বানিজ্য

  • Colors: Orange Color

মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা ২০২২ সালে কোনো নভোচারীকে ছাড়াই শুধু মহাকাশযান পাঠিয়ে আর্টেমিস–১ চন্দ্রাভিযান পরিচালনা করেছিল। ওই মহাকাশযান অভিযান শেষে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফেরার সময় তাপ প্রতিরোধক ব্যবস্থায় ক্ষয় দেখা দিয়েছিল। এবার আর্টেমিস–২ অভিযানের সময়ও সেই উদ্বেগ ছিল। তবে সব উদ্বেগ পেছনে ফেলে আর্টেমিস–২ অভিযানের নভোচারীরা আজ শনিবার সকালে নিরাপদে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করেছেন।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের সময় অল্প সময়ের জন্য হিউস্টনে নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে নভোচারীদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। এ সময় উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে পরে অভিযানের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যানের কণ্ঠস্বর শোনা যাওয়ামাত্রই নিয়ন্ত্রণকক্ষে স্বস্তি ফিরে আসে। মহাকাশযান থেকে পাওয়া তাঁর কণ্ঠস্বর নিশ্চিত করে, নভোচারীরা নিরাপদে পৃথিবীর পথে ফিরছেন। নিয়ন্ত্রণকক্ষকে ওয়াইজম্যান বলেন, ‘হিউস্টন, যোগাযোগ ঠিক আছে। আমরা আপনাদের স্পষ্টভাবে শুনতে পাচ্ছি।’

এই ঐতিহাসিক যাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন তিন মার্কিন ও একজন কানাডীয় নভোচারী। তাঁরা হলেন—ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার, জেরেমি হ্যানসেন ও রিড ওয়াইজম্যান। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল—ভবিষ্যতে একটি বেজ স্থাপনসহ চাঁদে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি নিশ্চিত করা।

এটি ছিল গত পাঁচ দশকের বেশি সময় পর প্রথম চাঁদের চারপাশে মানুষের ঘুরে আসার অভিযান।

মহাকাশযানের গতি ও তাপ

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় মহাকাশযানটি ঘণ্টায় প্রায় ৪০ হাজার কিলোমিটার গতিতে চলছিল। এর তাপমাত্রা পৌঁছে গিয়েছিল প্রায় ২ হাজার ৭৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। অর্থাৎ, সর্বোচ্চ অবস্থায় এটির গতি ছিল শব্দের গতির ৩০ গুণের বেশি এবং তাপমাত্রা সূর্যপৃষ্ঠের তাপমাত্রার প্রায় অর্ধেক।

ওরিয়ন ক্যাপসুলটি যখন প্রচণ্ড তাপের কারণে উত্তপ্ত লাল প্লাজমায় ঢেকে গেল, তখন হিউস্টনের নিয়ন্ত্রণকক্ষে দুশ্চিন্তা দেখা দেয়। প্রায় ছয় মিনিট ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার সময়টাতে সবকিছু নির্ভর করছিল জীবনরক্ষাকারী হিট শিল্ড বা তাপ প্রতিরোধক ব্যবস্থার কার্যকারিতার ওপর।

একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগব্যবস্থায় রিড ওয়াইজম্যানের কণ্ঠস্বর ভেসে আসে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সফল পুনঃপ্রবেশ নিশ্চিত হওয়ার পর নিয়ন্ত্রণকক্ষে করতালির শব্দ শোনা যায়। সেখানে নভোচারীদের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

[caption id="attachment_271481" align="alignnone" width="850"] নভোচারীদের নিয়ে ওরিয়ন ক্যাপসুল প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করছেছবি: নাসা[/caption]

২০২২ সালে আর্টেমিস–১ অভিযানের সময় অপ্রত্যাশিতভাবে নভোযানের তাপ প্রতিরোধক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবারের অভিযানে ঝুঁকি কমাতে পুনঃপ্রবেশের জন্য অপেক্ষাকৃত সংক্ষিপ্ত একটি পথ নির্ধারণ করা হয়েছিল।

বৈচিত্র্যময় এক নভোচারী দল

আর্টেমিস–২ অভিযানে বেশ কিছু রেকর্ড হয়েছে। নভোচারী ভিক্টর গ্লোভার প্রথম অশ্বেতাঙ্গ, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অমার্কিন হিসেবে চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসার রেকর্ড গড়েন। ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে নাসার অ্যাপোলো অভিযানগুলোতে কেবল শ্বেতাঙ্গ মার্কিন পুরুষদের নিয়েই নভোচারী দল গঠন করা হয়েছিল।

আর্টেমিস–২ অভিযানে অংশ নেওয়া নভোচারীরা মানুষ হিসেবে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে ভ্রমণের রেকর্ড গড়েছেন। ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো–১৩ অভিযানের চেয়েও দূরবর্তী জায়গায় ভ্রমণ করেছেন তাঁরা।

এনডিটিভি

পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী জায়গায় মানুষের ভ্রমণের নতুন রেকর্ড গড়েছেন মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস–২ চন্দ্রাভিযানে অংশ নেওয়া চার নভোচারী।

নভোচারীরা যখন ‘ওরিয়ন’ ক্যাপসুলে চাঁদের পেছন দিকে যায়, তখন পৃথিবীর সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ প্রায় ৪০ মিনিট বন্ধ থাকে। পরবর্তী সময়ে ওই অংশ ঘুরে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে তাঁদের আবারও যোগাযোগ স্থাপিত হয়।

আর্টেমিস–২ অভিযানের চারজন নভোচারী গতকাল সোমবার যখন চাঁদের পেছন দিকে সবচেয়ে দূরবর্তী জায়গায় পৌঁছান, তখন পৃথিবী থেকে তাঁদের দূরত্ব ছিল প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৮৮ কিলোমিটার বা প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৬০ মাইল। এর আগে পৃথিবী থেকে এত দূরে কোনো মানুষ ভ্রমণ করেননি। এর মধ্য দিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে আর্টেমিস–২ অভিযান।

আগের রেকর্ডটি প্রায় ৫৬ বছর আগের। আল–জাজিরার খবর বলছে, ১৯৭০ সালের এপ্রিলে নাসার অ্যাপোলো–১৩ অভিযানে অংশ নেওয়া নভোচারীরা পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী জায়গায় ভ্রমণ করেছিলেন। ওই সময় তাঁরা পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লাখ ১৭১ কিলোমিটার বা প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল দূরে গিয়েছিলেন।

১ এপ্রিল  ‘আর্টেমিস-২’ অভিযানে চার নভোচারী কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ‘ওরিয়ন’ ক্যাপসুলে চড়ে এ ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু করেন। সর্বশেষ চাঁদে নভোচারী গিয়েছিল ১৯৭২ সালে। ওই সময় অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর এবার প্রথম কোনো মানুষ চাঁদের পথে রওনা হলেন।

নাসার আর্টেমিস–২ অভিযানে অংশ নেওয়া চার নভোচারী
নাসার আর্টেমিস–২ অভিযানে অংশ নেওয়া চার নভোচারী, ছবি: নাসার সৌজন্যে
 

এই চার নভোচারী হলেন নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন।  

চাঁদের পেছন দিক থেকে ফিরে নাসার নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে আবারও যোগাযোগ স্থাপিত হওয়ার পর ক্রিস্টিনা কোচ বলেন, ‘পৃথিবী থেকে আবারও শব্দ শুনতে পাওয়াটা খুবই আনন্দের।’

নভোচারীরা সেখানে একটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেছেন। আর্টেমিস–২ অভিযানে থাকা ওরিয়ন নভোযানের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার বলেন, ‘আমরা যেন কল্পবিজ্ঞানের জগতে চলে গিয়েছিলাম। খুবই অপার্থিব লেগেছে।’

তাঁদের এ নতুন রেকর্ড ভবিষ্যতে মানুষ ভেঙে দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন আর্টেমিস–২–এর নভোচারীরা।

আর্টেমিস–২ অভিযানে অংশ নেওয়া নভোচারীরা চাঁদে অবতরণ করবেন না। ১০ দিনের অভিযানে তাঁরা চাঁদের চারপাশে ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফিরবেন। ১৯৭২ সালের পর এবারই প্রথম কোনো মানুষ পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে ভ্রমণ করছেন।

মনুষ্যবাহী এই পরীক্ষামূলক যাত্রার মূল লক্ষ্য চাঁদে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করা। নাসা ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের দুর্গম দক্ষিণ মেরুতে আবারও নভোচারী অবতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

বিবিসি আল–জাজিরা

ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের নভোচারীরা সোমবার (৬ এপ্রিল) চাঁদের অদৃশ্য বা দূরবর্তী পাশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তারা পৃথিবী থেকে এমন এক দূরত্বে পৌঁছাবেন, যেখানে এর আগে কোনো মানুষ কখনও যায়নি।

নাসা জানিয়েছে, বুধবার উৎক্ষেপণের পর থেকে মিশনটি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে। তিনজন মার্কিন নভোচারী ও একজন কানাডীয় নভোচারী নিয়ে গঠিত এই দলটি বর্তমানে চাঁদের অভিকর্ষ বলয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সোমবারের মধ্যেই তারা মানব ইতিহাসে পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ দূরত্ব অতিক্রমের নতুন রেকর্ড গড়বে।

মিশনের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার বলেন, পৃথিবী এখন বেশ ছোট দেখাচ্ছে, আর চাঁদ ক্রমেই বড় হয়ে উঠছে।

১৯৭২ সালে অ্যাপোলো–১৭ মিশনের পর এই প্রথম মানুষ আবার চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। প্রায় ৫৪ বছর পর মানব মহাকাশ অভিযানে এটি নতুন এক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে সফল যাত্রার মাঝেও একটি বিব্রতকর সমস্যা দেখা দিয়েছে। ওরায়ন মহাকাশযানের টয়লেট ঠিকমতো কাজ করছে না। উৎক্ষেপণের পর থেকেই এটি বারবার বিকল হয়ে পড়েছে। আপাতত নভোচারীদের বিকল্প ইউরিন সংগ্রহ ব্যাগ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। প্রকৌশলীদের ধারণা, বরফ জমে নিষ্কাশন লাইনে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

নাসার ওরায়ন কর্মসূচির উপব্যবস্থাপক ডেবি কর্থ বলেন, মহাকাশে টয়লেট ব্যবস্থা সব সময়ই একটি চ্যালেঞ্জ। তিনি জানান, বাথরুম থেকে দুর্গন্ধের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে নভোচারীদের মনোবল বেশ চাঙা রয়েছে। মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান জানান, মহাকাশ থেকে পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে পেরে তিনি অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়েছেন।

নাসা ইতোমধ্যে চাঁদের বিখ্যাত ওরিয়েন্টালে বেসিনের ছবি প্রকাশ করেছে, যেটিকে অনেকেই চাঁদের “গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন” বলে থাকেন। এই বিশাল গহ্বরটি মানুষের চোখে এত স্পষ্টভাবে এই প্রথম ধরা পড়েছে।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে ওরায়ন মহাকাশযান চাঁদের চারপাশ ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে আসবে। এই মিশনটি ভবিষ্যতে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষ নামানোর বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ। নাসার লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে সেখানে নভোচারী অবতরণ করানো। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

 

ঢাকা

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধ এখন এক চরম পর্যায়ে রয়েছে। এক মাস ধরে চলা এ যুদ্ধে আকাশপথে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে স্বল্পমূল্যের ড্রোন প্রযুক্তি। ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোনের আঘাতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নাস্তানাবুদ হতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে। এসব ড্রোনের উৎপাদন খরচ ২০ হাজার ডলারের কাছাকাছি হলেও এগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের কয়েক মিলিয়ন ডলারের দামি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করে চলেছে ইরান।

যুদ্ধে ইরানের তৈরি সস্তা ড্রোনের ব্যাপক সাফল্য গুগলের সাবেক প্রবান নির্বাহী কর্মকর্তা(সিইও) এরিক শ্মিটের দেওয়া পুরোনো পরামর্শকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর শ্মিট বলেছিলেন, মার্কিন সেনাবাহিনী ট্যাংক বা বিমানবাহী রণতরির মতো বিশাল ও ব্যয়বহুল প্রচলিত যন্ত্রাংশে অতিরিক্ত বিনিয়োগ করছে। এর বদলে ড্রোন কেনায় মনোযোগ দেওয়া উচিত। শ্মিট তখন স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ অতি ব্যয়বহুল অস্ত্রের মধ্যে নয়, গণহারে উৎপাদিত সস্তা ড্রোনের মধ্যে নিহিত। তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে তাদের অগ্রাধিকারগুলো পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি পড়েছি, যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার ট্যাংক কোথাও জমা করা আছে। সেগুলো বিলিয়ে দিন। তার বদলে ড্রোন কিনুন।’

শ্মিট নিজের বক্তব্যের স্বপক্ষে উদাহরণ হিসেবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের সফল ড্রোন হামলার কথা উল্লেখ করেছিলেন। এ বিষয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে কীভাবে মাত্র ৫ হাজার ডলারের একটি ড্রোন ৫০ লাখ ডলার মূল্যের একটি ট্যাংক ধ্বংস করতে পারে।

ইরান যুদ্ধে আধুনিক চালকবিহীন আকাশযান বা ইউএভির তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, সস্তা ড্রোনকে ভূপাতিত করতে কয়েক মিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র খরচ করতে হয়, ফলে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে প্রতিপক্ষের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া আধুনিক ড্রোন যখন ঝাঁক বেঁধে আক্রমণ করে, তখন বিদ্যমান অত্যাধুনিক প্রযুক্তির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাগুলো পুরোপুরি সেগুলো ধ্বংস করতে পারে না। সর্বশেষ সক্ষমতা হচ্ছে, প্রথাগত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার আগেই ড্রোন বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত হানতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

২০২৬ সালের সাবিন অ্যাওয়ার্ডসে তিন বিজ্ঞানীকে সম্মাননা জানানো হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশের সেঁজুতি সাহা।

টিকার মাধ্যমে বিশ্ব স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এই বিজ্ঞানীরা। করোনা মহামারি মোকাবিলা থেকে শুরু করে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ—সব ক্ষেত্রে রয়েছে তাঁদের অসামান্য ভূমিকা।

কোভিড-১৯ মহামারির গতিপথ বদলে দেওয়া ও বিশ্বজুড়ে নতুন ধরনের ওষুধের প্রাপ্যতা বৃদ্ধিতে নিরলস প্রচেষ্টার জন্য ‘অ্যালবার্ট বি. সাবিন গোল্ড মেডেল’ পাচ্ছেন অধ্যাপক উগুর শাহিন ও অধ্যাপক ওজলেম ত্যুরেজি।

জিনতত্ত্বভিত্তিক বিশ্লেষণ ব্যবহার করে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টাইফয়েড টিকা কর্মসূচির বাস্তবায়নে সহায়তা করেছেন সেঁজুতি সাহা। এটি লাখো শিশুকে সুরক্ষায় সহায়তা দিচ্ছে।

বাংলাদেশের সেঁজুতি সাহা পাচ্ছেন ‘২০২৬ রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড’। জিনতত্ত্বভিত্তিক বিশ্লেষণ ব্যবহার করে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টাইফয়েড টিকা কর্মসূচির বাস্তবায়নে সহায়তা করেছেন তিনি, যা লাখো শিশুকে সুরক্ষায় সহায়তা দিচ্ছে।

আগামী ১২ মে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস ভবনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই তিন বিজ্ঞানীর কাছে পদক তুলে দেওয়া হবে।

গত সোমবার সাবিন ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

অ্যালবার্ট বি. সাবিন গোল্ড মেডেল ১৯৯৩ সাল থেকে এবং রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড ২০২০ সাল থেকে দেওয়া হচ্ছে। এবারের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানটি সরাসরি অনলাইনে সম্প্রচার করা হবে।

উগুর শাহিন ও ওজলেম ত্যুরেজির অবদান

ব্যবসায়িক ও জীবনসঙ্গী অধ্যাপক উগুর শাহিন এবং অধ্যাপক ওজলেম ত্যুরেজিকে তাঁদের যুগান্তকারী কোভিড-১৯ টিকা উদ্ভাবন এবং কয়েক দশকের উদ্ভাবনী প্রযুক্তির মাধ্যমে ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার জন্য এই গোল্ড মেডেল দেওয়া হচ্ছে।

কোভিড মহামারির শুরুতে এই দুই বিজ্ঞানী এমন একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করেন, যা মূলত ক্যানসার চিকিৎসার জন্য তৈরি করা হচ্ছিল। রেকর্ড সময়ে তাঁরা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য বদলে ফেলেন এবং একটি কার্যকর কোভিড-১৯ টিকা তৈরি করেন। এটি কোটি কোটি মানুষের জীবন রক্ষায় সহায়তা করেছে।

বর্তমানে এই দুই বিজ্ঞানী ওই আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে যক্ষ্মা, এইচআইভি ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগের বিরুদ্ধে আরও নতুন টিকা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের এই নিষ্ঠা শুধু গবেষণাগারেই সীমাবদ্ধ নয়। আফ্রিকায় একটি টেকসই ও শক্তিশালী টিকা উৎপাদনের ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগেও নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁরা।

এক যৌথ বিবৃতিতে উগুর শাহিন ও ওজলেম ত্যুরেজি বলেন, ‘২০২৬ সালের সাবিন গোল্ড মেডেল পেয়ে আমরা গভীরভাবে সম্মানিত। বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট সাবিনের বিশ্বাস—‘‘বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার তখনই সার্থক হয়, যখন তা মানুষের কাজে আসে’’, আমাদের দীর্ঘদিনের অনুপ্রেরণা। আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, আধুনিক ওষুধ তাঁদের কাছে পৌঁছানো উচিত, যাঁদের এটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।’

বিবৃতিতে দুই বিজ্ঞানী আরও বলেন, ‘এ পুরস্কার একটি যৌথ প্রচেষ্টার স্বীকৃতি। সারা বিশ্বে আমাদের দল ও অংশীদারদের নিষ্ঠাকে সম্মান জানাচ্ছে এটি। তারা আমাদের সঙ্গে এ পথচলায় আছে এবং স্বাস্থ্যের উন্নয়নে অঙ্গীকার ভাগাভাগি করে নিচ্ছে।’

সাবিনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যামি ফিনান বলেন, ‘অধ্যাপক শাহিন ও ত্যুরেজি মিলে টিকার ভবিষ্যৎ বদলে দিয়েছেন। তাঁরা দেখিয়েছেন, কীভাবে গবেষণাগারের নতুন আবিষ্কারকে সাহসের সঙ্গে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো যায়। জীবন রক্ষাকারী টিকা দ্রুত তৈরি করা ও তা সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাঁদের যে লড়াই, সাবিন গোল্ড মেডেল তাঁদেরই সম্মান জানাচ্ছে।’

সেঁজুতি সাহার সাফল্য

বাংলাদেশি অণুজীববিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা
বাংলাদেশি অণুজীববিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা

এ বছর ‘রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড’ পাওয়া সেঁজুতি সাহা জাতীয় পর্যায়ের বড় টিকাদান উদ্যোগগুলোর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক তথ্য ও প্রমাণ তৈরি করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের ২০২৫ সালের টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) কর্মসূচি। এটি ইতিমধ্যে ৪ কোটির বেশি শিশুর কাছে পৌঁছেছে।

চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (সিএইচআরএফ) উপনির্বাহী পরিচালক হিসেবে সেঁজুতি সাহা দেশে একটি উন্নত জিনোম গবেষণাগার গড়ে তুলতে সহায়তা করেছেন। এ গবেষণাগারে হাজার হাজার রোগ-জীবাণুর জিনোম সিকোয়েন্স করা হয়েছে, যা দ্রুত রোগ শনাক্ত করতে এবং ক্লেবসিয়েলা ও আরএসভির মতো রোগের টিকা তৈরিতে সাহায্য করছে।

সেঁজুতি সাহার কাজের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, দেশে বৈজ্ঞানিক নেতৃত্ব গড়ে তোলা ও নতুন প্রজন্মের গবেষকদের দিকনির্দেশনা দেওয়া।

পুরস্কার প্রাপ্তি নিয়ে সেঁজুতি সাহা বলেন, ‘এ পুরস্কার আমার কাছে অত্যন্ত অর্থবহ। এটি বাংলাদেশে একটি অসাধারণ কমিউনিটির বহু বছরের পরিশ্রমের প্রতিফলন। এটি প্রমাণ করে, মানুষ যখন একসঙ্গে সমস্যা সমাধানের প্রতিজ্ঞা করে, তখন যেকোনো জায়গাতেই উন্নত মানের বিজ্ঞানচর্চা সম্ভব হয়।’

সাবিনের অ্যামি ফিনান বলেন, সেঁজুতি সাহা নতুন প্রজন্মের বৈজ্ঞানিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তিনি বোঝেন যে তাঁর কাজ শুধু গবেষণাগার বা গবেষণাপত্র প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তিনি শক্তিশালী টিকানীতি তৈরিতে কাজ করছেন।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব