সিডনির জুবলি স্টেডিয়ামে তখনো সকালের মিষ্টি রোদ। তার মধ্যেই বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অনুশীলন, সবার মধ্যে ভালো কিছু করার তাড়না। সামনে পাহাড়সম প্রতিপক্ষ ৯ বারের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন চীন।

আগামী মঙ্গলবার সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এই মঞ্চে ভালো কিছু করতে পারলে বাংলাদেশের মেয়েদের সামনে বিশ্ব ফুটবলের দরজা খুলে যাবে বলে মনে করেন দলের গোলকিপার কোচ মাসুদ আহমেদ।

আজ অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মাসুদ আহমেদ বলেন, ‘ভয় নয়, বরং মেয়েরা উজ্জ্বীবিত হয়ে আছে। আমরা এই মঞ্চে এসেছি, এখন আমাদের নিজেদের প্রমাণ করার সময়। এখানে এশিয়ার মঞ্চে ভালো কিছু করতে পারলে ওদের সামনে বিশ্বের অনেক জায়গায় দরজা খুলে যাবে। তাই মেয়েরা সবকিছু ইতিবাচকভাবে নিচ্ছে। ওরা চাপ মনে করছে না। যেটা আমাদের খুব আশা দেখাচ্ছে।’

সাবেক চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে বাংলাদেশের গোলকিপারদের স্নায়ুচাপ সামলানো নিয়ে এই কোচের কথা, ‘এমন আসরে বড় দল ছোট দল বলতে কিছু নেই। টেকনিক্যালি যে সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হই বাংলাদেশের মেয়েদের নিয়ে, সেগুলোর ওপর জোর দিচ্ছি। ওরা যদি মূল বিষয়গুলো ঠিক রাখে, তাহলে মিস করার চান্স কম। সারা বছর ধরে আমরা যে বিষয়গুলো শিখেছি, তা যদি মাঠে করতে পারি, তাহলে আমাদের ভুলভ্রান্তি কম হবে। আর ভুলভ্রান্তি কম হলে গোল খাওয়ার শঙ্কা কমে আসবে।’

গোলকিপার কোচ মাসুদ আহমেদ ও গোলকিপার রুপনা চাকমা। ছবিটি ২০২৩ সালের
গোলকিপার কোচ মাসুদ আহমেদ ও গোলকিপার রুপনা চাকমা। ছবিটি ২০২৩ সালের, ছবি: সংগৃহীত
 

চীনের আক্রমণভাগকে সামলানো যে কতটা কঠিন হবে, তা ভালো করেই জানা বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টের। তবে বসে নেই কোচরা। মাসুদ বলছিলেন, ‘আমরা যখন এশিয়ান কাপের চূড়ান্তপর্বে কোয়ালিফাই করেছি, যখন গ্রুপিং হয়েছে, তখন থেকেই চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তান নিয়ে আমাদের কাজ হচ্ছে। প্রতিনিয়ত আমরা তাদের ম্যাচ দেখছি, ওদের শক্তি-দুর্বল দিকগুলো নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি।’ কোচ যোগ করেন, ‘এমনকি আজকের অনুশীলন সেশনও প্রতিটি বিভাগে সব খেলোয়াড়কে তাদের দায়িত্ব বোঝানোর চেষ্টা করেছি। আমরা যদি প্রতিটি বিষয় সঠিকভাবে করতে পারি, আমাদের ভুল হওয়ার আশঙ্কা কম থাকবে এবং বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে আমরা বেঁচে যাব।’

মাঠে চীনের ঝোড়ো আক্রমণ সামলাতে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষা দিতে হবে গোলকিপারদের। মূল গোলকিপার হিসেবে রুপনা চাকমা থাকবেন পোস্টের নিচে। দূরপাল্লার শট রুখতে ভূমিকা রাখতে হবে অন্যদেরও। এ প্রসঙ্গে কোচের কথা, ‘দূরপাল্লার শটের প্র্যাকটিসটা অনেক আগে থেকে করছি। গ্রুপিং হওয়ার পর থেকে দেখেছি চীন কোত্থেকে অন টার্গেট শুটিং করে বা কোন কোন এঙ্গেল থেকে কীভাবে ফিনিশিং টাচগুলো করে। তাই ওগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। ভালো কাজও হয়েছে। দূরপাল্লার শটে আমার মনে হয় না খুব একটা সমস্যা হবে।’

চীন, উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে বড় চ্যালেঞ্জ গোলকিপারদের সামনে
চীন, উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে বড় চ্যালেঞ্জ গোলকিপারদের সামনে, বাফুফে
 

বাংলাদেশ দল দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ টুর্নামেন্ট সাফ জিতেছে দুবার। এবার এশিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচে ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষেও কি অসাধ্যসাধন করতে পারবে বাংলাদেশ—এমন প্রশ্নে গোলকিপার কোচ বলেন, ‘আমাদের এই মেয়েগুলোকে নিয়ে অনুমান করা খুবই কঠিন। আপনারা চিন্তাও করতে পারবেন না ওরা কার সঙ্গে কী করে ফেলবে। আমি যতটুকু দেখছি, এই অনুশীলন সেশনগুলোয় ওরা খুবই ইতিবাচক। ওদের মনে ভয় কাজ করে না।’

তবে এটা ঠিক, চীনের বিপক্ষে ম্যাচটি বড় সুযোগের নামও। গোলকিপার কোচের ভাষায়, ‘আসলে এই মঞ্চে আমরা সমস্যার মুখোমুখি হব—এটা মাথায় নিয়েই এখানে এসেছি। এখন এ পর্যায়ে যদি সমস্যার মুখোমুখি হই, এটা নিয়ে ভবিষ্যতে কাজ করার সুযোগ পাব। এই মঞ্চে আসতে না পারলে তো সম্যাটা বুঝতে পারব না। ওটা ইতিবাচকভাবে নিচ্ছি এবং মেয়েরাও ইতিবাচকভাবে নিচ্ছে।’

সিডনির মাঠে মঙ্গলবার বাংলাদেশ কতটা রুখে দাঁড়াতে পারে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব