কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে হাজিরা দিতে আসা বিএনপির এক নেতাকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি ছোড়ে। এ সময় আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন। হামলায় বিএনপি নেতা অক্ষত থাকলেও তাঁর সহযোগী মাইনুদ্দীন (৩৭) নামের একজন গুলিবিদ্ধ হন। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলীকে লক্ষ্য করে গুলি করে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা। তিনি একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন। এ ঘটনায় জিয়াউল হক জিয়া (৩৪) নামের একজনকে আটক করে লিয়াকতে সঙ্গে থাকা লোকজন। পরে তাঁকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে সাবেক ইউপি সদস্য লিয়াকত আলীর ওপর হামলা চালিয়েছে তাঁর প্রতিপক্ষরা। ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঝিলংজা ইউনিয়নের মুহুরীপাড়ার (বিসিক এলাকা) নিজ বাড়িতে গিয়ে লিয়াকত আলীকে গুলি ও কুপিয়ে জখম করেছিল দুর্বৃত্তরা। আজ সকালে লিয়াকত আলীসহ কয়েকজন জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এসেছিলেন একটি মামলার হাজিরা দিতে। হাজিরা শেষে বেলা ১১টার দিকে লিয়াকত বাড়িতে ফেরার গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন অস্ত্রধারী তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

কক্সবাজার আদালতে অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে আটক এক ব্যক্তি
কক্সবাজার আদালতে অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে আটক এক ব্যক্তি, ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জানান, লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে লিয়াকত আলী আদালত থেকে বেরিয়ে ফটকে এসে দাঁড়ালে খালেদ নামের একজন প্রথমে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। লিয়াকত আলী দ্রুত সরে যাওয়ায় গুলি লাগে তাঁর চাচাতো ভাই মইনুদ্দীনের পায়ে। এ সময় লিয়াকত আলীর লোকজন গুলি করতে আসা জিয়াউল হককে ধরে ফেললে অস্ত্রধারীদের আরেকজন গুলি ছোড়েন। একপর্যায়ে অস্ত্রধারীরা আদালতের ভেতরের রাস্তা দিয়ে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের দিকে পালিয়ে যান। আটক জিয়াউল হকের বাড়ি ঈদগাঁওয়ে।

বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী
বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী, ছবি সংগৃহীত
 

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, আদালত প্রাঙ্গণে গুলি করে পালানোর সময় জিয়াউল হককে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। অপর অস্ত্রধারীদের কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টার মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ঘটনার পর লিয়াকত আলীকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। লিয়াকত আলী বলেন, ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঝিলংজা ইউনিয়নের মুহুরীপাড়ায় গুলি করে ও কুপিয়ে তাঁকে হত্যাচেষ্টা করেছিল স্থানীয় একটি বাহিনী। আজ আদালত প্রাঙ্গণে ওই বাহিনীর সন্ত্রাসী খালেদ, শাহাবুদ্দীন, কুতুবউদ্দিনসহ কয়েকজন তাঁকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছিল।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব