নেদারল্যান্ডসের একটি কোম্পানি বিশ্বের দ্রুততম সাবমেরিন তৈরি করেছে। এর দাম ৫৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার। বিশেষজ্ঞদের তৈরি করা এই আধুনিক ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন যানটির নাম ‘সুপার সাব’।
একে ‘আন্ডারওয়াটার সুপারকার’ বা পানির নিচের সুপারকার হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। গতি এবং বিলাসিতা—উভয় কথা মাথায় রেখে নকশা করা এই যান ব্যক্তিগত সাবমেরিনের ক্ষেত্রে এক নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করছে।
সুপার সাব ঘণ্টায় প্রায় ১০ মাইল পর্যন্ত গতিতে চলতে পারে, যা একে এযাবৎকালে তৈরি বিশ্বের অন্যতম দ্রুততম সাবমেরিনে পরিণত করেছে। এই গতি মোটামুটি একটি ডলফিনের গতির সমান।
তিনজন আরোহী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই যান ৩০০ মিটার গভীর পর্যন্ত ডুব দিতে পারে। বিলাসবহুল ডুবোযান তৈরির দুই দশকের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ডাচ কোম্পানি ইউ-বোট ওয়ার্কস এটি তৈরি করেছে।
জরুরি অবস্থায় এটি ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইফ সাপোর্ট দিতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিনান্সিয়াল টাইমস পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, তিনি ইরানের জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রণ নিতে চান। সেই সঙ্গে ইরানের খারগ দ্বীপের রপ্তানি কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণও চায় ওয়াশিংটন।
একে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে তুলনা করেছেন ট্রাম্প। দেশটির রাজধানী কারাকাসে গত জানুয়ারিতে সামরিক অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী।
ওই সময় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে স্ত্রীসহ তুলে এনে নিউইয়র্কে আটক রাখা হয়েছে। এরপর থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে থাকা ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের ইচ্ছার কথা জানিয়ে আসছে ওয়াশিংটন।
ফিনান্সিয়াল টাইমসকে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমার সবচেয়ে পছন্দের কাজ ইরানের জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে কিছু বোকা লোক বলছে, “আপনি এটা কেন করছেন?” ওরা আসলেই বোকা।’
‘হয়তো আমরা খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেব, কিংবা হয়তো নেব না। আমাদের হাতে অনেকগুলো বিকল্প আছে’—বলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি আরও বলেন, ‘সেখানে (খারগ দ্বীপ) আমাদের কিছুদিন অবস্থান করতে হতে পারে।’
খারগ দ্বীপে থাকা ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প চটজলদি বলেন, ‘আমার মনে হয় না তাদের (ইরান) কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে। আমরা খুব সহজে এটি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারি।’
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা ও বিবিসি
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর রকেট হামলা চালানোর সময় ইরান থেকেও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। ফলে একসঙ্গে ইসরায়েলের ১০০টিরও বেশি শহরে সতর্কসংকেত বেজে উঠে। এসব হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে হাইফা উপকূলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সূত্র: আল–জাজিরা।
নাটকীয় পরিবর্তনের সুর বাজছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে। আগ্রাসনমূলক কঠোর সব নীতি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে একের পর এক হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে কঠিন পরীক্ষার মধ্যে পড়ে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুরো ৫০ অঙ্গরাজ্য এবার ফুঁসে উঠেছে ‘নো কিংস’ আন্দোলনে। প্ল্যাকার্ড-ব্যানার নিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন প্রায় ৮০ লাখ মানুষ; সবার কণ্ঠে এক দাবি, ‘ট্রাম্প হঠাও’।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তৃতীয় দফার দেশব্যাপী বড় আন্দোলন।
[caption id="attachment_270553" align="alignnone" width="826"]
‘ঘর থেকেই শুরু হোক রেজিম পরিবর্তন’ প্ল্যাকার্ড নিয়ে নিউইয়র্ক শহরে বিক্ষোভরত এক মার্কিন যুবক। ছবি: বিবিসি[/caption]
বিক্ষোভের আয়োজকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের অন্তত ৩ হাজার ৩০০টি স্থানে একযোগে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ওয়াশিংটন ডিসির মতো বড় শহরগুলোতে লাখ লাখ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আমেরিকার পাশাপাশি সংহতি জানিয়ে রোম, প্যারিস ও বার্লিনের মতো ইউরোপের প্রধান শহরগুলোতেও এই আন্দোলন চলছে। তবে এবার আয়োজকদের মূল লক্ষ্য ছিল রক্ষণশীল ও গ্রামীণ এলাকার সাধারণ মানুষদের এই আন্দোলনে সরাসরি সম্পৃক্ত করা।
[caption id="attachment_270552" align="alignnone" width="825"]
ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ারে লাখো মানুষের ঢল। ছবি: বিবিসি[/caption]
এবারের তীব্র আন্দোলনের মূল কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস-সেন্ট পল এলাকাকে। গত বছরের ডিসেম্বরে এই মিনেসোটায় ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ নামে এক কুখ্যাত ও অত্যন্ত কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযান চালায় ট্রাম্প প্রশাসন। ওই অভিযানে প্রায় তিন হাজারেরও বেশি ফেডারেল এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছিল এবং নির্বিচারে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের গুরুতর অভিযোগ ওঠে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষোভের সৃষ্টি হয় চলতি বছরের জানুয়ারিতে, যখন এই অভিযানের সময় দুই নিরপরাধ মার্কিন নাগরিক নিহত হন। শনিবারের (২৮ মার্চ) এই বিশাল সমাবেশে নিহত সেই দুই নাগরিককে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয় এবং তাদের স্মরণে বিশেষ শোক কর্মসূচি পালন করা হয়।
এর আগে, গত জুন ও অক্টোবর মাসেও দেশটিতে লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে, এবারের ৮০ লাখ মানুষের এই রেকর্ড সমাবেশ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, চলতি বছরের নভেম্বর মাসেই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন।
[caption id="attachment_270551" align="alignnone" width="830"]
আমেরিকান প্রবাসী ও কিছু ফরাসি নাগরিকরা মিলে প্যারিসের বাস্তিল চত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ছবি: বিবিসি[/caption]
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের ঠিক আগে এই বিশাল গণজাগরণ বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য।
[caption id="attachment_270550" align="alignnone" width="831"]
লস অ্যাঞ্জেলেসের গ্লোরিয়া মলিনা গ্র্যান্ড পার্কেও হয়েছে ব্যাপক জনসমাগম। ছবি: বিবিসি[/caption]
প্রসঙ্গত, ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ শুরু হয়। ক্ষমতায় এসেই বিচারবিভাগ ও প্রশাসনের ওপর একজন রাজার মতো নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারে উঠেপড়ে লাগেন তিনি। কিন্তু, মার্কিনিরা ‘নো কিংস’ আন্দোলনের মাধ্যমে বার্তা দেন তাদের দেশে ‘কোনো রাজার জায়গা নেই’। এছাড়া গণহারে প্রবাসীদের আটক করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া, গর্ভপাত নিষিদ্ধ করা এবং পরিবেশ নীতি নিয়েও ট্রাম্পের ক্ষোভ বাড়তে থাকে প্রতি সাধারণ মানুষের। মার্কিন জনসাধারণের সেই ক্ষোভের আগুনে এবার ঘি ঢেলেছে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, ইরানে হামলার মাধ্যমে যা শুরু করেছেন ট্রাম্প নিজেই।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ। পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি কোনও ঘোষণা ছাড়াই ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এ যৌথ হামলার প্রথম ধাক্কাতেই প্রাণ হারান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য। ২৭ দিন ধরে চলমান যুদ্ধে এরই মধ্যে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে হারিয়েছে ইরান। দেশটির বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এসব হামলায়। এছাড়া, ইরানের ২ হাজারের বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন এখন পর্যন্ত।
তবে, পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান, যা এখনও চলছে। ইরানের লাগাতার হামলার মুখে এরই মধ্যে প্রায় ভেঙে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সেইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানী তেলের সংকটও তৈরি করে ফেলেছে ইরান। আর এই সংকট সরাসরি গিয়ে আঘাত করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অর্থনীতিতে।
সব মিলিয়ে যতটা সহজে ইরানকে পরাস্ত করবেন বলে ভেবেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা, তেমনটা তো হচ্ছেই না; বরং ইরানের জবাবের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ছে তাদের সব পরিকল্পনা।
ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে নিজের মিত্রদের উসকানিতে এ যুদ্ধ শুরু করে এখন ঘোর বিপদে পড়ে গেছেন ট্রাম্প। ইসরায়েলের স্বার্থে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনী ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করছেন বলে বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন মার্কিন জনগণ; ক্ষোভ প্রকাশ করছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সাবেক-বর্তমান সেনা কর্মকর্তারাও।
একদিকে প্রলম্বিত যুদ্ধ, অন্যদিকে হু হু করে বাড়তে থাকা জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয়— এসব মিলিয়ে এখন মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে।
সম্প্রতি প্রভাবশালী বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও ইপসোসের সাম্প্রতিক এক যৌথ জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের জনসমর্থন বা অনুমোদন হার মাত্র ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে বর্তমানে। গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এটিই তার জনপ্রিয়তার সর্বনিম্ন রেকর্ড।
জরিপে দেখা যায়, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ট্রাম্পের প্রতি মার্কিনিদের সন্তুষ্টির হার ৪০ শতাংশ থেকে কমে ৩৬ শতাংশে নেমে গেছে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ওপর আস্থা হারিয়েছেন সাধারণ আমেরিকানরা।
২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারণায় ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান অস্ত্র ছিল অর্থনৈতিক সংস্কার, অথচ বর্তমানে মাত্র ২৯ শতাংশ মানুষ তার অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্ট। এমনকি এই হার সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সর্বনিম্ন অর্থনৈতিক অনুমোদন হারের চেয়েও নিচে নেমে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে এবার নতুন এক শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। তেহরান এখন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি চাইছে। একই সঙ্গে এই নৌপথ ব্যবহার করা জাহাজগুলো থেকে নিয়মিত টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে। টোল থেকে বছরে কয়েক শ কোটি ডলার আয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। দীর্ঘ দিন ধরেই ইরান এ পথকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।
যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ববাণিজ্যে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসেবে প্রণালিটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চাইছে ইরান।

ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রধান দিনা এসফান্দিয়ারি বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করা যে কত সহজ ও সস্তা, তা ইরান এবার ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছে। আয়ের নতুন উৎস হিসেবে তারা এখন একে কাজে লাগাতে চাচ্ছে।’
তবে ইরানের এমন পরিকল্পনা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ ও বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক জলপথে এমন খবরদারি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং বিশ্ববাসীকে এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
অন্যদিকে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তাঁর প্রথম ভাষণেই স্পষ্ট করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি অবরোধের সুযোগ ইরান কোনোভাবে হাতছাড়া করবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি সত্যিই টোল আদায় শুরু করতে পারে, তবে তাদের মাসিক আয় মিসরের সুয়েজ খালকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সিএনএনের এক হিসাব বলছে, প্রতিদিন এ পথ দিয়ে যাওয়া প্রতিটি বড় তেলবাহী ট্যাংকার থেকে ২০ লাখ ডলার ফি নিতে পারলে ইরানের মাসে আয় হবে ৮০ কোটি ডলারেরও বেশি।
অবশ্য, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন বিশেষজ্ঞ জেমস ক্রাসকা বলছেন, আন্তর্জাতিক জলপথে টোল আদায়ের এ দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তবে এরই মধ্যে কিছু জাহাজ নিরাপদ পারাপারের জন্য ইরানকে গোপনে মোটা অঙ্কের অর্থ দিচ্ছে বলে গুঞ্জন উঠেছে, যা এ সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে টেলিফোনে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ‘অতিরিক্ত আশাবাদী’ অবস্থানের বিষয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের প্রতিবেদন থেকে এমনটা জানা গেছে।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে নেতানিয়াহুর আত্মবিশ্বাসের ব্যাপারে তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন ভ্যান্স। এক মার্কিন কর্মকর্তা এক্সিওসকে বলেন, ‘যুদ্ধের আগে বিবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম) প্রেসিডেন্টকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন, এ কাজটি (সরকার পরিবর্তন) খুবই সহজ হবে। সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে বাস্তবের চেয়ে অনেক বেশি করে দেখিয়েছিলেন তিনি। আর ভাইস প্রেসিডেন্ট তাঁর (নেতানিয়াহুর) বক্তব্যগুলোকে সতর্ক ও বাস্তব দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করেছেন।’
ফোনালাপের পর এক মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ইসরায়েল সক্রিয়ভাবে ভ্যান্সের কাজকে বিঘ্নিত করছে। ভ্যান্স ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় মুখ্য ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন। ভ্যান্স দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি হস্তক্ষেপের সমালোচক হিসেবে পরিচিত। দুই মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের পাশাপাশি তিনি যুদ্ধবিরতির আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।
একই মার্কিন কর্মকর্তা আরও অভিযোগ করেন, ইসরায়েল এমন সব প্রতিবেদন তৈরি করেছিল, যা পড়ে মনে হয়েছিল যে ইরান ভ্যান্সের সঙ্গে আলোচনায় বেশি আগ্রহী। কারণ, তাদের ধারণা, তিনি যুদ্ধ শেষ করার চুক্তির পক্ষপাতী হবেন।
ওই কর্মকর্তা এক্সিওসকে বলেন, ‘এটা ভ্যান্সের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের একধরনের অপপ্রচার।’
আরেক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা এক্সিওসকে বলেছেন, আলোচনার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে ভ্যান্সকেই সম্ভাব্য পথ বলে মনে করেন তাঁরা। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যদি ইরানিরা ভ্যান্সের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারে, তবে তারা কোনো চুক্তি পাবে না। তিনিই তাদের জন্য সবচেয়ে ভালো বিকল্প।’