• Colors: Blue Color

ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। বার্তা সংস্থা সিএনএন জানায়, ইরান থেকে নতুন করে আরও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ফলে ইসরায়েলি নাগরিকদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তেলআবিবে সাইরেন শোনা গেছে এবং বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সিএনএনের সাংবাদিকরা।

এদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে ও ইরানের হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা চলছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনালাপ হয়েছে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের। এ সময় ইরানে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়েছেন সৌদি যুবরাজ। খবর আরব নিউজের।
  
রোববার (১৫ জুন) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর হওয়া ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়ে সৌদি যুবরাজ বলেন, এই হামলা ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ণ করেছে। লঙ্ঘন করেছে আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতি।

তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের হামলা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে চলমান সংলাপকে ব্যাহত করেছে। উত্তেজনা হ্রাস এবং কূটনৈতিক সমাধানকে বাধাগ্রস্ত করেছে। ফোনকলে বিরোধ সমাধানের জন্য শক্তি প্রয়োগ বন্ধ ও মতপার্থক্য সমাধানের ভিত্তি হিসেবে সংলাপের ওপর জোর দিয়েছেন সালমান।

অন্যদিকে মাসুদ পেজেশকিয়ান সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে বলেন, আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এই অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা জোরদার করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ইহুদিবাদী সরকার (ইসরায়েল) আমরা যেখানে কিছু অর্জন করতে চেয়েছিলাম প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যাঘাত ও নাশকতা সৃষ্টি করেছে।

উল্লেখ্য, ইরান ও সৌদি আরব ২০২৩ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে চালু করার ঘোষণা দেয়। ওই সময় থেকে দেশ দুটির সম্পর্কে শীতলতা কাটতে শুরু করে।

সম্মুখ যুদ্ধে ইসরায়েলকে মোকাবিলা করার জন্য ইরানের সামরিক বাহিনী প্রস্তুত। এক্ষেত্রে ইসরায়েলের প্রতি কোনো দয়া প্রদর্শন করা হবে না— এমন মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

শুক্রবার (১৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) একটি ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

খামেনি বলেন, ইরানে হামলা করে জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী একটি বড় ভুল করেছে। এটি একটি গুরুতর অপরাধ এবং চরম বেপরোয়া আচরণের বহিঃপ্রকাশও। এই হামলার ফলাফল হবে গুরুতর এবং জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী ধ্বংস হয়ে যাবে। তাদের হামলায় ইরানে যারা নিহত হয়েছেন, তাদের রক্ত এদেশের জনগণ বৃথা যেতে দেবে না। ইরান নিজেদের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশও সহ্য করবে না। আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুত। দেশের সর্বস্তরের মানুষ তাদের পাশে আছেন।

তিনি আরও বলেন, এই অশুভ, ঘৃণ্য এবং সন্ত্রাসী জায়নবাদীদের শক্ত জবাব দেয়ার সময় এসেছে। তাদের প্রতি কোনো দয়া দেখানো হবে না।স

উল্লেখ্য, শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ অন্তত ৮টি শহরে বড় ধরনের বিমান হামলা করে ইসরায়েলের বিমানবাহিনী (আইএএফ)। ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও সামরিক বাহিনীর স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এ হামালা চালানো হয়েছিল। পরে পাল্টা হামলা চালায় তেহরানও।

গতকাল রাতে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টির পর আবারও নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইরান। শনিবার সকালে তেলআবিব ও জেরুজালেমে নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

ইসরায়েলের ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়ে আহ্বান জানিয়েছে। এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকার কথা জানিয়েছে।

ইসরায়েলের উত্তরে সাইরেন বাজছে। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে যে রকেটগুলো ইরান থেকে আসছে।

এদিকে পরমাণু ইস্যুতে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনাকে অর্থহীন বলে আখ্যা দিয়েছে ইরান। ইরানে হামলার জন্য তারা ওয়াশংটনের সমর্থনকে দায়ী করছে।

ইরানের সামরিক ও পরমাণু স্থাপনায় হামলার জেরে গতকাল রাতে তেলআবিবে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। এতে ৪০ জনের বেশি ইসরায়েলি নাগরিক আহতের পাশাপাশি প্রাণহানি হয়েছে একজনের। দুই দেশের সংঘাতের মাঝেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

নেতানিয়াহুর অফিস জানায়, ভারতের পাশাপাশি তিনি জার্মান চ্যান্সেলর, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এছাড়া শিগগিরই ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও কথা বলবেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টে নরেদ্র মোদি বলেন, নেতানিয়াহু ফোন করেছিলেন। তিনি (নেতানিয়াহু) সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন। এই ইস্যুতে আমার উদ্বেগের কথা জানিয়েছি এবং দ্রুত পশ্চিম এশিয়াতে শান্তি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছি।

এর আগে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলার পর গভীর উদ্বেগের কথা জানায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে দুই দেশকেই উত্তেজনাকর পদক্ষেপ এড়িয়ে চলারও আহ্বান জানানো হয়।cdv 

দীর্ঘ ১৩ বছর পর রাশিয়ার শীর্ষ শত্রুর তালিকা থেকে ৪ নম্বরে নেমে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের আশায় রাশিয়ার বেশিরভাগ নাগরিক এখন আর যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের দেশের প্রধান শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে না। গত বৃহস্পতিবার (৫ জুন) প্রকাশিত লেভাডা সেন্টারের এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। এক প্রতিবেদনে রুশ সংবাদমাধ্যম মস্কো টাইমস এ তথ্য জানায়।

এ বছর রাশিয়ার প্রতি সবচেয়ে শত্রুভাবাপন্ন দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করা উত্তরদাতাদের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক কমে ৪০% হয়েছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ৭৬%।

রুশ উত্তরদাতাদের মতে, এখন সবচেয়ে শত্রুভাবাপন্ন দেশের তালিকায় শীর্ষ তিনে আছে জার্মানি (৫৫%), যুক্তরাজ্য (৪৯%) এবং ইউক্রেন (৪৩%)।

এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এসেছে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব গ্রহণের পর, যিনি নির্বাচনী প্রচারে ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মার্চ মাসে, রাশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দ্বিগুণ বেড়েছে বলে লেভাডা সেন্টার জানিয়েছে।

গত কয়েক মাসে রুশ রাষ্ট্রীয় মিডিয়া ট্রাম্পকে মস্কোর সাথে সংলাপে আগ্রহী একজন ব্যবহারিক নেতা হিসেবে চিত্রিত করেছে। একই সময়ে, ঐতিহাসিকভাবে বৈশ্বিক ঘটনাবলীর প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মনোভাব ওঠানামা করেছে।

২০০৮ সালে রুশ-জর্জিয়ান যুদ্ধের পর বুশ প্রশাসন মস্কোর কর্মকাণ্ডের নিন্দা করে এবং জর্জিয়াকে মানবিক সহায়তা পাঠালে রুশদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইতিবাচক ধারণা ব্যাপকভাবে কমে যায়। তবে, লেভাডার তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে এই ইতিবাচক মনোভাব ফিরে আসে এবং তিন বছর পর ৬৩% এ পৌঁছায়।

২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল এবং ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রতি রাশিয়ার সমর্থনের পর একই রকম নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, যার জেরে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

লেভাডা সেন্টারের সর্বশেষ জরিপে রাশিয়ার ‘সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও মিত্র’ দেশ হিসেবে উত্তরদাতাদের তালিকায় উঠে এসেছে বেলারুশ (৮০%), চীন (৬৪%), কাজাখস্তান (৩৬%), ভারত (৩২%) এবং উত্তর কোরিয়া (৩০%)।

গত বছরের তুলনায় এই তালিকায় বিশেষ পরিবর্তন না এলেও, উত্তর কোরিয়ার নাম উল্লেখ করা উত্তরদাতাদের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। রুশ রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার দাবি অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার সৈন্যরা ইউক্রেনীয় দখলদার বাহিনী থেকে রাশিয়ার কার্স্ক অঞ্চল ‘মুক্ত’ করতে সাহায্য করেছিল।

অন্যদিকে, ইরানকে প্রধান মিত্র হিসেবে উল্লেখ করা উত্তরদাতাদের সংখ্যা ২০২৪ সালের ২২% থেকে কমে ১১% হয়েছে।

লেভাডা সেন্টার গত ২২ থেকে ২৮ মে পর্যন্ত ১ হাজার ৬শ’ ১৩ জন রুশ প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে এই জরিপটি পরিচালনা করে।

এই প্রতিবেদনের একটি পূর্ববর্তী সংস্করণে উল্লেখ করা হয়েছিল যে লেভাডা সেন্টারের মতে, ২০ বছরে প্রথমবারের মতো রুশদের প্রধান শত্রু দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষস্থান হারিয়েছে। বাস্তবে, ২০১২ সাল বা ১৩ বছর পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র এই তালিকায় প্রথম স্থানে নেই। এই ভুলটি সংশোধন করে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হয়েছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব