মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ ভারত বিবেচনা করছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল আজ বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ এই ধরনের অনুরোধ করেছে বলে জানান রণধীর জয়সোয়াল। তিনি বলেন, ভারতের প্রয়োজন এবং শোধনাগারের ক্ষমতা খতিয়ে দেখে সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং পাল্টায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের হামলা চলছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব, কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তা ছাড়া বিশ্ববাণিজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে।

এই যুদ্ধ দীর্ঘদিন ধরে চললে জ্বালানি–সংকট তীব্র হবে। সেই সংকট থেকে বাঁচতে বাংলাদেশ সরকার ভারতকে অতিরিক্ত ডিজেল পাঠানোর অনুরোধ করেছে। গতকাল বুধবার ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে ওই অনুরোধ জানানো হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। জানতে চাওয়া হয়, কোভিডের সময় ভারত তার নিকট প্রতিবেশীদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছিল। এবার পশ্চিম এশিয়ার লড়াইয়ের ফলে বিভিন্ন দেশে প্রতিবেশীদের আটকে থাকা নাগরিকদের উদ্ধার করা কিংবা জ্বালানি সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ বা অন্যরা ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে কি না।

প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ভারত প্রতিবেশী দেশগুলোতে বড় আকারে পরিশোধিত পেট্রো পণ্য রপ্তানি করে থাকে। বাংলাদেশ অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহ করার জন্য ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে। সেই অনুরোধ বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে গতকাল সচিবালয়ে দেখা করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। সেই সাক্ষাতের পর দুই দেশের পক্ষ থেকেই গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জানানো হয়েছিল, বাংলাদেশ অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে। আজ জয়সোয়াল জানান, সেই অনুরোধ বিবেচনাধীন।

আজকের ব্রিফিংয়ে আরও দুটি বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে। শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার আসামিদের বাংলাদেশে বিচারের জন্য ফেরত পাঠানো হবে কি না বা তাঁদের সঙ্গে কথা বলার জন্য বাংলাদেশি কর্তাদের অনুমতি দেওয়া হবে কি না—জানতে চাওয়া হলে জয়সোয়াল সরাসরি কোনো জবাব দেননি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে যা বলা হয়েছে তার বাইরে বাড়তি কিছু বলার নেই। দ্বিতীয় প্রশ্নটি ছিল, বাংলাদেশের ডিজিএফআই প্রধানের ভারতে আসা ও ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করা নিয়ে। উত্তরে রণধীর জয়সোয়াল শুধু বলেন, ডিজিএফআই প্রধান ভারতে এসেছিলেন। রাইসিনা ডায়ালগের অবসরে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি কথা বলে থাকতে পারেন।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব