• Colors: Purple Color

হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে গত মাসে প্রথম ধাপে ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলায় টিকা দেওয়া হয়েছিল। এক মাস পর দেখা গেছে, এসব উপজেলায় হামের সংক্রমণ প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে।

গতকাল বুধবার বিকেলে ‘হাম-রুবেলা টিকা কার্যক্রম ২০২৬ পর্যালোচনা এবং সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

বৈঠকের উপস্থাপনায় বলা হয়, দেশজুড়ে চলমান হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান ক্যাম্পেইনের সফলতার হার ৯৩ শতাংশ। তবে সংক্রমণ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত টিকাদানে অন্তত ৯৫ শতাংশ কাভারেজ নিশ্চিত করা জরুরি।

ইউনিসেফ ও প্রথম আলোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সরকারের নীতিনির্ধারক, স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে এ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে প্রধান অতিথি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হামের সংক্রমণের বিপদটা অত্যন্ত কঠিন ছিল। যারা মাঠে কাজ করেছে তারাই এর ভয়াবহতা টের পেয়েছে।

সময়মতো ভেন্টিলেটর সহযোগিতা দেওয়ায় বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিগুলোর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এগুলো না পাওয়া গেলে মৃত্যুহার আরও বেশি হতো। আগামী দুই–এক দিনের মধ্যে আরও ১০টি ভেন্টিলেটর পাওয়া যাবে।

স্বাস্থ্য খাতে অন্তর্বর্তী সরকারের অব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবি করেন, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা তহবিলে দশটা টাকাও রেখে যাননি খরচ করার মতো। তিনি বলেন, আজ (গতকাল) ১৫ লাখ ডোজ হামের টিকা দেশে এসেছে। ভবিষ্যতে টিকার আর কোনো সংকট তৈরি হবে না। ১০ মের মধ্যে হামসহ ১০ ধরনের ১ কোটি ৮ লাখ ডোজ টিকা দেশে আসবে।

আক্রান্তদের ৬৫ শতাংশ টিকা পায়নি

আলোচনায় মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন ইউনিসেফের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক রিয়াদ মাহমুদ। উপস্থাপনায় বলা হয়, শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করা হয়। তিন ধাপে পরিচালিত এই কর্মসূচি প্রথমে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পৌরসভা ও উপজেলা, পরে বড় সিটি করপোরেশন এবং শেষে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হয়। বর্তমানে ক্যাম্পেইনের সাফল্যের হার ৯৩ শতাংশ, যা ১০০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রথম ধাপে টিকা পাওয়া ৩০ উপজেলায় সংক্রমণ প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ এপ্রিল হামের সংক্রমণে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে সরকার। আওতাভুক্ত এলাকাগুলো হলো বরগুনা সদর ও পৌরসভা; পাবনা সদর, পৌরসভা, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া ও বেড়া; চাঁদপুর সদর, পৌরসভা ও হাইমচর; কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু; গাজীপুর সদর; চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও পৌরসভা, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট; নেত্রকোনার আটপাড়া; ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল, তারাকান্দা ও শ্রীনগর; রাজশাহীর গোদাগাড়ী; বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ; নওগাঁর পোরশা; যশোর সদর ও পৌরসভা; নাটোর সদর; মুন্সিগঞ্জ সদর ও পৌরসভা, লৌহজং; মাদারীপুর সদর ও পৌরসভা; ঢাকার নবাবগঞ্জ; ঝালকাঠির নলছিটি ও শরীয়তপুরের জাজিরা।

হামের সংক্রমণের বিপদটা অত্যন্ত কঠিন ছিল। যারা মাঠে কাজ করেছে, তারাই এর ভয়াবহতা টের পেয়েছে।সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী

১২ এপ্রিল ঢাকা মহানগর উত্তর–দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে টিকাদান শুরু হয়। আর ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে শুরু হয় হামের টিকাদান কর্মসূচি। তবে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) নিয়ে চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরা হয় উপস্থাপনায়। সেখানে বলা হয়, সংক্রমণ প্রতিরোধে কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ টিকা কাভারেজ প্রয়োজন। তবে টিকার দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের হার তুলনামূলক কম।

হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৮৫ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী। আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশ কোনো টিকাই পায়নি, আর ২১ শতাংশ আংশিক টিকাপ্রাপ্ত।

অপুষ্টিও কারণ

গোলটেবিল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই ৯ মাসের কম বয়সী। বিষয়টি উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারণ, ছয় মাস বয়সের পর শিশুদের মায়ের কাছ থেকে অ্যান্টিবডি পাওয়ার কথা। শিশুরা মায়ের বুকের দুধ পেলেও তাতে পর্যাপ্ত ভিটামিন এ বা অন্যান্য অ্যান্টিবডি থাকছে কি না, তা জরুরিভাবে খতিয়ে দেখা দরকার।

জিয়াউদ্দিন হায়দার মনে করেন, দেশে হাম সন্দেহে মৃত্যুর প্রায় শতভাগ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছিল। তাঁর মতে, কেবল টিকাদান কর্মসূচি হাম প্রতিরোধে যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী ২৪ শতাংশ শিশু অপুষ্টির শিকার। তাই শিশুদের পুষ্টির বিষয়েও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

নিয়মিত টিকাদানে জোর

বাংলাদেশে ইউনিসেফ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ভবিষ্যতে কেবল ক্যাম্পেইননির্ভর না হয়ে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। এ জন্য সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করে পুষ্টি, পরিবার পরিকল্পনাসহ সংশ্লিষ্ট সেবাগুলো একসঙ্গে নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, স্কুলভিত্তিক টিকাদান ব্যবস্থার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার সময় টিকা কার্ড যাচাই করলে বাদ পড়া শিশুদের সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এগোতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে টিকার কোনো ঘাটতি না হয়।

দেশে টিকা উৎপাদনের তাগিদ

টিকাদানের বিষয়ে সুপারিশ প্রদানকারী কারিগরি কমিটি ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপের চেয়ারপারসন ফিরদৌসী কাদরী বলেন, টিকার জন্য আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশে মানসম্মত উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য জাতীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রণ গবেষণাগারকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ডে উন্নীত করার ওপর জোর দেন তিনি।

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) সহকারী পরিচালক হাসানুল মাহমুদ টিকাদান কর্মসূচির বিবর্তন এবং বর্তমান সক্ষমতা সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ইপিআই বর্তমানে ১২টি রোগ মোকাবিলায় টিকা প্রদান করছে। জেলা পর্যায়ে তিন মাসের এবং উপজেলা পর্যায়ে এক মাসের টিকার মজুত রাখার সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত টিকার মজুত কোল্ড চেইন বজায় রেখে সংরক্ষণ করা সম্ভব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বাংলাদেশের ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার (টিকাদান) চিরঞ্জিত দাস বলেন, মানসম্পন্ন ক্যাম্পেইন নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে ডব্লিউএইচও। নজরদারি থেকে প্রাপ্ত তথ্য–উপাত্ত নিয়মিত সরকারের কাছে তুলে ধরা হয়। যাতে বিদ্যমান হামের প্রাদুর্ভাব কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।

চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী টিকাদান চললেও কিছু শিশু বাদ পড়ছে, যা বড় চ্যালেঞ্জ। তাদের শনাক্ত করে টিকার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ টি এম সাইফুল ইসলাম বলেন, টিকা সংরক্ষণে কোল্ড চেইন ঠিকভাবে বজায় না রাখলে অনেক সময় টিকা অকার্যকর (ইনভ্যালিড ডোজ) হয়ে যায়। এ জন্য ডিজিটাল তদারকি জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

কখন হাসপাতালে যেতে হবে

শিশুবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, হামে আক্রান্ত সব শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন নেই। তবে শ্বাসকষ্ট, খাবার গ্রহণে অক্ষমতা, অতিরিক্ত বমি বা পানিশূন্যতা, খিঁচুনি কিংবা চোখ-মুখে জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। তিনি জানান, অধিকাংশ ক্ষেত্রে হাম ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সেরে যায়।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (এমআইএস) আবু আহম্মাদ আল মামুন,বিশেষ প্রতিনিধি শিশির মোড়ল। এতে পর্যবেক্ষক হিসেবে ছিলেন ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের প্রেস স্পেশালিস্ট রিকি সালমিনা। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ফিরোজ চৌধুরী।

দেশের ৬ জেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে সবাই কৃষক ও শ্রমিক। যারা মাঠে বোরো ধান ও ভুট্টা কাটার কাজ করছিলেন। এসব ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

বুধবার (৬ মে) দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে নওগাঁ, জামালপুর, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম, ময়মনসিংহ ও নাটোরে বজ্রপাতের এসব ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে নওগাঁয় ৩ জন, জামালপুরে ১ জন, লালমনিরহাটে ১ জন, কুড়িগ্রাম ১ জন, ময়মনসিংহে ১ জন ও নাটোরে ১ জন।

নওগাঁ: নওগাঁর পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দুই কৃষকসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে জেলার নিয়ামতপুর ও মহাদেবপুর উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- নিয়ামতপুর উপজেলার রামনগর এলাকার অনুকূল চন্দ্র, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার জুয়েল এবং মহাদেবপুর উপজেলার কুড়াপাড়া গ্রামের দিলীপ চন্দ্র বর্মণ।

স্থানীয়রা জানান, নিয়ামতপুরের রামনগর এলাকায় মাঠে ধান কাটছিলেন অনুকূল চন্দ্র। একই সময়ে পাশের খাসের হাট উঠাপাড়া গ্রামে ধান কাটার কাজ করছিলেন শ্রমিক জুয়েল। বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে মহাদেবপুরের কুড়াপাড়া গ্রামে বজ্রপাতে মারা যান দিলীপ চন্দ্র বর্মণ। এসব ঘটনায় আরও দুজন মারাত্মক জখম হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

জামালপুর: জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ভুট্টাখেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে সোহেল মিয়া (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের নাজিরপুর এলাকার শুকুর মাহমুদের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, বিকেল ৪টার দিকে নিজ খেতে ভুট্টা তুলছিলেন সোহেল। হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে তিনি সেখানেই অবস্থান করেন। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ জহুরুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, নিহতের পরিবারকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।

লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ভুট্টাখেত থেকে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে মো. ইউসুফ আলী (৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ইউসুফ ওই এলাকার বাসিন্দা এবং তিন সন্তানের জনক।

বুধবার দুপুরে উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের দক্ষিণ ভোটমারি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খেতে কাজ করছিলেন ইউসুফ। বৃষ্টি শুরু হলে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ভোটমারি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, নিহতের পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে।

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় নিজ জমিতে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে মো. ওবাইদুল নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ওবাইদুল উপজেলার বদিজামালপুর গ্রামের মো. আব্দুল হকের ছেলে।

দুপুরে জমিতে ধান কাটার সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। একপর্যায়ে আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হীল জামান কৃষকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ময়মনসিংহ: নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের রাজাবাড়িয়া গ্রামে বোরো ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আব্দুর রশিদ (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের মৃত চান্দু মিয়ার ছেলে।

বুধবার বিকাল ৩টার দিকে বাড়ির পাশের জমিতে ধান কাটার সময় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। আকাশে বজ্রসহ বিদ্যুৎ চমকাতে থাকে। একপর্যায়ে বজ্রপাত হলে তিনি ছিটকে পড়ে মাঠেই লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে নান্দাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নান্দাইল মডেল থানার ওসি মো. আজহারুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

নাটোর: লালপুরে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তির নাম আজিজ মণ্ডল। বিকেলে উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নওগাঁড়া সুলতানপুর চর এলাকার মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিজ জমিতে কাজ করার সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন আজিজ মণ্ডল। এ সময় বজ্রপাতে তার শরীরের বাম পাশের বড় অংশ পুড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।

লালপুর থানার (ওসি) শফিকুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধারণা, ইরান যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হচ্ছে। তিনি হরমুজ প্রণালির অবরোধ ও তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি কেন্দ্র করে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে সমঝোতা চুক্তির চেষ্টা চালাচ্ছেন। রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

দলের সমর্থকদের সঙ্গে ফোনালাপে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আপনারা যখন চলমান ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখবেন তখন বুঝতে পারবেন খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণে এসব করছি। আমরা তাদের পরমাণু অস্ত্র বানানোর অনুমতি দিতে পারি না।’

রয়টার্সের খবর অনুসারে ট্রাম্প আরও বলেছেন, আমি মনে করি বেশির ভাগ মানুষ বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। তাঁরা বুঝতে পেরেছে আমরা যা করছি তা সঠিক। খুব দ্রুতই এর সমাধান হবে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) অভিযান সক্ষমতা বাড়াতে ১৬৩টি গাড়ি কেনা হচ্ছে। এর মধ্যে আছে ৩টি জিপ, ১০০ টহল পিকআপ ও ৬০টি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত মাইক্রোবাস।

এসব গাড়ি কিনতে খরচ হবে ১২২ কোটি ২৭ লাখ টাকা। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব গাড়ি কেনা হবে। গাড়িগুলো সরবরাহ করবে সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব গাড়ি কেনার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। প্রস্তাব উপস্থাপন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি জিপ হবে ২ হাজার ৫০০ সিসির। একেকটির বাজারমূল্য হতে পারে দেড় কোটি টাকার মতো। আর প্যাট্রল জিপের বর্তমান বাজারমূল্য ৬৪ লাখ টাকা এবং মাইক্রোবাসের বাজারমূল্য ৪৮ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, গত ৫ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ পরিপত্র জারি করে সব ধরনের যানবাহন কেনা বন্ধ রেখেছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত ২৬ জানুয়ারি তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এসব গাড়ি সরাসরি কেনার জন্য নীতিগত প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছিল।

বিভিন্ন সময়ে র‍্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে প্রথমে গাড়ি কেনার প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। আর আজ বিএনপি সরকার তা কেনার সিদ্ধান্ত দেয়।

‘র‍্যাব ফোর্সেসের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি (প্রথম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৬৩টি গাড়ি কেনার খরচ বহন করা হবে বলে জানা গেছে।

প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১৮ সালে। তখন প্রকল্প মেয়াদে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। পরে ২০৭ কোটি টাকা কাটছাঁট করে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং সংশোধিত ব্যয় দাঁড়ায় ৮২৭ কোটি টাকা।

প্রকল্পটির আওতায় মোট ১ হাজার ৫৭০টি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এবং ১৩১টি সরঞ্জাম কেনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ইতিমধ্যে ৮০৯টি যানবাহন ও ১০১টি সরঞ্জাম কেনাও হয়েছে।

হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা) দেশে আরও ১২ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে এক শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল ১১ শিশুর।

এ সময়ে সারা দেশে আরও ১ হাজার ২৩৮ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

হাম শনাক্ত হয়ে শিশুটি ঢাকায় মারা গেছে। আর হামের উপসর্গে বরিশালে ১ জন, ঢাকায় ৫, খুলনায় ১, ময়মনসিংহে ১, রাজশাহীতে ২ জন ও সিলেটে ১ জন মারা গেছে।

এর আগে ৪ মে হাম ও হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল।

আজ বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্যগুলো জানানো হয়েছে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ২৭৯ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৫৭ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৪৫ হাজার ৪৯৮ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩১ হাজার ৯১২ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ২৮ হাজার ২৩৮ শিশু বাড়ি ফিরেছে।

গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে ৬ হাজার ২০৮ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ পাঁচটি নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ‘প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’ (নিকার)। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে নিকারের ১২০তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বর্তমানে দেশে ১২টি সিটি করপোরেশন আছে। বগুড়া নিয়ে সিটি করপোরেশনের সংখ্যা হবে ১৩টি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।

নতুন উপজেলাগুলো হলো বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলাকে ভাগ করে ‘মোকামতলা’, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলাকে ভাগ করে ‘মাতামুহুরী’, ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলাকে ভাগ করে ‘রুহিয়া’ ও ‘ভুল্লী’ এবং লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলাকে ভাগ করে ‘চন্দ্রগঞ্জ’ উপজেলা।

দেশে বর্তমানে ৪৯৫টি উপজেলা রয়েছে। নতুন এই পাঁচটি নিয়ে উপজেলার সংখ্যা হবে ৫০০।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব