষেত্রে গ্রাহকদেরও আমরা সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ দিতে পারব।

এছাড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, ঈদের ছুটিতে বিদ্যুতের চাহিদা ৫ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছিলো। তাই লোডশেডিংয়ের কারণ নেই। তবে ঝড়-বৃষ্টির দুর্যোগের কারণে সঞ্চালন লাইনের সমস্যায় কিছু জায়গায় লোডশেডিং করতে হয়েছে।

সদ্য বিদায়ী মে মাসেও দেশে প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্স) বড় ধরনের ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক মে মাসের প্রবাসী আয়ের তথ্য প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, সর্বশেষ গত মাসে যে পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে তা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। গত বছরের মে মাসে ২৯৬ কোটি ৯৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার প্রবাসী আয় এসেছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গত এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ও মার্চে প্রায় ৩৭৫ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছিল। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ও গত ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার প্রবাসী আয় দেশে এসেছিল। ফলে গত ডিসেম্বর থেকে টানা ছয় মাস ধরে তিন বিলিয়ন বা তিন শ কোটি ডলারের বেশি প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। প্রবাসী আয় সংগ্রহে শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক। এরপরই প্রবাসী আয় বেশি এসেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে।

ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর ও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের প্রবাসী বাংলাদেশিরা মার্চ ও এপ্রিল মাসে বেশি অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে মে মাসেও সেই ধারা অব্যাহত ছিল। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে প্রবাসী আয়ে ডলারের দাম বেশি পাওয়া যাচ্ছে। কারণ, দেশে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কিছুটা কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসে দেশে মোট ৩ হাজার ২৭৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলার প্রবাসী আয় এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ শতাংশের বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ২ হাজার ৭৫০ কোটি ৬৯ লাখ ডলার প্রবাসী আয় এসেছিল।

কোন ব্যাংকে কত প্রবাসী আয়

দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। মে মাসে প্রবাসীরা বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে পাঠিয়েছেন প্রায় ২৩৮ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে এককভাবে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় এসেছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। মে মাসে ব্যাংকটির মাধ্যমে এসেছে প্রায় ৫৯ কোটি ২১ লাখ ডলার। আর বেসরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছে ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে, প্রায় ৪১ কোটি ডলার।

এ ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের মাধ্যমে গত মাসে প্রায় ৫৬ কোটি ৬৫ লাখ ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছে অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে, প্রায় সোয়া ২৪ কোটি ডলার। আর বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে প্রায় ৪৭ কোটি ডলার। সার্বিকভাবে প্রবাসী আয় আসার দিক থেকে কৃষি ব্যাংক দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আজ সোমবার দেশের মোট (গ্রস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৭৭ কোটি বা ৩৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবপদ্ধতি বা বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ৩ হাজার ১১ কোটি বা ৩০ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার।

— চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে মোট ৬ কোটি ৯৫ লাখ ডলারের সবজি রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১০% বেশি।

— কাতারে সবজি রপ্তানি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৪০% কমেছে।

— বাংলাদেশি সবজির বড় বাজারগুলো হচ্ছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, ওমান, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র।

ঢাকা

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব