থাইল্যান্ডের সেই বিলাসবহুল ভিলা, নিথর পড়ে থাকা ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা লেগ স্পিনার এবং স্তব্ধ ক্রিকেট–বিশ্ব!
২০২২ সালের ৪ মার্চ শেন ওয়ার্নের আকস্মিক প্রস্থান মেনে নেওয়া কঠিন ছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তখন বলা হয়েছিল ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’। কিন্তু চার বছর পর খোদ ওয়ার্নের ছেলে জ্যাকসন ওয়ার্ন তুললেন এক বিস্ফোরক অভিযোগ। তাঁর দাবি, সরকারি নির্দেশে নেওয়া কোভিড-১৯ টিকার কারণেই মারা গেছেন তাঁর বাবা।
সম্প্রতি ‘টু ওয়ার্ল্ডস কোলাইড’ নামক এক পডকাস্টে সাবেক সেনাসদস্য স্যাম ব্যামফোর্ডের মুখোমুখি হয়েছিলেন জ্যাকসন। সেখানে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছিল, শেন ওয়ার্নের মৃত্যুর পেছনে কি কোভিড টিকার কোনো ভূমিকা ছিল? জবাবে জ্যাকসন দ্বিধাহীন কণ্ঠে বলেন, ‘আমি নিশ্চিতভাবে মনে করি, টিকা এতে জড়িত ছিল। এখন এটা বলা মোটেও বিতর্কিত কোনো বিষয় নয়।’
জ্যাকসন আরও যোগ করেন, ‘বাবার যদি আগে থেকে কোনো শারীরিক সমস্যা থেকেও থাকে, আমার ধারণা টিকা সেটাকে সরাসরি সামনে নিয়ে এসেছে। যেদিন খবরটা পেলাম, ফোন রাখার পরপরই প্রথম আমার মাথায় এসেছিল—এর জন্য সরকার দায়ী, এর জন্য কোভিড আর টিকা দায়ী।’
২০২২ সালে থাইল্যান্ডের কোহ সামুইতে হার্ট অ্যাটাক করে মারা যান ওয়ার্ন। তাঁর মৃত্যুর পর নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। থাই পুলিশ তাঁর ঘর থেকে কিছু ওষুধ সরিয়ে ফেলেছে বলেও অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি তাঁর শরীরে ভায়াগ্রার (যৌন উত্তেজক ওষুধ) উপস্থিতিও মিলেছিল। কিন্তু জ্যাকসন মনে করেন, আসল কারণটা ছিল করোনার টিকা। তাঁর ভাষ্যমতে, সরকারি নিয়মের কারণে অনেকটা বাধ্য হয়েই তিন-চারটি টিকা নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার এই কিংবদন্তি স্পিনার।

ভিক্টোরিয়া সরকারের অর্থায়নে হওয়া ওয়ার্নের রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায়ও অস্বস্তিতে ছিলেন জ্যাকসন। নিজের ক্ষোভ চেপে রাখার স্মৃতি হাতড়ে তিনি বলেন, ‘রাজ্য স্মরণসভায় আমার বলতে ইচ্ছে করছিল—আমি এই সরকারকে দায়ী করি, আমি কোভিডকে দায়ী করি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বলিনি, সম্ভবত চুপ থাকাই তখন বুদ্ধিমানের কাজ ছিল। তবে আমার মনের অবস্থা তেমনই ছিল।’
অবশ্য জ্যাকসন নিজেও জানেন, দিন শেষে সত্যটা হয়তো অজানাই থেকে যাবে। তাঁর কথা, ‘ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনলাইনে আছে, সবাই দেখতে পারে। বাবা তখন ভালোই ছিলেন, দেখতেও বেশ ঝরঝরে লাগছিল। হ্যাঁ, তিনি ধূমপান করতেন, মদ্যপান করতেন। কিন্তু আশির বা নব্বইয়ের দশকের কত মানুষই তো বাবার চেয়ে বেশি ধূমপান বা মদ্যপান করে এখনো বেঁচে আছেন।’
সর্বকালের অন্যতম সেরা স্পিনার ওয়ার্ন তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ১৪৫ টেস্টে নেন ৭০৮ উইকেট। শ্রীলঙ্কার মুত্তিয়া মুরালিধরনের পর তিনি টেস্ট ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি।
তাঁর ছেলে জ্যাকসন এখন ‘শেন ওয়ার্ন লিগ্যাসি’র মাধ্যমে মানুষের হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তৈরি করতে কাজ করছেন। যাতে অন্য কোনো পরিবারকে মাঝরাতে এমন দুঃসংবাদের ফোনকল পেতে না হয়।