কেপ ভার্দে ফিফা বিশ্বকাপে অভিষেকেই সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে থামিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের চমকে দিয়েছে। নক আউটে উঠে চমকের পর চমক দেওয়া কেপ ভার্দে এখন এক স্বপ্নের নাম। ছোট্ট এক দ্বীপরাষ্ট্র, কিন্তু মাঠে তাদের লড়াইটা হচ্ছে অসাধারণ। চলুন, হাল ফ্যাশনের সঙ্গে ঘুরে আসি আফ্রিকার এই অনন্য দ্বীপে।
[caption id="attachment_277627" align="alignnone" width="760"]
কেপ ভার্দে[/caption]
কেপ ভার্দে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূল থেকে প্রায় ৫৭০ কিলোমিটার দূরে আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত। ১০টি প্রধান আগ্নেয় দ্বীপ ও কয়েকটি ছোট দ্বীপ নিয়ে গঠিত দেশটির মোট আয়তন প্রায় ৪,০৩৩ বর্গকিলোমিটার।
১৪৬২ সালে পর্তুগিজ নাবিকদের মাধ্যমে দ্বীপগুলোর ইউরোপীয় আবিষ্কার ঘটে এবং দীর্ঘদিন এটি পর্তুগালের উপনিবেশ ছিল। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে। রাজধানীর নাম প্রাইয়া। সরকারি ভাষা পর্তুগিজ; তবে স্থানীয়ভাবে কেপ ভার্দিয়ান ক্রেওল ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
দেশটির ভূপ্রকৃতি মূলত আগ্নেয়গিরিজাত। তাই এখানে পাহাড়, শুষ্ক ভূমি এবং আগ্নেয় মাটির আধিক্য চোখে পড়ে। সবচেয়ে উঁচু স্থান হলো পিকো দো ফোগো—একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি।
কেপ ভার্দেতে পৌঁছে প্রথমেই টের পাবেন সমুদ্রের নোনতা বাতাস। চারদিকে আগ্নেয়শিলার পাহাড়, দূরে ঝকঝকে নীল জল—সব মিলিয়ে মনে হবে যেন অন্য এক পৃথিবীতে এসে পড়েছেন।
সংস্কৃতির দিক থেকে দেশটি আফ্রিকান, ইউরোপীয় ও লাতিন প্রভাবের এক অনন্য মিশ্রণ। সংগীত এখানে জীবনের অংশ। বিশেষ করে মোর্না সঙ্গীতধারা বিশ্বজুড়ে পরিচিত, যার কিংবদন্তি শিল্পী ছিলেন সেজারিয়া এভোরা।


ঘুরে দেখার মতো কয়েকটি জায়গা
সমুদ্রপ্রেমীদের স্বর্গ সাল দ্বীপ
সাল দ্বীপে রয়েছে সাদা বালির অপূর্ব সৈকত। সাঁতার, ঢেউয়ের সঙ্গে খেলা কিংবা সূর্যাস্ত দেখা—সবই এখানে অনন্য অভিজ্ঞতা।
আগ্নেয়গিরির দেশ ফোগো
ফোগো পর্তুগিজ ভাষায় যার অর্থ আগুন। এটি কেপ ভার্দের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দ্বীপগুলোর একটি। লক্ষ বছরের পুরোনো সক্রিয় আগ্নেয়গিরির কালো ছাইয়ের ওপর হাঁটতে হাঁটতে মনে হবে যেন অন্য কোনো গ্রহে আছেন।
পাহাড় আর সবুজের মায়ায় ঘেরা সান্তো আন্তাও

সান্তো আন্তাও প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য আদর্শ। সবুজ পাহাড়, গভীর উপত্যকা আর মেঘে ঢাকা পথ পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র মিন্ডেলো
মিন্ডেলো শহর সঙ্গীত ও শিল্পের জন্য বিখ্যাত। সন্ধ্যার পর শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে সুরের আবহ।
কেপ ভার্দের খাবার

দ্বীপরাষ্ট্র হওয়ায় এখানে দারুণ সব সামুদ্রিক খাবার পাওয়া যায়। পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় আছে—
• কাচুপা — ভুট্টা, শিম, সবজি ও মাংস দিয়ে রান্না করা ঐতিহ্যবাহী ঝোলজাতীয় খাবার
• কয়লায় পোড়া টুনা মাছ
• লবস্টার
• বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ
• গ্রোগু — আখ থেকে তৈরি ঐতিহ্যবাহী পানীয়
কেপ ভার্দে জাতীয় ফুটবল দলের ডাকনাম ব্লু শার্কস বা নীল হাঙ্গর। ফুটবল দেশটিতে অত্যন্ত জনপ্রিয়। ছোট দেশ হলেও আফ্রিকান ফুটবলে তাদের অবস্থান ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। তারা একাধিকবার আফ্রিকান কাপ অব নেশন্সে ভালো করেছে।

কেপ ভার্দে ছোট্ট একটি দেশ। কিন্তু তাদের ইচ্ছাশক্তি আর মনোবল যে তাদের প্রকৃতির মতোই দৃঢ়, সেটারই প্রমাণ দিচ্ছে কেপ ভার্দের নীল হাঙ্গররা।
ছবি: ইন্সটাগ্রাম ও উইকিপিডিয়া
নাদিয়া ইসলাম