আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে অভিষেক ম্যাচ, সেই ম্যাচেই সেঞ্চুরি! সেটাও মাত্র ৫৯ বলে। এখানেই শেষ নয়, যিনি সেঞ্চুরি করেছেন, তাঁর বয়স মাত্র ১৫ বছর ২২৩ দিন!

অবিশ্বাস্য এই কীর্তি গড়েছেন রুয়ান্ডার নারী ক্রিকেট দলের ওপেনার ফ্যানি উতাগুশিমানিন্দে। গতকাল নাইজেরিয়ার লাগোসে ঘানার বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি অভিষেকেই সেঞ্চুরি করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন এই বিস্ময় বালিকা। আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে সেঞ্চুরি করা সবচেয়ে কম বয়সী নারী ক্রিকেটার এখন উতাগুশিমানিন্দে।

৬৫ বলে অপরাজিত ১১১ রানের এই দুর্দান্ত ইনিংসে বাউন্ডারির ফুলঝুরি ছুটিয়ে উতাগুশিমানিন্দে রুয়ান্ডাকে এনে দিয়েছেন ১২২ রানের বিশাল জয়ও। সেঞ্চুরি করতে তাঁর লেগেছে মাত্র ৫৯ বল!
এর আগে নারীদের আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান ছিলেন উগান্ডার প্রসকোভিয়া আলাকো। ২০১৯ সালে মালির বিপক্ষে যখন তিনি সেঞ্চুরি করেন, তাঁর বয়স ছিল ১৬ বছর ২৩৩ দিন।

শুধু তা–ই নয়, নারী টি-টুয়েন্টিতে অভিষেকে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটিও এখন উতাগুশিমানিন্দের দখলে। ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার কারেন রোলটনের ৯৬ রানের রেকর্ডটি প্রায় দুই দশক পর ভেঙে দিলেন এই আফ্রিকান কিশোরী। ছেলেদের ক্রিকেটে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান ফ্রান্সের গুস্তাভ ম্যাককিওন, যাঁর বয়স ছিল ১৮ বছর ২৮০ দিন। অর্থাৎ নারী-পুরুষ মিলিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে এখন কনিষ্ঠতম সেঞ্চুরিয়ান উতাগুশিমানিন্দে।

উতাগুশিমানিন্দের এই উঠে আসার গল্পটাও দারুণ। লর্ডসের বিখ্যাত মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) ফাউন্ডেশনের একটি স্কুল প্রোগ্রামের হাত ধরে তাঁর হাতে ক্রিকেটের খড়ি। রূপকথার মতো এই অভিষেক শেষে বিবিসি স্পোর্টসকে ফ্যানি উতাগুশিমানিন্দে বলেছেন, ‘এটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো। ১৫ বছর বয়সে অভিষেকেই এমন কিছু পাব ভাবিনি। এই অর্জন আমার কঠোর পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসের ফল।’

রুয়ান্ডার কোচ লিওনার্ড নাম্বুরোও বেশ উচ্ছ্বসিত। তাঁর কথা, ‘এই পারফরম্যান্স তার কঠোর পরিশ্রম আর নিবেদনের প্রমাণ। বছরের পর বছর ত্যাগ আর একাগ্রতার ফল এটা। রুয়ান্ডায় উন্নয়নমূলক ক্রিকেট কীভাবে এগোচ্ছে, সেটারও বড় উদাহরণ।’

উগান্ডা

সিডনি শহরের সব স্রোত যেন আজ মিশে গিয়েছিল স্টেডিয়াম অস্ট্রেলিয়ায়। ২০০০ সালের সিডনি অলিম্পিকের সেই ঐতিহাসিক ভেন্যু আরেকবার জেগে উঠল নতুন উন্মাদনায়। মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে ২১তম নারী এশিয়ান কাপের প্রতীক্ষার ফাইনাল ঘিরে যেন উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছিল পুরো অলিম্পিক পার্ক। কিন্তু স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার হলুদ সমুদ্রের গর্জন থামিয়ে জাপান হাসল শেষ হাসি। জয়ের ব্যবধান ১-০।

৮০ হাজার ধারণক্ষমতার স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ। বিকেল থেকেই শহরের নানা প্রান্ত থেকে মানুষের ঢল নেমেছিল অলিম্পিক পার্কে। শহরের আবাসিক এলাকা মিন্টো থেকে ট্রেন ধরতেই বোঝা যাচ্ছিল আজকের দিনটা আলাদা। গ্ল্যানফিল্ড স্টেশনে ট্রেন বদলানোর পর নানা স্টেশন পেরোতে পেরোতে কামরাগুলো যেন হলুদ জার্সির দখলে চলে যায়। দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে এক অস্ট্রেলিয়ান দম্পতির চোখে–মুখে উচ্ছ্বাস আলাদাভাবে চোখ কাড়ে।

দ্বিতীয়বার ট্রেন বদলে লিডকম্ব স্টেশন থেকে মিনিট দশেকের দূরত্বে অলিম্পিক পার্কে পৌঁছাতেই চারদিকে মানুষের ঢল। গ্যালারিতে ঢোকার আগেই আবহ বুঝিয়ে দিচ্ছিল, এটা শুধু একটা ম্যাচ নয়, বড় উৎসবের উপলক্ষও। প্রায় ৯৫ শতাংশ দর্শক অস্ট্রেলিয়ার হলেও নীল জার্সিতে কিছু জাপানি সমর্থকের উপস্থিতিও ছিল নজরকাড়া। প্রেসবক্সে বসে মনে হচ্ছিল, যেন এক বিশাল জনসমুদ্রে ডুবে যাওয়ার মতো অবস্থা। গগনবিদারী চিৎকার, ম্যাচ শুরুর আগের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনেক দিন মনে রাখার মতোই। সব মিলিয়ে পরিবেশ পৌঁছে গিয়েছিল এক অন্য উচ্চতায়।

ম্যাচ শুরুর আগের আনুষ্ঠানিকতা
ম্যাচ শুরুর আগের আনুষ্ঠানিকতা, এএফপি
 

একদিকে জাপান ২০১১ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, ২০১৫ সালের রানার্সআপ। ২০১৪ ও ২০১৮ নারী এশিয়ান কাপ জয়ী। অন্যদিকে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া ২০২৩ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট, ২০১০ এশিয়ান কাপ চ্যাম্পিয়ন। ইতিহাসের দিক থেকে জাপান এগিয়ে থাকলেও শক্তিতে দুই দল ছিল প্রায় সমানে সমান। এই ফাইনাল ছিল দুই ফুটবল–দর্শনের লড়াইও। জাপানের নিখুঁত পাসিং বনাম অস্ট্রেলিয়ার শক্তি ও গতিনির্ভর খেলা।

অস্ট্রেলিয়ার পুরুষ ফুটবল দলকে যেমন সকারুস বলা হয়, তেমনি নারী দলের ডাকনাম ‘মাটিল্ডাস’। গ্যালারির সমর্থনে শুরু থেকেই চাঙা হয়ে উঠেছিল সেই মাটিল্ডাসরা। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৩৫টির বেশি ম্যাচ খেলা ৩২ বছরের অধিনায়ক স্যাম কার সামনে থেকে আক্রমণ সাজাচ্ছিলেন, যিনি ইংলিশ ক্লাব চেলসির বড় তারকা। আর রক্ষণে দৃঢ় ছিলেন হলুদ জার্সিতে ১৪৫টি ম্যাচ খেলা অ্যালানা কেনেডি। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমিয়ে তোলে লড়াই।

কিন্তু ১৭ মিনিটে গ্যালারি নিস্তব্ধ। জাপানের ফরোয়ার্ড মাইকা হামানো বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার এক অসাধারণ শটে পরাস্ত করেন অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষককে। এ বছর ইংলিশ ক্লাব টটেনহাম হটস্পারে ধারে খেলা হামানোর শট গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে দূরের পোস্টে জড়িয়ে যায়। স্টেডিয়াম নীল জার্সির খেলোয়াড়েরা উল্লাসে ফেটে পড়েন।

ফাইনালের একমাত্র গোলটি করার পর  জাপানের ফরোয়ার্ড মাইকা হামানো
ফাইনালের একমাত্র গোলটি করার পর জাপানের ফরোয়ার্ড মাইকা হামানো, এএফপি
 

এই এক গোলই নির্ধারণ করে দেয় ম্যাচের ভাগ্য। তৃতীয়বার এশিয়ান কাপ শিরোপা জেতে জাপান। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের ফাইনালেও জাপানের কাছে অস্ট্রেলিয়া হেরেছিল ১-০ গোলে। ভিয়েতনাম ও জর্ডানের মাটিতে জাপানের কাছে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া হেরে গিয়েছিল বলে এবারের ফাইনালকে প্রতিশোধের ফাইনাল মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু ২০ বছর পর ঘরের মাঠে নারী এশিয়ান কাপ আয়োজন করে চ্যাম্পিয়নশিপ পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন পূরণ হলো না অস্ট্রেলিয়ার।

দ্বিতীয়ার্ধে মরণকামড় দিয়েও জাপানের রক্ষণদেয়াল ভাঙতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। গোল হতে হতেও হয়নি দু-তিনবার। জাপানের গোলকিপার আয়াকা ইয়ামাশিতা ছিলেন দৃঢ়তার প্রতীক। তাঁর দৃঢ়তা এবং গোটা রক্ষণের চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় সিডনি থেকে মুকুট নিয়ে ফিরছে জাপান। সর্বশেষ ৪টি নারী এশিয়ান কাপের তিনটিই জিতে নিল তারা।

অস্ট্রেলিয়ার সুযোগ কিন্তু কম ছিল না। কেইটলিন ফোর্ড একবার জাপানের গোলকিপারের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে ফাঁকা জাল পেয়েও গোল করতে পারেননি। আরেকবার আর্সেনালের এই ফরোয়ার্ডের শট যায় বাইরে। এই মিসগুলোই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়ায় স্বাগতিকদের জন্য।

শেষ দিকে জাপানকে চেপে ধরেছিল অস্ট্রেলিয়া
শেষ দিকে জাপানকে চেপে ধরেছিল অস্ট্রেলিয়া, এএফপি
 

জাপান পুরো টুর্নামেন্টে ছিল দুর্দান্ত। গ্রুপ পর্বে ভারতকে ১১-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে, তিন ম্যাচে করেছে ১৭ গোল। সেমিফাইনালে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে হারায় ৪-১ ব্যবধানে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তর কোরিয়াকে ২-১ এবং সেমিফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন চীনকে একই ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। কিন্তু ফাইনালের নিজেদের উজাড় করে দিয়েও জাপানের কাছে আটকে গেলেন অস্ট্রেলিয়ার মেয়েরা।

জাপানের ড্যানিশ কোচ নিলস নিলসেন ইতিহাস গড়েছেন প্রথম বিদেশি কোচ হিসেবে দলকে শিরোপা জিতিয়ে। পুরো টুর্নামেন্টে তাঁর দল ছিল অপরাজিত। পরিকল্পনা, শৃঙ্খলা আর টেকনিক্যাল দক্ষতায় এগিয়ে থেকেই জাপান ছিনিয়ে নিয়েছে শিরোপা। মাঝমাঠে ইউই হাসেগাওয়ার নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণে হামানোর নৈপুণ্য ছিল জাপানের মূল শক্তি। গোলরক্ষকের কিছু সেভ ম্যাচটিকে শেষ পর্যন্ত জমিয়ে রেখেছিল।

জাপান ও অস্ট্রেলিয়া এর আগে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের ফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিল। দুবারই জাপান ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল। এবারও সেই একই স্কোরলাইন। ইতিহাসের যেন পুনরাবৃত্তি হলো। ১২ বছরের মধ্যে তিনটি ফাইনালে একই পরিণতি অস্ট্রেলিয়ার কাছে আক্ষেপ হয়ে থাকবে অনেক দিন।

ম্যাচশেষে জাপানিদের উল্লাস, অস্ট্রেলীয়দের হতাশা
ম্যাচশেষে জাপানিদের উল্লাস, অস্ট্রেলীয়দের হতাশা, এএফপি
 

দক্ষিণ কোরিয়ার রেফারি কিম ইউর শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠে শুয়ে পড়লেন অস্ট্রেলিয়ার মেয়েরা। আশাভঙ্গের বেদনায় ভেঙে পড়েন তাঁরা। অন্যদিকে নীল জার্সিধারীদের উল্লাস। তবে অলিম্পিক পার্কের এই রাত মনে করিয়ে দিল, শিরোপা এক দলের হলেও জয় আসলে ফুটবলেরই।

ম্যাচটা কি বাংলাদেশের মেয়েরা দেখেছেন? জানা নেই। তবে সিডনিতে ঈদের আবহও মিশে গিয়েছিল এই ফুটবল উৎসবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের কেউ কেউ আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেছেন ম্যাচটি। যদিও বাংলাদেশ দল গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে, তবু প্রথমবার এশিয়ার সেরাদের মঞ্চে এসে আফঈদাদের খেলার অভিজ্ঞতা বড় প্রাপ্তি আর শিক্ষাও।

এক মাসের সিয়াম সাধনার পর বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। আর এই উপলক্ষে ভক্ত-সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি।

রোনালদো লিখেছেন, সবাইকে ঈদ মোবারক! আশা করি পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে তোমাদের দিনটি বিশেষভাবে কাটবে। সবার জন্য শান্তি ও সুখ কামনা করছি।

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি মুসলিম ভক্তের কথা মাথায় রেখে রোনালদোর এই শুভেচ্ছাবার্তা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিভিন্ন দেশ থেকে তার পোস্টে ভক্তরা কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন।

বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের খেলছেন রোনালদো। মধ্যপ্রাচ্যে খেলার সুবাদে মুসলিম সংস্কৃতির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। 

এর আগেও বিভিন্ন উপলক্ষে মুসলিম বিশ্বকে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা গেছে এই পর্তুগিজ তারকাকে। কেবল মাঠের পারফরম্যান্সেই নয়, ভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমেও বিশ্বব্যাপী ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন রোনালদো। যা তাকে ক্রীড়াজগতের বাইরেও এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

 

সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনামের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য আজ ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। স্কোয়াডে নেই কোনো নতুন মুখ। দলে ফিরেছেন বিশ্বনাথ ঘোষ, ফাহমিদুল ইসলাম, আরমান ফয়সাল ও মিরাজুল ইসলাম।

‎সর্বশেষ ২০২৪ সালে ৫ সেপ্টেম্বর ভুটানের বিপক্ষে দেশের জার্সিতে খেলেছিলেন বিশ্বনাথ। চোটের সঙ্গে লড়াই শেষে প্রায় দেড় বছর পর জাতীয় দলে ফিরলেন বসুন্ধরা কিংসে খেলা এই ডিফেন্ডার।

‎ফাহমিদুল, আরমান ও মিরাজুল সর্বশেষ গত নভেম্বর ভারতের বিপক্ষে স্কোয়াডে ছিলেন না। মিরাজুলের অভিষেক হয় ২০২৪ সালে ভুটানের বিপক্ষে। সেটাই দেশের হয়ে তাঁর সর্বশেষ ম্যাচ। আরমান সর্বশেষ খেলেছেন গত বছর এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে হংকংয়ের বিপক্ষে। একই ম্যাচে ছিলেন ফাহমিদুলও। কার্ডের নিষেধাজ্ঞায় ভারতের সঙ্গে ঘরের মাঠে খেলা হয়নি তাঁর।

‎‎বাংলাদেশ স্কোয়াড: গোলকিপার: মিতুল মারমা, সুজন হোসেন, মেহেদী হাসান। ‎‎ডিফেন্ডার: তারিক কাজী, রহমত মিয়া, শাকিল আহাদ, আবদুল্লাহ ওমর, জায়ান আহমেদ, বিশ্বনাথ ঘোষ, সাদ উদ্দিন ‎মিডফিল্ডার: কাজেম শাহ, শেখ মোরছালিন, জামাল ভূঁইয়া, সোহেল রানা, মোহাম্মদ হৃদয়, শমিত সোম, হামজা চৌধুরী ‎ফরোয়ার্ড: আরমান ফয়সাল, সুমন রেজা, শাহরিয়ার ইমন, ফয়সাল আহমেদ, ফাহামিদুল ইসলাম, মিরাজুল ইসলাম।

৩১ মার্চ এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তার আগে ২৬ মার্চ ভিয়েতনামের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে হাভিয়ের কাবরেরার দল। আজ রাতেই জামালদের ভিয়েতনামের বিমান ধরার কথা।

‎‎‎এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ আগেই শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশের। বাছাইপর্বে এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে একটি জয় বাংলাদেশের, সেটি গত নভেম্বর ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে। অন্য চার ম্যাচে দুই জয়, দুই ড্র। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৫।

বার্সেলোনা ৭-২ নিউক্যাসল ইউনাইটেড

ম্যাচে তখন ৬১ মিনিট। নিউক্যাসলের পোস্টে গোলকিপার অ্যারন রামসডেলের চোখেমুখে হতাশা। ছয়টি গোল হজম করেছেন, একবারের জন্যও দেয়াল হতে পারেননি। রামসডেলের আসলে একটিবারের জন্যও কিছুই করার ছিল না। বার্সেলোনা সেই ফাঁক রাখেনি।

৭২ মিনিটের পর রামসডেলের হতাশা অ্যান্থনি এলাঙ্গাদের চোখেমুখেও স্পষ্ট হলো। আরেকটি গোল করেছে বার্সা। ক্যাম্প ন্যুর গ্যালারিতে স্বাগতিক সমর্থকেরা কণ্ঠে গানের সুর। সেটা কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার কি না বোঝা গেল না, তবে তাতে কোনো সন্দেহও ছিল না। মানে বার্সার কোয়ার্টার ফাইনাল ততক্ষণে নিশ্চিত।

অথচ পাঁচ গোলের প্রথমার্ধ শেষেও অনিশ্চয়তার দোলাচলে ছিল দুই দল। বার্সা এগিয়ে ছিল ৩-২ গোলে, তবু প্রথমার্ধে তাঁদের এক ইঞ্চি ছাড় দেয়নি নিউক্যাসল। বিরতির পর এডি হাউয়ের দলের কী হলো কে জানে, হজম করে বসল আরও চার গোল!

জোড়া গোল করেন বার্সা স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডফস্কি
জোড়া গোল করেন বার্সা স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডফস্কিউয়েফা

ঘরের মাঠ সেন্ট জেমস পার্কে প্রথম লেগ ১-১ গোলে ড্রয়ের পর ক্যাম্প ন্যুর ফিরতি লেগে নিউক্যাসলের হারটা তাই প্রথমে দারুণ লড়েও শেষে অসহায় আত্মসমর্পণের মতো। শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার আগে ফিরতি লেগে ইংলিশ ক্লাবটির হারের ব্যবধান ৭-২। দুই লেগ মিলিয়ে ৮-৩ গোলের জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল বার্সা।

ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল দারুণ দাপট দেখিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। শেষ ষোলোর ফিরতি লেগে তারা ২-০ গোলে বায়ার লেভারকুসেনেকে হারিয়েছে। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে মিকেল আর্তেতার দল।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে এমিরেটস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় আর্সেনালকে। যদিও বল দখলে ৫৯ শতাংশ সময় এগিয়ে ছিল লেভারকুসেন, তবে কার্যকর আক্রমণে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল স্বাগতিকদের। ২০টি শটের মধ্যে ১৩টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয় তারা, যেখানে লেভারকুসেনের ১০ শটের মধ্যে মাত্র দুটি ছিল অন টার্গেটে।

ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে ডেডলক ভাঙে আর্সেনাল। লিয়েন্দ্রো ট্রোসার্ডের বাড়ানো পাস থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করেন এবরেশি এজে। এটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তার প্রথম গোল। গ্রীষ্মকালীন দলবদলে যোগ দেওয়ার পর চলতি মৌসুমে এটি তার নবম গোল।

দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাইস। ৬৩তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার শক্তিশালী শট পোস্ট ঘেঁষে জালে জড়ায়। এরপর গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে লেভারকুসেন, কিন্তু আর্সেনালের দৃঢ় রক্ষণ ভেদ করতে ব্যর্থ হয় তারা।

ফলে ২-০ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে এবং অ্যাগ্রিগেটে ৩-১ গোলের জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্সেনাল।

 

শেষ ওভারে পাকিস্তানের দরকার ছিল ১৪ রান। বাংলাদেশের বোলার ছিলেন রিশাদ হোসেন।

নিজের প্রথম ৬ ওভারে ৫৪ রান দেওয়া এই স্পিনার শেষ ওভারে করলেন সেরা বোলিংটা। কোনো বাউন্ডারি তো হজম করেনইনি, দিয়েছেন মাত্র ২ রান। এমনকি শেষ বলে স্টাম্পড আউট করেছেন শাহিন আফ্রিদিকেও, যিনি আগের ওভারেই মোস্তাফিজকে দুটি ছক্কা মেরেছেন।

শেষের এমন দুর্দান্ত সমাপ্তিতে পাকিস্তানকে ২৭৯ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ ম্যাচ জিতেছে ১১ রানে। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৮ উইকেটের জয় থাকায় বাংলাদেশ তিন ম্যাচের সিরিজটা জিতেছে ২–১ ব্যবধানে।

বাংলাদেশের জয়ের আনন্দ
বাংলাদেশের জয়ের আনন্দ
 

বাংলাদেশের আজকের জয়ের নায়ক দুজন। ব্যাট হাতে তানজিদ হাসান, বল হাতে তাসকিন আহমেদ। তানজিদের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে চড়ে বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৯০ রানের পুঁজি গড়ে।

এরপর বল হাতে পাওয়ারপ্লেতেই পাকিস্তানকে বড় ধাক্কা দেন তাসকিন। নিজের প্রথম দুই ওভারে তুলে নেন দুই উইকেট। ইনিংসের প্রথম তিন ওভারে তিন উইকেট হারানো পাকিস্তান সালমান আগার ব্যাটে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলে। ৪৮তম ওভারে এই সালমানকে ফিরিয়েই (১০৬ রান) বাংলাদেশের জয়ের পথ পরিষ্কার করেন তাসকিন। এর আগে ফাহিম আশরাফকে ফিরিয়ে ভাঙেন একটি বড় জুটিও। সব মিলিয়ে ৪ ওভারে ৪৯ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন এই পেসার। তবে ম্যাচসেরার স্বীকৃতি উঠেছে স্কোরবোর্ডে ভালো পুঁজি এনে দিতে মূল ভূমিকা রাখা তানজিদই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৯০/৫ (তানজিদ ১০৭, হৃদয় ৪৮*, লিটন ৪১, সাইফ ৩৬, নাজমুল ২৭; রউফ ৩/৫২)।
পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ২৭৯ (সালমান ১০৬, মাসুদ ৩৮, আফ্রিদি ৩৭, সামাদ ৩৪; তাসকিন ৪/৪৯, মোস্তাফিজ ৩/৫৪, নাহিদ ২/৬২)।
ফল: বাংলাদেশ ১১ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: তানজিদ হাসান।
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ২–১ ব্যবধানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য সিরিজ: তানজিদ হাসান ও নাহিদ রানা।
 
 

আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্ট শুরুর তারিখ ঘোষণা হলেও আপাতত হচ্ছে না নারী বিপিএলের প্রথম আসর। তিন দল নিয়ে ৪ এপ্রিল থেকে টুর্নামেন্টটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। এখন তা আগামী জুলাইয়ে নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পর আয়োজন করার কথা বলছে বিসিবি।

নারী বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য ইফতেখার রহমান বলেন, ‘ ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো আমাদেরকে জানিয়েছে, প্যাড-হেলমেটসহ অন্য সরঞ্জাম আনার জন্য তাদের হাতে যথেষ্ট সময় নেই। সব মিলিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি নারী বিপিএল পিছিয়ে দেওয়ার।’

তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজির স্বত্ব বিক্রির জন্য দুই দফায় আবেদনের সময় বাড়ায় বিসিবি। ৮ মার্চ পর্যন্ত সময় বাড়ালেও দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি চূড়ান্ত করতে পারে বিসিবি। ছেলেদের বিপিএলের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের স্বত্বাধিকার নাবিল গ্রুপ ও চট্টগ্রামের কন্টিনেন্টাল গ্রুপ দল নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। তবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ থাকলেও অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিটি চূড়ান্ত করতে পারেনি বিসিবি।

পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছিল, বগুড়া-চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে এ বছরের ১০ থেকে ২১ জুলাই হবে তিন দলের নারী বিপিএল। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় সম্ভাব্য ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে বিসিবি এই টুর্নামেন্ট পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নতুন সূচিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের পাওয়া সহজ হবে বলেও মনে করে বিসিবি। তারা জানিয়েছে, বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আগামী ১০ জুলাই শুরু হবে নারী বিপিএল। চট্টগ্রাম হয়ে আগামী ২১ জুলাই ঢাকায় হবে নারী বিপিএলের ফাইনাল।

সাইফ হাসানের আউটটা ভুলে যান। ১১৪ রান তাড়া করে জেতার ম্যাচে একটা উইকেট হারানো বিচলিত হওয়ার মতো কিছু নয়। আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান আর তিনে নামা নাজমুল হোসেন মিলে কী করলেন দেখলেন তো! ৫০ ওভারের ক্রিকেটকেই যেন বানিয়ে ফেললেন টি–টোয়েন্টি!

জয় যখন দৃষ্টিসীমায়, তখন এমন সাহসী হয়ে ওঠার জন্য বাড়তি কোনো প্রেরণা লাগে না। তবে ইফতারের আগে খেলা শেষ করতেই জয়ের সময়টাকে কমিয়ে আনতে তাড়িত হলেন কি না বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা, সেই খোঁজ নেওয়া যেতে পারে।

শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছে। তানজিদ–নাজমুলের চার–ছক্কাগুলো ইফতার বিরতির আগেই শেষ করে দিয়েছে খেলা। পাকিস্তানের ৩০.৪ ওভারে করা মাত্র ১১৪ রান বাংলাদেশ টপকে গেছে ১৫.১ ওভারেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে এত বেশি ওভার হাতে রেখে জয় এটাই প্রথম বাংলাদেশের। ৮ উইকেটের জয়ও উইকেটের ব্যবধানে সর্বোচ্চ, তবে পাকিস্তানকে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে হারিয়েছে আগেও।

 

১০ ওভার একসঙ্গে থেকে দ্বিতীয় উইকেটে ৮২ রানের জুটি হয়েছে তানজিদ–নাজমুলের। ৫ বাউন্ডারিতে ৩৩ বলে ২৭ রান করে নাজমুল আউট হয়ে গেলেও পাঁচ ছক্কা আর সাত বাউন্ডারিতে তানজিদ অপরাজিত ছিলেন ৪২ বলে ৬৭ রান করে। দলের ১০৯ রানে নাজমুল আউট হয়ে গেলে শেষাংশে তানজিদকে সঙ্গ দেন লিটন দাস। দুজন মিলে ঠিক ইফতারের মুহুর্তে জয় নিশ্চিত করে শেষ করে দেন খেলা। যদিও জয়সূচক রানটা এসেছে মোহাম্মদ ওয়াসিমের ওয়াইড বল থেকে।

 পাঁচ ছক্কা আর সাত বাউন্ডারিতে তানজিদ (বাঁ থেকে দ্বিতীয়) অপরাজিত ছিলেন ৪২ বলে ৬৭ রান করে।
পাঁচ ছক্কা আর সাত বাউন্ডারিতে তানজিদ (বাঁ থেকে দ্বিতীয়) অপরাজিত ছিলেন ৪২ বলে ৬৭ রান করে।
 

খেলার শেষটা দিয়ে লেখার শুরু হলো বটে, তবে আসলে খেলার শুরুটাই দিয়েছিল দ্রুত ম্যাচ শেষের বার্তা। শুরু বলতে অবশ্য পাকিস্তান ইনিংসের প্রথম ৯ ওভার নয়। ওই পর্যন্ত কোনো উইকেট হারায়নি শাহীন আফ্রিদির দল, করেছিল ৩৫ রান। নতুন বলে বাংলাদেশের দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান পারেননি পাকিস্তানের ওপেনিং জুটিতে ভাঙন ধরাতে।
কিন্তু দশম ওভারে বোলিংয়ে এসে ইনিংসের ১৮তম ওভার পর্যন্ত আরেক পেসার নাহিদ রানা যে আগুনের গোলা ছুঁড়ে গেলেন মিরপুরের উইকেটে, সেটাই যথেষ্ট হলো পাকিস্তানকে কাঁপিয়ে দিতে।

নিজের প্রথম পাঁচ ওভারের প্রত্যেক ওভারেই একটি করে উইকেট নিয়ে নাহিদ নিয়েছেন ৫ উইকেট। শেষ দুই ওভারে উইকেট পাননি, যদিও সপ্তম ওভারে পেতে পারতেন ফাহিম আশরাফের উইকেটও। তাঁর এলবিডব্লুর আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার, অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও নেননি রিভিউ। কিন্তু টিভি রিপ্লেতে পরে গেছে, রিভিউ নিলে নাহিদের নামের পাশে যোগ হতে পারত আরও একটি উইকেট।

 

টসে জিতে বোলিং নিয়ে মিরাজ বলেছিলেন, বোলিংই তাঁর মূল শক্তি। প্রথম ১০ ওভারের মধ্যে কিছু উইকেট ফেলে দিতে পারলে ভালো হয়। বোঝাই যাচ্ছে, অধিনায়ক নিজেও তখন কল্পনা করেননি আসলে কী হতে যাচ্ছে।

প্রথম ১০ ওভারে পাকিস্তানের উইকেট পড়েনি একটিও। তবে এরপরই শুরু ওই ‘নাহিদ শো’র। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে মিরাজ বল দেন নাহিদের হাতে। ওভারের শেষ বলে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে সাহিবজাদা ফারহানের আউটে প্রথম উইকেট পায় বাংলাদেশ। ইনিংসের ১২তম ওভারে নাহিদের দ্বিতীয় শিকার শামিল হোসেন। অভিষিক্ত শামিল অবশ্য আগের ওভারেই জীবন পেয়েছিলেন। নাহিদের শর্ট লেংথের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ তিনি।

আরেক ওপেনার মাজ সাদাকাত থিতু হওয়ার চেষ্টা করছিলেন অন্যপ্রান্তে। নাহিদ সুযোগ দেননি তাঁকেও। ১৪তম ওভারে শর্ট বলে মাজ সাদাকাত পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দেন সাইফ হাসানের হাতে।

৩ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ
৩ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ
 

৫৫ রানে ৩ উইকেট নেই, বাংলাদেশের হাতে চলে আসে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ। নাহিদ তাঁর পরের দুই ওভারেও মোহাম্মদ রিজওয়ান আর সালমান আগাকে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে ছিটকে দেন ম্যাচ থেকেই। পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হওয়াটা হয়ে দাঁড়ায় তখন কেবলই সময়ের ব্যাপার।

নাহিদের ছায়ায় ঢাকা পড়ে গেলেও অধিনায়ক মিরাজও ৩ উইকেট নিয়েছেন ১০ ওভারে ২৯ রান দিয়ে। অন্য দুটি উইকেট দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের।

২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ২০ দলের জন্য আইসিসির মোট প্রাইজমানি ছিল ১ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। ভারতীয় রুপিতে অঙ্কটা ১২৩ কোটি ৯৫ লাখ রুপি (প্রায় ১৬৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা) প্রায়। ভারত গত পরশু এ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রাইজমানি হিসেবে পায় ৩০ লাখ ডলার। ভারতীয় রুপিতে এই অঙ্কটা প্রায় ২৭ কোটি ৫৪ লাখ রুপি।

সূর্যকুমার যাদবের দল আর্থিক পুরস্কার পাচ্ছে আরও। আজ তাদের জন্য ১৩১ কোটি রুপি (প্রায় ১৭৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকা) আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। অর্থাৎ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে আইসিসির মোট প্রাইজমানির চেয়েও বেশি আর্থিক পুরস্কার সূর্যকুমারদের দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিসিসিআই।

আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে গত পরশু নিউজিল্যান্ডকে ফাইনালে ৯৬ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। প্রথম দল হিসেবে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনটি ট্রফি জেতার পাশাপাশি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এবার শিরোপাও ধরে রাখল ভারত। পাশাপাশি প্রথম স্বাগতিক দল হিসেবেও তারা চ্যাম্পিয়ন হলো। এ সাফল্য উদ্‌যাপনে বিসিসিআই রীতিমতো ইতিহাসই গড়েছে। সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, ভারতীয় ক্রিকেটে এটাই সবচেয়ে বড় আর্থিক পুরস্কার।

ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত
ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারতএএফপি

বার্বাডোজে ২০২৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে রোহিত শর্মাদের ১২৫ কোটি রুপি অর্থ পুরস্কার দিয়েছিল বিসিসিআই। গত বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ে ৫৮ কোটি রুপি অর্থ পুরস্কার পেয়েছিলেন ভারতের খেলোয়াড়রা। গত বছর নারী বিশ্বকাপ জয়ে খেলোয়াড়দের ৫১ কোটি রুপি অর্থ পুরস্কার দেয় বিসিসিআই।

বিসিসিআইয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আইসিসি ২০২৬ ছেলেদের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে ভারত দলকে ১৩১ কোটি রুপি অর্থ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিসিসিআই। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা জেতে ভারত। সফলভাবে শিরোপা ধরে রাখার মধ্য দিয়ে এই টুর্নামেন্টে প্রথম দল হিসেবে ছেলেদের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ট্রফিও ধরে রাখল তারা। পাশাপাশি আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে তিনবার শিরোপা জিতল ভারত, যা এ সংস্করণের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দলগুলোর একটি হিসেবে তাদের অবস্থান আরও শক্ত করল।’

বাংলাদেশ ০ : ৪ উজবেকিস্তান

চীন ও উত্তর কোরিয়ার পর উজবেকিস্তানের কাছেও হেরে শেষ হলো বাংলাদেশের এশিয়ান কাপ। আজ পার্থে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ হেরেছে ৪-০ গোলে। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে কোণঠাসা হয়ে থাকা বাংলাদেশ আজ তুলনামূলক ইতিবাচক ফুটবল খেলেছে।

পাশাপাশি গোলের বেশ কিছু সুযোগও তৈরি করেছে তারা। শেষ পর্যন্ত অবশ্য গোলের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। উজবেকিস্তানের হয়ে জোড়া গোল করেছেন দিলদোরা নোজিমোভা। অন্য গোল দুটি করেছেন দিয়োরাখোন খাবিবুল্লায়েভা ও নিলুফার কুদ্রাতোভা। এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে টিকিট কাটল উজবেকিস্তান।

 
চীনের বিপক্ষে ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও ঋতুপর্ণা চাকমার বক্সের বাইরে থেকে শট নিয়ে চমক দেখিয়েছেন। কিন্তু তাঁর সেই শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন উজবেকর গোলরক্ষক মাফতুনা জনিমকুলোভা। প্রথম দুই ম্যাচের মতো এই ম্যাচে কয়েকটি গোল বাঁচিয়েছেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক মিলি আক্তার। যদিও তাতে শেষ রক্ষা হয়নি। নৈপুণ্য দেখালেও তিন ম্যাচে মিলি গোল হজম করেছেন ১১টি।

আজ পার্থে শুরু থেকে প্রতি-আক্রমণে জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। কিন্তু গতি ও শক্তিতে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সুবিধা করতে পারছিল না। এর মধ্যে ম্যাচের ১০ মিনিটে গোল পিছিয়েও পড়ে বাংলাদেশ। তবে এরপরও দ্বিতীয় গোলের জন্য উজবেকদের বাংলাদেশ অপেক্ষায় রাখে ৬২ মিনিট পর্যন্ত। কিন্তু দ্বিতীয় গোলের পরই যেন ভেঙে পড়ে বাংলাদেশ দল। ৬২ থেকে ৯০ মিনিটের মধ্যে সব মিলিয়ে তিন গোল হজম করে পিটার বাটলারের দল।

এর ফলে বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সুযোগও শেষ হয়ে গেল। অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরতে হচ্ছে শূন্য হাতেই।