খুলনায় নানি ও দুই নাতিকে হত্যার ঘটনায় নিহত দুই শিশুর সৎবাবা ট্রাকচালক রফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বিরুদ্ধে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা হয়েছে। আজ রোববার নিহত দুই শিশুর বাবা মাসুম ব্যাপারী বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলাটি করেন। মামলায় তাঁর প্রথম স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে সাক্ষী করা হয়েছে।

সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, সাংসারিক মনোমালিন্যের কারণে প্রায় চার বছর আগে ফাতেমা বেগমের সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে ফাতেমা বেগম ট্রাকচালক রফিকুল ইসলাম হাওলাদারকে বিয়ে করেন। তবে শাশুড়ি বেবি বেগম ওই বিয়ে মেনে নিতে না পারায় তাঁদের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ হতো। বেবি বেগম রফিকুলকে বাসায় আসতেও নিষেধ করতেন। এ কারণেই পরিকল্পিতভাবে বেবি বেগমকে গলা কেটে এবং দুই শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ২৯ মে রাত ১টা থেকে ৩০ মে ভোর ৫টার মধ্যে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের সহযোগিতায় রফিকুল ইসলাম তিনজনকে হত্যা করে পালিয়ে যান। রফিকুল ইসলামের বাড়ি খুলনা নগরের দৌলতপুর থানার মানিকতলা এলাকায়।

এর আগে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় খুলনা নগরের সোনাডাঙ্গা থানার তমিজউদ্দিন সড়কের দারুস আমান মহল্লার একটি ভাড়া বাসা থেকে বেবি বেগম (৫৫), তাঁর নাতি শামীম ব্যাপারী (১৩) ও মুস্তাকিমের (৪) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে বাসার একটি কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশগুলো উদ্ধার করে। প্রথমে বেবি বেগম ও শামীমের লাশ উদ্ধার করা হয়। তখন মুস্তাকিমকে নিখোঁজ মনে করা হচ্ছিল। পরে কক্ষের একটি ওয়ার্ডরোবের তালা ভেঙে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় গোয়েন্দা (ডিবি) ও সিআইডির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, নিহত শামীম ও মুস্তাকিম ফাতেমা বেগমের প্রথম পক্ষের সন্তান। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে ফাতেমা বেগমের দ্বিতীয় স্বামী রফিকুল ইসলাম এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব