পার্বতীপুরে রেলহেড ওয়েল ডিপোতে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন প্রকল্পের রিসিপ্ট টার্মিনালে আরও ৭ হাজার টন ডিজেল এসে পৌঁছেছে। চলতি মাসে ভারত থেকে তৃতীয় দফায় পাইপলাইনের মাধ্যমে এ আমদানি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১১ টায় মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশন্স) কাজী রবিউল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ২০ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ডিজেল পাম্পিং শুরু হয়েছে। ৬৫ থেকে ৭০ ঘণ্টার মধ্যে এসব ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোতে এসে পৌঁছায়। এর আগে গত ১৯ এপ্রিল বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ৫ হাজার টন ডিজেল ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড কেন্দ্র থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোতে এসে পৌঁছেছে।

এ নিয়ে চলতি মাসে পাইপলাইনের মাধ্যমে ১৩ হাজার টন, আর চলতি বছরে ৩৫ হাজার টন ডিজেল আসলো। চলতি এপ্রিল মাসে মোট ৪টি চালানের মাধ্যমে ভারত থেকে ২৫ হাজার টন জ্বালানি আনার কথা রয়েছে। এরমধ্যে গত ১১ এপ্রিল ৮ হাজার টন এবং ১৯ এপ্রিল ৫ হাজার টন ডিজেল এসেছে।

এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত চারটি চালানে ভারত থেকে পাইমে মোপলাইনের মাধ্যট ২২ হাজার টন ডিজেল এসে পৌঁছায়। পাইপলাইনে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রেলহেড ওয়েল ডিপোতে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পের রিসিপ্ট টার্মিনালে এসব ডিজেল পৌঁছায়। এরপর সেখান থেকে রেলহেড অয়েল ডিপোর পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা এই তিন কোম্পানিতে এই তেল সরবরাহ করা হয়।

উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে সারাবছর ডিজেল সরবরাহ রাখতে ভারত থেকে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে পার্বতীপুরের রেলহেড তেল ডিপোতে জ্বালানি তেল (ডিজেল) সরবরাহ করা হয়। ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সমঝোতা চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে ১৩১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূ-গর্ভস্থ এই পাইপলাইন স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়। দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী, ভারত আগামী ১৫ বছর ডিজেল সরবরাহ করবে এবং বছরে ২ থেকে ৩ লাখ টন জ্বালানি আমদানি করা যাবে। পরে ব্যবহার, খরচ ও চাহিদা অনুযায়ী আমদানির পরিমাণ বাড়ানো হবে। এই পাইপলাইন দিয়ে বছরে ১০ লাখ টন তেল ভারত থেকে আমদানি করা সম্ভব বলেও বিপিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়। আগে খুলনা ও চট্টগ্রাম থেকে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে তেল আসতে সময় লাগতো ৬ থেকে ৭ দিন।

 

দেশে গাড়ি তৈরিতে এবার সরাসরি বিনিয়োগ করছে জাপানি প্রতিষ্ঠান মিতসুবিশি করপোরেশন। তারা বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান র‍্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজের কারখানায় কৌশলগত বিনিয়োগ করবে। এরই অংশ হিসেবে র‍্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজের ২৫ শতাংশ অংশীদারত্ব কিনে নিচ্ছে জাপানি এই প্রতিষ্ঠান।

এত দিন র‌্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ নিজেদের কারখানায় জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন থেকে গাড়ি এনে সংযোজন করত। এখন র‍্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজের মালিকানার সঙ্গে যুক্ত হলো মিতসুবিশি করপোরেশন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের চার চাকার পরিবহন খাতে এটি এখন পর্যন্ত জাপানের সবচেয়ে বড় সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই।

নতুন বিনিয়োগ উপলক্ষে আজ বুধবার রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মিতসুবিশির সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করে র‌্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন মিতসুবিশি করপোরেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিরোয়ুকি এগামি, র‍্যানকন হোল্ডিংসের গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোমো রউফ চৌধুরীসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মিতসুবিশি আউটল্যান্ডার দিয়ে শুরু

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, র‍্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ ২০১৭ সালে দেশে যানবাহন সংযোজন শুরু করে। স্থানীয়ভাবে তারা প্রথম সংযোজন করে মিতসুবিশি আউটল্যান্ডার। এরপর একে একে ফুসো বিএম১১৭ বাস, মার্সিডিজ ওএফ১৬২৩ বাস, প্রোটন এক্স৭০, জ্যাক ও জিএমসি ট্রাক ও পিকআপ ট্রাক সংযোজন করা হয়। গাজীপুরের গাড়ির এই কারখানা সম্প্রসারণে গত বছর প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে কোম্পানিটি।

র‌্যানকন জানায়, ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত র‍্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ দেশের ভোক্তাদের জন্য বিভিন্ন স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের যানবাহন উৎপাদন ও সংযোজন করে আসছে। ২০২৫ সালের জুনে প্রতিষ্ঠানটি দেশে মিতসুবিশির জনপ্রিয় এক্সপ্যান্ডার মডেলের গাড়ি স্থানীয়ভাবে উৎপাদন ও বাজারজাত শুরু করে। জাপানের মিতসুবিশির আউটল্যান্ডার মডেলের গাড়ি সংযোজনের মধ্য দিয়ে র‌্যানকন অটোর যাত্রা শুরু হয় ওই বছর। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্যিকভাবে এই মডেল উৎপাদনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায় র‌্যানকন অটো। বর্তমানে ৯৮ হাজার বর্গফুটের এ কারখানায় চার ধরনের গাড়ি সংযোজন করা হচ্ছে। এর মধ্যে মিতসুবিশির এক্সপ্যান্ডার মডেল ও প্রোটনের এক্স-৭০ মডেলের ব্যক্তিগত সংযোজন ও গাড়ি রং করা হয়।

অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো জাপানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে মোটর গাড়ি উৎপাদন করতে যাচ্ছে। মিতসুবিশির মতো একটি বৈশ্বিক অটোমোবাইল কোম্পানি যখন বাংলাদেশে এসে বিনিয়োগ করে, তখন এটি একটি বার্তা দেয়। আশা করছি এই বিনিয়োগ অন্যান্য বড় কোম্পানিকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তুলবে।’

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘চলতি বছর বিএনপি সরকার গঠনের পর এটিই সম্ভবত দেশে প্রথম এফডিআই। আমরা আশা করি, এই যৌথ উদ্যোগ অন্যান্য দেশ থেকে অনেক নতুন সুযোগ নিয়ে আসবে। আগামী মাস থেকে আমরা টোকিওগামী ফ্লাইট শুরু করছি, যা আগে বন্ধ ছিল। এতে দুই দেশের যোগাযোগ ও ব্যবসা–বাণিজ্যের সুযোগ বাড়াবে।’

বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, জাপান বাংলাদেশের জন্য ভালো বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরিতে সাহায্য করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রথম অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়।

মিতসুবিশি করপোরেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিরোয়ুকি এগামি বলেন, ‘৫০ বছর ধরে র‍্যানকন গ্রুপ বাংলাদেশে মিতসুবিশি মোটরস গাড়ির বিক্রয় কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশে অটোমোবাইল ভ্যালু চেইন ব্যবসায় অংশগ্রহণ আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত।’

র‍্যানকন হোল্ডিংসের গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোমো রউফ চৌধুরী বলেন, ‘মিতসুবিশি করপোরেশন সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে র‍্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজের ২৫ শতাংশ শেয়ারে বিনিয়োগ করেছে। এটি সম্ভবত বাংলাদেশে চার চাকার গাড়ি উৎপাদনে প্রথম সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ। আশা করি এই যৌথ উদ্যোগ অন্যান্য বৈশ্বিক কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।’

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে ‘মূল্যস্ফীতি সেভাবে বৃদ্ধি পাবে না’ বলে দাবি করেছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতিটা সেভাবে বৃদ্ধি পাবে না কেন, এটা একটু বোঝা দরকার। সারা পৃথিবীতে জ্বালানির মূল্য যে অনুপাতে বৃদ্ধি পেয়েছে, তার তুলনায় বাংলাদেশে যে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে, সেটা অত্যন্ত সামান্য।’

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এ কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা শিল্পমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, নিলে সেটা কী?

জবাবে মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ব্যাখ্যা করেন, কেন মূল্যস্ফীতি বাড়বে না? তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অঙ্গরাজ্যভেদে তেলের দাম ভিন্ন হয়, নিজস্ব ট্যাক্সের কারণে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে অনেক অঙ্গরাজ্যে প্রতি গ্যালনের দাম ২ ডলার ৮০ সেন্ট বা ৭০ সেন্ট ছিল, সেটি এখন ৫ ডলার ছাড়িয়েছে। আশপাশের যেকোনো দেশ অথবা বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনীয় যেকোনো অর্থনীতির সঙ্গে তুলনা করলে তুলনামূলকভাবে জ্বালানি পণ্যের মূল্য প্রতিটি দেশে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক দেশে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির এই প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়। এটার জন্য সরকারের আলাদা পদক্ষেপ নিতে হয় না।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘আমাদের এখানে যে বৃদ্ধিটা হয়েছে, ডিজেলের ক্ষেত্রে ১০০ টাকার ডিজেলকে আমরা ১১৫ টাকা করেছি। আমি শুধু বোঝার জন্য বলছি, একটা শিল্পকারখানায় তাদের যে কস্ট অব প্রোডাকশন (উৎপাদন খরচ) থাকে, তার মধ্যে ৭ থেকে ৮ শতাংশ থাকে জ্বালানির মূল্য। সেই ৭ থেকে ৮ শতাংশকে যদি ১০০ পারসেন্ট ধরি, তার ১৫ শতাংশ ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি পায়, তবে তা মোট খরচে খুব সামান্য প্রভাব ফেলে।’

শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, একইভাবে পরিবহনের ক্ষেত্রে, একটি বাস ২০০ কিলোমিটার চলার জন্য কমবেশি ২৫ থেকে ৩০ লিটার ডিজেল লাগে। এই ৩০ লিটার ডিজেলের ক্ষেত্রে সাড়ে চার শ টাকার মতো মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। ট্রাকের পণ্য পরিবহনের জন্য হিসাব করা হলে বাড়তি মূল্যের ভার পড়বে ১০ হাজার কেজি পণ্যের ওপর।

মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘তার মানে এমনি শুনলেই যেটা মনে হয় যে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু আমরা যদি পরিবাহিত পণ্যের ইউনিটের হিসাব করি, তাহলে সেই বৃদ্ধিটা মূল্যস্ফীতির জন্য ওই রকম উদ্দীপক নয়। এটা ঠিক, আপনি অর্থনীতিকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে যেতে পারবেন না, যেখানে ফান্ডামেন্টাল ব্যালেন্সটা ইমব্যালেন্সড (মৌলিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে ভারসাম্যহীনতা দেখা দেওয়া) হয়ে যায়। সে জন্য পৃথিবীর সব দেশ যে নীতি নিয়েছে, আমরা সেই নীতি মডেস্টলি নিয়েছি এবং খুবই একটা মডারেট মূল্য বৃদ্ধি করেছি।’

রেমিট্যান্সে চাপ তৈরির শঙ্কা

বিএনপির সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুলের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর চাপ পড়েছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে রেমিট্যান্সের ওপরও চাপ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক অস্থিরতা (ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনা) বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে প্রভাব ফেলার আশঙ্কা রয়েছে এবং বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। বাংলাদেশ থেকে প্রধানত তৈরি পোশাক, ওষুধ, হিমায়িত খাদ্য, চামড়াজাত ইত্যাদি পণ্য সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার ও ওমানের বাজারে রপ্তানি হয়ে থাকে।

শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে চলমান অস্থিরতা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রয়েছে, যার আমদানি ব্যয়, শিপিং ও বিমা খরচ বৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে রপ্তানি হ্রাস, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে রপ্তানির ওপর কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, এটি দীর্ঘায়িত হলে রেমিট্যান্সের ওপরও চাপ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

বিএনপির সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ ছাড়া অন্য সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যঘাটতি রয়েছে।

মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যঘাটতি সবচেয়ে বেশি। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যঘাটতির পরিমাণ ৭ হাজার ৮৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ ছাড়া অন্যান্য দেশের মধ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে ৬৮১ মিলিয়ন, আফগানিস্তানের সঙ্গে ১০ দশমিক ৭১ মিলিয়ন এবং ভুটানের সঙ্গে ২৯ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন ডলার বাণিজ্যঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে নেপালের সঙ্গে ২৯ দশমিক ৯ মিলিয়ন, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ৬ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ও মালদ্বীপের সঙ্গে দুই দশমিক ৮৫ মিলিয়ন বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে।

বিএনপির সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সংসদে গত পাঁচ বছরের রপ্তানি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ৪৫ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন, ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ৬০ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ৫৩ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ৫১ দশমিক ১১ বিলিয়ন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ৫৫ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বিদেশে ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি কর্মী কর্মরত

মৌলভীবাজার-১ আসনের নাছির উদ্দিন আহমেদের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, বর্তমানে বিশ্বের ১৭৬টি দেশে ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি কর্মী কর্মরত রয়েছেন।

মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর অনুপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেন। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী জানান, ২০০৪ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত বিদেশে পাঠানো কর্মীর সংখ্যা ১ কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ৭৪৫।

আজ সোমবার সকালে এশিয়ার বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ আটক ও জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাঁর এ ঘোষণার পর তেলের দাম বেড়েছে।

এর আগে গত শনিবার ইরান ঘোষণা দেয়, তারা আবারও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি তারা সতর্কবার্তা দেয়, কোনো জাহাজ প্রণালির দিকে এগোলে হামলা করা হবে।

এ পরিস্থিতিতে আজ সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৯৪ দশমিক ৬৬ ডলার। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৮৮ দশমিক ৫৫ ডলারে ওঠে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে জ্বালানির বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। জবাবে তেহরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল একরকম বন্ধ করে দেয়। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়।

তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আপাতত এ আলোচনায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা তেহরানের নেই। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি।

আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান এমএসটি মার্কির বিশ্লেষক সল কেভোনিক বিবিসিকে বলেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার কারণে নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি বার্তার প্রতিক্রিয়াতেই তেলের বাজারে বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আলোচনার অংশ হিসেবেই হরমুজ প্রণালিতে এ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

গতকাল রোববারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ ছিল। তার আগের দিন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে এ সিদ্ধান্ত; যুক্তরাষ্ট্রের এই নৌ অবরোধ যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করছে। ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত প্রণালি বন্ধই থাকবে।

বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে চাপে পড়েছে। এ অঞ্চলের প্রায় ৯০ শতাংশ জ্বালানি হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ হয়।

সরবরাহ সাশ্রয়ে বিভিন্ন দেশে সরকারি কর্মীদের বাসা থেকে কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কর্মসপ্তাহ কমানো হয়েছে, জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় আগেভাগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ নাগরিকদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। এমনকি চীনেও নানা ধরনের কাটছাঁট করা হচ্ছে, যদিও চীনের মজুত প্রায় তিন মাসের আমদানি চাহিদা মেটাতে সক্ষম বলে ধারণা করা হয়। জ্বালানির দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির পর চীন সরকার মূল্যবৃদ্ধির রাশ টানার চেষ্টা করছে।

এদিকে জেট জ্বালানির দাম বাড়ায় এশিয়া অঞ্চলে সেবা দেওয়া বিমান সংস্থাগুলো নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।

গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করে বলেন, ইউরোপে হয়তো ছয় সপ্তাহের জেট জ্বালানি মজুত রয়েছে। বার্তা সংস্থা এপিকে তিনি বলেন, সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে শিগগিরই ফ্লাইট বা উড়ান বাতিল হতে পারে।

এদিকে যুক্তরাজ্যে টানা কয়েক দফা বৃদ্ধির পর গত সপ্তাহের শেষে পেট্রল ও ডিজেলের দাম কিছুটা কমেছে।

বিবিসি

বর্তমানে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। 

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) চট্টগ্রামে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে এবং কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই।

তিনি আরও বলেন, এপ্রিল ও মে মাসের জন্য দেশে প্রয়োজনীয় জ্বালানির পূর্ণ মজুত রয়েছে। একইসঙ্গে জুন মাসের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী এরপর বলেন, জ্বালানি চাহিদা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে। বিশেষ করে ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ জ্বালানি মজুত রয়েছে, যা জাতীয় চাহিদা পূরণে সক্ষম। পাশাপাশি পরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ আরও বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

এর আগে, গত ১৫ এপ্রিল জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরীও জানান, দেশে অকটেন ও পেট্রোলের মজুত আগামী দুই মাসের জন্য যথেষ্ট। 

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও হরমুজ প্রাণালিতে চলমান অবরোধের প্রভাব দেখা যাচ্ছে দেশে; জ্বালানি তেল মজুতে মেতে উঠেছে অসাধু চক্র। ফলে, অস্থিরতা তৈরি হয়েছে ক্রেতাসাধারণের মনেও। ফিলিং স্টেশনগুলোতে প্রতিদিনই ভিড় করছে মানুষ, বিশেষ করে অকটেন ও পেট্রোলের জন্য দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ সারি। ধারণা করা হচ্ছে, আতঙ্কের কারণে বিক্রি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে—এমন প্রত্যাশায় বুধবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তেলের দাম কমেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আলোচনায় অগ্রগতি হলে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা তেল বাজারে ফিরতে পারে।

আজ বুধবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ২৭ ডলারে নেমেছে। আগের দিন এই তেলের দাম কমেছিল ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক শূন্য ৪ ডলার বা ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৯০ দশমিক ২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে; আগের দিন যা ৭ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছিল। খবর রয়টার্সের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা আগামী দুই দিনের মধ্যে পুনরায় পাকিস্তানে শুরু হতে পারে। গত সপ্তাহান্তে আলোচনা ভেঙে পড়ার পর ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে। তবে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে আশাবাদ দেখা দিয়েছে—এতে সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে এবং অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে।

যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে এশিয়া ও ইউরোপে তেল ও পরিশোধিত পণ্য পরিবহনের প্রধান জলপথ এটি।

দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো অনিশ্চিত। সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত, এখন তা অনেকটাই কমে গেছে।

মঙ্গলবার এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের একটি ডেস্ট্রয়ার ইরান থেকে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার বের হতে বাধা দিয়েছে।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান শর্ক গ্রুপ এক নোটে বলেছে, কূটনৈতিক তৎপরতা আবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা এবং যাতায়াতের ওপর সাময়িক বিধিনিষেধ শিথিল হতে পারে—এমন ইঙ্গিত মিললেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।

তাদের মতে, বাজারে এখন স্থিতিশীলতা ফিরবে, এমন সম্ভাবনার চেয়ে সরবরাহ ব্যাহত হবে, এমন আশঙ্কাই বেশি।

অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সমুদ্রপথে ইরানি তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিলের ৩০ দিনের যে মেয়াদ, তা এ সপ্তাহে শেষ হচ্ছে, এই শিথিলতার মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। একইভাবে রাশিয়ার তেলের ওপর অনুরূপ শিথিলতাও গত সপ্তাহান্তে নীরবে শেষ হয়েছে। ফলে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের সুযোগ আরও সীমিত হতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ) সাপ্তাহিক মজুতের কী তথ্য প্রকাশ করে, তার দিকে বাজারের নজর থাকবে। রয়টার্সের জরিপ অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত সামান্য বেড়েছে, তবে ডিজেল ও পেট্রলের মজুত কমে যেতে পারে।

আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্য সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত টানা তৃতীয় সপ্তাহে বেড়েছে।

এর আগে গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অচলাবস্থা ও হরমুজ প্রণালি অবরোধের পরিকল্পনার খবরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ১৬ ডলারে ওঠে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১০৪ দশমিক ৮২ ডলারে ওঠে। খবর ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে জ্বালানিসংকট আরও তীব্র হতে পারে।

  • চার মাস জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সার বাড়তি দামে আমদানিতে দরকার ৩০০ কোটি ডলার।

  • ভর্তুকির জন্য বাড়তি লাগবে ৩৮,৫৪২ কোটি টাকা।

  • ২০২২ সালে এমন সংকটের পর দারিদ্র্য বেড়েছিল ৯ শতাংশের বেশি।

ঢাকা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে বিঘ্ন ঘটার শঙ্কা কমেছে। এতে আজ মঙ্গলবার এশিয়ার প্রাথমিক লেনদেনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে।

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৮ দশমিক ৪০ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৯৭ দশমিক ৪০ ডলারে নেমেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার দাবি করেছেন, ইসলামাবাদে বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর ইরান আবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তেহরান ‘খুব মরিয়া হয়ে’ ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে চায়।

গত শনিবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদে আলোচনায় বসে। প্রায় ২১ ঘণ্টা আলোচনা শেষে রোববার সকালে এই বৈঠক শেষ হয় কোনো সমঝোতা ছাড়াই। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প ইরানের বন্দর অবরোধের নির্দেশ দিলে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়।

এদিকে ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’ জানিয়েছে, ইরান পাঁচ বছর পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করে ২০ বছরের শর্তে অনড় থাকে। প্রতিবেদনটিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ প্রস্তাব আদান-প্রদান করলেও এখনো চুক্তি থেকে অনেক দূরে রয়েছে। তবে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আলোচনায় কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। সামনাসামনি দ্বিতীয় দফা আলোচনার সম্ভাবনাও রয়েছে।

আজ মঙ্গলবার এশিয়ার শেয়ারবাজারেও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। জাপানের নিক্কি ২২৫ সূচক ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে, আর দক্ষিণ কোরিয়ার কেওএসপিআই সূচক ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল এশিয়ার দেশগুলোয় ইরান যুদ্ধের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। হরমুজ প্রণালি এই সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে ইরান এই প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজে হামলার হুমকি দেয়। তারপর হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি জ্বালানির দাম বাড়তে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের সচিব ক্রিস রাইট সোমবার বলেন, এই জলপথ কার্যত বন্ধ থাকায় আগামী কয়েক সপ্তাহে তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তিনি ওয়াশিংটনে আয়োজিত সেমাফোর ওয়ার্ল্ড ইকোনমি ফোরামে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু না হওয়া পর্যন্ত আমরা জ্বালানির উচ্চ মূল্য দেখতে থাকব। এমনকি তা আরও বাড়তেও পারে।’

বিবিসি

দেশজুড়ে ছেঁড়া-ফাটা, ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোটের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের নোট গ্রহণ ও বিনিময়মূল্য প্রদান সব তফসিলি ব্যাংকের জন্য বাধ্যতামূলক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (১২ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কারেন্সী ম্যানেজমেন্ট (ডিসিএম) থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, জনসাধারণের স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু নগদ লেনদেন নিশ্চিত করতে ব্যাংকের সব শাখায় বিধি অনুযায়ী ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লাযুক্ত নোট গ্রহণ এবং তার পরিবর্তে নতুন বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট প্রদানের সেবা নিয়মিতভাবে চালু রাখতে হবে। তবে নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বাজারে এ ধরনের নোটের আধিক্য দেখা যাচ্ছে, যা নগদ লেনদেনে ভোগান্তি সৃষ্টি করছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘ক্লিন নোট পলিসি’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ব্যাংকগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ছোট মূল্যমানের ৫, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার নোট নিয়মিতভাবে গ্রহণ করে নির্ধারিত বিশেষ কাউন্টারের মাধ্যমে তা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
 
এসব নোটের পরিবর্তে গ্রাহকদের ফ্রেশ বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট সরবরাহ করতে হবে। এ ধরনের সেবা প্রদানে কোনো ব্যাংক শাখার অনীহা বা গাফিলতি পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে। বিষয়টিকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংককে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

ভারত ও মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে আরও দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে। পাশাপাশি এলপিজি ও এলএনজি নিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে আরও কমপক্ষে চারটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে।

রোববার (১২ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে মালয়েশিয়া থেকে এলপিজিবাহী ‘ডিএল লিলি’ এবং ভারত থেকে ‘গ্যাস ক্যারেজ’ নামে দুটি জাহাজ বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছায়। জাহাজ দুটি বর্তমানে চার্লি ও ব্রাভো পয়েন্টে অবস্থান করছে।

তিনি আরও জানান, রোববার যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি নিয়ে ‘কংটং’ নামের আরও একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। এরপর আগামীকাল মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে ‘পল’ নামের আরেকটি জাহাজ পৌঁছাবে।

এছাড়া, ১৫ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি নিয়ে ‘মারান গ্যাস হাইড্রা’ এবং ১৮ এপ্রিল ‘লবিটো’ নামের আরও একটি এলএনজিবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি অব্যাহত রেখেছে।

 

চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম