ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সোমবার (২৩ মার্চ) ঘোষণা করেছে যে, তারা একযোগে ৭৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি বলেছে, আল-ধাফরা, ভিক্টোরিয়া, পঞ্চম নৌবহর ও কিং সুলতান নামে মার্কিন ঘাঁটিতে ‘কিয়াম’ (তরল জ্বালানি) এবং ‘জুলফিকার’ (সলিড জ্বালানি) ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে হামলা চালানো হয়েছে।

ইসরায়েলের আশকেলন, তেল আবিব, হাইফা ও গুশ দান শহরে সেনাবাহিনীর স্থাপনার উপর ‘খায়বার-শেকান’ এবং ‘কিয়াম’ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়েছে।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য হামলা ৫ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, চলমান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা সমাধানের জন্য ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং আলোচনা সফল হলে সামরিক হামলা স্থগিত রাখা হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক তেলবাজারে অস্থিরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণার পর অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৭ ডলার কমে ৯৬ ডলারে নেমেছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট প্রতি ব্যারেল ১৩ ডলার কমে ৮৫.২৮ ডলারে নেমেছে।

বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে এই প্রণালির কার্যক্রম সীমিত হওয়ায় তেলের বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। ট্রাম্পের স্থগিত ঘোষণার ফলে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন বড় সংঘাতের আশঙ্কা থাকলেও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলছে।