বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরের জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এতে ব্যবসায়ী মহলে হতাশা তৈরি হয়েছে। টানা চার বছর সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করেও মূল্যস্ফীতি লক্ষ্য অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণে আসেনি; বরং তা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে একজন ব্যবসায়ীর অভিমত প্রকাশ করা হলো।
ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক। টানা চার বছর ধরে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হলেও মূল্যস্ফীতি কাঙ্ক্ষিতভাবে নিয়ন্ত্রণে আসেনি; বরং সর্বশেষ গত মে মাসে তা বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ। এ ছাড়া বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এমন এক পরিস্থিতিতে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখা ব্যবসায়ীদের জন্য মোটেই ভালো সিদ্ধান্ত হয়নি।
সরকার ঘোষিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন কর ও শুল্ক-সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু মুদ্রানীতিতে সেই প্রবৃদ্ধিমুখী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের অবস্থান রাজনীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে একটি সুস্পষ্ট অসামঞ্জস্যের ইঙ্গিত। উচ্চ নীতি সুদহার বহাল থাকায় ঋণের ব্যয় কমানোর সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।
ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এই তহবিলের সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবিত করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি ধ্বংসের ঝুঁকিতে থাকা শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা প্রদান আরও জরুরি। তাই আমি ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত উদ্যোক্তাদের কাছে দ্রুত ও কার্যকরভাবে এই প্রণোদনা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানাই।
বাজেটে ঘোষিত রাজস্ব প্রণোদনা যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, পর্যাপ্ত ও সাশ্রয়ী অর্থায়নের সুযোগ নিশ্চিত না হলে সেসব উদ্যোগের কাঙ্ক্ষিত সুফল অর্জন সম্ভব হবে না। তাই আমরা মনে করি, বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বেসরকারি খাতনির্ভর টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং নীতিগত সামঞ্জস্য অত্যন্ত জরুরি।
-
তাসকীন আহমেদ, সভাপতি, ঢাকা চেম্বার