• Colors: Blue Color

ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিমান হামলায় সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখন পর্যন্ত ৯৬০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধকালীন সময়ে হামলার শিকার বিভিন্ন স্থানে মোট ১ হাজার ৭১১টি প্রযুক্তিগত উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার অভিযান চালানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলায় দেশজুড়ে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩০টি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ আবাসিক ভবন এবং ২৪ হাজারের মতো বাণিজ্যিক স্থাপনা রয়েছে। অনেক ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, আবার কিছু গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ছাড়া সংস্থাটি জানায়, এসব হামলার প্রমাণ ও নথিপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে উপস্থাপন করে ঘটনাগুলোর বিচারিক অনুসরণ নিশ্চিত করা হবে।

আরও বলা হয়, যুদ্ধ চলাকালে ৩৩৯টি চিকিৎসাকেন্দ্র— (যার মধ্যে হাসপাতাল, ফার্মেসি, ল্যাবরেটরি ও জরুরি সেবা ইউনিট রয়েছে) লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে কিছু সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেলেও অনেকগুলো দ্রুত আবার চালু করা হয়েছে।

এদিকে ইরানের জরুরি সংস্থার প্রধান মাজিদ মিয়াদফার জানিয়েছেন, এই হামলায় অন্তত ২৫৮ জন নারী ও ১৮ বছরের নিচে ২২১ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া পাঁচ বছরের কম বয়সী ১৮ শিশুও নিহত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে দেশটির বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালানো হয়, যার ফলে উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।

এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পশ্চিম এশিয়াজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তু এবং ইসরায়েলি অবস্থানগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। সূত্র: প্রেস টিভি

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নিরসনে আলোচনার প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রকে ‘কর্তৃত্ববাদী’ মনোভাব পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে এ কথা বলেন তিনি।

পোস্টে তিনি বলেন, ‘যদি মার্কিন সরকার তাদের কর্তৃত্ববাদী অবস্থান ত্যাগ করে এবং ইরানি জাতির অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, তাহলে অবশ্যই সমঝোতায় পৌঁছানোর পথ খুঁজে পাওয়া যাবে।’

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও দেশটির প্রতিনিধিদলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের প্রশংসা করে পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ‘আমি আলোচনাকারী দলের সদস্যদের, বিশেষ করে আমার প্রিয় ভাই ডক্টর গালিবাফকে অভিনন্দন জানাই। আমি বলব, সৃষ্টিকর্তা আপনাদের সহায় হোন।’

তিনি মনে করেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতেই কেবল এই দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্বের সমাধান সম্ভব।

বর্তমান এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে উভয় পক্ষের অবস্থান নমনীয় হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক  বিশ্লেষকেরা।

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় নতুন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রবেশ বা বের হওয়া যেকোনো জাহাজ ‘অবরোধ’ করার প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করবে মার্কিন বাহিনী।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘একটি পর্যায়ে হরমুজ দিয়ে “সবাইকে ঢুকতে দেওয়া হবে এবং বের হতে দেওয়া হবে”—এমন অবস্থানে পৌঁছাব আমরা। কিন্তু ইরান সেটি হতে দিচ্ছে না।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি আমাদের নৌবাহিনীকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এমন প্রতিটি জাহাজকে খুঁজে বের করতে ও গতিরোধ করতে নির্দেশ দিয়েছি, যারা ইরানকে টোল (শুল্ক) দিয়েছে। যারা বেআইনিভাবে টোল দেবে, গভীর সমুদ্রে তাদের কোনো নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া হবে না।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। মূলত তখন থেকেই হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে ইরান। বিশ্বের মোট জ্বালানি প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহের এই গুরুত্বপূর্ণ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: আল–জাজিরা।

৪০ দিন যুদ্ধের পর আশা জাগিয়ে শুরু হওয়া ইসলামাবাদ আলোচনা নিরাশার মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছে। কোনো ধরনের সমঝোতা না হওয়ার জন্য এখন পরস্পরকে দুষছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র।

গতকাল শনিবার আলোচনা শুরুর পর ‘ইতিবাচক’ই বলা হচ্ছিল দুই পক্ষ থেকে। তবে রাত গড়িয়ে পাকিস্তানের রাজধানীতে যখন ভোর হলো, তখন ‘খারাপ খবর’ই দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইসলামাবাদ ছাড়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি জানান, ২১ ঘণ্টার আলোচনায় কোনো সমঝোতা হয়নি।

পরিবেশটি কেমন হতাশার ছিল, তা বিবিসির পাকিস্তান সংবাদদাতা ক্যারি ডেভিসের জবানিতে স্পষ্ট হয়ে এসেছে।

ভ্যান্সের সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন ডেভিস। সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার পরপরই তিনি দেখেন, হোটেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের জন্য প্রস্তুত হওয়া দীর্ঘ গাড়িবহর। সেখানে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের নিজস্ব নিরাপত্তাদলও ছিল।

ক্যারি ডেভিস লিখেছেন, ‘আমরা আমেরিকার পতাকাশোভিত একটি গাড়িকে দ্রুত হোটেল ছাড়তে দেখেছি। ধারণা করছিলাম, দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও কোনো চুক্তি না হওয়ায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শহর ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।’

আলোচনার ফলাফল নিয়ে সেখানে হতাশার স্পষ্ট আবহ দেখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেকে আগে থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থানের মধ্যে বড় ফারাক থাকায় শান্তিচুক্তি হওয়া কঠিন। তবে দুই পক্ষ থেকেই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আসায় অনেকের আশা ছিল, সবাই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে সত্যিই আন্তরিক।’

‘ফলে এই হতাশা শুধু সম্মেলনকক্ষেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আরও বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে,’ লিখেছেন বিবিসির এই সাংবাদিক।

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, ছবি: এএফপি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই শান্তি আলোচনার দিকে চোখ ছিল গোটা বিশ্বের। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া এই যুদ্ধের কারণে ভুগতে হচ্ছে গোটা পৃথিবীর মানুষকে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে হামলার পর এই যুদ্ধের সূত্রপাত। জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করলে যুদ্ধ বিস্তৃত হয়। এর মধ্যে ইরানের পাশাপাশি লেবাননে ক্রমাগত হামলা চালিয়ে যায় ইসরায়েল।

ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বিশ্বের তেলের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। কেননা বিশ্বে জ্বালানি পরিবহনের ২০ ভাগই এই সরু জলপথ দিয়ে হয়।

হরমুজ না খুললে ইরানের সভ্যতা বিলীন করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কিন্তু তার ২৪ ঘণ্টা না গড়াতেই গত মঙ্গলবার দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন তিনি। তারপরই ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি আলোচনার তোড়জোড় শুরু হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স, ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দিতে ইসলামাবাদে পৌঁছান দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার বাগের গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে সঙ্গী করে।

ইরান যদি কোনো চুক্তিতে না আসে, তাহলে আবার হামলা হবে, ট্রাম্প আগেই এই হুমকি দিয়ে রেখেছিলেন। এর ফলে বৈঠকে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় এই প্রশ্ন বড় হয়ে উঠেছে, এখন কী হবে? আবার কি যুদ্ধ শুরু হবে?

বিবিসির বিশ্ব সংবাদদাতা জো ইনউড তাৎক্ষণিক বিশ্লেষণ এই কথা দিয়েই শুরু করেছেন, মূল প্রশ্ন এখন—এরপর কী হবে?

আলোচনায় সমঝোতা যে কঠিন ছিল, তা মনে হচ্ছিল তাঁর। তাঁর ভাষায়, উভয় পক্ষই এই আলোচনায় এসেছে যুদ্ধে নিজেদেরকে বিজয়ী দাবি করে। তাই শুরু থেকেই একটি সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন ছিল। শেষ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে, সেটি প্রায় অসম্ভবই হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে যুদ্ধ আবার শুরু হবে, এমন ইঙ্গিত এখনো না পাওয়ার কথাই লিখেছেন জো ইনউড। তাঁর ভাষায়, ইরানের ওপর হামলা আবার শুরু হবে কি না, এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা নেই। তবে সম্ভাবনা যে বেড়েছে, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, এই প্রতিশ্রুতি দিতে পারেনি বলেই আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। যদিও ইরান সব সময়ই দাবি করেছে, তাদের এমন কোনো উচ্চাভিলাষ নেই।

অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক’ দাবির কারণে ইসলামাবাদে আলোচনা ভেস্তে গেছে।

আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালি খোলার সম্ভাবনাও কমে গেল। উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রর দুটি যুদ্ধজাহাজ পৌঁছানো থেকে জো ইনউড ধারণা করছেন, ওয়াশিংটন হয়তো অন্য কোনো পথ খুঁজছে।

ইনউড লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সরাসরি বৈঠক ছিল ঐতিহাসিক। কিন্তু তা হয়তো কূটনীতির একটি ব্যর্থ উদাহরণ হিসেবেই ইতিহাসে লেখা থাকবে।

সিএনএনের তাৎক্ষণিক এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কোনো চুক্তি না হওয়ায় যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। তবে ট্রাম্প আবার যুদ্ধ শুরু করতে চাইবেন কি না, তা এখন স্পষ্ট নয়। কারণ, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমেই অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য গতকাল শনিবার ইসলামাবাদে পৌঁছান পার্লামেন্টের স্পিকার বাগের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য গতকাল শনিবার ইসলামাবাদে পৌঁছান পার্লামেন্টের স্পিকার বাগের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, ছবি: এএফপি
 

ইসলামাবাদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ভ্যান্স পুনরায় যুদ্ধ শুরুর ইঙ্গিত দেননি। বরং তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরান চাইলে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের ‘চূড়ান্ত ও সেরা প্রস্তাব’ গ্রহণ করতে পারে।

আবার মতপার্থক্য দূর করতে ভবিষ্যতে নতুন কোনো আলোচনার কথা ভ্যান্স বলেননি। তবে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান আশা করছে, দুই পক্ষের আলোচনা চলবে।

আলোচনা শেষ হওয়ার পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এক বিবৃতিতে বলেন, উভয় পক্ষের জন্যই যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি ধরে রাখা অত্যাবশ্যক।

আগামী দিনগুলোতেও দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে পাকিস্তান ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।

আলোচনা যে আবার হবে না, তা সরাসরি উড়িয়ে দিচ্ছে না ইরানও। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছালেও গুরুত্বপূর্ণ দুই-তিনটি বিষয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে।

ইসমাইল বাগাইয়ের ভাষায়, ‘এ আলোচনা হয়েছে ৪০ দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের পর, যেখানে চারদিকে শুধু অবিশ্বাস আর সন্দেহ। স্বাভাবিকভাবেই প্রথম বৈঠকেই কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা আমাদের ছিল না। আর তেমনটা কেউ আশাও করেনি।’

ভবিষ্যৎ আলোচনার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া কখনো শেষ হওয়ার নয়। সেটা শান্তির সময় হোক, কিংবা যুদ্ধের সময়, সময় সময়ের জন্যই।

  • তথ্যসূত্র: বিবিসি, সিএনএন, তাসনিম নিউজ, ডন

ইরানের সঙ্গে পূর্বঘোষিত শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

পাকিস্তান সরকারের উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

এ ছাড়া মার্কিন প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারও ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন।

সূত্র: আল–জাজিরা

শান্তি প্রতিষ্ঠায় আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দলকে ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। আগামী শুক্রবার এ আলোচনা হওয়ার কথা।

পাকিস্তানের রাজধানীতে অনুষ্ঠিতব্য এ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দিতে পারেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আর ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফের।

ইরানের সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ এই তথ্য জানিয়েছে। খবর আল–জাজিরার।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব