‘মিডটার্ম’-এ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী টিয়ার চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি পাদপ্রদীপের আলোয় চলে এসেছেন ইয়াসমিনা এল-আব্দ। মিসরীয় টিভি সিরিজটি অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পীকে জেন–জি দর্শকের মধ্যে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

কয়েক সপ্তাহ আগে সিরিজটির প্রচার শেষ হয়েছে। তবে চরিত্রের ঘোর থেকে এখনো বের হতে পারেননি তিনি। টিএন ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘টিয়াকে কিছুতেই ভুলতে পারছি না। আগে কখনো এমনটা ঘটেনি। অন্য কোনো চরিত্র নিয়ে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হইনি।’

ইয়াসমিনা এল-আব্দ
ইয়াসমিনা এল-আব্দশিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

একদল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর জীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত সিরিজটি মিসরের তরুণদের মধ্যে আলোচনার ঝড় তোলে। আগে পার্শ্বচরিত্রে কাজ করলেও সিরিজটিতে প্রথমবারের মতো মূল চরিত্র করেছেন ইয়াসমিনা। ১৯ বছর বয়সেই এটা তাঁকে এনে দিয়েছে তারকাখ্যাতি।

ইয়াসমিনার ভাষ্য, ‘মিডটার্ম–এর শুটিংয়ে উদ্বেগের মধ্যে ছিলাম। এত বড় প্রজেক্টে যুক্ত হওয়ার বিশাল ঝুঁকি ছিল।’ ঝুঁকিটা নিয়েছিলেন, ফলও পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার বয়সের উপযোগী চরিত্র খুঁজে পেতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল। হয় অনেক বড় বয়সের চরিত্র যা করা কঠিন, নয়তো অনেক ছোট। আমি তৃপ্তি পাচ্ছিলাম না।’

ইয়াসমিনা এল-আব্দ
ইয়াসমিনা এল-আব্দশিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

শেষ পর্যন্ত মিডটার্ম দিয়ে অভিনেত্রী ইয়াসমিনার পুনর্জন্ম ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, মানুষের আস্থা অর্জন করেছি। এটা হালকাভাবে নেওয়ার নয়। আমি এটা অর্জন করেছি, এখন ধরে রাখতে হবে।’

ইয়াসমিনা এল-আব্দ
ইয়াসমিনা এল-আব্দশিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীতও নতুনভাবে জীবনে ফিরে এসেছে। গত ডিসেম্বরে তিনি ‘ডাম্মা’ প্রকাশ করেন। গানটি বিলবোর্ডের তালিকায় উঠেছিল।

মাত্র ৯ বছর বয়সে ইয়াসমিনার অভিনয়ে অভিষেক। ১২ বছর বয়সে গান শুরু করেন। সুক্কার, ইন ব্লুম, শ্যাডো অব কায়রোসহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। পাশাপাশি টেলিভিশনেও তাঁকে নিয়মিত দেখা গেছে।

বার্লিনের গুপ্তচর জগৎকে পটভূমি করে তৈরি নতুন থ্রিলার সিরিজ ‘আনফ্যামিলিয়ার’ মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই নন–ইংরেজি কনটেন্টের তালিকায় বিশ্বব্যাপী শীর্ষ স্থানে উঠে এসেছিল। ৫ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাওয়া সিরিজটি দেখা যাচ্ছে নেটফ্লিক্সে। মুক্তির পর এ পর্যন্ত ২৫ মিলিয়ন ঘণ্টার বেশি ভিউ হয়েছে সিরিজটির। আন্তর্জাতিক দর্শকের আগ্রহ প্রমাণ করে দিয়েছে—ইউরোপীয় পটভূমির গোয়েন্দা গল্পও আজ বৈশ্বিক বিনোদনের কেন্দ্রে জায়গা করে নিতে পারে।

সিরিজের কেন্দ্রে রয়েছেন সাবেক শীর্ষ দুই গোয়েন্দা কর্মকর্তা—মেরেট ও সিমন। মেরেট চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুসান উলফ আর সিমনের ভূমিকায় ফেলিক্স কারমার। একসময় তাঁরা ছিলেন জার্মান গোয়েন্দা সংস্থার দক্ষ অপারেটিভ; এখন বার্লিনে একটি গোপন ‘সেফ হাউস’ পরিচালনা করেন। কিন্তু অতীতের এক অন্ধকার হুমকি হঠাৎ ফিরে এলে তাঁদের শান্ত জীবন ভেঙে পড়ে। চুক্তিভিত্তিক খুনি, রুশ এজেন্ট ও নিজেদের সাবেক নিয়োগকর্তা জার্মান ফেডারেল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (বিএনডি)—সবাইকে মোকাবিলা করতে হয় তাঁদের। আর সেই লড়াই শুধু দায়িত্বের নয়, নিজেদের পরিবার ও জীবনের সুরক্ষারও।

‘আনফ্যামিলিয়ার’ আসলে প্রযোজনা সংস্থা গোমোঁ জার্মানির নেটফ্লিক্সের সঙ্গে দ্বিতীয় বড় প্রকল্প, রোমান সাম্রাজ্যকে ঘিরে নির্মিত ‘বারবারিয়ানস’–এর পর। সেই সিরিজের পরিকল্পিত তৃতীয় মৌসুমের জন্য কাজ শুরু করেছিলেন নির্মাতা পল কোটস। কিন্তু সেটি বাতিল হলে তিনি নতুন এক গুপ্তচর গল্পের ধারণা দেন, যা থেকে জন্ম নেয় ‘আনফ্যামিলিয়ার’।

কোটসের ভাষায়, এই সিরিজের ভেতরে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ছাপ রয়েছে। তিনি নিজেও পঞ্চাশোর্ধ্ব, তাই মেরেট ও সিমনের বয়সও জীবনের বাস্তবতা তাঁকে টেনেছে। সাধারণত গুপ্তচর কাহিনিতে তরুণ, শক্তিশালী, প্রায় অতিমানবীয় চরিত্র দেখা যায়। কিন্তু এখানে দুই মধ্যবয়সী মানুষের শারীরিক সীমাবদ্ধতা, বয়সজনিত ক্লান্তি ও মানসিক টানাপোড়েন গল্পকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। বেরাইসও মনে করেন, বয়সকে গল্পের অংশ করে তোলার মধ্যেই রয়েছে মৌলিকতা ও বাস্তবতা।

‘আনফ্যামিলিয়ার’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি
‘আনফ্যামিলিয়ার’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

সিরিজ নির্মাণে বাস্তবতার ছোঁয়া আনতে সরাসরি সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল জার্মান গোয়েন্দা সংস্থা বিএনডির কাছ থেকে। প্রযোজকেরা গল্পের খসড়া তাঁদের সঙ্গে ভাগ করেন, যাতে উপস্থাপনা বিশ্বাসযোগ্য হয়। অভিনয়শিল্পীরাও সংস্থার প্রতিনিধিদের কাছে প্রশ্ন করার সুযোগ পান। এমনকি বার্লিনে বিএনডির সদর দপ্তরের বাইরে শুটিংয়ের অনুমতিও মিলেছিল, তবে কড়া নিরাপত্তা বিধিনিষেধ মেনে। সপ্তাহান্তে শুটিং করতে হয়েছে, যাতে সংস্থার কর্মীদের স্বাভাবিক যাতায়াত চিত্রায়িত না হয়।

গোমোঁর জন্য ‘আনফ্যামিলিয়ার’ ছিল এক উচ্চাভিলাষী আন্তর্জাতিক প্রকল্প। তাদের আগের সফল সিরিজগুলোর মতো ‘নার্কোস’ বা ‘লুপিন’—এখানেও নির্মাতারা একটি স্বতন্ত্র জগৎ তৈরি করতে চেয়েছেন। বার্লিনের ইতিহাস, শীতল যুদ্ধের স্মৃতি, আধুনিক ইউরোপীয় রাজনীতির উত্তাপ—সব মিলিয়ে এক বাস্তব অথচ উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে গল্প স্বাভাবিকভাবেই বিস্তার লাভ করেছে।

কোটস জানান, শুরুতে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন তারিক সালেহ পরিচালিত অ্যাকশন থ্রিলার ‘দ্য কন্ডাক্টর’ থেকে। বিশেষ করে একটি দৃশ্যে আহত নায়ককে একটি ফোন নম্বর দেওয়া হয়, সেই রহস্যময় সেফ হাউসের ধারণাই তাঁকে ভাবায়। সেখানে সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি ছিল এডি মারসনের। সেই চরিত্রটির অদেখা জীবন, অজানা অতীত—এসব প্রশ্ন থেকেই সিরিজটির জন্ম।

সিরিজটির নির্মাণভঙ্গি ধীর ও সংযত। প্রথম পর্বেই সব রহস্য উন্মোচন না করে দর্শককে ধাপে ধাপে তথ্য দেন। চমকপ্রদ টুইস্টের বদলে তাঁরা বেছে নিয়েছেন ‘স্লো–বার্ন’ পদ্ধতি—চাপ জমতে থাকে, উত্তেজনা বাড়ে এবং দর্শক অনিবার্য পরিণতির অপেক্ষায় থাকেন। এই ধৈর্যশীল গতি সবার কাছে সমান আকর্ষণীয় না–ও হতে পারে, কিন্তু অনেকেই এই সংযমকেই সিরিজটির শক্তি হিসেবে দেখছেন।

‘আনফ্যামিলিয়ার’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি
‘আনফ্যামিলিয়ার’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

নেটফ্লিক্স সাম্প্রতিক বছরগুলোয় স্পাই থ্রিলারকে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসতে দক্ষতা দেখিয়েছে। ‘আনফ্যামিলিয়ার’ সেই ধারাতেই নতুন সংযোজন। অল্প পর্বসংখ্যা সিরিজটিকে সহজে টানা দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। জার্মান গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় বাস্তবধর্মী উপস্থাপন সিরিজটিকে বিশ্বাসযোগ্যতা দিয়েছে, যা অনেক কল্পনাপ্রবণ স্পাই ড্রামার ভিড়ে আলাদাভাবে চোখে পড়ে।

তবে বিতর্কের জায়গাটিও স্পষ্ট। অনেক দর্শকের কাছে এটি পরিচিত ফর্মুলার পুনরাবৃত্তি—অবসরপ্রাপ্ত গুপ্তচর, অতীতের ব্যর্থ মিশন, ভুয়া পরিচয়ে গড়া পরিবার। নতুনত্বের সন্ধানীরা হয়তো এটিকে ‘রিমিক্স’ বলবেন। কিন্তু চরিত্রকেন্দ্রিক উত্তেজনা, আবেগের ধীরে জমাট বাধা স্তর ও মধ্যবয়সী জীবনের বাস্তব সংকট—এই উপাদানগুলোই সিরিজটিকে অন্যদের কাছে আলাদা করে তুলেছে। মুক্তির পর প্রথম সপ্তাহেই বৈশ্বিক সাফল্য প্রমাণ করে দিয়েছে, দর্শক এখন এমন গুপ্তচর কাহিনি দেখতে চায়, যেখানে আছে মানবিক দুর্বলতা, বয়সের বাস্তবতা ও রাজনৈতিক জটিলতার সমন্বয়।

‘আনফ্যামিলিয়ার’–এর পোস্টিার। আইএমডিবি
‘আনফ্যামিলিয়ার’–এর পোস্টিার। আইএমডিবি

এটি শুধু অ্যাকশন নয়; বরং মধ্যবয়সী দুই মানুষের টিকে থাকার গল্প; অতীতের ছায়া থেকে বর্তমানকে বাঁচানোর লড়াই। আর বার্লিন গুপ্তচর ইতিহাসের চিরন্তন শহর—এই লড়াইয়ের জন্য যেন আদর্শ মঞ্চ।

দক্ষিণ ভারতীয় জনপ্রিয় তারকা জুটি বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়ানো আমন্ত্রণপত্র ও ঘনিষ্ঠ সূত্রের তথ্য মিলিয়ে এখন প্রায় নিশ্চিত ধরা হচ্ছে, এই বহুল আলোচিত তারকা–বিয়ের আয়োজন। এই দুই তারকা প্রকাশ্যে এখনো কিছু না বললেও প্রতিটি আপডেটে খবর রাখছেন ভক্তরা। এ কারণেই সম্প্রতি বিজয়ের হায়দরাবাদের বাড়ির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, আগামী সপ্তাহে উদয়পুরে হতে যাওয়া বিয়েকে ঘিরে তাঁর বিলাসবহুল বাড়িটি সাজানো হয়েছে জমকালো আলোকসজ্জায়।

সিনেমার দৃশ্যে রাশমিকা ও বিজয়। আইএমডিবি
সিনেমার দৃশ্যে রাশমিকা ও বিজয়। আইএমডিবি

আর মাত্র এক সপ্তাহ, শোনা যাচ্ছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের উদয়পুরের একটি প্রাসাদে বিয়ে করবেন এই জুটি। সেই বিয়ের অনুষ্ঠান সামনে রেখে ‘অর্জুন রেড্ডি’খ্যাত অভিনেতার হায়দরাবাদের বিলাসবহুল বাড়িটি সাজানো হয়েছে অসংখ্য ফেয়ারি লাইটে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বাড়ির ভেতরে কর্মীদের ব্যস্ততা দেখা গেছে, পরিচ্ছন্নতা তাঁবু টানানোসহ নানা প্রস্তুতির কাজ করতে দেখা গেছে তাঁদের।

কয়েক দিন আগে মুম্বাই বিমানবন্দরে দেখা যায় হবু এই তারকা দম্পতিকে। যদিও তাঁরা একসঙ্গে আসেননি, তবে একই সময়ে একই জায়গায় তাঁদের উপস্থিতি নজরে পড়ে পাপারাজ্জিদের। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিয়ের কার্ডও ভাইরাল হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয়—২৬ ফেব্রুয়ারিতে বিয়ে করছেন বিজয় ও রাশমিকা।
কার্ডে আরও বলা হয়েছে, আগামী ৪ মার্চ সন্ধ্যা ৭টা থেকে হায়দরাবাদের বানজারা হিলসের তাজ কৃষ্ণা হোটেলে আয়োজন করা হবে বিবাহোত্তর সংবর্ধনা। কার্ডে লেখা ছিল, ‘পরিবারের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ নিয়ে রাশমিকা ও আমি ২৬.০২.২৬ তারিখে একটি ছোট ও ঘরোয়া আয়োজনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছি। আমাদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনায় আপনাকে সাদর আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। ৪ মার্চ ২০২৬, সন্ধ্যা ৭টা থেকে। তাজ কৃষ্ণা, বানজারা হিলস, হায়দরাবাদ। একসঙ্গে উদ্‌যাপনের অপেক্ষায় রইলাম। শুভেচ্ছান্তে, বিজয় (রাশমিকা ও আমার পক্ষ থেকে)।’

বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা
বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা, ছবি : ইনস্টাগ্রাম থেকে

তবে কার্ডটি সত্যিই এই তারকা জুটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
‘ডিয়ার কমরেড’ খ্যাত এই জুটি বরাবরই ব্যক্তিগত বিষয় গোপন রাখতে পছন্দ করেন। জানা গেছে, বিয়ের অনুষ্ঠানটি খুব ছোট পরিসরে এবং সীমিত অতিথি তালিকা নিয়ে আয়োজন করা হবে। ইন্ডিয়া টুডেকে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, ‘অতিথির সংখ্যা খুবই কম থাকবে। কোনো মোবাইল ফোনের অনুমতি থাকবে না। এমনকি যাঁরা বিয়ের ভিডিও ধারণ করবেন, তাঁদেরও চুক্তিতে সই করতে হচ্ছে।’পিঙ্কভিলা অবলম্বনে

বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে তোলা হয়েছে। 

বুধবার ১৯ (ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হিরো আলমকে বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক আনোয়ারুল হকের আদালত হিরো আলমকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর গণমাধ্যমকে বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ করা ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় এক মামলায় হিরো আলমের বিরুদ্ধে গত ১০ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এ সংক্রান্ত চিঠি সম্প্রতি আমাদের কাছে আসে। সম্প্রতি জানা যায়, হিরো আলম নিজ এলাকায় অবস্থান করছে খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশ তাকে ধরতে গেলে ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে হিরো আলম। পরে গাড়ি নিয়ে ধাওয়া করে শাজাহানপুর থানা সংলগ্ন এলাকায় গ্রেপ্তার করি আমরা। এরপর তাকে আদালতে নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, সাদিয়া রহমান মিথিলা নামে এক নারীকে নায়িকা বানানোর স্বপ্ন দেখিয়ে আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম প্রতারণামূলকভাবে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন এবং গর্ভপাত করাতে বাধ্য করেন। এ অভিযোগ অস্বীকার করলে তার বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন মিথিলা। পরে পিবিআই তদন্ত করে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পায়। এরপর আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে হিরো আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

 

বর্তমান সময়ের বিনোদন–দুনিয়ায় আলোচনায় থাকার যেন এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতা। নতুন সিনেমা হোক বা ব্যক্তিগত জীবন—সোশ্যাল মিডিয়া, প্রচারণা আর জনসংযোগ–কৌশলের মাধ্যমে সব সময় সামনে থাকতে পারলেই যেন সফলতা। কিন্তু এই ধারা থেকে সচেতনভাবেই দূরে থাকতে চান অভিনেত্রী সবিতা ধুলিপালা। তাঁর কথায়, তিনি বিশ্বাস করেন না অতিরিক্ত প্রচারণায়; বরং কাজ দিয়েই দর্শকের সামনে থাকতে চান।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সবিতা জানান, ক্যারিয়ারের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে তিনি জনসংযোগ টিমের সঙ্গে কাজ করলেও তা তাঁর ব্যক্তিত্ব বা জীবনদর্শনের সঙ্গে পুরোপুরি যায় না। তিনি মনে করেন, সব সময় সংবাদে থাকা বা ২৪ ঘণ্টা দৃশ্যমান থাকা তাঁর জন্য জরুরি নয়।

অভিনেত্রীর ভাষায়, প্রত্যেক শিল্পীর পথ আলাদা। কারও জন্য জনসংযোগ কাজ করতে পারে, আবার কারও জন্য নয়। নিজের পছন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্য থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি চান কাজের মাধ্যমে পরিচিত হতে, ব্যক্তিগত আলোচনারকেন্দ্রবিন্দু হয়ে নয়।

সবিতা ধুলিপালা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
সবিতা ধুলিপালা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

তারকা–সংস্কৃতির ভেতরের ক্লান্তি
বলিউড ও ওটিটির বর্তমান সংস্কৃতিতে প্রায়ই দেখা যায়, সিনেমার চেয়ে প্রচারণাই বেশি আলোচিত হয়ে ওঠে। কখনো পোশাক, কখনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক, কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত উপস্থিতি—এগুলো যেন ক্যারিয়ারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে।

এ প্রসঙ্গে সবিতা বলেন, তিনি সব প্রশ্নের উত্তর জানেন না, তবে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছেন, কোন জীবনধারা তাঁকে মানায়। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বাইরে থেকে আসা একজন শিল্পী হিসেবে তিনি ধীরে ধীরে নিজস্ব ছন্দ তৈরি করেছেন।
সবিতার মতে, সফলতার কোনো একক নিয়ম নেই। কেউ প্রচারণার মাধ্যমে জনপ্রিয় হন, আবার কেউ নিজের কাজের গুণেই জায়গা করে নেন। তিনি দ্বিতীয় পথটাই বেছে নিতে চান।

সবিতা ধুলিপালা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
সবিতা ধুলিপালা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

নিজের শিকড়ে ফেরা
একই সাক্ষাৎকারে সবিতা কথা বলেন তেলেগু সিনেমায় ফেরা নিয়ে। বহুদিন পর তিনি মাতৃভাষার একটি প্রজেক্টে কাজ করছেন। এ অভিজ্ঞতাকে তিনি বলেছেন ‘স্বস্তিদায়ক’।

সবিতার মতে, ‘মাতৃভাষায় অভিনয় করতে গেলে সংলাপের সঙ্গে অনুভূতির সংযোগ আরও স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। বিশেষ করে জটিল শব্দ বা দ্রুত সংলাপ বলার সময় ভাষাগত স্বাচ্ছন্দ্য অভিনয়কে সহজ করে দেয়।’
তেলেগু সিনেমার দর্শক হিসেবে সব সময় সংযুক্ত থাকলেও দীর্ঘ সময় পর আবার সেই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করা সবিতার জন্য নতুন আনন্দের অভিজ্ঞতা।

তারকা, কিন্তু আলাদা পথে
সবিতার ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে দেখা যায়, শুরু থেকেই তিনি একটু ভিন্ন ধরনের চরিত্র ও প্রকল্প বেছে নিয়েছেন। গ্ল্যামারাস চরিত্রের বাইরে তিনি বরাবরই শক্তিশালী নারী চরিত্রে কাজ করতে আগ্রহী।

ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে

 এখন তিনি আন্তর্জাতিক তারকা—বলিউড থেকে হলিউড, দুই দুনিয়াতেই প্রতিষ্ঠিত নাম প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। কিন্তু ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলো মোটেও সহজ ছিল না। সম্প্রতি এক আলোচনায় প্রিয়াঙ্কা এমন এক অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন, যেখানে চুক্তি স্বাক্ষর করার পরও একটি চলচ্চিত্র থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছিল—এবং সেটিও নাকি সহ–অভিনেতার ইচ্ছায়।  

প্রিয়াঙ্কা জানান, ঘটনা তখনকার, যখন তিনি ২০০৭ সালের ‘সালাম–ই–ইশক’ ছবির শুটিং করছিলেন। নতুন একটি ছবির জন্য তিনি ইতিমধ্যে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন, শুটিং শুরুর অপেক্ষা। ঠিক সেই সময় তাঁর সহ–অভিনেতা সেটে এসে ব্যক্তিগতভাবে জানান, পরিচালক নাকি ‘ভুল করে’ তাঁকে ছবিতে নিয়েছেন, কারণ ছবিটি মূলত অন্য এক অভিনেত্রীর জন্য পরিকল্পিত ছিল।  

‘তিনি এসে বললেন, পরিচালক ভুল করেছেন, ছবিটি আসলে অন্য কারও করার কথা ছিল। আমরা অন্য আরেকটা ছবি করব, চিন্তা কোরো না,’—প্রিয়াঙ্কা স্মৃতিচারণা করেন। কথাগুলো বলেই তিনি নাকি খাবার খেয়ে চলে যান। আর ২২ বছর বয়সী অভিনেত্রী তখন ভেঙে পড়েছিলেন।  

প্রিয়াঙ্কা বলেন, সেই সিনেমাটি তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু হাতে চুক্তিপত্র থাকলেও বাস্তবে কিছুই করার ছিল না। ‘আমি ভাবছিলাম—চুক্তি তো সাইন করা, তাহলে কীভাবে সম্ভব?’—এই প্রশ্নের উত্তর তখন তিনি পাননি। শিল্পের অঘোষিত রাজনীতি তাঁকে বারবার এমন পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে।  

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

শুধু এই একটি ঘটনা নয়, আরও কয়েকটি ছবি তাঁর কাছ থেকে ‘সরে গেছে’ বলে জানান তিনি। কখনো প্রধান চরিত্র থেকে দ্বিতীয় চরিত্রে নেমে আসতে হয়েছে, কখনো অন্য কাউকে জায়গা দিতে হয়েছে। তখন ‘নেপোটিজম’ শব্দটি এত প্রচলিত না হলেও শিল্পের ভেতরের সম্পর্ক আর ক্ষমতার প্রভাব যে কতটা কাজ করত, সেটি ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করেছিলেন প্রিয়াঙ্কা।

এই ধাক্কাগুলো তাঁকে একসময় নিজের ক্যারিয়ার নিয়েই প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছিল। এমনকি কলেজে ফিরে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেন—অভিনয়ে মনোযোগ বাড়াবেন, নিজের কাজ দিয়েই জায়গা করে নেবেন।
‘আমি ঠিক করি, কাজের ওপরই ফোকাস করব। সেটাই আমাকে ধরে রেখেছিল এবং আরও কাজ এনে দিয়েছিল,’—বলেছেন তিনি।
তবে কোন ছবি থেকে বাদ পড়েছিলেন আর কোন নায়কের এতে সায় ছিল—সে কথা অবশ্য বলেননি অভিনেত্রী।

২০০৩ সালে ‘আন্দাজ’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হওয়ার পর প্রিয়াঙ্কা দ্রুত জনপ্রিয়তা পান। তবে একই সময়ে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশ করেছিলেন বহু তারকার সন্তান, তখনই তিনি বুঝে ফেলেন—সবাই সমান জায়গা থেকে দৌড় শুরু করে না। তাঁর ভাষায়, ‘কেউ আমার জন্য সিনেমা বানাচ্ছিল না। কারও বাড়ির মানুষও ছিলাম না আমি।’

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

তবু এই লড়াইই হয়তো তাঁকে গড়ে দিয়েছে অন্যভাবে। বৈচিত্র্যময় চরিত্র খুঁজে নেওয়া, নিজেকে বারবার নতুন করে তৈরি করা—এই পথ ধরেই তিনি পরবর্তী সময়ে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছান।

প্রিয়াঙ্কা শেষবার ভারতীয় ছবিতে অভিনয় করেছিলেন ২০১৯ সালের ‘দ্য স্কাই ইজ পিংক’–এ। সামনে তাঁকে দেখা যাবে পরিচালক এস এস রাজামৌলির নতুন সিনেমা ‘বারানসি’–তে যা মুক্তির কথা রয়েছে ২০২৭ সালে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

শহরে সবে সন্ধ্যা নেমেছে। বাইরে আলো-আঁধারির মিতালি, ভেতরে প্রস্তুত অন্য আলোয় ভেসে যাওয়ার আয়োজন। হঠাৎ মঞ্চের আলোকচ্ছটা বদলে গেল। ভেসে এল সুরের মূর্ছনা। শুরু হলো রং, নকশা আর তারুণ্যের এক বর্ণিল উপস্থাপনা।

এই উপস্থাপনা দেখা গেল গতকাল সোমবার। চট্টগ্রাম নগরের হোটেল র‍্যাডিসন ব্লু বে ভিউর মেজবান হলে বসেছিল ‘আদি মোহিনী মোহন কাঞ্জিলাল-প্রথম আলো ঈদ ফ্যাশন’ আয়োজন। দুই ঘণ্টার এই আয়োজনে সুর, নৃত্য ও ফ্যাশন মিলে তৈরি করে উৎসবের আবহ। ঈদ সামনে রেখে নতুন পোশাকের ধারা দেখতে সেখানে ভিড় করেন বন্দরনগরের ফ্যাশনপ্রেমীরা।

চট্টগ্রামে এ আয়োজন নতুন নয়। ১৯৯৮ সালে শুরুর পর থেকে নিয়মিতভাবেই ঈদকে ঘিরে এই ফ্যাশন আসর বসছে। এবার ছিল ২৫তম আয়োজন। অংশ নেন সাতজন নির্বাচিত ডিজাইনার। তাঁরা হলেন ফারজানা মালিক, সুলতানা নুরজাহান রোজী, সায়মা সুলতানা, এইচ এম ইলিয়াছ, আইভি হাসান, নূজহাত নূয়েরী কৃষ্টি ও নাসরিন সরওয়ার মেঘলা।

তাঁদের নকশায় ফুটে ওঠে আসন্ন ঈদের আবহ, সময়ের ধারা আর ঐতিহ্যের ছোঁয়া। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সমাজে ইতিবাচক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই প্রথম আলো নানা আয়োজন করে থাকে। কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা, শিক্ষক সম্মাননাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ তার উদাহরণ। ঈদ ফ্যাশনও সেই ধারার একটি আয়োজন। প্রতিবছর এই অনুষ্ঠানের জন্য চট্টগ্রামের ফ্যাশনপ্রেমীরা অপেক্ষা করেন। এই মঞ্চ থেকেই অনেক ডিজাইনারের পথচলা শুরু হয়েছে। নতুনদের অনুপ্রেরণা জোগানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

নকশায় বৈচিত্র্য

অনুষ্ঠানে মূল আকর্ষণ ছিল ডিজাইনারদের একক কিউ। নির্বাচিত সাত ডিজাইনার একে একে তাঁদের সংগ্রহ নিয়ে মঞ্চে হাজির হন। শুরুতেই ডিজাইনার ফারজানা মালিকের নকশায় বোনা পোশাক পরে হাজির হন আট মডেল।

দুটি শাড়ি, চারটি নজরকাড়া সালোয়ার–কামিজ আর দুটি পাঞ্জাবি—একটির পর একটি র‍্যাম্পে উঠতেই আবহ বদলে যায়। পেছনে ভেসে আসে কাজী নজরুল ইসলামের গানের সুর। পোশাকের রং, আলো আর সুরের মেলবন্ধনে মুহূর্তেই মিলনায়তন ডুবে যায় এক উচ্ছ্বসিত আবেশে; দর্শকেরা যেন হাততালি আর মুগ্ধতায় সাড়া দেন প্রতিটি পদচারণে।

এভাবে প্রতিটি কিউ যেন আলাদা গল্প তুলে ধরে। কারও নকশায় ঐতিহ্যের পুনঃপাঠ, কারও কাজে আধুনিকতার সাহসী ছাপ। বসন্ত, মহান একুশে ফেব্রুয়ারি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; নানা থিম নিয়ে সাজানো হয় প্রতিটি পোশাক।

ক্যাটওয়াকে এক মডেল। গতকাল চট্টগ্রাম নগরের হোটেল র‍্যাডিসন ব্লু বে ভিউর মেজবান হলে
ক্যাটওয়াকে এক মডেল। গতকাল চট্টগ্রাম নগরের হোটেল র‍্যাডিসন ব্লু বে ভিউর মেজবান হলে
 

মডেলরা শাড়ি, সালোয়ার–কামিজ, পাঞ্জাবি, শার্ট, লেহেঙ্গা ও গাউন পরে র‍্যাম্পে হাঁটেন। একই ডিজাইনারের কিউতেই দেখা যায় বৈচিত্র্য। কখনো পরিমিত কারুকাজ, কখনো জমকালো অলংকরণ; কোথাও নরম রঙের ব্যবহার, কোথাও গাঢ় আভা। ফলে পুরো আয়োজনজুড়ে প্রতিটি কিউ হয়ে ওঠে স্বতন্ত্র। আবার সম্মিলিতভাবে তৈরি করে ঈদ ফ্যাশনের সামগ্রিক ছবি।

ডিজাইনাররা জানান, ঈদের পোশাক নকশায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আরামদায়ক কাপড় ও আবহাওয়ার উপযোগিতায়। রঙের প্যালেটে রাখা হয়েছে উজ্জ্বলতা ও নরম টোনের ভারসাম্য। ঐতিহ্যবাহী মোটিফকে আধুনিক কাট ও মিনিমাল ধারায় উপস্থাপন করা হয়েছে। লক্ষ্য একটাই—উৎসবের আনন্দের সঙ্গে পরিধানকারীর স্বাতন্ত্র্যকে তুলে ধরা।

অনুষ্ঠানে অন্যতম আকর্ষণ ছিল আদি মোহিনী মোহন কাঞ্জিলালের ফ্যাশন কিউ। জমকালো শাড়ি ও পাঞ্জাবি মাতোয়ারা করে দেয় দর্শকদের।

মঞ্চে হঠাৎ মেহজাবীন

অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী এবং চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্মাতা রেদওয়ান রনি। দেশের অন্যতম ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘চরকি’তে এবারে ঈদে মুক্তি পেতে যাচ্ছে মেহজাবীন চৌধুরী ও প্রীতম হাসান অভিনীত ওয়েব ফিল্ম ক্যাকটাস। পাশাপাশি রেদওয়ান রনির নতুন চলচ্চিত্র দম মুক্তি পাচ্ছে বড় পর্দায়।

তাঁরা অভিজ্ঞতার কথা, কাজের নেপথ্য গল্প আর দর্শকের সাড়া—এসব নিয়েই কথা বলেন। তাঁদের উপস্থিতিতে মিলনায়তনে তৈরি হয় বাড়তি উচ্ছ্বাস।

ফ্যাশন কিউর ফাঁকে গান শোনান তরুণ শিল্পী আরিয়ান চৌধুরী। নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পী প্রমা অবন্তি ও স্বপন বড়ুয়া। সুর ও নৃত্যের এই সংযোজন পুরো আয়োজনে এনে দেয় বৈচিত্র্য।

অনুষ্ঠানের সহযোগী ছিল বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ ও ফ্যাশন হাউস মেঘরোদ্দুর। সার্বিক সহযোগিতায় ছিল প্রথম আলো চট্টগ্রাম বন্ধুসভা। রূপচর্চার সহযোগী ছিল পারসোনা।

সমাপনী পর্বে আদি মোহিনী মোহন কাঞ্জিলাল বাংলাদেশের কর্ণধার শিবলি মাহমুদ সুমন বলেন, প্রতিটি পোশাকেই নকশা, রং বাছাই ও ভাবনায় তারুণ্য ধরা পড়েছে। পাশাপাশি ছিল ঐতিহ্য। এমন আয়োজনে যুক্ত থাকতে পেরে তাঁরা আনন্দিত।

বার্জার পেইন্টসের হেড অব ওয়ার্কস কাউসার হাসান বলেন, ‘ঈদ মানেই নতুন পোশাক, নতুন স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের রং ও বুনন যেন এই সন্ধ্যায় ছুঁয়ে গেল চট্টগ্রামের ফ্যাশনপ্রেমীদের মন। এই আয়োজন শুধু পোশাক প্রদর্শনী নয়, বরং সময় ও রুচির এক জীবন্ত দলিল হয়ে থাকল। বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত আছে। ভবিষ্যতেও থাকবে বলে আমরা আশা করি।’

আবারও তহবিল পেল বাংলাদেশের সিনেমা ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড।’ ইতালির ফ্যাশন হাউস প্রাডার সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ফন্ডাজিওনে প্রাডা থেকে এই তহবিল পেল সিনেমাটি। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির ঘোষিত তালিকায় দেখা যায়, এ বছর বাংলাদেশের সিনেমাটিসহ ১৪টি দেশের সিনেমার প্রকল্প এই অনুদান পাচ্ছে।

সব কটি সিনেমা ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার সহায়তা পাবে। এই তালিকায় দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড পাবে ১ কোটি ১৬ লাখ টাকার তহবিল (৮০ হাজার ইউরো)। এর আগে একক ভাবে দেশের কোনো সিনেমা এত বড় অঙ্কের সহায়তা কোনো সিনেমা পায়নি।

ফন্ডাজিওনে প্রাডা সাইট থেকে জানা যায়, নির্বাচিত প্রকল্পগুলোর নির্মাতাদের মধ্যে ছয়জন নারী ও আটজন পুরুষ রয়েছেন। বাংলাদেশের দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন নারী নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন। তিনি রোববার রাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রথম আলোকে জানান, বেশ কয়েক দিন আগেই শুনেছেন পোস্ট প্রোডাকশন প্রকল্প হিসেবে তাঁর সিনেমাটি তহবিল–সহায়তা পাচ্ছে।

পরিচালক  রুবাইয়াত হোসেন
পরিচালক রুবাইয়াত হোসেন
 

সিনেমাটির সম্পাদনার কাজ শেষ করে ফ্রান্স থেকে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন রুবাইয়াত। এবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পর্তুগালের লিসবনে যাওয়ার সেখানে আবহসংগীতসহ (ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর) বেশ কিছু কাজ রয়েছে। তবে বড় চিন্তা ছিল সিনেমাটির ভিডিও ইফেক্টের গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ে। কারণ, এর জন্য বড় অঙ্কের অর্থ দরকার ছিল। এমন সময়ে তিনি এই তহবিলের সুসংবাদ পান।

‘এটা আমার জন্য অনেক বড় খবর। আমার সিনেমাটি হরর ঘরানার। অনেক ভিডিও ইফেক্টের কাজ রয়েছে। সেগুলো এ সময়ে পেশাগতভাবে (প্রফেশনাল) করার জন্য অনেক অর্থ দরকার। সেখানে এই তহবিল আমাদের নতুন আশা দেখাচ্ছে। এখন আমরা কাজটি আরও সুন্দরভাবে করতে পারব। আমরা হয়তো পোস্টের যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলাম, সেই জায়গাটি পার করতে পারব’, বলেন রুবাইয়াত।

‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রাথমিক পোস্টার। ছবি: পরিচালকের সৌজন্যে
‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রাথমিক পোস্টার। ছবি: পরিচালকের সৌজন্যে

নির্বাচিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে চারটি চিত্রনাট্য উন্নয়ন (ডেভেলপমেন্ট) পর্যায়ে রয়েছে, ৯টি নির্মাণাধীন (প্রোডাকশন) সিনেমা এই তহবিলের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। পাশাপাশি পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ চলছে—এমন একটি সিনেমার তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের সিনেমাটি। এসব প্রকল্পে ৫ মহাদেশের ২৬টি দেশের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে।

‘আমি দেশের প্রচলিত গল্প নিয়ে কাজ করতে চাই। যে গল্পে উঠে আসবে আমাদের নারীদের কথা। আমাদের নিজস্ব কথা, আমাদের সংস্কৃতির কথা। আমাদের নিজস্ব গল্পগুলোর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাহিদা রয়েছে বলেই কিন্তু আমাদের সিনেমাটি নানান জায়গা থেকে সহায়তা পাচ্ছে। বিভিন্ন দেশের প্রযোজক যুক্ত হচ্ছেন। ডিস্ট্রিবিউটর আসছে। হয়তো আমরা যে স্বপ্ন নিয়ে সিনেমাটি বানিয়েছি সেই জায়গাটায় পৌঁছাতে পারব।’

বিয়ে, মেকআপ ও একটি বিউটি পারলারের গল্প নিয়েই এই সিনেমা। এর মধ্যে তুলে ধরেছেন সচেতনতার বার্তা। সিনেমার জনরা সামাজিক হলেও এর সঙ্গে যোগ হয়েছে হরর ঘরানা। এর আগে মেহেরজান, আন্ডার কনস্ট্রাকশন, মেড ইন বাংলাদেশ সিনেমাগুলো বানালেও এবার প্রথম হরর বেছে নিয়েছেন তিনি। জানালেন এবারের গল্পটা তাঁর শৈশবে পারলারে চুল কাটাতে যাওয়ার দিনগুলোতে শোনা গল্প। যে গল্পের প্রধান উপাদান তাকে প্রতিবার পারলারে গিয়ে চুল কাটতে গিয়ে ভয়ের জগতে নিয়ে যেত। সেই শোনা গল্পটিই একটু একটু করে এক যুগের বেশি সময় ধরে ডানা মেলেছে। তবে সেই গল্প এখনই প্রকাশ করতে চান না।

সিনেমায় অভিনয় করেছেন  আজমেরী হক বাঁধন,সুনেরাহ্‌ বিনতে কামাল ও রিকিতা নন্দিনী শিমু। কোলাজ
সিনেমায় অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন,সুনেরাহ্‌ বিনতে কামাল ও রিকিতা নন্দিনী শিমু। 
 

রুবাইয়াতের এই সিনেমা এর আগে জার্মান ওয়ার্ল্ড সিনেমা ফান্ড, পর্তুগালের ফিল্ম ইনস্টিটিউট, ইউইমেজেসসহ বেশ কিছু জায়গা থেকে আর্থিক সহায়তা পায়। পর্তুগাল, নরওয়ে, জার্মানি, ফ্রান্স ও বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনায় সিনেমাটির শুটিং শেষ হয়। তবে এবারের অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা। কারণ, তিনি বিখ্যাত সব নির্মাতার সঙ্গে এই তহবিল পাচ্ছেন।

প্রশংসিত নির্মাতাদের মধ্যে রয়েছেন কান চলচ্চিত্র উৎসবের স্বর্ণপাম জয়ী থাই নির্মাতা আপিচাতপং দারাসেথাকুল। তিনি এবার জেনজিরাস ম্যাগনিফিসেন্ট ড্রিম নিয়ে আসছেন। ম্যাক্সিকান পরিচালক তাতিয়ানা হুয়েজো, যিনি ২০২৩ সালে দ্য ইকো সিনেমার জন্য বার্লিনের এনকাউন্টারস বিভাগে সেরা পরিচালকের পুরস্কার পান, তাঁর আগে কান উৎসব থেকে তাঁর প্রেয়ার্স ফর দ্য স্টোলেন আঁ সার্তে রিগা বিভাগে বিশেষ স্বীকৃতি পায়। এ ছাড়া আছেন জর্জিয়ান-সুইডিশ পরিচালক লেভান আকিন; বার্লিন থেকে জুরি পুরস্কার পেয়েছিল তাঁর ক্রসিং সিনেমাটি। ফন্ডাজিওনে প্রাডা ফিল্ম ফান্ড প্রথমবারের মতো বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের মাধ্যমে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে অর্থায়ন করছে।

সিনেমার প্রধান চরিত্রে দেখা যাবে জাইনীন করিমকে। আগে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করা জাইনীনের এবারই সিনেমায় অভিষেক হচ্ছে। দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইডে অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, সুনেরাহ বিনতে কামাল ও রিকিতা নন্দিনী শিমু। সবশেষে পরিচালক জানান, সিনেমাটি নিয়ে শীর্ষ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যেতে চান।

চিত্রনায়িকা শাহনূর বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ। বিভিন্ন পরীক্ষা–নিরীক্ষার পর তাঁর শরীরে টিউমার ধরা পড়েছে। এমআরআই পরীক্ষার ফলাফল হাতে পাওয়ার পর চিকিৎসকেরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন। আজ সোমবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাহনূর নিজেই।

শাহনূর জানান, তাঁর প্যানক্রিয়াসে টিউমার শনাক্ত হয়েছে এবং বর্তমানে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের জুইশ হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। বাংলাদেশ সময় সোমবার সকালে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, দু–এক দিনের মধ্যেই তাঁর অস্ত্রোপচার করা হতে পারে। দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে শারীরিক অবস্থা জটিল হয়ে উঠতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শাহনূর
শাহনূর, ছবি : সংগৃহীত

এ পরিস্থিতিতে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন এই অভিনেত্রী। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, তিনি একজন ক্ষুদ্র মানুষ—কথা, কাজ বা ব্যবহারে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা করে দিতে অনুরোধ জানিয়েছেন। ২৬ বছরের অভিনয়জীবনে নিজের জন্য কিছু না করে সব সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পথশিশু ও প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে কাজ করা, বৃদ্ধাশ্রমের বাবা–মায়েদের পাশে থাকা—এসব কাজেই তিনি নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন বলে জানান।
শাহনূর আরও লেখেন, জীবনে কখনো নিজের জন্য ফ্ল্যাট বা দামি গাড়ি কেনেননি। তাঁর বিশ্বাস, ধনসম্পদ মৃত্যুর পর সঙ্গে যায় না; মানুষের জন্য করা কাজ ও তাদের দোয়াই শেষ পর্যন্ত সঙ্গে থাকে। তাই এই কঠিন সময়ে সবার ভালোবাসা ও দোয়া কামনা করেছেন তিনি।

একসময় চলচ্চিত্রে নিয়মিত মুখ হলেও বর্তমানে অভিনয়ে অনিয়মিত শাহনূর। গত এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন ভক্ত ও সহকর্মীরা।

৬ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পেয়েছে জয়া আহসান অভিনীত সৌকর্য ঘোষাল পরিচালিত সিনেমা ‘ওসিডি’। সিনেমাটির প্রচারে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ওয়ালের সঙ্গে ভিডিও সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশি অভিনেত্রী। এই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে সিনেমা ছাড়াও নানা প্রসঙ্গ।

দুই বাংলার সিনেমা নিয়ে কতটা আশাবাদী? এমন প্রশ্নের উত্তরে জয়া বলেন, ‘আমি দুটো (দুই বাংলার সিনেমা) নিয়েই তো আশাবাদী। এখানে “ওসিডি”র মতো ছবি রিলিজ করছে এবং দর্শক দেখেছে। এর আগে “ডিয়ার মা”, “পুতুলনাচের ইতিকথা” করেছি; প্রত্যেকটি ডিফারেন্ট ডাইমেনশনের কাজ (ভিন্ন ধরনের)। একজন আর্টিস্ট হিসেবে কাজগুলো পাওয়া আমার জন্য খুব ভাগ্যের ব্যাপার। এখন এসেছে “ওসিডি”, সেখানে পারফরমেন্সটা খাবার একটা জায়গা আছে। আমি কতটুকু পেরেছি, আমি বলব না। তিনটা সিনেমা তিন ধরনের—একটি একেবারে পারিবারিক, একটি একদম ক্ল্যাসিক এবং এখন যেটা হচ্ছে, সেটার ভেতরে একটা প্রচণ্ড শক্তিশালী সামাজিক বার্তা আছে।’

গত বছরে তাঁর অভিনীত বাংলাদেশি সিনেমার সাফল্যের কথা তুলে ধরে জয়া আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ নানা রকম পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমার দুটে ছবি “উৎসব” ও “তান্ডব” ব্লকবাস্টার সুপারহিট। এরপর সামনে আরও খুব ভালো ভালো দারুণ কিছু ছবি আসবে, “রইদ” নামে একটি ছবির ট্রেলার আপনারা দেখেছেন, অসাধারণ ছবি হবে।’

জয়া অভিনীত পশ্চিমবঙ্গের সিনেমাগুলো বাংলাদেশে মুক্তি পায় না, একইভাবে ঢাকার সিনেমাও কলকাতায় মুক্তি পায় না। জয়া আশা করেন, অদূর ভবিষ্যতে এটা ঠিক হয়ে যাবে।

‘ওসিডি’ সিনেমায় জয়া। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
‘ওসিডি’ সিনেমায় জয়া। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

একই সাক্ষাৎকারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে জয়া আহসান বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া তো আসলে আমার ব্যক্তিগত জায়গা নয়; এটা জয়া আহসানের ইমেজটাকে দেখার জায়গা। একেবারেই আনুষ্ঠানিক একটা জায়গা। তারপরও আমি মাঝেমধ্যে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র শেয়ার করি।’

সাক্ষাৎকারের শেষ অংশ ‘র‍্যাপিড ফায়ার’–এ ১০টি প্রশ্নের উত্তর দেন জয়া। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোন বিষয়টি বেশি উপভোগ করছেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে জয়া বলেন, ‘আমি দেখতে আমার বাবার মতো হয়ে যাচ্ছি।’
এ ছাড়া জয়া জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আরও অ্যাডভেঞ্চারাস হয়ে যাচ্ছেন। এমন কিছু নেই, যা করতে নিজেকে ‘না’ করেন।

জয়া আহসান। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
জয়া আহসান। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

‘আমাদের সবার প্রিয় তানিয়া বৃষ্টি বর্তমানে শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ। এ মুহূর্তে তাঁর সম্পূর্ণ বিশ্রাম ও চিকিৎসা প্রয়োজন। অনুরোধ করছি শুটিং বা কাজ–সংক্রান্ত বিষয়ে আপাতত ফোনকল/খুদে বার্তা দিয়ে বিরক্ত না করার জন্য। সুস্থ হয়ে উঠলে ইনশা আল্লাহ নিজে থেকেই সবাইকে জানানো হবে।’

তানিয়া বৃষ্টি
তানিয়া বৃষ্টি, ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে
 

মডেল ও অভিনয়শিল্পী তানিয়া বৃষ্টির ফেসবুক থেকে এভাবেই তাঁর অসুস্থতার খবর জানিয়ে পোস্ট দেওয়া হয়। এরপর গতকাল শনিবার আরেক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা। আমার পরিবারের পক্ষ থেকে ফুল। ভালোবাসি। কাল আমার মাথায় অস্ত্রোপচার, দোয়া করবেন সবাই। ব্রেন টিউমার।’

তানিয়া বৃষ্টির ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হওয়ার খবরে তাঁর সহকর্মীরা দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন। আজ রোববার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে কথা হয় পরিচালক সকাল আহমেদের সঙ্গে।

তানিয়া বৃষ্টি
তানিয়া বৃষ্টিছবি: শিল্পীর সৌজন্যে

প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে সকাল আহমেদ বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থতা অনুভব করছিলেন তানিয়া। কখনো তীব্র মাথাব্যথা অনুভব করতেন, কখনোবা জ্বর-ঠান্ডা লেগে থাকত তাঁর। কিন্তু খুব একটা পাত্তা দেননি। কয়েক দিন আগে পরিস্থিতি একটু খারাপ হলে উত্তরার একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এরপর পরীক্ষা–নিরীক্ষা শেষে জানা যায়, তানিয়া ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত।

তানিয়া বৃষ্টি
তানিয়া বৃষ্টি, ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে
 

ঢাকার উত্তরার একটি হাসপাতাল থেকে পরে তানিয়া বৃষ্টিকে আরেকটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় বলে জানান সকাল আহমেদ। আজ বিকেল চারটায় তাঁর অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত হয়। সন্ধ্যা সাতটায় কথা হলে সকাল আহমেদ বলেন, ‘খবর নিয়ে জেনেছি, অস্ত্রোপচার চলছে। মস্তিষ্কের বিষয় তো, তাই কিছুটা চিন্তার বিষয়। অস্ত্রোপচার ঠিকঠাক হলে আজ রাতটা পোস্ট অপারেটিভে রাখা হবে। আগামীকাল সোমবার যেকোনো সময় তাঁকে কেবিনে নেওয়া হতে পারে।’

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বহুল আলোচিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আজ। দুই প্রতিবেশী ‘হাই ভোল্টেজ’ ম্যাচ খেলতে এখন আছে শ্রীলঙ্কায়। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এবারের সফরে খেলোয়াড়দের তাঁদের স্ত্রী বা প্রেমিকাকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। হার্দিক পান্ডিয়ার সঙ্গে আছেন তাঁর প্রমিকা মাহিকা শর্মা। খেলার আগে নতুন করে আলোচনায় এই তারকা জুটি।

ভালোবাসা দিবসে বিশেষ চমক
এদিকে ভালোবাসা দিবসে হার্দিক পান্ডিয়া প্রেমিকাকে উৎসর্গ করে ট্যাটু করেছেন, যা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায়। ট্যাটু আর্টিস্ট সানি ভানুশালির টিম জানিয়েছে, শুরুতে ক্রিকেটারের ভাবনা ছিল খুব সূক্ষ্মভাবে প্রেমিকাকে ট্রিবিউট দেওয়া। কিন্তু আলোচনার পর ধারণাটি আরও গভীর অর্থবহ রূপ নেয়। শুধু একটি অক্ষর নয়, পুরো ডিজাইন তৈরি করা হয়েছে দুটি চিতাবাঘের মোটিফ দিয়ে। একটি চিতা শক্তি, আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে। এক চিতা প্রথমটির চারপাশে ঘুরে গিয়ে সূক্ষ্মভাবে ‘এম’ অক্ষরের আকৃতি তৈরি করেছে। এই ‘এম’ দিয়ে যে মাহিকাকে বোঝানো হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

[caption id="attachment_267288" align="alignnone" width="708"] মাহিকা শর্মা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption]

ট্যাটুশিল্পীর ভাষায়, এটি নাকি এমন এক সম্পর্কের প্রতীক, যেখানে দুজন একে অপরের শক্তিকে আরও বড় করে তোলে।
স্ত্রী নাতাশা স্তানকোভিচের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর হার্দিক পান্ডিয়া সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন গায়িকা জেসমিন ওয়ালিয়ার সঙ্গে। সেই সম্পর্ক ভাঙার খবরের পর এবার মডেল ও অভিনেত্রী মাহিকা শর্মার সঙ্গে প্রেম করছেন হার্দিক।

[caption id="attachment_267287" align="alignnone" width="715"] মাহিকা শর্মা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption]

দিল্লির মেয়ে মাহিকা
মাহিকার বেড়ে ওঠা দিল্লিতে। নেভি চিলড্রেন স্কুল থেকে স্কুলজীবন শেষ করার পর তিনি কলেজে অর্থনীতি ও ফাইন্যান্সে পড়াশোনা করেন। পড়াশোনায় ছিলেন মেধাবী—দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় পেয়েছিলেন ১০ সিজিপিএ। পড়াশোনার সময়ই বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইন্টার্নশিপ করেছেন, যার মধ্যে ছিল অর্থনীতি, শিক্ষা ও তেল–গ্যাসসংক্রান্ত কৌশল–পরিকল্পনা।

[caption id="attachment_267286" align="alignnone" width="718"] মাহিকা শর্মা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption]

শিক্ষাজীবন শেষে বিনোদন দুনিয়ায় পা রাখেন মাহিকা। তিনি অভিনয় ও মডেলিং শুরু করেন। ভারতীয় র‌্যাপার রাগার এক মিউজিক ভিডিওতে দেখা গেছে তাঁকে। এ ছাড়া ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয় করেছেন অস্কারজয়ী নির্মাতা অরল্যান্ডো ভন আইন্সিডেলের ‘ইনটু দ্য ডাক’ ও ওমঙ্গ কুমারের ‘নারেন্দ্র মোদি’ (২০১৯) ছবিতে, যেখানে প্রধান ভূমিকায় ছিলেন বিবেক ওবেরয়। বড় বড় ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন চিত্রেও কাজ করেছেন তিনি।

[caption id="attachment_267285" align="alignnone" width="722"] মাহিকা শর্মা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption]

ফ্যাশন দুনিয়ায়ও সফল মাহিকা। তিনি হেঁটেছেন ভারতের শীর্ষ ডিজাইনারদের র‌্যাম্পে—অনীতা দোংরে, রিতু কুমার, তরুণ তাহিলিয়ানি, মনীশ মালহোত্রা ও অমিত আগারওয়ালের মতো নামকরা ডিজাইনারদের শোতে। ২০২৪ সালে ইন্ডিয়ান ফ্যাশন অ্যাওয়ার্ডসে জিতেছেন মডেল অব দ্য ইয়ার (নিউ এজ) খেতাব। এ ছাড়া এল ম্যাগাজিনও তাঁকে মডেল অব দ্য সিজন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

হিন্দুস্তান টাইমস ও ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে