লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠকে জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে সেনাবাহিনীর পরবর্তী প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ভারত সরকার। আজ শনিবার এ নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেনাবাহিনীর সহপ্রধান (ভাইস চিফ অব আর্মি স্টাফ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ৩০ জুন বিকেল থেকে এই নিয়োগ কার্যকর হবে। ওই দিন বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী অবসরে যাবেন। এরপরই ধীরাজ শেঠ দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
ওই পোস্টে আরও বলা হয়, ন্যাশনাল ডিফেন্স একাডেমির প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও আর্মার্ড কোরের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেঠের রয়েছে প্রায় চার দশকের গৌরবময় কর্মজীবন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি বিভিন্ন অপারেশনাল ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে কমান্ড, স্টাফ ও কৌশলগত নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, নিজের এই বর্ণাঢ্য সামরিক ক্যারিয়ারে জেনারেল শেঠ বিস্তৃত পরিসরে বিভিন্ন অভিযান, কমান্ড ও কৌশলগত পদে দায়িত্ব পালন করেন।
ধীরাজ শেঠের বর্ণাঢ্য পেশাগত জীবন
দীর্ঘ কর্মজীবনে এই জেনারেল বিভিন্ন সামরিক ইউনিট ও ফরমেশনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর মধ্যে ডেজার্ট সেক্ট একটি আর্মার্ড রেজিমেন্ট এবং পশ্চিমাঞ্চলে একটি আর্মার্ড ব্রিগেডের কমান্ডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছেন ধীরাজ শেঠ। এ ছাড়া জম্মু ও কাশ্মীরে বিদ্রোহী দমনে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই সেনা কর্মকর্তা।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল হিসেবে ধীরাজ শেঠ ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান স্ট্রাইক ফরমেশন ‘সুদর্শন চক্র কোর’-এর নেতৃত্ব দেন। পরে ‘জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, দিল্লি এরিয়া’ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সামরিক বিষয়াবলি তদারক করতেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানায়, সেনা কমান্ডার হিসেবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ সাউথ ওয়েস্টার্ন এবং সাউদার্ন—উভয় কমান্ডেরই নেতৃত্ব দিয়েছেন। দুটি অপারেশনাল আর্মি কমান্ডের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ খুব কম কর্মকর্তাই পান; তিনি তাঁদেরই একজন। আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে তিনি গুরুত্বপূর্ণ রণাঙ্গনগুলোতে কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি অপারেশনাল পরিকল্পনা, বাহিনী পরিচালনা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তিনি অসামান্য অবদান রাখেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করেছে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। কৌশলগত পরিকল্পনা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে থেকে তিনি এ কাজে নেতৃত্ব দেন। মূলত ভবিষ্যৎ যুদ্ধক্ষেত্র এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে অভিযানের সমন্বয়ের চাহিদার ওপর তিনি সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, পেশাগত সামরিক শিক্ষায়ও তিনি দারুণ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি ‘হায়ার কমান্ড কোর্স’ ও ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ’ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। এ ছাড়া তিনি প্যারিসের মর্যাদাপূর্ণ ‘কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কোর্সেও’ অংশ নিয়েছেন।