কক্সবাজারের উখিয়ায় টানা ভারী বর্ষণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে ৭ শিক্ষার্থীসহ মোট ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ২৭ জন আহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন উদ্ধারকারীরা।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে উখিয়ার ৫নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ-৩ ব্লকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে ভারী বৃষ্টির মধ্যে হঠাৎ বিকট শব্দে পাহাড়ের বিশাল একটি অংশ ধসে পড়ে। এতে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মাদ্রাসা ও হিফজ কেন্দ্রটি মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। ভেতরে আটকে পড়া শিশুদের চিৎকারে পুরো ক্যাম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে শত শত মানুষ উদ্ধারকাজে অংশ নেন। দুর্ঘটনার সময় সেখানে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী কুরআন শিক্ষা নিচ্ছিল বলেও জানিয়েছেন তারা।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৭ জন শিশুশিক্ষার্থী এবং একজন শিক্ষক। উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা খালি হাতে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন মানবিক সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান জোরদার করেন।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত ৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত অন্তত ২৭ জনকে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কক্সবাজার সদর হাসপাতাল এবং বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

উখিয়া থানার ওসি মুজিবুর রহমান বলেন, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে টানা বৃষ্টির কারণে নতুন করে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় উখিয়া ও টেকনাফের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব