জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার প্রতিদিন জ্বালানি তেলে ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম (অমিত)। আজ শুক্রবার দুপুর ১২টায় যশোরে দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের কষ্ট লাঘবে সরকার কাজ করছে। বহির্বিশ্বের অস্থিরতার মধ্যেও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেনি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বিদ্যুৎ, গণপরিবহন ও খাদ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়। চতুর্দিক থেকে চাপ থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা করেনি সরকার। জনগণের দুর্ভোগ কোনো কারণে যাতে না বাড়ে, সেটি নিশ্চিত করতে প্রতিদিন সরকার ১৬৭ কোটি টাকা জ্বালানি তেলে ভর্তুকি দিচ্ছে।’

আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত জনগণের জ্বালানি তেলের চাহিদা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে দাবি করে অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, ‘জ্বালানি তেল নিয়ে অনেকের মধ্যে উদ্বেগ–উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। এখন পর্যন্ত পৃথিবীর ৮০টা দেশ জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করলেও বাংলাদেশ সরকার জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির পরিকল্পনা করেনি। সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রেখেছে। কিন্তু আমাদের চাহিদা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে প্রতিদিন গড়ে ডিজেলের চাহিদা ছিল ১২ হাজার টন। পেট্রল–অকটেনের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টন। ঈদের আগে প্রতিদিন ২৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছে। বতর্মান সরকার আগামী এপ্রিল পর্যন্ত জনগণের জ্বালানির চাহিদা নিশ্চিত করতে সক্ষম। আগামী দিনগুলোতেও যাতে সরকার ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করতে পারে, সেটির কাজও শুরু হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করে সমাজসেবা অধিদপ্তর। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ১৫৩ জন দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তির হাতে এককালীন আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন প্রধান অতিথি অনিন্দ্য ইসলাম। এ সময় তিনি জানান, রাষ্ট্রের সব নাগরিকের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণে ১৯৯১ সালে সরকার গঠনের পর সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর ভাতা কর্মসূচি চালু করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। পরে বিভিন্ন সরকার উপকারভোগী ও ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে। আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হয়েছেন।

বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে যশোর-৩ আসন থেকে জয় পাওয়া অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনের আগে মানুষের দোরগোড়ায় গিয়েছি। বঞ্চিত মানুষের আকুতি শুনেছি। আমরা চাই, যাঁদের ভাতা প্রাপ্তির হক আছে, তাঁরাই যেন পান। উপকারভোগী বাছাইয়ে যেন রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় পরিচয় প্রাধান্য না পায়। সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের কাজ শুরু করেছে। ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু হয়েছে। ধর্মগুরুদের সম্মানী চালু হয়েছে। পয়লা বৈশাখে কৃষক কার্ড চালু হবে। রাষ্ট্রের পাশাপাশি জনগণ প্রতিবেশী ও আত্মীয়ের হক আদায় করলে সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমে আসবে।’

যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সমাজসেবা অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক হারুন অর রশিদ। উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন (খোকন), পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান (টুকুন) প্রমুখ।

বিশ্ববাজারে সোনার দাম এখনো কম থাকায় দেশে সোনার দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। আজ শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সোনার ভরিতে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৫৯০ টাকা কমেছে। গত বুধবার ভরিতে কমেছিল ৫ হাজার ৪৮২ টাকা।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আজ সকাল ১০টায় সোনার নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। সব মিলিয়ে ১২ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত ১৬ দিনে সোনার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার ৫৭৫ টাকা কমেছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, হলমার্ক করা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা। আর ২১ ক্যারেটের সোনার দাম ভরিতে ৬ হাজার ২৯৯ টাকা কমে হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা।

এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৫ হাজার ৩৬৬ টাকা কমে নতুন দাম হয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে দাম কমে হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা।

গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া এক ভরি ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকা।

বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা ক্রয় বৃদ্ধি ও বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ—সব মিলিয়ে সোনার দামে অনেক দিন ধরেই ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। বিশ্ববাজারে সোনার দাম গত বছর ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গত জানুয়ারিতে স্পটমার্কেটে প্রতি আউন্স (৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম) সোনার দাম ৫ হাজার ৬০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তার প্রভাবে দেশের বাজারে গত ২৯ জানুয়ারি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের এই অনিশ্চয়তার সময়েও সোনার বাজারে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। সোনার দাম না বেড়ে বরং প্রায় স্থির হয়ে ছিল। তবে গত সপ্তাহের শেষ দিকে সোনার দাম পড়তে শুরু করে।

সম্প্রতি রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের সঙ্গে সংঘাত প্রশমনের সম্ভাবনা এবং এর ফলে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হারের ওপর প্রভাব—এই পরস্পরবিরোধী সংকেত মূল্যায়ন করছেন।

আজ দুপুর সোয়া ১২টায় বিশ্ববাজারের স্পটমার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ৪ হাজার ৪৬৭ ডলার। এই দাম গতকালের তুলনায় ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেশি। গত সোমবার স্পটমার্কেটে সোনার দাম একপর্যায়ে কমে ৪ হাজার ১০০ ডলারের ঘরে নেমে যায়, যা কিনা গত ১১ ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন। তারপর ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা পাঁচ দিন স্থগিত করার ঘোষণা দিলে সোনার দাম বাড়তে থাকে।

দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণে তিন লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। আজ বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটির দিনে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভা৵র্চুয়াল সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

[caption id="attachment_270397" align="alignnone" width="835"] অর্থ মন্ত্রণালয়[/caption]

সভায় জানানো হয়, বৈশ্বিক অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারই  অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রয়ের মাধ্যমে সরাসরি পদ্ধতিতে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে এই ডিজেল কেনা হবে। এর মধ্যে এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের কাছ থেকে এক লাখ মেট্রিক টন ডিজেল কেনা হবে। পাশাপাশি সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল (গ্রুপ) লিমিটেডের কাছ থেকে আরও দুই লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

দেশের বাজারে জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে চলমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি সহজ করতে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একক গ্রাহকের ঋণসীমার ২৫ শতাংশ শর্ত এলপিজি আমদানিকারকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। এই সীমা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। 

জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে বুধবার (২৫ মার্চ) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইনে এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে যে ২৫ শতাংশ ঊর্ধ্বসীমা রয়েছে, তা আপাতত বহাল থাকবে না। এর বদলে কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ ঋণসীমা কত হবে, তা বাংলাদেশ ব্যাংক আলাদাভাবে নির্ধারণ করবে।

একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, এই সুবিধা শুধু এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। অন্য কোনো পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে একক ঋণগ্রহীতা সীমা অতিক্রমের সুযোগ থাকছে না।

জানা যায়, এই সুবিধার দাবিতে গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি আবেদন করেন এলপিজি ব্যবসায়ীরা। পরে নতুন সরকার গঠিত হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে একই দাবি উত্থাপন করেন এলপিজি ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক শর্ত শিথিলের সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এলপিজি বাজারে যাদের বাজার হিস্যা সবচেয়ে বেশি, তারা ১৩টি ব্যাংকের মাধ্যমে আমদানি করে। একক গ্রাহকের ঋণসীমা নিয়ে তাদের সমস্যা হচ্ছে না। যেসব ব্যবসায়ী প্রভাবশালী ও এক ব্যাংকনির্ভর, তারাই এ সুবিধার জন্য তোড়জোড় করেন। তাদের ঋণ পরিশোধের অতীত রেকর্ডও ভালো নয়। এরপরও গভর্নর তাদের সঙ্গে একমত হয়েছেন।

এর আগে, গত জানুয়ারিতে সরবরাহ সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করে বাকিতে এলপিজি আমদানির সুযোগ দেয়। তখন বলা হয়েছিল, অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট, বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বায়ার্স বা সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটে এলপিজি আমদানি করা যাবে। সে জন্য এলপিজিকে শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে গণ্য করা হবে এবং ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ২৭০ দিন।

সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পরে শুল্ক-ভ্যাটেও ছাড় দেয় সরকার। ফেব্রুয়ারি মাসে এলপিজির স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট-ট্যাক্স অব্যাহতির প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।

 

চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৪ দিনে ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। এর মাধ্যমে একক মাস হিসেবে রেমিট্যান্স প্রাপ্তিতে নতুন রেকর্ড গড়তে পারে মার্চ মাস। বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা ৩০৫ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। চলতি মাসে ছিল পবিত্র ঈদুল ফিতর। সাধারণত ঈদের মাসে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বেড়ে যায়। পরিবারের ঈদের খরচ মেটাতে প্রবাসীরা এ সময় বেশি অর্থ পাঠান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের মার্চ মাসে। সে সময় প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন মোট ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের ডিসেম্বরে। ওই মাসে দেশে আসে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে গত জানুয়ারিতে। এর পরিমাণ ছিল ৩১৭ কোটি মার্কিন ডলার।

এদিকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে ২ হাজার ৫৫০ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১০ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের একই সময় প্রবাসী আয় এসেছিল ২ হাজার ১২৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে প্রবাসী আয়ে ডলারের দাম বেড়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংকটের কারণে অর্থনীতির আসন্ন ধাক্কা সামলাতে বাংলাদেশ ব্যাংককে রিজার্ভ ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন শীর্ষস্থানীয় আট অর্থনীতিবিদ।

অর্থনীতিবিদেরা বলেছেন, সংকট কতটা হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। বৈশ্বিক সংকট হলে রিজার্ভ ও ডলারের ওপর চাপ আসবে। তাই রিজার্ভ ধরে রাখতে হবে। এ ছাড়া সুদহার কমাতে এখনই নীতি সুদহারে হাত দেওয়া ঠিক হবে না। আসন্ন চাপ কেটে গেলে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সুদহার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে এক সভায় অর্থনীতিবিদেরা এসব পরামর্শ দেন। তাঁরা বলেছেন, জ্বালানির জন্য মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তে বিকল্প উৎসের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও এখনই তা গ্রাহক পর্যায়ে চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। এতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৩৫১ কোটি মার্কিন ডলার। এই অর্থ বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা।

এর তিন মাস আগে সেপ্টেম্বরে বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ১১২ দশমিক ২১ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ২২১ কোটি ডলার। আর জুনের শেষে বিদেশি ঋণ ছিল ১১৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৩৫৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ বিদেশি ঋণ গত বছরের জুনের চেয়ে কমেছে, তবে সেপ্টেম্বরের তুলনায় বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকে সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাতেই বিদেশি ঋণ বেড়েছে। এসব ঋণের বড় অংশই দীর্ঘমেয়াদি।

[caption id="attachment_270301" align="alignnone" width="832"] অর্ন্তবর্তী সরকারের আমলে ঋণের পরিস্থিতি[/caption]

বিদেশি ঋণের পরিস্থিতি

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের বেশির ভাগ বা প্রায় ৮২ শতাংশ ছিল সরকারি খাতের। বাকিটা বেসরকারি শিল্প উদ্যোক্তাদের। ডিসেম্বর শেষে সরকারি খাতের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৩ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বেসরকারি খাতের ঋণ ছিল ২০ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন ডলার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট ঋণের মধ্যে ৮৭ দশমিক ৬২ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি এবং ১২ দশমিক ৩৮ শতাংশ স্বল্পমেয়াদি। সরকারি ঋণের মধ্যে ৮০ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার সরাসরি সরকার নিয়েছে। ১২ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকারি ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেওয়া।

বেসরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা তিন প্রান্তিকে এ খাতের ঋণ কমেছে। তবে শেষ প্রান্তিকে অর্থাৎ অক্টোবর–ডিসেম্বর শেষে তা আবার ২০ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। এ খাতের মোট স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ১০ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ঋণ ৬ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলার। বেসরকারি খাতের দীর্ঘমেয়াদি ঋণের স্থিতি ৯ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে ডলার–সংকট কাটাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংকসহ কয়েকটি বহুজাতিক সংস্থা থেকে ঋণ নেওয়া হয়। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে ঋণ নেওয়া হয়। এসব প্রকল্প থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে না। এ জন্য ঋণ পরিশোধের চাপ সামলাতে হবে সরকারকে। প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয়ের অর্থ দিয়ে বিদেশি ঋণ শোধ করতে হবে সরকার ও বেসরকারি খাতকে।

এদিকে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাস জুলাই-জানুয়ারিতে যত বিদেশি ঋণ এসেছে, এর চেয়ে বেশি শোধ করতে হয়েছে। এই সময়ে বিদেশি ঋণ ও অনুদান এসেছে ২৬৪ কোটি ১৬ লাখ ডলার। অন্যদিকে একই সময়ে সরকারকে বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও দেশের পাওনা বাবদ ২৬৭ কোটি ৬৮ লাখ ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে। কয়েক বছর ধরে বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়েছে। গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ৪ বিলিয়ন বা ৪০০ কোটি ডলারের বেশি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে।

২০২২ সালের শুরুতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর হওয়ার জেরে দেশে ডলারের দাম বাড়তে শুরু করে। এতে ডলারের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে বড় ঘাটতি দেখা দেয়। তখন ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২৩ টাকায় ওঠে। এতে দেশের মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়ে যায়, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তোলে। সংকট সামাল দিতে আওয়ামী লীগ সরকার তখন আমদানি নিয়ন্ত্রণ, বিদেশি ঋণ বাড়ানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। এরপরও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতন থামানো যায়নি। তবে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রিজার্ভের পতন থামাতে সক্ষম হয়েছিল। ডলারের বিনিময় হারেও এসেছে স্থিতিশীলতা।

ঋণ বেশি বেড়েছে কখন

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের মোট বিদেশি ঋণের স্থিতি ছিল ২০ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। ওই সরকারের সময় ২০০৮ সালে তা বেড়ে হয় ২২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার। ওই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেয়। এরপর ২০২৪ সালে দলটি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে বিদেশি ঋণের স্থিতি বেড়ে দাঁড়ায় ১০৪ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন বা ১০ হাজার ৪৭৬ কোটি ডলারে। অন্তর্বর্তী সরকার ডলার–সংকট মেটাতে ঋণ নেয়। ফলে ২০২৫ সালে বিদেশি ঋণ বেড়ে ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।

দেশের ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা, ঋণ ব্যবস্থাপনা ও নীতিগত সংস্কার ঘিরে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে একটি স্পষ্ট ও সময়সীমা বদ্ধ রোডম্যাপ চেয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

বুধবার (২৫ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠককালে এই রোডম্যাপ লিখিত আকারে চেয়েছে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসনের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল। বৈঠকে দেশের আর্থিক খাতের চলমান সংস্কার, সামষ্টিক অর্থনীতির সূচক এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। 

বৈঠককালে বাংলাদেশের আর্থিক খাত সংস্কারের অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হলেও, এ প্রক্রিয়াকে আরও কাঠামোবদ্ধ ও সময়সীমা বদ্ধ করার ওপর জোর দেয় আইএমএফ। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং নীতিগত সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ চাওয়া হয়েছে।

আইএমএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোডম্যাপ প্রস্তুত হলে তা দেশের আর্থিক খাতের সংস্কারে দিকনির্দেশনার কাজ করবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে এবং ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।

এছাড়া, বৈঠকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি ও বিনিময় হারকে বাজারভিত্তিক করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো কার্যকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৈঠক প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র ও পরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠিত আইএমএফের স্প্রিং মিটিংয়ের পর নেওয়া হবে। বৈঠকের পর রিভিউ মিশন বাংলাদেশ সফর করে সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সংস্কার অগ্রগতি মূল্যায়ন করবে। সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতেই ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠক শুরু হচ্ছে আগামী মাসে। ওয়াশিংটনে আগামী ১৩ থেকে ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন একটি দলের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার প্রমুখেরও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে সেখানে।

আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচি শুরু হয় ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত বছরের জুনে ৮০ কোটি ডলার বেড়ে ঋণ কর্মসূচির আকার ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। আইএমএফ থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলারের ঋণসহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ। এখনও ১৮৬ কোটি ডলার ঋণ ছাড় বাকি আছে। গত ডিসেম্বরে ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ পাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি।

নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থনৈতিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে আইএমএফের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক এই সফরকে একদিকে সৌজন্য সাক্ষাৎ, অন্যদিকে কারিগরি আলোচনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, আইএমএফের ইতিবাচক মূল্যায়ন বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক হলেও, ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের জন্য সংস্কারের গতি ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর দিচ্ছে সংস্থাটি।

 

ঈদের পর আজ বুধবার দেশের বাজারে সোনার দাম কমানো হয়েছে। তাতে আজ ভালো মানের, অর্থাৎ ২২ ক্যারেট সোনার দাম কমেছে ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা। এর আগে ১৯ মার্চ এক দিনে দুবার সোনার দাম কমানো হয়েছিল।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) ঘোষণা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমে হয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের সোনার দাম কমে হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের সোনার দাম হয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির সোনার কমে হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকা।

এর আগে ১৯ মার্চ দুপুরের ঘোষণা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা। এ ছাড়া প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা।

জুয়েলার্স সমিতি জানিয়েছে, দেশের বুলিয়ন মার্কেটে তেজাবি সোনা ও রুপার মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সে কারণে সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। যদিও দাম কমার মূল কারণ হলো, বিশ্ববাজারে সোনার দামের অব্যাহত পতন। অলংকার কেনার সময় সোনার দামের সঙ্গে ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট যুক্ত হবে।

আজ সোনার দাম কমানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত আছে।

১৯ মার্চ দুই দফায় সোনার দাম কমানোর ফলে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম কমে ১৫ হাজার ৩৩৮ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের দাম কমে ১১ হাজার ৬৯৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ১২ হাজার ৫৯৮ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম কমে ভরি প্রতি ১০ হাজার ২৬৪ টাকা।

আজ বিশ্ববাজারে বেড়েছে

গতকাল পর্যন্ত টানা ১০ দিন বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমেছে। তবে আজ সোনার দাম বাড়তে শুরু করেছে। আজ এখন পর্যন্ত নিউইয়র্কের স্পট মার্কেটে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ১৭১ ডলার ৫৩ সেন্ট বেড়েছে। ফলে এখন সোনার দাম আউন্সপ্রতি প্রায় ৪ হাজার ৫৭২ ডলার।

আজ দাম বাড়লেও গত ৩০ দিনে বিশ্ববাজারে সোনার দাম ৭৫৭ ডলার ৪৩ সেন্ট কমেছে। মূলত তার জেরেই দেশের বাজারে সোনার দাম কমানো হয়েছে।

গত বছর বিশ্ববাজারে সোনার দাম ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সাধারণত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় সোনার দাম বাড়ে। যদিও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের এই অনিশ্চয়তার সময় সোনার বাজারে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। সেটা হলো, সোনার দাম না বেড়ে বরং প্রায় স্থির হয়ে আছে। এখন দাম কমতে শুরু করেছে।

চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৩ দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রায় ২৮৩ কোটি মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ থেকে ২৩ মার্চ— এই আট দিনে দেশে এসেছে ৩৯ কোটি ২০ লাখ ডলার। আর মাসের ১ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ২৮২ কোটি ৮০ লাখ ডলারে।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চের ১ থেকে ২৩ তারিখে দেশে এসেছিল ২৬৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এবার প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ উপলক্ষে প্রবাসীরা সাধারণত পরিবার-পরিজনের বাড়তি খরচ মেটাতে বেশি অর্থ পাঠান। ফলে মার্চ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরেও প্রবাসী আয়ে শক্তিশালী ধারা বজায় রয়েছে। জুলাই থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৫২৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রণোদনা এবং হুন্ডি প্রতিরোধে নেওয়া পদক্ষেপ ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের আয় কিছুটা বাড়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহও বেড়েছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। সাম্প্রতিক এই প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হচ্ছে।

তবে তারা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ করা জরুরি।

 

বাজার যাতে বাধাহীন ও স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রোববার (১৫ মার্চ) চট্টগ্রামে খাতুনগঞ্জ পরিদর্শন শেষে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে কাউকে আমদানি না করার মতো কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যায় না। তবে বাজারে যদি তথ্যের অবাধ প্রবাহ থাকে, তাহলে ব্যবসায়ীরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন—আরও ডাল আমদানি করবেন নাকি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য থামবেন।

তিনি আরও বলেন, সবার সম্মিলিত লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ভোগ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া। তা সম্ভব হলে মানুষের মধ্যে সন্তুষ্টি তৈরি হবে এবং সেই সন্তুষ্টির সুফল ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই পাবেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজারে যথেষ্ট সরবরাহ আছে। কেউ যদি বাড়তি মূল্য নেওয়ার চেষ্টা করে, সে বিষয়ে আপনারাও সচেতন থাকবেন। এরকম বাড়তি মূল্য নেওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি এই মুহূর্তে নেই। সিলেট, চট্টগ্রাম এবং ঢাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখেছি—কোথাও সরবরাহের কোনো অপ্রতুলতা চোখে পড়েনি। আর মূল্যের তারতম্য হওয়ারও কোনো কারণ নেই, কারণ বোতলের গায়েই মূল্য লেখা আছে।

তিনি আরও বলেন, পাইকারি আর খুচরা বাজারের যে অযৌক্তিক ব্যবধান, রোজা পরে আমরা একটা ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং’ কমিটি করবো। সেখানে সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের মানুষেরও সংযুক্তি থাকবে। দরকার হলে আমরা অন্য পেশাজীবীদেরও এটার সাথে সম্পৃক্ত করবো। কেন পাইকারি আর খুচরা বাজারের ব্যবধানটা অগ্রহণযোগ্য, এটার ভিতরের রহস্যটা কি এটা আমরা খুঁজে বের করবো।

জ্বালানি তেলের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অহেতুক কেউ দয়া করে আতঙ্কিত হবেন না। যদি পৃথিবীতে কোথাও সংঘাত লাগে, সরবরাহের উপর চাপ বাড়ে, মূল্যের ঊর্ধ্বগতির চাপ থাকে, বাংলাদেশের মানুষের, আপামর মানুষের, ভোক্তার স্বার্থে, ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে এই পণ্যগুলি রাখার স্বার্থে যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার আপনাদের নিযুক্ত সরকার সেই ব্যবস্থা নেবে।

 

ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহে যে বিঘ্ন ঘটছে, তা সামাল দিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেলের চালান বাজারে ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে—এমন খবর প্রকাশের পর আজ বুধবার তেলের দাম ওঠানামা করছে।

এ প্রতিবেদন লেখার সময় স্পট মার্কেটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৮ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৮৮ দশমিক শূন্য ৮ ডলার। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৩৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৮২ ডলার হয়েছে। খবর রয়টার্সের

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ইরানের যুদ্ধজনিত সরবরাহের সংকট মোকাবিলায় আইইএ যে মজুত তেল বাজারে ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে, তা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যে তেল তারা বাজারে ছেড়েছিল, তার চেয়ে বেশি। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করার পর দুই দফায় সদস্যদেশগুলো যে ১৮ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছেড়েছিল, এবার তার চেয়েও বেশি তেল বাজারে ছাড়া হতে পারে। এ বিষয়ে অবগত কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য আইইএ বা যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস রয়টার্সের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।

মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিই ক্রুডের দাম ১১ শতাংশের বেশি পড়ে যায়; ২০২২ সালের পর এক দিনে এটি সবচেয়ে বড় পতন। এর আগের দিন ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধ শেষ হওয়ার পূর্বাভাস দেন। সোমবার অবশ্য একপর্যায়ে দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলারের বেশি হয়েছিল, ২০২২ সালের জুনের পর এটি ছিল তেলের সর্বোচ্চ দাম।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ করলে চরম পরিণতি বরণ করতে হবে—ইরানের প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন হুমকির পর মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে যায়। সেই সঙ্গে ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে। এখন তার সঙ্গে যুক্ত হলো আইইএর তেল ছাড়ার ঘোষণা। সব মিলিয়ে তেলের দাম দ্রুতই কমে গেছে, যদিও চলতি বছরের শুরুর তুলনায় তা বেশি।

এদিকে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে তীব্র বিমান হামলা চালায়। পেন্টাগন ও ঘটনাস্থলে থাকা ইরানিরা এটিকে চলমান যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র আক্রমণ বলে উল্লেখ করেছে।

এদিন হরমুজ প্রণালিতে মাইন পেতে রাখার জন্য ইরান যে ১৬টি নৌযান পাঠিয়েছিল, তা ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি প্রণালিতে কোনো মাইন পেতে থাকে, তা অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে।

ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, প্রয়োজন হলে হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তাসহায়তা দেবে। তবে সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঝুঁকি খুব বেশি হওয়ায় আপাতত জাহাজ কোম্পানিগুলোর সামরিক পাহারার অনুরোধ নৌবাহিনী নাকচ করেছে।

সিডনিভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আইজির বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর এক নোটে বলেন, তথ্যপ্রবাহের প্রভাবে আগামী দিনগুলোতে তেলের দাম অত্যন্ত অস্থির থাকবে। সম্ভবত ব্যারেলপ্রতি ৭৫ থেকে ১০৫ ডলারের মধ্যে তেলের দাম ওঠানামা করবে।

এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি তেল মজুত বাজারে ছাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে জি-৭ দেশের কর্মকর্তারা অনলাইনে বৈঠক করেছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ জি-৭ দেশের নেতাদের নিয়ে ভিডিও কলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে জ্বালানিবাজারে প্রভাব এবং পরিস্থিতি মোকাবিলার উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন।

এদিকে ড্রোন হামলার পর স্থাপনার একটি অংশে আগুন লাগায় আবুধাবিভিত্তিক তেল কোম্পানি অ্যাডনক রুয়াইস শোধনাগার বন্ধ করে দিয়েছে। চলমান যুদ্ধে একের পর এক তেল শোধনাগারে হামলা হচ্ছে। এটি তার সর্বশেষ নজির।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব লোহিত সাগরপথে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে জাহাজ চলাচলের তথ্য বলছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ কমে যাওয়ায় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণে এই সরবরাহ এখন যথেষ্ট নয়।

ইরান যুদ্ধের কারণে প্রতিবেশী ইরাক, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতিমধ্যে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। ফলে উৎপাদনে বড় কাটছাঁট এড়াতে সৌদি আরব লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের ওপর নির্ভর করে রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জি জানিয়েছে, এই যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল ও তেলজাত পণ্যের সরবরাহ কমে যাচ্ছে। এতে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।

অন্যদিকে মরগ্যান স্ট্যানলি এক নোটে বলেছে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও জ্বালানিবাজারে বিঘ্ন আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।

উচ্চ চাহিদার কারণে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেল, পেট্রল ও ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুত কমেছে বলে বাজার সূত্র জানিয়েছে। তারা মঙ্গলবার প্রকাশিত আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য দিয়েছে।

বাড়তি ব্যয় ভোক্তার ঘাড়েই চাপবে

তেল পরিবহনকারী জাহাজ হরমজু প্রণালি এড়িয়ে চলছে। ফলে ইরান যুদ্ধের কারণে জাহাজ পরিবহনের খরচ বেড়েছে। সেই বাড়তি ব্যয় শেষমেশ ভোক্তাদের ওপরই চাপানো হবে—বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিপিং কোম্পানির প্রধান বিবিসিকে এ কথা বলেছেন।

ডেনমার্কভিত্তিক শিপিং কোম্পানি মেয়ার্সকের প্রধান নির্বাহী ভিনসেন্ট ক্লার্ক একান্ত সাক্ষাৎকারে বিবিসিকে বলেন, ‘আমাদের প্রচলিত চুক্তিকাঠামোর মধ্যেই এমন ব্যবস্থা আছে। অর্থাৎ জ্বালানির দাম বাড়ুক বা কমুক, তা গ্রাহকদের ওপর চাপিয়েই সমন্বয় করা হয়।’

ভিনসেন্ট ক্লার্ক আরও বলেন, ‘এর মানে হলো, বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবহন ব্যয় যতটা বাড়বে, তা শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের ওপর পড়বে এবং সেখান থেকে তা ভোক্তাদের কাঁধেই চাপবে।’

ডেনমার্কের কোম্পানিটির মূল ব্যবসা কনটেইনার পরিবহন। বিশ্বজুড়ে খেলনা, পোশাক, ইলেকট্রনিক পণ্যসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য পরিবহনে তাদের কনটেইনার শিপিং আস্থার জায়গা করে নিতে পেরেছে।

চট্টগ্রাম