দেশে দীর্ঘদিন গণতন্ত্র না থাকায় অনেকের মধ্যে অসহিষ্ণুতা জন্ম নিয়েছে, এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাণী প্রদর্শনীর এক আয়োজনে দেয়া বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন। তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে পশু-পাখি সুরক্ষায় আইনের সংশোধন আনা হবে। জীব-বৈচিত্র রক্ষায় আইনের চাইতেও সব নাগরিকের সচেতনতা জরুরি। তিনি আরও বলেন, মানুষের পশুত্ব বর্জনই হোক সবার অঙ্গীকার। মানুষের অধিকার রক্ষা করতে পারলে পশু-পাখির অধিকারও রক্ষা করা সম্ভব।
চাঁদপুরে ইলিশের ভরা মৌসুমে সরবরাহ কাঙ্ক্ষিত না হলেও ঘাটে প্রতিদিন মাছ আসছে চার থেকে পাঁচ শত মণ। আর গত চার দিনে দাম বেড়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। এমতাবস্থায় দাম নিয়ে নাখোশ ক্রেতারা, বেশি হওয়ায় কিনতে হিমশিম খাচ্ছে তারা। তাদের দাবি, নাগালের বাইরে থাকায় মাছ ধরাছোঁয়ার বাইরে।
তবে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ অঞ্চলের ইলিশের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু ওইসব মাছ আসলেই কোথায় যাচ্ছে নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না তারা। যদিও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, ইলিশের সরবরাহ বাড়লে রফতানিতে প্রভাব পড়বে না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাঁদপুরের ইলিশ বাজারে ভিড় জমিয়েছেন বিভিন্ন স্থানের পাইকারি ব্যবসায়ীরা। আছেন স্থানীয় ক্রেতারাও। হাঁকডাকে মুখর চারপাশ।
বাজার ঘুরে জানা গেল, কয়েকদিন ধরেই ইলিশের দাম বাড়তি। আকৃতি ভেদে সব মাছের দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।
এক ক্রেতা বলেন, গতকালও যেটা নাগালের বাইরে ছিল, সেটা আজ হঠাৎ দাম বেড়ে গেছে। বিভিন্নজন মাছ কিনছে অথচ কোথায় যাচ্ছে জানি না। অন্য আরেকজন বলেন, বাজারে মাছ থাকলেও দাম আকাশছোঁয়া। সেজন্য চড়া দামে কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ইলিশের এখন ভরা মৌসুম। সরবরাহও বেড়েছে ঘাট থেকে হাটে। তাই রফতানির উদ্যোগও নিয়েছে সরকার। ক্রেতাদের দাবি, এই খবরে দাম বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা।
এদিকে এক খুচরা বিক্রেতা বলেন, রফতানি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। বিভিন্ন পাইকারী ব্যবসায়ীরা মাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছে। সেজন্য বড় মাছের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
তবে ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, ভরা মৌসুম হলেও মিলছে না পর্যাপ্ত মাছ। যোগান বাড়লে রপ্তানিতে প্রভাব পড়বে না।
মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল বারি জমাদার বলেন, মাছের সরবরাহ অনেক কম। এতে মাছের দামে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। তবে সরবরাহ বাড়লে দামে প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছি।
বর্তমানে বাজারে ৫০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১,৫০০ থেকে ১,৮০০ টাকা কেজিতে। এক কেজির বেশি হলেই দাম হয়ে যাচ্ছে ২,৫০০ থেকে ২,৬০০ টাকার ওপরে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে সবগুলো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ এ সংলাপে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ দলগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সংলাপে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলো— অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, গণতান্ত্রিক ধারা রক্ষাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করবেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, চূড়ান্ত জুলাই সনদে এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি সম্বন্ধে কিছু বলা হয়নি। তাই সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি ঠিক করতে আজ ৩০টি রাজনৈতিক দল এবং জোটের সঙ্গে সংলাপে বসছে কমিশন। জুলাই সনদের মূল দাবি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আজকের আলোচনা হতে পারে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তি, জানান সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে মীর মশাররফ হোসেন হলে ভোট দেন ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী শেখ সাদী হাসান এবং ছাত্রশিবির সমর্থিত আরিফ উল্লাহ আদিব।
এসময়য় ছাত্রদলের প্রার্থী প্রশাসনের বিরুদ্ধে একটি ছাত্র সংগঠনের প্রার্থীকে সুযোগ সুবিধা দেয়ার অভিযোগ করেন। কাউকে জেতানোর জন্য অতিরিক্ত ব্যালেট পেপার ছাপানোর অভিযোগও করেন তিনি।
তবে সাধারন শিক্ষার্থীদের ওপর আস্থা রাখতে চান ছাত্রশিবিরের প্রার্থী। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদও প্রকাশ করেন আদিব। নিয়ম ভঙ্গ করে সাবেক শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আনাগোনা করার বিষয়ে কমিশনে অভিযোগ জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে দাবি করেন শিবির সমর্থিত এই ভিপি প্রার্থী।
এদিকে বেগম খালেদা জিয়া হলে ভিপি প্রার্থী সাদিয়া ইসলাম খান কুমু, ফারহানা রহিমান রিথী ভোট দেন। কামালউদ্দিন হলে ভিপি প্রার্থী রাইহান কবির ভোট প্রদান করেন। বাগছাস সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল এবং স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলনের আব্দুর রশিদ জিতু ভোট দেয়ার কথা রয়েছে আল বেরুনি হলে।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫ পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৭৭ জন প্রার্থী। নির্বাচনে বামপন্থি, শিবির, ছাত্রদল ও স্বতন্ত্রদের সমর্থিত মিলিয়ে সর্বমোট আটটি প্যানেল অংশগ্রহণ করছে। বিকাল পাঁচটায় ভোটগ্রহণ শেষ হলে পুরাতন রেজিস্টার ভবনের সিনেট হলে ভোট গণনা হবে।
জুলাই-আগস্ট সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ১৫তম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ আজ।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এদিন হাজির করা হয় আসামি থেকে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে।
এই মামলায় এখন পর্যন্ত শহীদ পরিবার, আহত, চিকিৎসক, প্রত্যক্ষদর্শীসহ মোট ৪৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষীরা সকলেই তুলে ধরেন জুলাই অভ্যুত্থানে নৃশংসতা, বিচার দাবি করেন গণহত্যায় জড়িত সকলের। পাশাপাশি, শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে সকল ঘটনার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে তুলে ধরেন তারা।
এর আগে, গতকাল সাক্ষ্য দেন অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেন।
তিনি জানান ২৪ মার্চ ১৬৪ ধারায় তার কাছে জবানবন্দি দেন আসামি থেকে রাজসাক্ষী হওয়া চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। বলেন, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন সেচ্ছায় অনুতপ্ত হয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। পরে জবানবন্দি দেন মিডফোর্ডের একজন চিকিৎসক।
এরও আগে, ১০ জুলাই শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন।
এবার শারদীয় দুর্গোৎসবে সারাদেশে ৩৩ হাজার পূজা মন্ডপ হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি একথা জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন দিতে হবে। ঢাকায় একটা লাইন করে প্রতিমা বিসর্জন দিতে হবে। কার পরে কে বিসর্জন দেবে এর ধারাবাহিকতা থাকতে হবে। পূজা মন্ডপের নিরাপত্তায় ২৪ ঘণ্টা আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া মন্ডপ কমিটির সদস্যদের মধ্যে থেকে দিনে ৩ জন রাতে ৪ জন করে পুলিশ পাহারায় থাকবে।
উপদেষ্টা বলেন, এবার পূজা আয়োজন কমিটি কোনো ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেনি। গতবার শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন করা হয়েছিল। এবার আরও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন করা হবে।
নিরাপত্তায় বিশেষ অ্যাপসের ব্যবস্থা থাকবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, এই পদ্ধতিতে কোনও ঘটনা থাকলে সাথে সাথে জানানো যাবে। পূজা মন্ডপ ঘিরে যে মেলা হয় সেখানে মাদকের আড্ডা কোন ভাবেই করা যাবে না বলে জানান উপদেষ্টা।
যারা দুস্কৃতিকারী তারা সব জায়গায় সমস্যার সৃষ্টি করতে চাইবে, এমন হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারিও দেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।