বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সিলেট-১ (নগর ও সদর) আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর প্রথমবারের মতো সিলেটে এসেছেন। আজ শুক্রবার সকালে দুই দিনের সফরে রাজধানী থেকে সিলেটে পৌঁছে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রসঙ্গে খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান কাজ। বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরদিন থেকেই রমজান মাস শুরু হয়েছে। প্রস্তুতির জন্য খুব বেশি সময় না থাকলেও দেশে যে পরিমাণ খাদ্যপণ্যের সরবরাহ মজুত আছে, তা দিয়ে বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখা সম্ভব, শঙ্কার কোনো কারণ নেই।
নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে এই সংসদ সদস্য বলেন, আগামী পাঁচ বছর ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নে কাজ করবেন। তাঁর ভাষ্য, এসব উদ্যোগ সিলেটের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য বলেন, সিলেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রসার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কেন্দ্র স্থাপনসহ আধুনিক ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা আছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ভারতের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের কথা উল্লেখ করেন। সরকারি কর্মচারীদের এআই প্রশিক্ষণের জন্য সেখানে বিভিন্ন কর্মসূচি আছে বলেও জানান।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেন, ‘২০২৬ সালের পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে আমাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। বৈশ্বিক পরিসরে বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থানে নিতে আগামী পাঁচ বছরের প্রতিটি দিন, প্রতিটি ঘণ্টা আমরা পরিকল্পরা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করব।’
দেশের রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। তাঁর মতে, চার-পাঁচ মাস ধরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ধারায় আছে, যার প্রভাব বাজারে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আনার বিকল্প নেই। আগামী দিনে বিষয়গুলো মোকাবিলা করাই সরকারের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।
পরে বিমানবন্দরে দলীয় নেতা–কর্মী ও বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা খন্দকার আবদুল মুক্তাদীরকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।