টানা অনশনের কারণে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, প্রতিটি মানুষের জীবন মূল্যবান। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ওয়াংচুকের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্রকুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চ জরুরি শুনানিতে এই নির্দেশ দেন। আদালত জানিয়েছে, সরকারি চিকিৎসকদের দিয়ে প্রতিদিন ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। চিকিৎসকদের প্রতিবেদনে যদি হাসপাতালে ভর্তি বা অন্য কোনো চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে, তাহলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
শুনানিতে কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, সরকারি চিকিৎসকরা ইতোমধ্যেই ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যেকোনো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দিতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। তবে সব সিদ্ধান্ত চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুসারেই নেওয়া হবে।
শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গত জুন মাসে রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনের এক সপ্তাহ পর অনশনে বসেন সোনম ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার ছিল তার অনশনের উনিশতম দিন। অনশন দীর্ঘায়িত হওয়ায় তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে বলে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
সর্বশেষ স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার শরীর এখন অত্যন্ত দুর্বল। অনশন শুরুর আগে তার ওজন ছিল ৬৬ কেজি। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৭ দশমিক ১৫ কেজিতে। মাত্র এক দিনেই তার ওজন প্রায় চারশ গ্রাম কমেছে। রক্তচাপ ছিল ১০৫ এর ওপর ৭৬। রক্তে শর্করার মাত্রা ৮০ এবং রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ছিল ৯৭ শতাংশ।
বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক বলেন, তার শরীর ভালো নেই, তবে পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। তিনি জানান, তিনি আন্দোলন চালিয়ে যেতে চান এবং তার দাবি থেকে সরে আসার কোনো পরিকল্পনা নেই। প্রথম দিকে এই আন্দোলন ঘিরে জনসমাগম তুলনামূলক কম থাকলেও গত কয়েক দিনে পরিস্থিতি বদলেছে। ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের অবনতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর যন্তর মন্তরে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, সমাজকর্মী এবং সাধারণ মানুষ সেখানে গিয়ে তার প্রতি সংহতি প্রকাশ করছেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। সাম্প্রতিক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় বহু শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে বলে তাদের অভিযোগ। আন্দোলনকারীরা বলছেন, এই সংকটের স্থায়ী সমাধান না হলে শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে।
এদিকে আদালতের নির্দেশের পর ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। এখন চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর সবার।