• Colors: Purple Color

আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য রেকর্ড তিন লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)।

সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন করা হয়।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট পাস করা হয়েছে। আমরা আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিয়েছি। অনেক পর নির্বাচিত সরকার এডিপি পাস করেছে এবার এডিপি বাস্তবায়ন বাড়বে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, তিন লাখ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের হারও বাড়বে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের উন্নয়ন বাজেট সাজানো হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের চলমান প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ছয় হাজার আট কোটি টাকা।

তবে এবারের এডিপির সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে অস্বাভাবিক থোক বরাদ্দ, যা মোট উন্নয়ন বাজেটের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি।

পরিকল্পনা কমিশনের কার্যপত্র অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের এডিপির মোট আকার ধরা হয়েছে তিন লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন বা জিওবি অংশ এক লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পের জন্য আরও আট হাজার ৯২৪ কোটি টাকা যুক্ত হলে মোট উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় তিন লাখ আট হাজার ৯২৪ কোটি টাকারও বেশি।

এডিপিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা এবং সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা মিলিয়ে প্রায় এক লাখ ১৮ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে সরাসরি প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ রয়েছে প্রায় এক লাখ ৮১ হাজার ৭১১ কোটি টাকা। অর্থাৎ উন্নয়ন বাজেটের একটি বড় অংশ এখনো নির্দিষ্ট প্রকল্পের বাইরে থাকছে, যা নিয়ে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

কার্যপত্রে দেখা যায়, বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা খাতে রাখা হয়েছে ৩৮ হাজার ২৭ কোটি টাকা এবং সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা খাতে আরো ১৭ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতায় থোক বরাদ্দ হিসেবে রাখা হয়েছে ৫৯ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় এ ধরনের অনির্দিষ্ট বরাদ্দ এবার অনেক বেশি। কিন্তু একই বিভাগের জন্য থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, যা প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দের তুলনায় প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেশি। একইভাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চলমান প্রকল্পে বরাদ্দ পাঁচ হাজার ৪৮ কোটি টাকা হলেও থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৪ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগেও তিন হাজার ৭৯ কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

খাতভিত্তিক বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি পাচ্ছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫০ হাজার ৯২ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৪৭ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা বা ১৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতে ৩৫ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩২ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা এবং গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধা খাতে ২০ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি পাচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, যার বরাদ্দ ৩০ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ বিভাগও বড় বরাদ্দ পাচ্ছে।

সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবারের এডিপিতে বিশেষ বরাদ্দও রাখা হয়েছে। সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা খাতের ১৭ হাজার কোটি টাকার মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য। কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় কৃষক কার্ডের জন্য রাখা হয়েছে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ের দায়িত্ব পালনকারীদের সম্মানী বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে আরও এক হাজার ১০০ কোটি টাকা।

আগামী অর্থবছরের এডিপিতে মোট এক হাজার ১২১টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ৯৪৯টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১০৭টি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ৪৩টি প্রকল্প রয়েছে। পাশাপাশি এক হাজার ২৭৭টি নতুন অননুমোদিত প্রকল্পও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো পর্যায়ক্রমে অনুমোদনের জন্য বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে আগামী জুনের মধ্যে ২২৩টি প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে এত বড় উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার হয়েছে মাত্র ৩৬ দশমিক ১৯ শতাংশ। জিওবি অর্থায়নে বাস্তবায়ন হার ৩৩ শতাংশের সামান্য বেশি এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের ব্যবহার হয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। এই বাস্তবতায় আরো বড় এডিপি বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

 

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের দাম লিটারে ১৮ টাকা ৮৫ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। প্রতি লিটারের নতুন দাম ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সা থেকে বেড়ে ১১৩ টাকা ৫৪ পয়সা হয়েছে। নতুন দাম আজ সোমবার রাত ১২টা থেকে কার্যকর হচ্ছে। এর আগে গত মাসে লিটারে দাম বেড়েছিল ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা।

আজ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ফার্নেস তেলের দাম বাড়ানোর তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ১৮ মে অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিশন সভায় ১৩ এপ্রিল থেকে ১২ মে পর্যন্ত সময়ে আমদানি করা ফার্নেস তেলের দাম এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার বিবেচনায় মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

এর আগে ফার্নেস তেলের দাম বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) নির্ধারণ করত। তবে অন্তর্বর্তী সরকার সেই ক্ষমতা বিইআরসির হাতে দেওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবারের মতো সংস্থাটি ফার্নেস তেলের দাম ঘোষণা করে। এবার তৃতীয়বারের মতো দাম সমন্বয় করা হলো।

বিপিসির অধীন থাকা তেল বিপণন করা সরকারি চার কোম্পানি—পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল নতুন দামে ফার্নেস তেল বিক্রি করবে। এই তেলের প্রধান ক্রেতা সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।

সরকারের নির্বাহী আদেশে ফার্নেস তেলের দাম সবশেষ নির্ধারণ করা হয় ২০২৪ সালের ২ আগস্ট। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা বিইআরসির হাতে দেয়। গত বছরের ২০ জানুয়ারি বিইআরসির কাছে দাম নির্ধারণের প্রস্তাব করে বিপিসি। এরপর চারটি তেল বিপণন কোম্পানিও প্রস্তাব পাঠায় বিইআরসিতে। এক বছর পর গত ২৯ জানুয়ারি এ প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি করে বিইআরসি।

সরকারদলীয় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ-সদস্যদের সঙ্গে সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৮ মে) বিকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

এতে নারী সংসদ-সদস্যদের সংসদীয় দায়িত্ব ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণের জন্য কাজ করার কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বরোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। 

একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের অধিবেশনের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করা, সংসদ-সদস্যদের তথ্যনির্ভর বক্তব্য প্রদানের জন্য নিয়মিত পড়াশোনা ও সংসদীয় কার্যক্রম পর্যালোচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। 

এছাড়া সরকারি দলের সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচিতদের সঙ্গে সমন্বয় করে এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড জোরদার করার নির্দেশনাও দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   

সভায় অংশ নেওয়া সংসদ-সদস্যরা বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে শপথগ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এটিই তাদের প্রথম সভা। সভায় তাদের দায়িত্ব, কর্তব্য এবং সংরক্ষিত আসনের ক্ষমতার পরিধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সরকারপ্রধান। 

সংসদে গঠনমূলক ও তথ্যনির্ভর বক্তব্য দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এজন্য আগামী সংসদ অধিবেশনের আগেই সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেবে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। 

এছাড়া যেসব আসনে জামায়াতের সংসদ-সংদস্য রয়েছেন, সেসব এলাকায় সংশ্লিষ্ট নারী সংসদ-সদস্যরা নির্বাচিত এমপির ন্যায় এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ত হবেন।  

সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী উপস্থিত ছিলেন।  

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বৈঠকে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ-সদস্য সেলিমা রহমান। 

তিনি বলেন, মূলত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ধন্যবাদ জানানোর উদ্দেশ্যেই এ বৈঠক হয়। এ সময় সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরা তাদের দায়িত্ব, কাজের পরিধি ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের নির্দিষ্ট কোনো এলাকা না থাকায় কোন এলাকায় কীভাবে কাজ করতে হবে সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আগামীতে তারা কাজ করবেন।

সেলিমা রহমান বলেন, একজন রাজনৈতিক নেত্রী ও সংসদ-সদস্য হিসাবে জনগণের কল্যাণে কাজ করাই প্রধান দায়িত্ব। একই সঙ্গে দেশ ও দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের স্বাক্ষর সম্বলিত ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন ডিজাইন ও সিরিজের ১০০০, ৫০০ ও ১০ টাকা মূল্যমানের ব্যাংক নোট ১৮ মে থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে ইস্যু করা হবে।

সোমবার (১৮ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশনস অ্যান্ড পাবলিকেশনস (ডিসিপি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়, গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের স্বাক্ষর সম্বলিত ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন ডিজাইন ও সিরিজের ১০০০, ৫০০ ও ১০ টাকা মূল্যমানের ব্যাংক নোট ১৮ মে থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে ইস্যু করা হবে। যা পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য অফিস থেকেও ইস্যু করা হবে।

এরই প্রচলনে দেওয়া নতুন ডিজাইন ও বৈশিষ্ট্যের 'বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য' শীর্ষক অন্যান্য মূল্যমান (২০, ৫০ ও ১০০) ব্যাংক নোটগুলো গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের স্বাক্ষরে পর্যায়ক্রমে ইস্যু করা হবে।

গভর্নর স্বাক্ষরিত ও মুদ্রিত এসব মূল্যমান ব্যাংক নোটের রং, আকৃতি, ডিজাইন ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য আগের মতো অপরিবর্তিত থাকবে। এসব নোটগুলোর পাশাপাশি বর্তমানে প্রচলিত সব কাগজে নোট এবং ধাতব মুদ্রাও যথারীতি চালু থাকবে।

 

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘আগামী বাজেটে নিঃসন্দেহে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য বিশেষ উদ্যোগ থাকবে; কিন্তু এই উদ্যোগ কার্যকর করতে হলে অবশ্যই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা লাগবে। না হলে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে যে দুই–আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হবে, তা মূল্যস্ফীতি সামলাতে চলে যাবে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, এতে লাভের গুড় পিঁপড়ায় খেয়ে ফেলবে; আর অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে দক্ষতা বৃদ্ধি ও দুর্নীতি দমন করতে হবে। এ জন্য লাগবে প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতি সংস্কার।

আজ সোমবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রাক্-বাজেট সংলাপে এ কথা বলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকার পরিবার কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বাহ্যিক কিছু জিনিসের কথা বলছে। খাল খনন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার কমানো, টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং মানুষের রুটি-রুজি বাড়ানোর মতো অর্থনীতির যে মূল বিষয়গুলো রয়েছে, তা বৃহৎভাবে মনোযোগের ভেতরে আসছে না।

নতুন সরকার কী অবস্থায় অর্থনীতিকে পেয়েছে, তার কোনো প্রামাণ্য দলিল সরকার তৈরি করেননি বলে মন্তব্য করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, অবস্থাদৃষ্টে বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বাজেট তৈরি হচ্ছে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আমরা বলেছিলাম যে গতানুগতিক বাজেট হচ্ছে। সেই কথাই আবার পুনরাবৃত্তির দিকে যেতে পারে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাজেটের প্রাণ হলো সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা। এটি সরকার কীভাবে করতে যাচ্ছে সেটি বুঝতে হবে। এবার একটি কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলার বাজেট তৈরি করা উচিত ছিল; কিন্তু যে আলোচনা শোনা যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে, সেই কঠোরতার দিকে সরকার খুব এগোয়নি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান, বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক অধ্যাপক এ কে এনামুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি, নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক প্রমুখ।

৪ বছরে ১০ কোটি মানুষ ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবে

চার বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ১০ কোটি মানুষকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা পারিবারিক সুরক্ষা বলয়ের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এ ছাড়া সরকার আগামী অর্থবছরে অর্থাৎ ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে ৪০ লাখ ২০ হাজার পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েছে বলে জানান তিনি।

আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিরাও পরিবার কার্ড পাবেন জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, তবে তাঁদের ভাতার টাকা দরিদ্রদের কল্যাণে ব্যয় হবে।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আগামী বাজেটে সরকারের আয়, ব্যয় এবং কীভাবে অর্থায়ন ও ঋণ ব্যবস্থাপনা করছে, সেটি আমরা দেখতে পারি। বাজেটে সরকার সম্পদের পুনর্বণ্টন করতে পারছে কি না, সেটির একটি লিটমাস টেস্ট হয়ে যাবে। এ ছাড়া রাজস্ব ব্যয়ে এবার ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার মতো রাখতে হবে কেবলমাত্র ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য, যা বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।’

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ২ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকার ঋণ বকেয়া আছে জানিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, এই টাকা তাদের কাছে সুদাসলে সরকারের পাওনা রয়েছে। এসব জায়গায় বড় ধরনের সংস্কার আনতে হবে। তাদের হয় শেয়ারবাজারে নিয়ে আসেন; অথবা ব্যবস্থাপনা বেসরকারি খাতে দিয়ে দেন।

অনুষ্ঠানে নতুন সরকারের তিন মাসের বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয় বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হককে। জবাবে তিনি বলেন, আস্থার জায়গা হয়তো কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়েছে; কিন্তু বিনিয়োগের পরিবেশ এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ব্যাংকিং খাতে তারল্যসংকট রয়েছে, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট এখনো কাটেনি। এগুলোর সমাধান না হলে বিনিয়োগ আসবে না।

আগামীকাল বুধবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে দেশের প্রথম ‘ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড রিপোর্টিং (এফএআর) সম্মেলন ২০২৬’ শুরু হতে যাচ্ছে।

দেশের করপোরেট ও আর্থিক খাতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এ সম্মেলন যৌথভাবে আয়োজন করেছে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি), দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) এবং দি ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)। এফআরসি গতকাল সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ‘বিশ্বাসযোগ্য আর্থিক প্রতিবেদন: আসল গুরুত্ব কোথায়’। সম্মেলনের প্রধান অতিথি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সহসভাপতি ও সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম।

দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর দুটি অধিবেশন রয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও), নিরীক্ষক ও নীতিনির্ধারকেরা এতে অংশ নেবেন। বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং সহজে মূলধন পেতে হলে উন্নত মানের আর্থিক প্রতিবেদন প্রণয়নের কোনো বিকল্প নেই—এমন বার্তাই সম্মেলনের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছে এফআরসি।

এ বিষয়ে এফআরসি চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন ভুইয়া প্রথম বলেন, দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং বৈশ্বিক হিসাববিজ্ঞান মানদণ্ডের সঙ্গে দেশীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয় করার প্রয়োজনীয়তা থেকেই সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো করপোরেট প্রতিষ্ঠান, নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা। এতে ভবিষ্যতে আর্থিক বিবরণীগুলো ব্যবসায়ের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরবে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব