• Colors: Purple Color

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেয়া হলফনামায় নিজের সম্পদ ও আয়ের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সারজিস আলমের হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ৩ লাখ ১১ হাজার ১২৮ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ১ লাখ টাকা। তার নামে দানকৃত কৃষিজমির পরিমাণ ১৬ দশমিক ৫০ শতক। অর্জনকালে ওই জমির আর্থিক মূল্য ছিল ৭ হাজার ৫০০ টাকা, যা বর্তমানে আনুমানিক ৫ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যবসা থেকে বছরে তার আয় ৯ লাখ টাকা। সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে তিনি স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) উল্লেখ করেছেন।

হলফনামার তথ্যে দেখা যায়, সারজিস আলমের নামে একটি মামলা রয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন। তার নামে কোনো বন্ড, ঋণপত্র বা স্টক এক্সচেঞ্জভুক্ত শেয়ার নেই। আসবাবপত্রের মূল্য দেখানো হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য ৭৫ হাজার টাকা। তার কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই। এছাড়া তার নামে কোনো বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট বা ভবনও নেই।

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে সারজিস আলম তার মোট আয় দেখিয়েছেন ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তার মোট সম্পদের মূল্য ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার ৬২৮ টাকা। এ খাতে তিনি ৫২ হাজার ৫০০ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন।

হলফনামায় দেয়া মামলার তথ্য সংক্রান্ত জটিলতায় কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী হামিদুর রহমান আজাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে মনোনয়পত্র যাচাইবাছাইয়ে তার প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেন রির্টানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান।

তার ঘণ্টাখানেক আগে তার প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়েছিল। পরে আবার শুনানিতে মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেয়া হলফনামায় জামায়াতের এ নেতা তার বিরুদ্ধে ৭২টি মামলার তথ্য দেন। তার মধ্যে ৭০টিতে তিনি খালাস, অব্যাহতি কিংবা প্রত্যাহার হয়েছে মামলা।

বাকি দুই দুইটি মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলা বিস্ফোরক দব্য আইনে ঢাকার সিএমএম আদালতে দায়ের হয়, যেটি হাইকোর্ট স্থগিত করেছে।

অপর মামলাটি আদালত অবমাননার; আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ দায়ের হওয়া এই মামলা আপিল বিভাগে বিচারাধীন এখন। এই মামলার উপযুক্ত নথিপত্র দেখাতে না পারায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

রির্টানিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়পত্র বাতিল হলেও এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিলের সুযোগ রয়েছে।

স্থানীয় জামায়াত নেতারা বলছেন, যথাযথ প্রমাণাদি জমা দিয়ে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলে যাবেন দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী। এ নিয়ে চিন্তার তেমন কিছু নেই।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় রাজধানীর গুলশানের আজাদ মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে চারটায় বিএনপির উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিল শুরু হয়। মিলাদ শেষে খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।

দোয়া মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। পাশাপাশি সাধারণ মানুষও উপস্থিত ছিলেন।

পরিবারের সদস্য তারেক রহমানের সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জায়মা রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শার্মিলা রহমান-ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রয়াণে দলটি চেয়ারপারসনের পদ শূন্য হয়েছে। তবে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। মূলত খালেদা জিয়ার প্রয়াণে দলের সাতদিনের শোক কর্মসূচি চলছে। এই কর্মসূচি শেষে স্থায়ী কমিটির বৈঠকের আগে চেয়ারম্যান পদ ব্যবহার করছেন না তারেক রহমান। স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে বিএনপি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ইন্তেকালের পর খালেদা জিয়া দলটির হাল ধরেন। রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আড়াই বছরের মধ্যে তিনি চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান। দলটির গঠনতন্ত্রের ৭ এর গ ধারায় দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের কর্তব্য, ক্ষমতা ও দায়িত্বের উপধারা ২ অনুযায়ী চেয়ারম্যানের সাময়িক অনুপস্থিতিতে তিনিই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে চেয়ারম্যানের সমুদয় দায়িত্ব পালন করবেন। এই ধারা অনুযায়ী তারেক রহমান ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন। সেই থেকে তিনি এ দায়িত্ব পালন করছেন।

বিগতদিনে এমপি সাহেবেরা দুর্নীতি উপহার দিয়েছেন মন্তব্য করে রাঙামাটি-২৯৯নং আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এডভোকেট দীপেন দেওয়ান বলেছেন, আমি দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবো। সব কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতার আওতায় আনবো। সবক্ষেত্রে সুষম উন্নয়নের জন্য কাজ করবো।

 

তিনি বুধবার বিকালে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন। এরআগে সকালে তিনি ধানের শীষের প্রতীক নির্বাচন কমিশন থেকে বরাদ্দ পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার পার্শ্ববর্তী জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় জিয়াউর রহমানের মাজারে জিয়ারতের পর তিনি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করবেন। কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট দীপেন দেওয়ান বলেন, আমাদের বহু আকাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র প্রাপ্তির আশায় ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে আমি একজন পদপ্রার্থী হিসেবে সাধারণ মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করবো এবং নির্বাচিত হতে পারলে এই এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করবো। তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গড়ে তুলতে পারি সে লক্ষ্যে কাজ করবো এবং এক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। সম্প্রীতি ছাড়াও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ অবকাঠামো, দারিদ্র্য বিমোচন, পর্যটন, কর্মসংস্থান, নারী উন্নয়নসহ সব সেক্টরে উল্লেখ্যযোগ্য উন্নয়নের কাজ করবো। পার্বত্য চট্টগ্রামে যেসব সমস্যা রয়েছে নির্বাচিত হতে পারলে সেসব সমাধানে সকলের সাথে বসে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কাউকে বঞ্চিত করা হবে না।

 

 দীপেন দেওয়ান আরো বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ বাংলাদেশে এখন খুবই জনপ্রিয়, পার্বত্যাঞ্চল তার ব্যতিক্রম নয়। আমরা যেখানেই যাচ্ছি ভালো সাড়া পাচ্ছি। সাধারণ মানুষ আমাদেরকে গ্রহণ করছে। প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া দীপেন দেওয়ান বলেন, আমরা পাহাড়ি-বাঙালি এসব বিবেচনা করে রাজনীতি করি না। আমরা সকলকে নিয়ে রাজনীতি করি। আমরা জনগণের জন্য কাজ করি। এখানে ভেদাভেদ করি না। আঞ্চলিক দল কে নির্বাচনে আসলো, আসলো না সেটা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। যেহেতু আমরা জাতীয় রাজনীতি করি, তাই জাতীয় পরিচয় দিতে আমরা বিশ্বাসী। আঞ্চলিক দল কারো সাথে এলায়েন্স হয়েছে কিনা সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি তো একটা বড় দল, প্রশ্নই উঠে না। তবে যেহেতু আমি প্রার্থী তাই সবার সহযোগিতা এবং সকলের ভোট প্রত্যাশা করি।

তিনি বলেন, পাহাড়ের পরিস্থিতি এখনো শান্ত আছে, তবে কালকে কি হবে সেটা আমি বলতে পারবো না। সময়ের প্রেক্ষাপটে বলে দিবে অবৈধ অস্ত্র আছে কি নাই, অস্ত্র উদ্ধার হবে কি না। তবে পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আমরা কাজ করে যাবো। রাঙামাটির প্রত্যেক মানুষের নিরাপত্তা, সার্বিক উন্নয়ন আমাদের অগ্রাধিকার থাকবে।

 

 স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমার ঘটনায় সুষ্ঠ তদন্ত দাবি করে দীপেন দেওয়ান বলেন, আমার ওপর হামলার আশঙ্কা করছি না, তবে হবে না সেটাও বলছি না, আমরা সতর্ক আছি।

 

 মতবিনিময় সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু বলেন, ১৭ বছরের দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা নির্দলীয়-নিরপেক্ষ একটি সরকার পেয়েছি। ১৭ বছর ধরে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারেনি, এবার মানুষ ভয়ডরহীনভাবে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির উপজাতীয় বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মনীষ দেওয়ান, সাবেক সাংসদ ও উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান, জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভূট্টো, সদস্য সচিব এডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি সাইফুল ইসলাম পনির, মিডিয়ার কমিটির আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শাকিল ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা রফিক আহমেদ।

সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে বারোটার দিকে সমাবেশে এসে পৌঁছান তিনি।

এদিকে, নির্বাচনী সমাবেশ ঘিরে গভীর রাত থেকেই দলে দলে নেতাকর্মীরা জড়ো হন সমাবেশস্থলে। ভোর থেকে বাড়তে থাকে সমাগম। সিলেট জেলার ৬টি সংসদীয় আসন ও সুনামগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসন থেকে নেতাকর্মীরা জড়ো হয়েছেন।

এর আগে, সকালে সিলেটের একটি হোটেলে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আগামী বাংলাদেশ এবং নিজের পরিকল্পনা নিয়ে 'ইয়ুথ পলিসি ডায়লগ'-এ তারেক রহমান বলেন, গত ২০ বছরে দেশে জনসংখ্যা যেই পরিমাণ বেড়েছে; আনুপাতিক হারে বাড়েনি নাগরিক সুবিধা।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর বাধ্য হয়েই তাকে বিদেশে থাকতে হয়েছে। বলেন, যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তা কাজে লাগিয়ে দেশে বড় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হবে। এছাড়া, দেশ গড়ার বিষয়ে নানা প্ল্যানের কথা জানান তিনি।

এ সময় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও মানুষের মৌলিক পরিবর্তনের বিষয়ে নানা প্রশ্ন করলে তিনি উত্তর দেন।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব